এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হারঃ দোহারে ৯৪.৩৪ শতাংশ; নবাবগঞ্জে ৯৮.১৮ শতাংশ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি এ মাসের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ কমে যাবে। সে সময়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবো।

দোহারে প্রকাশিত ফলাফলে ৪টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে গড় পাসের হার ৯৪দশমিক ৩৪ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৬দশমিক ৬৬ শতাংশ। টেকনিক্যাল পাশের হার ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এবারে ৪টি সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৬৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।মোট এ+ ৪৪টি এর মধ্যে পদ্মা সরকারি কলেজ সর্বোচ্চ ২৭টি এ+ পেয়েছে। কিন্তু পাশের হারে এগিয়ে জয়পাড়া কলেজ। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৯৫.৭৭ শতাংশ।

এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা এইচএসসি পরিক্ষার ফলাফলের হার ৯৮.১৮শতাংশ। মোট পরিক্ষার্থী ২৫২৮ জন, পাশ করে ২৪৮১জন,ফেল করে ৪৭জন। এ+ পেয়েছে ১৩৯জন। ৮টি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর মাঝে সেন্ট ইউফ্রেজিস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং ডিএন কলেজে পাশের হার শতভাগ। এর মাঝে ডিএন কলেজে এ+ পেয়েছে ৮১জন। সোনাহাজরা মাদ্রাসার মোট শিক্ষার্থী ৪২ জন, পাশ করেছে ৩৮জন, পাশের গড় ৯০.৪৮শতাংশ।

এবারের গ্রন্থমেলায় আসছে রাজু আহমেদের ‘তোমার মৃত্যু দেখবো’

0

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২ উপলক্ষে ‘পথিকৃৎ’ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হচ্ছে তরুণ লেখক রাজু আহমেদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তোমার মৃত্যু দেখবো’। বইটির মাঝে লেখক তাঁর নিজস্ব কিছু বাস্তব অনুভূতি সংমিশ্রণে শব্দ জোড়ার মাধ্যমে কবিতায় রুপ দিয়েছেন যা শুধু কবিতা নয়,কবিতার মতো করে বলে যাওয়া গল্প তাঁর নিজের গল্প।

‘তোমার মৃত্যু দেখবো’ কাব্যগ্রন্থে পাওয়া যাবে জীবনের বাস্তবতা, প্রেম, ভালোবাসা, আক্ষেপ ও সমাজের নানান খুঁটিনাটি বিষয়। এতে রয়েছে অতীত আর সমসাময়িক জীবনের এক দারুণ সেতুবন্ধন। কবি তার ভাবনার সব রং ঢেলে সাজিয়েছেন এক অদৃশ্য মায়াবী নৈবেদ্য। মানস, মানবতা, প্রেম আর বাস্তবতা কবিতার প্রতি স্তবকেই রেখেছে জীবন্ত স্বাক্ষর। পাঠককে জীবনের এক অমোঘ উপলব্ধি দেবে ‘তোমার মৃত্যু দেখবো’।

কবিতার বই নিয়ে রাজু আহমেদ নিউজ৩৯ কে বলেন, “এই বইটিতে রয়েছে প্রেম ভালোবাসা, আক্ষেপ, সমাজব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, কবিতা ঠিক যেন কবিতা নয়, এখানে কবিতার মতো করে বলে যাওয়া গল্প। এই বইতে সব থেকে বেশি পাওয়া যাবে প্রেমিকার শোক, প্রেমিকা নিজের করে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমনকি প্রেমিকার মৃত্যু হোক আমার চোখের সামনে।

তিনি আরও বলেন, কবিতা লেখা শখ করে। অনেকের দোয়া ও ভালবাসায় এই বই প্রকাশ পাচ্ছে। কবিতা হিসেবে নয় যদি পাঠক/পাঠিকা তার মনের কথাগুলো জানতে চায়, তাহলে তার এই বইটি পড়া উচিৎ। প্রতিটি কবিতায় পাঠক বা পাঠিকা তাকে খুঁজে পাবে। খুঁজে পাবে নীবির ভালোবাসার প্রকাশ। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় মরে যেতে ইচ্ছে হবার পরেও বেঁচে থাকার শক্তি।

