টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে, নিহত ১৫

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

কালিহাতী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

 ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ করছে বলেও জানান আতাউর রহমান।

দেশে প্রথম ২৯ কার্য দিবসে মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের অপরাধে শাকিল হোসেন নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক তাজুল ইসলাম এই দণ্ড ঘোষণা করেন।

২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা দেশের মধ্যে এটাই প্রথম। ‌আইন অনুযায়ী ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণার নির্দেশনা রয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন সকালে শিশুটির বাবা গ্রামের মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। বাবার জন্য সকালের খাবার নিয়ে মাঠে যাচ্ছিল ওই শিশু। এ সময় মাঠে ঘাস কাটছিল চাঁদপুর গ্রামের শাকিল হোসেন। শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে শাকিল। শাকিলের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে কান্নাকাটি করতে করতে বাবার কাছে পৌঁছায় ওই শিশু। ওইদিনই শিশুটাকে হাসপাতালে ভর্তি এবং গাংনী থানায় শাকিল এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে শিশুটির পিতা।

রায় ঘোষণাকালে আসামি শাকিল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিল। আদালতের নির্দেশে তাকে মেহেরপুর ও জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাত্র ২৯ কার্য দিবসে রায় ঘোষণা করেন আদালতে। বিচার ব্যবস্থায় যা একটি মাইল ফলক হিসেবে দেখছেন অনেকে। ‌ শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় প্রদান ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিউকিটর (পি পি) তুহিন অরণ্য। মেহেরপুর বিচারালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা বিচার প্রার্থীদের জন্য ইতিবাচক বলে জানান তিনি।

নবী (সা.) ও সাহাবিদের যুগে কোরবানির ঈদ

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মহিমান্বিত শিক্ষা বহন করে এ দিনটি। এর মূল ভিত্তি হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.)-এর প্রতি প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি তা বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধা করেননি। অন্যদিকে ইসমাইল (আ.)-ও ধৈর্য ও পরিপূর্ণ আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছিলেন।

নবীজি (সা.)-এর যুগে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি

রাসুল (সা.)-এর যুগে জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকেই ঈদুল আজহার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। সাহাবিরা এ সময় বেশি বেশি নফল ইবাদত করতেন। নিজেদের অন্তর পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতেন। চুল ও নখ না কাটার আমলের পাবন্দি করতেন। নবীজি (সা.) জিলহজের প্রথম দশকে রোজা রাখতেন। হজরত হাফসা (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.) চারটি আমল কখনো ছাড়তেন না—আশুরার রোজা, জিলহজের প্রথম দশকের রোজা, প্রতি মাসে তিনটি (আইয়ামে বিজের) রোজা এবং ফজরের দুই রাকাত সুন্নত।’ (সুনানে নাসায়ি: ২৪১৬)। তখনকার ঈদুল আজহার প্রস্তুতি বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে বেশি ছিল আধ্যাত্মিক ও তাকওয়াভিত্তিক।

নবীজি (সা.)-এর ঈদের দিন

ঈদের দিন রাসুল (সা.) ছোট-বড় সবার আনন্দের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেন এবং বৈধ বিনোদনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন। একবার ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক মদিনায় লাঠিখেলা করছিল। আয়েশা (রা.) সেই খেলা দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করলে নবীজি (সা.) নিজেই তাঁকে পাশে দাঁড় করিয়ে খেলা দেখার সুযোগ করে দেন। এমনকি খেলোয়াড়দের উৎসাহও দেন।

মহানবী (সা.)-এর ঈদ উদ্‌যাপনে ছিল সরলতা, পরিচ্ছন্নতা, ইবাদত ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয়। ঈদের দিন তিনি গোসল করতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে সুন্দর ও উত্তম পোশাক পরতেন। ঈদুল আজহায় নামাজের আগে কিছু খেতেন না। কোরবানির গোশত দিয়েই প্রথম আহার করতেন। এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যেতেন, অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন। সাহাবিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। সমাজের গরিব, অসহায় ও দুঃখী মানুষের খোঁজখবর নিতেন। ঈদের আনন্দ যেন বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন।

নবীজি (সা.)-এর কোরবানি

ঈদুল আজহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কোরবানি। রাসুল (সা.) নিজ হাতে কোরবানি করতেন। ঈদুল আজহার খুতবায় সাহাবিদের কোরবানির তাৎপর্য শেখাতেন। নবীজি (সা.) সাধারণত দুটি শিংওয়ালা সাদা-কালো বর্ণের বকরি কোরবানি করতেন। তবে বিদায় হজে ১০০টি উট কোরবানি করেছিলেন। কোরবানি করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতেন এবং তাকবির দিতেন। কখনো সবার সামনে ঈদগাহেই কোরবানি করতেন। কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করতে নিষেধ করেছেন। কোরবানির গোশত নিজে খেতেন। আত্মীয়, প্রতিবেশী ও গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন।

সাহাবিদের ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন রাসুল (সা.)-এর সরাসরি শিক্ষাপ্রাপ্ত সোনালি মানুষ। ঈদুল আজহা পালনের ক্ষেত্রে তাঁরা সুন্নতের অনুসরণে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন। নবীজি (সা.)-এর আদেশ মোতাবেক কোরবানির পশু নির্বাচনে যত্নবান ছিলেন। অনেকে আগে থেকেই পশুর দেখাশোনা করতেন। কোরবানির পর দরিদ্রদের মাঝে গোশত বণ্টন করে দিতেন। ঈদের দিন সাহাবিরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করে বলতেন—‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের নেক আমল কবুল করুন।’

সাহাবিদের কোরবানি

মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে সাহাবায়ে কেরাম প্রতিবছর সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানি করতেন। কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে সওয়াবের সুসংবাদ তাঁদের হৃদয়ে আনন্দ ও আগ্রহ সৃষ্টি করত। তাঁরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং তাকওয়া অর্জন। তাই তাঁরা কোরবানির শিক্ষা নিজেদের জীবনাচরণে ধারণ করেছিলেন। ত্যাগ, আনুগত্য ও খোদাভীতির এই চেতনা তাঁদের প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হতো।

ঈদুল-আজহা উপলক্ষে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে টানা ৭ দিনের ঈদের ছুটি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। আজ রোববার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস পালন করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার পূর্বনির্ধারিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন ছুটি যুক্ত করেছে। ফলে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি কার্যকর থাকবে।

এর আগে গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

তবে দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও ডাকসেবাসহ জরুরি সেবাগুলো চালু থাকবে। এসব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

দোহারে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার: দোহার উপজেলার চর জয়পাড়া এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আমির হোসেনের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ জেরিন আক্তার জানান, তার স্বামী মনির শেখ জয়পাড়া বাজারে একটি সেলুনে কাজ করেন এবং প্রায়ই গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। শনিবার রাত ৩টার দিকে প্রতিবেশী আমির হোসেন তার ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। স্বামী বাসায় ফিরেছেন মনে করে তিনি মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালালে আমির হোসেনকে দেখতে পান। তাকে দেখেই ওই গৃহবধূ চিৎকার শুরু করলে আমির হোসেন পালিয়ে যান।

ঘটনার পর সকালে বাড়ির মালিক তারেক উভয়কে বাড়ী ছসড়ার নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাড়ির মালিক অভিযুক্ত আমির হোসেনকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ১ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারকে আগামী ১ তারিখের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করে বাসা পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী মনির শেখ জানান, “বাড়ির মালিক তারেক বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। তবে আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা আগামী ১ তারিখ পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছি।”

অভিযুক্ত আমির হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, মনির শেখের কাছে তার কিছু টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকা চাওয়ার জন্য তিনি ঘরের বাইরে থেকে গৃহবধূকে ডাকেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ভাবেন ভেতরে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তাই তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, “মোবাইলের আলোয় তাকে ডাকার পর তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন।”

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেস ক্যাম্প সরিয়ে নিল ইরান

২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে বেস ক্যাম্প করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেক্সিকোকে বেছে নিয়েছে তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ।

শনিবার ফেডারেশনের মিডিয়া বিভাগের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাজ জানান, ফিফার অনুমোদন নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি ফিফা। বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এর মধ্যে কোথায় দলগুলো অবস্থান করবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ইরানের বেস ক্যাম্প পরিবর্তনের আলোচনা আগে থেকেই চলছিল।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলটির নতুন বেস ক্যাম্প হবে ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তঘেঁষা মেক্সিকান শহর তিহুয়ানায়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছাকাছি হওয়ায় এটি দলের জন্য সুবিধাজনক হবে বলেও মনে করছে ফেডারেশন। বিবৃতিতে মেহদি তাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সব বেস ক্যাম্পই ফিফার অনুমোদনের আওতায় থাকতে হয়। সৌভাগ্যক্রমে, আমরা যে আবেদন জমা দিয়েছিলাম এবং ইস্তাম্বুলে ফিফা ও বিশ্বকাপ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে বৈঠক করেছি, পাশাপাশি তেহরানে ফিফার মহাসচিবের সঙ্গে গতকালের ওয়েবিনার বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে দলের বেস পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে।’

গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরান ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে অবস্থিত সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। একই ভেন্যুতে ২১ জুন তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান। ফেডারেশন জানিয়েছে, তিহুয়ানার নতুন বেস ক্যাম্পে অনুশীলন মাঠ, জিমনেশিয়াম, ব্যক্তিগত রেস্তোরাঁসহ দলের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

‘টিম মেল্লি’ নামে পরিচিত ইরান জাতীয় দল টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত একবারও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি তারা। ফেডারেশনের দাবি, মেক্সিকোতে বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ায় সম্ভাব্য ভিসা জটিলতাও কমবে। এ বিষয়ে তাজ বলেন, ‘দলটি হয়তো ইরান এয়ারের ফ্লাইট ব্যবহার করে মেক্সিকো যাওয়া-আসাও করতে পারবে।

দোহার প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণিল মৌসুমী ফল উৎসব পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার | ২৩ মে, ২০২৬
ঢাকার দোহার প্রেসক্লাবের আয়োজনে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘মৌসুমী ফল উৎসব’। শনিবার (২৩ মে) সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি তারেক রাজীব এবং সাধারণ সম্পাদক মো: আতাউর রহমান সানী। এ সময় প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সেক্রেটারি মোহসিন উদ্দিন খান মাসুম, জয়পাড়া পূর্ব বাজার উন্নয়ন সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির মিজান এবং সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, বিএনপি নেতা মনির হোসেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী, পেশাজীবিসহ অন্যান্যরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে দেশীয় মৌসুমী ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। মানুষের মাঝে দেশীয় ফলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। বক্তারা আরও বলেন, “আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভেজালমুক্ত দেশীয় ফলের কোনো বিকল্প নেই। তাই পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ফল চাষ এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও সুস্বাদু মৌসুমী ফল প্রদর্শন করা হয়। আয়োজনে উপস্থিত সকলকে ফল দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সাংবাদিকদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পাওনা ২০ টাকা চাওয়ায় পান ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মণ্টপ মাছবাজারে পাওনা মাত্র ২০ টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে শ্রীবাস চন্দ্র সাহা (৫৫) নামে এক পান ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে উপজেলার জয়মণ্টপ ইউনিয়নের জয়মণ্টপ মাছবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রীবাস চন্দ্র সাহা ঢাকার সাভারের মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জয়মণ্টপ মাছবাজারে পান ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁর ছেলে দীপ্ত সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইশা মোল্লা জয়মণ্টপ ইউনিয়নের ভাকুম গ্রামের ব্যঙ্গ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রীবাস চন্দ্র সাহার দোকান থেকে পান কিনতেন। শুক্রবার দুপুরে ইশা মোল্লা শ্রীবাসের দোকান থেকে ৩০ টাকার পান কেনেন। পরে তিনি ১০ টাকা দিয়ে বাকি ২০ টাকা না দিয়েই চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রীবাস চন্দ্র সাহা তাঁর কাছে বাকি ২০ টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ইশা মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে শ্রীবাসের গায়ে হাত তোলেন। পরে তাঁকে গলা চেপে ধরে লাথি মারলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ইশা মোল্লা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দোহারে মাসিক আইনশৃঙ্খলা, ঈদ প্রস্তুতি ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মাহমুদুল হাসান সুমন : দোহার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভা, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং মাসিক সমন্বয় সভা বুধবার (২০ মে) উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ঈদকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা, যানজট নিরসন, কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ও বক্তারা বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলাম,প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.শামীম হোসেন, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক, জেলা বিএনপির মহিলা দলের সভাপতি শামীমা শীলা,উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি মো. মাসুদ পারভেজ, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি এস এম কুদ্দুস, দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. তারেক রাজীব, সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান সুমন সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। সভায় বক্তারা আরও বলেন, ঈদের সময় বাজার ও জনসমাগমস্থলে চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় থাকতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। এসময় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন উপজেলার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভা শেষে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মক্কা ও মদিনার দর্শনীয় স্থান

মক্কার দর্শনীয় স্থানসমূহ:


১. মসজিদুল হারাম ও কাবা শরিফ: বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু এবং মুসলমানদের প্রধান কিবলা।
২. জাবালে নূর (হেরা গুহা): পবিত্র কুরআন বা ওহি নাযিল হওয়ার ঐতিহাসিক স্থান।
৩. জাবালে সাওর: হিজরতের সময় নবীজি (সা.) ও হযরত আবু বকর (রা.) আত্মগোপন করেছিলেন।
৪. আরাফাতের ময়দান: হজের মূল রুকন ও বিদায় হজের খুতবা প্রদানের স্থান।
৫. মিনা ও জামারাত: হজের দিনগুলোতে মিনায় তাঁবুতে রাত যাপন এবং জামারাতে পাথর নিক্ষেপের স্থান।
৬. মুজদালিফা: আরাফাত ও মিনার মধ্যবর্তী স্থান, যেখানে রাতযাপন ও কঙ্কর সংগ্রহ করা হয়।
৭. জান্নাতুল মুয়াল্লা: মক্কার ঐতিহাসিক কবরস্থান, যেখানে হজরত খাদিজা (রা.)সহ বহু সাহাবি সমাহিত।
৮. মসজিদে তানঈম (আয়েশা মসজিদ): মক্কার বাইরে থেকে ওমরাহ পালনের জন্য ইহরাম বাঁধার প্রধান স্থান।

মদিনার দর্শনীয় স্থানসমূহ:


৯. মসজিদে নববী: রওজা মোবারক ও রিয়াজুল জান্নাহ অবস্থিত।
১০. মসজিদে কুবা: ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মসজিদ।
১১. মসজিদে কিবলাতাইন: যে মসজিদে নামাজের মাঝেই কিবলা পরিবর্তন হয়েছিল।
১২. উহুদ পাহাড়: ঐতিহাসিক উহুদ যুদ্ধের স্থান এবং হজরত হামজা (রা.)সহ শহীদদের মাজার।
১৩. জান্নাতুল বাকি: মসজিদে নববীর পার্শ্ববর্তী সর্বপ্রধান কবরস্থান।
১৪. মসজিদে গামামা: খোলা আকাশের নিচে নবীজি (সা.) ঈদের ও বৃষ্টির নামাজ আদায় করেছিলেন।
১৫. মসজিদে সাবআ (খন্দক মসজিদ): খন্দকের যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ছোট সাতটি মসজিদ।
১৬. ওয়াদি আল-আকিক: নবীজি (সা.) যাকে মুবারক উপত্যকা বলেছেন।