হজ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সতর্কবার্তা

হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে হজ পালন নিশ্চিতে সরকার অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে হজের অনুমতিপত্র গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে হজের সকল বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেবল হজ ভিসার মাধ্যমে হজ পালন করা যাবে। এছাড়া, সৌদিতে অবতরণের পর থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য অনুমোদিত পদ্ধতিতে দাপ্তরিক মাধ্যমে অনুমতিপত্র গ্রহণ করার কথা বলেছে সৌদির এই মন্ত্রণালয়।

অনুমতির শর্ত প্রতিপালনের মাধ্যমে পবিত্র স্থানসমূহের সকল ধরনের সেবা প্রাপ্তি এবং সমন্বিত ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের শৃঙ্খলা রক্ষা করে নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়েছে। অননুমোদিত মাধ্যমে বা মিথ্যা প্রলোভনে হজের অনুমতিপত্র বা ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিষয়েও সতর্ক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম হজযাত্রীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে অথবা তাদের আইনি শাস্তির সম্মুখীন করতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে হজের অনুমতিপত্র সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সৌদি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অনুমতিপত্র একটি মসৃন হজের অভিজ্ঞতা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে সাহায্য করবে।

হাম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ, দ্রুত ভর্তি ও চিকিৎসা নিশ্চিত এবং আইসোলেশন ব্যবস্থাপনা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আবু মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড অথবা কেবিন নির্ধারণ বাধ্যতামূলক। কোনো হাসপাতাল থেকে হাম রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। হাসপাতালে আসা রোগীদের দ্রুত ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে রোগী পরিদর্শনে যেতে হবে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দর্শনার্থী প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভর্তিকৃত প্রতিটি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী অবস্থান কিংবা প্রবেশ করতে পারবেন।

এ ছাড়া হাসপাতালগুলোকে প্রতিদিন ভর্তিকৃত হাম রোগীদের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য একটি হটলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

News39 Desk: চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বগুড়ায় প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজেট প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে কোন নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে তা নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে বেশি বাজেট প্রয়োজন হয় এমন নির্বাচনগুলো আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও জানান, সুষ্ঠু ও ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

বুলবুল পাঠান, news39.net, কেরাণিগঞ্জ: কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার সকালে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কারারক্ষী পদে ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে সেই শর্ত মানা হচ্ছে না। তাদের দাবি, দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের মাধ্যমে নির্ধারিত উচ্চতার চেয়ে কম উচ্চতার প্রার্থীদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী জানান, “যেখানে নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ার কথা, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে অনেককে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন হোক।”

বিক্ষোভের কারণে সকাল থেকেই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘসময় আটকা পড়ে থাকে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার — খন্দকার আবু আশফাক

মাহমুদুল হাসান সুমন : ঢাকা ১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক সোমবার দুপুরে কলাকোপা খাদ্য গুদাম-এ সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মৌসুমি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

১৮ মে সোমবার আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে সরাসরি ধান সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে প্রকৃত কৃষকদের হাতে লাভ পৌঁছে দিতে এ কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত মান বজায় রেখে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে। এতে স্থানীয় কৃষকরা বাজারের তুলনায় ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

উদ্বোধনের পর অতিথিরা খাদ্য গুদামের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা সরকারি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সময়মতো ধান ক্রয় অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

দোহারে ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উদ্বোধন

মাহমুদুল হাসান সুমন : ঢাকার দোহার উপজেলায় সারাদেশের ন্যায় একযোগে “ভূমিসেবা মেলা-২০২৬” এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৯ মে মঙ্গলবার উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে দোহার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: মাঈদুল ইসলাম। এছাড়াও সভাপতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম মেছের, সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম কুদ্দুস, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সহজে জানতে পারবে এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। মেলায় নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন সেবা গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের মেলার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সবুজায়নের লক্ষ্যে আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপন প্রকল্প উদ্বোধন

আমিনুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:

সবুজায়নের লক্ষ্যে আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপন প্রকল্প উদ্বোধন

“একটি গাছ লাগান, একটি প্রাণ বাঁচান, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ুন” স্লোগানে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা ও সবুজায়নে বিশেষ অবদান রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে সামাজিক সংগঠন আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি দূষণমুক্ত অক্সিজেনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

১৭ মে (রবিবার) সকাল ৮ টায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার আটি স্কুল জয়নগর মাঠ ও খাল পাড়ে সামাজিক সংগঠনটি চলতি বছরে এক হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।

এসময় সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, নগরায়নের এই যুগে পরিবেশের উষ্ণতা রোধে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশন শুধুমাত্র গাছ লাগানোর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দীর্ঘমেয়াদে নদী, খাল ভাঙ্গন ও দূষিত অক্সিজেনজনিত রোগ দূরীকরণে উন্নত জাতের বনজ গাছ বিতরণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় বাছাই করা ফলের চারাও বিতরণ করা হচ্ছে।

সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন বলেন, ইসলামে বৃক্ষরোপণকে সদাকায়ে জারিয়াহ (অব্যাহত সওয়াব) হিসেবে গণ্য করা হয়। আল ফীদ্ দ্বীন ফাউন্ডেশন এই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করছে।

তিনি আরো জানান, একটি ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়, তেমনি মানুষ ও পশুপাখি ফল খেয়ে উপকৃত হলে রোপণকারী নিয়মিত নেকি লাভ করেন।

সংগঠনের সদস্য রেজয়ান গাজী বলেন, সঠিকভাবে চারা বিতরণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করেছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মসজিদগুলোর ইমাম এবং স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাটিক্ষয়রোধে এই চারাগুলো নদী, খাল ও পুকুরপাড়ে লাগানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করছু। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হচ্ছে, অন্যদিকে গাছগুলো বড় হওয়ার পর স্থানীয়রা এর সুফলভোগ করতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানটি চলতি বর্ষা মৌসুমসহ সারা বছর ধরেই এই সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মো. শাহীন ,মো. মহিউদ্দিন, আফরিন, সাজ্জাদ হোসেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

১ জুলাই থেকেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে হিসাব রয়েছে। এই বিশাল আর্থিক চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সামলাতে একসঙ্গে নয়, তিনটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপেই বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে, যার জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টানা দুদিনের এই আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই।’ অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতেই সরকার কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে কোনো চাপ পড়বে না এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।

এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা মেটাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

বেসামরিক প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিশন ও কমিটির খসড়া অনুযায়ী, সরকারি চাকরির গ্রেড আগের মতোই ২০টি বহাল থাকছে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এই কাঠামো অনুমোদিত হলে গ্রেডভেদে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবান ভ্রমণ – নীলাচল ও মেঘলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

সবুজে নীলে আঁচলে

বান্দরবান শহর ছাড়িয়ে নীলাচলের পথে উঠতে শুরু করলেই মনে হয়, আপনি আর স্রেফ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন না—ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছেন পাহাড়ের আড়ালে লুকানো গোপন পথে। দুই ধারে সবুজের দেয়াল, যেন কোনো দূর শত্রুর দৃষ্টি থেকে আড়াল করে দিচ্ছে।

ছোট শহর, গাড়ির চাকা কয়েক পাক খেতেই শহর থেকে বেরিয়ে পাহাড়ের রাজত্বে চলে যায়। সেই রাজত্বে বাঁকের পাইকারি সরবরাহ — গাড়ি বাঁক নিতে থাকে, আর আপনি অজান্তেই জানালার হাতল চেপে ধরে থাকেন। আগের রাতে মনে হয় বৃষ্টি হয়েছে। পাতাগুলো যেন ঝকঝক করছে।

এই রাস্তার আসল সৌন্দর্য তার সোজা পথে নয়—তার বাঁকে বাঁকে। প্রতিটা বাঁক যেন আলাদা দৃশ্যপট খুলে দেয়। আর সিএনজি যতই এগুতে থাকে ততই আকাশের জগৎ মেলে ধরতে থাকে। তখন পাহাড়ের দেয়াল পেরিয়ে আসলে পাহাড়ের উপরেই উঠে গিয়েছি। দুই পাশে দেয়ালের বিপরীত ঢাল। এক বাঁক পেরোলেই ডান পাশে গভীর খাদ, তার নিচে ঘন সবুজ জঙ্গল; আরেক বাঁকে হঠাৎ বাঁ পাশে উঁচু পাহাড়ের গা।

নীলাচলের কাছে পৌঁছানোর আগের শেষ পথটুকো সবচেয়ে নাটকীয়, রাস্তা আরও খাড়া, কিন্তু দৃশ্য—অসাধারণ। উচু থেকে আরও উচুতে উঠা, সিএনজি তার বেদনা প্রকাশ করে তবু অনীহা নয়। দূরে পাহাড়ের সারি, স্তরে স্তরে, সবুজের শেড বদলাতে বদলাতে নতুন নতুন রেখা তৈরি করে আরও দূরে মিলিয়ে গেছে। তখন ডানে বামে আর কিছু নেই, নীল আকাশ, সাদা মেঘ। সবুজ পাহাড়ের উপর কুয়াশা ছড়িয়ে সবুজের দাপট কমিয়ে কেমন যেন একটা নীল আভা তৈরি করে, তার উপর নীল আকাশ —সেই থেকেই বোধহয় নাম রাখা হয়েছে “নীলাচল”!

ভিও পয়েন্টের কিছুটা আগে আমাদের নামতে হল। তখন টিকিট কাউন্টার ছিল, কিন্তু টিকিট লেগেছিল কিনা মনে পড়ে না। পর্যটক ছিল খুবই কম। সূর্যালোকিত, ঝকমকে। অনেকগুলো ফ্যান্সি টুল, বসে ছবি তোলার জন্য, সবুজ আর নীলে ব্যাকগ্রাউন্ডে আজীবনের স্মৃতি তৈরি করার মত। নীলাচলের সিড়ি, টুল, বাগানের ফুল, যতটা সুন্দর, উপভোগ্য তার চে বেশি বিস্ময়কর চারদিকের পৃথিবী।

নীলাচলের পাহাড়ে
এই দোলনা, এই ঢেকি-পার, তখন মাথায়ই আসে নি কোনোদিন এখানে আমার মেয়েরা দুলবে, খেলবে। দ্বিতীয় ভ্রমণে এতোটা খোলা দৃশ্য পাই নি।

এতো দূরে দৃষ্টি কোনোদিন দেখার সুযোগ পায় নি। পাঁচ কিলোমিটার, সরসরি দূরত্ব হয়তো একটু কম, পুরো বান্দরবান শহর দেখা যাচ্ছিল, সবুজের মাঝে মাথা উচু করে দাড়ানো দালান, আরও দূরে বৌদ্ধ মন্দির। কাছে ঢেও খেলানো পাহাড় আর বন, মাঝে মাঝে জুমিয়াদের কৃষি ক্ষেত্র। জুম পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে খুব অল্প যায়গায়। আমি চেষ্টা করেছি দৃষ্টির প্রতিটা ইঞ্চি দেখার। সবুজ আর নীলের এমন শিল্প আগে দেখা হয় নি। সবচে’ উচু যে পাহাড়টা তার উপর মেঘেরা এমনভাবে পুঞ্জিভূত হয়ে তারপর চারপাশে ডানা মেলে দিয়েছে দেখে মনে হয় পাহাড়টা যেন আগ্নেয়গিরি আর মেঘগুলো অগ্নুৎপাত।

নীল দিগন্ত
পাহাড় থেকে নীল দিগন্ত ও লাল কলাবতী ফুল

এই সৌন্দর্য্যের ছবি তুলতে তুলতে আমার ক্যামেরাটা দিকবিদিক হারিয়ে ফেলল, আর ছবি উঠল না। বান্দরবানের বাকি সময়টা রকের ক্যামেরায় ছবি তুলতে হয়েছে, রক দিয়েছেও। আমি বেছে বেছে শুধু আমার তোলা ছবিগুলো আলাদা করে রেখেছি।

নীলাচলের উপত্যকায়
এটাই ক্যামেরা নষ্ট হবার আগে শেষ ছবি।

শহরের ভেতর ছোট পাহাড়

নীলাচল থেকে ফেরার পর কিছু বেকার সময় আছে। হোটেলটার উল্টো দিকে রাস্তার পাশে কয়েকটা ছোট ছোট পাহাড়, আসলে রাস্তাটাই পাহাড়ের পাশ দিয়ে গিয়েছে। আমাদের খাবার ব্যবস্থা এখানেই কোথাও হয়েছিল, তবু তখনও রুম দেয় নি। পথের ধারে হোটেলের একপাশে কিছু চেয়ার রাখা ছিল। সেখানে আমি রক ও আমি বসে গল্প করছিলাম, দূরে পাহাড়সারি দেখা যাচ্ছিল। গল্প কিছুটা উচ্চমর্গে চলে গিয়েছিল। তার মধ্যে রকের কয়েকটা কথা এখনও মনে আছে। সে কেন ধর্মচর্চা করে তার ব্যাক্ষা দিচ্ছিল, পরকাল থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। ধর্ম বিশ্বাস করার পরও যদি পরকাল না থাকে তবে বড় লস নেই। কিন্তু বিশ্বাস না করার পর যদি পরকাল থাকে তবে কী হবে! তাই ঝুকি দূর করতেই সে ধর্মচর্চা করাই নিরাপদ।

লেখক
পাহাড়ে নতুন সন্যাসী, ক্যাপশনটা রকের

সময় থাকায় আমরা কয়েকজন পাহাড়গুলোতে উঠলাম, রাস্তাটা আসলে এইসব পাহাড়ের ধার কেটেই বানানো হয়েছে। যেহেতু বেশি উচু নয় আবার পায়ে হাটার পথ আছে, তাই সহজে উঠে যাওয়া গেল। বান্দরবানের উচু উচু খাড়া পাহাড়গুলোর মত না, সবুজ গাছে ছাওয়া টিলা।  অল্প সময়ে সবুজ প্রকৃতিতে বেশ ভাল লাগল।

মেইন রোড থেকে দুটো রাস্তা একটা বট গাছের কাছে এসে এক হয়ে গিয়েছে। তারপর  চিম্বুকের মোকাম ধরে চলে গিয়েছে আরও দূরে, আরও নীলে, নীলগিরিতে। ২০২৬ এক শীতের সকালে বৌ-বাচ্চাদের নিয়ে ওই বটগাছটার উল্টো দিকে একটা হোটেলে ঢুকলাম নাস্তা করতে। আমরা যে হেটেলটিতে উঠেছি সেটা তিন রাস্তার মোড়ে বটগাছটার কাছেই, একটু হেটে এগুলেই প্রথমবারের হোটেলটা দেখতে যেতে পারতাম। কিন্তু আড়াই দিনে সেই সময় করতে পারি নি।

আমাদের দলের সবাই ঢাকা থেকে বাসে এসেছে, তারা খুব ভোরে চলে এসেছে। আমরা এসেছি চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনে, তারপর বাকিটা বাসে। দীর্ঘ পথ বাচ্চাদের নিয়ে বাসে ভ্রমণ করা কষ্টকর হবে, তাই দলছুট হয়েও ট্রেনে এসেছি।

সাকলে সবাইকে রুম না দিলেও দুটো রুম দিয়েছিল রেস্ট নেবার জন্য। সেখাবে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে বেরিয়েছি। বাকির আগেই নাস্তা করে ফেলেছে, তারা যে হোটেলে নাস্তা করেছে আমরাও সেখানে করলাম। এখনও রোদ উঠেনি, কুয়াশা ঢাকা পরিবেশ। বেলা এগারোটার দিকে আমাদের রুম দিল। দুই দিন থাকব বলে ব্যালকনিওয়ালা রুমটা নিলাম। যদি আলসেমি ধরে, বা বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ততার মাঝে একটু সময় হয় তবে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি সৌন্দর্যের কর্পোরেট প্যাকেজটাতো দেখা যাবে! বাকিরা একদিন থাকবে, ব্যালকনি ছাড়া রুমেই থাকুক। হৈমন্তীরাও অবশ্য ব্যালকনি নিয়েছে আমাদের ঠিক নিচের তলাতে।

ব্যালকনি দিয়ে তাকালে দূরে পাহাড়সারি দেখা যায়, তার আগে বড় একটা মাঠ। মাঠের পাশে রাস্তা, যে রাস্তা দিয়ে আমরা এসেছি, তবে রাস্তাটা চিনতে আমার একটু সময় লেগেছে। মাঠের এপাশটায় একটা কাঠাল গাছ। অবাক ব্যাপার এই শীতে সেই কাঠাল গাছে একটা কাঠাল ধরে আছে! আর আছে কয়েকটা পাখির উড়াউড়ি, বসে থাকা।

মেঘলা যেতে পেট ব্যাথা

মেঘলা ও নীলাচল যেতে চান্দের গাড়ি ভাড়া করা হয়ে গেছে। কলিগরা বার বার তাড়া দিচ্ছে গাড়িতে উঠতে। আমরা চারজনের দল রেডি হয়ে সারতে পারছি না। বেরুতে বেরুতে ১১টার বেশি। উঠতেই গাড়ি ছেড়ে দিল। আমরা দুটো গাড়িতে ভাগ হয়ে বসেছি। মেয়েরা আমার পাশে। গাড়ি ছাড়তেই টের পেলাম ঝাকুনি। সমতল রাস্তাতেই সামান্য উচুনিচুতে প্রবল ঝাকি দেয়। মেয়ের মাথার পেছনে হাত দিয়ে রাখতে হল যেন লোহায় আঘাত না পায়, আবার সামনেও ধরতে হল যেন পড়ে না যায়, কলিগরা অবশ্য সাহায্য করল।

পেটে হালকা ব্যাথা, গত রাতের মত। সন্ধ্যা থেকে হালকা ব্যাথা ছিল। রাতে একটু বাড়লেও শেষ রাতে ঘুমের পর আর ছিল না। সেটাই এখন ফিরে এসেছে।

[আপডেট হবে]

– পারভেজ রবিন
theuglyasian.wordpress.com

প্রথম পর্ব

মক্কা ও মদিনার ১৬ দর্শনীয় স্থান

 মদিনার ঐতিহাসিক স্থান :

১. মসজিদে কোবা: ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ। এখানে দুই রাকাত নামাজ পড়লে একটি ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩২৪)

২. মসজিদে কিবলাতাইন: নামাজের ভেতরেই কিবলা পরিবর্তনের ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই ‘দুই কিবলার মসজিদ’।

৩. উহুদ পাহাড় শহীদদের কবরস্থান: ওহুদ যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এখানে হজরত হামজা (রা.)-সহ ৭০ জন সাহাবির কবর রয়েছে।

৪. মসজিদে গামামাহ: মসজিদে নববির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে নবীজি (সা.) বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছিলেন এবং ঈদের নামাজ পড়েছিলেন।

৫. খন্দক (সাত মসজিদ): আহজাব বা পরিখা যুদ্ধের স্মৃতিবাহী এলাকা। এখানে সাতটি ছোট ছোট মসজিদ রয়েছে।

৬. জান্নাতুল বাকি: মসজিদে নববির পাশেই অবস্থিত প্রধান কবরস্থান। এখানে নবীজির পরিবারের সদস্য ও প্রায় ১০ হাজার সাহাবির সমাধি রয়েছে।

৭. মসজিদে জুমা: হিজরতের সময় কুবাপল্লি থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে নবীজি (সা.) যেখানে প্রথম জুমার নামাজ পড়েছিলেন।

৮. বাদশাহ ফাহাদ কোরআন কমপ্লেক্স: বিশ্বের বৃহত্তম কোরআন মুদ্রণ কেন্দ্র। হজযাত্রীদের এখানে একটি করে কোরআন উপহার দেওয়া হয়।

মক্কার ঐতিহাসিক স্থান:

১. জাবালে নুর (হেরা গুহা): এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গুহায় নবীজির কাছে প্রথম ওহি (সুরা আলাক) নাজিল হয়েছিল।

২. জাবালে সওর: হিজরতের সময় নবীজি (সা.) ও আবু বকর (রা.) এই পাহাড়ের গুহায় তিন দিন আত্মগোপন করেছিলেন।

৩. জান্নাতুল মুয়াল্লা: মক্কার প্রাচীন কবরস্থান। এখানে উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)-সহ বহু সাহাবির সমাধি রয়েছে।

৪. মসজিদে জিন: যেখানে জিনের একটি দল নবীজির কাছে কোরআন পাঠ শুনে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

৫. মসজিদে হুদায়বিয়া: ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি যেখানে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটি মক্কা থেকে প্রায় ১৫ কিমি দূরে।

৬. জাবালে রহমত: আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত পাহাড়। এখানে দাঁড়িয়ে নবীজি (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

৭. মসজিদে নামিরা: আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত বিশাল মসজিদ, যেখান থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয়।

৮. মিশআলুল হারাম মুজদালিফা: হাজিরা যেখানে ১০ জিলহজ রাত কাটান এবং পাথর সংগ্রহ করেন।