ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি

ঢাকার স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন একুশে টেলিভিশনের এসাইনমেন্ট এডিটর রাশেদ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আরটিভির সিনিয়র রিপোর্টার জাহিদুর রহমান। শনিবার রাতে রাজধানীর সোয়ারীঘাটের বুড়িগঙ্গা মঞ্চে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ শেষে এ কমিটি গঠন করা হয়।

দুই বছরের এই কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন বাসসের ঈহিতা জলিল, আজকের পত্রিকার মো. আয়নাল হোসেন, এশিয়ান টিভির লাবন্য ভূঁইয়া। এছাড়া যুগ্ম সম্পাদক পদে মানবজমিনের রাশিম মোল্লা, অর্থ সম্পাদক পদে বিটিভির মাসুদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ডিবিসির লিটন মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক পদে আজকের পত্রিকার মো. হুমায়ুন কবীর নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটির অন্যরা হলেন- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মাহমুদুর রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এনটিভির কুশল ইয়াসির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে চ্যানেল আইয়ের অনজন রহমান, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক পদে ডিবিসির আফসানা জাহান নীলা, কল্যাণ সম্পাদক পদে আজকের পত্রিকার মো. আবুল কাশেম, নারী সম্পাদক পদে ভয়েস অব এশিয়ার মাকসুদা লিসা।

কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন আরটিভির মমিন হোসেন, সংগ্রামের কামরুজ্জামান হিরু, বাংলা ভিশনের দিপন দেওয়ান, বাংলা নিউজের এসএমএ কালাম, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের রেদোয়ান শুয়েব, যমুনা টিভির রাশেদ নিজাম, একুশে টেলিভিশনের আবু হুরায়রা তামিম, মানবজমিনের আনোয়ার হোসেন পিন্টু, আরটিভির শাহাবুদ্দিন শিহাব, বাংলা নিউজের দেলোয়ার হোসেন বাদল, এখন টিভির শাহরিয়ার জামান দ্বীপ, দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের মিঠুন সরকার নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাবেক মহাসচিব সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল জলিল ভূঁইয়া, উপদেষ্টা করা হয়েছে ৭১ টিভির হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, শামীম সিদ্দিকী, আকতার হোসেন, কেএম বাবর আশরাফুল হক, বরুণ ভৌমিক নয়ন, কামরুজ্জামান খান ও সাইদুজ্জামান রওশনকে।

মুমিন দুঃখ-কষ্টে ভেঙে পড়ে না

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর আমি তোমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়ভীতি, ক্ষুধা, জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা তাদের ওপর বিপদ এলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৬) মূলত দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদ, পাওয়া না-পাওয়া, সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়েই জীবন।

তাই দুঃখ-কষ্টে হতাশ হওয়া যাবে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যার ভালো চান, তাকে দুঃখ-কষ্টে ফেলেন।’ (বুখারি) অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যদি কারও ওপর কোনো কষ্ট আসে, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার গুনাহসমূহ ঝরিয়ে দেন, যেমনভাবে গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।’ (বুখারি)

কষ্টের সময়গুলোতে ধৈর্যের সঙ্গে অবিচল থাকাই মুমিনের গুণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো দিক থেকে স্বস্তি রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, অবশ্যই প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছেই।’ (সুরা ইনশিরাহ: ৫-৬) রাত যত গভীর হয়, ভোর তত নিকটবর্তী হয়। চিরদিন কারও দিন সমান যায় না। তাই দুঃখকে আল্লাহর পরীক্ষা ভাবতে হবে। হতে পারে বান্দার দোয়া ও আহাজারি শোনার জন্যই আল্লাহ এ পরীক্ষা দিয়েছেন। কারণ বিপদের সময় বান্দার দোয়ায় থাকে সর্বোচ্চ ইখলাস, বিনয় ও নিষ্ঠা। মহান আল্লাহ হয়তো বান্দার কাছে এটাই চান। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ নবী-রাসুলগণও অনেক দুঃখ-কষ্ট সয়েছেন।

ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে ফেলা হয়েছিল। জাকারিয়া (আ.)-কে করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল। ইউসুফ (আ.)-কে মরুভূমির গভীর কুয়ার মধ্যে ফেলা হয়েছিল। মুহাম্মদ (সা.)-কে দারিদ্র্য, অনটন, কাফিরদের অত্যাচার, দেশত্যাগ ইত্যাদি দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। রাসুল (সা.) বলেছেন, বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও অনুরূপ বড় হবে।’ (ইবনে মাজাহ)

উত্তর জয়পাড়ায় বসতঘরে আগুনে সর্বস্ব পুড় গিয়েছে শেখ নজরুলের

ঢাকার দোহার উপজেলার পৌরসভা ৩নং ওয়ার্ড এর কুঠিবাড়ি এলাকায় মধ্যেপ্রাচ্যের দেশ কাতার থেকে ফেরত আসা প্রবাসী শেখ নজরুল ইসলাম এর বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ঘরে থাকা মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, আলমারী, শোকেস ও নগদ টাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে যার আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকার মত বলে দাবী ক্ষতিগ্রস্থ শেখ নজরুলের।

শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমি আমার বসতঘর তালাবদ্ধ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আমার শুশুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে ওইদিন দিবাগত রাতেই কে বা কারা আমার বসত ঘরের ভেতর পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে আমার ঘরে থাকা মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, আলমিরা, শোকেস ও নগদ টাকাসহ প্রায় আনুমানিক ১২ লক্ষ টাকার বিভিন্ন মালামাল পুড়িয়ে ছাই করে ফেলেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর ন্যায্য বিচার চাই।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি কাতার প্রবাসী ছিলাম। মাস খানেক আগে আমি কাতার থেকে একেবারের মত ফেরত এসেছি। আমার যা সম্বল ছিল তা সবই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। আমি এখন কি করে খাব, কেমন করে বাচঁবো। আমাকে একবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

ঘরে আগুন দেওয়ার আগে পাশেই থাকা ক্ষতিগ্রস্ত শেখ নজরুল ইসলামের বড় ভাই শেখ আলীর ঘর বাহির থেকে তালা দিয়ে আটকে দেয় দুর্বৃত্তরা। যেন কোন সহযোগিতার জন্য ঘর থেকে কেউ বের হতে না পারে। তার প্রতিবেশী আল আমিনের ঘরে দুর্বিত্তদের আনাগোনার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে যদিও কিছু নেয় নি। ধারণা করা হচ্ছে সবাই যখন তালা ভাঙা ও আগুন নেভানো নিয়ে ব্যস্ত সেই সময় দুর্বিত্তরা আল আমিনের ঘর খোলা পেয়ে সেখানে প্রবেশ করে।

খবর পেয়ে ফায়ার বিগ্রেড এসে আগুন নেভায়। তাদের পানি শেষ হয়ে গেলে কাছের খাল থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করা হয়।

দোহার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুস সালাম সুকুর বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে আসি। এটা খুবই ন্যাককারজনক একটি ঘটনা। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

পরে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত শেখ নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হারন-অর-রশিদ বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়েই তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দোহার থানা পুলিশ। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাচনঃ চেয়ারম্যান পদে দোহারে ৩ প্রার্থী

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে দোহার থেকে ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (১৫ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে এ তথ্য জানা যায়।

আগামী ৮ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা এবার অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দোহার উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মেহবুব কবির ও এ.এইচ.এম ফারুক উজ্জামান।

দোহার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সুজাহার বেপারী, মো. সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সোহাগ  ও আব্দুল ওহাব দোহারী।

দোহার উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা ইসলাম, আছমা আক্তার, মিতু চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাচনঃ চেয়ারম্যান পদে নবাবগঞ্জে ৭ প্রার্থী

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১১ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (১৫ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে এ তথ্য জানা যায়।

আগামী ৮ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা এবার অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দীন, খন্দকার রুহুল আমিন, মো. জুয়েল রানা ও শেখ বোরহান উদ্দিন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন ১১ জন। তারা হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তাবির হোসেন খান পাভেল, নবাবগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার মন্ডল, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. তাজুল ইসলাম, পত্তনদার মো. রাকিব, মো. আক্তার হোসেন, মধ্যম কুমার সিদ্ধা আকাশ, কায়েশ আহমেদ, মো. বাপ্পী হোসেন ও শেখ সুমন।

নবাবগঞ্জ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার, নারী নেত্রী দীপা কবির, রোকসানা বেগম, নিলুফা আক্তার, গাজী শাকিলা ও মনিকা ইসলাম।

মাশরুমের উপকারিতা, কীভাবে খাবেন

ব্যাঙের ছাতাহিসেবে পরিচিত মাশরুম খেতে চান না অনেকেই, অথচ এটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ।মাশরুমের পুষ্টিগুণ উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশির কাছ থেকে।

 পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন বলেন, মাশরুম ছত্রাক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতির মাশরুম এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। তবে সব ধরনের মাশরুম খাওয়া যায় না। অনেক বিষাক্ত মাশরুম রয়েছে যেগুলো বনে জঙ্গলে পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে অর্গানিক বা নিজেদের চাষ করা মাশরুম খাওয়াই ভালো। যেমন- বাটান মাশরুম, ওয়েস্টার মাশরুম, পোর্টেবেলো মাশরুম এগুলো বেশ জনপ্রিয়।

আমাদের দেশে মাশরুম ব্যাঙের ছাতা হিসেবেই অনেকের কাছে পরিচিত। এটিকে খাবার হিসেবে অনেকেই এখনও গ্রহণ করতে পারেননি। শহরের মানুষের মধ্যে মাশরুম খাওয়ার প্রবণতা বাড়লেও, সেটি এখনও খুব বেশি নয়।

অনেকেই জানেন না কীভাবে মাশরুম খেতে হবে, কীভাবে চাষ করা যায়। আবার মাশরুম বিষাক্ত কি না সেটি নিয়েও সংশয়ে থাকেন অনেকে। যে কারণে মাশরুমের চাহিদা কম, সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে না এটি দেশে। এ ছাড়া, মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। যে কারণে গরু, খাসি কিংবা মুরগির মাংস খাওয়ার দিকে ঝোঁক বেশি। অথচ সঠিক উপায় যদি মাশরুম দিয়ে স্যুপ, সবজি কিংবা বিভিন্ন খাবার তৈরি করে খাওয়া যায় তাহলে সব বয়সী মানুষের প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে।

মাশরুমের পুষ্টিগুণ

পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন বলেন, মাশরুমের কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। এতে প্রচুর প্রোটিন পাওয়া যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে আরও আছে অ্যামিনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিবায়োটিক, জিঙ্ক,  মিনারেল, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি।

মাশরুমের উপকারিতা

১. মাশরুমে লো ক্যালোরি থাকায় যারা ওজন কমাতে চান তারা খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

২. পেশি বাড়াতে যারা বিভিন্ন ধরনের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খোঁজেন, তাদের জন্য মাশরুম প্রোটিনের সেরা উৎস হতে পারে।

৩. মাশরুমে পেনিসিলিন থাকে, যা এক রকম অ্যান্টিবায়োটিক যেটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৪. মাশরুম ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

৫. ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক মাশরুম।

৬. হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৭. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

৮. মাশরুমে থাকা পুষ্টি উপাদান ক্যানসার ও টিউমার প্রতিরোধে বেশ সাহায্য করে।

৯. শিশুদের হাড় ও দাঁত ভালো রাখতে সাহায্য করে।

১০. অ্যানিমিয়া দূর করতে ভূমিকা রাখে মাশরুম। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন মাশরুম খাদ্যতালিকায় থাকলে বেশ উপকারে আসে এক্ষেত্রে।

১১. মাশরুম শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সালাদ হিসেবে মাশরুম বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া মাশরুম স্যুপ, ক্রিম মাশরুপ স্যুপ অত্যন্ত জনপ্রিয়। সবজির সঙ্গে মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন রেসিপি করে খাওয়া যেতে পারে। নুডুলসের সঙ্গে মাশরুম মিশিয়ে খেতে পারেন, ফ্রাই করেও খেতে পারেন। মাশরুমের পাউডার তৈরি করে নেওয়া যায়, স্যুপে আস্ত মাশরুম ব্যবহার না করে পাউডার আকারে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

সতর্কতা কারা খাবেন না

কখনোই কাঁচা বা অল্প সেদ্ধ করে মাশরুম খাওয়া উচিত নয়। এতে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন ও হজমের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। মাশরুম বিষাক্ত কি না সেটি নিশ্চিত হয়ে খেতে হবে।

যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, বিশেষ করে মাশরুম খাওয়ার কারণে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা হয়, তাদের মাশরুম না খাওয়াই ভালো। মাশরুম যেহেতু ছত্রাকজনিত প্রোটিন তাই কিডনি রোগীরা এটি খাবেন না। যাদের হজমে সমস্যা হয়, পেটের নানা রকম সমস্যা থাকে, বার বার ডায়রিয়া হয় তাদের মাশরুম খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

দোহার-নবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি : নবাবগঞ্জ ও দোহারে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নানা আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

দোহার উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বাংলা বর্ষবরণ করতে সকালে দোহার উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর বট তলায় সমবেত হয়। এর পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সের শিল্পীরা দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরে সংগীত, কবিতা, গান ছাড়া গীতি নাট্য পরিবেশন করেন।

এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন খানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তা কর্মচারী রাজনৈতিক ব্যক্তি, সুধী সমাজ সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধি।

অপরদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা, বান্দুরা, শোল্লা, আগলা, গালিমপুর, চুড়াইন, শিকারীপাড়া, ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যে কারণে গরমে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে

প্রতিদিনই তাপমাত্রা বাড়ছে। এ সময় হিট স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।যেহেতু গরমে শরীরের তাপমাত্রা বিভিন্ন কারণে বেড়ে যায়, তাই কিছু খাবার এ সময় এড়িয়ে যাওয়া উচিত সবারই।

পেটের ভেতরে অতিরিক্ত হজম হলে পেট গরম হয়ে যায়। উচ্চ-তাপমাত্রার পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ঘাম। তবে যখন খুব বেশি তাপ থাকে, তখন শরীরের প্রাকৃতিক শীতল ব্যবস্থা অতিরিক্ত কাজ করে। এ অবস্থায় মসলাদার ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি ক্যাফেইনও এড়ানো উচিত।

তাই গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে ও গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা এড়াতে ঠান্ডাজাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। যেমন- বেশি পানিযুক্ত সবজি লাউ, চালকুমড়া ইত্যাদি গরমে খাওয়ার জন্য চমৎকার খাবার।এই সবজি পেট ঠান্ডা রাখে ও শরীরের তাপ কমায়। আবার এই সবজি হজমেও সাহায্য করে, আবার পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যও বজায় রাখে।

এছাড়া পেঁয়াজ খেতে পারেন। এটি আপনাকে সানস্ট্রোক থেকে রক্ষা করতেও উপকারী। পেঁয়াজের সঙ্গে সালাদে শসা, মুলা ও গাজরও যোগ করতে পারেন। এর সঙ্গে লেবু ও কালো লবণও মিশিয়ে নিন। এই সালাদ পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে, ক্ষুধা ও ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

গরমে নিয়মিত ছাতুর শরবত পান করতে পারেন। এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি পান করলে আপনি তাৎক্ষণিক শক্তি পাবেন। আবার ছাতুর শরবত কোষ্ঠ্যকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ করে ও গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেলের শরবতও অনেক উপকারী। এ সময় হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করতে বেলের শরবত। এটি ফাইবারে পরিপূর্ণ। তবে বেলের শরবত তৈরির সময় এতে চিনি ব্যবহার করবেন না।

অতিরিক্ত গরমের সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে এ বিষয়ে ভরতীয় পুষ্টিবিদ ও নিউট্রিটু এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. ইতু খোসলা ছাবরা বলেন, গরমে ফ্রিজের পানির চেয়ে মটকা বা হাঁড়ির পানি পান করা ভালো। পাত্রের পানি আপনার হজমের জন্য উপকারী। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে হিট স্ট্রোকের বিপদ কমাতেও সাহায্য করে। মটকার পানিতে পাওয়া যায় প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল।

এছাড়া তরমুজের শরবত, বাটার মিল্ক, টকদই ও শসাও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ এই পুষ্টিবিদ। এসব খাবারে প্রচুর পানি থাকে, যা শরীরকে পানিশূন্যতার হাত থেকে বাঁচায়। আবার এসব খাবার গ্রীষ্মকালীন পেটের সমস্যা যেমন- ফুলে যাওয়া, গ্যাস, অ্যাসিডিটি ইত্যাদি থেকেও রক্ষা করে।

মুমিনদের সহজ পথ অনুসরণের নির্দেশ

0

ইসলাম পৃথিবীর সহজতম ধর্ম। ব্যক্তিগত অশিক্ষা, অপশিক্ষা, অর্ধশিক্ষা, ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় অনেকে ইসলামকে পৃথিবীর কঠিনতম ধর্মে পরিণত করছে। তাদের কি অন্তরে রূঢ়তা পেয়েছে? মহান আল্লাহ বলেন, ‘…তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে, তা তো পাথরের মতো অথবা তার চেয়েও কঠিন…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৭৪)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি।

ইসলাম কখনোই জটিল বা কঠিন নয়। পবিত্র কোরআনের বাণী—‘তোমাদের পক্ষে যা সহজ আল্লাহ তা-ই চান এবং তোমাদের পক্ষে যা কষ্টকর তা তিনি চান না…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

ইসলাম মানুষের মুক্তি, কল্যাণের পথ দেখায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমার ওপর কোরআন এ জন্য নাজিল করিনি যে তুমি দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১-২)

তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (আল্লাহ) দ্বিনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেননি।’ (সুরা : হজ, আয়াত : ৭৮)

সত্য উপলব্ধিতে অক্ষম-অযোগ্যরাই ইসলাম নিয়ে বিরোধ-বিভ্রান্তি ছড়ায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘একদল লোককে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন, আর দ্বিতীয় দলটির ওপর গোমরাহি ও বিদ্রোহ ভালোভাবেই চেপে বসেছে; এরাই (পরবর্তী সময়ে) আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানদের নিজেদের অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে, (তবু) তারা নিজেদের সৎপথপ্রাপ্ত মনে করে।’ (সুরা : আল আরাফ, আয়াত : ৩০)

ইসলাম সব সময় সহজ ও মধ্যপন্থায় বিশ্বাসী। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, দ্বিন (দ্বিনের বিধি/পন্থাসমূহ) অত্যন্ত সহজ ও সরল। কিন্তু যে ব্যক্তি দ্বিনের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করবে সে পরাজিত হবে…। (বুখারি)

প্রিয় নবী (সা.) আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.)-কে একদিন বলেন, আমি কি এটা ঠিক শুনেছি যে তুমি প্রতিদিনই রোজা রাখো এবং সারা রাত সালাত আদায় করো? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসুল (সা.)। তখন রাসুল (সা.) বলেন, তা কোরো না। রোজা রাখবে। আবার খানাপিনাও করবে। সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াবে; আবার ঘুমাবেও। কারণ, তোমার ওপর তোমার দেহের অধিকার আছে; তোমার ওপর তোমার চোখের অধিকার আছে; তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে তোমার ওপর; তোমার অতিথিরও অধিকার আছে তোমার ওপর। (বুখারি)

মহানবী (সা.) আরো বলেছেন, অযথা কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন। (মুসলিম)

হটকারিতা, গোপন কূটকৌশল ইসলামের দর্শন নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার রবের পথে প্রজ্ঞার সঙ্গে এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে (মানুষকে) আহ্বান করো।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)

শুধু কি তা-ই, জীবনের সব ক্ষেত্রে বিপর্যয় মোকাবেলার উপায় হলো ঐক্য-সংহতি। মুসলিম ভ্রাতৃত্ব, ঐক্যকে পবিত্র কোরআনে ‘সিসা ঢালা প্রাচীর’, ‘বুনিয়ানুম মারসুস’ বলা হয়েছে। হাদিসে এ চেতনাকেই ‘এক দেহ’ ‘এক সৌধ’ ‘একই আদমের সন্তান’ তুল্য বলা হয়েছে। তাই ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে বৃহত্তম ঐক্যের বিনাশসাধন ইসলামের শিক্ষা নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে (বিধান, রহমত) দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করো, তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেয়ো না।’ (সুরা : আলে-ইমরান, আয়াত : ১০৩)

বস্তুত ইসলাম শান্তির ধর্ম, বিশ্বধর্ম। সারা দুনিয়া মুসলমানের ইবাদতের গালিচাস্বরূপ। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, সহজ করো, কঠিন কোরো না; সুসংবাদ জানিয়ে আহ্বান করো, ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়ো না। (বুখারি)

কাজেই অনাচার অনৈক্য পরিহার করা আমাদের সংকল্প। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আমি নির্দেশ দিচ্ছি দলগত জীবন, নেতার আদেশ শ্রবণ ও আনুগত্যের…।’ (ভাবানুবাদ : তিরমিজি)

লেখকঃ মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ

দোহারে পহেলা বৈশাখ-বাংলা নববর্ষ পালিত

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় দোহার উপজেলা পরিষদের আয়োজনে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ-বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ অনুষ্ঠিত।

বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ ১ বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমন্ডুকতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই স্বাজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়।

পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় বাংলা নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ।

দোহার উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ভিতরে সকালে পান্তা ইলিশ সবার মাঝে পরিবেশন করে দোহার উপজেলা পরিষদ থেকে নববর্ষের র‌্যালি বের হয়ে জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দোহার শিল্পকলা একাডেমি সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ মামুন খান, দোহার উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ জালাল উদ্দীন সহ উপজেলার সকল কর্মকর্তা,সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ অনেকেই। স্কুল মাঠে বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে।

বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে। বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস ও ইউনেস্কো কর্তৃক এটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে। এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। পরে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলা সন গণনার শুরু হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন। অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাঁদের পুরনো হিসেব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসেবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তাঁরা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়।

মূলত ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে। পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। এসময় ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়। আমাদের মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে।

কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে।