কার্তিকপুরে নতুন হাসপাতাল চালু

আবু নাইম ♦ দোহারের পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম হাসপাতাল চালু হল কার্তিকপুরে।

কুসুমহাটি, নয়াবাড়ী এই এলাকার মানুষের বহুদিনের দাবী একটা পূর্নাঙ্গ হাসপাতাল। সরকারীভাবে না হলেও বেসরকারী ভাবে অবশেষে এ এলাকার মানুষের হাসপাতালের এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে একটি পূর্নাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলো। গত ২ নভেম্বর এক আড়ম্বর পূর্ন অনুষ্ঠানে কার্তিকপুর বাজারে কার্তিকপুর বাজারের উদ্বোধন করা হলো দোহার-নবাবগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার লি:।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দোহার-নবাবগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার লি: এর চেয়ারম্যান বলেন এ “এলাকার মানুষের স্বাস্থ সেবা নিশ্চিত করতে এ হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।“ এই হাসপাতালে সব সময় ডাক্তার থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন। বক্তব্য প্রদান শেষে হাসপাতাল উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ দত্ত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলি আহসান (খোকন) শিকদার, আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথিন্দ্রনাথ, দোহার-নবাবগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার লি: এর চেয়ারম্যান মো: মোসলেম খান, দোহার উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডা: গঙ্গাঁ গোবিন্দ পাল, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডা: শ্যামলাল পাল, বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ, কুসুমহাটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফেজ ক্বারী আ: ওয়াহাব (দোহারী) ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান পান্নু।

ফায়ার সার্ভিস না থাকায় ঝুকির মুখে দোহারে-নবাবগঞ্জের ব্যবসায় ও জানমাল

আবু নাইম, নিউজ ৩৯ ♦ দোহার ও নবাবগঞ্জ দুইটি উপজেলার কোনোটিতে এখনো কোনো  ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। ফায়ার স্টেশন না থাকার কারনে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার মালামাল আগুনের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার হওয়ার ফলে ঠিক সময়ে দূর্ঘটনা স্থলে এসে পৌছাতে পারছে না ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

দোহারের থেকে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার তেমনি নবাবগঞ্জ থেকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। এ কারনে এই দুই উপজেলায় কোন অগ্নিকান্ড ঘটলে এই সাহায্য পৌছাতে পৌছাতে আগুনে সব কিছু পুরে ছাই হয়ে যায়।

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলেও ফায়ার স্টেশন না থাকার কারনে প্রায়ই বিপদে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। এই দুই উপজেলায় অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৪০ টি শাখা, প্রায় ৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় ২০ হাজার ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান, ১৫০ টি বাজার থাকলেও নেই শুধু ফায়ার স্টেশন। ফলে এখানকার বড় ছোট সব ধরণের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অবস্থান করছে ঝুকির মধ্যে।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকার কারনে আগুন লেগে প্রায়ই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বহুমূল্য সম্পদ, ব্যবসার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসছে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী। কর্তৃপক্ষের প্রতি এই দুই উপজেলাবাসীর দাবী ফায়ার স্টেশনের। এই দুই উপজেলাবাসীও ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষের অতি দ্রুত ফায়ার স্টেশনের স্থাপনের। দোহার-নবাবগঞ্জের সাধারন মানুষ মনে করে রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগের অনীহাই দোহার-নবাবগঞ্জে ফায়ার স্টেশন স্থাপন না হওয়ার জন্য দায়ী।

ভিডিও খবর: জয়পাড়া থেকে গালিমপুররের রাস্তা

নিউজ ৩৯ ♦ গত ফেব্রুয়ারীতে শুরু হয় জয়পাড়া থেকে গালিমপুর হয়ে ঢাকা যাবার রাস্তা সংস্কারের কাজ। কিন্তু আট মাস হয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয় নি। অর্ধসম্পূর্ণ কাজ রাস্তাকে চলাচলের অনুপযোগী করে ফেলেছে। রাস্তার উপর ফেলা সুরকি উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখতে পাবেন রাস্তার সাম্প্রতিক অবস্থা। ভিডিও গ্রহন করা হয়েছে ২রা নভেম্বর।

এটি নিউজ ৩৯-এ প্রকাশ করা প্রথম নিজস্ব ভিডিও। আগামীতে নিয়মিত ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হবে।

ছবি:

Joypara-galimpur

নবাবগঞ্জে এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ ৩৯♦ নবাবগঞ্জের সোনাপুর এলাকার গৃহবধূ রোকসানা আক্তারকে ‘হত্যা’র ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ হিসাবে প্রভাবিত করার অভিযোগে নবাবগঞ্জ থানার এক এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিহত গৃহবধূর ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩রা সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার সোনাপুর এলাকায় স্বামীর বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ রোকসানা আক্তারের (৩৫)। প্রায় ১০ বছর আগে শোল্লা এলাকার মইজউদ্দিন বেপারির ছেলে শাহজাহানের সঙ্গে আজিমউদ্দিনের মেয়ে রোকসানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা রোকসানাকে নির্যাতন করত বলে জানান প্রতিবেশীরা। কালক্রমে রোকসানা একে একে তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরা তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

রোকসানার ৭ বছরের মেয়ে সানজিদা জানায়, তার সামনে তার মা’কে মারধরের পর বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে তার পিতা শাহজাহান। সে সময় শাহজাহানের পরিবারের সবাই সেখানে উপস্থিত ছিল। রোকসানার ভাই মো. হাসান অভিযোগ করেন, “বোনজামাই ও পরিবারের সকলে মিলে পরিকল্পিতভাবে তার বোনকে অমানুষিকভাবে নির্যাতনের পর বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেছে। এ কারণে ঘটনার পরপরই হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

কিন্তু এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসাবে আখ্যায়িত করে অপমৃত্যুর মামলা করে এবং আমাদেরকে বলেন, তোমার বোন জামাইয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা পয়সা নিয়ে দেই, কোন ঝামেলা করার দরকার নেই।“

হাসান আরও অভিযোগ করে বলেন, “বোনের হত্যাকারীদের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের কারণে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ময়না তদন্তের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেন। এ কারেণ আমারা থানায় হত্যা মামলা দিতে না পেরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ নবাবগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও রোকসানার স্বামীসহ নয় জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করি। মামলাটি দায়েরের পর থেকে পুলিশ মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।“

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার নামে মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এটি নিছক আত্মহত্যা। এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহের প্রশ্নই আসে না। ঘটনার পর থেকেই রোকসানার স্বামী শাহজাহান ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

নবাবগঞ্জ-সিঙ্গাইর সীমানায় গড়ে উঠেছে চোলাই মদের বিশাল কারখানা

0

নিউজ ৩৯ ♦ নবাবগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার সীমান্তবর্তী কালীগঙ্গা নদীর ধারে নিলাম্বরপট্টি এবং রূপচর এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকটি দেশী চোলাই মদের কারখানা।

জানা যায়, এখানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মণ মদ তৈরী হচ্ছে। এই মদ বিক্রি হচ্ছে লাখ লাখ টাকায়। এখান থেকে মোটা অংকের মাসোহারা কোনো কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সিঙ্গাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান খান হান্নান এলাকার লোকজন নিয়ে মাটি খুঁড়ে মদ ভর্তি ৫২টি ক্যান উদ্ধার করে ধ্বংস করেন। এরপর কিছুদিন মদ ব্যবসা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে তা আবার চালু হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, এ সমস্ত মদের কারখানার মালিকরা সময়-সুযোগ বুঝে বাড়িঘরে এবং নিরাপদ স্থানে কারখানা তৈরি করে মদ বানায়। পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এখান থেকে মদ কিনে নিয়ে যায় সিঙ্গাইর, হেমায়েতপুর, সাভার, ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। সিঙ্গাইর ও নবাবগঞ্জ থানা সবই জানে অথচ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের লোকজন এখানে এসে দেখা করেন বলে অনেকে জানান। তবে সিঙ্গাইর থানা পুলিশ বলেছে, এ সমস্ত মদের কারখানা নবাবগঞ্জ থানার আওতাধীন। এখান থেকে কোন টাকা-পয়সা নিচ্ছে না সিঙ্গাইর থানা পুলিশ।

এলাকাবাসী মনে করে এ এলাকাতে যে হারে চুরি, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে তার উত্পত্তি এ সমস্ত মদের ঘাঁটি থেকে। অথচ প্রশাসন কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না এদের বিরুদ্ধে। পুলিশ প্রশাসন যদি মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিত তাহলে এলাকায় কোন চুরি-ডাকাতি হতো না। যুব সমাজও মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পেত।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

বাস্তায় বিদ্যূৎস্পৃষ্ট হয়ে এক জনের মৃত্যু

0

মো: জাকির/আবু নাইম, নিউজ ৩৯ ♦ গত শুক্রবার বাস্তায় বিদ্যূৎস্পৃষ্ট হয়ে এক জন মারা গেছে। নিহত ব্যাক্তির নাম আকবর আলী(৩২)। তিনি বাস্তা গ্রামের কোহিন আলীর ছেলে।

গত শুক্রবার আকবর আলী তাদের রান্না ঘরের খুটি ঠিক করার সময় বিদুৎস্পৃষ্ট হয়। তার পরিবারের কাছ থেকে জানা যায় তাদের রান্না ঘরের উপর বিদুৎ-এর তার ছিল। শুক্রবার আকবর আলীদের রান্না ঘর ঠিক করার সময় আকবর আলী ঐ বিদুৎ লাইনের সাথে ঝড়িয়ে যায়। এবং তাৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ মৃত্যুর কারনে বাস্তায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অবাধে চলছে জাটকা ও ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন

0

আছিফুর রহমান : দোহারে অবাধে চলছে মা ইলিশ ও জাটকা মাছ ধরার মহোৎসব। গত সোমবার দুপুরবেলা বাহ্রা ঘাটে দেখা গেছে এরকম দৃশ্য। প্রতিদিনের বাজারেই দেখা যাচ্ছে মা ইলিশের ছড়াছড়ি। সরকারি আইনে এসময় ইলিশ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না কেউ। সবাই মাছ বিক্রি করছে যার যার মতো করে।

ইলিশ রক্ষা করতে সরকার ডিম ছাড়ার মৌসুমে মা ইলিশ ধরা ও বিক্রি করা নিষিদ্ধ করেছে। সে নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণীর জেলে ইলিশ ধরছে। যার ফলে এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু মৌসুমে মাছ কমে যাবে। প্রশাসন এখানে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না।

বর্তমানে ইলিশ মাছ বাংলাদেশের সবচেয়ে দামী খাবার মাছ গুলোর মধ্যে অন্যতম। একটা সময় ছিলো যখন ইলিশ মাছ খাওয়া করো পক্ষে কোন কঠিন ব্যাপার ছিল না। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ইলিশ মাছ ধরার ফলে কমে গিয়েছে ইলিশের বৃদ্ধি। বর্তমানে ইলিশ মাছের স্থান সবার খাবারের টেবিল থেকে উঠে গিয়ে শুধু ধনীদের খাবারে পরিনত হয়েছে। বর্তমান বাজারে ছোট একটা ইলিশ মাছের দাম চার-পাচশোর উপরে।

এব্যাপারে নরসিংদি জেলা মৎস কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি যানান এ মৌসুমে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে বিধায় এ মৌসুমে মাছের গায়ে ছর্বি জমে। সে কারনে ইলিশ মাছ অন্য সময়ের তুলনায় এসময় সুস্বাদু হয়। আর এ কারনে বাজারে এই মাছের চাহিদা থাকে বিধায় জেলেরা এ অন্যায় সুযোগ নেয়। তাদের এ ব্যাপারে অবহেলার কথা বললে তিনি তাদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

দোহারে কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা বাস চালু

আছিফুর রহমান, নিউজ ৩৯ ♦ দোহার কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাস সার্ভিস। কলেজগামী  ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য দোহারের নগর পরিবহন এই সেবাটি চালু করেছে। আপাতত এই বাস সার্ভিস সকাল সাড়ে আটটায় বাহ্রা ঘাট থেকে ছেড়ে আসবে আবার দুপুর একটায় দিকে জয়পাড়া থানার মোড় থেকে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বাহ্রা ঘাটের দিকে রওনা দিবে।

এই নতুন বাস সার্ভিসের ফলে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজে আসার দূর্ভোগ অনেক কমবে বলে মনে করছে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা। গত কয়েক দিন জয়পাড়া কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার কারনে বাসে ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক ভিড় হলে নগর বাস কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয় যে প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এক বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন এই বাস চলাচল করবে। এর ফলে এক দিকে ছাত্র-ছাত্রীদের যেমন সুবিধা হবে তেমনি আরেক দিকে বাস মালিকরাএ এতে উপকৃত হবে। এ উদ্যোগ নেবার জন্য জয়পাড়া কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরা নগর পরিবহনের মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।

 

অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানচর্চা

0

বিজ্ঞান ডেস্ক ♦ আজকাল প্রায় সব দৈনিক পত্রিকাতেই রাশিফল দেয়া হয়। রাশিফল বলে দেয় মানুষের ভাগ্যে কি আছে। তাছাড়া, মানুষের ভাগ্য নাকি তার জন্মের সময়েই ঠিক হয়ে যায়। জন্মের সময় আকাশে গ্রহনক্ষত্রের অবস্থানই নাকি মানুষের ভাগ্য রচয়িতা।

এছাড়া আমরা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেখি হরলিকস খেলে না কি ছেলে মেয়েরা ‘লম্বা-শক্তিশালী-বুদ্ধিমান’ হয়ে যায়। ডেটল সাবান না কি ৯৯% জীবাণু মেরে ফেলে। ফেয়ার-এন্ড-লাভলী (অথবা ফেয়ার-এন্ড-হ্যান্ডসাম) নাকি গায়ের রঙ ফর্সা করতে পারে।

বলা বাহুল্য, উপরের কোনটাই সত্য নয়। পৃথিবীর উপর গ্রহ-নক্ষত্রের কেবল অতি সামান্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আছে। এছাড়া অন্য কোন প্রভাব নেই। বাড়ন্ত ছেলে-মেয়েদের দিনে যে পরিমাণ পুষ্টি লাগে, হরলিকস দিয়ে তা পুরণ করা যায় না। পানিতে এক চামুচ হরলিসকস গুলিয়ে খেলে এই পুষ্টি পুরণ হবে না। প্রয়োজন সুষম খাদ্য।হরলিকস দিয়ে এই পুষ্টি পুরণ করতে গেলে মুঠো মুঠো হরলিকস খেতে হবে।
আর আমাদের দেহের অধিকাংশ অনুজীবই উপকারী। তারা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াদের বিপক্ষে যুদ্ধ করে। তাই ডেটলের দাবী সত্য হলে সে অধিকাংশ উপকারী ব্যাক্টেরিয়া মেরে ফেলে। তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

ত্বকের রঙ নির্ভর করে মেলানিনের উপর। মেলানিন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুণী রশ্মি থেকে আমদের বাঁচায়। ফেয়ার-এন্ড-লাভলী ত্বকের মেলানিন কমাতে পারে না। আর যদি কখনো কমায়, তাহলে তা আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে। কারণ দেখা গেছে, সাদা চামড়ার মানুষ আমাদের বিষুবীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্যান্সার সহ নানা রকমের সমস্যায় ভোগে।

বোঝাই যাচ্ছে, উপরের সকল প্রচারই আসলে আধুনিক কুসংস্কার। এদেরকে বলা হয় অপবিজ্ঞান। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের একটি ইতিবাচক প্রভাব আছে। তাই বিজ্ঞানের মুখোশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা অত্যন্ত সহজ। এই ধারণাগুলো বহুল প্রচারিত হলেও এদের পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলো প্রচার করা হয় পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে। অপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা লোটা হয়।

এই অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া খুবই জরুরী। নিজেরা সচেতন হওয়ার সাথে সাথে এদের বিরুদ্ধে প্রচারণাও প্রয়োজন সাধারণের মধ্যে। কারণ এই অপবিজ্ঞানগুলোর প্রধান শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

পাশাপাশি প্রয়োজন বিজ্ঞানচর্চা। বিজ্ঞান, অপবিজ্ঞানের চাইতে অনেক মজার। অনেক আকর্ষণীয়। প্রকৃতি, মহাকাশ, মহাবিশ্ব, মানুষের সমাজ নিয়ে জানার মতো অনেক আগ্রহোদ্দীপক বিষয় আছে। আমরা যদি এসব জানি এবং তা ছড়িয়ে দেই, তাহলে মানুষ বিজ্ঞানমনষ্ক হবে। বিজ্ঞান মনষ্ক মানে এই নয় যে সবাই বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে। বিজ্ঞান মনষ্ক মানে বিজ্ঞানীদের মতো চিন্তা করা, তাদের মতো খুটিয়ে দেখা, জানা।

বিজ্ঞানের গল্প মানুষকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখায়। তখন সে নিজেই সচেতন হয়ে উঠে তার চারপাশ নিয়ে – বুঝে নেয় কোনটি ঠিক আর কোনটি ভুল। তাই বিজ্ঞান চর্চাই অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে সবচাইতে ভালো প্রতিষেধক।

মহাবিশ্বে অবাক হয়ে প্রশ্ন করার মতো অনেক কিছু আছে।
– আফ্রিকাতে একধরনের মাছ আছে যারা কি না অন্ধ। তারা চারপাশে এক ধরনের বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা শিকারকে খুঁজে নেয়। এই ক্ষেত্র ব্যবহার করে তারা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে।
– কবুতরেরা চৌম্বকক্ষেত্রের সামস্যতম পরিবর্তন বুঝতে পারে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের যে ক্ষমতা, তার এক সহস্রাংশের পরিবর্তন তারা অনুভব করতে সক্ষম। চারপাশের বস্তু, পথ চিনতে তারা এই ক্ষমতা ব্যবহার করে।
– গ্যালাক্সীগুলোর কেন্দ্রে কোয়াসার অচিন্তনীয় বিষ্ফোরণ সৃষ্টি করে। এ বিষ্ফোরণ চার পাশের অনেক গ্রহকেই ধ্বংস করে দেয়।
– পূর্ব আফ্রিকায় আগ্নেয়গিরির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া লাভায় মানুষের পূর্বপুরুষের পদচিহ্ন পাওয়া গেছে। এর বয়স প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ বছর। বোঝা যায়, মানুষের ইতিহাস কতো পুরনো।
– আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে ডজনখানেক মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের ‘পাওয়ার হাউজ’ – কোষের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সাম্প্রতিক প্রমাণ বলছে যে শত কোটি বছর আগে এই মাইটোকন্ড্রিয়া স্বাধীন অনুজীব ছিলো। পরে এরা আরো বড় কোষের মধ্যে ঢুকে পড়ে। বড় কোষ মাইটোকন্ড্রিয়াকে পুষ্টি দেয়, আর মাইটোকন্ড্রিয়া দেয় শক্তি। তার মানে, ব্যাপক অর্থে আমরা একক কোন জীব নই। ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রায় এক হাজার কোটি একক জীবের সমন্বয় আমরা – একটি জৈব যন্ত্র।

বিজ্ঞান চর্চার এবং অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে প্রচারণা বিজ্ঞান নির্ভর নতুন দেশ গড়ে তুলবে।

তথ্যসূত্র Broca’s Brain by Carl Sagan

কম্পিউটারে বসে জানুন মহাকাশ সম্পর্কে

নাসির খান সৈকত ♦ কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি বছর উপলক্ষে গিগাগ্যালাক্সি (www.gigagalaxyzoom.org) ঠিকানার একটি ওয়েবসাইটে মহাবিশ্বের তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের সৌরজগত্ যে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার ছবি, পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থান থেকে স্পষ্ট দেখা যায় এমন ১৫টি অংশের আলাদা বর্ণনা এবং উচ্চ রেজুলেশনের ছবি দেওয়া হয়েছে।

সমতলভাবে না দেখে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে www.sergebrunier.com/gallerie/pleinciel/360.swf ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে এসব ছবি।

Stellarium (www.stellarium.org) একটি মুক্ত সফটওয়্যার, যেটি দিয়ে মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র দেখা যাবে। সফটওয়্যারটি চালু করার পর প্রথমে ব্যবহারকারীর অবস্থান নির্দিষ্ট করে দিতে হয়। ওই অবস্থান থেকে আকাশের কোনো দিকে তাকালে আকাশে সেই সময়ে যে নক্ষত্রগুলো থাকবে, সেটি দেখা যাবে। এবং এখানে প্রায় প্রতিটি নক্ষত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অধিকাংশেরই কিছুটা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আবার চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবীর অবস্থান কেমন থাকে, সেটিও জানা যাবে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে। শুধু আকাশ দেখাই নয়, এর সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক আরও বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে এই সফটওয়্যার থেকে।

Celestia (www.shatters.net/celestia/index.html) মহাকাশ দেখার আরও একটি সফটওয়্যার। অন্য সব সফটওয়্যারই পৃথিবী থেকে মহাকাশ কেমন দেখা যাবে সেটি দেখায়, তবে এখানে মহাকাশ থেকে এর অন্য অংশ কেমন দেখাবে, সেটি জানা যাবে। সফটওয়্যারের মেনুতে বিভিন্ন গ্রহ ভ্রমণ করে দেখার অপশন যুক্ত হয়েছে।

http://www.celestiamotherlode.net/catalog/educational.php/ ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে এই সফটওয়্যারটির সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী বেশ কিছু প্রোগ্রাম পাওয়া যাবে।

সফটওয়্যার ছাড়াও ইন্টারনেট থেকে অ্যাস্ট্রোনমি সম্পর্কে বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে। নাসা প্রতিদিন মহাকাশবিষয়ক একটি করে ছবি এবং সেটির একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রকাশ করে থাকে। এসব ছবি দেখা বা নামিয়ে নেওয়া যাবে www.apod.nasa.gov/apod/archivepix.html ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে।

মহাকাশ বিষয়ক নানা তথ্যনিয়ে গুগলের ওয়েবসাইট হচ্ছে www.google.com/sky। সৌরজগত্, গ্যালাক্সি এবং বিভিন্ন সময় ধারণ করা মহাজাগতিক ঘটনার ছবি দেখা যাবে এখানে।

আর মহাবিশ্বের সব ধরনের খবর নিয়ে তৈরি আছে ইন্টারনেটের মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া। অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে উইকিপিডিয়ায় একটি পোর্টাল তৈরি করা আছে। ওয়েব পোর্টালটির ঠিকানা http://en.wikipedia.org/wiki/Portal:Astronomy