“গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্যতম গুনাহ”

ইসলামের দৃষ্টিতে পরনিন্দা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। পবিত্র কোরআনে এ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি স্বীয় মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তো একে ঘৃণাই করো।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মিরাজের রাতে আমি এমন এক কওমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, যাদের নখগুলো তামার তৈরি এবং তা দিয়ে তারা অনবরত তাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে আঁচড় মারছে। আমি বললাম, হে জিবরাঈল, এরা কারা? তিনি বলেন, এরা সেসব লোক, যারা মানুষের গোশত খেতো (গিবত করত) এবং তাদের মানসম্মানে আঘাত হানত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৭৮)

রাসুল (সা.) পরনিন্দাকে ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য আখ্যায়িত করেছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্যতম গুনাহ।

তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, এটা কিভাবে? তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ব্যভিচার করার পর তাওবা করলে তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। কিন্তু যে গিবত করে তার গুনাহ প্রতিপক্ষের মাফ না করা পর্যন্ত মাফ হয় না।’ (শুআবুল ঈমান)

আমরা সাধারণত মনে করি, যে দোষ মানুষের মধ্যে সত্যিই আছে তা চর্চা করলে গিবত হয় না, কারো মধ্যে সত্যিই কোনো দোষ থাকলে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময় কাটানো দোষের নয়। অথচ হাদিসের ভাষায় এটিকেই গিবত বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, গিবত হলো কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা, যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হয় এবং অন্তরে আঘাত পায়। তাকেই গিবত বলে।

অর্থাৎ কারো অগোচরে তার এমন দোষ বলা, যা বাস্তবেই তার মধ্যে আছে, তাই গিবত বা পরনিন্দা। আর যদি তার মধ্যে সেই দোষ না থাকে, তবে তা হবে অপবাদ (তুহমত)। যা পরনিন্দা থেকেও মারাত্মক গুনাহ। (মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৯) এই পাপের পরকালীন পরিণতি অনেক কঠিন। আমাদের সবার উচিত, পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এ অভ্যাস ত্যাগ করা। মহান আল্লাহ তাওফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ে ইতিহাস গড়েছেন নবাবগঞ্জের জিন্নাত ফেরদৌস

আবু মোবাশ্বারাহ, news39.net:  প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আফ্রিকার ডারবানে বক্সিংয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি নারী বক্সার নবাবগঞ্জের মেয়ে জিন্নাত ফেরদৌস। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত নেলসন ম্যান্ডেলা কাপ আন্তর্জাতিক বক্সিং প্রতিযোগিতায় গতকাল সোনা জয় করেছেন বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বক্সার জিনাত ফেরদৌস। ৫০ কেজি ওজন শ্রেণিতে তিনি ফাইনালে হারিয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রতিযোগীকে।

বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এটিকে গেল দেড় দশকে দেশের সেরা সাফল্য মনে করেন। বিদেশের মাটিতে এমন সফলতার পর গর্বিত দেশের বক্সিং সংশ্লিষ্টরা।

জিনাত ফেরদৌসের বাবা বেলায়েত হোসেনের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে। মা শাহানাজ ফেরদৌসের বাড়ি পাবনায়। থাকতেন ঢাকার শ্যামলীতে।  নিউইয়র্ক শহরে জন্ম জিনাত ফেরদৌসের। নিউ ইয়র্কে বক্সিং খেলেন। খুব বেশি দিনও হয়নি। মাত্র ২৮ মাস। এরই মধ্যে তার বক্সিংয়ের জোর বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের যেসব নারী বক্সিং করেন, তাদের তুলনায় মার্কিন মুল্লুক থেকে আসা বক্সারের শক্তি বেশিই হওয়ার কথা। হয়েছেও।

জিন্নাত ফেরদৌসের বক্সিংয়ে আবির্ভাব গত বছর হঠাৎ করেই। তিনি লাল-সবুজের হয়ে অংশ নেন এশিয়ান গেমসেও। সেখানে যদিও প্রথম বিশ্বমঞ্চে তেমন ভালো কিছু করতে পারেননি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত কোচের কাছে ট্রেনিং চালিয়ে যান জিন্নাত। তার ঝুলিতে অবশেষে সাফল্য ধরা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা কাপে গোল্ড জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জিন্নাত।

বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিন বলেছেন, জিন্নাতের স্বর্ণপদক জয় দেশের বক্সিংয়ের জন্য অনেক বড় একটি সফলতা। তার স্বর্ণ জয়ই দেশের সেরা সাফল্য। জিন্নাতের পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞতা ও ফাইটিং দক্ষতা খুবই ভালো। আগামী মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ফাইটে ভালো কিছু আশা করতে পারি।’

২৭ দেশের এই টুর্নামেন্টে স্বর্ণ জয়ের পথে জিন্নাত হারিয়েছেন ইথিওপিয়ার সেরা বক্সার গাজিয়া বেথেলহামকে। আর এটাকেই সাম্প্রতিক দেশের বক্সিংয়ে সেরা সাফল্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই টুর্নামেন্ট জয়ের অভিজ্ঞতা কাজে দেবে আসন্ন প্যারিস অলিম্পিকের বাছাইপর্বে

অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিদান

0

ইসলাম চায় সমাজের বিত্তবানরা সুখে-দুঃখে অভাবী ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াক। এ ক্ষেত্রে পরস্পর লেনদেনে কোমলতা কাম্য। অসচ্ছল ও অভাবীকে অবকাশ দিলে পাপ মোচন হয়। নবী করিম (সা.) বলেন, জনৈক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দেয়।

কোনো অভাবগ্রস্তকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। এর ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন। (বুখারি, হাদিস : ২০৭৮)

হুজাইফা (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, একজন লোক মারা গেল, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি কি বলতে? সে বলল, আমি লোকদের সঙ্গে বেচাকেনা করতাম। ধনীদের অবকাশ (সুযোগ) দিতাম এবং গরিবদের হ্রাস (সহজ) করে দিতাম। কাজেই তাকে মাফ করে দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৩৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রুহের সঙ্গে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোনো নেক কাজ করেছ? লোকটি জবাব দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে তারা যেন অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয়। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, অতঃপর তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো। (বুখারি, হাদিস : ২০৭৭)

দোহারে মৃত গরু জবাই ও বিক্রয় অভিযোগে আটক ৩

২৪ এপ্রিল, ২০২৪খ্রি. বুধবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ কার্যক্রম প্রতিরোধকল্পে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় ও ঘটনাস্থল থেকে ০৩(তিন) জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ০৩ (তিন) জন যথাক্রমে শেখ নূরু (৫৫) পিতা : শেখ মোন্তাজ উদ্দিন, গ্রাম:জয়পাড়া, উপজেলা :দোহার,জেলা:ঢাকা;জুবায়ের হোসেন (১৯) পিতা: আজাদ হোসেন, গ্রাম:মধ্য লটাখোলা, জয়পাড়া,উপজেলা:দোহার,জেলা:ঢাকা ও বাশার হোসেন (১৯)পিতা: স্বপন শেখ, গ্রাম: দোহার বাজার পুরী,উপজেলা:দোহার,জেলা: ঢাকা।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে মৃতপ্রায় এবং ভেটেরিনারিয়ানের অনুমতি ব্যতীত গরু জবাই ও মাংস বিক্রির অভিযোগে আটককৃতদের জবাই নিষিদ্ধ (মৃতপ্রায় ও রোগাক্রান্ত) পশু জবাই ও মাংস বিক্রয় করা, প্রায়শই বিভিন্ন ধরণের প্রতারণামূলক অপরাধের জন্য পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এবং পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২১ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রত্যেককে ১০(দশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ মামুন খান।

এছাড়া জবাইকৃত পশু ও মাংস জব্দ করে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাটিচাপা প্রদানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অভিযানকালে দোহার উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও দোহার থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।

জনস্বার্থে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের জন্য মানসম্মত মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে দোহার উপজেলায় ভবিষ্যতে এ ধরণের অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত আরও ৫৪, প্রাণহানি বেড়ে ৩৪১৫১

0

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সময়ে আহত হয়েছেন ১০৪ জন। এ নিয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান এই যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ১৫১ জনে। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৮৪ জনে।

সোমবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর  আলজাজিরার।

জাতিসংঘ আরও বলছে, দীর্ঘ এ সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে মানবিক সংকটে দিন পার করছেন ফিলিস্তিনিরা। এছাড়াও খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার অভাবে উপত্যকাটির ২৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দা চরম ক্ষুধা ও ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছেন।

গত মাসের শেষের দিকে (২৫ মার্চ) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। হামাস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ফিলিস্তিনি ছিটমহলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

 

তীব্র গরমের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে লোডশেডিং

0

বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এর ওপর দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়েছে লোডশেডিং। জেলা শহরে সহনীয় হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকছে না ১০ থেকে ১২ ঘন্টা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বৈশাখের মাঝামাঝিতেও নেই বৃষ্টির দেখা। প্রখর রোদের দাপটে তাপমাত্রার পারদ ঊর্দ্ধমুখী। তার ওপর লোডশেডিং, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে বাড়িয়েছে বহুগুনে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে লক্ষ্মীপুরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। গরমে অস্বস্তির পাশাপাশি বিঘ্ন হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কল কারখানার উৎপাদন।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘এক ঘণ্টা কারেন্ট থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না। এতে যেটা হচ্ছে ফসলের মাঠে পানি দেওয়া যাচ্ছে না।’

গরমে চাহিদা বাড়লেও, বাড়েনি বিদ্যুতের সরবরাহ। এতে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমাদের এখানে চাহিদা রয়েছে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। আর ঈদের আগে ২০ রোজার পরে আমরা পেয়েছিলাম ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট। এখন আমরা ৯০ বা ১০০ মেগাওয়াট পাচ্ছি।’

ফেনীতেও লোডশেডিংয়ে শহরের চেয়ে বেশি অতিষ্ঠ গ্রামের মানুষ। দিনে গড়ে ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎবিহীন কাটাতে হচ্ছে তাদের। একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘রাতে বা দিনে কখনই বিদ্যুৎ পাচ্ছি না আমরা। ঘুমানোর কোনো সুযোগই নেই। লোডশেডিংয়ের পরিমাণটা আরও কমানো যায়, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানাবো।’

জেলার ৬টি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ থেকে ৭২ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে অর্ধেকের কম।

এদিকে, জামালপুরে পিডিবির লোডশেডিং সহনীয় থাকলেও পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং অসহনীয়। দূর্গম চরাঞ্চলে দিনের মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ।

জেলা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজালাল নির্ঝর বলেন, ‘আমার ১৭০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সবসময় দেখা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ লোডশেড করতে হচ্ছে। সেই হিসেবে আমরা কখনো ৮০, কখনো ৯০ আবার কখনো ১০০ এর উপরে পাই আর কি। আমরা গ্রীড থেকে ১৩২ কেভি লেভেলে বিদ্যুৎ নিই। তারপরে ৩৩ কেভি লেভেলে আমরা গ্রাহকের প্রান্তে পৌছাই, আমাদের উপকেন্দ্রের মাধ্যমে। তো এই কারণে গ্রীডে যদি উৎপাদন কম থাকে, তাহলে আমাদের করার কিছু থাকে না। বাধ্য হয়ে লোডশেড করতে হয়।’

জামালপুরের সাত উপজেলাসহ কুড়িগ্রামের রৌমারী-রাজিবপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ৭ লাখ ১৫ হাজার। এসব এলাকায় ১৭০ মেগাওয়াটের বিপরীতে মিলছে ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট।

দোহারে সরকারি হাসপাতালে ২দালাল চক্রকে কারাদণ্ড

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান করে দুইজনকে আটক করে ১০দিনের কারাদণ্ড দেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন খান।

রবিবার(২১শে এপ্রিল), দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও দালালদের দৌরাত্ম্য রোধে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দালাল চক্রের ০২ জন সদস্য হাতে নাতে ধরা পড়ায় তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে গরীব অসহায় রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, প্রতারণাপূর্বক কৌশলে রোগীদের পার্শ্ববর্তী বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্থানান্তর, সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযুক্ত ০২ (দুই) জনের প্রত্যেককে ১০ (দশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। (১। মোঃ আজাদ শেখ (৫২) ২। মোঃ সেলিম শেখ (৪৬)

অভিযান কালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃমামুন খান বলেন,জনস্বার্থে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদান নিশ্চিত করা এবং দালালদের দৌরাত্ম্য নির্মূলে দোহার উপজেলায় ভবিষ্যতে এ ধরণের অভিযান ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

এসময় সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন,দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও দোহার থানা পুলিশ।

দোহারে ৩টি বাল্যবিবাহ বন্ধ ও জরিমানা

0

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ৩টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেন।

শুক্রবার (১৯শে এপ্রিল) দোহার উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দোহার উপজেলার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোঃ মামুন খান।

এসময় তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট নিয়মিত চলমান থাকবে।

এসময় উভয়পক্ষের পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পিতা-মাতা, অভিভাবক কর্তৃক আইনবহির্ভূতভাবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির উপর কর্তৃত্ব সম্পন্ন হইয়া বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার অপরাধে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ০৩ জনকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, দোহার থানা পুলিশ ও সঙ্গীয় আনসার সদস্যগণ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।

চীন ভ্রমণ কাহিনির বই

0

বাংলা ভাষায় রচিত চীন ভ্রমণ কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই।

১. মাও সে-তুঙ এর দেশে

লেখক: মাওলানা ভাসানী
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/eSeeAoS2emMT/

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯৬৩ সালে তৃতীয়বারের মতো চীন সফর করেন সাত সপ্তাহের জন্য। মূলত এই সফরের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমান গ্রন্থটি লিখিত। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। এত দীর্ঘ সময় পরে আবার তা গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হলো। বিপ্লবের চৌদ্দ বছরের মাথায় চীনে যে মহারূপান্তর ঘটছিল তাকে মওলানা ভাসানী যেভাবে দেখেছেন, তাঁর ভাষায়, ‘চীন’ শুধু মাত্র একটা দেশ নয়। চীন মহাদেশ। বাহাত্তর কোটি মানুষের একশ’ চুয়াল্লিশ কোটি কর্মঠ হাত এক অসাধ্য সাধন করেছে। তাদের বাহুর সঞ্চালন, সমাজতান্ত্রিক চেতনায় সমৃদ্ধ মনন দুনিয়ার বুক থেকে মানুষের মহৎ মর্যাদার পক্ষে কলঙ্ককর সকল অচলায়তনকে মুছে ফেলার অঙ্গীকারে দৃপ্ত। আফিমের খোয়াবীতে নিষ্প্রভ চোখে আজ অতন্দ্র প্রহরার দৃষ্টি। নেশায় নির্বীর্য বাহু আজ দুরূহতম অস্ত্র এবং জটিলতম যন্ত্র নির্মাণে ব্যস্ত। এই পর্যবেক্ষণ থেকে একদিকে যেমন মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক চিন্তাকে বোঝা যায় তাঁর স্বমহীমায়, অন্যদিকে বর্তমান চীনের গতি-প্রকৃতির সাথে মিল-অমিলটাও পাঠক মিলিয়ে নিতে পারেন সহজেই। সে দিক থেকে এই গ্রন্থের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য তো বটেই, সমাজ রূপান্তরের পাঠে। আগ্রহী সকলেরই এই গ্রন্থটি অবশ্যপাঠ্য।

২. নয়াচীনে এক চক্কর

লেখক: প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/2AAy2yIpMRM5/

ইবরাহীম খাঁ (ফেব্রুয়ারি ১৮৯৪ – ২৯ মার্চ ১৯৭৮) উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক। ইবরাহীম খাঁ স্মৃতিকথা, শিক্ষা-সাহিত্য-ধর্ম-বিষয়ক প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণ কাহিনী, রসরচনা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস ও জীবনচরিত, শিশু সাহিত্য, পাঠ্য বই ও অনুবাদ মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

৩. আমার দেখা নয়াচীন

লেখক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/oRe3Teo5ITE0/

বঙ্গবন্ধুর ১৯৫২ সালের রাজনৈতিক জীবনের প্রথমদিকে গণচীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা একটি ডায়েরির পুস্তকি রূপ।
১৯৫২ সালের ২-১২ই অক্টোবরে গণচীনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয় যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের ডেলিগেটরাও অংশ নেন। সেই সম্মেলনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আতাউর রহমান, মানিক মিয়া, খন্দকার মো. ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন। এটি বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফর। এই সফরে চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সে তুং এর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দেখা হয়। এসময় তিনি চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়াও ১৯৫৭ সালে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ-এইড দফতরের মন্ত্রী থাকাকালে পাকিস্তান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বার চীন ভ্রমণ করেন। চীন ভ্রমণের এসব অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি একটি ডায়েরি লেখেন যেখানে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান ও চীনের রাজনৈতিক-আর্থসামাজিক অবস্থার তুলনা, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চর্চা প্রভৃতি বিষয়াদি প্রাঞ্জলভাবে আলোচনা করেন। তিনি তাঁর এই লেখার নাম দেন নয়া চীন ভ্রমণ। এ ডায়েরিটিই ‘আমার দেখা নয়া চীন ‘ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।

৪. হিকমতে চীন

লেখক: বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/leEI5eee0lAl/

৫. সাক্ষাৎ চীন পরিচয় ইউনান ভ্রমণ-দর্শন

লেখক: শিশির ভট্টাচার্য্য (সম্পাদক)
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/0eeR3EoeIAIA/

চীন সরকারের আমন্ত্রণে আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট থেকে চীন ভ্রমণে গিয়েছিলেন পাঁচ জন। তাদের কয়েকজনের লেখা ভ্রমণকাহিনির সংকলন এই বই।

৬. ঘুরে এলাম চীন

লেখক: রেজাউল ইসলাম
বইয়ের লিংক: https://rkmri.co/Me2A2Me2IImN/

গরমে শসা খেলে যে উপকার পাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক: সূর্যের তাপ দিনকে দিন বেড়েই চলছে। বাইরের গরম বাতাসের কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতেই ভয় পাচ্ছেন। এ সময় খাবারের গরমিলের কারণে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন অসুখ। তাই যেসব খাবার শরীরে প্রশান্তি দেয়, সেসব খাবার খাওয়া দরকার। তবে এ সময় তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উত্তম। মোট কথা, গরমে খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতেই হবে। যেসব খাবার পানির ঘাটতি মেটায়, সেসব খাবার খেতে হবে বেশি বেশি।

তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। এমন গরমে শসা খেতে পারেন। এতে সুস্থ থাকা অনেকটাই সহজ হবে। শসার রয়েছে অনেক গুণ। শসাজুড়েই রয়েছে পানি। যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে। তাই তীব্র গরমে শসা খেলে শরীরে পানির চাহিদা অনেকাংশে মিটবে।

আবার গরমে হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পেটের এ পীড়ার সমাধান হতে পারে শসা। কারণ শসায় রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার। যা পেটের সমস্যা দূর করে থাকে। এ ছাড়া নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে।

শসা ত্বকের মসৃণতাও বৃদ্ধি করে। অনেক সময় বাইরে বের হলে সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব হয়। এ ক্ষেত্রে শসা কেটে ত্বকে লাগালে ভালো ফল পাওয়া যাবে। শসায় থাকা উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন ত্বকের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই প্রশান্তির জন্য শসা কেটে চোখের পাতায় দেন।

পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মাসুমা চৌধুরী বলেন, ‘শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে শসা হতে পারে উপকারী খাদ্য। এটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মাসুমা চৌধুরী মনে করেন, যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা শসা খেতে পারেন। শরীরের ওজন হ্রাস করতে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া শসায় পানির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। ফলে নিয়মিত শসা খেলে শরীরে পানির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শসা খাওয়া ছাড়া যাবে না।