দোহারে পথ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা জয়পাড়া এলাকা সহ দোহার উপজেলা পরিষদের ভিতরে পথ শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ৯ই এপ্রিল সকাল ১১টায় দোহার মানবসেবায় রোভারিং গ্রুপ এর আয়োজনে ও তাদের পক্ষ থেকে পথ শিশু দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ সহ জয়পাড়া কলেজ মাঠে পথ শিশুদের নিয়ে মেহেদী উৎসব -২০২৪ পালন করা করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জাকির হোসেন, জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক এসএম খালেক। এসময় সার্বিক ভাবে সহযোগিতায় ছিলেন,শেখ রাকিব, তহুরা আক্তার সুস্মিতা,আকাশ তালুকদার, শেখ সজীব,সামিয়া, রানিয়া,রাবেয়া।

ঈদে উপহার বিনিময় সওয়াবের কাজ

0

ধর্ম ডেস্ক : পবিত্র কোরআনে জ্ঞান-বিজ্ঞান, অতীত-আখ্যান ও বিভিন্ন হুকুম-আহকামের পাশাপাশি উদ্ভিদ, তরুলতা, গাছপালার প্রসঙ্গও এসেছে। উদ্ভিদের প্রাণ ও বংশ বিস্তার, ফুলের পরাগায়ণ, বীজের অঙ্কুরোদগম, ফল পরিপক্ব হওয়া ইত্যাদি বিষয়ও কোরআনে স্থান পেয়েছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি।

পরে আমি ভূমি প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি এবং আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জাইতুন, খেজুর, বহু বৃক্ষবিশিষ্ট বাগান, ফল ও গবাদি খাদ্য। এটা তোমাদের ও তোমাদের জীবজন্তুর ভোগের জন্য। ’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

কোরআনের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় কিছু দৃশ্যের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। যেন মানুষ আল্লাহর কুদরতের কথা স্মরণ করে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যিনি তোমাদের জন্য তা (পানি) দিয়ে শস্য, জাইতুন, খেজুরগাছ, আঙুর ও সব ধরনের ফল ফলান। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। ’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১১)

এছাড়াও কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদ্ভিদের নাম ও শ্রেণি উল্লেখ করেছেন। কয়েকটি সুরার নামকরণও করা হয়েছে উদ্ভিদের নামে। আবার কোনো কিছুর প্রমাণস্বরূপ কিংবা সাধারণ বর্ণনা হিসেবে এসেছে উদ্ভিদের নাম। সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো-

আঙুর ফল (আল-ইনাবু)। ‘এবং আঙুর ও শাক-সবজি। ’ (সূরা আবাসা : ২৮)।

আনার (আর-রুম্মান) । ‘সেখানে রয়েছে ফলমূল; খেজুর ও আনার। ’ (সূরা রহমান : ৬৮)।

ডুমুর (আত-তিন)। ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ। ’ (সুরা তিন : ১)

খেজুর গাছ (আন-নাখিল) । ‘এবং শস্যক্ষেত ও দুর্বল ও ঘন গোছাবিশিষ্ট খেজুর বাগানে। ’ (সুরা শুআরা : ১৪৮)

বীজ-চারা বা শস্যক্ষেত (আজ-জারউ)। ‘এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন খেজুর গাছ ও বিভিন্ন স্বাদের খাদ্যশস্য। ’ (সুরা আনআম : ১৪১)

তাজা ও পাকা খেজুর (আর-রাতাবু)। ‘তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নাড়া দাও। তোমার ওপর তা ফেলবে পাকা তাজা খেজুর। ’ (সুরা মরিয়াম : ২৫)।

যেকোনো ফল (আল-ফাকিহাতু): ‘তাতে রয়েছে ফলমূল ও খোসায় ঢাকা খেজুর। ’ (সুরা রহমান : ১১)।

যেকোনো ফল (আস-সামারু): ‘খেজুর ও আঙুর ফলগুলো। তা থেকে তোমরা গ্রহণ করো নেশাদ্রব্য ও উত্তম রিজিক। ’ (সুরা নাহল : ৬৭)

জলপাই (আজ-জায়তুন): ‘ডুমুর ও জলপাই (বা তার গাছের) এর শপথ। ’ (সূরা তিন : ১)

লাউ বা কদু (আল-ইয়াকতিন): ‘আমি তার ওপর একটি লাউ গাছ উদ্গত করলাম। ’ (সুরা সাফফাত : ৪৬)

কুল বা বরই গাছ (আস-সিদরু): ‘কাঁটাবিহীন বরই গাছ তলায়। ’ (সুরা ওয়াকিয়া : ২৮)

ঝাউ গাছ (আল-আছলু) । ‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ। ’ (সুরা সাবা : ১৬)

তেঁতো ও বিস্বাদ খাবার (আল খামতু বা আরবি ভাষায় ‘আরাক’ নামক বিশেষ লতা গাছ। ): ‘আমি তাদের বাগান দুইটিকে এমন দুই বাগানে পরিবর্তন করলাম, যেখানে রইল কিছু বিস্বাদ ফল, ঝাউ গাছ ও কুল গাছ। ’ (সুরা সাবা : ১৬)

পশুখাদ্য, গৃহপালিত ও বন্যপশু যে ফল খায় (আল-আব্বু): ‘তাতে উৎপন্ন করেছি ফলমূল ও ঘাস। ’ (সুরা আবাসা : ৩১)

শসা (আল-কিসসাউ) : ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। ’ (সুরা বাকারা : ৬১)।

মটরকলাই বা গম (আল-ফুমু) : ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। ’ (সুরা বাকারা : ৬১)

সবজি বা যেকোনো উদ্ভিদ (আল-বাকলু) : ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। ’ (সুরা বাকারা : ৬১)

ডাল (আল-আদাসু) : ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। ’ (সুরা বাকারা : ৬১)

পেঁয়াজ (আল-বাসালু) : ‘তারা বলল, তুমি তোমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো। যেন তিনি আমাদের জন্য ভূমিজাত খাদ্যদ্রব্য— তরকারি, শসা, গম, মসুর ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন। ’ (সুরা বাকারা : ৬১)

শস্যদানা বা বীজ (আল-হাব্বু) : ‘নিশ্চয় আল্লাহ বীজ ও আঁটিকে অঙ্কুরিত করেন। ’ (সুরা আনআম : ৯৫)

শীষ বা মুকুল (আস-সানাবিলু) : ‘যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত হলো বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ বের হয় এবং প্রত্যেক শিষে থাকে ১০০ বীজ। ’ (সুরা বাকারা : ২৬১)

উদ্ভিদ (আন-নাবাতু) : ‘যেন আমি তা (পানি) দিয়ে উৎপন্ন করি শস্যদানা ও উদ্ভিদ। ’ (সুরা নাবা : ১৫)

পুদিনা জাতীয় এক ধরনের গুল্ম বা যেকোনো সুগন্ধি গুল্ম (আর-রায়হানু) : ‘আরও আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল। ’ (সুরা রহমান : ১২)

আদা বা এক ধরনের মূল্যবান সুগন্ধি (আজ-জানজাবিলু): ‘তারা সেখানে এমন শূরা পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে জানজাবিল’। (সুরা দাহর : ১৭)

শাকসবজি (আল-কাদবু) ‘আমি তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি…। ’ (সুরা আবাসা: ২৪-৩২)

কর্পূর (আল-কাফুরু) : ‘নিশ্চয় সৎ মানুষ জান্নাতে এমন পাত্রে পান করবে, যাতে মেশানো থাকবে কর্পূর। ’ (সুরা দাহর : ৫)

কাঁটাযুক্ত গাছ বা ক্যাকটাস (আজ-জাক্কুম) : ‘আপ্যায়নের (জাহান্নামিদের) জন্য এটাই না উত্তম কাঁটাযুক্ত গাছ?’ (সুরা সাফফাত : ৬২)

ঘাস বা এমন গাছ, যার ডাল হয় না (আন নাজমু): ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে। ’ (সুরা রহমান : ৬)।

ডালবিশিষ্ট গাছ (আস-সাজারু) : ‘লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি তাকে সিজদা করে। ’ (সুরা রহমান : ৬)

খেঁজুরের কাঁদি (আল-কিনওয়ানু) : ‘এবং খেজুর গাছ, যার শীর্ষদেশ কাঁদির ভারে নুয়ে থাকে। ’ (সুরা আনআম : ৯৯)

খেঁজুর গাছের শিষ (আত-তালউ) : ‘এবং খেজুর গাছ, যার শীর্ষদেশ কাঁদির ভারে নুয়ে থাকে। ’ (সুরা আনআম : ৯৯)

দোহারে বেড়েছে মৌসুমী ভিক্ষুকের সংখ্যা

শরীফ হাসান দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার দোহার উপজেলায় বর্তমানে তিন ধরনের ভিক্ষুক দেখা যায়। এরমধ্যে রয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দোহারে আসা অতিথি ভিক্ষুক। যারা বিশেষ দিবস বা দিনকে টার্গেট করে ভিক্ষার কাজে নামে। এরপর ফিরে যায় নিজ এলাকায় ও পুরোনো পেশায়।

এই রমজানে বিভিন্ন গণপরিবহন, অফিসপাড়া, বিভিন্ন মসজিদের সামনে ও বাসা বাড়িতে সুস্থ শরীরের নানা বয়সী নারী-পুরুষ ভিক্ষাবৃত্তি করেন। এদের অনেকেই সুস্থ স্বাভাবিক হলেও বিভিন্ন বাহানা দিয়ে ভিক্ষা করেন তারা। এরা মূলত দোহারের পেশাজীবী ভিক্ষুক। এছাড়াও সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র কর্মহীন ও অসুস্থ অনেকেই সহায়তা চেয়ে ভিক্ষা করে থাকেন। সারাদিন ভিক্ষার অর্থ ও উত্তোলিত খাদ্যসামগ্রী দিয়েই চলে তাদের জীবন জীবিকা।

দোহারের স্থায়ী ভিক্ষুকদের কাছ থেকে জানা গেছে, রমজান এবং ঈদে পাড়া মহল্লা ও মসজিদের সামনে অনেক অপরিচিত ভিক্ষুকের আনাগোনা বাড়ে।

জয়পাড়া ব্রিজ এর উপরে থাকা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আল আমিন বলেন, ‘রোজার ঈদ আইলেই গ্রামেত্তন কতডি মানুষ দোহারে আইয়া পরে ভিক্ষা করতো। তাগো লাইগা আমরা এই মাসে তেমন ভিক্ষা পাই না। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করি এইসব ভুয়া ভিক্ষুকদের যেন জেলে দেয়। আমরেয়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, লেংরা লুলা, প্রতিবন্ধী ভিক্ষা আমাগো অধিকার। আর ওরা (অতিথি ভিক্ষুক) সুস্থ হইয়াও এক মাসের লাইগা আহে ভিক্ষা করতে।’

সরেজমিনে জানা যায়, রমজান মাস এলেই দোহারের বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষুকের উপদ্রব বাড়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ভিক্ষা করে। অনেকে আবার এই কাজের সহায়তায় শিশুদের ব্যবহার করেন। বিশেষ করে বেদেরা।

 বেশ কয়েক বছর ধরে দোহারে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে অতিথি ভিক্ষুকের আধিক্য দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রোজার শুরু থেকে অতিথি ভিক্ষুকের সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে জানান তারা। এছাড়াও হিজলা ও বেদেরও এই রমজান মাসে টাকার জন্য নেমে যায়। টাকা না দিলে তারা ছাড়ের না।

এবিষয়ে দোহারের ইউসুফপুর এলাকায় মো: রাকিব জানান, আমি রোজার মধ্যে কাজে বাজারে এসেছি। তখন বেদেরা আমাকে জোর করে ধরেছে টাকার জন্য। আমি তাদেরকে না করেছি বলে তারা আমাকে অনেক অভিশাপ দেয়। তাই আমি মনে করি এটা ভিক্ষা নয় চাঁদাবাজী। সরেজমিনে বেশকিছু ভিক্ষুকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইতোমধ্যে দোহারের বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক ভিক্ষুক দোহারে এসেছে। এদের মধ্যে পেশাজীবী ভিক্ষুক ও অতিথি ভিক্ষুকের সংখ্যাই বেশি। টাকার লোভে এরা বিভিন্ন এলাকা থেকে দোহারে ঈদকে সামনে রেখে ভিক্ষা করতে এসেছে। আবার অনেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আত্মীয় স্বজন নিয়ে দোহারে এসে এক মাসের জন্য বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে, মসজিদের সামনে, ব্যাংকপাড়া ও অভিজাত এলাকায় ভিক্ষার কাজে নেমে পড়ছে।

 এ বিষয়ে দোহারের জয়পাড়া এলাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করা ইসমেত আরা (৫৪)বলেন, দেশের নানান জায়াগা থেকে ভিক্ষা করতে বহু লোক দোহারে আসে। বরিশাল, ভোলা, ময়মনসিংহ,ফরিদপুর এসব এলাকা থেকে বেশি আসে। স্বামী ঢাকায় রিকশা চালায় গ্রাম থেকে রমজানের সময় স্ত্রীরে নিয়ে আসে ভিক্ষা করাতে। এদের ব্যবসাই এটা। নিজেদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বাসায় থাকে তারা। আবার ভিক্ষা করতে একসাথে আসা কয়েকজন মিলেও ঘর ভাড়া নেয় এক মাসের জন্য।

মৌসুমি ভিক্ষুকদের কারণে প্রকৃত অসহায়রা বঞ্চিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দোহারে কাজ করা মানুষ আমরা। এখন আর ভারী কাজ করতে পারি না তাই মানুষের কাছে দুই-চার টাকা সাহায্য নিয়া চলি। আসি পরিচিত মানুষজন যদি কিছু দেয়, জোর নাই। কিন্তু যারা রমজানের এক মাসের জন্য আসে তারা সারাটা দিন ঘোরে, ফাঁকে ফাঁকে পানি খাবে, বেশিরভাগই রোজা রাখে না। তারা সামনে পেলে পথাচারীকে ভিক্ষার জন্য বিরক্ত করে। তখন আমরা সামনে গেলে আর কেউ ভিক্ষা দিতে চায় না। ফিরায়া দেয়।’

তিনি আরো বলেন, রমজানে মৌসুমি ভিখারিরা দৈনিক ১০০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে।

দোহারে পার্কিং নিয়ে দ্বন্দ, প্রভাবশালী দুইপক্ষের মারামারি, আহত-৭

স্টাফ রিপোর্টার: দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজারে মোটরসাইকেল পার্কিং নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামীলীগের দুই প্রভাবশালী জড়িত হয়ে যাওয়ায় তা আতংকিত করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা ইদ বাজার মুহুর্তে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ঘটনার সময় ৭জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পরবর্তীতে, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বাজার পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সরজমিনে জানা যায়, জয়পাড়া বাজারের এমব্রেলা শপিংমলের সামনে সুরুজ নামে এক যুবক মটরসাইকেল পার্কিং করে। এ নিয়ে শপিংমলের বিক্রয়কর্মীদের সাথে হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি নিয়ে শপিংমল কর্তৃপক্ষ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন মাঝি এবং বিলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদারকে সাথে নিয়ে মীমাংসায় বসলে, সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রুপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের আহত হয় অন্তত ৭জন। আহতরা হলেন, মো. সুরুজ (২২),সবুজ (২৪),জামিল (২৫), খলিল (২২), সুজন (২৭), আজগর (৩৫), শুভ (১৭)।

আহতদের মধ্যে জামিল ও সুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায়, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করা হয়।

জয়পাড়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার মাঝি অভিযোগ করেন, মটরসাইকেল পার্কিং নিয়ে দ্বন্দের ঘটনায় রাশেদ চোকদারের নির্দেশে কতিপয় সন্ত্রাসী বাজারের ব্যবসায়ীসহ আরও বেশ কয়েকজনকে মারধর করেছে।

এষিয়ে বিলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ চোকদার বলেন, বিলাশপুরের একটি ছেলেকে মারধরের ঘটনায়, মিমাংসার জন্য আমি জয়পাড়া বাজারে যাই। সেখানে দেলোয়ার মাঝি আমাকে দেখেই আমার সাথে অশোভন আচরণ করে এবং উত্তেজিত হয়ে উঠে। এরপর আমি কথা বলা শুরু করলে, সে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলে। এসময়, তার নির্দেশে আগে থেকেই থাকা কিছু লোকজন আমাদের উপর হামলা করে। আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনকে অবহিত করে, চলে আসি।

এদিকে, ঘটনার শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায় দোহার থানা পুলিশ। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে পরিবেশ শান্ত করে। এসময় প্রায় দুই ঘন্টা বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একইসাথে, ব্যবসায়ীদের ও ক্রেতাদের নির্ভয়ে ইদ ব্যবসা পরিচালনার আহবান জানান।

এবিষয়ে দোহার থানা ওসি মো.হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সম্পুর্ণ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় জয়পাড়া বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করি। এবিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

যেসব সম্পদে জাকাত ফরজ

 মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ: সব ধরনের সম্পদে জাকাত ফরজ হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে জাকাত ফরজ হয়।

সোনা-রুপার অলংকার সব সময় বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক, সর্বাবস্থায় তার জাকাত দিতে হবে। (আবু দাউদ শরিফ : ১/২৫৫; নাসায়ি,হাদিস : ২২৫৮)

অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও জাকাত ফরজ।(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৬১)

মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্বৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার জাকাত আদায় করা ফরজ। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৯১)

ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, শেয়ার সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও জাকাত ফরজ।

টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে জাকাত ফরজ। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/২৬৭)

হজের উদ্দেশে কিংবা ঘরবাড়ি নির্মাণ, ছেলেমেয়ের বিয়েশাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হয়, তাতেও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১০৩২৫)

দোকানপাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে, তা বাণিজ্যিক পণ্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত আদায় করা ফরজ। (সুনানে আবু দাউদ : ১/২১৮)

ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন—জমিজমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি যেমন—মুদিসামগ্রী, কাপড়চোপড়, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়্যার সামগ্রী, বই-পুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্যিক পণ্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে।(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭১০৩)

যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যিক পণ্যের মধ্যে কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ আছে, যা একত্র করলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সব সম্পদ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৮১)

ভূমি বা প্লটের জাকাত

যদি ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে ভূমি বা প্লট ক্রয় করা হয়, তাহলে প্রতিবছর ভূমি বা প্লটের বাজারমূল্য বিবেচনা করে জাকাত দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ—কেউ যদি পাঁচ লাখ টাকায় পাঁচটি প্লট ক্রয় করে। তারপর এক বছরের মাথায় ওই প্লটের বাজারমূল্য সাত লাখ হয়ে যায়, তাহলে তাকে সাত লাখ টাকার জাকাত দিতে হবে।

দোকানের পণ্যের জাকাত

দোকানের ডেকোরেশন, আলমারি, তাক ইত্যাদির মূল্যের ওপর জাকাত ফরজ নয়, বরং সেল বা বিক্রি করার জন্য যেসব পণ্য বিদ্যমান, তার মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে জাকাত  ফরজ হবে। জাকাত হিসাব করার পদ্ধতি হলো—বছরের একটা সময় দিন-তারিখ নির্ধারণ করে দোকানে বিদ্যমান পণ্যের মূল্যের হিসাব করে দেখা গেল, পাঁচ লাখ টাকার পণ্য আছে। অতঃপর ওই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আবার আনুমানিক পণ্যের মূল্য ধরে দেখা গেল, শুরুতে যেই পরিমাণ সম্পদ ছিল, তা নিসাব পরিমাণ। আবার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যে পণ্য আছে, তা-ও নিসাব পরিমাণ, তাহলে সমুদয় সম্পদের আড়াই শতাংশ জাকাত দিতে হবে। (তাতারখানিয়া : ৩/১৬৯, হিন্দিয়া : ১/১৮০, দুররুল মুখতার : ৩/১৮২)

ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীর শাস্তি

0

প্রত্যেক সুস্থ, সাবালক ও বাড়িতে অবস্থানকারী মুসলমানের জন্য রমজানের রোজা রাখা ফরজ। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ রোজা ভঙ্গ করলে তার জন্য কঠিন শাস্তির কথা এসেছে।

হজরত আবু উমামা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম, আমার কাছে দুই ব্যক্তি আগমন করল। তারা আমার বাহু দুটো ধরে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে এলো। তারপর আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ের ওপর উঠুন। আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দেব। আমি ওপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছলাম, হঠাৎ ভয়ংকর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বললাম, এসব কীসের আওয়াজ? তারা বলল, এটা জাহান্নামিদের আর্তনাদ। তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদের তাদের পায়ের মাংসপেশির মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোজা ভেঙে ফেলে।’ (ইবনে খুজাইমা: ১৯৮৬; ইবনে হিব্বান: ৭৪৪৮)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো ওজর-অপারগতা বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা পরিত্যাগ করবে, সে যদি ওই রোজার পরিবর্তে আজীবন রোজা রাখে, তবুও ওই এক রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।’ (তিরমিজি: ৭২৩)

রোজা ভঙ্গ করা এমন অন্যায়, যার ক্ষতি অপূরণীয়। তবে রোজা ভঙ্গকারীর ব্যাপারে শরিয়তের বিধান হলো, বাহ্যিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার ওপর রোজার কাফফারা ওয়াজিব। আর তা পালন হবে এভাবে, প্রথমত, ক্রীতদাস মুক্ত করতে হবে। তবে বর্তমানে যেহেতু দাসপ্রথা চালু নেই, তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্তব্য হলো, দুই মাস বিরতিহীন রোজা রাখতে হবে। তা সম্ভব না হলে তৃতীয় পর্যায়ের কর্তব্য হলো, ৬০ জন অভাবীকে পেটভরে দুবেলা আহার করাতে হবে। (সুরা মুজাদালা: ০৩-০৪; ফাতাওয়ায়ে শামি: ২/৩১২; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম: ৬/৪৪৭)

 

নবাবগঞ্জে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ইফতার অনুষ্ঠিত

মোঃ ফয়সাল : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিডি ক্লিন এর উদ্দ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আব্দুল ওয়াছেক মিলানায়তন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৭শে মার্চ) বিকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনায় মৃত মানুষ দাফন কাফন করায় দাফন কাফন টিমের সদস্যদের এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন কে মানবিক কাজের উপহার হিসেবে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এসময় বিডি ক্লিন নবাবগঞ্জ এর পক্ষ থেকে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান সোহেল বি পি এ এ, এসময় তিনি বলেন, সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং আমি নবাবগঞ্জের জন্য ১০ হাজার বাদাম গাছ ক্রয় করেছি ইতিমধ্যে যেটা বিভিন্ন জায়গায় রোপন করবো সবাইকে নিয়ে এবং সকল খাল নদী পরিস্কারের জন্য বিডি ক্লিনসহ সকল নবাবগঞ্জের সকল স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন আহমেদ ঝিলু। উক্ত সময় তিনি বলেন, “আজ এ ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আমাদের নবাবগঞ্জ উপজেলার সকল সেচ্ছাসেবী ভাইদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। আমি চাই, সকলের এই বন্ধনটাকে ধরে রেখে আমরা নবাবগঞ্জ এর সকল সংগঠন মিলেমিশে কাজ করবে, সকলে কাঁধে কাধ রেখে নবাবগঞ্জ এর উন্নয়ন করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ ইব্রাহীম খলিল, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিডি ক্লিন এর সমন্বয়ক রাকিবুল হাসান, সমন্বয়ক লজিস্টিক তানভির রেজা, টিম মনিটর শুভ কাজী, ওয়ালিদ হোসেন সাবেক সমন্বয়ক তাসদীদ আহমেদ সহ নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো স্বেচ্ছাসেবীরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নবাবগঞ্জ বিডি ক্লিন এর সহ সমন্বয়ক মোঃ ফয়সাল।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির ঈদ উপহার পেল ৫ হাজার পরিবার

0

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির পক্ষ থেকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫ হাজার অসহায় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া বকুলতলা থেকে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ শুরু করেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির পক্ষে মাসুদ করিম পাপ্পু।

মাসুদ করিম পাপ্পু বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও এ এলাকার কৃতী সন্তান, আমার বড় বোন সাবেক মন্ত্রী ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি আপনাদের জন্য ঈদ উপহার সামগ্রী হিসেবে শাড়ি পাঠিয়েছেন। তিনি সবসময় এই এলাকার কথা ভাবেন। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন, এখনো আছেন। কিছু পাওয়ার জন্য তিনি ঈদ উপহার দিতে আসেননি, তিনি আপনাদের ভালোবাসেন তাই এ ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। আপনারা সবাই অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন সারাজীবন এভাবে আপনাদের পাশে থাকতে পারেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য রুবিয়া আক্তার, হাসনা হেনা, লুৎফা বেগম, মো. দীন ইসলাম, আবুল হোসেন, মো. আসাদুজ্জামান, মো. শামীম শেখ, মো. মাহমুদ, ওমর ফারুখ তালুকদার, মো. আবু বক্কর খাঁন, মো. শাহবুদ্দিন খান. জাকির হোসেন বেপারি, জয়ন্ত ঘোষ, কামাল হোসেন লাল, আবু সাঈদ, কামরুজ্জামান মিষ্টি, মো. আওলাদ, মো. হযরত ও ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান সুমন মিয়া প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বর্তমান সরকার ব্যবসা করছে: জি এম কাদের

0

স্বাধীনতার চেতনা, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বর্তমান সরকার ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বাস্তবায়ন করেছিলেন, এর আগে কেউ করেনি মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার যে মূল চেতনা এবং যাদের মূল্যায়ন করা দরকার; মুক্তিযোদ্ধাদের উনি তালিকা করেছিলেন। উনি আমাকে একদিন দুঃখ করে বলেছিলেন যে, অনেক খুঁজে খুঁজে গ্রামে-গঞ্জে বিরাট টিম পাঠিয়ে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে খুঁজে বের করেছি। নাম্বারটা মনে নাই, ৭০ হাজার বা কত হাজার উনি করতে পেরেছিলেন। তার চেয়ে বেশি উনি করতে পারেন নাই। উনি একদিন দুঃখ করে বলেছিলেন, উনি মারা যাওয়ার কিছু দিন আগে যে, এত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আসছে কোথা থেকে!

‘আমি তো মুক্তিযুদ্ধে পরে গ্রামে গ্রামে মানুষ পাঠিয়ে, বিভিন্নভাবে, আমাদের এজেন্সিগুলোকে পাঠিয়ে খুঁজে খুঁজে বের করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করেছিলাম। এখন তো দেখছি তার চেয়ে তিনগুণ সংখ্যা মুক্তিযোদ্ধার। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ৫০ বছর হয়নি, ৫১ বছরের বেশি স্বাধীনতার—সে মুক্তিযোদ্ধা। এগুলো চলছে এবং এগুলোকে বাতিল করতে পারবেন না। আদেশ করা হয়েছে এমনভাবে যে এটা বাতিলযোগ্য নয়। (১৯৭১ সালে) তিন বছর বয়স যার, সে মুক্তিযোদ্ধা। এক বছর বয়স, সে মুক্তিযোদ্ধা। এগুলো কি মুক্তিযুদ্ধে চেতনা? এগুলো কি স্বাধীনতার চেতনা,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বিরোধী দলীয় এই নেতা আরও বলেন, ‘জনগণের দেশ হবে, বৈষম্যমুক্ত দেশ হবে, দেশে আইনের শাসন থাকবে। আইনের চোখে সবাই সমান হবে। সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা আমরা গণতন্ত্র থেকে পাই সেটা হলো সবাই আইনের চোখে সমান হবে। আমাদের দেশে আমরা এই জিনিসটি করতে পারছি না। একটি স্তরের পরে আমরা কথাও বলতে পারি না। সরকারের বিরুদ্ধে আমরা কোনো কথা বলতে গেলে, তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন ধরনের মামলা হয়। একেবারে আইন তৈরি করা হয়েছে, যে আইনে (মামলা) এটা করা যায়। কাজেই বৈধভাবে আমাদের দাবিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা কি স্বাধীন হলো? সেই দেশ স্বাধীন দেশ?’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। দেশের শত্রু, দেশদ্রোহিতার মামলা। একজন বিভিন্নভাবে দুর্নীতি করছে, দুর্নীতি ধরতে যান, বলতে তোমাকে ডকুমেন্টসহ, পেপারসহ দিতে হবে, না হলে তোমাকে জেল দেওয়া হবে। এভাবে আস্তে আস্তে মানুষের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। যে জন্য, যে আকাঙ্ক্ষায় মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল আমার নিজের একটি দেশ হবে। যেখানে আমি বৈষম্যের শিকার হবো না। যেখানে আমরা সকলে সমান থাকব। জবাবদিহিতার মধ্যে থাকব। সেই সমাজে আমি বসবাস করতে চাই, যার জন্য আমি জীবন দিতে গেছি। সেই সমাজ হয়নি। সেই সমাজের দিকে সামনে আমরা যাচ্ছি না, এটিই হলো দুর্ভাগ্যের বিষয়।

‘আমি আস্তে আস্তে যাচ্ছি, হয়তো এখন না যাই ১০ বছর পরে যাব-২০ বছর পরে যাব—যদি সঠিক পথে যাই। যদি উল্টা পথে যাই, তাহলে প্রতি মুহূর্তে তো আমি দূরে সরে যাচ্ছি! আমার কাছে এটিই হলো দুঃখ। আমাদেরকে পথ ঠিক করতে হবে। আমাকে প্রথম বলতে হবে আমি প্রজাতন্ত্র। প্রজাদের শাসন করতে দিতে হবে, তাদেরকে ভোট দিতে দিতে হবে, তাদের নিজের নেতা নির্বাচিত করতে দিতে হবে। দেশ শাসনে তাদের জবাবদিহিতা করার ক্ষমতা দিতে হবে, তাহলেই তো আমি প্রজাতন্ত্র হলাম। তার পরে আমি দেখব কে খারাপ কাজ করছে, কে করছে না। যার দেখার দায়িত্ব সে করছে কি করছে না। কেন করছে না? না করলে সে থাকবে নাকি থাকবে না। সেই ক্ষমতা যখন থাকবে, তখন আমি সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার সুফল এবং সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার চেতনা আমি বাস্তবায়ন করব,’ যোগ করেন তিনি।

সরকার বৈষম্য সৃষ্টি করেছে অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘সুবিধাবাদী ২২ পরিবার থেকে ২২ হাজার পরিবার হয়েছে। টাকার অভাব নেই। পাঁচ টাকার জিনিস ৫০০ টাকায়, পাঁচ হাজার টাকায় কেনার লোক আছে। দেশ তো ধনী দেশ, এটা বলে বেড়ানো হচ্ছে। রাস্তায় হাজার হাজার গাড়ি, এটা বলে বেড়ানো হচ্ছে। কীসের গরিব দেশ! ওই লোকের জন্য গরিব দেশ নয়। দেশের বেশির ভাগ মানুষের জন্য গরিব দেশ। বেশির ভাগ মানুষ এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ কালকে কীভাবে থাকবে তা জানে না। বেশির ভাগ মানুষ কালকে বেঁচে থাকবে কি না জানে না। বেশির ভাগ মানুষ তার সহায়-সম্পত্তি থাকবে কি না তা জানে না। আপনার বাড়ি-ঘর আজকে ঠিক আছে, কালকে থাকবে কি না কেউ জানে না। বাড়িটা কেউ দখল করে যদি নিয়ে যায় এবং তারপর আপনি কোথাও বিচার করতে গেলে পাবেন না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এগুলো নিয়ে অনেকে আমার কাছে অভিযোগ করতে আসে যে, বাড়ি-ঘর দখল হয়ে গেছে। এখন কেস করতে যাচ্ছি, কেউ কেস নিচ্ছে না। উকিলরা ভয় করে, কেননা এখানে প্রভাবশালী মহল জড়িত।’

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে চরিত্র থাকার কথা সেখান থেকে তারা দূরে সরে আসছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই কেউ বিপ্লব চাই না, আমরা সহিংসতা চাই না। আমরা চাই না, যুক্তিতর্কের বাইরে গায়ের জোরে কোনো কিছু অর্জন করা হোক। কিন্তু গায়ের জোরে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলে গায়ের জোর ছাড়া এর কোনো উপায় থাকে না। এটি হলো বাস্তবতা।’

 

বাংলাদেশ স্কাউট দোহার উপজেলা উপদল নেতা পরিষদের কমিটি গঠন

মোঃ আল-আমিন,দোহার: স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্কাউটিং এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে ১ম পাইওনিয়ারিং ও গ্রুপ স্কাউট ক্যাম্পকে সামনে রেখে এবং দোহার স্কাউট গ্রুপ ও বাংলাদেশ স্কাউট দোহার উপজেলা উপদল নেতা পরিষদ এর বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২১শে মার্চ) দোহার উপজেলার জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিলো ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় প্রোগ্রামে থাকতে পারেনি, দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাংলাদেশ স্কাউট, দোহার উপজেলার সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন (উডব্যাজ)।

দোহার স্কাউট গ্রুপ ও বাংলাদেশ স্কাউট দোহার উপজেলা উপদল নেতা পরিষদের আয়োজনে উক্ত প্রোগ্রামের সভাপতিত্ব করেছেন,বাংলাদেশ স্কাউট, দোহার উপজেলার সভাপতি ও জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম খালেক।

এসময় তিনি বলেন,দোহার উপজেলা স্কাউট সদা প্রস্তুত থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে ও দেশকে শৃঙ্খলায়িত করার লক্ষ্যে দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।স্কাউটের পাওনারিং বিষয়ে / ক্যাম্পেইন বিষয়ে এটাই প্রথম সভা / প্রোগ্রাম। দোহার উপজেলার প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে গ্রুপ লিডারদের নিয়ে এই কমিটি করলে আরও জোরদার হবে। স্কাউটের বিস্তার ঘটবে। স্বেচ্ছায়, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকলকে আগ্রহের সাথে কাজ করার পরামর্শ দেন।

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ স্কাউট, দোহার উপজেলার কমিশনার ও ইকরাশী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একলাল উদ্দিন আহম্মেদ।বাংলাদেশ স্কাউট, ঢাকা জেলা স্কাউট লিডার ইসহাক হোসেন (উডব্যাজ)।মহাকবি কায়কোবাদ মুক্ত স্কাউট গ্রুপের(আরএসএল) মোঃ আল-আমিন হোসাইন।জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউট লিডার মঞ্জুরুল আলম।

অতিথি বৃন্দ সহ উপদল নেতারা উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ১ম পাইওনিয়ারিং ও গ্রুপ স্কাউট ক্যাম্পকে সামনে রেখে এবং দোহার স্কাউট গ্রুপ ও বাংলাদেশ স্কাউট দোহার উপজেলা উপদল নেতা পরিষদ এর বার্ষিক সম্মেলনে বিগত কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন,জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের রুদ্র শীলকে সভাপতি, বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্নীল মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জয়পাড়া কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্য,জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউট বৃন্দ সহ দোহার উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউটাররা।