রমজানে ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা

আল্লাহর ভয়ে বান্দা মাহে রমজানে পানাহার থেকে বিরত থাকে। তা না হলে পৃথিবীর কোনো শক্তি এমন আছে, যা তাকে গোপনে এক ঢোক পানি পান করা থেকে বিরত রাখতে পারে? রোজাদার পিপাসায় কাতর হয়, অজুর জন্য মুখে পানি নেয়; কিন্তু একটু পানিও গলার নিচে নামতে দেয় না। কার ভয়ে, কার ভালোবাসায়? একমাত্র আল্লাহ তাআলার ভয়ে, আল্লাহ তাআলার ভালোবাসায়। নির্জন স্থানে কেউ দেখছে না, কিন্তু আল্লাহ দেখছেন।

কেউ জানছে না, কিন্তু আল্লাহ জানছেন। স্বাধীন মানুষ তার খাবারের স্বাধীনতা ভোগ করছে না, তার যৌন চাহিদা মেটানোর স্বাধীনতা ভোগ করছে না—কোন সে শক্তি? এটি রোজাদারের আত্মিক শক্তি, নৈতিক শক্তি ও তাকওয়ার শক্তি। রোজাদারের এই যে বোধ, এই যে চেতনা—এটা অন্য কোনো ইবাদতে দেখা যায় না। এর জন্য রোজাদারকে ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হয়।

ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
মাহে রমজান বিশেষভাবে সবর ও ধৈর্যের মাস। হাদিস শরিফে এসেছে : নবী করিম (সা.) বলেছেন, রমজান সবরের মাস, আর সবরের প্রতিদান জান্নাত। (বায়হাকি)

যেকোনো কাজে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কঠিন বাস্তবতা আছে, যেখানে সবর ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই প্রয়োজন।

কঠিন অনেক সমস্যার সমাধান হচ্ছে ধৈর্য ও সবর। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৪)
সবর না থাকার কারণে মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ে। অনেক সময় কারণে-অকারণে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে, মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রোজা রেখে যেন ধৈর্যের বাঁধ না ভাঙে, সে জন্য নবী করিম (সা.) আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ। যখন তোমাদের কেউ রোজা থাকে, সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং মূর্খের মতো কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার, আমি রোজাদার। (বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

মুমিনের ধৈর্যের প্রয়োজন জীবনের সব ক্ষেত্রে, বিপদ-আপদে, মুসিবত, কষ্ট ও জটিলতায়। মুমিন ব্যক্তি বিশ্বাস করে, যত সংকটই আসুক না কেন, সব আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে সে বিপদে পড়েও ক্ষোভ, হতাশা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে না। নিজের ভাষা ও আচরণ সংযত রাখে। কারণ সে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী। সে তকদিরে বিশ্বাস করে। তকদিরে বিশ্বাস করা ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের একটি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘…আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো বিপদ আসে না। আর যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথের সন্ধান দেন। ’(সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১১)

ঈমানদারের জন্য বিপদ-মুসিবত নিয়ামতস্বরূপ। কারণ এতে গুনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। মুমিন বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে। আল্লাহর কাছে নিজের অভাব ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে। সৃষ্ট জীব থেকে বিমুখ হয়ে এক আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

দোহারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ০৫ জনের জরিমানা

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি:ঢাকার দোহার উপজেলার ইউসুফপুর বাজার, লটাখোলা বাজার এবং থানার মোড় সংলগ্ন এলাকায় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্যের ঊর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ করে উচ্চ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রয়ের অভিযোগে অভিযান ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

১৬ মার্চ ( শনিবার) সকালে এ অভিযান পরিচালনা করেন দোহার উপজেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন খান।

এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অত্যাধিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়, রসিদ/ভাউচার সংরক্ষণ না করা, পণ্যের যথাযথ মূল্য তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করা, লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ০৫টি মামলায় ০৫ জনকে সর্বমোট ৮,০০০/-(আট হাজার টাকা) অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শামীম হোসেন, দোহার থানা পুলিশ ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যগণ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনাকালে পাইকারী ও খুচরা বাজারে যথাযথভাবে ভাউচার/রসিদ সংরক্ষণ এবং যাতে কেউ অবৈধ মজুদ না করে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এসময় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দকে সরকার নির্দেশনা প্রতিপালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। পবিত্র রমজান মাসে সরকার নির্ধারিত যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সহকারী কমিশনার ভূমি মো মামুন খান বলেন, সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মোতাবেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দোহার উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

দোহারে কুকুরের কামড়ে অর্ধশত আহত

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহারের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অর্ধশত মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে। এমন ঘটনায় জনমনে অতঙ্ক বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ঝনকি, উত্তর ও দক্ষিণ শিমুলিয়া, মধুরচর ও বটিয়া এলাকায় আহতের সংখ্যা বেশি। যার মধ্যে সরকারি হিসেবে গত দুদিনে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। বাকিরা অন্যন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এছাড়া গত এক সপ্তাহে প্রায় অর্ধশতাধিক কুকুরের কামড়ে আহতের খবর পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো.জসিম উদ্দিন বলেন, আমি গত আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ ভ্যাক্সিনের জন্য বরাদ্দ চেয়েছি। এখনো কোন বরাদ্দ আসেনি। বর্তমানে বাইরে থেকে ভ্যাক্সিন কিনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার মোবাইলে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এব্যাপারে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা পৌরসভায় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাক্সিন দেয়ার জন্য একটি বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করছি। এরমধ্যে পৌরসভায় কিছু ভ্যক্সিন দেয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

দোহারে মোবাইল কোটে ৫ জনকে জরিমানা

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার উপজেলায় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্যের ঊর্ধগতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান ও বাজার মনিটরিং কার্যক্রম এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

১৩ মার্চ(বুধবার) দুপুরে দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজার এলাকায় এ মোবাইল কোট পরিচালনা করেন দোহার উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন খান।

এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পণ্যের যথাযথ মূল্য তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করায়, লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫৬, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এবং কৃষি বিপণন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ০৫টি মামলায় ০৫ জনকে সর্বমোট ৫,০০০/-(পাঁচ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

সহকারী কমিশনার ভূমি মো মামুন খান বলেন, অভিযান পরিচালনাকালে পাইকারী ও খুচরা বাজারে যথাযথভাবে ভাউচার/রসিদ সংরক্ষণ এবং যাতে কেউ অবৈধ মজুদ না করে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এ সময় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দকে সরকার নির্দেশনা প্রতিপালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। সরকার ঘোষিত নির্দেশনা মোতাবেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দোহার উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। মোবাইল কোটে সহযোগিতা করেন দোহার থানা পুলিশ।

রমজানে গাজায় ত্রাণ পাঠাল বাংলাদেশসহ ৯ দেশ

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে মিসরের বিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংস্থা আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটি হাউসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ হিসেবে হাজার টন খাদ্য চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশসহ দেশ।

এক বিবৃতিতে আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটি হাউস বলেছে, গত ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ত্রাণের যত চালান গেছে, সেসবের মধ্যে এই চালানটি বৃহত্তম। বাংলাদেশ ব্যতীত আরও যে আটটি দেশের ত্রাণ এই চালানে যুক্ত হয়েছে, দেশগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ফ্রান্স, চীন, কানাডা এবং জার্মানি।

মিসরের অনলাইন সংবাদমাধ্যম আরহাম অনলাইনকে আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটির মুখপাত্র আবদেল-আলীম কাশতা বলেছেন, ত্রাণ পণ্যবাহী ট্রাকগুলো মিসরের উত্তর সিনাই থেকে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাধ্যমে গাজায় প্রবেশ করবে।   ‘৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে রমজান শুরুর আগ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার টন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পণ্য পাঠিয়েছে আল আজহার জাকাত অ্যান্ড চ্যারিটি। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে ত্রান পাঠানো হয়েছি।’

 

আবারও দোহারে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১

মিথুন news39.net: সোমবার দোহারের কার্তিকপুর বাজার সংলগ্ন ঢাকা মৈনট রোডে ট্রাক এবং সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজির পিছনে থাকা মোটরসাইকেলও দুর্ঘটনার কবলে পরে। ঘটনাস্থলেই ১৮ বছরের এক যুবক নিহত হয়। হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। জানা যায় নিহত যুবকের নাম মাহফুজ কাজী (১৮)। আর তার পিতার নাম ইসমাঈল কাজী। নিয়মিত এরকম দূর্ঘটনা অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। কোন প্রতিরোধমূলক বা কার্যকর ব্যবস্থা পরিলক্ষিত না হওয়ায়, প্রায় প্রতিমাসেই ২/১ জন তরুণ প্রাণ হারাচ্ছে। এসব সিএনজি, অটো, বালুর ট্রাক বা মোটরসাইকেল যানবাহন বা চালকের নেই কোন লাইসেন্স। মাঝেমধ্যে এদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও, প্রভাবশালীদের অনুরোধে তারা ছাড় পেয়ে আরও দু:সাহসিক ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

 

স্থানীয় সূএে জানা যায়, মৈনট ঘাট থেকে বালু বোঝাই ট্রাকের বেপোরোয়া গতির কারনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আর মৈনট থেকে ছেড়ে আসা বালির ট্রাকের বেপরোয়া গতি প্রতিনিয়তই ছোট বড় দূর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।

স্থানীয় জনসাধারণ এই ব্যাপারে প্রশাসনের দূর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছে।

কালের সাক্ষী হয়ে ১১০ বছরেও দাড়িয়ে আছে “হার্ডিঞ্জ ব্রিজ”

১৯১৫ সালের ৪ মার্চ ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ সেতু উদ্বোধনকালে সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী স্যার রবার্ট উইলিয়াম গেলস্ আবেগভরে বলেছিলেন, ‘যে সেতু নির্মাণ করে গেলাম উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ সেতু চিরযৌবনা হয়ে থাকবে।’ কথাটি যে কতখানি সত্য, তার প্রমাণ ১০৯ বছর আগে পদ্মা নদীর বুকে তৈরি করা এই ব্রিজটি শতবর্ষ পেরিয়ে ১১০ বছরে পদার্পণ করলেও সেতুর গায়ে বার্ধক্যের কোনো ছাপ পড়েনি। অনেক শাসক-শোষক ও প্রজন্মের সাক্ষী হয়ে শতবর্ষ পেরিয়ে আজও বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।

বাংলাদেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সেতুবন্ধ তৈরি করেছে ঐতিহাসিক এই ব্রিজটি। পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলাকে সংযুক্তকারী এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজ একসময়ে ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেলসেতু।

ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ স্থাপনের ইতিহাস রয়েছে। ১৮৮৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কলকাতার সঙ্গে আসাম, ত্রিপুরাসহ উত্তরাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এই ব্রিজ তৈরির প্রস্তাব করেছিল। সে সময়ে প্রস্তাবটি কার্যকরী না হলেও কয়েক দশক পর ১৯০৯ সাল থেকে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ব্রিজ নির্মাণের সময় ছিল ১৯০৯ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত।

প্রায় ২৪ হাজার ৪০০ শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মিত হয় ব্রিজটি। তৎকালীন হিসাব অনুযায়ী নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৫১ লাখ ৩২ হাজার ১৬৪ রুপি। তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে ব্রিজটির নামকরণ করা হয়েছিল হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ব্রিজের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭৯৮.৩২ মিটার বা ৫ হাজার ৮৯৪ ফুট বা ১.৮ কিলোমিটার। এর ওপরে রয়েছে দুটি ব্রডগেজ রেললাইন। ব্রিজটির নকশা করেছিলেন আলেকজান্ডার মেয়াডোস রেন্ডেল। ব্রিজে স্প্যান রয়েছে মোট ১৫টি, প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার। ঐতিহ্যবাহী এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজটি ১৯১৫ সালের আজকের এই ৪ মার্চে চালু হয়েছিল ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনী ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্যাংক, যুদ্ধসরঞ্জামসহ সৈন্যও পারাপার করত। ১৩ ডিসেম্বর পাকবাহিনীকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে মিত্রবাহিনী বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করলে ১২ নম্বর স্প্যানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর যথারীতি ভারত সরকার ব্রিজটিকে মেরামত করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনে। এরপর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর থেকে পুনরায় ব্রিজটির ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর দিয়ে ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’সহ বিভিন্ন ট্রেন ৪০ বছর ধরে চালাচ্ছেন এল এম (ড্রাইভার) তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগে ৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হলেও এখন ৪০ কিলোমিটার গতিতে চালানোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে আগের মতোই চলছি, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় অস্বাভাবিক কিছু অনুভূত হয় না।

গত ২০১৫ সালে ঐতিহ্যবাহী এই হার্ডিঞ্জ ব্রিজের শতবর্ষ পূরণ হয়। পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী (২) বীরবল মন্ডল জানান, ২০১৫ সালে শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে এক গবেষণায় বলা হয়েছে, লৌহকাঠামোর রাসায়নিক ধাতুর গুণাবলি আরও ২৫ বছর বলবত থাকবে। ফলে ব্রিজ ২০৪০ সাল পর্যন্ত কার্যকরী থাকছে। প্রতি পাঁচ বছরে একবার ব্রিজ রং করার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়। ইতিমধ্যেই সরকার হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৩০০ মিটার অদূরে উজানে নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

এখন শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দ নেই: অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, এখন শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দ নেই। পাঠ্যবই নিরানন্দের বিষয়। বৃহস্পতিবার (০৭ মার্চ) বিকেলে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ মনজুর আহমদের লেখা ও প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর’ বইয়ের ওপর এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি আনন্দের সঙ্গে পাঠ গ্রহণ না করে বা পাঠদানে যদি আনন্দিত না হয়, তাহলে ফাঁক থেকে যায়। এখন নানা সিন্ডিকেটের প্রভাবও রয়েছে।

‘‘নোট বই, গাইড বইয়ের সিন্ডিকেট, প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা। কোচিং–বাণিজ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা।’’

সভায় যোগ দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর। তিনি শিক্ষায় নানা সংকটের কথা উল্লেখ করেন।

অধ্যাপক আলমগীর বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শক্তিশালী করতে না পারলে ভালো মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘পছন্দ করেন বা না করেন, উচ্চশিক্ষাসহ আমাদের পুরো শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত মাতৃভাষা। যতগুলো দেশ এগিয়ে গেছে, তারা মাতৃভাষায় পড়াশোনা করে।

বইটিতে স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিশদ পর্যালোচনা ছাড়াও কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর নিয়ে আলোচনা আছে। এবারের বইমেলায় শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই হিসেবে অধ্যাপক মনজুর আহমদের এই গবেষণামূলক বইসহ তিনটি বই মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে।

পাহাড়ে মিশ্র ফলের বাগান করে তাক লাগিয়েছেন নীলকান্ত চাকমা

যত দূর চোখ যাবে উঁচু উঁচু পাহাড়। এসব পাহাড়ে রয়েছে সেগুন বাগান। এর মধ্যে ১৬ একর জায়গায় রোপণ করা হয়েছে আম, লিচু, বারোমাসি কাঁঠাল, ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, কাজু বাদাম, কফিসহ নানান গাছ। পাহাড়ে এমন মিশ্র ফল গাছ রোপণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নীলকান্ত চাকমা। 

রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়নে বসন্ত মোন পাড়ার পাহাড়ে এসব ফল গাছ রোপণ করেছেন নীলকান্ত চাকমা। বিভিন্ন মৌসুমে ফল বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তিনি। চলতি মৌসুমে শুধু বরই বিক্রি করে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা।

রাঙামাটি শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বসন্ত মোন পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বড় পাহাড়ের মাঝে খামার ঘর নির্মাণ করে সেখান থেকে মিশ্র ফল বাগানের পরিচর্যার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নীলকান্ত। তাঁর এ কাজে সহায়তা করছেন উচ্চ শিক্ষিত দুই ছেলে। বড় ছেলে শুভাশীষ চাকমা কৃষি ডিপ্লোমা শেষ করে বাবাকে সহায়তা করছেন। পাহাড়ের প্রায় ১ হাজার ফুট নিচ থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে বাগানে পানি সেচের ব্যবস্থা করেছেন। বাদুড় তাড়ানোর জন্য সোলারের মাধ্যমে রাতে করেছেন আলোর ব্যবস্থা।

মিশ্র ফল বাগানে প্রায় ৬ একর পাহাড়ে করেছেন বল সুন্দরী, বাউকুল, কাশ্মীরি কুল, ভারত সুন্দরী, আপেল কুলসহ কয়েক প্রজাতির বরই চাষ। প্রত্যকটি গাছে বরই ধরেছে। বরইয়ে ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। এগুলো আকারে যেমন বড় হয়েছে তেমনি স্বাদেও বেশ অতুলনীয়।

নীলকান্ত চাকমা বলেন, ‘এ বছর শুধু বরই বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা পেয়েছি। অবশিষ্টগুলো বিক্রি করলে আরও লাখ দেড় লাখ টাকা পাব।’

নীলকান্ত চাকমা বলেন, ‘প্রায় ১০-১২ বছর আগে আমি জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। নিজ পাহাড়ে সেগুন বাগানও করেছি। কিন্তু জুমচাষ ও সেগুন বাগান থেকে লাভবান না হওয়ায় জীবিকা পরিবর্তন করে তার ১৬ একর পাহাড়ের জমিতে লিচু, আম, কাঁঠাল, কপি, বরই, মাল্টা, ড্রাগনসহ মিশ্র ফল বাগান চাষ শুরু করি। তিন চার বছরের মাথায় ফলন পেতে শুরু করি। গত বছর আম ও লিচু বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেছি।’

‘আমার এ কাজে দুই ছেলে সহায়তা করছে। দুজনই লেখাপড়া শেষ করেছেন কিন্তু চাকরি পায়নি। চাকরি না পাওয়ায় তারা বাগানে মনোযোগী হয়েছে।’ যুক্ত করেন নীলকান্ত চাকমা।

নীলকন্ত চাকমার ছেলে শুভাশীষ চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটি কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ৪ বছরের ডিপ্লোমা পাস করেছি। পরে কিছুদিন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চাকরি করেছি। বেতন কম হওয়াতে সে চাকরি ছেড়ে দিই। সরকারি চাকরিতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। চাকরির আশায় না থেকে বাবাকে কৃষি কাজে সাহায্য করছি।’ বালুখালী ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ দেওয়ান বলেন, ‘নীলকান্ত চাকমা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তার ছেলেও একজন কৃষিবিদ। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ, প্রশিক্ষণ দিয়ে যতটুকু পেরেছি সহায়তা করেছি। তার এমন সফলতায় এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন আদর্শ বাগানী হিসেবে।’

রাঙামাটি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি উদ্যোক্তা পেলে আমরা সহায়তা করে যাচ্ছি। নীলকান্ত একজন আদর্শ কৃষক। তার মতো কৃষি উদ্যোক্তাদের উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় সহায়তা করে যাচ্ছে।

আজ শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

অমর একুশে বইমেলা শেষ হচ্ছে আজ ২ মার্চ (শনিবার)। আজ শনিবার অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। বিকেল পাঁচটায় সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করবেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য-সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে।