নবীর দেশে রমজান

834

নবীর দেশে রমজান। রমজান এমন একটি পূণ্যময় মহিমাময় ও বরকতময় মাস যাকে আল্লাহ তাআলা অন্য এগারটি মাসের উপর শ্রেষ্ঠত্য দান করেছেন বিভিন্ন ভাবে।

কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-شهر رمضان الذي أنزل فيه القرآن هدى للناس وبينات من الهدى والفرقان রমজান মাস, যার মধ্যে বিশ্ব মানবের জন্য পথ প্রদর্শক এবং সু-পথের উজ্জ্বল নিদর্শন ও(হক্ব ও বাতিলের) প্রভেদকারী কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে(বাক্বারা-১৮৫)

হাদিসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেন যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরোজাগুলো খুলে দেয়া হয়, এবং জাহান্নামের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়।(বুখারী-১৮৯৯+৩২৭৭, মুসলিম-১০৭৯)

রমজানের শ্রেষ্ঠত্বের আরো কিছু দিকঃ-

*এ মাসে রোজাদারদের জন্য ফেরেস্তারা ইফতার করা পর্যন্ত গুনাহ মাফ চাইতে থাকে।

*রোজাদারের মুখে উপাস থাকার কারণে যে গন্ধের সৃষ্টি হয় তা আল্লাহর নিকট মেসকে আম্বরের চেয়েও প্রিয়।

*এ মাসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে প্রতিদিন নতুন করে সাজান।

*এ মাসে রয়েছে এমন একটি রজনি(লাইলাতুল ক্বদর)যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

*এ মাসের শেষ রাত্রিতে আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের সবাইকে ক্ষমা প্রদর্শন করে থাকেন।

*এ মাসে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে তার বান্দাদের মুক্তি দিয়ে থাকেন যা রমজানের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে।

নবীর দেশে রমজানের প্রস্তুতি

রমজান আসার এক পক্ষ কাল আগে থেকেই এখানে বেশ সাজ সাজ রব পড়ে যায় রমজানকে ঘিরে।একে অপরকে রমজানের অভিবাধন জানানো শুরু হয়।সময় যত ঘনিয়ে আসে তত এটা বৃদ্ধি পেতে থাকে।একে অপরের সাথে দেখা হলে সালামের পর شهر عليك مبارك(রমজান মাস তোমার জন্য বরকতময় হোক)বলে সম্ভাষণ বিনিময় করে।

আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেছেন যেব্যক্তি দয়া করেনা সে দয়া প্রাপ্ত হয়না(বুখারি+মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে এসেছেঃ-তোমরা জমিনে(আশ পাশে) যারা আছে তাদের উপর দয়া কর,আকাশে যিনি আছেন(আল্লাহ)তিনি তোমাদের উপর রহম ও দয়া করবেন।

আরেক হাদিসের বর্ণনা মতে আল্লাহ বান্দাকে ততক্ষণ সাহায্য করবেন, যতক্ষণ বান্দা তার মুসলিম ভাইকে সাহায্য করবে।

এই হাদিস গুলোর উপর আমল এখানে রমজান আসলে যথেষ্ট চোখে পড়ে।

এই দেশে বিভিন্ন কোম্পানী তাদের ভোজ্যপণ্যের উপর রমজানকে উপলক্ষ্য করে বিভিন্ন ছাড় দিয়ে থাকে।কেউবা দামে ছাড় কেউ পরিমাণে বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের এই সুবিধা দিয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে দেখা যায় তার উলটো।পণ্যের মানের উৎকৃষ্টতা যেন বজায় থাকে সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়।যাতে রোজা রেখে মানুষ কষ্ট না পায়।বাদশাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভোজ্য সামগ্রী সম্বলিত গিফট বক্স(যাতে চাল তৈল চিনি চাপাতা দুধ ইত্যাদী থাকে)পুরো দেশের সর্বত্র যারা মুহতাজ তাদের মাঝে বন্টন করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন এনজিও গুলো ও বড় বড় ব্যবসায়ী রমজান কে সামনে রেখে তাদের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নিয়ে থাকে।যাতে মানুষ সুন্দরভাবে রমজানের এই মহান মাসটিতে নির্বিঘ্নে সিয়াম সাধনা করতে পারে।

রমজানকে ঘিরে দাওয়াতি কাজ

রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন ভাবে অনেকে নিজেদেরকে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত করে।বিভিন্ন রকমের হ্যান্ডবিল,লিফলেট,ছোট পুস্তিকা,সহী হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত সকাল সন্ধ্যার দোয়ার ছোট কার্ড ইত্যাদী ছাপিয়ে মসজিদে মসজিদে বিতরণ, লোকালয়ে বা ব্যক্তি পর্যায়ে বিতরণ করে থাকে।আর এ ধারা পুরো রমজান চলতে থাকে।বিভিন্ন বিষয় বস্তু নিয়ে এসব ছাপানো হয়।যেমন রমজানের শুরুতে রমজানের ফজীলত,রোজার ফজীলত,রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ নিয়ে।এর পর রোজাদারগণ সাধারণত কি কি ভূল করে থাকেন,রমজানে কি করা উচিত কি না করা উচিত।ছোট পুস্তিকাগুলো রমজান ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাপানো হয়।এর পর অর্ধ রমজান অতিক্রান্ত হলে লাইলাতুল ক্বদরের ফজীলত নিয়ে।আবার যখন ঈদ ঘনিয়ে আসবে তখন জাকাতুল ফিতর এর আহকাম সম্পর্কে,রমজান শেষ হলে কি করণীয় ইত্যাদী বিষয় নিয়ে পুরো রমজানজুড়ে থাকে এই দাওয়াতি কাজ।এই কাজ যে, কোন বড় ব্যবসায়ী করে থাকেন তা নয়।বরং একেবারে সাধারণ মানুষ এ কাজগুলো করে থাকেন।আর প্রেস কতৃপক্ষও রমজানকে ঘিরে এসব দাওয়াতি ছাপার কাজের উপর বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে।আফসোসের বিষয় হলো একাজটা আমাদের দেশে একেবারেই নাই।ধনি গরিব সবাই অনুপস্থিত এ কাজে।অথচ দ্বীনি মাসআলা ও আহকামের ব্যপারে আমাদের দেশের মানুষ এখানকার চেয়ে অনেক পিছিয়ে।আমাদের দেশেই অধিক প্রয়োজন এমন দাওয়াতি কাজের।

হাদিসে পাকে এসেছেঃ-ভাল কাজের দিকে পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর ন্যয় সাওয়াব পাবে।

নবীর দেশে ইফতার করানোর প্রতিযোগিতা

হাদিসে পাকে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করালো সে ততটুকু সাওয়াব পাবে যতটুকু রোজাদার রোজা রেখে পেয়েছে, অথচ রোজাদারের সাওয়াব থেকে একটুও কমানো হবেনা।(তিরমিযি,আহমাদ,নাসাঈ)

অন্য এক হাদিসে এসেছে সালমান রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে তা দ্বারা তার গুনাহ মাফ হবে, এবং এটা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে, এবং সে রোজাদারের পরিমান সাওয়াব পাবে অথচ রোজাদারের সাওয়াব ও কম হবেনা।তখন সাহাবাগন প্রশ্ন করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আমাদের অনেকের কাছেই রোজাদারকে পর্যাপ্তভাবে ইফতার করানোর জিনিষ থাকেনা তাহলে আমরা কি করি?তখন রাসুল সাঃ উত্তরে বললেন, আল্লাহ তাআলা এই সাওয়াব তাকেও দান করবেন যে একটুখানি মাঠা বা একটা খেজুর বা একগ্লাস পানি দিয়েও কাউকে ইফতার করালো।যে ব্যক্তি কোন রোজাদারের পিপাসা নিবারণ করল, আল্লাহ তাকে আমার হাউজে কাউসার থেকে এমন পানীয় পান করাবেন যা পান করে সে কখনো পিপাসিত হবেনা জান্নাতে যাওয়া পর্যন্ত।

অন্য খবর  কমল হালদারের কবিতা: অবাক ব্যাপার

রমজান শুরু হওয়ার সপ্তাহ দশদিন আগে থেকেই এই দেশে রাস্তার পাশে কিংবা বাজারে মার্কেটে শোভা পায় সারি সারি তাবু।অনেকগুলো আবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।এগুলো হল রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য তৈরী করা।এসব তাবুতে ব্যবস্থা করা হয় সর্বোৎকৃষ্টতম ইফতারের।খেজুর, বোতলজাত পানি,জুস, মাঠা,ফল,কফি,চিকেন বিরিয়ানী,এলাকা ভিত্তিক ঘরোয়া খাবার ইত্যাদী।একেক তাবুতে শ থেকে শুরু করে হাজারো রোজাদার ইফতার করে থাকেন।বিভিন্ন তাবুতে আবার কিছু ইসলামী প্রশ্ন নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়।যেখানে পুরুস্কারের ব্যবস্থা হিসেবে ওমরায় যাওয়ার টিকেট ইত্যাদী থাকে।এছাড়া মসজিদ গুলোতে তো ব্যবস্থা থাকেই।সংখ্যায় গুটিকয়েক মসজিদ পাওয়া যাবে যেখানে ইফতারের ব্যবস্থা থাকেনা।বা যেখানে মানুষজন খুঁজে পাওয়া যায়না।

অনেকে মানুষকে দাওয়াত দিয়ে থাকে নিজ এলাকায় ইফতার করার জন্য।ভীনদেশী শ্রমিক ভায়েরা ইফতার বা রাতের খাবার কখনো কিনতে হয়না পুরো রমজান মাসে।

আর এসব কাজ পুরোপুরি নিজস্ব উদ্দ্যোগে।এখানে সরকারের কোন হাত নেই।

সবচেয়ে আশ্চয্যের কথা হলো যারা এ কাজগুলোর অর্থ যোগানদাতা তাদের কেউ চেনেনা, কেউ জানেনা কে তাদের ইফতার করাচ্ছে!তারা কোন বাহবা পেতে বা নামের জন্য এ কাজ করছেনা।শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতেই তাদের এই প্রচেষ্টা।যা আমাদের দেশে খুবই বিরল।কাজের চেয়ে প্রচার বেশি আমাদের দেশে।আল্লাহ তাদের এই নেক কাজকে ক্ববুল

করুন।আমীন।

হারামাইনের ইফতার

একই অবস্থা মক্কা ও মদীনায় হারামাইনের ভেতরে।মক্কাবাসি ও মদীনাবাসি ইফতারের পূর্বে তাদের নিজস্ব লোকজন নিয়ে বাসা ও বাইরে থেকে ইফতার সামগ্রী নিয়ে হারামাইনে অবস্থানরত রোজাদারদের ইফতার করাতে আসে।একেকজন একেক দিক দিয়ে এই খেদমত করে যায়।প্রতি দিন হাজার হাজার রোজাদার এভাবে ইফতার করছেন হারামাইনে।কেউ কেউ যে নিজের ইফতার নিজে নিয়ে আসছেননা তা কিন্তু না।ইফতারের কিছুক্ষণ পূর্বে শুরু হয়ে যায় খেজুর বন্টন।তবে হারামাইনের ভেতরে ভারি ইফতার নিয়ে কতৃপক্ষ প্রবেশ করতে দেননা।আবার বড় বড় কোম্পানীগুলো থেকে ছোট ছোট খাবারের গিফট বক্স বিতরণ হয় ইফতারের আগে পরে।মক্কা মদীনা দু জায়গায়ই দেখা যায় এই দৃশ্য।ভাল লাগে ওদের এ আপ্যায়ন দেখে আল্লাহর মেহমানদের।

মিসকীনদের আহারের ব্যবস্থা

কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-ويطعمون الطعام على حبه مسكينا ويتيما وأسيرا.إنما نطعمكم لوجه الله لا نريد منكم جزاء ولا شكورا.إنا نخاف من ربنايوما عبوسا قمطريرا.فوقاهم الله شر ذلك اليوم ولقاهم نضرة وسرورا.وجزاهم بما صبروا جنة وحريرا.এবং তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও অভাবগ্রস্ত,ইয়াতিম ও বন্দীকে আহার্য দান করে,(এবং বলেঃ)শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে খাদ্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে কোন প্রতিদান চাইনা,কৃতজ্ঞতাও নয়।আমরা আশঙ্কা করি আমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে এক ভীতিপ্রদ ভয়ঙ্কর দিনের।পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করবেন সে দিবসের অনিষ্ট হতে এবং তাদেরকে উৎফুল্লতা ও আনন্দ দান করবেন।আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কার স্বরূপ তাদেরকে জান্নাত ও রেশমী পোষাক দান করা হবে।(সুরা ইনসান-৮-১২)

আমাদের সালফে সালেহীন অন্য অনেক ইবাদতের উপর মানুষকে আহার করানোকে প্রাধান্য দিতেন।চাই সেটা মিসকীনকে খাওয়ানো হোক কিংবা কোন নেককার আল্লাহর বান্দাকে।কারণ কাউকে খাওয়ানোর ব্যপারে সে মিসকীন বা মুহতাজ হওয়া জরুরী নয়।এ ব্যপারে রাসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন-হে মানুষ সকল, তোমরা সালামের প্রচার কর, এবং অপরকে খানা খাওয়াও, আত্মীয়তা রক্ষা কর, নিশী রজনিতে নামাজ আদায় কর যখন মানুষ নিদ্রায় বিভোর, অতঃপর নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ কর।(আহমাদ, তিরমিযী)

সালাফের মধ্যে এক মনিষী বলেন আমার নিকট আমার সাথীদের দশজনকে ডেকে তাদের চাহিদানুসারে খানা খাওয়ানো ইসমাঈল আঃ এর বংশোদ্ভুত দশ জন দাসকে আজাদ করার চেয়ে উত্তম।

নবীর দেশে এই ব্যপারটি চোখে পড়ার মত।বিশেষ করে রমজানে এর আমল খুব বেড়ে যায়।আবার এরা আহার্য বস্তু পাঠিয়ে নিজেকে জাহির করাটাও পছন্দ করেনা।এর কারণ দুটো।এক-নিজেকে প্রকাশ না করা।দুই-যার জন্য পাঠালো তাকে লজ্জায় না ফেলা।কারণ অনেকে আছে যারা মুহতাজ ঠিকই কিন্তু মানুষের কাছ থেকে নেয়াকে বিশেষ করে পরিচিত জনদের কাছ থেকে নিতে লজ্জাবোধ করে।আমার অফিস বস একবার কাউকে না পেয়ে গাড়ী দিয়ে এক ইন্ডিয়ান কে সাথে দিয়ে আমার দ্বারা এক পরিবারের জন্য চাল আঁটা সহ বেশ অনেক কিছু পাঠালেন এবং বলে দিলেন কে পাঠিয়েছে তা বলার দরকার নেই।অনেকে মনে করে থাকে যে এই দেশে গরিব মিসকীন নাই।বাস্তবতা আসলে ভিন্ন।এখানে অনেকে আছে যাদের আমরাও সাহায্য করে থাকি।

দান খয়রাত

কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছেঃ-وما تقد موا لأنفسكم من خير تجدوه عند الله তোমরা স্ব-স্ব জীবনের জন্য যে সৎকর্ম অগ্রে প্রেরণ করেছো; তা আল্লাহর নিকট প্রাপ্ত হবে(বাক্বারা-১১০) হাদিসে পাকে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ বর্ণনা করেন রাসুল সাঃ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন।আর রমজানে যখন জিব্রীল আঃ উনার সাথে সাক্ষাতে আসতেন তখন তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন।রাসুল সাঃ বহমান বাতাসের চেয়েও বেশী দানশীল ছিলেন।(বুখারী,মুসলিম)

অন্য খবর  এবারের গ্রন্থমেলায় আসছে রাজু আহমেদের ‘তোমার মৃত্যু দেখবো’

অন্য এক হাদিসে এসেছে প্রত্যেক মানুষ বিচার দিবসে তার দান খয়রাতের ছায়ার নীচে থাকবে বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত।(ইবনে হেব্বান, হাকেম।হাদিসটি সহী)

সুবহানাল্লাহ!যে দিন কোন ছায়া থাকবেনা আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতিত, সেদিন আল্লাহর ইচ্ছায় দান সাদক্বাকারীদের জন্য তাদের দান ছায়ারূপে অবতীর্ণ হবে।

এসব হাদিসের দিকে এবং রমজানে একে সত্তরের সাওয়াবের দিকে দৃষ্টি রেখে আল্লাহর নেক বান্দারা তাদের দুহাত খুলে দান খয়রাত করে থাকেন রমজান মাসে।আমাদের দেশেও আল্লাহর নেক বান্দারা দান খয়রাতে মনোযোগি হন।কিন্তু পার্থক্য হলো আমাদের দেশে দানের চেয়ে ডাকঢোল পিটানো হয় বেশী।অথচ হাদিসে দিক নির্দেশনা এসেছে যে এমন ভাবে দান কর যেন ডান হাতে দান করলে বাম হাত টের না পায়।কুরআনে কারিমে সুরা বাক্বারায় ২৬৪নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-হে মুমিনগণ কৃপা প্রকাশ ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দানগুলো ব্যর্থ করে ফেলো না,সে ব্যক্তির ন্যায় যে নিজের ধন ব্যয় করে লোক দেখানোর জন্য।

এ দেশের মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এত বেশী পরিমান দান করেন কিন্তু দানের সময় শর্ত জুড়ে দেন যেন তার নাম প্রকাশ না হয়।এবংকি রশিদ নেয়ার সময় রশিদে নাম পর্যন্ত লিখান না।লিখান(فاعل الخير (একজন দাতা।আমাদের দেশে কি এরকম কল্পনা করতে পারি আমরা!আমাকে একবার এক মহিলা বেশ কিছু সৌদী রিয়াল দিয়ে বললো তুমি সাওয়াব পাবে আমার এই টাকাগুলি বন্টন করে দাও।এবং সে কিছু পরিবারের নাম দিল।সাথে বলে দিল, দেখ তাদেরকে আমার পরিচয় জানাবেনা।এবং তোমার জানা কোন দুঃস্থ পরিবার থাকলে তাদেরও দিতে পার।দেখুন নেক আমলের ক্ষেত্রে ওদের মহিলারাও কত সতর্ক!

নবীর দেশে রমজানের শেষ দশ রাত

আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণীত তিনি বলেন রমজানের শেষ দশদিন আসলে রাসুল সাঃ রাতকে জীবিত করতেন(পুরো রাত জ্বেগে ইবাদত করতেন)এবং পরিবারের সবাইকে জ্বাগিয়ে রাখতেন এবং বিছানাপত্র গুটিয়ে রাখতেন।(বুখারি,মুসলিম)অর্থাৎ ইবাদতে খুব বেশী মনোনিবেশ করতেন নিজে এবং নিজের পরিবারকেও অধিক মনোনিবেশ করাতেন।

রাসুল সাঃ সাহাবাদের শেষ দশ রাতের মধ্যে লাইলাতুল ক্বদর খুঁজে নিতে বলেছেন।এব্যপারে উলামায়ে কিরাম ও হাদিস বিশারদগণের মতভেদ রয়েছে যে লাইলাতুল ক্বদর কবে।তবে শেষ দশ রজনীতে হওয়া নিশ্চিত।তার মধ্যে রাসুল সাঃ বেজোড় রাতগুলোর মধ্যেও তালাস করতে বলেছেন।

কুরআনে কারিমে সুরায়ে ক্বদরে ইরশাদ হয়েছে-ليلة القدر خير من ألف شهر (ক্বদর রজনি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম)

এছাড়া হাদিসে পাকে এসেছে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করবে আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।(বুখারি,মুসলিম) এক রাত ইবাদত করে হাজার রাতের বিনিময় কে না নিতে চাইবে।

তাই নবীর দেশে রমজানের শেষ দশ রাতে কেউই ঘুমায়না।খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে যারা হয়তো এক থেকে দেড় ঘন্টা ঘুমিয়ে নেয়।তারাবির নামাজ শেষ হতে প্রায় সাড়ে নয়টা বা দশটা বেজে যায়।হারামাইনে আরো বেশী দেরি হয়। কারণ এখানে তারাবির নামাজে ক্বিরাত পড়া হয় ধীরে ধীরে তারতিলের সাথে।এর পর কেউ কেউ মসজিদে বসে কুরআন তিলাওয়াত করে।রমজান মাস হল কুরানের মাস।(এরা প্রতিটি নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে প্রায় অনেকেই মসজিদে কুরআন তিলাওয়াতে বসে যায়,একমাত্র মাগরিব ছাড়া।কারণ মাগরিবে ইফতারের পর সবাই একটু ক্লান্তি অনুভব করে।)এর পর ঘরে এসে কিছু খেয়ে কিছুক্ষণ আরাম করতেই ক্বিয়ামুল্লাইলের সময় হয়ে যায়।কোন মসজিদে রাত একটা থেকে কোথাও দুটা কোথাও আড়াইটায় কিয়ামুল্লাইল শুরু হয়।হারামাইনে শুরু হয় রাত একটায়।এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগে তা শেষ হতে।তার পর সাহরী খাওয়ার প্রস্তুতি।তাই কেউ ঘুমানোর সুযোগই পায়না।সাহরী খেয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে তার পর সবাই ঘুমাতে যায়।এভাবেই কাটে এ দেশে রমজানের শেষ দশ রাত।

পরিশেষে

রমজান একটি মাস যার জন্য আল্লাহর নেক বান্দারা পুরো এগার মাস উম্মুখ হয়ে অপেক্ষা করেন।আবার রমজান শেষ হয়ে গেলে তারা এর বিয়োগে দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে কাঁদতে থাকেন। পুরুস্কার পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত হই।কিন্তু পুরুস্কারটা যদি খোদ প্রধানমন্ত্রির হাতে পাওয়া হয় তাইলে কেমন সৌভাগ্যবান মনে হবে নিজেকে!!!রোজা এমন একটি আমল যার বিনিময় বা পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে দিবেন বলে হাদিসে পাকে রাসুল সাঃ ইরশাদ করেছেন। এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান আর কি হতে পারে!!!

আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণীত রাসুল সাঃ বলেছেনঃ-আল্লাহ তাআলা বলেন আদম সন্তানের প্রত্যেকটি আমল তার জন্য একমাত্র রোজা ছাড়া।রোজা শুধুই আমার জন্য এবং এর বিনিময় আমি স্বয়ং দেবো।(বুখারি,মুসলিম)অর্থাৎ নামাজ, জাকাত, হজ্ব ইত্যাদী যদি না আদায় করে তবে সবাই জানবে।কিন্তু রোজা এমন যে বান্দা তা আদায় করছে কিনা তা একমাত্র আল্লাহই জানতে পারেন।

অন্য এক হাদিসে এসেছে-দূর্ভাগা সে, যে রমজান পেয়েও গুনাহ মাফ করে নিতে পারলোনা।

আল্লাহ তাআলা আমদের সবাইকে মহান এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে মাগফেরাত ও নাজাতের ভাগি হয়ে জান্নাত হাসিল করার তৌফীক্ব দান করুন।আমীন।

و صلى الله و سلم على نبينا محمد وعلى آله و صحبه أجمعين.

আপনার মতামত দিন