রাজু আহমেদ আরও বলেন ‘কবি হিসেবে নয় পাঠক হয়ে উঠতে পারার মধ্যে মহৎ উদ্দেশ্য থাকে। আর সেটা আমি অর্জন করতে চাই। পথিকৃৎ প্রকাশন চেষ্টা করছে নতুনদের জায়গা করে দেয়ার। তাদের এই পথচলায় নিজেকে সঙ্গী হিসেবে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগে। এই পথচলায় যেন সব সময় সঙ্গী হিসেবে থাকতে পারি এটাই চাওয়া’।

রাজু আহমেদ, জন্ম বাগেরহাট জেলার কলাতলা গ্রামে। বেড়ে ওঠা ঢাকার উত্তরায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করছেন। নিজ তাগিদে শিখেছেন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফিল্ম মেকিং ও ফটোগ্রাফি।

পেশায় একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলেও পাশাপাশি করছেন সাংবাদিকতা। তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করছেন কবিতা আবৃত্তি। তোমার মৃত্যু দেখবো তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

দোহারে সাংসারিক কলহে স্ত্রীকে ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ

0

নির্যাতনের পর স্ত্রীর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে । ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার দোহার উপজেলার পৌরসভার লটাখোলা এলাকায়। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম নূপূুর সুলতানা (৪০)। সে পেশায় স্কুল শিক্ষিকা। এ ঘটনায় বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামী বাহারুল ইসলাম হিরু (৪৩) কে আসামি করে দোহার থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ঐদিন রাতেই বাহারুলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোহারের লটাখোলা এলাকার মৃত গুঞ্জর আলীর ছেলে বাহারুল ইসলাম হিরুর সঙ্গে নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ চৌকিঘাটা এলাকার জালাল উদ্দিনের মেয়ে নূপুর সুলতানার সাথে ২০ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে নুপুরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তার স্বামী। এছাড়া তাদের একমাত্র ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করতেন না নূপুরের স্বামী। এরই মধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে নূপুরের বাবার কাছ থেকে ২লাখ টাকা ও ধার হিসেবে তার ভাই মুশফিকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়। এসব টাকা ফেরৎ না দিয়ে আবারও নূপূরকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ৬লাখ টাকা নেয় তার স্বামী। এরই মধ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নুপুরের বাবা ও ভাইয়ের দেয়া টাকা ফেরৎ চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে বাধা দিলে বাহারুল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে এলাপাথারি আঘাত করে ঘর থেকে কাঁচি এনে মাথার চুল কেটে দেয় তার স্বামী।

এবিষয়ে দোহার থানা ওসি তদন্ত এসএম কামরুজ্জামান জানান, এই ঘটনায় ভূক্তভোগী নূপুর সুলতানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আমরা ঐদিন রাতেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তার স্বামী বাহারুল ইসলাম হিরুকে গ্রেফতার করে পরদিন সকালে আদালতে প্রেরণ করি।

কেন্দ্রীয় কারাগারে দোহারের হাজতির মৃত্যু

ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের রমিজ উদ্দিন (৬১) নামেরএক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ই ফেব্রুয়ারী) অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক  মৃত ঘোষণা করেন। মৃত রমিজ উদ্দিন দোহারের নয়াবাড়ি ইউনিয়নের নয়াডাঙ্গী গ্রামের সকিমউদ্দিনের ছেলে। তিনি ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির (ইনচার্জ) বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ চন্দ্র জানান, রমিজ উদ্দিনের দোহার থানার একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয়েছিল। সে অ্যাজমা রোগে ভুগছিল। মঙ্গলবার সকালে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি দোহারের নয়াবাড়ির নয়াডাঙ্গী আসবে এবং রাত ৮টায় বাহ্রা হাবিলউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মৃত রমিজউদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে শিলাকোঠা কবরস্থানে দাফন করা হবে। মৃত রমিজউদ্দিনের একমাত্র সন্তান ইলিয়াস হোসাইন জনি নিউজ৩৯কে তার বাবার জানাজা ও কবরের স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্যঃ মৃত রমিজউদ্দিনের সাজা আগামী মার্চ মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। মৃত রমিজ উদ্দিন গতবছরের ১৫ মে দেশের এটিএন নিউজের আয়োজনে কারাগারের হাজতিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি গানের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সকলের মন জয় করেন করে। অনুষ্ঠানে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়।

দোহারে বিলুপ্তির পথে খেজুর রস

শীতের সকালে আবছা আলোয় প্রকৃতি থাকে ভেজা, এক চুমুক খেজুরের রস প্রাণকে করে তাজা। ঋতু বৈচিত্রের পালাক্রমে চলছে শীত। নানা রকম খাবার, ফুল-ফল, সবজি ও পিঠাপুলির আমেজ নিয়ে হাজির হয় শীতকাল। শীতকালীন খাদ্য তালিকায় প্রথমেই আসে অতিপ্রিয় খেজুরের রস। কিন্তু দোহার উপজেলায় গাছের অভাবে সেই মুখোরোচক খেজুর রস এখন প্রায় বিলুপ্তর পথে। রস না পাওয়ার জন্য গাছ কেটে ফেলাকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, এক সময় কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালটা যেনও খেজুরের রস ছাড়া জমতো না। শীত ও খেজুরের রস যেনও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতো। সকালবেলার ঠান্ডা, মিষ্টি খেজুরের রস যেনও অমৃত।

বাংলা আশ্বিন মাস থেকে সাধারণত রস সংগ্রহ শুরু হয়। তবে পৌষ ও মাঘ মাসে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়, কারণ এই দুই মাসে শীতের প্রকোপ থাকে সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া যত ঠান্ডা থাকে রসও তত বেশি পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে আর রসও কমতে থাকে।

রস কিনতে আসা আনোয়ারা বেগম জানান, একসময় শীতের সকালে সূর্যি মামা উঁকি দেয়ার আগেই গাছিরা গাছ থেকে রসের হাড়ি নামাতে ব্যস্ত হয়ে পড়তো। রস নিয়ে পাড়ি জমাতো দূর-দূরান্তের হাট-বাজারে। আগের দিনে রস কিনতে অনেক লোকের সমাগম দেখা মিলতো বিভিন্ন স্থানের বাজারে। কুয়াশা ঘেরা সকালে গাছিদের কাঁধে করে হাঁড়ি ভরা রস নিয়ে যাওয়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আমার মনে হয় গ্রামে ছাড়া আর কোথাও হয়তো দেখাই যায় না। মনে করিয়ে দেয় সেই রং তুলিতে আঁকা শিল্পীর এক মনোরম চিত্রকর্মের কথা। কিন্তু সেসব দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না।

গৃহবধূ ফাতিমা বেগম বলেন, শীতের সকালে গাছ থেকে নামানো কাঁচা রসের স্বাদ যেমন বর্ণনা করা সম্ভব নয়, তেমনি জ্বাল করা রসের তৈরি বিভিন্ন খাবারের স্বাদ ও চাহিদাও অনেক। কুয়াশামাখা সকালবেলায় রসের তৈরি পায়েসের গন্ধে মৌ মৌ করে চারিদিক। সেই মিষ্টি গন্ধে মানুষের সাথে যেন পিপড়া-মাছিরও ঘুম হারাম হয়ে যেতো। বিশেষ করে রস দিয়ে ভিজানো পিঠা কথা না বললেই নয়।

রসের অভাবে সেই সব উৎসব এখন আর নেই। তবে খেজুরের রসের পাটালি ও গুড়েরও বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে গ্রামের ঘরে ঘরে। এই গুড় দিয়ে হরেক রকম পিঠা বানায় গাঁয়ের বধূরা। ভাপা, সিদ্ধপুলি, মালপোয়া, লালুয়া, রসের চিতইয়ের মতো বহুরকম পিঠা। আর এই পিঠা বানানো ঘিরে শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবার বসে থাকার দৃশ্য বাংলার এক পুরোনো সংস্কৃতিরই অংশ। মনে হয় শীত যত বেশি, তাদের পিঠা খাওয়ার তৃপ্তি, আনন্দও তত বেশি। এরূপ দৃশ্যকে কবি সুফিয়া কামাল চিত্রায়িত করে বলেছেন- পৌষ পর্বণে পিঠে খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে। বড় উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি খেয়ে। বাংলাদেশের খেজুর গাছের প্রধান আকর্ষণ খেজুরের রস।

উপজেলার গাছিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গাছ কাটার ফলে গত কয়েক বছরে গ্রাম থেকে অনেক খেজুরের গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তারা আরো জানান, একটি খেজুর গাছের রস দেয়ার মতো উপযুক্ত হতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে এবং ২৫ বছর পর্যন্ত রস দিয়ে থাকে। একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছ থেকে দৈনিক ১-২ কেজি রস পাওয়া যায়। তবে খেজুর রসের পরিমাণ গাছ ছিলার কৌশল ও যত্নের উপর অনেকটা নির্ভর করে।

দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারে বড় মাঠের কোনায় বাড়ি ফরহাদ (৪৫) গাছি জানান, এবার ২০-২৪ টি খেজুর গাছ কেটেছেন। আর এ থেকে প্রায় ২০ কেজি রস পেয়ে থাকি। তিনি জানান, তার কাছে প্রায় ২০-২২ জন গ্রামবাসী রস চাইলেও তাদের চাহিদা তিনি পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু প্রতিদিন গাছ থেকে যে রস হয় তার থেকে চাহিদা বেশী।

তিনি আরো বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে এই খেজুরের গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করি। তবে যে ভাবে খেজুর গাছ কাটা হচ্ছে তাতে মনে হয় আর বেশি দিন রস পাওয়া যাবে না গাছ থেকে। বর্তমানে এক কেজি রস ১০০ টাকা দরে বিক্রি করি।

দোহারে সরকারি জায়গায় জুয়া

ঢাকার দোহার উপজেলার বউবাজার এলাকায় ছনটেকে সরকারি খালের গাইড ওয়ালের ওপর নির্মিত দোকান প্রশাসন ভেঙে দেওয়ার পর আবার দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে এখন সেই স্থানের চায়ের দোকানে চলছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জুয়া। দোকান উচ্ছেদের বিষয় দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি ব্যবস্থা নিবে বলেও আর নেননি।

জানা যায়, ওই খালের গাইড ওয়ালের ওপর অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করেন রতন সরকার নামে এক ব্যক্তি। অবৈধ ভাবে দোকান উঠানোর দায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছরের ২১ জানুয়ারি উপজেলা প্রশাসন দোকান ভেঙে দেয়। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সেখানে আবার দোকান নির্মাণ করেছেন রতন সরকার এবং সেই দোকান ভাড়াও দিয়েছেন তিনি। এখন সেখানে চায়ের দোকানে চলছে জুয়া।

দোকানের ভাড়াটিয়া পাপু বলেন, ‘আমি তো দোকান ভাড়া নিয়েছি, মাস গেলে ভাড়া দিই। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। জুয়া খেলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আর কোন কথা বলেন নি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, ‘এটা সরকারি খাল। আর এই খাল দখল করে দোকান নির্মাণ করায় দায়ে প্রশাসন দোকান উঠানোর সময় ভেঙে দেয়। আর এ ভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে সরকারি খালটি ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে স্থাপনা তৈরি হলে আগামীতে এ খালের অস্তিত্ব থাকবে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘রতন সরকারের দাবি, এটা তাঁর জমি, আর প্রশাসন তাকে অনুমতি দিয়েছে ঘর তোলার জন্য । তবে এই স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেভাবে জুয়া চলে তাতে এই স্থানের লোক জন জুয়ারী হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই না মাঝে মাঝেও এখানে নেশা বা মাদকদ্রব্যও বিক্রি করা হয়। এভাবে চলতে থাকলে হয়তোবা একটা সময় এই এলাকার সব ছেলেরা জুয়ারী হয়ে উঠবে। আমি মনে করি প্রসাশনের এ বিষয় নজর দেওয়া দরকার।

রতন সরকার মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি আমার জমিতে দোকান উঠিয়েছি, এটা সরকারি জমি না।’ কয়েক মাস আগে আপনার দোকানের খুঁটি ভেঙে দেয় প্রশাসন, তাহলে আবার কেন ঘর ওঠালেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার কাগজপত্র ঠিক আছে, আমি আমার জায়গায় দোকান তুলেছি খালে না। জুয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দোকান ভাড়া দিয়েছি। তারা দোকানে কি করে সেটা আমার দেখার বিষয় না।

এবিষয়ে দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, জুয়ার বিষয় আমরা পদক্ষেপ নিব। সরকারি জায়গা দখল করে থাকলে এ বিষয়েও আমরা ব্যবস্থা নিব।

দুবাইতে দোহার প্রবাসীর আত্মহত্যা

আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯; দোহারের নারিশা ইউনিয়নের চৈতাবাতর গ্রামের মোঃ সুমন দুবাইতে আত্মহত্যা করেছে। তার বয়স আনুমানিক ৩৩। তার পিতার নাম মোঃ মান্নান। সে বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সুমন ২ সন্তানের জনক। সে দীর্ঘদিন ধরেই দুবাই রয়েছে। তার মৃত্যুর ব্যাপারে দুবাই পুলিশ অনুসন্ধান করছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।

দোহারের মালিকান্দায় যুবকের আত্মহত্যা

গাজী নাদিম, স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯; দোহারের মালিকান্দায় এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। তার নাম হাফিজুর রহমান (নিয়াস মোল্লা)। সে পদ্মা সরকারি কলেজ এর ২০১৬-২০১৭ সেশনের সমাজ কর্ম বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বয়স ২৩ বছর। তার পিতার নাম ডাঃ সিরাজুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ী মেঘুলা কবি নজরুল স্কুলের পিছনে। সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। হতাশা থেকেই এই আত্মহত্যা বলে অনুমান করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জের শুরগাও জলাশয় থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জলাশয়ের কচুরিপানার নিচ থেকে রেজাউল ইসলাম রেজা (৫০) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে বড় ভাই মিজান। মঙ্গলবার উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের শুরগাও এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের পর নবাবগঞ্জ থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত রেজাউল ইসলাম শুরগাও গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন মাষ্টারের ছেলে। তিনি বাড়ির রাস্তার পাশে টং দোকানে মুদি ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম প্রতিদিন রাতে দোকানে ঘুমাতেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে দোকানে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বের হন।

মঙ্গলবার সকালে দোকান বন্ধ দেখে এক ক্রেতা তার সন্ধানে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন তার খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে দোকানের পাশে জলাশয়ের ধারে রেজাউলের জুতা ও টর্চলাইট পরে থাকতে দেখেন। পানিতে নেমে খোঁজ করে কচুরিপানার নিচে তার মরদেহের সন্ধান পান বড় ভাই মিজান। থানা পুলিশে খবর দিলে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

নিহতের স্ত্রী নিলুফা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার দাবী করেন।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হবে জানিয়ে বলেন, লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনা তদন্তে গোয়েন্দা দফতরে খবর দেয়া হয়েছে।

দোহারে বিষপানে যুবকের আত্মহত্যা

শরিফ হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ৩৯: সোমবার বিকেলে দোহার উপজেলার মধুরচর গ্রামের বিষ পান করে ইব্রাহিম (১৯) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। জানা যায়, ইব্রাহিম উপজেলার মধুরচর গ্রামের আব্দুর রউফ চোকদারের ছেলে।

নিহতের পিতা রউফ চোকদার জানান, শনিবার বিকেলে ইব্রাহিম বাসা থেকে বের হয়। বিকেলে জানতে পারি মেঘুলা পদ্মা নদীর পাড়ে বিষ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে ইব্রাহিম। সংবাদ পেয়ে তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় প্রেরণ করে চিকিৎসক। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, কারো বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমার তিন ছেলে এক মেয়ে। ইব্রাহিম ছিল চার সন্তানের মধ্যে আমার ২য় সন্তান। কেনো যে সে বিষ খেলো তা আমার জানা নেই।

এবিষয়ে দোহার থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি ।