সালমা ইসলামের মাঝেই আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জের স্বপ্ন

জমে উঠেছে ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন। এই এলাকার মানুষ বদলে যাওয়া আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জ দেখার অপেক্ষায়। তারা চান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে এই এলাকা। তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ থাকবে শান্তিতে-নিরাপদে, চলাচল করবে নির্বিঘ্নে। গ্রামীণ জনপদের সড়কও হবে শহরের আদলে। এজন্য আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা আস্থা রাখতে চান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের লাঙ্গল প্রতীকে। অতীতের মতো তিনি আগামী দিনেও সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবেন, এটাই বিশ্বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটির জনগণের। বুধবার নির্বাচনি এলাকাটির বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

সাধারণ মানুষ বলছেন, বিপদে-আপদে সব সময় তারা সালমা ইসলামকে পাশে পেয়েছেন। যে কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি হলেও জনগণের থেকে কখনো দূরে সরে যাননি। বরং পদ-পদবি তাকে মানুষের আরও কাছে এনেছে। সর্বস্তরের মানুষকে তিনি আপন করে নিয়েছেন। জনগণ যখনই চেয়েছে তাকে পেয়েছে।

রোববার সকালে কথা হয় নবাবগঞ্জের বক্সনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মমতা বেগমের (৫৬) সঙ্গে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সালমা ইসলাম আপা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী ভোট চাইতে আসেনি। আপা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কথা শুনেছেন, ভোট চেয়েছেন, সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন। আমার পরিবারে ছয়জন ভোটার। সুখে-দুঃখে সব সময় যেহেতু সালমা ইসলামকেই পাশে পাই, এবারও তার লাঙ্গল মার্কায়ই ভোট দেব।

বক্সনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মো. কাজল (৪৫) বলেন, ১৪ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে কঠিন সময় পার করছি। নির্বাচনের পরের কথা পরে, ভোটের আগেও সালমা ইসলাম ছাড়া কোনো প্রার্থী আমাদের বাড়ির কাছে আসেনি। এজন্য কে কী বলল তাতে ভয় পাই না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। সালমা আপাকেই ভোট দেব। তিনি আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট করে দিয়েছেন। ঈদে সেমাই-চিনি দেন। শীতে কাপড় দেন। নির্বাচনের আগেও যেমন তাকে পাই, পরেও তেমন পাই। এলাকাটা পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি।

দুপুরের দিকে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর রথখোলা কালী মন্দির এলাকায় কথা হয় হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের সঙ্গে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সত্তরোর্ধ্ব আনন্দ হালদার যুগান্তরকে বলেন, সালমা আপা তিনবার এমপি হয়েছেন। আমরা দুইবার তাকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়েছি। এবারও আমার পরিবারের ১২ জন ভোটারের সবাই লাঙ্গলেই ভোট দেব।

কোস্টাল-শিপ ওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান দোহারের লায়ন মেহবুব কবির

ঢাকার দোহারের একাধিক সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোস্টাল-শিপ ওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এ কমিটির মেয়াদ বলে জানা যায়।

কোস্টাল-শিপ ওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন- ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মো. শফিকুল ইসলাম, অমল চন্দ্র দাস, এমএ বকর।

অন্য সদস্যরা হলেন- শেখ মাহফুজ হামিদ, নাজমুল হোসাইন হামদু, মো. খোরশিদ আলম, আবু বকর সিদ্দিক, মো, ইউনুস মিয়া, অরুণ চন্দ্র দাস, মো. সোহাগ, সামসুল আরেফিন খালেদ, এনএ খালেদ।

এ বিষয়ে লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির কোস্টাল-শিপ ওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় দেশের সব জাহাজ মালিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের জাহাজ মালিকদের কল্যাণে কাজ করতে আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছে সারা দেশে। এছাড়া জাহাজ শ্রমিকদের উন্নয়ন ও তাদের কল্যাণে আমরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও পরিচালিত করে থাকি।

এ সময় মেহবুব কবির আরও বলেন, আমি দোহার উপজেলার সন্তান হিসেবে বিগত সময়ে আমি দোহারবাসীর কল্যাণেও বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছি। আগামী দিনেও দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর যেকোনো কাজে পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

পিতৃভূমিকে আলোকিত শহর হিসেবে গড়ার স্বপ্ন দেখি: শামীম ইসলাম

নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের কালিগঙ্গা নদীর পাতিলঝাপ পয়েন্টে সেতু নির্মাণ হবে। এতে করে অবহেলিত পাতিলঝাপ, উত্তর বালুখণ্ড, দুধঘাটা, মহিশদিয়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এ উন্নয়ন কাজ সুসম্পন্ন করতে স্থানীয়দের কাছে মায়ের জন্য লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চাইলেন যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম ইসলাম।

তিনি বলেন, আমার মা সালমা ইসলাম আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে সংসদে দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখবেন।

মঙ্গলবার বিকালে তিনি নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আটকাহনিয়া দেওয়ানপাড়া মাদ্রসা মাঠে স্থানীয় জাতীয় পার্টির উদ্যোগে এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন।

শামীম ইসলাম বলেন, আমার মায়ের রাজনীতিতে আসা জনগণের কল্যাণেই। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। গড়েছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা। বেকারত্ব ঘোচাতে অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। বাবার প্রত্যাশা পূরণে মায়ের হাত ধরে আমার প্রিয় দোহার-নবাবগঞ্জের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এসেছি। তিনি লাঙ্গল প্রতীকে মা সালমা ইসলামকে ভোট দিয়ে জয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি সবিনয় আহবান জানান।

শামীম ইসলাম শোল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় নির্বাচনি কর্মিসভা ও উঠান বৈঠকে অংশ নেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় মানুষ এ সময় লাঙ্গলের পক্ষে মিছিল-স্লোগানসহ বাজার প্রদর্শন করেন। সব মানুষের ভালোবাসা দেখে শামীম ইসলামও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন। তাদের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় তার সঙ্গে উপিস্থত ছিলেন- জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুল মতিন মেম্বার, আব্দুর রহমান, আব্দুল হালিম, মোশারফ হোসেনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই: সালমা ইসলাম

দোহার ও নবাবগঞ্জের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে আমি কাজ করতে চাই। সেজন্য আপনারা আমাকে আগামী ৭ জানুয়ারি লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির আয়োজনে নির্বাচনি সভায় ও উঠান বৈঠকে পার্টি মনোনীত ঢাকা-১ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ভোটারদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

শীতের পড়ন্ত বিকালে পদ্মা নদীর তীরবর্তী দোহার উপজেলার নারিশা ঝনকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম বলেন, যেকোনো অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে আমি আপনাদের পাশে ছিলাম আগামীতেও থাকব ইনশাআল্লাহ। এ সময় ‘সালমা ইসলাম এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ ও ‘লাঙ্গল লাঙ্গল’ স্লোগানে কম্পন উঠে উঠান বৈঠকে।

সেখানে তিনি আরও বলেন, পদ্মার ভাঙনে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে দোহারবাসীর। আমি নির্বাচিত হলে সরকারিভাবে তালিকা করে অতি-হতদরিদ্র ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করব। এছাড়া ভাঙনরোধে চলমান কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সালমা ইসলাম বলেন, পদ্মাপাড়ের পিছিয়ে পড়া অসংখ্য মানুষ যারা গৃহহীন, ভূমিহীন তাদের জন্য আমার প্রাণ কাঁদে, আমি আপনাদের কল্যাণ কাজ করতে চাই। আপনাদের পাশে থেকে আপনার ছেলেমেয়ের চাকরি, শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আগামীতে নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ করে যেতে চাই। যাতে ওরা আগামী দিনে দেশ-বিদেশে দোহার-নবাবগঞ্জকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।

এ সময় নির্বাচনি উঠান বৈঠক জনসভায় রূপান্তর হয়। উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সালমা ইসলামকে ভোটের পরিবেশ তৈরি করার আহবান জানান। তিনি বলেন, কোনো ভয় নেই আপনাদের। আপনিই আপনার ভোটের মালিক, তাই সিদ্ধান্ত আপনার। আমি আশা করি সত্য সুন্দর এক মানবিক দোহার ও নবাবগঞ্জ উপহার দিব আপনাদের। শুধু একটিবার সুযোগ দিন লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিন।

বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দোহার-নবাবগঞ্জের প্রতিটি গ্রামের জনসাধারণকে শহরের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা ‘লাঙ্গল লাঙ্গল’ স্লোগানে সভাস্থলকে মুখরিত করে তোলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, মানুষ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায়। প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নের ও প্রয়োগের অধিকার আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধানে রয়েছে। আমরা অবশ্যই আমাদের অধিকার আদায় করতে সচেষ্ট থাকব।

