জানুয়ারির মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন- নির্বাচন কমিনার জাবেদ আলী

0

সংবিধান অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারির মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি সকল দলের অংশগ্রহণেই নিবার্চন হবে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় সার্ভার ষ্টেশন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নির্বাচন কমিশনার ব্রি, জে.(অব) জাবেদ আলী এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, নিবার্চন কমিশন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করে চলেছে। আগামী জাতীয় নিবার্চনও সঠিক সময়ে সকল দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনএফ নিবন্ধন পাবে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কোন রাজনৈতিক দলই সংবিধানের মধ্যে থেকে শর্ত পূরণ করে নিবন্ধিত হতে পারে। জামায়াতের নিবন্ধন ও নিবার্চনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জাবেদ আলী বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তাদের নিবার্চন করার এখনো কোন সুযোগ নেই। তবে সামনে কি হয় দেখা যাক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নিবার্চন কমিশনের ঢাকা অঞ্চলের কর্মকর্তা মিহির সরোয়ার মোর্শেদ, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমুল হক পাভেল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনার কলি পুতুল, নবাবগঞ্জ উপজেলা নিবার্চন কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

নিবার্চন কমিশনার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সার্ভার ষ্টেশন উদ্ধোধন ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন সুধী সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন।

দোহারে রামনাথপুরে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলার রামনাথপুর এলাকা পূর্বচর থেকে পারভীন (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
৯ অক্টোবর বুধবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর এলাকার পূর্বচর সোনামদ্দিনের মেহগনির কাঠ বাগানের গাব গাছ থেকে পারভীন নামে এক গৃহবধূর গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
দুপুর ১২ টার দিকে বিল্লাল নামে এক পথচারী বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গাব গাছে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজনকে জানায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশ ময়ণাতদন্তের জন্য ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে দোহার থানার এসআই হারুন জানান, লাশটি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময়ে মাটি থেকে ১০ ফুট উচুতে নিহতে পা ছিল। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়ণাতদন্তের পরে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

দোহারে পর্ন ছবি তৈরীর দায়ে ৫ বখাটের কারাদণ্ড ও জরিমানা

মঙ্গলবার দোহার উপজেলা স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ভিডিওচিত্র মোবাইলে ধারণ ও প্রচার করার অপরাধে ৫ যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল-জরিমানা করেছেন। উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের ইকরাশী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রীর মোবাইলে ছবি তুলে তা ভিডিও এডিটিং এর মাধ্যমে পর্ণ ছবিতে পরিবর্তন করে স্থানীয় ৫ বখাটে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে ছাত্রীর পরিবারের কাছে। এই ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনকে জানালে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দোহার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীমুল হক পাভেল তাৎক্ষনিকভাবে বখাটেদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় রাজীব (১৬), রবিন (১৬), মো. জাফর (১৬) ও তার সহোদর মিঠুন (১৫) এবং মো. অনিক হোসেন (১৮) কে দোহার থানা পুলিশ গ্রেফতার করলে বখাটেদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোনের ভিতর ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ছবি সহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে রাইপাড়া ইউনিয়নের মো. শাহরিয়ার ছেলে রাজীব ও জাহাঙ্গীরের ছেলে রবিনকে ২ বছর, আসলাম হোসেনের ছেলে অনিক হোসেনকে ১ বছর, শেখ আজিম উদ্দিন-এর ছেলে মো. জাফর ও তার সহোদর মিঠুনকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদ প্রদান করে।

আমি বিএনপিতে আছি, থাকবো- ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা

আমি বিএনপিতে আছি, বিএনপিতে থাকবো। দোহার-নবাবগঞ্জ আমার প্রানের এলাকা। আমি আগামী নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জের আসন থেকে বিএনপির মনোনায়ন এনে এমপি নির্বাচিত হয়ে দোহার-নবাবগঞ্জে আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবো। সোমবার দোহার উপজেলা যুবদল নেতা মাহবুব ব্যাপারীর বাড়িতে আয়োজিত এক সভায় নাজমুল হুদা এই কথা বলেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনায়ন নিশ্চিত করার জন্য দোহারে ব্যাপক গনসংযোগ করছেন ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা। দোহারের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে বেরাচ্ছেন। এরই অংশ হিসাবে নারিশা যুবদল নেতা মাহবুব ব্যাপারীর বাড়িতে আয়োজিত এই সভায় ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা আরো বলেন,  আমি বিএনপিতে নেই, এটা এই অঞ্চলের পাগলও বিশ্বাস করে না। আমি যা কিছু করেছি বিএনপির মঙ্গলের জন্যই করেছি। তারপরও যদি আমার কোন ভুল হতে পারে, কিন্তু সেই ভুলের সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই এখনও সময় আছে, আসুন সব ভুলে এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আজ অনেকে অনেক কথা বলে, কিন্তু পিছনে ফিরলে দেখা যাবে যারা আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সুযোগ নিয়েছে, তারাই এখন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সালাম ব্যাপারী, ঢাকা জেলা মৎসজীবি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানাত, সহ-সভাপতি রফিক মুন্সি, দোহার উপজেলা জাসাসের সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান মাস্টার, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, যুবদল নেতা মিরাজ খালাসী, রাশেদ ব্যাপারী, ছাত্রদল নেতা রিপন, সেন্টু ভুইয়া, হান্নান, কামাল মোড়লসহ আরো অনেকে।

