নিজস্ব প্রতিবেদক: দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া নাশকতা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অংশ হিসেবে দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার একাধিক দল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দোহার থানায় গ্রেপ্তার ৭ জন: দোহার থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
আব্দুল কুদ্দুস (৫৭): সক্রিয় সদস্য, দোহার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
রিপন ভূঁইয়া (৫০): সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মুকসুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
মো. খলিল শিকদার (৩৬): সক্রিয় সদস্য, বিলাসপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।
মো. সারোয়ার আলম হানিফ (৩৫): সাবেক পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগ।
আব্দুল খালেক মোল্লা (৫০): সভাপতি, বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
মো. বিশা মাতবর (৬০): সক্রিয় সদস্য, বিলাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
মো. বায়েজিদ হোসেন বাদল চৌকিদার (৫৯): সক্রিয় সদস্য, দোহার উপজেলা যুবলীগ।
পুলিশ জানায়, সকালে তাদের দোহার থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করার সময় আসামিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।
গ্রেফতার সারোয়ার হানিফের ভাই শাহীন জানান, ভাই ২০১৪ সালের পর থেকে কোন প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত নয়। তিনি বাড়ীতে থাকেন, পারিবারিক বিষয়াদি দেখাশোনা করেন। স্থানীয় উঠতি চাদাবাজ ও দালালদের কারণে আমাদের এই ভোগান্তি।
নবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার ৫ জন: নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
নজির চৌধুরী (৪৫): সভাপতি, ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ, কৈলাইল ইউনিয়ন।
এস এম আক্তার হোসেন (৫৫): সহসভাপতি, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের, আগলা ইউনিয়ন।
মো. নুরুল ইসলাম (৬০): আহ্বায়ক, বক্সনগর ইউনিয়ন তাঁতীলীগ।
মীর খোকন (৪০): সাধারণ সম্পাদক, বান্দুরা ইউনিয়ন যুবলীগ।
লিটন মাদবর (৪৯): সদস্য, কৈলাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই শুভ আহমেদ, এসআই দেলোয়ার, এসআই মনিরুজ্জামান ও এএসআই তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল অংশ নেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত নাশকতা, সহিংসতা ও হামলার অভিযোগে মামলা রয়েছে। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দোহার সার্কেলের জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সুনির্দিষ্ট মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
