নুরপুরে ময়দার ট্রাক পুকুরে: আহত দুই

ঢাকা-দোহার আঞ্চলিক সড়কে জয়পাড়ার কাছে নুরপুরে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ময়দাবাহী একটি ট্রাক রাস্তার পাশে খালে পরে যায়। এতে ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার আহত হয়েছে। ট্রাকটিতে ৪৫০ বস্তা ময়দা ছিল বলে নিশ্চিত করেছে ট্রাকের ড্রাইভার।
বুধবার সকাল ১১টায় নারায়নগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটিতে জয়পাড়া বাজারের মেসার্স মুকসেদ ট্রেডার্স ও আওলাদ ট্রেডার্সের ৪৫০ বস্তা পরিবহন করে আনছিল। জয়পাড়া আসার পথে নুরপুরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। এসময় ট্রাকের ড্রাইভার আবুল হোসেন(৪৫) ও হেলপার সুজন(২০) গুরুতর আহত হন। তাদের অতি দ্রুত দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায় এলাকাবাসী। এই সময় পুলিশ দ্রুত এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় ৪৫০ বস্তা ময়দা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ময়দার সব বস্তায় পানিতে ভিজে গেছে।
দোহার উপজেলা পুলিশের উপপরিদর্শক হারুনর রশিদ নিউজ৩৯ কে জানান, উদ্ধারকৃত মালামাল প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করার কাজ চলছে। দুর্ঘটনার কারন হিসাবে অতিরিক্ত মাল বহন করাকে দায়ি করেছেন তিনি।

নয়াবাড়িতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু: পিতার আত্মহত্যা চেষ্টা

নয়াবাড়ি ইউনিয়নের নয়াডাঙ্গি গ্রামের আব্দুল ওহিদ ভুইয়ার মেয়ে আফরিন(৫) পানিতে ডুবে মারা গেছে। এই খবর শুনে তার পিতা ওহিদ ভুইয়াও আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মর্মান্তিক এই ঘটনা বুধবার বিকাল ৩টায় ঘটেছে।

জানা যায়, বুধবার দুপুর তিনটার সময় বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন পুকুরে গোছল করতে যেয়ে গোছলের এক পর্যায় পানিতে তলিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর তাকে উদ্ধার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এই খবর পাওয়ার কিছুক্ষন পর তার পিতা ওহিদ ভুইয়া মেয়ে হারানোর শোক ভুলতে না পেরে পুকুরে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এই সময় তার পিতাকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নবাবগঞ্জে ইভটিজিং করায় ১ যুবকের কারাদণ্ড

নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অপরাধে আমিনুল ইসলাম হানিফ (১৮) নামে ১ যুবককে  ৪ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। নবাবগঞ্জ থানা কার্যালয় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এ সাজা প্রদান করেন উপজেলা ম্যাজিস্টেট দেওয়ান মাহবুবুর রহমান। দন্ডপ্রাপ্ত হানিফ বারুয়াখালী গ্রামের আহম্মদ খানের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বখাটে হানিফ বারুয়াখালী স্কুলের সামনে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার সময় হাতেনাতে পুলিশের কাছে ধরা পরে।

পুলিশ হানিফকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্টেট দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের ভ্রাম্যমান আদালত স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের (উত্যক্ত) দায়ে বখাটে হানিফকে ৪ মাসের কারাদন্ডর নির্দেশ প্রদান করেন।

দোহারে পঞ্চম বিয়ে করতে এসে চতুর্থ বৌর হাতে ধরা

0

শুক্রবার ৫ম বিয়ে করার পর ৪র্থ বৌ’র আত্মীয়স্বজনের নিকট হাতেনাতে ধরা খেলো ধরিবাজ মো. ফারুক (৩২)। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে দোহারের পুষ্পখালী গ্রামে।

ফারুক মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার নয়ানগর গ্রামের গেদু মিয়ার ছেলে বলে জানা যায়। বর্তমানে সে নবাবগঞ্জের শুভ ভিডিও রেকর্ডিং এ- এডিটিং সেন্টারে ভিডিও ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করে।

কুসুমহাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, ফারুক ভিডিও ক্যামেরাম্যান হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিডিও’র কাজ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো এক অনুষ্ঠানে পুষ্পখালীর এ মেয়ের সঙ্গে ফারুকের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পরবর্তীতে মেয়ের মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে ফারুক শুক্রবার পুষ্পখালীতে আসে বিয়ে করার জন্য। বিয়ের এক ঘণ্টার মধ্যেই ৪র্থ বৌর আত্মীয়স্বজন বিয়ে বাড়িতে এসে ফারুকের ঘটনা খুলে বললে বিয়ে বাড়িতে আসা ক্ষুব্ধ আত্মীয়স্বজন ধরিবাজ ফারুককে পিটুনি দিয়ে নতুন বৌ কর্তৃক ফারুককে তালাক দেয়া হয় এবং শনিবার উভয়পক্ষের মুরুব্বিদের নিয়ে স্থানীয় বিচারে পঞ্চাশ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে ৪র্থ বৌ বিথী আক্তারের জিম্মায় ফারুককে ছেড়ে দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, ফারুক নবাবগঞ্জ থানার হাসনাবাদ গ্রামের বিথী আক্তার নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে। সে ঘরে এক সন্তান রয়েছে। বিয়ের আগে সে ৪র্থ বৌ বিথীকে নিয়ে হাসনাবাদ গ্রামের এক বাড়ীতে ভাড়া থাকতো।

এদিকে ফারুকের বিষয়ে শুভ ভিডিও রেকর্ডিং এ- এডিটিং সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।

ফারুক নিজের ৫ম বিয়ের ভিডিও করার জন্য শুভ ভিডিও রেকর্ডিং এ- এডিটিং সেন্টারের একটি ক্যামেরা অনেক কাকুতি-মিনতি করে ১দিনের জন্য ভাড়া নেয়। যা শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেয় বিকেলে।

ফারুক সম্পর্কে আরো জানা যায় যে, সে অনেকটা বাটপার প্রকৃতির ছেলে। এ পর্যন্ত কাগজে কলমে ৫টি বিয়ে করলেও বিয়ের সংখ্যা আরো বেশী বলে সন্দেহ করা হয়। ফারুক প্রথম বিয়ে করেন তার নিজ এলাকা রাজানগরে। ২য় বিয়ে করে নবাবগঞ্জের চুড়াইন ইউপি’র খাহ্রা গ্রামের শিল্পীকে । এ ঘরে ১১ বছরের এক মেয়ে আছে। ৩য় বিয়ে করে ফরিদপুর সদরের বিউটিকে। ৪র্থ বিয়ে করে এক প্রবাসীর স্ত্রী বিথী আক্তারকে। পঞ্চম বিয়ের পরপরই নতুন বৌ তাকে তালাক দেয়। উল্লেখ্য ফারুক নিজ থেকে কোনো বউকেই তালাক দেয়নি। ৪র্থ বৌ বাদে অন্য বউরাই তাকে তালাক দেয়। তার প্রতিটি বিয়ে ছিলো ভালোবাসার বিয়ে।

১০ বছর বয়সে ফারুক বাসের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে। বাসের হেলপারি ১৪ বছর করার পর সে ভিডিও’র কাজ শুরু করে প্রায় ৮বছর যাবৎ। তার হাত ছিলো খুব ভার। সে সব সময় ধারদেনার মধ্যে থাকত। ফারুক ভিডিও ক্যামেরাম্যান ছিলো বলে সে মেয়েদের সহজেই পটাতে পারতো। আর মেয়েরাও তার চেহারা ও কথাবার্তায় কোনো কিছু না ভেবেই মন-প্রাণ দিয়ে দিতো।

জনগনের রায় মাথা পেতে নিবো: আব্দুল মান্নান খান

0

‘আমরা সংসদীয় রাজনীতিকে বিশ্বাস করি। আগামী নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে, তা মাথা পেতে নেব।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নবাবগঞ্জ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় তলা প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান এই কথা বলেছেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরাই হবে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার মান রক্ষায়, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আগামীকে তোমাদেরই জয় করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম, ইউএনও দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা রাজীব শরিফ প্রমুখ। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার মহব্বতপুর ও সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।

দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাস আনাই হবে আমার প্রথম কাজ: সালমা ইসলাম

0

নির্বাচনের অনেক নির্বাচনি হাওয়ায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দোহারের রাজনৈতিক পরিবেশ। প্রতিদিনই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের অথবা এদের অঙ্গসংঙ্গঠনের কর্মীসভা, মতবিনিময় সভায় সরগরম থাকছে দোহার-নবাবগঞ্জের আনাচে কানাচে। একই সাথে উৎকন্ঠায় আছে সাধারন মানুষ। আছে সংর্ঘষের আশংকা।

“দোহার-নবাবগঞ্জ অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তারা আপনাদেরকে বারবার ওয়াদার বরখেলাপ করেছে। ঢাকার এতো কাছে আমাদের বাস। ঢাকা জেলার অন্যতম প্রধান অংশ আমরা। অথচ আমরা গ্যাসের মতো একটা নিত্যদিনের সম্পদ ব্যবহার পারছি না। ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। তাই আমার প্রথম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দোহার-নবাবগঞ্জে গ্যাস আনা” বলেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। জয়পাড়া কলেজ মাঠে জাতীয় পার্টির যুবসংহতীর আয়োজিত পরিচিতি সভায় এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম একথা বলেন।

বিকাল ৪টায় কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর জাতীয় পার্টির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এই সময় তারা দোহার-নবাবগঞ্জের প্রতি বর্তমান সরকারের সমালোচনা ও উন্নয়নের অবহেলার কথা জনতার সামনে তুলে ধরেন। তারা সমাবেশ করতে বাধা দেয়ার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম পাভেলের ব্যাপক সমালোচনাও করেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদেরকে সুসংহত করার জন্য দির্ঘদিন ধরেই জনগনের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে সালমা ইসলাম। সেই লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির দোহার উপজেলার যুব সংহতীকে শক্তিশালী করতে দোহার উপজেলা যুবসংহতী জয়পাড়া কলেজ মাঠে এক পরিচিতি সভা আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, “আমি দোহার ও নবাবগঞ্জের মানুষকে কিছু দিতে এসেছি। কোন সম্পদ নয়, নিতে এসেছি দোয়া আর প্রতিদানে আপনাদের ভালবাসা চাই। সবাইকে তো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেন, এইবার পল্লী বন্ধু এরশাদের দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে দেখুন। আমরা আপনাদেরকে কি দেই। আর ভোট দিয়ে আপনাদের প্রতারিত হতে হবে না। আমাদের ভোট দিলে দেশে সন্ত্রাসী থাকবে না, টেন্ডারবাজী থাকবে না। আমাদের ভোট দিন, আমি আপনাদের গ্যাস এনে দিবো। দোহার-নবাবগঞ্জকে বাংলাদেশের মডেল হিসাবে আমি সারাদেশ ও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবো। আর এতে আপনাদের ছেলে নুরুল ইসরাম বাবুল আছেন আমাদের পাশে।” এসময় তিনি হাত তুলে সবাইকে তাকে ভোট দেওয়ার শপথ করান।

এসময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা যুবসংহতীর সাবেক সভাপতি দেলুয়ার হোসেন খান মিলন, জাতীয় ছাত্রসমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, ঢাকা জেলা যুবসংহতির  আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ, জাতীয় পার্টির নবাবগঞ্জ উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বেলাল সহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

দোহারে যুব সংহতির সমাবেশ করতে বাধার অভিযোগ

0

দোহার উপজেলা জাতীয় যুবসংহতির পরিচিতি সভা আয়োজনে বাধা দিচ্ছেন বলে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম উল হক পারভেজের নামে অভিযোগ করেছেন দোহার যুবসংহতির নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে এই পরিচিতি সভা করার জন্য ওই কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে। এ জন্য মাঠের সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান দোহার উপজেলা যুবসংহতি সভাপতি মোঃ বাবুল হোসেন।

অধ্যক্ষ কর্তৃক কলেজ মাঠ বরাদ্দ সংক্রান্ত চিঠির কপি দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হঠাৎ করে ঘোষণা দেন, মন্ত্রীর অনুমোদন নেই, তাই কলেজ মাঠে পরিচিতি সভা করা যাবে না। ইউএনওর এই অদ্ভুত যুক্তিতে যুবসংহতির নেতাকর্মীরা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। কারণ যুবসংহতি হচ্ছে ক্ষমতাসীন মহাজোটভুক্ত দল জাতীয় পার্টিরই একটি অঙ্গসংগঠন। ২৭ সেপ্টেম্বর এ মাঠে মন্ত্রীর বা আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠান নির্ধারিত নেই। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারাও জারি করেনি। স্থানীয়রা বলছেন, ইউএনওর অতি উৎসাহ সরকারের জন্য বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করেছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যুবসংহতি বরাদ্দের জন্য আবেদন করায় ২৭ সেপ্টেম্বর কলেজের মাঠ ব্যবহারের জন্য তাদের অনুমতি দেয়া হয়। কলেজ বন্ধ থাকলে সামাজিক যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য মাঠ বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে এবং সেভাবেই মাঠ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

যুবসংহতি সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও শামীম উল হক পাভেল জানিয়েছেন, মাঠের সাজসজ্জা দেখে মন্ত্রী বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। মন্ত্রীকে তৎক্ষণাৎ বিস্তারিত বলতে না পারলেও পরে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। সাফকথা হল, ওপরের অনুমতি ছাড়া সভা করতে দেয়া হবে না। ওপর মানে কি? জবাবে তিনি বলেন, সেটা বুঝে নিতে হবে। নিউজ৩৯ শামীম উল হক পারভেজের সাথে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এদিকে যুবসংহতি জানায়, তারা তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান করবেই। কোনো অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়দায়িত্ব ইউএনওকেই বহন করতে হবে।

দোহার পৌরসভা সেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠিত

0

দোহার পৌরসভা সেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠিত হয়েছে। হাজী মো: কবির হোসেনকে সভাপতি ও আব্দুল আজীজকে সাধারন সম্পাদক করে ৩৭ সদস্যের এই কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। কমিটি অনুমোদন করেন ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি আব্দুর রহমান বাবুল, সেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সাধারন সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান বানী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসাবে আছেন আক্তারুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন মিশুক এবং যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন রাহুল।

নবাবগঞ্জে মান্নান-আশফাক গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

0

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রকট হচ্ছে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কোন্দল। এর চুড়ান্ত ফল দেখা গেল সোমবার। নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপির এই দুই গ্রুপের  মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ও হাত বোমা নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টা থেকে উপজেলার বাগমারা কোর্ট ভবনের দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার শুরগঞ্জ বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান সমর্থিত উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আনন্দ মিছিল নবাবগঞ্জের দিকে রওনা হয়।

অপরদিকে বিএনপি জাতীয় কমিটির সদস্য খন্দকার আবু আশফাক সমর্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা নবগঠিত কমিটিকে অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ বলে অভিযোগ করে নবাবগঞ্জ বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শুরগঞ্জের দিকে যেতে থাকে। পথিমধ্যে উভয় পক্ষ বাগমারা কোর্ট ভবনের সামনে গেলে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়।এ সময় আফছার উদ্দিন (৩২) ও চয়ন (২২) নামে দুইজন আহত  হয়। আহতরা মান্নান গ্রুপের বলে জানা গেছে।

একপর্যায়ে মান্নান গ্রুপের নেতাকর্মীরা আশফাকের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে নবাবগঞ্জের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় মান্নান গ্রুপের আফছার ও চয়ন আহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল ছুড়ে, হাত বোমা নিক্ষেপ করে এবং একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাসুদ করিম নিউজ৩৯কে জানান, নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।  এজন্য প্রশাসন ঢাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ধানমন্ডির আব্দুল মান্নানের নিজ বাসভবনে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়।

নবাবগঞ্জে বিএনপির দু’পক্ষের মিছিলের প্রস্তুতি: সংঘর্ষের আশংকা

0

আসিফ শেখ, নিউজ৩৯ ♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির কমিটিকে কেন্দ্র করে আব্দুল মান্নান ও খন্দকার আবু আশফাকের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদ চরম আকার ধারন করেছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

 সোমবার একই দিনে ঢাকা জেলা বিএনপির মান্নান সমর্থক দল নব গঠিত উপজেলা কমিটি নিয়ে আনন্দ মিছিল এবং বিএনপি জাতীয় কমিটির সদস্য খন্দকার আবু আশফকের পক্ষ থেকে তারেক জিয়া ও কোকোর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা তুলে নিতে বিক্ষোভ মিছিল করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন দিয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বিএনপির চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা আব্দুল মান্নান সমর্থকরা শুরগঞ্জ দলীয় কার্যালয়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিমিয় করেন। এসময়ে নেতারা নবগঠিত নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটিকে সংবর্ধনা দিতে আগামী সোমবার সকালে আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতির কথা সাংবাদিকদের জানান। 

উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গঠন প্রক্রিয়া অনুযায়ী আব্দুল মান্নানের ঢাকার ধানমন্ডির বাড়িতে উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা কমিটির অনুমোদন পত্র চাইলে তাৎক্ষণিক দিতে পারেন নি। ২/১ ঘন্টা পর প্রেসক্লাবে পাঠাবেন বলে জানিয়েও অনুমোদনপত্র পাঠান নি।

অপরদিকে, নবগঠিত উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অবৈধ দাবী করে শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক সমর্থক নেতাকর্মীরা।

তারা আগামী সোমবার বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়ির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর কমিটি ঘোষনার পর থেকে প্রতিনিয়ত নব গঠিত কমিটি বাতিলের দাবীতে আশফাক দলের সমর্থকরা বিক্ষোভ  মিছিল করছে।

অপরদিকে এলাকার রাস্তাঘাটে দু,পক্ষের আলোচনায় উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। একপক্ষ অন্য পক্ষকে আঘাত প্রতিঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে। সোমবারে এলাকায় কি ঘটবে এনিয়ে এলাকাবাসীর মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খন্দকার আবু আশফাক নিউজ৩৯ কে জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় মান্নান সাহেবেব ঢাকার বাড়িতে বসে কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এবিষয়ে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে কথা হয়েছে। তারা ঢাকা জেলা ও উপজেলায় নতুন কমিটি করার সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানিয়েছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, দু’পক্ষ মিছিল করবে বলে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঢাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে। আরো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

 উল্লেখ্য এর আগে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দু’টি কমিটি ছিল। একটিতে মান্নানের পক্ষের উপজেলা সভাপতি আবেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ওসমানী অপরটিতে ছিল আশফাক নিজেই উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ খান।