নবাবগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত ৩০

৫০ জনের নামে মামলা

ঢাকার নবাবগঞ্জে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের সভা আহ্বানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান সহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুল মান্নানের গাড়ি ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ই এপ্রিল শনিবার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের গরিবপুর খেলার মাঠে সভা ডাকেন সাবেক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী  এবং ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নানের নেতাকর্মীরা। অন্য দিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খোন্দকার আবু আশফাকের অনুসারীরা একই স্থানে সভা আহ্বান করলে সভার আগের রাত থেকেই দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার কাশিমপুর এলাকা দিয়ে আব্দুল মান্নানের গাড়িবহর শতাধিক মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে গরিবপুর মাঠে যাওয়ার সময় খন্দকার আবু আশফাক গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে ধাওয়া করলে আব্দুল মান্নানের নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় আব্দুল মান্নানসহ তার দেহরক্ষী, ড্রাইভারসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়। পরে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি  স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকসহ প্রায় ৫০ জনকে আসামী করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি।

নাজমুল হুদাকে দোহারে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা

আবু নাঈম মোঃ তাইমিয়া

বিএনপির প্রথমিক সদস্য পদ ফিরে পাওয়ার পর গত ৮ই এপ্রিল শুক্রবার প্রথমবারের মতো দোহারে আসেন নাজমুল হুদা। নাজমুল হুদা দোহারে আসলে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবকদল ও মূলদল সহ দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। নেতাকর্মীরা শতাধিক মোটরসাইকেলে করে মহরার মাধ্যমে নাজমুল হুদাকে নিয়ে দোহার উপজেলার বিভিন্ন এলকায় ঘুরে বেড়ান। আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শাইনপুকুরে তার নিজ বাসায় আলোচনা সভা করেন। নাজমুল হুদাকে গত ৬ই এপ্রিল দলের প্রথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “ম্যাডাম আমাকে ভালোবাসেন এবং আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএনপির সাথে আছি এবং থাকবো।” তিনি দোহার-নবাবগঞ্জের জনগনকে ধন্যবাদ জানান এবং দোহার-নবাবগঞ্জের জনগনের পাশে তিনে সবসময় থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

ঝনকী-শিমুলিয়া গ্রামে গভীর রাতে ডাকাতি

মো. রাতুল ইসলাম : ঢাকা জেলার দোহার থানার শিমুলিয়া গ্রামে গভীর রাতে এক দল ডাকাত মহড়া দিচ্ছে, এতো এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গত নয় তারিখ, রবিবার রাত ১.০০ টায় ২০-৩০ জন সদস্যর একদল ডাকাত শিমুলিয়ার কালাম ফকিরের বাড়িতে ডাকাতি করার জন্য ঐ বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা করে কিন্তু বাড়ির লোকজন সজাগ হয়ে যায়, এবং তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করে, এবং চলে যাওয়ার সময় তারা দুই-তিন রাউন্ড ফাকা গুলি করে।এতে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সেই সুযোগে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দল দুই থেকে তিন বার হামলা চালায়, কিন্তু সফল হতে পারে নি ও শেষ পর্যন্ত তারা অন্য এক বাড়িতে ডাকাতি করে চলে যায়।এবং এর কিছুক্ষন পরেই পুলিশের গাড়ি উপস্থিত হয়ে মহরা দিতে থাকে।এই ঘটনার পর ঘুমাতে পারেনি এলাকাবাসী, এবং দোহারের মানুষ রাতে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছে।তাই তারা আইনসৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।

দোহারে দিনে দুপুরে যুবক কে গুলি করে হত্যা

আবু নাঈম মোঃ তাইমিয়া ♦ ৯ই এপ্রিল শনিবার দোহারের নারিশা চৈতাপাতর এলাকায় দিনের বেলা প্রকাশ্যে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, দোহার উপজেলার দক্ষিন মধুরখোলা গ্রামের আবদুল মোতালেব এর ছেলে যুবক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম ভুট্টু (৩০) নারিশা চৈতাপাতরে তিনদিন যাবৎ তার এক আত্মীয় এর বাসায় বিয়ে খেতে আসেন। গতকাল বেলা ২ টার দিকে মটরসাইকেল করে দুই জন লোক এসে তাকে বিয়েবাড়ী থেকে ডেকে হাসপাতাল বিল্ডিং এর কাছে যায় । সেখানে ভুট্টুর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত ডাক্টার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাকিল নামে তার আত্মীয় এর কাছ থেকে জানা যায়, নিহত ভুট্টু নিয়মিত ঢাকা থাকতেন। কিছু দিন আগে আর্সেনিক মুক্ত নলকূপ বসাতে তিনি দোহারে আসেন। তার বক্তব্য অনুসারে ভুট্টু কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলেন না এবং কারো সাথে কোন রকম বিরোধও ছিল না।

নিহত ভুট্টুর বাবা ও মা তার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বার বার জ্ঞান হাড়িয়ে ফেলছিলেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।

নবাবগন্জে ছাত্রলীগের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ: আহত ২৫, গ্রেফতার ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ♦ সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে দোহার থানা আওয়ামী লীগের যৌথসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ সেন্টু, দোহার পৌরসভা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুস সালাম শুকুর সহ প্রায় দুই শতাধিক মটরসাইকেল নিয়ে তিন শত নেতাকর্মী যখন নবাবগঞ্জ উপজেলার মাঝিরকান্দা দিয়ে দোহার প্রবেশের সময়ে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ তাদের বেধরক লাঠিচার্য করে এবং ফাঁকাগুলি ছোড়ে। এতে ছাত্রলীগের প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর ভাবে আহত হয় এবং পৌরসভা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন রাজীব সহ প্রায় ১২ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ২৩টি মটরসাইকেল আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য সেখানে দোহার থানা, নবাবগঞ্জ থানা ও ঢাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরে পুলিশ মাঝিরকান্দা সড়ক বন্ধ করে দেয় ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানা যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং জনমনে আতংক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন তৎক্ষনিক ভাবে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জয়পাড়া কলেজ ছাত্রনেতা সাইফুল কবির বাবু জানান, “দোহার থানা আওয়ামী লীগের যৌথসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে মাঝিরকান্দা দিয়ে দোহার ঢোকার মুহূর্তে অর্তকিতে পুলিশ আমাদের হামলা করে মারাত্বক ভাবে আহত করে।” বাবু আরো বলেন, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এবং এজন্য কলেজ ছাত্রনেতা মোঃ রাজীব শরীফ কে অভিযুক্ত করেন।

টেলিফোনে যোগাযোগ করলে মোঃ রাজীব শরীফ প্রথমে কোন মন্তব্য করতে রাজী হন নি।, পরবর্তীতে তিনি বলেন আমাদের প্রতিবেদককে জানান, “প্রশাসন তার নিজের গতিতে চলছে। প্রশাসনের কাজে বাধা হলেতো প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেই। আর মাননীয় মন্ত্রীমহোদয় অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। তিনি কোন প্রকার ঝামেলা বা সংঘর্ষ পছন্দ করেন না।” তবে যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা তার মামলার আসামী বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারী জয়পাড়া কলেজ ছাত্রনেতা মোঃ রাজীব শরীফ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন।

থানায় গ্রেফতারকৃতদের মুক্ত করতে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান দোহার থানায় গিয়েছেন।

জয়পাড়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু

মো: সোহেল : দোহার উপজেলার জয়পাড়ায় থানার মোড়ে মোটর সাইকেলের ধাক্কায় এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত ৫ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটায় লটাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ সামসুদ্দিন মেঘু (৫২) নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে দ্রুত বেগে চালিয়ে আসা একটি মোটর সাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়েগেলে সেখান কার চিকিৎসকগন তার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকগন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাহ্রায় ইভটিজারের বিচার

আবু নাইম ♦ দোহারের নয়াবড়ী ইউনিয়নের বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ই এপ্রিল মঙ্গলবার এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল কমিটির সদস্য, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও সকল শিক্ষক সহ প্রায় দুই হাজার লোকের উপস্থিতিতে বিচার করা হয় ইভটিজার সবুজের। ৩রা এপ্রিল রোববার সকাল ৭ টার দিকে স্কুলে প্রাইভেট পড়তে আসা এক ছাত্রীকে উক্ত্যাক্ত করে সবুজ। সবুজ নয়াবাড়ী ইউনিয়নের নয়াডাঙ্গী গ্রামের ছেলে। তার পিতা আব্দুল আজিজ এই স্কুলের কেরানী হওয়ার ফলে সবুজ সেই প্রভাবের সুবাদে নিয়মিত স্কুলের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তার নামে ইভটিজিং এর আট থেকে দশটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সবাই তার বিচার দাবি করেন। বিচারে রায় হয় সবুজকে জুতার মালা গলায় দিয়ে ক্লাসে ক্লাসে ঘুরানো হবে। ক্ষমা চাওয়ায় ও বিশেষ বিবেচনায় এবারের  মত তাকে হালকা পিটুনি দেয়া হয়, ও তাকে নিয়ে যায় তার এক আত্বীয়। বিচারে বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়কে ইভটিজিং মুক্ত রাখার প্রতিজ্ঞা করা হয়।

বেগম আয়েশা পাইলটে শিক্ষক-কর্মচারী ধর্মঘট

কামরুজ্জামান টুটুল/ মো: সোহেল : ২০০৯ সালের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত পে-স্কেলের দাবীতে বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের এই নীতিগত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুন-অর রশিদ। তাদের দাবীর প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এক-নায়কতান্ত্রিকতা, স্বেচ্ছাচারী মনোভাব, উদাসীনতা এবং অবহেলা প্রদর্শন করছেন বলে তারা মনে করেন। যার ফলে শিক্ষক-কর্মচারী কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তারা বলেন যে, বিদ্যালয়ের ফান্ডে পর্যাপ্ত পরিমানের অর্থ থাকা সত্বেও তাদের দাবী পূরণ করা হচ্ছে না। তাদের দাবী মেনে নেওয়ার জন্য পর পর পাঁচ বার সভা ডাকা সত্বেও নানা অজুহাতে সভায় উপস্থিত না থেকে সভা পন্ড করেছেন। অতি সম্প্রতি, চলতি মাসের দুই তারিখে তিনি নিজে সভা ডাকেন, কিন্তু ব্যাক্তিগত সমস্যা দেখিয়ে প্রধানশিক্ষিকা সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়াও গত তিন তারিখে সকল শিক্ষক-কর্মচারী, সকল পরিচালনা কমিটির সদস্য থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, থানার ওসির স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনপত্র দেওয়া হয় যাতে উল্লেখ করা হয় যে তাদের দাবী পাঁচ তারিখের মধ্যে মেনে না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। তারা অভিযোগ করেন যে, সকল শিক্ষক-কর্মচারী, পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য থানা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশ আমলে না নিয়ে ‘স্বেচ্ছাচারী’ মনোভাব প্রদর্শন করছেন বলে তাদের অভিমত। তারা আরও অভিযোগ করেন যে তিনি বিদ্যালয়ে ব্যাপক দূর্নীতি করেছেন। বিদ্যালয়ের অডিট কমিটির নিকট গত চার বছরের আয়-ব্যয় হিসাব দিতে পারেন নি। পরিচালনা কমিটির সদস্য জনাব শাজাহান মিয়া বলেন, তিনি কোন হিসাবই দেখাতে পারেন নি এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির কাছে কোন হিসাবও উপস্থাপন করেন নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দূনীর্তির উদাহারন টেনে বলেন, ‘এক মিটিং-এ প্রধান শিক্ষিকা ৭৭০টি ভাউচার পাশ করান যা অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।‘ এছাড়া প্রধান শিক্ষিকার নিয়োগ অবৈধ ও বিধি সম্মত নয় বলে তারা অভিমত পেশ করেন। জনাব শাজাহান মিয়া আরও বলেন যে, তার বিরুদ্ধে দূ্‌নীর্তির ব্যাপারটি পরিচালনা কমিটি খতিয়ে দেখছে।

প্রধান শিক্ষিকা কুলসুম বেগমের  অভিমত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, এই আন্দোলন অযৌক্তিক। মেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয় এমন কোন কিছুই তিনি চান না। তিনি বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দোহার থানার অন্য যেকোন বিদ্যালয় থেকে বেশী আর বিদ্যালয়ের ফান্ডে পর্যাপ্ত পরিমানে অর্থ নেই।‘ তিনি আরও বলেন যে ছাত্রীদের বেতন পরপর দুইবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি ছাত্রীদের বেতন আর বাড়াতে পারবেন না এবং শিক্ষকদের বেতন পূর্বের পে-স্কেল অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে, উক্ত সভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা তিনি মেনে নেবেন এবং উক্ত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

ছাত্রীদের অভিমত জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন যে, যদি শিক্ষকদের দাবী ন্যায্য হয় তবে তা মেনে নিয়ে আমাদের সুষ্ঠুভাবে পড়ালেখার পরিবেশ  যাতে তৈরি হয় বিদ্যালয় সেদিকে নজর দিবে। দশম শ্রেণীর ছাত্রীরা জানান যে, তাদের বেতন বার বার বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের বেতন যাতে আর বৃদ্ধি না করে কমানো হয়, এবং ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে জানা গেছে ছয় তারিখের মিটিং-এ যা পাঁচ তারিখে হবার কথা ছিল সেখানে বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষিকা, পরিচালনা কমিটির ও শিক্ষকদের মিটিং-এর পর শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী মেনে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নতিতে তারা মনোযোগ দিতে তাকে নিদের্শ দেন।

জয়পাড়ায় অসহনীয় যানজট

মো: রাতুল ইসলাম ♦ দোহারের প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া পূর্ব বাজারস্থ কলেজ মোড়ে প্রতিনিয়ত তীব্র যানযটের কারনে অসহনীয় ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। মোড়ের উত্তরে জয়পাড়া কলেজ, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মধুপ্রভাতী কিন্ডারগার্টেন, পশ্চিমে জয়পাড়া পাইলট স্কুল ও বেগম আয়েশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্বে উপজেলা মার্কেট, পরিষদ এবং হাসপাতাল এবং দক্ষিনে তানশীর ও অক্সফোর্ড ক্যাডেট স্কুল। এছাড়া এ মোড়কে কেন্দ্র করে রয়েছে প্রায় ১০টি কোচিং সেন্টার এবং জয়পাড়া পূর্ব বাজার, স্থানটির গুরুত্বের কারনে এখানে প্রতিদিনই হাজার হাজার লোক চলাফেরা করে। এছাড়া অপ্রশস্ত রাস্তা এবং অত্যাধিক রিক্সা, ট্রাক ও ইজি বাইকের কারনে সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট।

এতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অপচয় হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত ছোটো-খাটো দূর্ঘটনা ঘটেই চলছে। বর্তমানে ভোগান্তির মাত্রা চরমে উঠেছে যখন রাস্তা খুড়ে ড্রেন নির্মান চলছে; এছাড়া ড্রেনের পাইপগুলো সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে রাস্তার উপরে, এতে যান-বাহন চলাচল করতে পারছে না ঠিকমতো। জনগনের প্রত্যাশা প্রশাসন যেন এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে, যাতে এই তীব্র যানজট থেকে সবাই রক্ষা পায়।

নয়াবাড়িতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে শিশু আহত

মো: জাকির হোসেন ♦ গত ৫ ই এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় ছিড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে নয় বছরের শিশু আজিজুল। প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায নয়াবাড়ি ইউনিয়নের আন্তা গ্রামে অধিবাসী মো: মালুর ছোট ছেলে আজিজুল তাদের বাড়ির পাশের জমিতে খেলতে যায়। বেলা তখন দুপুর ২টা। খেলার এক পর্যায়ে জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তার স্পর্শ করে। তারে বিদ্যুৎ থাকায় আজিজুল তাতে আক্রান্ত হয়, এবং সে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে আজিজুলের শরীর অসাড় হয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পড় তার শরীর কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তারপর তাকে উপজেলা স্বাস্থা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়ার পরে তা ঠিক না করায় এলাকাবাসী বিদ্যুৎকর্মীদের দোষারোপ করেন। অপর দিকে বিদ্যুৎ কর্মীরা তাদের কম জনবলের জন্য এই ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করে।