রাস্তায় নতুন আপদ: এঞ্জিন চালিত রিক্সা

জাকির হোসেন, নিউজ ৩৯ ♦ সাম্প্রতিক সময়ে একটু উদ্ভট দেখতে রিক্সার মতো একটি যান রাস্তায় বিকট শব্দ করে চলাচল করছে। দোহারে বেশ কয়েক মাস যাবৎ এটি দেখা যাচ্ছে, প্রথম দিকে খুব কম হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ব্যাপক।

গঠন রিক্সার মতোই, মোটা চাকা ও ‘টু-স্ট্রোক’ এঞ্জিন লাগিয়ে তৈরী করা হয়েছে এই যানবাহন। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা রিক্সার থেকে বেশি। বর্তমানে এই বাহন দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকাতেও পৌছে গেছে।

যন্ত্রচালিত এই রিক্সাগুলো রাস্তা চলে বেপরেওয়া গতিতে, এবং রিক্সার ব্রেকিং সিস্টেম অত্যন্ত দূর্বল, জরুরী সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এর ফলে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। এই ধরণের যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে বাড়ছে পথচারীদের চলাচলের ঝুকি।

এছাড়া এই বাহনগুলো পরিবেশের জন্যেও ক্ষতিকর। টু-স্ট্রোক এনঞ্জিন হওয়ায় এই রিক্সাগুলো তেল পোড়ায় বেশি, এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন করে বেশি। ফলে এটি দুই ভাবে ক্ষতি করছে, একদিকে জ্বালানীতেলের অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণ।

Rixaএকই ধরণের এঞ্জিনচালিত আর একটি বাহন আছে যার নাম ‘ভটভটি নসিমন’। ঢাকা সহ সারাদেশে ‘টু-স্ট্রোক’ এঞ্জিনচালিত যানবাহন নিষিদ্ধ। কিন্তু দোহার, নবাবগঞ্জে এই নিষধাজ্ঞা অমান্য করেই এই টু-স্ট্রোক বাহন তৈরী করা হচ্ছে।

এই যানবাহনগুলো চলছে প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়েই। এবং নিয়ন্ত্রণহীন এই বাহনগুলো নিয়মিতই ঘটিয়ে চলছে দূর্ঘটনা। তবু এগুলো বন্ধে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।

উল্লেখ্য এই বাহনগুলোর কোনো রোড পারমিট নেই; এগুলোর রাস্তায় চলাচলের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

তোফাজ্জল চৌধুরী কলেজে দুই গ্রামের শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া

0

মোঃ আব্দুর রহমান, নিউজ ৩৯ ♦ ২০শে অক্টোবর বৃহষ্পতিবার তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কলেজে দুই গ্রামের শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতুড়ি, চাপাতি ও ধারালো অস্ত্রসহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গ্রাম দুটি হল বক্তারনগর এবং শিকারীপাড়া।

এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও আহতের সংখ্যা অগণিত। রাসেল নামের এক প্রাক্তণ ছাত্র বক্তারনগরের রাজ্জাক নামের দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রকে চড় মারে। চড় মারার কারন হিসেবে রাসেল জানায় রাজ্জাক একটি মেয়েকে উক্ত্যাক্ত করে। রাজ্জাক এই অভিযোগ অস্বীকার করে, এবং মেয়েটিও জানায় সে রাজ্জাককে চেনে না।

ঐই ঘটনা শিক্ষকদের জানানো হলে তারা এর একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য রাসেলসহ শিকারীপাড়া ও বক্তারনগরের কিছু শিক্ষার্থীদের সাথে অফিস রুমে আলোচনায় বসেন। আলোচনাচলাকালে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের মাঝে গুঞ্জন উঠতে থাকে।

এরপর শিকারীপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা ও বক্তারনগর গ্রামের শিক্ষার্থীরা ভাগ হতে থাকে। আলোচনা শেষ হতে না হতেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাঝে সংঘর্ষ বেধে যায়। শিকারীপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা হাতুড়ি চাপাতি নিয়ে আসে এবং বক্তারনগর গ্রামের শিক্ষার্থীদের উপড় হামলা করে। জবাবে বক্তারনগর গ্রামের শিক্ষার্থীরা বাঁশ ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে সংঘর্ষ চরমে উঠে। শিক্ষকরা বাঁধা দিতে গেলে তারা আহত হন। এক পর্যায়ে এক পর্যায়ে দুই গ্রামের শিক্ষার্থীরা কলেজে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নবাবগঞ্জ থানায় ফোন করা হয়। পুলিশ আসার প্রায় ৩০ মিনিট পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন কর্তব্যরত পুলিশ।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু

0

আল-আমিন/ আবু নাইম তাইমিয়া, নিউজ ৩৯ ♦ অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলার আশাপুর গ্রামের মো: হালিম হোসেনর মেয়ে সম্পা আক্তার(১৮)-এর।  হালিম হোসেনের মেয়ে সম্পার বিয়ে হয়েছিল আট মাস আগে চাড়াখালি গ্রামের ব্যবসায়ী হাসান ব্যাপারীর(২৮) সাথে। সম্পার স্বামী হাসান ঢাকায় ব্যবসায় করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় পারিবারিক কারনে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। কয়েকদিন আগে এর রেশ ধরে সম্পা তার বাবার বাড়ী চলে আসে।

এরই মাঝে গত ১৬ অক্টোবর মার সাথে সম্পার কথা মোবাইল নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সম্পার সহপাঠি মুরাদ খান জানান সম্পার সাথে তার সাবেক প্রেমিকের কথা বলার সময় তার মার কাছে আটক হয়। এসময় তার মা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় সম্পা হুমকি দেয় যে তাকে ফোন ফেরত না দিলে সে আত্মাহত্যা করবে।

এই কারনে সম্পা পিপড়া মারার ঔষুধ খায়। বিকালের দিকে সে সবাই কে বলে যে তার খারাপ লাগছে। তাকে এরপর নবাবগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, সেখান থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  এরপর দ্রুত তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সেখানে রাত ২টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এক বছরে দোহারের বাস ভাড়া বেড়েছে ৬০ শতাংশ

0

মো: আছিফুর রহমান, নিউজ ৩৯ ♦ ঢাকার সর্বদক্ষিণের উপজেলা দোহারে গত এক বছরে বাস ভাড়া বেড়েছে শতকরা ৬০ টাকা। ফলে চরম দূর্ভোগের শিকার হয়েছে এই উপজেলার সাধারন মানুষ। এক বছর আগে যেখানে নগর পরিবহনে বাহ্রাঘাট থেকে ঢাকার ভাড়া ছিল ৫০ টাকা সেখানে বর্তমানে ভাড়া ৮০ টাকা। একই অবস্থা জয়পাড়া থেকেও।

এক বছর আগেও যেখানে আরাম পরিবহনে ভাড়া ছিল ৫০ টাকা সেটা বেখন দাড়িয়েছে ৮০ টাকা। বর্তমানে দোহারের বাস ভাড়ার নামে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারীতা। যার পুরো দূর্ভোগ পোহাচ্ছে দোহারের যাত্রীরা।

সোহান, নয়াবাড়ীর আন্তা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে পড়াশোনা করছে ঢাকার এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। গতবছর সে এসময়ে ঢাকা যেতে আসতে তার খরচ হতো ১০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে শুধু তার ঢাকা যেতেই খরচ হচ্ছে ৮০ টাকা। ফলে এই অতিরিক্ত খরচ তার জন্য দেখা দিয়েছে অভিশাপের মতো। এরকম প্রায় আরও সবাই কোনোনা কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই বাড়তি ভাড়ায়।

বাস মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া এই অস্বাভাবিক ভাড়া বাড়ার আর কোনো কারন নেই। যেখানে গত এক বছরে তেলের দাম বেড়েছে শতকরা ২০ শতাংশ সেখানে তেলের দাম বাড়ার অযুহাতে বাস মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়েছেন। এ ব্যাপারে এক ড্রাইভারের সাথে কথা বললে তিনি জানান তেলের মূল্য বৃদ্ধি, টায়ার টিউবের দাম বৃদ্ধি ইত্যাদির কারনে ভাড়া আর আগের জায়গায় রাখা যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে ভাড়ার এই বৃদ্ধি। তবে তিনি এই ভাড়া বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না।

তবে তাদের এই যুক্তি যাত্রীরা গ্রহণ করেন নি। পাশের উপজেলা নবাবগঞ্জের বাস ভাড়া অনেক কম। বান্দুরা থেকে ঢাকাগামী বাসের ভাড়া সর্বোচ্চ পঞ্চাশ টাকা। এবং নবাবগঞ্জের বাস বিশেষ করে এন মল্লিকের আরামপ্রদ উন্নত বাসের ভাড়া যেখানে ৫০ টাকা সেখানে আরাম ও নগরের লক্কর ঝক্কর বাসের ভাড়া অনেক বেশি।

মূলত দোহার থেকে যেসব বাস শ্রীনগর হয়ে ঢাকা যায় তাদের ভাড়াই এরকম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব বাসের মালিক-শ্রমিক পক্ষের দাবি ভাড়া অস্বাভাবিক হাড়ে বৃদ্ধি পায় নি। সব মিলিয়ে বাস ভাড়া নিয়ে দোহারের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ।

প্রোফাইল: লিবিয়ার কর্নেল গাদ্দাফি

লিবিয়ার কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসক। ১৯৪২ সালে লিবিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের সিরতে এক যাযাবর গোত্রে জন্ম নেন গাদ্দাফি। বেনগাজি ইউনিভার্সিটিতে ভূগোল বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও মাঝপথে তা বাদ দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন যুবক গাদ্দাফি। ১৯৬৯ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লিবিয়ার তৎকালীন রাজা ইদ্রিসকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেন গাদ্দাফি। ভিন্নমতালম্বীদের কঠোরভাবে দমন করে খনিজ তেল সমৃদ্ধ লিবিয়ার দখল ধরে রাখেন তিনি।

ক্ষমতা দখলের পরে তিনি ইসলামঘেঁষা সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ঐক্যবদ্ধ প্যান-আরব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। এসময় দেশের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি মালিকানায় রাখার অনুমতি দেন।

১৯৭৭ সালে দেশের নাম বদলে গ্রেট সোস্যালিস্ট পপুলার লিবিয়ান জামাহিরিয়াহ (জনতার রাষ্ট্র) রাখেন। এসময় দেশের সাধারণ মানুষদের পার্লামেন্টে তাদের মতামত জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তবে তার বিরুদ্ধে স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখার জন্য হাজার হাজার মানুষকে অবৈধভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ও বন্দি করে রাখার অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে আরব বিশ্বের তৎকালীন বিবদমান দুই প্রতিপক্ষ মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তাদের মুখোমুখি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গাদ্দাফি।

তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সঙ্কট সমাধানে অত্যন্ত কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আরব দেশ তার সমালোচনা করে। এসময় থেকে তার প্যান-আরব নীতি পরিবর্তিত হয়ে প্যান-আফ্রিকা পরিকল্পনায় রূপ নেয়।

তার ঐক্যবদ্ধ আফ্রিকা গঠনের উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান ইউনিয়নের জন্ম দেয়।

তবে পশ্চিমা বিশ্বে সবসময়ই গাদ্দাফিকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে দেখা হয়। কলাম্বিয়ার রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলাম্বিয়া (ফার্ক) এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাবলিকান আর্মিকে (আইআরএ) সমর্থন দেয়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৯৮৬ সালে জার্মানির বার্লিনে একটি নাইটক্লাবে বোমা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় লিবিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসময় গাদ্দাফিকে ‘পাগলা কুকুর’ বলেও অভিহিত করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান।

এ ঘটনার পরে ত্রিপোলি ও বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় গাদ্দাফির পালিত মেয়েসহ ৩৫ জন লিবীয় নিহত হয়।

১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম এয়ারলাইন্সের একটি জাম্বো জেট বিমানে বোমা হামলায় ২৭০ জন নিহতের ঘটনায় গাদ্দাফির জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পরিকল্পনা করার জন্য অভিযুক্ত হন একজন লিবীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

বহুবছর ধরে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন তিনি। এর ফলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয় লিবিয়াকে।

২০০৩ সালে গাদ্দাফি প্রশাসন এ বোমা হামলার দায় স্বীকার করে নেয়। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের ১ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হন তিনি।

এছাড়া তার দখলে থাকা গণবিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করার ঘোষণাও দেন এসময়। এর ফলে তার প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর মনোভাবের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে।

২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ লিবিয়ার উপর থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লিবিয়ার অর্থনীতি বেশ সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

তবে ২০০৯ সালে অভিযুক্ত লিবীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলে গাদ্দাফির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হলে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সমালোচনার মুখে পড়েন গাদ্দাফি।

২০০৯ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে যান গাদ্দাফি। এ অধিবেশনে ১৫ মিনিটের বদলে দেড় ঘণ্টা ভাষণ দেন, জাতিসংঘের নীতিমালার অনুলিপি ছিঁড়ে ফেলেন এবং নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সাথে তুলনা করেন।

একইসাথে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর জন্য ৭ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

২০১০ সালে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্দেশ্যে ইতালি সফর করেন গাদ্দাফি। কিন্তু সফরের সময় প্রায় দু’শ ইতালীয় নারীকে ইসলামধর্ম গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানালে গাদ্দাফির মূল উদ্দেশ্য ঢাকা পড়ে যায়।

মোয়াম্মার আল গাদ্দাফি রচিত গ্রন্থ হলো কিতাবিল আখদার বা দ্য দিন বুক বা সবুজ গ্রন্থ। এটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। তিন খণ্ডে প্রকাশিত এই গ্রন্থে সমাজ এবং রাষ্ট্র সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত হয়েছে। এটিই মূলত লিবিয়ার সংবিধান।

ইংরেজিতে মোয়াম্মার আল গাদ্দাফির নামের বানান নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। ২০০৪ সালের মার্চ মাসে London Evening Standard পত্রিকায় তার নামের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সম্ভাব্য ৩৭টি বানানের কথা উল্লেখ করা হয়।

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফির শাসনের বিরুদ্ধে লিবিয়ায় গণআন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু ওই গণআন্দোলনকে তেমন আমল না দিয়ে কঠোরহস্তে দমনের চেষ্টা চালান গাদ্দাফি। পরবর্তী সময়ে এই গণআন্দোলন গণবিদ্রোহে রূপ নেয় যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। এক পর্যায়ে গাদ্দাফি রাজধানী ত্রিপোলি থেকে পালিয়ে যান।

কার্তিকপুরে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

0

আবু নাইম ♦ সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে কার্তিকপুরের চরকুশাই গ্রামে মোঃ রিমন (২) নামে এক শিশুর পুকুরে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় পুকুরের আশে-পাশে কেউ না থাকাতে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি। তার পিতার নাম মোঃ জিল্লুর হোসেন। দাদা বাড়ি বগুড়া।

বাবা-মা এর মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে রিমন চরকুশাইতে তার নানাবাড়ি থাকতো। তার মা কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্দ্যালয়ে আয়ার কাজ করে। ধারণা করা হচ্ছে, দুপুরে রিপন গোসলের উদ্দেশ্যে গাড়ির চাকার টিউব নিয়ে পানিতে নামলে তার হাত হতে টিউব পিছলে গেলে রিমনের এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতায় এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে সবাই মনে করছেন।  

বিলুপ্তির মুখে দোহার-নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প

দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প বিলুপ্তির মুখে, সারা দেশের মত দোহার-নবাবগঞ্জে চলছে তাঁত শিল্পের দুর্দিন। এই শিল্পের উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ও পাওয়ারলুমের লুঙ্গি দেশের বাজারে ছেয়ে যাওয়ায় এই দুই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ হুমকির মুখে

দোহার-নবাবগঞ্জের এখনও অনেক গ্রাম আছে যারা আজও তাঁত শিল্পের কাজ করে। এই সব এলাকার তাঁত শিল্পের সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় পুজির অভাবে ও উপকরনের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেকে তাঁত শিল্প থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অনেকে ঋনের দয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। তারা আজ দিনমজুরি, রিক্সা চালনাসহ নানা পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

দোহারের দেওভোগ গ্রামের তাঁতী হায়াত আলী বলেন, “এক সময় তার পাঁচটি তাঁত ছিল। কিন্তু বাজারে উপকরনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এখন তেমন কোন লাভ পাই না। তাই তাঁত বিক্রি করে দিয়েছি।”

নবাবগঞ্জ উপজেলার খানিপুর গ্রামে এক তাঁতী বলেন, “এক সময় তার নিজের তৈরি করা লুঙ্গি বিভিন্ন স্থানে পাইকারি বিক্রি করে তার সংসার আর্থিক ভাবে সচ্ছল ছিল। কিন্তু বর্তমানে অর্থাভাবে সবকিছু বন্ধ। তিনি ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন।”

এক সময় এরকম অনেক তাঁতি ছিল যা বর্তমানে এরকম অর্ধেকও নেই। পুজির অভাবে সুতা, রং সহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধির ফলে কাপড়ের খরচ বর্তমানে অনেক বেশি পড়ে যায়। কিন্তু দাম সে হিসাবে বেশি পাওয়া যায় না। এই লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এখানকার শতশত তাঁত। তাঁত শিল্প বিলুপ্তির মুখে তাই পৈত্রিক পেশা ছেড়ে তাঁতীরা ঝুকছে নতুন কর্মসংস্থানের দিকে। আর অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে পদে পদে হয়রানি হচ্ছে। অনেকে আবার এ পেশা ছেড়ে চলে গেছে বিদেশে।

বিবাহ বিচ্ছেদে পুরুষের কষ্ট বেশি

নিউজ ৩৯ ডেস্ক ♦ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নারীর চেয়ে বেশি কষ্ট পান পুরুষরা। মানিয়ে নেয়া বা মানিয়ে চলার অভ্যাস পুরুষদের মধ্যে বরাবরই কম। হয়তো সে কারণেই পুরনো অভ্যাস ছেড়ে নতুন জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য। কিন্তু ঠিক উল্টোটা ঘটে নারীর বেলায়।

বিচ্ছেদ হওয়া নারীকে সবাই করুণার পাত্রী মনে করলেও তারাই দ্রুত নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। এটিকে তারা দেখেন জীবনের নতুন লড়াই হিসেবে। আর সে লড়াইতে প্রাণপণে জেতার চেষ্টা করেন তারা।

অন্যদিকে বিচ্ছেদের পর মনের দিক দিয়ে পুরুষরা নারীদের চেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন। এমনকি তাদের খাওয়া-দাওয়া এবং ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। ওই জরিপে দেখা গেছে, বিবাহ বিচ্ছেদের পর ৪৮ শতাংশ পুরুষ খুবই নিঃসঙ্গ বোধ করে। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে এই হার কম। ৩৫ শতাংশ নারী নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করে।

অবশ্য পুরুষের এই ভেঙে পড়াটা পুরোপুরি আবেগের কারণে নয়। বিচ্ছেদের পর অর্থনৈতিক ধকলটা পুরুষকেই বেশি সামলাতে হয়। অন্যদিকে অর্থনৈতিক দিক থেকে নারীর জন্য ব্যাপারটা সহজ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে এনে দেয় অর্থনৈতিক সচ্ছলতাও। বিচ্ছেদের পর নারী স্বামীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বা ভরণপোষণও আদায় করে নিতে পারে। এছাড়া বিচ্ছেদের ব্যাপারে বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকেও তারা অনেক বেশি সহানুভূতি পেয়ে থাকে।

লন্ডনের বিবাহ বিচ্ছেদবিষয়ক আইনজীবী এডাম উইটকোভার ও ব্রস বেনেট অবশ্য এই জরিপের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি বলেছেন, বিচ্ছেদের পর অনেক নারীও পুরুষদের মতোই হতাশায় ভোগেন। কারণ, তাদের অনেক বেশি ঝামেলার মুখে পড়তে হয়। প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, পরিবার সবাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আঙুল তোলে নারীর দিকেই। তবে ওই জরিপ বলছে, এসব ঝামেলা সামলেও বিচ্ছেদের পর পুরুষদের চেয়ে বেশি শক্ত থাকেন নারীরাই।

সাপের আতঙ্কে নবাবগঞ্জবাসী

0

মো:রাতুল  ইসলাম ♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ও নয়নশ্রী ইউনিয়নে ৩ অক্টোবর সাপের কামড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর পর থেকে প্রতিদিনই সাপের কামড়ে কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩ অক্টোবর যন্ত্রাইলের খলসীগ্রামে মো. রাজীব হোসেন (১৪) ও নয়নশ্রীর বিলপল্লি গ্রামের আলতাফ মোল্লাকে (২৮) সাপে কাটলে মৃত্যু হয়। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সাপের কামড়ে নয়নশ্রীর ভায়াডুবি, ঘোষপাড়া, বাংলাবাজার চর তুইতাল ও বিলপল্লি এলাকায় ২৫ জন, যন্ত্রাইলের চরখলসী কিরিঞ্জি উত্তর বালুখণ্ড গ্রামে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছে।

ভায়াডুবির বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই সাপের কামড়ে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ আহত হচ্ছে। গতকাল সেলিনা আক্তার (২২), আশু (৩৫), ননী বালা (৫০)সহ নয় ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের মধ্যে সেলিনা, ননীবালা ও এক বৃদ্ধাকে ঢাকার মহাখালী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার আশপাশে জঙ্গল বা ঘাসের মধ্যে সাপের আনাগোনা বেড়েছে। দেড় থেকে দুই ফুট লম্বা আকৃতির সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন রাস্তায় ঢলে পড়ছে। এতে স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গত কয়েকদিন স্কুলে যায়নি বলে তাদের অভিভাবকেরা জানান।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিরাজুল ইসলাম উকিল বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে শিগগিরই ভ্যাকসিন বা তরলজাতীয় কোনো ওষুধ দিয়ে সাপের আস্তানা ধ্বংস করা যায় কি না, তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

দোহার নবাবগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প

আবু নাইম ♦ লোহার মূল্য  বৃদ্ধিসহ নিত্য প্রয়োজনীয়  দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির  কারনে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায়  হারিয়ে যাচ্ছে কামার শিল্প। নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয়  উপকরনের অভাব, মূল্য বৃদ্ধি, চরম আর্থিক সংকট ও তৈরি পন্যের চাহিদা কমে যাওয়া  সহ বিভিন্ন প্রতিকুল কারনে  এই দুই উপজেলার প্রত্যন্ত  গ্রাম অঞ্চলে বাংলার স্মৃতি বিজরিত এই ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।

এই দুই উপজেলার যারা কামারের কাজ করতো তারা এখন তাদের পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন অভাবে আতি দুঃখ কষ্টে। মানবেতর অবস্থায় তারা জীবন-যাপন করছেন। অনেকে এই শিল্প থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছন। অন্য পেশায় জীবন ধারন করছেন। আগে এই দুই  উপজেলার হাটে বাজারে প্রচুর কামার শিল্প গড়ে উঠেছিল।  কিন্তু বর্তমানে কামার শিল্পে দূর্দিন নেমে আসায় এখন  আর তেমন কামারদের দেখা যায়  না। 

কামার শিল্পের দৈন্যদশা সম্পর্কে দোহার উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের বিনয়কুমার কর্মকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান “পুজির অভাব, লোহা কয়লার দাম বেশি হওয়ায় মজুরির দাম উঠছে না। তাছাড়া বেচা-বিক্রি কম। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছে। আমি পৈত্রিক পেশা বলে ছাড়তে পারছি না। আকড়ে ধরে আছি । সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে অনেকে এ পেশার মাধ্যমে সচ্ছল জীবন যাপন করতে পারতো।” অপরদিকে কামার শিল্প ফিরে পেতো তার হারানো ঐতিহ্য।