ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ঘটেশ্বর পশ্চিম পাড়া এলাকায় ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মর্মান্তিক অভিযোগ ওঠেছে ৬০ বছর বয়সী জসিম মিয়ার বিরুদ্ধে। গত ১১ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে জসিম শিশুটিকে পুতুল কেনার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের সাততলা বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
শিশুটির বাবা জানান, তিনি ও তার স্ত্রী একটি গার্মেন্টস কারখানায় স্টোনের কাজ করেন। শুক্রবার সকালে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মেয়েকে এক আত্মীয়ের কাছে রেখে তিনি কাজে যান। রাত ১০টায় বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজা শুরু করেন। পরে স্থানীয় ঘাটেশ্বর প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। সচেতন হওয়ার পর মেয়ে জসিমের কৃতকর্মের কথা জানায়।
শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা (নম্বর-১৪) দায়ের করেছেন। থানার উপ-পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত জসিম ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে গ্রেফতারের জন্য তৎপরতা চলছে। পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে ঢামেকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার শারীরিক ও মানসিক পরিচর্যা চলছে।
শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচার ও দোষীর দ্রুত গ্রেফতার চেয়ে বিক্ষোভ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।
শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেরানীগঞ্জে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে সমাজে সচেতনতা বাড়ানো, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
