জীবন তো মাত্র শুরু, এখনো পাড়ি দিতে হবে বহুদূর, বহু বন্ধুর পথ

0

(এই প্রবন্ধটি লিখেছেন দোহারের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৪৭ তম ব্যাচের এক্স ক্যাডেট, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। আজকের লিখাটি সেসব তরুণদের জন্য যারা জীবনকে খুঁজে পেতে চায় বিভিন্ন রঙে, বর্ণে, গন্ধ ও স্বাদে। যারা নির্দিষ্ট পেশা মানেই জীবন বা সফলতা মনে করে না।)

সম্প্রতি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পরিচিত অনেকের ছোট ভাই-বোনের চান্স পাওয়ার আনন্দের সংবাদ পেয়েছি। আবার অনলাইন এবং অফলাইনে দেখেছি অনেককে মেরিট পজিশন আর মেডিক্যাল কলেজের নাম দিয়ে অভিনন্দন জানাতে। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য সরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্টের পরও একইরকমভাবে অভিনন্দন জানানো হবে পরিচিত কৃতকার্যদেরকে।

সমস্যা হলো শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিক্যালে পড়ানোর জন্য আমাদের দেশের অভিভাবকদের প্রচন্ড আগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের মনে স্কুলের শুরু থেকেই এই বদ্ধমূল ধারণা জন্মায় যে, টপ পজিশনের ছাত্র-ছাত্রী মানেই ভবিষ্যৎ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। যেজন্য সরকারি মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে মোট সীটের তুলনায় পরীক্ষার্থী থাকে অতিরিক্ত বেশি, অনেকসময় দেখা যায় একটা সীটের জন্য ২০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

আমাদের পরিচিত কেউ যখন তথাকথিত ভালো বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চান্স পেতে ব্যর্থ হয় তখন সেই ছেলে বা মেয়ে মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়ে। এমতাবস্থায় বেশিরভাগ ফ্যামিলি মেম্বার এবং নিকটাত্মীয়রা তাদেরকে মানসিক সাপোর্ট দিতে ব্যর্থ হন। উপরন্তু কার পরিচিত কে কোথায় চান্স পেলো সেসব বলে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ এর মতো ওদের মনকে আরও বিষিয়ে তুলে-যা অনুচিত।

তবে পরীক্ষার্থীদের মনে রাখা উচিত যে, মেডিক্যাল কলেজ বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়া মানেই জীবনের সব শেষ না। স্কুল কলেজে ভালোভাবে পড়াশোনা করে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল না হলে মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই খারাপ লাগাটা দীর্ঘস্থায়ী করা যাবেনা। এটা একটা ভুল ধারণা যে বুয়েট-মেডিক্যালে আমার হয়নি- তো আমার জীবন শেষ। তোমাদের জীবন তো মাত্র শুরু, এখনো তোমাদের পাড়ি দিতে হবে বহুদূর, বহু বন্ধুর পথ।

আমি ২০০৮ সালে এসএসসি পাশ করেছি। আমাদের ব্যাচ বা সমসাময়িক ব্যাচগুলোতে যারা ছিল তারা সবাই এখন বেশ প্রতিষ্ঠিত, সবাই নিজেকে এবং পরিবারকে সাপোর্ট দিচ্ছে। এদের কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ডিরেক্টর, কেউ পুলিশ, কেউ লেখক, কেউ আইনজীবী, কেউ ব্যাংকার, কেউ ফটোগ্রাফার, কেউ ফিল্মমেকার ইত্যাদি বিভিন্ন পজিশনে বিভিন্ন জায়গায় আছে। অর্থাৎ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও আরও অসংখ্য ক্ষেত্র আছে জীবনে কিছু করার, প্রতিষ্ঠিত হবার। আমার স্কুল-কলেজের ব্যাচমেটদের মধ্যে ডাক্তার আছে সর্বসাকুল্যে ১০%, ইঞ্জিনিয়ারও একইরকম পার্সেন্টেজের হবে। এই ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বাদে বাকি যে ৯০% আছে তাদের জীবন কি শেষ হয়ে গেছে? তারা কি রিমার্কেবল কিছুই করছেনা জীবনে? অবশ্যই বাকিদের মাঝে অনেকেই অনেক ভালো পজিশনে, সম্মানিত পজিশনে আছে। তাহলে মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে হতাশ কেন হচ্ছো? ডিফারেন্ট কিছু করার, আউট অব দ্যা বক্স কেন চিন্তা করছোনা?

আমি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গ্যাস ট্যাংকার কোম্পানিতে চাকরি করছি। আমাদের পেশাকে সবাই একটু ভিন্নধর্মী, ব্যতিক্রমী হিসেবেই জানে৷ মেরিনারদেরকে মাসের পর মাস সমুদ্রে ভেসে বেড়াতে হয়। একদেশ থেকে আরেক দেশের বন্দরে, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে, এক মহাসমুদ্র থেকে আরেক মহাসমুদ্রে আমাদের বিচরণ। আমার এন্টার্কটিকা বাদে বাকি ৬ মহাদেশের মাটিতে পা নামানোর সৌভাগ্য হয়েছে। ২০১৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে এখনো পর্যন্ত ত্রিশটিরও বেশি দেশে যাবার সুযোগ হয়েছে। সেসবের মধ্যে আমেরিকা, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলসহ আরও অনেক দেশই অল্পস্বল্প দেখার সুযোগ পেয়েছি। মেরিনার হওয়ার জন্য আমি কাউকে নিজ থেকে উৎসাহিত করিনা, আবার কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলে অনুৎসাহিতও করিনা। অন্যান্য সকল পেশার মতো এ পেশাতেও বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা আছে। তাই যারা আগ্রহী তাদেরকে সাজেস্ট করি ভালোভাবে আমাদের প্রফেশনাল ধাপগুলো, চাকরির বাজারের পরিসংখ্যান ইত্যাদি জেনে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে। ইন্টারনেটের কল্যাণে যেকোন তথ্যই এখন খুব সহজে পাওয়া যায়, তাই কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে-সঠিক তথ্য জেনে এরপর সিদ্ধান্ত নাও।

মনে রেখো, বর্তমানে যে ডাক্তার দিনে ৫০/৭০/১০০ জন করে রোগী দেখছেন। উনি কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন সংখ্যক রোগী পাননি৷ বছরের পর বছর সময় এবং শ্রম দেয়ার পরেই উনি আজকে মাসে লাখ লাখ টাকা পাচ্ছেন৷ উনিও ইন্টার্নিশিপ শেষ করার পরে হয়তো অনেকদিন কোথাও চাকরি পাননি। একসময় হয়তো উনি ১৫/২০ হাজার টাকার চাকরি করতেন, ‘খ্যাপ’ মারতেন বিভিন্ন হাসপাতালে, সপ্তাহে ৩/৪ দিন নাইট ডিউটি করতেন। অর্থাৎ দীর্ঘসময় ধরে এত স্ট্রাগল করার পরেই বর্তমানের সুদিন উপভোগ করছেন। একইভাবে আজকে যিনি একজন ব্যাংকের ম্যানেজার, আলাদা রুমে এসিতে বসে থাকেন-উনি একসময় যথেষ্ট স্ট্রাগল করেছেন, ক্যাশ সামলিয়েছেন, ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করেছেন, নতুন একাউন্ট করানোর জন্য পরিচিতদের অনুরোধ করেছেন। এরপর বর্তমান অবস্থানে এসেছেন, গাড়িতে করে অফিসে আসছেন।

আমাদের মেরিনারদের জীবনেও সেইম অবস্থা। শুরুতে জব পাবার জন্য স্ট্রাগল করতে হয়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর হয়তো ১৫০-২০০ ডলারের মাসিক বেতনে ইন্টার্নিশিপ। এরপর বছরের পর বছর নানাবিধ পরীক্ষা, কোর্স করে তারপর মাসে ৮-১০ হাজার ডলার পাবার সুযোগ হয়। মেরিনার হিসেবে সবচেয়ে বড় সুবিধা যদি বলি তাহলে সেটা হলো, হালালভাবে বেশ ভালো এমাউন্টের বেতন পাওয়া (অবশ্যই স্ট্রাগলের পর)। আর সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, পরিবার ছেড়ে ৪/৬/৯ মাস দূরে থাকা এবং কোন প্রিয়জনের বিয়োগে হুট করেই দেশে ফেরার সুযোগ না থাকা।

প্রতিটি পেশা, প্রতিটি সেক্টরেই এই সুবিধা-অসুবিধার কম্বিনেশন আছে। তাই কোন পেশার ট্রেন মিস করলে মন খারাপ বা হতাশ না হয়ে অন্য গন্তব্যের ট্রেন ধরার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এরপর ফলাফলের জন্য সবসময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর নির্ভর করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলের জীবনকে সহজ করে দিন, তোমাদের সকলের জন্য শুভকামনা রইলো।

– আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
এক্স ক্যাডেট, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রাম (৪৭ তম ব্যাচ)

দোহারে প্রায় কোটি টাকার খাসজমি উদ্ধার

মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে, ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি মৌজায় প্রায় ৩৩শতাংশ খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় কুতুবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহায়তায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন খান অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে কুতুবপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির জন্য প্রস্তাবিত আর এস ৬৬০, ৬৬১ ও ৬৬৩ দাগে যথাক্রমে ১৬, ৮ ও ৯ শতাংশ মোট ৩৩ শতাংশ খাসজমি উদ্ধার করা হয়।

এসময় খাস জমি ভরাট করে অবৈধভাবে স্থাপিত পাঁচটি টিনশেড চালা ভেঙে ফেলা হয় এবং একটি ঘর তালাবদ্ধ করে নৌ-পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এসময় দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন খান জানান, উদ্ধারকৃত খাসজমির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১কোটি টাকা। খাসজমি যেন কোনভাবেই আর বেদখলে যেতে না পারে, সেজন্য সীমানা নির্ধারণপূর্বক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধারে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এসি ল্যান্ড মামুন খান।
স্থানীয় জনসাধারণ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড ভ্রমণ কাহিনীর বই

0

অস্ট্রেলিয়ার ২০২১ সালের আদমশুমারিতে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ৫১ হাজারেরও বেশি। ১৭৯৭-র ফেব্রুয়ারিতে কোলকাতা থেকে একটি জাহাজ নিয়ে স্কটিশ ব্যবসায়ী উইলিয়াম ক্লার্ক ১২ জন বাঙালি ও চার জন ব্রিটিশ নাগরিকসহ অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেই হিসেবে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালিদের ইতিহাস ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের। 

বেশ বড় সংখ্যার প্রবাসী ছাড়াও প্রতি বছর বহু লোক অস্ট্রেলিয়াতে বেড়াতে যান। কবি সাহিত্যিকরা দাওয়াতে যান। তাদের অনেকেই অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের বই লিখেছেন। এ কারণে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের একটা বই দিয়ে পৃথিবী ভ্রমণের তালিকা পূরণ না করে শুধু অস্ট্রেলিয়া ও তার নিকটতম প্রতিবেশী নিউ জিল্যান্ড ভ্রমণের বইয়ের তালিকা করা হল। অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় নিউ জিল্যান্ডে যেমন বাঙালি প্রবাসী কম, তেমন ভ্রমণকারীও কম। তাই বইও পাওয়া যায় নি তেমন।

সারা পৃথিবী ভ্রমণের কাহিনী পড়ার অভিযাত্রার অংশ হিসেবে এই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ কাহিনী তালিকা:

১. হাকুনা মাতাতা

লেখক: মনিরুস সালেহীন
বইয়ের লিংক

২. অন্য পৃথিবী

লেখক: ফজল শামসুজ্জামান

৩. দেখা হয়নি অস্ট্রেলিয়া 

লেখক: মাসুম ইকবাল
বইয়ের লিংক

৪. মহাদেশের মতো এক দেশে

লেখক: কামরুল হাসান
বইয়ের লিংক

৫. মেলবোর্ন সমাচার

লেখক: তাপস পাল
বইয়ের লিংক

৬. অদূরে দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ কাহিনি

লেখক: আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার
বইয়ের লিংক

৭. নীল জলের দেশে

লেখক: শামীমা ইয়াসমিন
বইয়ের লিংক

৮. ঢাকা থেকে সিডনি

লেখক: আব্দুর রকীব
বইয়ের লিংক

৯. পেঙ্গুইনের দেশে

লেখক: ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল
বইয়ের লিংক

নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ:

১০. নিউজিল্যান্ড : দুঃস্বপ্নের আগে ও পরে

লেখক: উৎপল শুভ্র
বইয়ের লিংক

১১. রূপলাবণ্যে ভরা দ্বীপদেশ নিউজিল্যান্ড

লেখক: আবু নাছের টিপু
বইয়ের লিংক

নাজমুল হুদার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: মৃত্যুবার্ষিকীতে সালমান এফ রহমান এমপি

১৯ ফেব্রুয়ারী, সোমবার ঢাকার দোহার উপজেলার শাইনপুকুরে নিজ বাড়িতে তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার-নবাবগঞ্জ তথা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান।

সালমান এফ রহমান নাজমুল হুদার মৃত্যুবার্ষিকীতে বলেন, আমরা দোহারে একজন জাতীয় বড় মাপের নেতাকে হারিয়েছি। তার মৃত্যু অপূরণীয়। তিনি ৪ বার এমপি ছিলেন, ছিলেন ৩ বার মন্ত্রী। তার কৃতকাজের জন্য দোহারবাসীর কাছে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মনে করেন। আর এ কাজের জন্য তিনি জান্নাতুল ফেরদৌসের অধিকারী করবেন (ইনশাআল্লাহ)।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল বিএনপি এর কো চেয়ারম্যার এডভোকেট অন্তরা হুদা, তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৌমুর আলম খন্দকার, তৃণমূল বিএনপি এর চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন,দোহার সার্কেল এ এস পি আশ্রাফুল আলম,দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ মো: হারুন অর রশীদ, সাবেক রাইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল হালিম, ঢাকা জেলা দক্ষিন ছাএলীগের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সোহাগ, মুকসুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মন্ডল সহ আওয়ামী লীগ, ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। দোয়া পরিচালনা করেন সাবেক কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আবদুল ওহাব দোহারী।

আমেরিকা ভ্রমণ কাহিনী – সেরা বইয়ের তালিকা

0

আমেরিকা বলতে যদিও আমরা এক কথায় আমেরিকার যুক্তরাষ্ট (USA) বুঝি। আসলে আমেরিকা মানে হল পুরো দুটো মহাদেশ, আলাস্কা-কানাডা থেকে চিলির দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত। তবু যেহেতু সহজ কথায় আমেরিকা বলতে যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝি তাই এই তালিকায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বই নিয়ে তালিকা করা হয়েছে।

বাংলা ভাষায় মনে হয় আমেরিকা ভ্রমণ কাহিনী সবচে’ বেশি লেখা হয়েছে। প্রতিথযশা বেশ কয়েকজন লেখক লিখেছেন, কারো ভ্রমণ কাহিনী, কারো প্রবাস জীবনের কাহিনী। তাই শুধু আলাদা করে আমেরিকা ভ্রমণ কাহিনী তালিকা করতে হল।

সারা পৃথিবী ভ্রমণের কাহিনী পড়ার অভিযাত্রার অংশ হিসেবে এই আমেরিকা ভ্রমণ কাহিনী তালিকা:

হুমায়ূন আহমেদের আমেরিকা:

১. হোটেল গ্রেভার ইন (১৯৮৯)

লেখকের আমেরিকায় পিএইচডি অধ্যয়ন জীবনের কাহিনী, ছাত্র জীবনের সংগ্রাম সহজ সরল ভাষায় লিখেছেন, শেষ না করে উঠা যায় না।

বইয়ের লিংক

২. মে ফ্লাওয়ার (১৯৯১)

হুমায়ূন আহমেদ আমেরিকাকে যে দৃষ্টিতে দেখেছেন তা উঠে এসেছে এই ভ্রমণ কাহিনীতে। আনাস হামজা বইটির রিভিওতে লিখেছেন- “লেখক আমেরিকান সমাজকে কাছ থেকে দেখা একজন মানুষ হিসেবে আমেরিকা সম্পর্কে তার মূল্যায়ন পেশ করেছেন এই বইয়ে। প্রাচ্যের চোখে আমেরিকা দেখতে গেলে অনেকের বেলায় যেটা মুগ্ধতায় গিয়ে ঠেকে, লেখকের বর্ণনা সেই মুগ্ধতা অতিক্রম করে সমালোচনা পর্যন্ত পৌঁছেছে। “

বইয়ের লিংক

৩. যশোহা বৃক্ষের দেশে (১৯৯৪)

“আমাদের চোখে বিষম অদ্ভুত আমেরিকান জাতির বিচিত্র জীবন পদ্ধতি তাঁর অনেক লেখাতেই ঘুরে ফিরে এসেছে। এ বইটি আমেরিকা সংক্রান্ত তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার একরকম বর্ধিত অংশ বলা চলে। ছোট ছোট অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন সপরিবারে আমেরিকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, যে আমেরিকা তাঁর ছাত্রাবস্থার আমেরিকা থেকে অনেকটাই পাল্টে গেছে এক যুগের ব্যবধানে।”

বইয়ের লিংক

৪. পায়ের তলায় খড়ম (২০১২)

এক বইয়ে ছোট ছোট গল্পের মত কয়েকটি ভ্রমণ কাহিনী, এর মধ্যে আমেরিকা ভ্রমণও আছে।

বইয়ের লিংক

৫. সবগুলো বই এক বইয়ে: ভ্রমণসমগ্র

আরও লেখকদের বই:

৬. চলে মুসাফির

লেখক: জসীম উদদীন
বইয়ের লিংক

পঞ্চাশের দশকের আমেরিকা ভ্রমণ কাহিনী, একই সাথে পাকিস্তান, বাহরাইন, লন্ডন ভ্রমনের স্মৃতি আছে।

৭. বাঙালের আমেরিকা দর্শন

লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
বইয়ের লিংক

৮. হাওয়াই থেকে লিখছি

লেখক: মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ
বইয়ের লিংক

এক সময় হাওয়াই স্বাধীন দেশ ছিল। আমেরিকার সাথে অঙ্গীভূত না হলে আলাদা দেশ হিসেবে হাওয়াই ভ্রমণ কাহিনী আলামারিতে স্থান পেত। আর ভ্রমণের সময় ১৯৭৬, অর্থাৎ বইটি একটি সময়ের ধারক! এসব কারনে এই বইটি তালিকার “স্পেশাল মেনশন”। বাংলায় হাওয়াই ভ্রমণ কাহিনী তেমন একটা নেই, কারণ বাঙালি সেখানে গিয়েছেই কম। এই বইয়ে আমেরিকার মূল ভূখণ্ড ভ্রমণের কিছু বিবরণ আছে, লেখক অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় তুলে ধরেছেন সে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে। 

৯. পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ: সাইকেলে আলাস্কা থেকে টরোন্টো

লেখক: মুনতাসির মামুন
বইয়ের লিংক

আলাস্কা আগে রাশিয়ার অংশ ছিল। ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে কিনে নেয় ও  ১৯৫৯ সালে আলাস্কা আমেরিকার ৪৯ তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। উত্তর মেরুর কাছে সেই দূরতম প্রান্তে একজন বাংলাদেশী সাইকেল চালিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন শত শত মাইল, সেই কাহিনী এই বই। এই বই দিয়ে অবশ্য কানাডাও পূরণ হবে।

 ১০. স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের দেশে

লেখক: আনিসুল হক
বইয়ের লিংক

১১. আমেরিকা

লেখক: মুহম্মদ জাফর ইকবাল
বইয়ের লিংক

১২. দেশের বাইরে দেশ

লেখক: মুহম্মদ জাফর ইকবাল
বইয়ের লিংক

১৩. ফ্লোরিডায় আদিবাসীদের মিউজিক মজমা

লেখক:মঈনুস সুলতান
বইয়ের লিংক

এই ভ্রমণ-উপাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি শহর সংলগ্ন প্রকৃতি-নিবিড় উপবনের। আদিবাসীদের নৃত্যগীতের মাইফিলের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায় লেখক উপস্থাপন করেন আমেরিকার আদিবাসী কৌমের সাংস্কৃতিক জীবনের চিত্রাবলি। তাদের ঐতিহ্যসংক্রান্ত তথ্যের সাথে যুক্ত হয়েছে এক কালে আদিবাসীদের জোরপূর্বক বাস্তুহারা করে নির্বাসনে পাঠানোর মর্মস্পর্শী বিবরণ।

১৪. সাত সাঁতার

লেখক: জহুরুল হক

এই বইটা মামা বিদ্যালয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন। নানা বাড়ির বাশের বুক শেলফে অসংখ্যবার বইটা নেড়েছি, কখনও এক লাইন পড়ি নি। তখন এই বই পড়ার বয়সও ছিল না। কিন্তু আজ যখন অধীর আগ্রহে পড়ার জন্য খুঁজছি, কিন্তু কোনো প্রকাশনী এখন আর বইটি প্রকাশ করে না!

অনেকগুলো বই, যে কোনো একটি দিয়েই আপনার আমেরিকা পূরণ হবে। তবে এই তালিকার সবগুলো বই-ই পড়তে পরামর্শ দিব, শুধু পায়ের তলায় খড়ম আবশ্যক নয়।

সংকলক: পারভেজ রবিন

এতিমদের পাশে থাকবে যমুনা গ্রুপ: বললেন সালমা ইসলাম

0

১৭ ফেব্রুয়ারি রোজ শনিবার যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদ্রাসা, মসজিদ ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠান উনষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৬ টা ৩০ মিনিটে কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একটি পারিবারিক গল্পের স্মৃতিচারণ করেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

এই কমপ্লেক্সটি নির্মাণের পেছনে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেবকে একদিন আমি বলেছিলাম, তোমাকে আমি একটা কথা বলতে চাই। জবাবে নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেব বলেন, তুমি মাঝে মাঝে আমাকে একটা কথা বলতে চাও, কী কথা বলো? তখন তাকে বলেছিলাম, আমি তোমাকে একটা উপহার দিতে চাই। জবাবে হাসি দিয়ে তিনি বললেন, আমি মানুষকে এত কিছু দেই, সবার জন্য কাজ করি। আর তুমি আমাকে কী উপহার দিবা? জবাবে আমি বলেছিলাম, তোমার দেওয়া বাজারের বরাদ্দ টাকা থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করে জমিয়ে রেখেছিলাম। পরে ওই টাকা দিয়ে উত্তরখানে দিকে একটা সাড়ে ১৪ কাঠা পরিমাণ জায়গা কিনেছি। ওই জায়গা টুকু তোমাকে উপহার দিতে চাই। উনি বললেন, আমার এত সম্পদ থাকার পরেও তুমি এত কষ্ট করে কেন এসব জায়গা কিনতে গেলে? আমি খুশি হতে পারলাম না। কিন্তু জবাবে বলেছিলাম, আমার পরিবারের সদস্যরা সেখানে জায়গা কিনেছে। ওদের অনুরোধে আমিও কিছু অংশ কিনেছি। ভাবলাম; আপনাকে উপহার দিলে খুশি হবেন। তিনি বললেন, তোমার এ কাজে আমি বেশি খুশি হতে পারলাম না। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, এতদিন পরে এসে সেই জায়গায় নুরুল ইসলাম বাবুলের নামে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও পড়ার লেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। আমার অবাক লাগে যে, যেখানে জমি কেনার কোনো প্রয়োজন ছিল না, স্বজনদের অনুরোধের কারনে সেখানে জমি কিনেছি। এখন আবার সেখানে তৈরি করলাম তার নামে মসজিদ ও মাদ্রাসা। কী কুদরত মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার? তিনি আমাকে দিয়ে এ কাজ সম্পূর্ন করাবেন বলে, এই জমি আমাকে কেনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ হয়ত চেয়েছেন। এখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমদের পড়ার সুযোগ হবে। এই বিষয়টি আমি কখনো ভাবতে পারি নি। আল্লাহ চেয়েছেন বলেই আমাকে দিয়ে নুরুল ইসলাম এর জন্য এই কাজ সম্পূর্ন করিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, গ্রামের ভেতর এই জায়গাটা কেনার ব্যাপারে আমার রাজি হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে আমি অবাক হই। স্বজনদের অনুরোধের কারনে এই জায়গাটি কিনেছি, আবার সেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা তৈরি হবে; সেটা ভাবতেও পারি নাই। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম আরো বলেন, নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেব মারা যাওয়ার পর আমার মেয়ে মনিকা ইসলাম একদিন আমাকে বললো। তার বাবার নামে একটা মসজিদ মাদ্রাসা করতে চায়। আর এটা করার জন্য আমাকে আমার মেয়ে তাড়া দিচ্ছিল। জায়গার ব্যবস্থা করতে বলছিল। পরে ওকে উত্তরখানের এই জায়গাটার কথা বলি। ওই সময়ে এই জায়গায় সেমিপাকা ভবন তৈরি করে দিয়েছিলাম। পরে এখানে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও রমজানে ইফতারের আয়োজন করা হয়। সেই থেকে যাত্রা শুরু।

এতিমদের উদ্দেশে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, তোমরা আল্লাহকে পাওয়ার রাস্তায় রয়েছো তোমাদের মা বাবা তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।তোমরা সত্য কথা বলবে, সত্য পথে চলবে। তোমাদের এখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাও দেওয়া হবে। নুরুল ইসলাম বাবুল সাহেব অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রেখে গেছেন; সেখানেও তোমরা চাকরির সুযোগ পাবে। আশা করি, তোমাদের কাজ পেতে অন্য কোথাও যেতে হবে না। বাবুল সাহেবের রেখে যাওয়া অনেক কলকারখানা ও বিভিন্ন অফিস রয়েছে; সেসব জায়গায় তোমরা কাজ করতে পারবে। এতিমদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তোমরা নুরুল ইসলাম বাবুলের আত্মার মুক্তির জন্য দোয়া করবে। তোমরা কুরআন পড়বে, ইসলাম শিখবে।

পাশাপাশি আমার মেয়ে মনিকা ইসলাম এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছে। সেও তোমাদের এখানে আসবে, তোমাদের জন্য কাজ করবে। তোমরা আমার ও আমার পরিবারের জন্যও দোয়া করবে। তোমাদের পাশে যমুনা গ্রুপ সবসময় থাকবে, বলে জনান অ্যাডভোকেট সালমা ছিলাম।

বিশ্ব ভ্রমণ কাহিনী: লেখকদের সাথে পৃথিবী ঘুরে দেখা

2

ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল সারা পৃথিবী ঘুরব। বড় হয়ে দেখতে পেলাম দেশটাই ঘোরা হয় নি। ভ্রমণের লক্ষ্য দুনিয়া থেকে কমিয়ে বাংলাদেশে সীমিত করলাম- দেশের সব জেলায় ঘুরব। এখন দেখি সেই সময়ও নেই, টাকাও নেই। সময় পেলে দেশ ভ্রমণের টাকা তবু ব্যবস্থা করা যায়। তাই ভ্রমণদুনিয়া ছোট করে আনলাম আরও। নিজের দুটো উপজেলার সব গ্রামে অন্তত একবার করে পা দিয়ে আসব। এটা হয়তো সম্ভব।

পৃথিবী ভ্রমণ না করার আক্ষেপ মেটাতে অন্যের ভ্রমণের আশ্রয় নিব ঠিক করলাম। পৃথিবীর সব দেশের ভ্রমণ কাহিনী পড়ব এবং সেই বিশ্ব ভ্রমণ কাহিনীর বই নিজের সংগ্রহে থাকবে। মানে আলমারিতে সব দেশের অন্তত একটা করে ভ্রমণ বই থাকবে। আলমারিতে থাকতে বইগুলোর আবশ্যক বৈশিষ্ট্য হল বাংলাদেশী লেখকের ভ্রমণ কাহিনী হতে হবে। কোনো দেশের ভ্রমণ কাহিনী বাংলদেশী লেখকের না পাওয়া গেলে ভারতীয় বাংলা লেখকের হলে চলবে। কোনো বাঙালির লেখা বই একেবারেই না পাওয়া গেলে অনুবাদ রাখা যাবে, তবু সব দেশ পূর্ণ করতে হবে।

আমি চাচ্ছি বাংলাদেশীদের দৃষ্টিতে পৃথিবী দেখতে। বিদেশী লেখকদের অনেক আকষর্ণীয় ভ্রমণ কাহিনী হয়তো পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে আমার দেশের মানুষের অনুভূতির প্রকাশ থাকবে না তাই দেশী লেখকরের বাধ্যবাধকতা। সব দেশের ভ্রমণ কাহিনী পাওয়া যাবে না তা নিশ্চিৎ। যদিও পৃথিবীর সব দেশেই বাংলাদেশীদের পা পড়েছে, কিন্তু সবাই বই লিখে নি। সবার হয়তো লেখার মানসিকতা বা দক্ষতা নেই। তাই গত এক বছরের বেশি সময় ধরে খুঁজেও অনেক দেশের ভ্রমণ কাহিনী পাওয়া যায় নি। এমন কিছু পাওয়া গিয়েছে এক বইতে একাধিক দেশের ভ্রমণ কাহিনী রয়েছে।

ভ্রমণ কাহিনী পড়ার সবচে’ বড় চ্যালেঞ্জ হল লেখার মান। শত শত বইয়ের ভীরে মানসম্মত ভ্রমণ কাহিনী পাওয়া আসলে মুশকিল। বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা অনেকে ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন, তাদের লেখা দিয়ে বিশ্ব ভরতে পারলে ভাল হত। কিন্তু তারা খুব বেশি দেশ ভ্রমণ করেন নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী ভ্রমণ সাহিত্যে মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন বলা চলে। আফগানিস্তান, মিশর, জার্মানি, মালদ্বীপের অনবদ্য বিবরণ পেয়েছি তার কাছে যার মাধ্যমে ভ্রমণ সাহিত্যে ধ্রুপদী ধারা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যে সময় ভ্রমণ করছেন সে সময় উপমহাদেশের মানুষ ভ্রমণ করত কম। তবু এই সময়ের কিছু প্রতিথযশা লেখকদের ভ্রমণ কাহিনী আমরা পেয়েছি। যেমন, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, হরিপ্রভা দেবী, পৃন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ, এস ওয়াজেদ আলী, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কেদারনাথ বন্দোপাধ্যায়, শেখ হাবিবর রহমান ইত্যাদী লেখকদের বর্ণনায় ভ্রমণ কাহিনী শুধু ভ্রমণ কাহিনী নয় একটা সময়ের ধারক। দুঃখজনক যে সেই সময়ের সব বই এখন আর প্রকাশিত হয় না।

স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতে বিবাদমান দেশগুলো বিভিন্ন দেশের কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের আমন্ত্রণ জানাত তাদের দেশ ভ্রমণ করতে। কবি জসিম উদ্দিনের সহজ সরল বর্ণনা, মানুষের সাথে মেশার আকুতি, ভাষা বাধা পেরিয়ে মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার কাহিনীগুলো পড়ে মনে হয় তিনি যদি আরও বেশি ভ্রমণ করতেন। তার লেখা পড়ে আজকের লেখকরা যদি বাহুল্য ও ইতিহাসের জবরজং বর্ণনা বাদ দিয়ে সহজ ভাবে লিখতে শিখতেন।

এই যুগের লেখকদের ভ্রমণ কাহিনী পড়তে খুব কষ্ট হয়, পৃষ্ঠা এগুনোই দুরূহ হয়ে উঠে। কেও কেও লেখায় সাহিত্যরস ঢালতে গিয়ে এতো অলঙ্কার যুক্ত করেন যে বাহুল্যদোষে সেই বই ভারী হয়ে যায়। কারো কারো লেখায় ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ অতিরিক্ত বর্ণনা করেন। এক লেখিকার ব্যাগের চাবি হারিয়ে গিয়েছিল, সেই চাবি হারানো ও খুঁজে পাওয়ার দুর্ধর্ষ বর্ণনা পড়তে বিরক্তি ধরে গিয়েছিল। কেও কেও ইতিহাসে এতো বিস্তারিত বর্ণনা করতে থাকেন যে ইতিহাস পড়ছি নাকি ভ্রমণ কাহনী পড়ছি সেটা আর বোঝে উঠা যায় না। ইতিহাস আমরা ইন্টারনেটে খোঁজ নিলেই জানতে পারি। ইতিহাস আমি পুরো বাদ দিতে বলি না, ভ্রমণ কাহিনীতে কিছু ইতিহাস থাকতে হয়, তবে সেটা যা সচারচর বইয়ে পাওয়া যায় না বা স্থানীয়দের মুখে শোনা। ইতিহাস ছাড়াও যে ভ্রমণ যে মধুরপাঠ্য হতে পারে তা জানা যায় হুমায়ুন আহমেদ পড়লে।

বর্তমান সময়ের এক বিখ্যাত প্রকৌশলী লেখক এক ঐতিহাসিক ভবনের দৈর্ঘ্য প্রস্থের এতো বিবরণ দিয়েছেন তার কিছুই কি আমরা মনে রাখতে পারব, শুধু লিখলেই হত, “সে এক বিশাল দালান!” সেই দৈর্ঘ্য প্রস্থের হিসাব কবেই ভুলে গিয়েছি।

আর কিছু লেখক বইয়ের এমন দাম ধরেন মনে হয় তার ভ্রমণের বিমান ভাড়া, হোটেল ভাড়া পুরোটাই পাঠককে বহন করতে হবে। এই সময়ের লেখকদের মধ্যে মঈনুস সুলতান বইয়ের দাম ছাড়া আর সব দিক দিয়ে ব্যালান্সড।

এইসব ছাকুনিতে ছেঁকে বাংলা সাহিত্য থেকে দেশ ভিত্তিক বিশ্ব ভ্রমণ কাহিনী-র তালিকা করছি যা  এই লিংকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। সব দেশ পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোনো কোন দেশের খুব বেশি আছে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, চীন, রাশিয়া ইত্যাদি। 

সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার মনোনয়ন পেলেন সালমা ইসলাম ও নূরুন নাহার

0

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। দলের পক্ষ থেকে কো-চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম ও ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি নুরুন নাহার বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড সালমা ইসলাম ও নূরুন নাহারকে মনোনয়ন প্রদান করেছে।

গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ আসন পায় জাপা। আওয়ামী লীগ ২২৩টি, ১৪ দলীয় শরিক জাসদ ১টি ও ওয়ার্কার্স পার্টি ১, স্বতন্ত্র ৬২ জন, কল্যাণ পার্টি ১টি আসন পায়।

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৮টি, জাতীয় পার্টি ২টি ও স্বতন্ত্ররা ১০টি আসন পায়। কিন্তু স্বতন্ত্র ৬২ প্রার্থী আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়ায় আওয়ামী লীগই ৪৮টি আসন পাচ্ছে।

দোহারে শহীদ দিবসদিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

0

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার উপজেলায় ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার সভাকক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন খান, জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক সহ আরও অনেকে।

 

করলার জুসের উপকারিতা

0

করলার তেতো স্বাদের জন্য অনেকে এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে করলাকে ভালোবেসে প্রিয় খাবারের তালিকায় রেখেছেন এমন মানুষও আছেন। গাঢ় সবুজ রঙের এই সবজিটি আপনার পছন্দের হোক আর অপছন্দের, এর উপকারিতা কিন্তু অনেক।  

করলা ভাজি বা তরকারি খাওয়ার পাশাপাশি করলার রস অর্থাৎ জুসও খাওয়া হয়ে থাকে। আজ জানব এই জুসের উপকারিতা নিয়ে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের পুষ্টিবিদ তাসরিয়ার রহমান

তাসরিয়ার রহমান জানান, করলা একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি। এটি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। করলাতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম জিংক, আয়রন ইত্যাদি উপাদান। তবে আমরা যদি করলা প্রচুর তেল দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে ভাজি করি বা রান্না করি, এতে করলার পুষ্টিগুণ কিছু কমে যায়। সেই হিসেবে করলার রস খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

করলাকে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে এটির বীজ ফেলে দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে নিতে পারেন। ছাকনির সাহায্যে রস আলাদা করে নিয়ে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। স্বাদ বাড়ানোর জন্য লেবুর রস বা মধু যোগ করতে পারেন।

করলার রসের উপকারিতা

  • করলার রস ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। করলাতে আছে পলিপেপটাইড পি এবং চারেন্টিন নামের যৌগ, যা শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। করলার রস শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ানোর মাধ্যমে সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যেতে দেয় না। তাই যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা করলার জুস খেয়ে উপকার পেতে পারেন। তবে অনেকের ধারণা শুধু করলার রস পানের মাধ্যমে ডায়াবেটিস অর্থাৎ সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ধারণা সঠিক নয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি করলার রস পান করলে উপকারিতা পাবেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে নিয়মিত করলার জুস খেতে থাকলে অনেক সময় সুগার লেভেল একদম কমে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি খাওয়া।
  • পানির সঙ্গে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, শ্বাসরোগ ও গলার প্রদাহে উপকার পাওয়া যায়।
  • করলার রসে থাকা ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা  বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিহত করে।
  • সকালে করলার রস খেলে পেট পরিষ্কার হয় এবং হজম শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অনেক কার্যকরী এটি। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।
  • করলার জুসে থাকা বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ চোখের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • করলার রসে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান, যা শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • করলার রসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং চর্মরোগ সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • করলার রস ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও অনেক উপকারী। করলার রস ফ্যাট সেল বার্ন করে নতুন ফ্যাট সেল তৈরিতে বাধা দেয়।
  • করলার জুস খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমে।
  • করলার রস ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

 

সতর্কতা

করলার রস উপকারী হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা আবশ্যক।

  • একটা করলা রস করলে যতটুকু হয়, দৈনিক ততটুকুর বেশি খাওয়া উচিত নয়।
  • গর্ভাবস্থায় করলার জুস খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • শিশুরা এটি খেলে তাদের পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া হতে পারে।
  • অতিরিক্ত করলার রস খেলে লিভারের প্রদাহ এবং ডায়রিয়া হতে পারে।
  • যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন তাদের করলার রস পানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
  • করলার রস একাটানা না খেয়ে মাঝেমাঝে বিরতি দিয়ে খাওয়া ভালো। ৩ মাস খাওয়ার পর ১২-১৫ দিন বিরতি দিয়ে খাওয়া ভালো।

মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের পুষ্টিবিদ তাসরিয়ার রহমান