মিজানুর রহমান শমশেরীর কবিতা

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

শেষ কবিতা


শত বেদনার অঙ্কুর বুকে চলিনু বন্ধুগণ

যে কথা কখনো বলিতে পারি নি, বলি তা কিছুক্ষণ।

সেই শুভদিনে লুটাবো ধুলায়- শুনে রাখো মোর বাণী,

যারা ছিলে মোর বন্ধু সুদিনে- ফেলো না চোখের পানি।

অশ্রুতে নয়, ক্রন্দনে নয়, ভালোবাসা দিয়ে মোরে

সুজন বন্ধু তোমরা আমারে বেঁধে রেখো প্রেম-ডোরে।

যেখানে নরম ঘাসের সবুজে নিশীথে জোনাক জ্বলে

বিটপীর শাখে যেখানে পাখিরা অনন্ত কথা বলে,

যেখানে বাতাস ধীরে বহে ধীরে- সন্ধ্যা যেখানে আনে

বন্ধু আমার সুখের বাসর বেঁধে দিও সেইখানে।

যে রাতে চলিব সুদূরের পথে জ্বালিয়ে আগরবাতি

বন্ধু আমার বিদায়-শ্রাদ্ধ করে দিও রাতারাতি।

দিনের আলোকে যন্ত্রণা আনে, রাতের আঁধারে ঘুম,

জোছনার সাথে মঞ্জরীগুলো যখন খাইবে চুম,

গোসল করাতে হবে না বন্ধু, হবে না কাফন দিতে

কখনো তো আর আসিব না এই মানুষের পৃথিবীতে।

আতর-গোলাপ মাখিলে কী হবে, কবরে ঢাকিবে দেহ,

তোমরা যে মোর বন্ধু স্বজন যাইবে না সাথে কেহ।

 

বাসর শয়নে ঘুমুবো যখন, ঘুমুবো অহর্নিশি,

সে ঘুম ভাঙাতে যাবে না কখনো আজিকার প্রতিবেশী।

রাখি-বন্ধন খুলিবে বন্ধু, আর কিছু আনিবে না,

কী সুখে প্রহর কাটাবো সেখানে কেউ তাহা জানিবে না।

আকাশ মাটিতে ক্লান্ত বালক খেলেছি কত না খেলা,

সবকিছু তার ভুলে যাবো আমি- ভুলে যাবো এই বেলা।

আমি যে ঘুমুবো কবরের দেশে তবু তো আমার লাগি

তারকা ফুটিবে, চন্দ্র উঠিবে আকাশ রহিবে জাগি।

আমাকে খুঁজিয়া ক্লান্ত বাতাস ধানক্ষেতে দিবে নাড়া,

শিয়াল ডাকিবে কবরের পাশে, তবু তো দেবো না সাড়া।

 

পাষাণ গ্রথিতে বেঁধো না বন্ধু আমার কবরখানা,

শ্রাবণ-মেঘেরা ঢালে যদি জল, আহা কী যে সান্ত্বনা!

জোছনার সাথে ফোটে যদি কভু হাসনাহেনার দল,

নরম ঘাসের সবুজে সবুজে ভরিবে কবরতল।

ঝিঁঝির মেয়েরা কবরের পাশে গাহে যদি কভু গান,

ইঁদুর বেজিরা বুঝে নিবে তবু এখানে কবরস্থান।

আঁধার নিশীথে জ্বেলো না বন্ধু মোম কী মাটির দীপ,

আমি যে কখনো জাগিব না আর ঘুমিয়ে রহিব ক্লীব।

আসিব না আর তোমাদের সাথে কহিতে অনেক কথা

আমি যে বন্ধু বুকে টেনে নিব চিরন্তন নীরবতা।

 

রাতের আঁধারে ফুটিবে যখন আকাশে অনেক তারা

তারই সাথে মোর জেগে রবে কিছু ছোটো-খাটো বেদনারা।

মৌসুমি বায়ু আনে যদি কভু ফসলের কিছু তান,

তারই সাথে মোর শুনিবে বন্ধু জীবনের কিছু গান।

যে কথা শুনিতে জেগে রবে তুমি রাতের পরেতে রাত

ফাগুনের বনে পাখির কণ্ঠে শুনিবে অকস্মাৎ।

কেউ বুঝে নিবে, কেউ না বুঝে কাঁদিবে সেদিন জানি

তবু অনুরোধ কেঁদো না বন্ধু পুরোনো সে ব্যথা টানি।

যে ব্যথা ভুলিতে চলে গেছি আমি দূর হতে দূর দেশে

তোমরা সে কথা ভুলে যেও ভাই আমাকেই ভালোবেসে।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দরবান ভ্রমণ – নীলাচল ও মেঘলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

সবুজে নীলে আঁচলে বান্দরবান শহর ছাড়িয়ে নীলাচলের পথে উঠতে শুরু করলেই মনে হয়, আপনি আর স্রেফ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন...

নবাবগঞ্জের গ্রামগুলি | গ্রামের তালিকা

নবাবগঞ্জের গ্রামগুলি পদ্মা, ইছামতি ও কালিগঙ্গা এই তিন নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে ইছামতি এর প্রাণ, আর...

দোহারের গ্রামগুলি | গ্রামের তালিকা

দোহারের গ্রামগুলি, বদলে যাচ্ছে দ্রুত। গ্রামগুলো বড় হচ্ছে, এ গ্রাম ও গ্রাম মিলে এক হয়ে যাচ্ছে। যেখানে ছিল...

কুর্দি কারা? ইতিহাস ও পরিচয়

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এমন এক বিশাল জনপদ রয়েছে, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং সুদীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব...