নবাবগঞ্জে খতমে নবুওয়তের বুধবারের মহাসম্মেলন স্থগিত

0

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কোমরগঞ্জ পশুরহাট ময়দানে ভণ্ড নবী দাবিদার প্রয়াত বরকত উল্লার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির ডাকা মহাসম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ও দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এ সম্মেলন স্থগিত করেন খতমে নবুওয়তের আহ্বায়ক মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামীদ। 

খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি ও নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গালিমপুরের মিথ্যা নবী দাবিদার বরকত উল্লার ছেলে হাবিবুল্লাহ ও তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার কোমরগঞ্জ পশুরহাট ময়দানে মহাসম্মেলনের ডাক দেয় খতমে নবুওয়ত। এ বিষয়ে অনুমতির জন্য সোমবার সন্ধ্যায় মধুপুরের পীর আবদুল হামীদের নেতৃত্বে উলামায়ে কেরামগণ নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যান। এসময় ইউএনও মো. আলমগীর হোসেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ডেকে মতবিনিময় করেন। 

মতবিনিময় সভায় মধুপুরের পীর সাহেব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে এ মহাসম্মেলন স্থগিত করা হল। এসময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান, ওসি (তদন্ত) খন্দকার এখলাছুর রহমান, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইব্রাহীম খলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আবুল কালাম (দোহার), এরশাদ আল মামুন, সুবেদুজ্জামান সুবেদ, মুফতি মিজানুর রহমান, ডা. আমিনুল ইসলাম, ইউনুস বেপারী, কারী আবুল কালাম, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও প্রচারলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এজাজ আহমেদ পান্না প্রমুখ।

মাদকাসক্তদের উত্পাতে আশ্রয়হীন মুক্তিযোদ্ধা ফয়জল

জীবনের মায়া ত্যাগ করে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ফয়জল রহমান। দেশ আজ স্বাধীন। অথচ ফয়জল এখন বড্ড অসহায়। সাইকেল-রিকশা মেরামত করে অনেক কষ্টে সংসার চলে তার। নিজের ভিটেবাড়িটুকুও নেই। সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে কোনোরকমে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও মাদকাসক্তদের উত্পাতে সেখান থেকেও বিতাড়িত অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা। এখন উপায় কী তাহলে?

ঢাকার অদূরে দোহার বাজারে ছোট্ট একটা টং দোকান। এখানেই সাইকেল-রিকশা মেরামত করে সারাদিনে তার আয় দেড়শ’ থেকে দুইশ’ টাকা। কয়েক বছর আগে থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে সামান্য কিছু টাকা পান। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ। সামান্য এ টাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে ফয়জলের। টাকার অভাবে সন্তানদের ঠিকমতো লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। জীবনের শেষ সময়ে এসেও তাকে সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়।

১৯৯৯ সালে দোহারের সুতারপাড়া ইউনিয়নের কাজীরচর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারিভাবে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফয়জলও সেখানে একটি ঘর পান। বছরচারেক কোনোরকমে সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার সুযোগ হয় তার। কিন্তু মাদকাসক্ত আর বখাটেরা তার সেই আশ্রয়স্থলও কেড়ে নেয়।

ফয়জল এখন পুরোপুরি আশ্রয়হীন। ভাইয়ের জমিতে কোনোরকমে একটা টিনের ছাপরা বানিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন তা জানতে চাইলে ফয়জল বলেন, আমি তখন খুলনা গোয়ালপাড়া পাওয়ার স্টেশনের কর্মচারী। ’৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘুমিয়ে আছি। হঠাত্ চিত্কার শুনে ঘুম ভেঙে যায়। পরে জানতে পারি ঢাকায় পাকিস্তানি মিলিটারিরা নিরীহ বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। নানা আশঙ্কার মধ্যে রাত পার হয়। এরপর কেটে যায় আরও কয়েকদিন। ততদিনে নির্বিচারে বহু মানুষ হত্যা করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

আমি যেখানে চাকরি করতাম সেখানে কাজ করতেন কয়েকজন জাপানি কর্মকর্তা। দেশের এমন পরিস্থিতিতে ৩ এপ্রিল তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যশোর বিমানবন্দরে তাদের পৌঁছে দিয়ে আমিসহ সাতজন বাঙালি যখন কর্মস্থলে ফিরছি তখন পথে পাকিস্তানি মিলিটারিরা আমাদের আটক করে। নানারকম জেরা শেষে আমাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। খুলনায় ফিরে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এরপর হেঁটে দোহারের উদ্দেশে রওনা হই আমরা সাতজন। দু’দিন পর ফরিদপুরের এক স্কুলের কাছে পৌঁছতেই মিলিটারি বাহিনী আমাদের স্কুলের ভেতর আটক করে। পরদিন ভোরে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। একপর্যায়ে তারা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। আমাদের সবার শরীর থেকে তখন রক্ত ঝরছিল। দীর্ঘক্ষণ নির্যাতন ভোগ শেষে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে কোনোমতে দোহার পৌঁছলাম।

এরপর সামছুদ্দিন খন্দকার এবং আলমগীর খানের নেতৃত্বে আমরা দোহারের বিভিন্ন স্থানে গোপনে প্রশিক্ষণ নিতে থাকি। দোহারের আবদুল হাশেম, প্রিয়া কর্মকার, রাজ্জাক খান, আফতাব উদ্দিন কাজী (সাবেক চেয়ারম্যান), খালেক, সিদ্দিক, উকিল, জলিল খান, বাশার মৃধা ও জলিল দারোগাসহ অনেকেই ছিলেন আমাদের সঙ্গে। কিছুদিনের মাথায় মানিকগঞ্জ থেকে ২নং সেক্টরের ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী এসে জানান, তার ইউনিটে ৫০০ সোলজার প্রয়োজন। দোহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫০ মুক্তিযোদ্ধা মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার পোদ্দারবাড়ি ক্যাম্পে যাই। সেখানে ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন হায়দারের নেতৃত্বে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তুলি। আমাদের সঙ্গে অন্য ইউনিটের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান। রাতে মানিকগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পদ্মার পারে বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানিদের খোঁজে অভিযান চালাই। শত্রুপক্ষ আমাদের টার্গেট করে গোলাবর্ষণ করে। একপর্যায়ে আমরা পাকিস্তানি শত্রুবহরের একটা নৌকা আটক করি এবং সেখান থেকে ছয় থেকে সাতজন পাকিস্তানি মিলিটারিকে ব্যারাকে নিয়ে যাই। এভাবে একের পর এক পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলে।

খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফয়জল বলেন, আমরা তো কোনো কিছুর মোহে যুদ্ধ করিনি। পাকিস্তানিদের নির্যাতন থেকে রেহাই পেয়ে সবাই একটু শান্তিতে থাকবে, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে-এসব ভেবেই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি আশ্রয়হীন। স্বাধীন দেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার জায়গাটুকুও নেই।

জানতে চাইলে সুতাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি দায়িত্বে থাকাকালে ফয়জলসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। বর্তমানে সেখানে মাদকাসক্তদের উত্পাত বেড়ে গেছে। তারপরও এসব সহ্য করে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেখানে রয়েছেন।

তিনি বলেন, দোহারকে মাদকমুক্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউএনওকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি। মাঝেমধ্যে অভিযানের কারণে উত্পাত কিছুটা কমে। কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। এটি আসলেই উদ্বেগজনক।

দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রজ্জব মোল্লা বলেন, ফয়জল রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যতটুকু জানি তার কোনো ঘরবাড়ি নেই। একজন মুক্তিযোদ্ধার এমন দুরবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ফয়জলের জন্য যা যা করণীয় তা করা হবে।

নবাবগঞ্জে স্ত্রী তালাক দেয়ায় স্বামীর আত্মহত্যা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার সমসাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার হোসেন উপজেলার সমসাবাদ গ্রামের মৃত আ. আজিজের ছেলে। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শিউলী আক্তার তার স্বামীকে তালাকনামা প্রেরণ করলে দেলোয়ার অপমান সইতে না পেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ওলিয়ার রহমান বলেন, লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা-দোহার সড়কের সংস্কার ঝুলে আছে

ঢাকা-নবাবগঞ্জ-দোহার সড়কের সংস্কারকাজ অজ্ঞাত কারণে ঝুলে আছে। জানুয়ারি মাসের শুরুতে এ সড়কের খারশুর বেনুখালি থেকে বর্ধনপাড়া পর্যন্ত ৭ কিমি. ও দোহারের নারিশা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিমি. সড়ক কামাল অ্যাসোসিয়েটস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে সংস্কার শুরু করে। নিম্নমানের কাজ করায় এলাকার লোকজন এ কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এ অবস্থায় দু-তিন দিন কাজ করেই তা বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে কি কারণে কাজ শুরু হয়েই বন্ধ হয়ে গেল তা বলতে পারছে না সওজ কর্তৃপক্ষ। 

মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের সড়ক ও জনপথের একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা বদলি হয়ে গেছেন। কেন কাজ বন্ধ তা জানি না। 

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে কাজের মালামাল আনতে পারছে না। তাই সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে, তবে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের খারশুর বেনুখালি থেকে বর্ধনপাড়া পর্যন্ত ৭ কিমি. রাস্তায় পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গর্ত আর খানা-খন্দে ভরা। গাড়ি চলছে ঝুঁকি নিয়ে। ধীরগতিতে গাড়ি চলায় রাতের বেলা এ সড়কে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে অহরহ চুরি-ডাকাতি হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সওজ মাঝে মাঝে লোক দেখানো সংস্কার করলেও কয়েকদিন পর আবার আগের অবস্থা তৈরি হয়। ফলে জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

এদিকে একই অবস্থা দোহারের নারিশা থেকে শ্রীনগরের বাঘরা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিমি. সড়কে। দীর্ঘদিন কোনো কাজ না হওয়ায় বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, ঈদের আগে জরুরি কাজের অংশ হিসেবে কিছু সংস্কার করা হলেও এখন কাজ থেমে আছে। দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার প্রয়োজন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির এ অবস্থা দোহারের প্রায় ৩ লাখ লোকের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কামাল অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবসায়ী অংশীদার মোরশেদ জানান, সিলেট থেকে পাথর আনার সময় তাদের একটি গাড়ি ভাংচুর করেছে অবরোধকারীরা। ফলে সড়কপথে মালামাল বহন করা যাচ্ছে না। তাই নদীপথে পাথর এনে দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: দোহার কি ঢাকা জেলার ছিটমহল??

খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে: নির্মল রঞ্জন গুহ

খালেদা জিয়া স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি জামায়াত ইসলামকে কাঁধে নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যে ত্রাশের সৃষ্টি করেছেন তার দায় খালেদা জিয়াকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ। রবিবার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মানব বন্ধনে তিনি এই কথা বলেন। 

এসময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, দুই কুপুত্রের জননী বেগম খালেদা জিয়া আজ যে পেট্রোল সন্ত্রাসের শুরু করেছেন তার দায় তাকে নিতে হবে। তাকে গ্রেফতার করে বাংলার মাটিতে তার বিচার করা হবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দ্যেশ করে তিনি বলেন, বিএনপির বন্ধুরা, আর আপনারা সাধারণ মানুষের জান মাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবেন না। সাধারন মানুষকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ আপনাদের প্রতিহত করবে। বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন করে লাভ নেই, নির্বাচন ২০১৯ সালের এই সরকারের মেয়াদের এক দিন আগেও হবে না। 

দোহারে আবার বাসে আগুন

অবরোধের আগুনে আবার পুড়লো বাস। দোহারের লটাখোলা ব্রীজের কাছে পার্কিং করে রাখা ডিএনকে পরিবহনের একটি বাস শুক্রবার রাতে পুড়িয়ে দিয়েছে দূর্বিত্তরা। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে দোহার থানায়। 

দোহার থানা ডিউটি অফিসার জামাল হোসেন নিউজ৩৯-কে জানান, শুক্রবার রাত ১২:৩০ টার দিকে কয়েকজন দুর্বিত্ত গাজীপুর জ ০৪-০৩৬২ বাসে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসের হেল্পপার উজ্জল আহত হয়। পরে উজ্জলকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাসের মালিক নুরুল ইসলাম থানায় বাদি হয়ে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয় নি।

নবাবগঞ্জে অবৈধ যৌন উত্তেজক পানীয় কারখানার সন্ধান

নবাবগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ যৌন উত্তেজনাকর পানীয় কারখানার সন্ধান পেয়েছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মো. সোহেল রানা (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার কুঠুরি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। 

আটককৃত সোহেল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজনাকর নেশা জাতীয় পানীয় তৈরি করে বিক্রি করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সোহেলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩২০ বোতল ডাবল হর্স এবং খালি ৮০০ বোতলসহ তাকে আটক করা হয়।

এ সময় বাড়িতে থাকা ঝর্ণা, বর্ণা এবং সোনিয়া নামে তিন নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নবাবগঞ্জে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূল ঘটনা এড়িয়ে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে গাড়ি পোড়ানো মামলায় আসামি দেখিয়ে ৫ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ মাহফিলে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. হাবিবুল্লাকে অতিথি করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্কুল কমিটির সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কমিটির সদস্য আ. কুদুস ভূঁইয়া (৫৩), ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ (৪৫), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. শাহিন (৪৪) ও আরিফুর রহমান শ্যামলকে (৪৫) আটক করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। কিন্তু আটকদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো মামলা না দিয়ে অবরোধে গাড়ি পোড়ানোর মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠায় পুলিশ । 

আটক আ. কুদুস ভূঁইয়ার ছোট ভাই আরজু ভূঁইয়া বলেন, আমার ভাইয়েরা কোনো দল করে না। এলাকার কিছু বখাটে মাদক বিক্রি করে। মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় তারা শত্রুতা করে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদের বড় ভাই মো. হাসান বলেন, আমার ভাই কোনো রাজনীতি করে না। প্রতিহিংসাবশত তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিদের বাড়ি থেকে বাস পোড়ানোর স্থানটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। 

উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি সকাল ১১টায় বারুয়াখালী উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ মাহফিলে জামায়াত নেতাকে অতিথি করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠানে বাধা দিতে গেলে কমিটি ও শিক্ষকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আটকদের বিএনপি নবাবগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ওসমানির বাস পোড়ানো মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। গত ১৪ জানুয়ারি আগলা এলাকায় রাতে ওই বাসটি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, বাস পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে তাদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় আরও একটি মামলা হচ্ছে।

ইতিহাসের এই দিনে: ৭ ফেব্রুয়ারি

0

১৭০০ সালে ফরাসি ভৌগোলিক ও মানচিত্রকার ফিলিপ বুয়েশের জন্ম। 

১৮১২ সালে ইংরেজ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের জন্ম।

১৮৩৭ সালে ‘অক্সফোর্ড নিউ ইংলিশ ডিকশনারি’র সম্পাদক জেমস হেনরি মারি জন্মগ্রহণ করেন।

১৮৬৫ সালে ইংরেজি ‘পলমল গ্যাজেট’ প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৮৭০ সালে অস্ট্রীয় মনস্তত্তবিদ আলফ্রেড এ্যাডলারের জন্ম।

১৮৭১ সালে আমাশা রোগের জীবাণু আবিস্কারক জাপানি জীবণুবিদ শিগা কিয়োশির জন্ম।

১৮৮৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঔপন্যাসিক, ছোটগল্প লেখক ও নাট্যকার সিনক্লেয়ার লুইসের জন্ম।

১৮৯৪ সালের এই দিনে বিখ্যাত সুর স্রষ্টা এবং সেক্সাফোনের আবিষ্কারক এডলফ সক্সের মৃত্যু।

১৯০৪ সালে চিত্রশিল্পী বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৮ সালে ইংরেজ বিজ্ঞান লেখক ম্যাট রিডলির জন্ম।

১৯৭৪ সালে মধ্য আমেরিকায় অবস্থিত ছোট্ট দেশ গ্রানাডা স্বাধীনতা লাভ করে ।

১৯৭৯ সালে সাহিত্যিক কমলকুমার মজুমদার মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৮২ সালে বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা ও মার্কসবাদী লেখক অনিল মুখার্জি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯২ সালে অভিন্ন ইউরোপ গঠনের জন্য চুক্তি সাক্ষরিত হয়।

২০০১ সালে মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী ও দার্শনিক জেরল্ড ক্যাট্‌জের মৃত্যু।

বালুর ট্রাক ও ড্রেজার পাইপে জীবননাশ

‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’। মানুষের জীবন-জীবিকা, বাসস্থান, পরিবেশ সবকিছুকে তুচ্ছ মনে করে দোহার-নবাবগঞ্জর পদ্মা ও ইছামতি নদীসহ ছোট ছোট খাল বা শাখা নদী এমনকি ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ফসলি জমিকে পুঁজি করে ক্ষমতার এই হুলি খেলায় মেতে উঠেছে বালু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। বালু ব্যবসায়ী হলেও, স্থানীয়ভাবে আড়ালে-আবডালে মানুষ এদের বলে ‘বালুদস্যু’। তাদের উত্থানে দুই উপজেলার নদী ও তীর এমনকি সড়কগুলোও কম্পিত। এ কাঁপনে সবচেয়ে বেশি কাঁপছে সাধারণ মানুষ। 

বালুর ট্রাক ও ড্রেজারের পাইপের সর্বনাশা থাবায় গত এক মাসে ঝড়েছে ৭টি তাজা প্রাণ। গুরুতর আহত হয়ে পুঙ্গত্বকে বরণ করেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ কিছুটা সুস্থ হলেও শরীরে রয়ে গেছে ক্ষত। কোন কিছুরই পরোয়া করছে না এ সিন্ডিকেট। আর সব জেনেও নিশ্চুপ রয়েছে প্রশাসন। জানা যায়, গত এক সপ্তাহে বালুর ট্রাকের চাপায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে দুই স্কুলশিক্ষার্থী। এরা হলো দোহার উপজেলায় মালিকান্দা গ্রিনলিফ প্রিপারেটরি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী বাহালুল ও দোহারের ইসলামাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সাফিয়া আক্তার। এছাড়া আহত হয়েছে বাহালুরের বাবা খোকন বেপারি ও বড় বোন খুশবু। 

আর নবাবগঞ্জে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে রাস্তার ওপর ড্রেজারের পাইপের ধাক্কায় মারা গেছেন ৫ জন। এরা হলেন সাপ্তাহিক সময়ের সঙ্গে পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সাজিদ আহমেদ রিপন, নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাজমূল, মহব্বতপুর গ্রামের আমিন, কলাকোপার এলাকার মনির হোসেন। 

এছাড়া গত সপ্তাহে ড্রেজারের পাইপের কবলে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে রাজধানীর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন দোহারের রাইপাড়া এলাকার আরব আলীর ছেলে মো. সবুজ (২৫)। একই সঙ্গে আহত হয়েছে রিয়াজুল নামে অপর এক যুবক। 

সরজিমন দেখা যায়, সুন্দরীপাড়া এলাকার প্রধান রাস্তায় দুটি, মালিকান্দা এলাকার প্রধান রাস্তায় একটিসহ নারিশা ও অলিগলির বিভিন্ন রাস্তায় স্থাপন করা হয়েছে প্রাণঘাতী এসব পাইপ। এছাড়া নবাবগঞ্জের কোমরগঞ্জের প্রধান সড়কে দুটি, বাগামারা এলাকার প্রধান সড়কে দুটি ও সাদাপুর এলাকার প্রধান সড়কে পারাপার করে উচ্চতাসম্পন্ন ড্রেজার পাইপ স্থাপন করে ব্যক্তিগত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বালুদস্যুরা। কোন ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ওপর স্থাপন করা হচ্ছে এসব ড্রেজার পাইপ। আবার নদীর পাড় থেকে বালু বহন করা হচ্ছে ফিটনেসবিহীন ট্রাক ও মাহেন্দ্রার মাধ্যমে। যেগুলোর স্টিয়ারিং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালকের হাতে। নবাবগঞ্জের কোমরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, সড়কের ওপর ড্রেজারের বালুর পাইপ স্থাপনের কারণে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব পাইপের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। 

এসব যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা হতাহত হন। রাতে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি। তারা বলেন, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও ব্যবসার সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। বেশির ভাগ ড্রেজারই সরকারের অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে চালানো হয়। স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এর সঙ্গে জড়িত থাকায় কেউ কিছু বলতেও পারেন না। নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যারা অবৈধ বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।