ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরে খেলছে রেকর্ড ৪৮টি দল। এই মেগা টুর্নামেন্ট নিয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ও ভালোবাসার গল্পগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ফ্রান্স: ধারাবাহিকতা ও শক্তির প্রতীক
বড় মঞ্চে ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাসী খেলা সবসময়ই নজরকাড়া। জিনেদিন জিদান থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে—প্রতিটি প্রজন্মেই তারা বিশ্বমানের ফুটবলার উপহার দিয়েছে। ২০১৮ সালের শিরোপা জয় এবং ২০২২ সালের ফাইনাল খেলা প্রমাণ করে ফরাসিদের সাফল্য শুধু তারকানির্ভর নয়, বরং দলগত শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার ফসল। এবারও স্কোয়াডের গভীরতা বিচারে ফ্রান্স শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
আর্জেন্টিনা: নীল-সাদা এক আবেগের নাম
২০০৬ সালে মামার আনা উপহারের দুটি পতাকার মধ্য থেকে না বুঝেই বেছে নেওয়া হয়েছিল আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রং। শৈশবের সেই ছোট্ট মুহূর্তটিই আজ রূপ নিয়েছে অটুট ভালোবাসায়। জয়-পরাজয়ের চেয়ে এই রঙের প্রতি টানটাই মূল। এবারও লিওনেল মেসি ও পুরো দলের ওপর আস্থা রেখে সমর্থকেরা স্বপ্ন দেখছেন—নীল-সাদাতেই আবারও রঙিন হবে বিশ্বমঞ্চ।
ব্রাজিল: হেক্সা জয়ের নতুন মিশন
ফুটবল বোঝার পর থেকেই ব্রাজিলের দৃষ্টিনন্দন আক্রমণাত্মক ফুটবল ও পাসিং শৈলী তরুণদের মুগ্ধ করে আসছে। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহোর মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান দলে নেইমাররা যোগাচ্ছেন জয়ের অনুপ্রেরণা। যেকোনো বিশ্বকাপে ব্রাজিল সবসময়ই এক ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। সমর্থকদের আশা, ২০২৬ সালেই পূর্ণ হবে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ (হেক্সা) জয়ের স্বপ্ন।
জার্মানি: বুদ্ধিদীপ্ত ও গোছানো ফুটবল
জার্মান ফুটবলের মূল শক্তি তাদের শৃঙ্খলা, দলগত সমন্বয় এবং কখনো হার না মানার মানসিকতা। দলে থমাস মুলারের মতো অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিদীপ্ত খেলোয়াড়ের উপস্থিতি তরুণ সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করে। ক্যাম্পাসগুলোতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার আধিপত্য থাকলেও জার্মান সমর্থকদের উদ্দীপনাও কম নয়। এবার তারা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়ে শিরোপার শক্ত দাবিদার হিসেবে লড়বে।
পর্তুগাল: রোনালদোর শেষ ট্রফির স্বপ্ন
পর্তুগালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও দেশের জন্য লড়ে যাওয়ার মানসিকতা অনন্য। ভক্তদের একমাত্র চাওয়া—কিংবদন্তি এই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি যেন একটি সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে পূর্ণতা পায়।
