তওবা করার নিয়ম

0

মানুষ শয়তানের ধোকায় পড়ে গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে মহান আল্লাহ তায়ালা গুনাহ করা মানুষদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছ, তোমার আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল। পরম দয়ালু।’ (সূরা জুমা, আয়াত, ৫৩)।

যখন একজন মুসলিম গুনাহ করে ফেলে, তখন তার প্রথম কাজ হলো— তওবা করা। তাওবা মানে গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করা। আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা যদি পাপাচার করতে, এমনকি তোমাদের পাপ আকাশের সীমা পর্যন্ত পৌঁছে যেত, অতঃপর তোমরা তওবা করতে; তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের তওবা কবুল করবেন’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস, ৪২৪৮)।

তওবা করার নিয়ম হলো- যেসব গুনাহ করেছেন তার ওপর অনুতপ্ত হওয়া আব্যশক এবং ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ না করার করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এর জন্য তওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম।

এই নামাজ অন্যান্য নামাজের মতোই। শুধু নামাজ পড়ার শুরুতে তওবার নিয়ত করে নিতে হবে। যেমন, নিয়তের সময় এভাবে বলবেন যে, হে আল্লাহ ! আমি দুই রাকাত তওবার নামাজ পড়ছি, আপনি নামাজ কবুল করুন। এরপর নামাজের বাকি কাজগুলো অন্য নামাজের মতোই হবে। এতে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হৃদয়ে দোয়া করতে হবে, গুনাহ থেকে মাফ চাইতে হবে।

তবে তওবা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা হলে বা অন্যায়ভাবে কারো হক নষ্ট করলে তার কাছে মাফ চেয়ে নিতে হবে। কারণ, যার হক নষ্ট করা হয়েছে, তার কাছে মাফ না চাওয়া পর্যন্ত তওবা কবুল হবে না। তার হক আদায় ও তার নিকট মাফ চাওয়া তওবা কবুলের পূর্বশর্ত। (তিরমিজি, হাদিস. ৪০৬, শরহুন নবভি : ১৭/৫৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ২/২৩৯)

দোহারে কৃষক লীগ নেতাকে হাতুড়িপেটা

ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক লীগ নেতা তারা মিয়াকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছেন নয়াডিঙ্গি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে মো. সোহাগ। পূর্ব বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনা ঘটে।

তারা মিয়া বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান ভুক্তভোগী তারা মিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

আহত তারা মিয়া নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাহ্রা নয়াডিঙ্গি এলাকার জয়েদ আলী ফকিরের ছেলে।

আহত তারা মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, সোহাগের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় তিনি আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি দুপুরে জয়নালের মোড় নামক একটি স্থানে পরিবারে জন্য বাজার করতে গেলে হঠাৎ পেছন থেকে সোহাগ হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সোহাগ পালিয়ে। সংবাদ পেয়ে আমার পরিবারের লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

দোহার উপজেলা কৃষক লীগ সূত্র জানায়, আহত তারা মিয়া নয়াবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক লীগের ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করছেন।

আহত তারা মিয়ার স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, জয়নালের মোড়ে আমার স্বামীকে সোহাগ হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। আমার স্বামী এমনিতেই অসুস্থ মানুষ, যদি মারা যেত তাহলে আমি ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় যেতাম বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি হারুনুর রশিদ মোবাইল ফোনে জানান, দোহার থানায় এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ এখনো হয়নি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

হাত থেকে কুরআন শরিফ পড়ে গেলে কী করবেন ?

0

প্রশ্ন: গ্রামগঞ্জে প্রচলন আছে যে, কারও হাত থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে কুরআন শরিফ পড়ে গেলে কুরআন শরিফের ওজন পরিমাণ চাল, গম বা এজাতীয় কোনো কিছু সদকা করতে হয়। জানতে চাই, প্রচলনটি কি শরীয়তসম্মত?

উত্তর: কুরআন মাজীদের কপি হাত থেকে পড়ে গেলে তার ওজন পরিমাণ চাল, গম বা এজাতীয় কোনো কিছু সদকা করার বিধান শরীয়তে নেই। তাছাড়া কুরআন মাজীদ ওজন করাও এক ধরনের বেয়াদবী। তাই এমনটি করা যাবে না।

বরং ভুলে কখনো কুরআন মাজীদের কপি হাত থেকে পড়ে গেলে তখন তাওবা-ইস্তিগফার করে নেবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবে, যেন এমনটি না হয়।

