স্বাধীনতা দিবসে প্রতিমন্ত্রীর সামনে নবাবগঞ্জের ইউএনও লাঞ্ছিত

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আ. মান্নান খানের সামনেই স্বাধীনতা দিবসে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীরাজুল ইসলাম উকিলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের সামনে মীরাজুল ইসলাম উকিলকে লাঞ্ছিত করা হয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক লেখা বিএনপির একটি ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

যুবলীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা মীরাজুল ইসলামকে বলেন, এখানে ব্যানার লাগানো নিষেধ। এরপরেও বিএনপি কিভাবে এটি টানালো। এ নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইউএনও’র কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।

একপর্যায়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ইউএনওকে কিল-ঘুষি মারে ও ধাওয়া করে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়।
পরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিরাজুল ইসলাম উকিলকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন। নবাবগঞ্জ থানা ওসি মাসুদ করিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার পরপরই প্রতিমন্ত্রী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন

দোহার নবাবগঞ্জে সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য ধরা ছোঁয়ার বাইরে

ঢাকার দক্ষিণ তথা দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে মাত্রারিক্ত হারে বেড়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম। কিন্তু এই হটাৎ করে প্রতি সিলিন্ডারে গ্যাসের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও ডিলাররা এর দায় চাপাচ্ছেন সরাসরি সরকার ও কোম্পানির উপর। এই দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্ব- গতির বাজারে বিষয়টি মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।

আর এতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহারে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে। ঢাকা মহানরীতে বাসায় পাইপলাইনে গ্যাসের জন্য একজন গ্রাহককে যেখানে মাসে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে, সেখানে এলপিজি ব্যবহার করতে প্রতি সিলিন্ডারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৭০০ টাকা।

দোহারে এলপিজির ডিলার নাজির আহমেদ বলেন, সরকারী কোম্পানি যুমনাসহ কয়েকটি বেসরকারী কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার (সাড়ে ১২ কেজি) বিক্রি করা হচ্ছে ১৫৮০ থেকে ১৭০০ টাকায়।

নবাবগঞ্জেও বেসরকারী কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকা দরে। আর সরকারী কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার ৭০০ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও তা কিনতে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা লাগছে বলে জানান একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম।

দাম বেশি রাখার কারণ জানতে চাইলে যমুনার ডিলার বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৭০০ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়ার কথা থাকলেও আমাদের কিনতে হয় সাড়ে ১২০০ টাকায়। আমরা সাড়ে ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি করছি।’ অতিরিক্ত দামের কারণ হিসেবে বেশি চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ার কথাও বলেন ।

তিনি দাবি করেন, একজন ডিলার প্রতি মাসে ১০০ থেকে ১৫০ টির বেশি সিলিন্ডার পান না। একই ধরনের কথা বলেন যমুনার ডিলার । তাঁর দাবি, তিনি প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০ টি সিলিন্ডার পান। ‘আমাদের সিলিন্ডার নিতে প্রায় ১০০০ থেকে ১২৫০ টাকা লাগে। কোম্পানি থেকে আমাদের বলা হয়েছে এক শ’ থেকে দেড় শ’ টাকা লাভ করা যাবে।’

দোহারে অর্থের বিনিময়ে পাঠ্যবই নির্বাচন

বিশেষ প্রতিনিধি:  নতুন বছরকে ঘিরে দোহার উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো হুমকির মুখে পড়েছে। আর তার মাসুল দিতে হচ্ছে কোমল মতি ছাত্র- ছাত্রীদের । অভিযোগ উঠেছে, দোহার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ও নবাবগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি মানসম্মত ও মানহীন উভয়প্রকারের বইই পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।  আর এই সুযোগে বিভিন্ন প্রকাশনী তাদের সংগৃহিত বিভিন্ন গাইড ও গ্রামার বই নিয়ে বিভিন্ন স্কুলগুলোতে ছুটে যান। স্বরণাপর্ন হন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দোমাশিসের স্বরণাপর্ন হন জয়পাড়া ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরী। আরও অন্যান্য লাইব্রেরীগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি মিটিং ও হয় জয়পাড়া পাইলট স্কুল প্রাঙ্গনে।  আর তাদের সমঝোতায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, মন্ত্রীর ভাই মতালেব খানের নাম ভাঙ্গিয়েও এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে, মতালেব খানের ঘনিষ্ঠ জনেরা জানান বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেনঃ- আমরা কয়েক শিক্ষক নিয়ে আলোচনা করেছি তারা এই বই টাকে ভাল মনে করেছে তাই আমার তেমন একটা আপত্তি মনে হয়নি। আর সেই বইটার পাঠ্য করেছেন ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরী। জানাযায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একটি নিম্ন মানের বই তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্য করেছেন এ ব্যাপারে বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান এটা প্রধান শিক্ষকের বিষয় তাই আমরা কিছুই বলতে পারবোনা।

এ প্রশ্নে যেন হামাগুড়ি খায় বিবেকের দরজায়। আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষৎ কিন্তু সেই ভবিষৎকে যদি কেও গলাটিপে হত্যা করে তাহলে আগামী দিন অন্ধকারে নিমর্জিত হবে। তাই শিক্ষার্থীদের ভাল মানের পাঠ্য বই নির্ধারণ করবে এটাই আশা করে সুধি- সমাজ ও অভিভাবকরা।

এ ব্যপারে মুঠোফোনে কথা হয় দোহার উপজেলা দোমাশিস এর সভাপতি আব্দুল খালেকের সাথে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেনঃ- বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় আমারদের দোমাশিস এর অন্তরভুক্ত। তবে যার যার বিদ্যালয়ে যদি কেউ যে কোন প্রকাশনীর বই ভাল মনে করে সেখানে আমার বলার কিছুই নেই। এই কথা বলার পর পরই ফোনটা বন্ধ করে দেয়। তার পর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

কথা হয় দোমাশিস এর সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন আমাদের দোমাশিস এর অন্তরভুক্ত সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকেছি। তাদের বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে বলেছি একটি ভাল প্রকাশনীর বই দেখেসুনে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পাঠ্য হিসাবে নির্বাচন করতে। কিন্তু আমার সব পরামর্শ আমার সব ভাল চিন্তা ভাবনা অনেকের কাছে গ্রহন যোগ্যতা পায়নি। যার ফলে আপনাদের নিকট আজ প্রশ্নের সম্মুক্ষিন হয়েছি। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের ভাল ফলা-ফলের পথ চলাকে যারা একটি নিম্নমানের বই দিয়ে বাধা গ্রস্থ করছে; প্রশাসন তাদের প্রতি  দৃষ্টি পাত করবে এটাই আশা করে দোহারের সুধি সমাজ সহ অভিভাকরা।

ব্যাপারটি অনেকটা ওপেন সিক্রেট হলেও আর একই সাথে অভিভাবকরা ক্ষুদ্ধ থাকলেও প্রতিবাদ করার যেন কেউ নেই।

দোহারে পরিবহন সংকট

১৪ মার্চ আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ উপলক্ষে দোহারে দেখা দিয়েছে তীব্র যানবাহন সংকট। জানা গেছে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব বাস সমাবেশের জন্য আগে থেকেই ভাড়া করার ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে সাধারন যাত্রীসহ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। উল্লেখ্য গত ১২ মার্চ বিএনপির মহাসমাবেশ উপলক্ষেও দুই দিন গাড়ি বন্ধ ছিল।

১২ মার্চ বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে নেয়া হয়েছিল নজির বিহীন ব্যবস্থা। সারা বাংলাদেশ থেকে সেদিন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল রাজধানী ঢাকা। প্রতিটা বাসস্ট্যান্ডে লাইনে লাইনে বাস পড়ে থাকলেও একটা বাসও সেদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় নি। বাস মালিকদের মতে প্রশাসনের চাপের কারনে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কারনে তারা সেদিন বাস ছাড়তে পারে নি। ঠিক তার দুই দিন পরেই আওয়ামী লীগের সমাবেশের জন্য সারা দোহারে ৬০ টি বাস ভাড়া করা হয়েছে। যার জন্য ১২ তারিখের সম্পূর্ন বিপরিত চিত্র দেখা গেছে ১৪ মার্চে। আজ ঢাকা যাবার জন্য মানুষ গাড়ি পাচ্ছে না। তেমনই একজন ভুক্তভুগি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এজাজ। আজ তার একটা এ্যসাইনমেন্ট জমা দেবার কথা থাকলেও বাসের অভাবে তিনি যেতে পারেন নি ঢাকাতে। এরকম আরেক ভুক্তভুগি কামাল হোসেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায় তার ভাই আজ বিদেশ থেকে দেশে এসেছে কিন্তু দেশের এই পরিস্থিতিতে তিনি কোন গাড়ি ভাড়া করতে পারছেন না। আর ঢাকা থেকেও দোহার গামী কোন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তিনি এয়ারপোর্টে আটকে পড়েছেন। এরকমই এক সংকট চলছে দোহারের পরিবহন সেক্টরে। যার আশু সমাধান চায় জনসাধারন।

দোহার-নবাবগঞ্জে ২৩ গ্রেফতার: যান চলাচল বন্ধ

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে সন্দেহজনক ২৩ জনকে আটক করেছে ২ থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, দোহার থানা পুলিশ জানায়, গত রাতে অভিযান চালিয়ে তারা ৮ জনকে আটক করেছে।
দোহার থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এরা বিভিন্ন মামলার আসামি। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে থানার এক কর্মকর্তা জানান, উপরের নির্দেশে আমাদের এই অভিযান।
এরা হলেন শেখ শাওন (৩৩), আমীর হামজা (২৮), সিরাজুল ইসলাম (২৫) ও আবুল কাশেম (৩২), বাঁশতলার রানা(২৮), কামাল(৩০), ধোয়াইর ঘাটের শামসু মেম্বার(৫০), সুতার পারার মশাররফ।
পুলিশ সূত্রে জানায়, গভীর রাতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করে। মাদক ব্যবসাসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে এমন সন্দেহে এদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- রাহাত খন্দকার (৪২), ইস্রাফিল (২৫), সেন্টু (৩৫), মোশাররফ ভুঁইয়া (৪৫), সাত্তার (৪০), সাজ্জাত (৩৫), আলমগীর (২২), বায়জিদ (২৮), সোহেল (২০), খগেন (৪০), শংকর (৩৮), দীন ইসলাম (৩৫) ও লিয়াকত (২৫) ।
নবাবগঞ্জ থানার জানান, শনিবার দিবাগত রাতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ওই দু’টি উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কে রোববার সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।রবিবার সকাল থেকেই গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে দোহারের বাস মালিক সমিতি। ১২ মার্চ বিএনপির ঢাকা চল কর্ম সুচি সামনে রাখে এই পরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যদিও নগরের বাস স্ট্যান্ড বাহ্রাঘাটে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে ৫০ থেকে ৬০ টা বাস আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস শ্রমিক জানান প্রশাসনের চাপের কারণে তারা বাস বন্ধ রেখেছে। ইতি মধ্যে পুলিশ দোহার শ্রীনগর রুটের সমস্ত বাস বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা জানান এই রুটে কোন যানবাহনকে বিশ্ব রোডে উঠতে দিচ্ছে না। ফলে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানিগঞ্জে চলছে অলিখিত পরিবহন ছুটি।
অপরদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার-দোহার-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে সকাল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। ঢাকার উদ্দ্যেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রধান সড়কে এসে গাড়ি না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। আবার অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি নিয়ে ঢাকায় গেছেন।
ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা যাত্রীরা জানান, ঢাকায় তার জরুরি কাজ ছিল, গাড়ি না পাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অটোরিকশায় যাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই বলে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

দোহারে ফসল নিয়ে সংঘর্ষে খুন

 

ঢাকা জেলার দোহার থানার মাহমুদপুর গ্রামে কালাই ফসল ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে ১ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। গত সোমবার বিকালে ফসল ভাগাভাগি নিয়ে জমির মালিক কলম পাঠাদার(৭৫) এর সাথে বর্গা চাষী মোহন শেখের(৫০) সাথে তর্কাতর্কি হয়।

আজ ৬ই মার্চ সকাল ৮টায় কলম পাঠাদারের ছেলে ইউসুফ পাঠাদার মোহন শেখের বাড়ীর পাশের নিজেদের ফসলি ক্ষেতে কাজ করতে গেলে মোহন শেখ তার লোকজন নিয়ে ইউসুফ পাঠাদারকে আক্রমণ করে। খবর পেয়ে, পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে দুপক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষে শাবলের আঘাতে ঘটনাস্থলেই কলম পাঠাদার গুরুতর জখম হয়। তাৎক্ষণিকভাবে, দোহার থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত ডাঃ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

http://a1.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-snc7/423228_361650377199206_100000627401224_1184403_557984508_n.jpg
গ্রেফতার হওয়া আসামি মোহন শেখ(৫০)

এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে নিউজ৩৯ কে জানান, তারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা মোহন শেখ ও তার সঙ্গীদের দায়ী করেছেন বলে জানান। এছাড়া নিহতের স্ত্রী আহত অবস্থায় হাঁসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, আসামীকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার ও হাঁসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।এছাড়া মোহন শেখের স্ত্রী ও আটক হয়েছেন।

http://a8.sphotos.ak.fbcdn.net/hphotos-ak-ash4/431262_361651373865773_100000627401224_1184406_2142216361_n.jpg

 আহত ফজু বেগম

নাইট টেম্পোলারদের কথা পর্ব ২

পতন

১১৭৮-এর ব্যাট্‌ল অফ দ্য হর্নস অফ হাত্তিন যা ক্রুসেডের একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত।
দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ক্রুসেডের ফলাফল পরিবর্তিত হতে শুরু করে। সালাদিনের  মত যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতার নেতৃত্বে মুসলিমরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয় এবং খ্রিস্টান অঞ্চলের মধ্যে অন্তর্কোন্দল দেখা দেয়। নাইট টেম্পলাররা মেঝেমধ্যেই অন্য দুটি প্রধান খ্রিস্টান যাজকসম্প্রদায়ের সাথে বিবাদে লিপ্ত হত। অন্য দুটি অর্ডার হল  নাইট হসপিটালার  এবং  টিউটোনীয় নাইট। দেশব্যাপী বিবাদের কারণে খ্রিস্টানরা অনেকাংশে দুর্বল হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি যুদ্ধে টেম্পলাররা হেরে যায়। অবশেষে হাত্তিনের যুদ্ধে  পরাজয়ের মাধ্যমে ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম পুনরায় সালাউদ্দিনের মুসলিম বাহিনীর দখলে আসে। টেম্পলারদের কোন সাহায্য ছাড়া ক্রুসেডাররা  ১২২৯  খ্রিস্টাব্দে স্বল্প সময়ের জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করে। ১২৪৪  খ্রিস্টাব্দে  খোয়ারিজমীয় তুর্কীরা  আবার জেরুজালেম দখল করে নেয় এবং এর পর  ১৯১৭  সাল পর্যন্ত অঞ্চলটি মুসলিমদের দখলে থাকে।  ১৯১৭  সালে ব্রিটিশরা  অটোমান তুর্কীদের  কাছ থেকে জেরুজালেম দখল করে।

টেম্পলাররা তাদের সদর দফতর উত্তরের শহরগুলোতে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। প্রথমে  আক্কা  শহরে সদর দফতর স্থাপন করে। প্রায় এক শতাব্দীকাল এখানে থাকার পর  ১২৯১  সালে এই শহরও মুসলিমদের অধিকারে আসে। অগত্যা টেম্পলাররা তাদের শেষ আশ্রয়স্থলে এসে ঠেকে। তাদের শেষ আশ্রয়স্থল ছিল  টারটোসা (বর্তমান সিরিয়া) এবং  আটলিট। তখন তাদের উপকূলবর্তী সদর দফতর ছিল কেবল একটি, সাইপ্রাসের লিমাসলে। এছাড়া টারটোসা সমুদ্র উপকূল থেকে খানিক দূরের আরওয়াদ দ্বীপে তাদের একটি ক্ষুদেকায় সেনানিবাস ছিল। ১৩০০  সালের দিকে তারা  মোঙ্গলদের  সাথে মিলে কিছু যুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল যা ছিল ফ্রাঙ্কো-মোঙ্গল মৈত্রীর একটি অংশ। এর মধ্যে আরওয়াদ দ্বীপে আগ্রাসী বাহিনী প্রেরণ। ১৩০২ বা ১৩০৩ সালে টেম্পলাররা তাদের এই শেষ আশ্রয়স্থলটিও হারায়। পবিত্র ভূমিতে এটিই চিল তাদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল।

এত ঘটনার পর অবশেষে এই যাজকসম্প্রদায়ের আর্থিক সাহায্য ও পৃষ্ঠোপোষকতা কমে যেতে থাকে। ইউরোপে তারা তাদের জনপ্রিয়তা হারায়। দুই শতাব্দীর কার্যক্রমের মাধ্যমে এক সময় টেম্পলাররা ইউরোপীয়দের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়ালেও সে সময়কার পরিস্থিতি চিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও জটিল। পুরো খ্রিস্টান রাজত্ব জুড়ে স্থাপনা এবং ভবন নির্মাণের কারণে তারা স্থানীয় পর্যায়েও সর্বত্র উপস্থিত ছিল। সামরিক পতনের পরও তাই তারা অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল কিছু ব্যবসা এবং ব্যাংক ব্যবস্থা যা তারাই প্রতিষ্ঠা করেছিল। অনেকেই তখনও তাদের খামারে কাজ করে জীবিকা অর্জন করত। তখনও তারা কোন স্থানীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলনা, তাদের ছিল একটি সংগঠিত সেনাবাহিনী যা যেকোন সীমান্ত নির্বঘ্নে অতিক্রম করতে পারত যদিও এই সেনাবাহিনীর ছিলনা কোন নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্র। এভাবে অনেক ক্ষেত্রে তারা হয়ে দাড়িয়েছিল এক রাষ্ট্রের ভিতরে আরেক রাষ্ট্র। এভাবে নিজেদের একটি যাজককেন্দ্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থও হয়তো পরিলক্ষিত হচ্ছিল ঠিক যেমনটি টিউটোনীয় নাইটরা  প্রুশিয়ার  ক্ষেত্রে করেছিল।

বন্দিদশা এবং শাস্তি
১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে নতুন পোপ ক্লিমেন্ট ৫ টেম্পলারদের গ্র্যান্ড মাস্টার জ্যাকুয়াস ডি মলি এবং হসপিটালারদের গ্র্যান্ড মাস্টার ফল্ক ডি ভিলার্ট  উভয়ের কাছেই পত্র পাঠান আর বিষয় ছিল এই দুই যোদ্ধা যাজক সম্প্রদায়ের একীকরণ। কেউই বিষয়টি মেনে নেয়নি। কিন্তু পোপ বারবার তাদের বিশেষ অনুরোধ করতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে উভয়কে ফ্রান্সে এসে এ ব্যাপারে আলোচনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান। জ্যাকুয়াস ডি মলি ১৩০৭ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে উপস্থিত হলেও ফল্ক ডি ভিলার্ট  প্রান্সে পৌঁছাতে কয়েক মাস বিলম্ব করেন। এই সময়ে ক্লিমেন্ট এবং জ্যাকুয়াস ডি মলি  এক বহিষ্কৃত টেম্পলার নাইট কর্তৃক উপস্থাপিত একটি মামলা বিষয়ে আলোচনা করেন। সবাই মোটামুটি একমত হয়েছিলেন যে তার উত্থাপিত তথ্যগুলো মিথ্যা, তথাপি ক্লিমেন্ট ফ্রান্সের তৎকালীন রাজা ফিলিপ ৪-এর কাছে মামলার তদন্তের ব্যাপারে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে একটি পত্র লিখেন। কিন্তু নিজস্ব আর্থিক সুবিধার স্বার্থে ফিলিপ টেম্পলারদের এসকল গুজব বিষয়ে তদন্তের কোন চেষ্টা করেননি। টেম্পলারদের কাচে তার অনেক ঋণ ছিল। মূলত ইংরেজদের সাথে তার যুদ্ধের কারণেই তাকে ঋণ নিতে হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন সময় টেম্পলারদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চার্চকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন, যাতে তার ঋণের বোঝা নেমে যায়।

অক্টোবর ১৩, ১৩০৭ রোজ শুক্রবার (যে দিনটি অনেকেই ভুল করে বিখ্যাত ফ্রাইডে দ্য থারটিন্‌থ কুসংস্কারের সাথে মিলিয়ে ফেলেন) রাজা ফিলিপ জ্যাকুয়াস ডি মলি এবং অন্যান্য ফরাসি টেম্পলারদের আটক করার নির্দেশ দেন। তাদেরে বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহীতা এবং উৎপথে চলার অভিযোগ আনা হয়। আটকের পর তাদেরকে বিশ্বাসঘাতকতার মিথ্যা স্বীকৃতি দেয়ার আগ পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। যদিও তাদের স্বীকৃতিগুলো জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছিল, তথাপি তা প্যারিসে প্রভূত গুজবের সৃষ্টি করে। রাজা ফিলিপের আরও জোর জবরদস্তির প্রতি সাড়া দিয়ে পোপ ক্লিমেন্ট একটি আজ্ঞাপত্র ইস্যু করেন যার নাম Pastoralis Praeeminentiae। এই আজ্ঞাপত্রে সকল খ্রিস্টান রাজাকে স্থানীয় টেম্পলারদের আটক করা এবং তাদের সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দেয়া হয়।

ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ ৪ (১২৬৮ – ১৩১৪)

টেম্পলারদেরকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য পোপের কাছে সভা আহ্বানের অনুরোধ জানানো হয়। পোপের ছাড় দেয়ার প্রেক্ষিতে এক সময় অনেক টেম্পলার ইনকুইজিশনের নির্যাতন থেকে রেহাই পায়। ইনকুইজিশন থেকে বেরিয়ে অনেক টেম্পলারই তাদের পূর্বতন স্বীকৃতি অমূলক বলে প্রত্যাহার করে। অনেকেরই নিজের স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যা তাদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু ১৩১০ ক্রিস্টাব্দে রাজা ফিলিপ আদালতে পুনরায় আপিল করার এই সুযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর তার নির্দেশে আগের স্বীকৃতির জের ধরেই কয়েক ডজন টেম্পলার নাইটকে প্যারিসের অগ্নিখুটিতে বেঁধে পুড়িয়ে মারা হয়।

কনভেন্ট অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ক্রাইস্ট, পর্তুগাল। ১১৬০ সালে নাইট টেম্পলারদের আশ্রয়স্থলের সম্মানে নির্মিত। পরবর্তিতে নতুন অর্ডার অফ ক্রাইস্টের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তার ইচ্ছা বাস্তবায়িত না হলে টেম্পলারদের বিপক্ষে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ফিলিপ পোপকে ভয় দেখান। অগত্যা পোপ ক্লিমেন্ট এই যাজকসম্প্রদায়কে চার্চের আওতা বহির্ভুক্ত তথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। টেম্পলারদের যে মিথ্যা স্বীকারোক্তিগুলো ফ্রান্সের জনমনে গুজবের সৃষ্টি করেছিল সেগুলোকেই এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৩১২ সালে কাউন্সিল অফ ভিয়েনে পোপ বেশ কয়েকটি আজ্ঞাপত্র ইস্যু করেন যার মধ্যে ছিল, Vox in excelso যা যাজকসম্প্রদায়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে এবং Ad providam যা টেম্পলারদের অধিকাংশ সম্পত্তি হসপিটালারদের কাছে হস্তান্তরিত করে।

টেম্পলার যাজকসম্প্রদায়ের নেতাদের সম্মান রক্ষার্থে তাদের বয়জ্যেষ্ঠ্য গ্র্যান্ড মাস্টার জ্যাকুয়াস ডি মলি,  যিনি স্বীকারোক্তির কারণে নির্যাতিত হচ্ছিলেন, তার প্রতি যে বিচার করা হয়েছে তাকে অমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তার সহযোগী নরমান্ডির প্রিসেপটর জিওফ্রি ডি চারনি -এ একই পথ অনুসরণ করেন এবং নিজেকে নির্দোষ বলে দাবী করতে থাকেন। এই দুজনকেই ধর্মদ্রোহীতা এবং উৎপথে চরার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকার অপরাধে ১৩১৪ সালের মার্চ ১৮ তারিখে প্যারিসে পুড়িয়ে মারা হয়। জ্যাকুয়াস ডি মলি মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনমনীয় ছিলেন বলে প্রচলিত মত থেকে জানা যায়। তিনি তাকে খুটির সাথে এমনভাবে বাঁধতে বলেছিলেন যাতে নটর ডেম ক্যাথেড্রাল দেখতে পারেন। এছাড়া মৃত্যুর কলে ঢলে পড়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি হাত জোড় করে প্রার্থনা করছিলেন। লোকমুথে প্রচলিত আছে, অগ্নিশিখা জ্বলতে থাকা অবস্থায় তিনি বলেছিলেন যে, শীঘ্রই ঈশ্বরের সামনে তার সাথে পোপ ক্লিমেন্ট এবং রাজা ফিলিপের দেখা হবে। এর কয়েক মাস পরেই পোপ ক্লিমেন্ট মারা যান এবং রাজা ফিলিপ সেই বছরের শেষ দিকে এক শিকার অভিযানে বেরিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।

টেম্পলারদের শেষ কয়েকজন নেতা চলে যাওয়ার পর অধিকাংশ সদস্যদেরই তিনটি পরিণতি হতে দেখা গিয়েছিল। হয় তাদেরকে আটক করে পোপতান্ত্রিক বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হয়েছে যদিও কারও বিরুদ্ধেই তেমন কোন অপরাধ প্রমাণিত হয়নি, নয়তো অন্যান্য সামরিক যাজকসম্প্রদায় যেমন নাইট হসপিটালারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অথবা পেনশন এবং ভাতা প্রদানের মাধ্যমে শান্তিতে বসবাসের সুযোগ দেয়া হয়েছে। অনেক টেম্পলারই পোপের শাসন বহির্ভুত অঞ্চল যেমন যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন স্কটল্যান্ডে চলে গিয়েছিল। পর্তুগালের টেম্পলাররা কেবল তাদের নাম পরিবর্তন করার মাধ্যমে নতুনভাবে কাজ শুরু করে। তাদের নতুন নাম হয় অর্ডার অফ ক্রাইস্ট।

২০০১ সালে ভ্যাটিকান গোপন সংগ্রহশালায় একটি অভিনব দলিল পাওয়া গেছে যা চিনন পার্চমেন্ট নামে পরিচিত। এই দলিলটি সম্ভবত ১৬২৮ সালে ভুল করে অন্য একটি ফাইলের মধ্যে রাখা হয়েছিল। যাহোক, এই দলিল থেকে জানা গেছে, ১৩১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে টেম্পলার সম্পদ্রায়কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার আগে ১৩০৮ খ্রিস্টাব্দে পোপ ক্লিমেন্ট তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল ধর্মদ্রোহীতার অভিযোগ থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রথমে নিজ বিচার বুদ্ধি দিয়ে তিনি টেম্পলারদেরকে নির্দোষ বললেও পরে স্বার্থের খাতিরে বা অন্য কোন কারণে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এই দলিলটি মূলত টেমস্পলারদের মামলার তথ্যাদিতে পরিপূর্ণ। ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে স্ক্রিনিয়াম পাবলিশিং হাউজ, যারা ভ্যাটিকানের হয়ে দলিলপত্র প্রকাশ করে থাকে, টেম্পলারদের মামলা সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র প্রকাশ করে যার মধ্যে চিনন পার্চমেন্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বর্তমানে রোমান ক্যাথলিক চার্চ স্বীকার করেছে যে, মধ্যযুগে নাইট টেম্পলারদের অবস্থান সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। তারা অন্যায় কিছু করেনি এবং তাদের যাজকসম্প্রদায় সম্পূর্ণ খ্রিস্টান ধর্মীয় আইন মোতাবেকই কাজ করেছিল। পোপ ক্লিমেন্ট তখন সে ধরণের আজ্ঞাপত্র ইস্যু করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাধ্য হওয়ার কারণ ছিল জনসাধারণের মধ্যে স্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়ে পড়া গুজবের চাপ এবং প্রভাবশালী রাজা ফিলিপ ৪-এর অসাধারণ প্রভাব।

দোহারের বৌবাজারে আত্মহত্যা

মোঃ মামুন ♦ আবারও দোহারের থানার বৌবাজার গ্রামে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা। নিহতের নাম সুমা আক্তার (২৪) । পিতা- মোঃ আইয়ুব আলী, পেশায়- ব্যাবসায়ী। জানা যায়, কিছু দিন আগে সুমার সাথে এক পাত্রের বিয়ে বিষয়ে পারিবারিক ভাবে কথাচলাকালীন ঐ পাত্র সুমার ছোট বোনকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। এতে পারিবারিক বিরোধ চরমে ওঠে। ধারনা করা হচ্ছে, এ রকম কোন বিষয় থেকেই মায়ের সাথে ঝগড়া করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সুমা আত্মহত্যা করে।
উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই এলাকায় প্রেম ঘটিত বিষয়ে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে।

ইতিহাসের এই দিনে: ১ মার্চ

0

১১৫২: ফ্রেডরিক বারবাসো জার্মানীর রাজা নির্বাচিত।

১৬৬৫: ব্রিটিস রাজা দ্বিতীয় চার্লস নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। এর মাধ্যমে দ্বিতীয় ইন্দো-ডাচ যুদ্ধ শুরু হয়।

১৭৮৯: আমেরিকার নিউ ইর্য়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রনয়নের জন্য কংগ্রেসের সদস্যরা বৈঠক করেন।

১৭৯৪: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১১তম সংশোধনী গৃহিত।

১৮৮২: লন্ডনে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম চালু।

১৯০৮: আমেরিকার ওহিও অঙ্গরাজ্যের কলিংউড স্কুলে অগ্নি কান্ডে ১৭৪ জনের মৃত্যু।

১৯১৭: জেনিথ র‍্যাঙ্কিন প্রথম মহিলা সদস্য হিসাবে হাউজ অব রিপ্রেযন্টিভে যোগ দেন।

১৯৩৩ – ফ্রাঙ্কলিন ডেলানোর রুজাভেল্টের অভিষেক।

১৯৭৪: বিখ্যাত পিপল ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশ।

জন্ম

১৯৬৫ – আনিসুল হক, একজন বাংলাদেশী লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক।

নবাবগঞ্জে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শেরপুর গ্রাম থেকে শুক্রবার কহিনুর বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। কহিনুর উপজেলার শেরপুর গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী।

স্থানীয়দের অভিযোগ করে বলেন, ‘কহিনুরের স্বামী নেশা করে এবং জোয়া খেলা নিয়ে তার সঙ্গে প্রায় কথা কাটাটি হতো।

 তার স্বামী তাকে স্বাস রোধ করে হত্যা করে ঘরে লাশ রেখে পালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা’।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামে কহিনুর বেগম ঘুম থেকে না ওঠায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ঘরে ঢুকে স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজ নিউজ ৩৯ কে জানান, লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তবে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে হত্যা করা হয়েছে কি না বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।