দীর্ঘদিন পর দেখা আব্দুল মান্নান খান ও মাহবুবুর রহমানের

অনেক দিন পর আবার এক মঞ্চে পাশাপাশি বসে সেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন করলেন দোহারের আওয়ামী লীগের দুই দিকপাল গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান ও দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন কথা হয় নি। হয়নি কোন শুভেচ্ছা বিনিময়।

দলীয় কোন্দল সম্পর্কে অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বলেন, দল একটি পরিবারের মতো। কারও রাগ থাকবে, কারও থাকবে ক্ষোভ বা অভিমান। সব ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলীয় আনুগত্য করাই প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব।

এছাড়া মাহবুবুর রহমান তার বক্ত্যবে বলেন, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির কথা ভুলে, দলকে ভালবেসে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনে দলকে জয়ী করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য দীর্ঘ দিন ধরেই দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সুস্পস্ট দুটি ধারায় বিভক্ত।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ কর্তৃক উপজেলা চেয়ারম্যানদেরকে নির্বাচনে মনোনায়ন না দেয়ার ঘোষনা দেয়ার পর সেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনে পাশাপাশি দেখা গেল আব্দুল মান্নান খান ও মাহবুবুর রহমানকে।

নবাবগঞ্জে শিক্ষককে পেটালো আরেক শিক্ষকের স্ত্রী

নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জাকির হোসেনকে অফিস কক্ষে ঢুকে পিটিয়েছে খন্ডকালীন শিক্ষক সাইদুর রহমানের স্ত্রী নার্গিস আক্তার।

বিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ২ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় পূর্বদ্বন্দ্বের জের ধরে জাকির হোসেনের সাথে নার্গিস আক্তারের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় শিক্ষক জাকির হোসেন বিদ্যালয়ে চলে গেলে অফিস কক্ষে ঢুকে কাঠের টুকরো দিয়ে মাথায় আঘাত করে। সাথে সাথে অন্য শিক্ষকরা তাকে জখম অবস্থায় নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়েরপ্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম নিউজ৩৯-কে বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। ঢাকায় অফিসের কাজে আছি। কমিটির সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

শিক্ষক জাকির হোসেনের অভিযোগ দীর্ঘদিন যাবত সে বিদ্যালয়ের আবাসিকে আছেন। কয়েক মাস আগে খন্ডকালীন শিক্ষক সাইদুর রহমান তার পাশে বাসা নেয়। এরপর থেকেই তার স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি করে জাকিরের পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের সাথে দূর্ব্যবহার করে। প্রতিবাদ করতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। স্কুলে তাকে মারার পর বাসায় ফিরে তার মেয়েকে মারেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নবাবগঞ্জ থানার ওসি মাসুদ করিম নিউজ৩৯-কে বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোহারে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের বিক্ষোভ

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট দোহার উপজেলা শাখা’র উদ্যোগে পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ও ভাঙন কবলিত দুঃস্থদের আশ্রয় ও পূর্নবাসনের দাবিতে দোহার উপজেলা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এর উদ্যোগে দোহারের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধ এবং ভাঙন কবলিতদের পূর্নবাসনের দাবীতে আগামী ০৭অক্টোবর, ২০১৩ইং সোমবার দুপুর ১২.০০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। উক্ত স্মারকলিপি প্রদানের সময় সকল সংগ্রামী জনতাকে অংশ গ্রহনের জন্য তারা আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে গত ১১সেপ্টেম্বর, ১৫সেপ্টেম্বর, ০১অক্টোবর, ২০১৩ইং মঙ্গলবার বাহ্রা ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক- আতিকুল ইসলাম টিটু, দোহার উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আহ্বায়ক- ডাঃ ইসহাক আলী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক- মেহেদী হাসান।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, দোহার উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক, মেহেদী হাসান অনুষ্ঠিত এ সকল সমাবেশে বক্তারা বলেন, পদ্মার ভয়ার করালগ্রাসে একের পর এক বাড়ি-ঘর, গ্রাম বিলীন হয়ে চলছে। নদী ভাঙন ক্রমান্বয়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করায় নদী সংলগ্ন অঞ্চল গুলোর এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে উঠছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায়। অন্যদিকে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ভাঙনের কবলে পড়ে রিক্ত, নিঃস্ব এবং সর্বশান্ত হয়ে উন্মুক্ত আকাশের নিচে ঠাঁই নিয়ে মাথা গোঁজার আশ্রয় খুঁজছে প্রায় ছয় শতাধিক পরিবার। কিন্তু এদের পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই। উপরন্তু এদেরকে ব্যবহার করে নির্বাচন আর নিজেদের আখের গোছানোর কাজে লাগাচ্ছে শাসক-শোষক গোষ্ঠী। নির্বাচন আসলে তারা ভাঙন প্রতিরোধ করবে, ভূমিহীনদের খাস জমি দেবে এই সব প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুটিয়ে ভোট আদায় করে। কিন্তু আজ অবধি এ ভাঙন প্রতিরোধে তারা কোন কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসন করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তাই এ সকল ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাই এলাকাবাসীর প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান ভাঙন কবলিতদের আশ্রয় ও পূনর্বাসন এবং অবিলম্বে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি নিয়ে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলুন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পুলিশ চাইলেই কি গ্রেফতার করতে পারে?

প্রত্যেক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারীভাবে আটক ও গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এটা সর্বজনবিদিত যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকলে একজন ব্যক্তির অন্য সকল অধিকার ক্রমবর্ধমানহারে অরক্ষিত এবং প্রায় অস্তিত্ববিহীন হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কনভেনশন এবং রাষ্ট্রীয় সংবিধান ও প্রচলিত আইনে সুনির্দিষ্টভাবে একজন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে আটক ও গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা প্রদান করেছে। তাছাড়া, বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটক করতে সুনির্দিষ্ট যুক্তিসংগত কারণ বিদ্যমান থাকতে হয়।

জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৯ ধারা অনুযায়ী কাউকে খেয়াল খুশি মত গ্রেফতার বা নির্যাতন করা যায় না। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ৯(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে খেয়াল খুশি মত আটক অথবা গ্রেফতার করা যায় না। এমন কি আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট কারণ ও আইনানুগ পদ্ধতি ব্যতীত কাউকে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

তাছাড়া, এ কনভেনশনের ৯(২) ধারা অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের সময় কারণ জ্ঞাপন করতে হয় এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে তাকে অবিলম্বে অবহিত করতে হয়। আবার, ৯(৩) ধারা অনুযায়ী ফৌজদারী অপরাধের দায়ে গ্রেফতারকৃত অথবা আটক ব্যক্তিকে অবিলম্বে কোন বিচারক কিংবা আইনের দ্বারা বিচার ক্ষমতা প্রয়োগের কর্তৃত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তার সম্মুখে হাজির করতে হয় এবং অনুরূপ ব্যক্তি যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে বিচার অথবা মুক্তি পাওয়ার অধিকারী।

উক্ত কনভেনশনের ৯(৪) ধারা অনুযায়ী গ্রেফতার অথবা আটকের ফলে কেউ স্বাধীনতা বঞ্চিত হতে আদালতের কার্যধারা গ্রহনের অধিকার তার থাকবে, যাতে অবিলম্বে তার আটকের বৈধতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিতে পারে এবং উক্ত আটক আইন বিরুদ্ধ হলে তার মুক্তির আদেশ দিতে পারে। সর্বোপরি, ৯(৫) ধারা কেউ অবৈধভাবে গ্রেফতার অথবা আটকের শিকার হলে ক্ষতিপূরণ লাভের বলবৎযোগ্য অধিকার তার থাকবে বলে ঘোষনা করেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, রুয়ান্ডা, তানজানিয়া, জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশে পুলিশের কাউকে গ্রেফতার করতে হলে কিছু সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে গ্রেফতার করার বিধান রয়েছে।

কম্বোডিয়া: কম্বোডিয়া সিসিপি’র ৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি সরকারী আইনজীবী (প্রসিকিউটের) লিখিত অনুমতি প্রদান করেন অথবা যদি কোন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করে অথবা যদি কোন ব্যক্তি অপরাধ সংগঠনে যুক্ত মর্মে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ বিদ্যমান থাকে তবে একজন বিচারিক পুলিশ অফিসার তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।

চীন: চায়না সিপিএল এর ধারা ৫৯ অনুযায়ী জন নিরাপত্তা সংস্থা পিপল’স প্রকিউরেটোরেট এর অবশ্য অনুমোদন সাপেক্ষে অথবা পিপল’স কোর্ট এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপরাধে অভিযুক্ত অথবা সন্দেহযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন।

তাছাড়া, চায়না সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পিপল’স প্রকিউরেটর এর অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত অথবা পিপল’স কোর্ট এর সিদ্ধান্ত ব্যতীত কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা যায় না এবং গ্রেফতার অবশ্য জন নিরাপত্তা সংস্থা কর্তৃক কার্যকর করতে হয়।

ভারত: ভারতীয় ফৌজদারী কার্যবিধির ৪১ ধারা অনুযায়ী পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগত সম্ভাব্য কারনের ভিত্তিতে আমল আযোগ্য অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে গ্রেফতারের সময় উক্ত ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে বা করছে বলে পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান থাকে হয়।

রুয়ান্ডা: রুয়ান্ডা ফৌজদারী কার্যবিধি কোডের ৩৭ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে যার শাস্তির মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ড মর্মে গুরুত্বর সন্দেহ বিদ্যমান থাকে অথবা যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি পলায়ন করতে পারে বলে যুক্তিসংগত সন্দেহ বিদ্যমান থাকে অথবা যদি তার পরিচয় অজানা বা সন্দেহজনক মনে হয়, তবে একজন বিচারিক পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে তার অফিসিয়াল সক্ষমতায় তাকে গ্রেফতার বা আটক করে থানা হেফাজতে আবদ্ধ রাখতে পারেন।

তানজানিয়া: তানজানিয়া ফৌজদারী আইন, ১৯৮৫ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী একজন পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারেন- (এ) যদি কোন ব্যক্তি তার উপস্থিতিতে শান্তি ভঙ্গ করে; (বি) যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ কর্মকর্তার আইনগত কার্যসম্পাদনে বাঁধা প্রদান করেন এবং আইনগত হেফাজত থেকে পলায়ন করে বা পলায়নের চেষ্টা করে; এবং (সি) যদি কোন ব্যক্তির নিকট যুক্তিসংগত সন্দেহযুক্ত চুরির দ্রব্যাদি পাওয়া যায়।

জিম্বাবুয়ে: জিম্বাবুয়ে সংবিধানের ১৩(২)(ই) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাচারীভাবে গ্রেফতার করা যায় না, গ্রেফতার করতে হলে উক্ত ব্যক্তি কোন ফৌজদারি অপরাধ করেছে মর্মে যুক্তিসংগত সন্দেহ বিদ্যমান থাকতে হয়।

তাছাড়া, জিম্বাবুয়ে সিপিইএ’র অধ্যায় ৫, বিভাগ এ, ধারা এ-সি অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি একজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কোন অপরাধ করতে থাকে অথবা কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে মর্মে একজন পুলিশ অফিসার যুক্তিসংগতভাবে সন্দেহ করে অথবা কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংগঠনের চেষ্ঠা করে অথবা তা সংগঠন করতে স্পষ্টভাবে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তবে একজন পুলিশ অফিসার তাকে গ্রেফতার করতে পারেন।

সর্বোপরি, জিম্বাবুয়ে সংবিধানের ১৩(২)(ই) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতারের কারণ জানাতে হয় এবং কোন প্রকার বিলম্ব ব্যতীত তার পছন্দ মত আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করার অনুমতি প্রদান করতে হয়।

বাংলাদেশ: বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না, যাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম, বা সম্পত্তির হানি ঘটে। আবার ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যায় না।

সর্বোপরি, সংবিধানের ৩৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যায় না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার মনোনীত মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের ও তার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যায় না।

তাছাড়া, সংবিধানের ৩৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করতে হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাকে তদতিরিক্ত কাল প্রহরায় আটক রাখা যায় না।

বাংলাদেশে প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী নয়টি ক্ষেত্রে যথাঃ (১) কোন আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত অথবা জড়িত বলে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ রয়েছে; (২) আইনসঙ্গত কারণ ব্যতীত ঘর ভাংগার সরঞ্জাম রয়েছে; (৩) আইনানুযায়ী যাকে অপরাধী বলে ঘোষনা করা হয়েছে; (৪) চোড়াই মাল রয়েছে বা চুরি কার্য সংঘটিত করেছে বলে সন্দেহ হয়; (৫) পুলিশের কাজে বাঁধা দানকারী বা পুলিশের হেফাজত থেকে পলায়নকারী বা পলায়নের চেষ্টাকারী; (৬) প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে পলায়নকারী; (৭) দেশের বাইরে এমন কোন অপরাধ সংগঠন করী যা বাংলাদেশে সংগঠন করলে অপরাধ বলে গন্য হত; (৮) কোন মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী মুক্তির শর্ত বা প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী; এবং (৯) আইনসঙ্গত ভাবে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের কারণ রয়েছে এমন কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অন্য কোন পুলিশ অফিসারের নিকট থেকে প্রাপ্ত অনুরোধক্রমে কোন ব্যক্তিকে বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে।

তবে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সন্দেহ সুনির্দিষ্ট, যুক্তিসংগত, দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়। খামখেয়ালীভাবে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। কোন অপরাধ সংগঠিত করেছে, করছে অথবা করতে যাচ্ছে এরূপ বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত সম্ভাব্য কারণ বিদ্যমান থাকলেই শুধুমাত্র পুলিশ অফিসার একজন ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারে। যুক্তিসংগত বিশ্বাসযোগ্য কারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সাথে বিবেচনা করতে হয়। পুলিশ অফিসারের স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে চলবে না।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী; জাস্টিসমেকার্স ফেলো, সুইজারল্যান্ড; একটি শিশুকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত; মোবাইল: ০১৭২০৩০৮০৮০; ইমেল: [email protected]; ব্লগ: www.shahanur.blogspot.com

নবাবগঞ্জে মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে। গালিমপুর-ঢাকা মহাসড়কের সূর্যখালী এলাকায় দূর্ঘনাটি ঘটে। নিহতের নাম বিপু শীল (২৫) ও আহতের নাম টিটু (২৬)।

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বিয়ে বাড়ী থেকে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, বিপু ও টিটু চুড়াইন এলাকা থেকে গালিমপুর-ঢাকা মহাসড়কের সূর্যখালী এলাকায় এলে রাস্তার উপর ড্রেজারের পাইপ লাইন অতিক্রম করতে গেলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ছিটকে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির উপড় আছড়ে পড়ে।

বিপু ও টিটুর মাথা, চোখ ও বুকের পাজর ভেঙ্গে যায় বলে জানা যায়। বিপু তাৎক্ষণিক মারা। বিপু গালিমপুর বড়গ্রামের বাদল শীলের ছেলে ও টিটু একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা আহত টিটুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ক্রমেই তার অবস্থার অবনতি হলে ল্যাব এইড ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।

তিন দিন ধরে সে সেখানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। এদিকে আহত টিটুর বাবা নূর মোহাম্মদ তার ছেলের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

নবাবগঞ্জে যুবলীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষ: গুলিবিদ্ধ এক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সোহেল আহমেদ (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নতুন বান্দুরা বটতলা সিনেমা হল এলাকায় যুবলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়।


আহত সোহেলকে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।


নেতা সোহেল নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের কাশিমপুর গ্রামের মৃত সমির উদ্দিনের ছেলে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে নতুন বান্দুরা বটতলা সিনেমা হল এলাকায় উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা না করেই নতুন কমিটি গঠন হচ্ছে জেনে আগের কমিটির সভাপতি ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেনসহ নেতাকর্মীরা সভাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন।


এ নিয়ে উভয়পক্ষের তর্কাতর্কির জের ধরে এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সোহেল আহমেদকে উদ্দেশ্য করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন পিন্তল বের করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে সোহেল দুই পায়ে ও ডান হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ হন। সোহেল মাটিতে লুটে পড়লে অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।


অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে, গুলি করার পরপরই কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


আহত সোহেল নিউজ৩৯.নেট-কে জানায়, তাকে উদ্দেশ্য করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন পিস্তল বের করে গুলি ছুঁড়লে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।


কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোহেলেকে গুলি করার কথা অস্বীকার করে জানান, সম্মেলন চলাকালে উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জালালসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে।


থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাসুদ করিম নিউজ৩৯-কে জানান, সম্মেলনে সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আহত হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।