দোহারের নুর-এ-আলম উজ্জ্বল হতে পারেন হাইকোর্টের বিচারপতি

মাহমুদুল হাসান সুমন,news39.net: হাইকোর্ট বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের তোড়জোড় চলছে। ‘নিয়োগযোগ্য’ ব্যক্তিদের নাম এখন বিবেচনার টেবিলে। কাদের নাম আছে তালিকায়, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নাকি আইনজীবী, এ নিয়ে বিচারঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বরাবরের মতোই রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্য ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা—এই তিন ক্যাটাগরি থেকে উচ্চ আদালত তথা হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি শিগগির হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্যে অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, আমিনুল হক হেলাল, আব্দুর রাজ্জাক রাজু, মো. মুজিবুর রহমান, বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া, এ বি এম নূর-এ আলম (উজ্জ্বল) ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার এম শফিকুল ইসলামের নাম আলোচিত হচ্ছে।

নুর-এ-আলম উজ্জ্বল ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ফজলে নুর তাপসের একান্ত সহযোগী। তিনি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া গ্রামের অধিবাসী।

তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৭-২০১৮ সালের কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এল.এল. বি. ডিগ্রি ও প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল. এল. এম. ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস এর জুনিয়র হিসেবে আইনপেশা শুরু করেন।

তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন ( লিয়াকত শিকদার ও নজরুল ইসলাম বাবু কমিটি) ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন উপকমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক কলাবাগান ক্রীড়াচক্র এবং সদস্য শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতির সংখ্যা ৮৪ জন। এর মধ্যে তিনজনকে অসদাচরণের অভিযোগে বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগে ১২ থেকে ১৬ জন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের নাম আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বাড়িতে ঢোকার সময় গাড়িচাপায় বৃদ্ধ নিহত

নবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কলাকোপা কোকিল প্যারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র সমিতির সহ সভাপতি মো. মাজেদ খন্দকার মানিক (৭২) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মানিক ওই বিদ্যালয়সংলগ্ন আব্দুস সালাম সাহেবের বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে নিজ বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। বাড়িতে ঢোকার সময় তাকে একটি গাড়িচাপা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এলাকাবাসী।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শুক্রবার ভোরে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মানিকের বাড়ি উপজেলার নোয়াদ্দা গ্রামে। শুক্রবার ওই বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সামসুদ্দোহা খন্দকার, কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল, কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক আহ্বায়ক শাহ আলম, যন্ত্রাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মনিরুজ্জামান তুহিন, নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালিদ হোসেন সুমন, কলাকোপা কোকিল প্যারী উচ্চ বিদ্যালয় সাবেক ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সালাম প্রমুখ।

তালশাঁসের এই গুণগুলো জানেন কি?

গ্রীষ্মকাল ফলের ঋতু। সময়ে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। দেশীয় গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে কাঁচা তাল অন্যতম, যা বছরের অল্প সময় পাওয়া যায়। কাঁচা তালের মধ্যে থাকা সুস্বাদু নরম জলীয় অংশ তালশাঁস নামে পরিচিত।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো মৌসুমি ফল শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। মৌসুমি ফল নির্দিষ্ট মৌসুমে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। গরমকালে তালের শাঁস শরীরের জন্য উপকারী।’

তালশাঁসের পুষ্টিগুণ

তালের শাঁসের প্রায় ৮০ শতাংশ পানি। এতে রয়েছে কার্বহাইড্রেট, অল্প পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট। রয়েছে  ভিটামিন এ, বি, সি এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক ইত্যাদি। আরও রয়েছে ফাইবার এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

উপকারিতা

  • গরমের কারণে আমাদের শরীর ঘেমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। তালের শাঁস শরীর ঠান্ডা করে এবং পানীয় অংশ শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
  • গরমে পানিশূন্যতার কারণে চুলকানি বা এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। গরমে খাদ্যতালিকায় তালের শাঁস রাখলে এই সমস্যা কমবে।
  • এতে রয়েছে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে গরমের ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীর সতেজ থাকে।
  • গরমের কারণে সানবার্ন হয়, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তালশাঁসের উপাদানগুলো এ সমস্যা প্রতিরোধ করে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গরমে শরীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এসব রোগ প্রতিহত হতে পারে তালশাঁস খেলে।
  • এটি খেলে হজমশক্তি বাড়ে। পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ হয়। আঁশ সমৃদ্ধ তালশাঁস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। পেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও কার্যকরী।
  • তালশাঁস লো-ক্যালরির খাবার। এতে পানি ও ফাইবার থাকায় পেট ভরিয়ে রাখে এবং ক্ষুধাভাব কমায়। এভাবে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • তালশাঁস খেলে মুখের অরুচি এবং বমি বমি ভাব দূর হয়।
  • তালশাঁসে থাকা ক্যালসিয়াস, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের অ্যালার্জি, পানি পড়া ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন থাকায় তালশাঁস রক্তশূন্যতা দূর করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি খেলে শরীরে নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হয়।
  • তালশাঁস লিভারের সুরক্ষায় কাজ করে। এটি লিভার থেকে ক্ষতিকর ও দূষিত পদার্থ বের করতে ভূমিকা রাখে।
  • তালশাঁস খেলে স্মৃতিশক্তি ভালো হয়, দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।
  • চুল পড়া রোধ করে চুলের মসৃণতা বাড়াতেও সাহায্য করে তালশাঁসের পুষ্টি উপাদানগুলো।

সতর্কতা

  • তালশাঁস নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে তা অতিরিক্ত খাওয়া হলে পেট গরম হয়ে পেট ব্যাথা, বমি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • যাদের কিডনির সমস্যা আছে তারা তালশাঁস খেলে শরীরে পটাশিয়াম বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনি রোগীরা খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী: নবাবগঞ্জে হলেও হয়নি দোহারে

মাহমুদুল হাসান সুমন: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায়। কিন্তু জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী পালিত হয়নি দোহার উপজেলায়। অনেকটা উপেক্ষিত হয়েছে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী।

নবাবগঞ্জ উপজেলার সাংস্কৃতিক সংগঠন নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমি (নাফা) শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ হল রুমে উদযাপন করে জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নাফার ব্যবস্থাপক লতিফা রহমান লতা।

নাফার সাধারণ সম্পাদক সায়মা রহমান তুলির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সংগঠনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় কবির জীবনী পাঠ, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, নজরুল সংগীতের মধ্যে দিয়ে প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মাঝে আলোচনা সভায় কবির সম্মুখ দেখা উপলব্ধির স্মৃতিচারণ করেন নাফার সভাপতি শফিউর রহমান তোতা। আরও বক্তব্য রাখেন পিকেবি স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক সুকদেব মন্ডল, অ্যাডভোকেট বাসুদেব রায় প্রমুখ।

কথা ও কাজের মাধ্যমে শিরক হয় যেভাবে

শিরক অর্থ হচ্ছেঅংশীদার, মিশ্রণ, সংমিশ্রণ, একটি বস্তুর মালিকানায় দুজনার অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা। 

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়- আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করাকে শিরক বলা হয়। আর মুশরিক অর্থ- যে আল্লাহর ক্ষমতায় অন্য কারো অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করল।

শিরকের বিবরণ

মানুষ বিভিন্ন কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে ফেলে এমন কিছু কাজ ও কথার বিবরণ তুলে ধরা হলো এখানে-

>> আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের যোগ্য মনে করে করা।

>> মানুষকে দেখানোর জন্য কোনও ইবাদত করা। যেমন- রিয়া অর্থাৎ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত বন্দেগি করা।

>> কোনও বুজুর্গ বা পীর সম্পর্কে এমন বিশ্বাস ও ধারণা রাখা যে তিনি সবসময় আমাদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন।

>>জোতির্বিদ, গণক, ঠাকুরদের কাছে অদৃষ্টের কথা জিগেস করা।

>>আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বা কিছুর নামে শপথ করা।

হজরত সাঈদ ইবনে আবু উবাইদাহ রহ: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা: এক ব্যক্তিকে এভাবে শপথ করতে শুনলেন, ‘না! এ কাবার শপথ।’ তখন ইবনে উমার রা: তাকে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করল, সে শিরক করল (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস-৩২৫১)।

>>কোনও পীর-বুজুর্গকে দূরদেশ থেকে ডাকা এবং মনে করা যে, তিনি তা শুনতে পেয়েছেন।

>>  কোনও পীর বুজুর্গ, জিন-পরী বা ভূতকে লাভ-লোকসানের মালিক মনে করা।

>> কোনও পীর বুজুর্গের কবরের কাছে গিয়ে সন্তান চাওয়া।

>> পীর বুজুর্গের কবরকে সিজদা করা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তুমি আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডেকো না। তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সব কিছু ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে (সূরা কাসাস, আয়াত ৮৮)।

>>কোনও পীর বুজুর্গের নামে শিরনি, সদকা বা মানত করা।

>> আল্লাহর আদেশ ছেড়ে অন্য কারো আদেশ বা সামাজিক প্রথা পালন করা।

>> মহররমের তাজিয়া মিছিল করা।

>> কোনও সময়, মুহূর্ত, দিন বা মাসকে অশুভ মনে করা।

>> কোনও ব্যক্তিকে সম্বোধন করে এভাবে বলা যে, উপরে খোদা নিচে আপনি।

>>কারও নামে কসম করা বা জিকির করা।

>> কোনও বুজুর্গের ছবিকে সম্মান করা বা কারো মূর্তি রাখা। (গুনাহের বিবরণ মুক্তির পথ, )

দোহারে মহিলা মাদ্রাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট: ৯ জন আহত, ৪ জনকে ঢাকা প্রেরণ

মো আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার: দোহারে চরলটাখোলা এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া দারুণ নাজাত মাদরাসা সংলগ্ন ৩৩ হাজার কেভির বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের বিস্ফোরণে মাদরাসা শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ ৯ জন আহত হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ ৪ শিক্ষার্থীকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। মূলত নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ভবন নির্মাণ না করায় এই দূর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানায়, বিকাল ৩টায় মাদরাসার ৪র্থ তলায় শিক্ষার্থীরা ভিজে কাপড় শুকাতে গেলে পাশ দিয়ে টানা ৩৩ হাজার কেভির লাইনের সাথে স্পর্শ হলে তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে অন্যরা এগিয়ে আসে। এ ঘটনায় ৯ জন আহত হয়। তাদেরকে প্রথমে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এর মধ্যে আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাদিয়া আক্তার (১৮), আমেনা সুলতানা (১৭), ফাতেমা আকতার(১৭), নুসাইবা(১৮) গুরুতর অসুস্থ হয়। তাদেরকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

দোহার পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, মাদরাসার কাছে বিকট শব্দ শুনে এগিয়ে যাই। এ সময় সেখানে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ ও কান্নাকাটি করছে দেখতে পাই। পরে ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

জামিয়া ইসলামিয়া দারুণ নাজাত মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, বিদ্যুতের লাইন থেকেই বিস্ফোরণ হয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে আল্লাহ রহমত করেছে। প্রাণনাশের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ এর ডিজিএম মো. সাদেক মিয়া বলেন, ঘটনা শুনেই প্রকৌশলীসহ অন্যদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। যাতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। তবে তাদের কোনো ত্রুটি নেই। রাস্তার পাশ দিয়ে যে সব সঞ্চালন লাইন প্রবহমান সেখানকার ভবন মালিকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিলো। অনেকেই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ভবন নির্মাণ করেনি। ফলে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নবাবগঞ্জে যুবলীগ নেতা রাজেশকে অব্যাহতি

দোহার, নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : ইয়াবাসহ আটক একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাজেশ খানকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা যুবলীগ।

বুধবার নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নূর আলম দলীয় স্বাক্ষরিত প্যাডে রাজেশকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে গালিমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেন।

এই ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম বলেন, রাজেশের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী একাধিক অসামাজিক কার্যক্রমের প্রমাণ রয়েছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে তাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দোহারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন: আটক ৭

আবু বকর, news39.net: ঢাকার দোহার উপজেলায় পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৭জনকে আটক করেছে কুতুবপুর নৌ পুলিশ। এসময় বালু ভর্তি একটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার (কাটার)ও আটক করে কুতুবপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। শুক্রবার (২৪ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দোহার উপজেলার মধুরচর এলাকায় পদ্মানদীতে অভিযান পরিচালনা করে নৌ পুলিশ। উদ্ধারকৃত লোড ড্রেজার ও বাল্কহেডের বাজার মূল্য আনুমানিক ৮৫ লক্ষ টাকা।

কুতুবপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, মধুরচর এলাকায় পদ্মানদীতে কাটার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। এবং সেখান থেকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ১টি লোড ড্রেজার(কাটার) মেশিন ও বালু ভর্তি ১টি বাল্কহেডসহ ৭ জনকে আটক করেছি। তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আটকৃতরা হলেন, ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার সৈজদ্দিন আকন কান্দি গ্রামের মৃত নুরুল হক আকনের ছেলে মামুন(৩৫), দোহার থানার মধুরচর এলাকার ওহেদ আলী শেখের ছেলে আব্দুল হাশেম শেখ(৫৫), বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট থানার উদয়পুর আরোয়াকান্দি গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ(৩৬), দোহার থানার কুলছুড়ি গ্রামের শেখ জয়নালের ছেলে মো. জুয়েল(৩০), পিরোজপুর জেলার নেছারবাদ থানার বলদিয়া তালূকদার বাড়ী গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন(৩২), বরিশাল জেলার মেহেদিগঞ্জ থানার চর ডাইয়া গ্রামের মৃত জামাল মুন্সির ছেলে মোঃ ইলিয়াস(৩০), বরিশাল জেলার মেহেদিগঞ্জ থানার পাতাবুনিয়া গ্রামের মৃত মজিদ খন্দকারের ছেলে ওমর ফারুক খন্দকার(৫৫)।

নবাবগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১

মাহমুদুল হাসান সুমন: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় আবারও সড়ক দূর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের কলাকোপা কোকিল প্যারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার নাম আব্দুল মাজেদ খন্দকার মানিক (৭১)। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলকোপা কোকিলপ্যারি উচ্চ বিদ্যালসংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পার হওয়ার সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আব্দুল মাজেদ খন্দকার মানিককে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গেছেন।

নিহত মাজেদ খন্দকার উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নের খন্দকার নোয়াদ্দা গ্রামের মরহুম খন্দকার আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি কলাকোপা কোকিল প্যারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সহসভাপতি ছিলেন।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ জালাল বলেন, এবিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

দোহারে বাকি না দেয়ায় কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

মো আল-আমিন ও শরিফ হাসান: ঢাকার দোহার উপজেলার রায়পাড়া ইউনিয়নের পালামগঞ্জ বাজারে বৃহস্পতিবার রাতে কুপিয়ে দুইজনকে হত্যাচেষ্টা হয়েছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কিছু উচ্ছ্র্ংখল যুবক পালামগঞ্জ বাজারের মুদি দোকানদার আব্দুল হালিমের দোকানে সিগারেট কিনতে আসে। এসময় আব্দুল হালিম টাকা চাইলে, তারা বলে বাকিতে দিতে। তিনি দিতে না চাইলে, তারা আব্দুল হালিমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে রক্ষা করতে পালামগঞ্জ বাজারের নৈশ প্রহরী শ্যামল দৌড়ে এলে, তাকেও তারা কুপিয়ে যখম করে। তাদের আর্তনাদ ও চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে, দুস্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদেরকে দ্রুত দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলেন।

শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল হালিমের অবস্থা আশংকাজনক। নৈশ প্রহরী শ্যামলের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তার অবস্থাও আশংকাজনক। দোহার থানা পুলিশ আব্দুল হালিমের দোকান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আসামীদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে। পালামগঞ্জ বাজারে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।