এ সময় তিনি দোহার-নবাবগঞ্জের প্রতিটি মানুষের কাছে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, আমি আপনাদের কাছে এসেছি এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে। আমার পরিবারের উন্নয়নের জন্য নয়। আমার পরিবারের সদস্যরা আপনাদের স্বজন ও আপনজন। কারণ আমার স্বামী প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম আপনাদের প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি আপনাদের ব্যথায় ব্যথিত হতেন। দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। সেটি বাস্তবায়নে আপনাদের কাছে ছুটে আসছি। আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না।

এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জুয়েল আহমেদ, জাতীয় পার্টির নেতা মশিউর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, বোরহান হোসেন, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার ব্যাপারী, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আব্দুল আলীম, মাসুদ মাঝি, মো. মানিক, মিল্লাত হোসেন, বাবুল হোসেন, আইরিন গমেজ, নজরুল ইসলাম, মনির হোসেনসহ দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টি, মহিলা পার্টি ও ছাত্র সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমি সকলের এমপি হতে চাই: সালমান এফ রহমান

আমি কোনো দলের না, সকলের এমপি হতে চাই। দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলাকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা দরকার সেই সকল কাজ করা হবে। সেইসঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী (ঢাকা-১) ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

মঙ্গলবার সকালে নবাবগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে উপজেলার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সালমান এফ রহমান আর বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রতিটি খাতেই- ব্যাংক, বীমা, শিল্প কারখানা, এয়ারলাইন্স, টেলিভিশনে বেসরকারিকরণের কারণে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কোভিডের কারণে অনেক সমস্যা হয়েছিল। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোভিড কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। দোহার-নবাবগঞ্জে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব নেই। একটি ব্যবসায়ীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের পাশাপাশি দোহার নবাবগঞ্জকেও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পদ্মা, ইছামতী, কালিগঙ্গা নদী শাসন ও বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। নদী শাসন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

বড় সমস্যা রয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে, তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবো। হাট বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, ষড়যন্ত্র ছিল, আছে, থাকবে। কিন্তু লাভ হবে না, নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের ভুয়া কথায় কোনো লাভ হবে নাই। প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিশ্বাস দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে ভোট কারচুপির কোনো প্রশ্ন আসে না। দেশে কোনো গৃহহীন নাই, বিশেষ করে দোহার-নবাবগঞ্জে নাই। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আত্মীয় কিংবা দলের কেউ অন্যায় করলেও ছাড় দেয়া হবে না। আমি দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এমপি হতে চাই। যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাকে জানাবেন।

এছাড়া নবাবগঞ্জের ইমাম ও ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অপপ্রচার চালিয়েছে একটি গোষ্ঠী। সুষ্ঠু সমাজ গঠনে ইমাম ওলামাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মাদক, সন্ত্রাসী, বাল্য বিবাহ বন্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, ফিলিস্তিনির উপর ইসরাইলের বর্বর হামলার প্রতিবাদে প্রথম জননেত্রী শেখ হাসিনা নিন্দা জানিয়েছেন। যারা ইসলামের বন্ধু মনে করেন বিএনপি তারা আজ কোথায়? নিন্দা জানানো দূরের কথা, কোনো শব্দ নেই। এসময় তিনি আগামী ৭ তারিখে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাচনে অঘটন ঘটলে কেউ ছাড় পাবে না: সালমান এফ রহমান

ঢাকা-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সালমান এফ রহমান বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো অঘটন ঘটলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সোমবার বিকেলে নবাবগঞ্জের বক্সনগরের বর্ধনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রভিত্তিক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দোহার নবাবগঞ্জকে মডেল উপজেলা করারও প্রতিশ্রুতি দেন সালমান এফ রহমান।

গত ৫ বছরে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দোহার-নবাবগঞ্জের রাস্তাঘাট, ব্রিজ করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোও ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় রূপান্তরের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মানের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও তাকে বিজয়ী করার অনুরোধ জানান সালমান এফ রহমান।

এ সময় নির্বাচিত হলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক ও মৈনট ঘাটে নির্মিত বিনোদন কেন্দ্রে স্থানীয়দের নিয়োগের পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য পরামর্শ কেন্দ্র গড়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ভোটের দিন সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাচনকে সফল করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

নবজাতকের সুন্দর নাম রাখা সুন্নত

0

মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী

প্রতিটি মুসলিম নবজাতকের জন্য তার পিতা-মাতার ওপর বিশেষ কর্তব্য হলো অন্তত জন্মের সপ্তম দিবসে তার জন্য একটি শ্রুতিমধুর, ঐতিহাসিক ও অর্থবোধক সুন্দর নাম রাখা। আল্লাহ হজরত আদম (আ.)-কে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে তাঁকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করলেন।  এতে বোঝা গেল প্রতিটি জিনিসের নাম রাখা জরুরি।

হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়িব (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমার দাদা হাজন প্রিয় নবীর খেদমতে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কী? তিনি বললেন আমার নাম হাজন (শক্ত) প্রিয় নবী বললেন, না, বরং তোমার নাম হওয়া উচিত সাহল (সহজ ও সরল)। তিনি উত্তরে বললেন, আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করব না। এরপর আমাদের পরিবারে পরবর্তীকালে কঠিন অবস্থা ও পেরেশানি লেগেই থাকত।’ (বুখারি)।

তাই অর্থ না জেনে নাম রাখাও ঠিক নয়। এতে অর্থ বিকৃতি ও হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেসব নাম অন্যান্য জাতির উপাস্য ও দেবতাদের সঙ্গে খাস, যেমন আবদুল উজ্জা, আবদুল কাবা, দুর্গা, কালী প্রভৃতি নাম রাখাও নাজায়েজ ও হারাম। তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, ‘নবজাতকের পিতা-মাতার ওপর দায়িত্ব হলো জন্মের সপ্তম দিনে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা, আকিকা করা ও তার মাথা মু-ন করা।’ (তিরমিজি)।

প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ আবদুর রহমান। আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম রয়েছে, ওইসব নামের সঙ্গে আবদ শব্দযোগে নাম রেখে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভুত্ব স্বীকার করার ইঙ্গিত দেয় এমন নাম রাখা সর্বোত্তম।

অনুরূপভাবে নবী-রসুল, সাহাবি ও অলি-বুজুর্গদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখাও উত্তম। অজ্ঞাতসারে বা অবহেলাবশত অর্থহীন বা বিদঘুটে কোনো নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর, শ্রুতিমধুর, অর্থবোধক ও ঐতিহাসিক নাম রাখা অবশ্যকর্তব্য।  প্রিয় নবী (সা.) সাহাবিদের ইসলাম-পূর্ববর্তী যুগের রাখা এ ধরনের কোনো নাম শুনতে পেলে মুসলিম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর নাম রেখে দিতেন।হজরত জুয়াইরিয়া (রা.)-এর ইসলামপূর্ব নাম ছিল ‘বাররাহ’। প্রিয় নবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে জুয়াইরিয়া রাখলেন। (মুসলিম) হজরত ইবনে ওমর বলেন, ‘প্রিয় নবী আসিয়ার নাম পরিবর্তন করে জামিলা রেখেছিলেন, কেননা আসিয়া অর্থ পাপী, আর জামিলা অর্থ রূপসী।’ (মুসলিম)।

কারি তৈয়ব (রহ.) বলেন, ‘মানুষকে তার পোশাক দিয়ে চেনা যায় না বরং নাম ও আচরণ দিয়ে তার জাতীয়তা বোঝা যায়। কারও নাম বিকৃত করে সংক্ষিপ্ত আকারে ডাকাও উচিত নয়, কেননা এতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কাউকে তার নাম পরিবর্তন করে বিকৃত করে ডাকবে, আল্লাহর ফেরেশতারা তার ওপর লানত করেন। এ ক্ষেত্রে যাকে ডাকা হলো, খুশি না হয়ে বরং সম্মানের সঙ্গে তারও প্রতিবাদ করা উচিত।

লেখক : ইমাম খতিব, কাওলার বাজার জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা

ঢাকা -১আসন জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭ জানুয়ারী ভোটগ্রহনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১ আসনে (দোহার- নবাবগঞ্জ) জাতীয় পার্টির মনোনিত লাঙ্গলের প্রার্থী সালমা ইসলামের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার বর্দ্ধনপাড়ায় তার নির্বাচনী কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে তিনি এ ইশতেহার ঘোষনা করেন।
এ সময় সালমা ইসলাম দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার জন্য ভোটারদের কাছে নানামুখী  উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, উন্নয়নের জন্য চাই পরিবর্তন উন্নয়ন হবে দৃশ্যমান, লক্ষ্য কর্মস্থান। সালমা ইসলাম এ এলাকার জনগণের  উন্নত জীবনমানের কথা চিন্তা করে নানা বিষয়ে উল্লেখযোগ্য দোহার নবাবগঞ্জকে উন্মত্ত পদ্মার করাল গ্রাস হতে রক্ষা করতে চলমান কাজের অসমাপ্ত অংশে বাঁধ মেরামতে অগ্রাধিকার দেওয়া । পদ্মার পাড় জুড়ে ক্ষুদ্র শিল্পকলখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কাজের জবাবদিহিতা ও দোহার নবাবগঞ্জের প্রতিটি শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক ও স্মার্ট মানের গড়ে তোলা ও দোহার নবাবগঞ্জের ৪১৫ গ্রামের মাটির রাস্তা পাকাকরণ  ও  পর্যাপ্ত ড্রেনেজ লাইনের ব্যবস্থাসহ ও আধুনিক জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ ১৫টি বিষয়ের উপর তিনি তার লিখিত ইশতেহার পাঠ করে শুনান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জুয়েল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমানসহ জাতীয় পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মেঘুলায় নিখোঁজ ২ জনের ১জনের মৃতদেহ উদ্ধার

দোহার গরুর ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ২ মামা ভাগ্নের মধ্যে মামার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম মনির মাদবর, বয়স – ৪০। পিতা – মোতালেব মাদবর, বাড়ী- জাহানাবাদ, বাঘড়া, শ্রীনগর। এখনো নিখোঁজ রয়েছে সিয়াম। সে মুকসুদপুরের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মামা ভাগ্নে ইঞ্জিনরুমে ঘুমাচ্ছিলো বলে জানা যায়। সামনে দরজা বন্ধ থাকায়, পিছনের ছোট্ট দরজা দিয়ে হয়তো বের হতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় মনিরের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সকলের ধারণা।

প্রত্যক্ষদর্শী আশিকুল গাজী news39.net কে জানান, শুক্রবার সকালে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার সময় মুকসুদপুর বাজার সংলগ্ন লঞ্চ ঘাটে লাশ ভাসতে দেখে। পরবর্তীতে ফুলতলা পুলিশ ফাড়ি থেকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে বাঘড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তানজিল রহমানের মাধ্যমে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

দেশকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয় ইসলাম

0

মক্কাবাসী যখন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা থেকে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দেয় তখনো মক্কার মায়া ছাড়তে পারছিলেন না তিনি। মক্কার প্রতি ভালোবাসায় তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল।

মক্কা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় পেছন ফিরে বারবার মক্কার দিকে তাকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, ‘আল্লাহর কসম! হে মক্কা, নিশ্চয়ই তুমি সবচেয়ে প্রিয় ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম স্থান। আমাকে যদি এখান থেকে বের করে না দেওয়া হতো আমি কিছুতেই তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।’ তিরমিজি।

সবারই জানা, মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতৃভূমি মক্কার কথা ভুলেননি। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর মদিনাকে নিজের দেশ হিসেবে গণ্য করে মদিনার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ধর্মবর্ণনির্বিশেষে মদিনার সব নাগরিককে নিয়ে এর সুরক্ষার জন্য অনেক যুদ্ধও করেছেন তিনি।

ঐতিহাসিক মদিনা সনদের অন্যতম মৌলিক ধারা ছিল- শত্রু কর্তৃক মদিনা আক্রান্ত হলে এখানকার সব নাগরিক ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পর মক্কার অধিবাসীদের মধ্যে একে অন্যকে  ঝুঁকি মনে করার প্রবণতা সৃষ্টি হওয়া থেকে দূরে রাখা এবং প্রতিশোধস্পৃহা দমন করার নিমিত্ত নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দেন ‘আজকে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।’

অর্থাৎ অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনৈক্য সৃষ্টি করে এই ভূখন্ডের ক্ষতিসাধন ও অর্জিত স্বাধীনতার ক্ষতি হয় সে রকম কোনো কাজ করা যাবে না।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক