দোহার নবাবগঞ্জের কাঁচা বাজারে দামে আগুন

স্টাফ রিপোর্টার

দোহার নবাবগঞ্জের নিত্য প্রয়োজনীয় সবজীর বাজার অস্থিশীল হয়ে উঠেছে। গত কয়েকদিনে শাক-সবজীর বাজার মূল্য হটাৎ করে কয়েক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচা মরিচের মূল্য কয়েকদিনের ব্যবধানে ৪০ টাকা কেজি থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আজ সকালে ধোয়াইর বাজারে এই মূল্যে বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ। কাঁচা মরিচের সাথে সাথে দাম বেড়েছে সকল শাক সবজীর দাম।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল তলিয়ে গেছে বিভিন্ন শাক-সবজীর ক্ষেত। যার ফল ভোগ করছেন এই এলাকার সাধারন মানুষ। বিভিন্ন সবজী বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায় গত কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দামের এই বৃদ্ধি বলে মনে করেন তারা।

আজ দোহার-নবাবগঞ্জের  বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০-২৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে ছিল আলু ১৭ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, পেঁপে ১৬ থেকে ২০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, লতি ৩০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙা ৬০ টাকা, ধুঁন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া মাঝারি আকারের প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচকলা হালি ১২ থেকে ২০ টাকা।

ঈদের সামনে শেষ সময়ে ব্যস্ত দোহার-নবাবগঞ্জের লুঙ্গি কারিগরেরা

মোহাম্মদ মামুন

ঈদকে সামনে  রেখে সব পোষাকের পাশাপাশি লুঙ্গির চাহিদা বেড়ে যায়  ব্যাপক হারে। পুরুষের জন্য লুঙ্গি হচ্ছে একমাত্র আরামের পোষাক।  পূর্বে সাধারানত বয়স্ক লোকেরা লুঙ্গি পরিধন করলেও, এখন সব বয়ষের ছেলেরাই ঈদে পাঞ্জাবির সাথে ফ্যাশনের জন্য ব্যবহার করছে লুঙ্গি।

তাই ঈদকে সামনে  রেখে লুঙ্গি বুনানোর কারিগরদের  কাজের যেন শেষ নেই। দেশের  বিভিন্ন স্থানে লুঙ্গি বুনানো হয়, কিন্তু দোহার নবাবগঞ্জের কারিগরদের বুনানো লুঙ্গির চাহিদা সারা দেশে একটু বেশি। কারণ এখানকার কারিগরেরা অত্যন্ত যত্ন  সহকারে ও উন্নত মানের সুতার শৈল্পিক বুননে লুঙ্গি বুনে থাকে। এ লুঙ্গিগুলো পাকা রঙের, আকারে বড়, সঠিক মাপের এবং  অন্যান্য লুঙ্গির চাইতে অধিক টেকসই ও আরামদায়ক।

বিলুপ্তির পথে হলেও দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এখনো লুঙ্গি বুনানো হয়। দোহারের জয়পাড়া, মালিকান্দা ও রাইপাড়া, নবাবগঞ্জের বাগমারা, বাহ্রা, দিঘিরপার, খানিপুর ও বান্দুরার আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখতে পেলাম লুঙ্গি বুনানোর কারিগরেরা খুবই ব্যস্ত। এ বছর রমজানের শুরুতে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ায় তাদের কাজের চাপ  আরো বেড়ে গেছে, দিন রাত ২৪ ঘন্টায় কাজে ব্যস্ত তারা। নারী-পরুষ,  এমন কি পরিবারের ছোটরাও এখন লুঙ্গি বুনানোর কাজে সাহায্য করতে ব্যস্ত।

লুঙ্গি বুনানোর  কারিগরদের কাছ থেকে জানতে পারলাম, এসব লুঙ্গি তৈরি হওয়ার পর শিবরামপুর, নিউমার্কেট ও বাবুরহাট হয়ে চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া জয়পাড়া ও নবাবগঞ্জের লুঙ্গির দোকান গুলোতেও স্থানীয় লুঙ্গির চাহিদাই বেশি। তবে এবছর সুতার  দাম বেশি হওয়ায় লুঙ্গির  দাম কিছুটা বেশি।
Lungi

ছবি: লুঙ্গি বুনাতে ব্যস্ত তাঁতী

দোহারে হত্যা ও বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ২ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার মাহমুদপুর ইউনিয়ন এর চরপুরুলিয়া গ্রামে আসমা বেগম (৩৭) নামে এক গৃহবধুকে মর্মান্তিকভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পর নিহতকে এসিড দিয়ে পুরো মুখমণ্ডল ও দেহকে ঝলসে দিয়ে পার্শ্ববর্তী চরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়। নিহতের স্বামীর নাম ইদ্রিস আলী। পারিবারিক কলহের কারণে এ হত্যা বলে প্রতিবেশীরা জানান। ইদ্রিস আলীর আরও এক স্ত্রী ঢাকায় থাকেন। ঈদ পালনের উদ্দেশ্যে তারা রবিবার বাড়িতে আসলে এ ঘটনা ঘটে। ইদ্রিস আলী ও তার আরেক স্ত্রী পলাতক রয়েছে।

অপর এক ঘটনায়  মাহমুদপুর ইউনিয়ন এর চরকুসুমহাটীতে নানা বাড়ী বেড়াতে এসে আল-আমীন (৭) নামে এক শিশু পানিতে ডুবে থাকা বিদ্যুৎ এর তারে স্পৃষ্ট হয়ে ও পানিতে ডুবে মারা যায়। আল-আমীনের পিতার নাম শেখ জব্বার। চরে পানি আসায় সেখানে কলা গাছের ভেলায় চড়তে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আল-আমীন কে দোহার থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে: ব্যা. নাজমুল হুদা

স্টাফ রিপোর্টার : সোমবার হয়ে গেল  দোহার থানা বি এন পি’র উদ্যোগে ধোয়াইর  মদীনাতুল উলুম কওমিয়া মাদ্রাসাতে বিশাল কলেরবে ও সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বি এন পি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য  ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এতে সভাপতিত্ব করেন দোহার থানা বি এন পি’র আহবায়ক জনাব কামরুল হুদা।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দোহার থানা বি এন পি ও এর অঙ্গসংগঠন। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শাইনপুকুর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রায় ১২০টি মোটর সাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠান স্থলে আসেন। প্রায় ৪০০০ হাজার নেতাকর্মী ও আগত অতিথিদের উপস্থিতে বিকাল ৫ টায় হাফেয নজরুল ইসলামের কোরআন তেল্যাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে সমাপ্ত হয়।

প্রথমভাগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল এবং দ্বিতীয়ভাগে ছিল প্রধান অতিথি ও সভাপত্তির বক্তব্য। দোয়া পরিচালনা করেন কুসুমহাটি ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান হাফেয আঃ ওয়াহাব দোহারী । দোয়ায় দেশ,জাতি,বি এন পি, বেগম খালেদা জিয়া ও নাজমুল হুদার কল্যাণ কামনা করা  হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে সভাপতির বক্তব্যে জনাব কামরুল হুদা দলীয় নেতাকর্মী সহ দোহার থানাবাসীকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ব্যাঃ নাজমুল হুদা দলীয় নেতাকর্মীদের আরও বেশী ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে দলীয় ঐক্যকে শক্তিশালী ও সুসংহত করার প্রতি জোর দেন। এছাড়া সংকীর্ণ মানুসিকতার উরধে উঠে আগামী দিনে ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। এছাড়া যে কেউ দেশ ও মানুষ বাঁচানোর স্বার্থে জাতীয়তাবাদী পতাকায় আসতে চাইলে তাকেও বরণ করার ঘোষণা দেন। আগামী দিনে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেন।

৪০ বছরের ইতিহাসে দোহারে এত সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি: অ্যাড আ. মান্নান খান

স্টাফ রিপোর্টার: সোমবার দোহার উপজেলাধীন ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাতে ভিজিএফ এর চাউল বিতরণ করেন গৄহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাড আঃ মান্নান খান। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুসুমহাটি ইউনিয়নে

এক বক্তব্যে তিনি বলেন ৪০ বছরের ইতিহাসে দোহারে এত সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। কার্ড বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ভি জি এফ কার্ড গুলো এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানরা মিলে করেছেন। এখানে কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চালান হয়নি। তিনি আরও বলেন কোন সরকারই ঈদের আগে জনগণকে চাউল দেয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বিগত ৩ বছর যাবত দোহার- নবাবগঞ্জবাসীর জন্য আমি চাল নিয়ে আসছি।

এলাকার রাস্তাঘাটের দুরবস্থা ও জনদুরভগের ব্যাপারে তিনি বলেন বর্ষার সময় বিধায় কাজ করা হচ্ছে না। বর্ষা চলে গেলে অতি দ্রুত কাজ করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা ইউ এন ও, ওসি, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, কুসুমহাটি আওয়ামীলীগ নেতা আঃ কাদের মণ্ডল ও স্থানীয় চেয়ারম্যান হাফেয আঃ ওয়াহাব দোহারী। 

তিনি মোট ভি জি এফ ১৪৭০০টি কার্ডে চাল বিতরণ করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি  বেলা ৯.০০ ঘটিকা মুকসেদপুর ইউনিয়ন এর মৌরা বাজারে ১৪০০ টি কার্ডে, বেলা ৯.১৫ ঘটিকা নারিশা ইউনিয়ন এর ইউ পি ভবনে ১৭৫০ টি কার্ডে ,বেলা ৯.৪৫ ঘটিকা সুতারপারা ইউনিয়ন এর ইউ পি ভবনে ১৬৩০ টি কার্ডে ,বেলা ১০.১৫ ঘটিকা বিলাশপুর ইউনিয়ন পদ্মা হাই স্কুল ভবনে ১৩০০ টি কার্ডে ,বেলা ১০.৪৫ ঘটিকা মাহমুদপুর ইউনিয়ন এর ইউ পি ভবনে ১২৩০ টি কার্ডে ,বেলা ১১.১৫ ঘটিকা রাইপারা ইউনিয়ন এর ইউ পি ভবনে ১৬৬০ টি কার্ডে ,বেলা ১১.৪৫ ঘটিকা কুসুমহাটি ইউনিয়ন কার্তিকপুর স্কুল ভবনে ১৪২০ টি কার্ডে ,বেলা ১২.০০ ঘটিকা নয়াবাড়ি ইউনিয়ন এর ইউ পি ভবনে ১৩১০ টি কার্ডে  এবং বেলা ১২.৩০ ঘটিকা দোহার পৌরসভার  পৌর ভবনে ৩০০০ টি কার্ডে চাল বিতরণ করেন।

দোহারে ৩জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম: লুটপাট ও ভাংচুর

মোঃ ফারুক আহমেদ ♦ ঢাকার দোহার উপজেলার চরজয়পাড়া গ্রামে দুস্কৃতকারীরা ৩জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট দোহার উপজেলার চর জয়পাড়া গ্রামে জিল্লর রহমানের বাড়িতে ৪-৫ জন দুস্কৃতকারীরা প্রবেশ করে লাল মিয়া(৫১),তার স্ত্রী শিউলি বেগম(২৬),মেয়ে লায়মা(৫)কে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আসবাবপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এঘটনায় থানায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে।
এব্যাপারে দোহার থানার ওসি শেখ বশির আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

দোহার নবাবগঞ্জের সুই সুতার কারিগররা রাতদিন ব্যস্ত

স্টাফ রিপোর্টার ♦ সামনে আসছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদে সবাই নতুন জামা কাপড় পড়বে এটাই সবার চায়। একারনেই দোহার-নবাবগঞ্জের সুই সুতার কারিগররা রাতদিন ব্যস্ত থাকছে ঈদের কাজ নিয়ে। তাদের চোখে ঘুম নেই। নেই খাওয়ার সময়। আর ঈদ উপলক্ষ্যে দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি দর্জির দোকানে কাজের চাপ অনেক বেশী।

এই দুই উপজেলার প্রতিটি পাড়া –মহল্লার টেইর্লাসের দোকানে কর্মচারীরা রাতভর কাজ করে। একটানা চলতে থাকে তাদের কাজ। নতুন কাপড় কাটাকাটি, একের পর এক কাপড় সাজানো ইত্যাদি করতে করতেই কেটে যাচ্ছে তাদের সময়। এই সব দোকানে শুধু নতুন কাপড়ের গন্ধ। যা দিয়ে দর্জিরা তৈরি করছেন আর্কষনীয় সব পোষাক।

দর্জির দোকানে তৈরি করা এই সব পোষাকের সেলাই অনেক ভাল এবং মাপটা সঠিক হয় বলে জানিয়েছেন—আসিফ নামে এক গ্রাহক। তাছাড়া এই সব কাপড়ে ক্রেতার ইচ্ছা ও চাহিদামতো কাজ ও ডিজাইন করা যায়। যেখানে থাকে নিজের স্বাতন্ত্র্যতা ও ফ্যাশন স্টাইল। এমন লোক অনেক আছেন যারা প্রতি ঈদে একের অধিক ড্রেস বানান। আর এটা প্রতিষ্ঠিত যে দোহার নবাবগঞ্জের মানুষ একটু বেশীই ফ্যাসন সচেতন ও আধুনিকতামুখী। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের ঈদে সেলাইয়ের মুজুরিটা একটু বেশীই বলে মনে করেন গ্রাহকরা। তবে দর্জিদের মতে ঈদের সময় মজুরিটা একটু বেশি হয় বলে তারা এ সময় অতি ব্যাস্ত থাকেন।

বাজারে কাপড়ের দামটা একটু বেশী হওয়ায় এবার গ্রাহক চাহিদা সামান্য কম বলে মনে করেন টেইলার্স   মালিকরা এখন আর নতুন কোন অর্ডার নিচ্ছেন না। আর পরিচিত লোক ছাড়া তারা আর কোন নতুন অর্ডার নিবেন না বলে তারা জানান।

দোহার নবাবগঞ্জে পালন হচ্ছে না রমজানের পবিত্রতা

স্টাফ রিপোর্টার: কালের পরিক্রমায় আবারও এসেছে মাহে রমজান। রমযানে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক ইবাদত, যা মহান আল্লাহতায়ালার সরাসরি নির্দেশ আর রমজানের আরও একটি দিক হল সংযম। কথা,কাজের সংযম। এই মাসে সব কিছুতেই একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আর এভাবেই এবাদতের মাধ্যমে রক্ষা করা হয় এই মাসের আদব বা পবিত্রতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় দোহার নবাবগঞ্জে রক্ষা করা হচ্ছে না এই মাসের পবিত্রতা। দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিউজ ৩৯ এর পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, বিভিন্ন হোটেল, ফার্স্টফুডের দোকানে বিভিন্ন আকর্ষনীয় খাবার বিক্রি করা হচ্ছে খোলামেলা ভাবে। নেই কোন পর্দার ব্যবস্থা। এর ফলে রোজাদারদের চলাচলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এই সব স্থানে সকাল থেকেই অন্য মাসের মতই বিক্রয় করা হচ্ছে বিভিন্ন খাবার। এ বিষয়ে দোকান ও হোটেল মালিকদের সাথে কথা বলে জানায়, তারা খুব তাড়াতাড়ি পর্দার ব্যবস্থা করবেন। তাদেরকে আগে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনি।

নিউজ ৩৯ এর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অশ্লীল সিনেমার ব্যাপারে প্রতিবেদন করা হলেও এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। এতে সিনেমা হল মালিকরা আরও বেশি বেপরোয়া।  দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার সিনেমা হলগুলোতে এই রমযানেও মাইকিং করে আরও উৎসাহে প্রদর্শিত হচ্ছে অশ্লিল সিনেমা। আর এই সব ছবিতে রয়েছে পূর্ণভাবে পরণোগ্রাফী ও মাত্রারিক্ত অশ্লীল পোস্টার। যা টানানো হয়েছে দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানসহ বিশেষ করে স্কুল-কলেজের দেয়ালে। যেখানে চোখ যায় সেখানেই এই সব অশ্লীল পোস্টার। এই রমজান মাসে এই ধরনের পোস্টার কেউ প্রত্যাশা করে নাই। ঈদ উপলক্ষে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েরা নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসে পরছেন বিপাকে। রাস্তার এই সব অশ্লীল পোস্টার দেখে যেমন লজ্জা পাচ্ছেন অভিভাবকরা তেমনি তাদের ছেলে মেয়েরা। প্রশাষন এই ব্যাপাড়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ফলে নষ্ট হচ্ছে রমজানের পবিত্রতা। মানুষের রোজার হক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই সব অশ্লীল সিনেমার পোস্টার এবং খোলামেলা খাবার বিক্রয়ের কারনে। প্রশাসন কি এর পরও নিশ্চুপ থাকবেন এটাই জনগণ হিসেবে সকলের অভিমত?

নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় চিরনিদ্রায় শায়িত খন্দকার আলী আব্বাস

ফারুক আহমেদ ♦ নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন প্রখ্যাত বামপন্থি নেতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, খন্দকার আলী আব্বাস। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভীড় করে প্রিয় নেতাকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি খন্দকার আলী আব্বাস গত বুধবার বিকাল ৪ টায় মিরপুর ডেলটা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া……….. রাজিউন)। মৃত্যুবরণ করার পর লাশটি মোহাম্মদপুর বাবর রোডে লাল মাটিয়া ব্লোকে নিয়ে তারাবি নামাজের শেষে জানাজা সম্পূর্ণ করা হয়।  জানাজার শেষে বারডেম হাসপাতালে মর্গে তার লাশ রাখ হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায়  নিহতের গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার  শহীদ মিনার চত্বরে শ্রদ্ধানিবেদন শেষে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় নিকটততম আত্মীয়স্বজন, গ্রামের লোকসহ হাজার হাজার লোক জানাযায় শরীক হন।

সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি খন্দকার আলী আব্বাস (৬৬) দীর্ঘদিন যাবত ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মিরপুর ডেলটা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, আত্মীয়স্বজন ও হাজার হাজার নেতাকর্মী ও  শুভকাঙ্খী রেখে গেছেন।

তার রাজনৈতিক জীবনে প্রথমে ন্যাপ ভাষানীর কৃষক সমিতি পরে সাম্যবাদীদলের সাধারণ সম্পাদক নিবার্চিত হন। এর পর ১৯৯২সালে ওয়ার্কার্স পার্টি, ইউনাইটেট কমিউনিষ্টলীগ ও সাম্যবাদীদলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কার্যকরি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ছিলেন। দোহার নবাবগঞ্জের ছিল প্রাণপ্রিয় নেতা।  তিনি ছিলেন আজীবন সংগ্রামী নেতা। শোষিত, নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের  জন্য সারা জীবন কাজ করে গেছেন। ক্ষমতার মোহ তাকে কোন দিনই র্স্পশ করতে পারেনি। নিজের জন্য কিছু না করে অপরের জন্য নিবেদীত প্রাণ ছিল।

তার মৃত্যুতে নবাবগঞ্জে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাব, বামপন্থি রাজনীতি সংগঠন, সামাজিক সংগঠনসহ সব স্তরের মানুষ ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন জানান।

দাউদপুর থেকে তুইতালের একমাত্র রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য

মোঃ কাইয়ুম খান, নবাবগঞ্জ ♦ দাউদপুর বাজার থেকে তুইতাল বাংলাবাজার যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আজ মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। উন্নত যোগাযোগের এই যুগেও রাস্তাটি এখনো ইটের।

নবাবগঞ্জ উপজেলার অতি পুরাতন একটি বাজার হলো দাউদপুর বাজার। এই বাজারের উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। গত ১৫/১৬ দিনের লাগাতার বর্ষনের ফলে দাউদপুর বাজার সংলগ্ন ইটের রাস্তাটি ভেঙ্গে যায়, অথচ মেম্বার বা চেয়ারম্যানের এ ব্যাপারে এখনও কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায় নি।

তুইতাল বাংলাবাজার থেকে নদী পথে বান্দুরা যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় দাউদপুরের এ রাস্তাটির ব্যস্ততা দিনদিন বৃদ্ধি পায়, ফলে যাতায়াত করে রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক, পিকআপভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের শতশত যানবাহন। এর আগে একবার ভেঙ্গে গেলে স্থানীয় মেম্বার প্রফুল্ল হালদার উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি মেরামত করেন। কিন্তু এবার বেশিরভাগ অংশ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে তার একার পক্ষে রাস্তাটি মেরামত করা সম্ভব হয় নি।

এমতাবস্থায় এলাকার লোকজনের দাবী মেম্বার বা চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি মেরামত করে জনগনকে এই ভোগান্তির কবল থেকে রক্ষা করুক।