আর সম্ভব হলে এমনিতেই সাধ্য অনুযায়ী কোনো কিছু সদকা করতে পারে। এটি বাধ্যতামূলক নয়। বরং যে কোনো ক্ষেত্রেই সদকা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম।

সূত্র: ফাতাওয়া রশীদিয়্যাহ, পৃ. ৫৯৮

আবারও বিজয়ী সালমান এফ রহমান

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: আসন ১৭৪ তথা ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ)আসনে প্রত্যাশিতভাবেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান। তিনি ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার ৫টি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলাম পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৩০টি ভোট।

এছাড়া বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মো. করম আলী হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৬শ ৪২টি, গণফ্রন্টের শেখ মো. আলী মাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৫৩১টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সামসুজ্জামান চৌধুরী একতারা প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৫০৮টি, তৃণমূল বিএনপির মুফিদ খান সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৭৩টি এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুর হাকিম আম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৩০টি ভোট পেয়েছেন।

সালমান এফ রহমান পুনরায় নির্বাচিত হওয়া দোহার নবাবগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলীয় সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তিনি বলেন, তিনি দোহার নবাবগঞ্জকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি তার সকল ওয়াদা এবং অসমাপ্ত সকল কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রত্যাশা করেন।

ঢাকা-১ আসনে মোট কেন্দ্র ১৮৪টি। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৩ জন।

ইসলামে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার গুরুত্ব

ইসলাম সব সময় শান্তি, সম্প্রতি আর শৃঙ্খলার কথা বলে। সমাজে কাউকে অন্যায় করতে দেখলে বা কাউকে জুলুমের শিকার হতে দেখলে জুলুমের প্রতিবাদ করা ইমানি দায়িত্ব। এটিই একজন মুসলমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি; মানুষের কল্যাণেই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১১০) হাদিসে এসেছে, আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখে, সে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিহত করে। যদি তা না পারে, তবে কথা দিয়ে; তাও না পারলে অন্তর দিয়ে (ঘৃণা করবে)। এটি ইমানের দুর্বলতম স্তর।’ (মুসলিম: ৭৪)

জুলুমের প্রতিবাদ করা বড় সওয়াবের কাজ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নিজেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন; নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের কী হলো, তোমরা কেন আল্লাহর পথে লড়াই করো না? অথচ দুর্বল পুরুষ, অসহায় নারী ও নিরাশ্রয় শিশুরা আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করছে—হে আমাদের রব, আমাদের এই জালিমের জনপদ থেকে মুক্তি দিন এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাঠান।’ (সুরা নিসা: ৭৫) অন্যায় দেখে কোনোভাবেই প্রতিবাদ না করা ইসলামের শিক্ষার বিপরীত। কমপক্ষে অন্তরে ঘৃণা হলেও পোষণ করতে হবে। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ করে বলছি—তোমরা অবশ্যই ভালো কাজে মানুষকে আদেশ দেবে এবং অবশ্যই অন্যায় থেকে নিষেধ করবে। যদি তা না করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের শাস্তি দেবেন। এরপর তোমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করলেও তিনি কবুল করবেন না।’ (তিরমিজি: ৪০৬)

আব্দুল্লাহ আল গালিব, ইসলামবিষয়ক গবেষক

 

 

 

 

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধে সালমান এফ রহমান বনাম সালমা ইসলাম

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা): দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে প্রার্থী সাতজন।  তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি সালমান এফ রহমান (নৌকা) ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সালমা ইসলামের (লাঙল) মধ্যে। অবশ্য সালমানের জয়ের পাল্লা কিছুটা ভারী বলে মনে করছে সুধীসমাজ।

সালমান এফ রহমান প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা আর সালমা ইসলাম জাপার কো-চেয়ারম্যান।

দুই প্রার্থীই শিল্পপতি। গণসংযোগসহ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন।  উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও ভোটারদের নৌকায় ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সালমান।

 আর সালমা ইসলাম অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে আবারও তাঁকে বিজয়ী করতে ভোটারদের আহবান জানিয়েছেন ।

২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার দুটি আসনকে একটি আসন (ঢাকা-১) করা হয়। আসন দুটি একসময় বিএনপির ‘ঘাঁটি’ ছিল। আসন দুটি থেকে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নান ও নাজমুল হুদা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির আব্দুল মান্নানকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান খান বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে নেন।

আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মান্নান খান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায়। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মান্নান খানকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন জাপার সালমা ইসলাম।

আওয়ামী লীগের একাংশ মান্নান খানের বিরোধিতা করায় এবং বিএনপির সমর্থন পাওয়ায় সালমা বিজয়ী হয়েছিলেন বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।  ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জোটের প্রার্থী হন সালমান।

আর দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা।  বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী সালমান। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হন সালমা।

সালমান এফ রহমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পদ্মা রক্ষা বাঁধ, কালীগঙ্গা বাঁধসহ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বদলে গেছে দৃশ্যপট। বিএনপির ‘দুর্গ’ আওয়ামী লীগের শক্ত ‘ঘাঁটিতে’ পরিণত হয়েছে। সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ একাট্টা। মাটি কাটাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এমপি সালমানের ভূমিকার প্রশংসা করছেন ভোটাররা।  তাই ঢাকা-১ আসনে অনেকটা এগিয়ে আওয়ামী লীগ।

সুধীসমাজ মনে করে, সালমান এফ রহমান ও সালমা ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে।

তবে শেষ হাসির সম্ভাবনা সালমানের। কারণ, সালমানের নেতৃত্বে দোহার ও নবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে অনেকটা সুসংগঠিত। আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট পুরোটাই তিনি পেতে পারেন। অন্যদিকে জাপা বা সালমা ইসলামকে এবার সমর্থন দেবে না বিএনপি।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, নানা কাজের মাধ্যমে সালমান এফ রহমান সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি জনপ্রিয়। ভোটাররা আবারও তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।

ঢাকা-১ আসনের মধ্যে দোহার উপজেলায় রয়েছে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন। এই উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ১১ হাজার ৫৫৭ জন। আর নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। এই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ২ হাজার ৫২ জন।  এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ১২ এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ৯৩৪ জন। এ ছাড়া ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।  দুই উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০৯।

পরিবর্তন আপনাদের হাতে ভোট দিতে আসেন

গত ১৫ বছরের মধ্যে ৫ বছর আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলাম। দুবার ছিলাম সংরক্ষিত আসনে। কিন্তু ১৫ বছরই আপনাদের পাশে ছিলাম। ২৩টি ইউনিয়নে সব উন্নয়নে আমার হাতের ছোঁয়া আছে। আগামী ৭ তারিখে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই উন্নয়ন আরও দৃশ্যমান হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান।

পরিবর্তন আপনাদের হাতে। কেন্দ্রে আসেন। ভোট দেন। রেজাল্ট নিয়ে ফিরবেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নবাবগঞ্জ ও দোহারে নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, লাঙ্গলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। যেসব এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে নবাবগঞ্জের আগলা ইউনিয়ন, বান্দুরা এবং যন্ত্রাইলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন।

নির্বাচনের আগে শেষ দিনের উঠান বৈঠক ও সমাবেশে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন হুমকি আছে। বিভিন্ন লোকজন অনেক কথা বলেন। তবে আমি ফাইট করব। কারণ প্রধানমন্ত্রী আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জনসভা ও শোভাযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার ব্যাপারী, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, জাতীয় পার্টির নেতা এমএ মজিদ, আসাদুজ্জামান চৌধুরী রানা, জাপা নেতা মান্নান মাস্টার ও সেলিম শিকদারসহ মহিলা পার্টি, যুব সংহতি, ছাত্র সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য

0

মাহমুদ হাসান ফাহিম

ইসলামে প্রতিবেশীর প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে জোর দেওয়া হয়েছে। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবনযাপন করা বা আশপাশের মানুষজনের বিরাগভাজন হয়ে সমাজে বসবাস করা ইসলামে নিন্দনীয়। তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং সমাজবদ্ধ জীবন রাঙানো মুমিনের একান্ত কর্তব্য।

হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে জোর দিয়ে বলেন, ‘হজরত জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি তাগিদ করেছেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিবেশীকে সম্পদের উত্তরাধিকার বানিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

প্রতিবেশী চার ধরনের হতে পারে। স্তরভেদে তাদের অধিকারেও কমবেশি হয়।

একঅনাত্মীয় অমুসলিম প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর যেসব সাধারণ অধিকারের কথা কোরআন-হাদিসে এসেছে, সবই তাঁরা পাবেন। অমুসলিম বলে কোনো ধরনের অধিকার থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা অনুচিত।

দুইঅনাত্মীয় মুসলিম প্রতিবেশী, যিনি প্রতিবেশী হওয়ার পাশাপাশি একজন মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অন্য মুসলিম ভাইয়ের যেসব দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে, তাও পাবেন।

তিনআত্মীয় অমুসলিম প্রতিবেশী। এমন ব্যক্তির প্রতিও সদ্ব্যবহারের নির্দেশ হয়েছে। মহানবী (সা.) অমুসলিম আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর রাখতেন এবং তাঁদের যত্ন নিতেন।

চারআত্মীয় মুসলিম প্রতিবেশী। এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি সমাদর পাওয়ার যোগ্য। এদের প্রতি একজন মুমিনের দায়িত্ব-কর্তব্য সবচেয়ে বেশি।

তবে প্রতিটি শ্রেণিই যেহেতু প্রতিবেশী, তাই প্রতিবেশীর সব হকের ক্ষেত্রে সবাই সমান দাবিদার। প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা, বিপদ-আপদে এগিয়ে আসা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা, উপহার আদানপ্রদান করা, সেবা-শুশ্রূষা করা, কেউ মারা গেলে সান্ত্বনা দেওয়া, একে অন্যের প্রয়োজন পূরণ করা, প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রতিবেশীর কষ্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি প্রতিবেশীর হক।

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে।’ (মুসলিম)

লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

 

দোহারের ২ বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করলো ঢাকা জেলা বিএনপি

প্রেস রিলিজ: দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক তানভীর আহমেদ সানু, দোহার উপজেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক  ও দোহার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাফর ইকবাল জাহিদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল প্রকার সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। ১ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্যাডে তাদের বহিস্কার করা হয়।

 

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর বানাঘাটায় ঢাকা -১ সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে নৌকায় ভোটের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন তানভীর আহমেদ সানু ও জাফর ইকবাল জাহিদ। এই সময় তারা এলাকায় উন্নয়নের স্বার্থে সালমান এফ রহমানের পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চান এবং নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য হাত তুলে সমর্থন জানান। তাদের রাজনৈতিক এই অবস্থান পরিবর্তন বিএনপি সংশ্লিষ্টদেরকে অবাক করেছে। এই কারণে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সালমা ইসলামের মাঝেই আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জের স্বপ্ন

জমে উঠেছে ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন। এই এলাকার মানুষ বদলে যাওয়া আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জ দেখার অপেক্ষায়। তারা চান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে এই এলাকা। তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ থাকবে শান্তিতে-নিরাপদে, চলাচল করবে নির্বিঘ্নে। গ্রামীণ জনপদের সড়কও হবে শহরের আদলে। এজন্য আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা আস্থা রাখতে চান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের লাঙ্গল প্রতীকে। অতীতের মতো তিনি আগামী দিনেও সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবেন, এটাই বিশ্বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটির জনগণের। বুধবার নির্বাচনি এলাকাটির বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

সাধারণ মানুষ বলছেন, বিপদে-আপদে সব সময় তারা সালমা ইসলামকে পাশে পেয়েছেন। যে কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তিনি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি হলেও জনগণের থেকে কখনো দূরে সরে যাননি। বরং পদ-পদবি তাকে মানুষের আরও কাছে এনেছে। সর্বস্তরের মানুষকে তিনি আপন করে নিয়েছেন। জনগণ যখনই চেয়েছে তাকে পেয়েছে।

রোববার সকালে কথা হয় নবাবগঞ্জের বক্সনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মমতা বেগমের (৫৬) সঙ্গে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সালমা ইসলাম আপা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী ভোট চাইতে আসেনি। আপা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কথা শুনেছেন, ভোট চেয়েছেন, সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন। আমার পরিবারে ছয়জন ভোটার। সুখে-দুঃখে সব সময় যেহেতু সালমা ইসলামকেই পাশে পাই, এবারও তার লাঙ্গল মার্কায়ই ভোট দেব।

বক্সনগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মো. কাজল (৪৫) বলেন, ১৪ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে কঠিন সময় পার করছি। নির্বাচনের পরের কথা পরে, ভোটের আগেও সালমা ইসলাম ছাড়া কোনো প্রার্থী আমাদের বাড়ির কাছে আসেনি। এজন্য কে কী বলল তাতে ভয় পাই না। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। সালমা আপাকেই ভোট দেব। তিনি আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট করে দিয়েছেন। ঈদে সেমাই-চিনি দেন। শীতে কাপড় দেন। নির্বাচনের আগেও যেমন তাকে পাই, পরেও তেমন পাই। এলাকাটা পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি।

দুপুরের দিকে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর রথখোলা কালী মন্দির এলাকায় কথা হয় হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের সঙ্গে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সত্তরোর্ধ্ব আনন্দ হালদার যুগান্তরকে বলেন, সালমা আপা তিনবার এমপি হয়েছেন। আমরা দুইবার তাকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়েছি। এবারও আমার পরিবারের ১২ জন ভোটারের সবাই লাঙ্গলেই ভোট দেব।