ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের ছোট রামনাথপুর গ্রামে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বসত বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই হামলায় কনের বড় বোনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান মাঝি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবার দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার (২৫) জানান, গত ১০ই এপ্রিল দুপুর ১টায় তিনি দোহার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন—আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহজাহান মাঝি (৬৫) এবং খোকন মাঝির ছেলে রিফাত (১৮)।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘ এক বছর ধরে শাহজাহান মাঝি তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। তিনি রাজি না হওয়ায় শাহজাহান মাঝি রাজনৈতিক নেতাদের পাঠিয়ে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন এবং ব্ল্যাকমেইল করে বিয়েতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
পারভীন বলেন, “আমি বরিশালের মেয়ে, বর্তমানে দুলাভাইয়ের বাসায় থাকি। এক বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর এই এলাকায় এসে থাকছি। শাহজাহান মাঝি প্রতিনিয়ত আমাকে বিরক্ত করেন। বাসায় এসে বসে থাকেন, খেতে বা পানি পান করতেও বাধা দেন। আজ তুচ্ছ কথায় তিনি আমার বোন ও আমাকে মারধর করেন।”
ভুক্তভোগী পারভীনের বড় বোন সারমিন বেগম বলেন, “আমার বোনের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তারা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। আমি রাজি না হওয়ায় জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে হুমকি দেয়। শাহজাহান মাঝি নিজে বেকার, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এর আগেও দুই-তিনটি বিয়ে করেছেন। এক স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাড়িয়েছেন।”
সারমিন অভিযোগ করেন, “আজ আমাকে এবং আমার বোনকে রাস্তায় টেনে হিঁচড়ে ব্রিজের কাছে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। আমাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আমার ছোট বোনের আড়াই বছরের সন্তান রয়েছে, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে আমার স্বামী রিকশা চালিয়ে কষ্টে সংসার চালায়।”
স্থানীয় আদেল হাওলাদার বলেন, “আমরা শাহজাহান মাঝির সাথে কোনো সম্পর্ক রাখি না। আজ ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পর সে বাসায় এসে হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমি যদি আব্দুল কাদের মাঝির ছেলে হয়ে থাকি তাহলে কেউ কিছু করতে পারবে না।’ এরপর আমাদের মারধর করে।”
অভিযোগ বিষয়ে শাহজাহান মাঝি প্রথমে মন্তব্য করতে না চাইলেও পরে বলেন, “আমি অনেক আগে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আজ তাদের বাড়িতে গেলে তারা আমার দাড়ি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে এবং আমাকে মারধর করে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।” আর জায়গার ব্যপারে আমি কিছু জানিনা।
এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি মো. রেজাউল করিমকে তাৎক্ষণিক পাওয়া না গেলেও ডিউটি অফিসার এসআই আবু সাদেক বলেন, “শাহজাহান মাঝির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনো ঘটনাস্থলে তদন্তে যাওয়া হয়নি।”
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
