মিজানুর রহমান শমশেরীর কবিতা: ধানক্ষেত : তুমি আর আমি, অস্পষ্ট জননী 

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

ধানক্ষেত : তুমি আর আমি 

কাঁচা মরিচের সবুজের মতো, 

কুমারী ধানের মতো আছো নুয়ে, 

আমার হৃদয়ে একান্ত নিবিড় হয়ে, একান্ত নিবিড়; 

যেমনি নেতিয়ে থাকে মাচানে 

পুঁইয়ের ডগা নিতান্ত স্থবির, 

আশ্বিনের সোনাঝরা রৌদ্রটুকু চুয়ে চুয়ে।

 

তোমাকে দেখেছি আমি কার্তিকের প্রথম ফসলে

শালিকের ভিড়ে, ভাঙা উঠোনের পাশে, 

যেখানে চড়ুই বসে বেগুনের ডালে।

 

কার্তিকের দারুণ রোদ্দুরে যখন কাস্তে হাতে মাঠে নামি, 

তোমাকে দেখেছি সেইবেলা, 

দেখেছি মাঠের পরে ধানশিষে ফড়িঙের প্রেম-প্রেম খেলা। 

নতুন উদ্যমে মনে হয় পৃথিবীটা ধানক্ষেত : 

সেখানে শালিকের মতো শুধু তুমি আর আমি।

 

 

অস্পষ্ট জননী 

 

আমি যতোদিন তোমাকে ভেবেছি এই দূরপ্রবাসে মা আমার,

যতোদূর মনে পড়ে, স্পষ্টতর নও তুমি; আধো আলো-আঁধারে

আলুথালু চুল, চোখের নীচে ঝুলে পড়া মাংস, অস্থিচর্মসার

তোমাকে হারাই যেন বার বার একদল ভিখারির ভিড়ে।

 

আমার পড়ার টেবিলের সামনে- প্রচ্ছন্ন দেয়ালের আস্তরণে

তোমাকে প্রতিষ্ঠা করি মাগরেবের সায়াহ্ন-কিরণে- জায়নামাজে,

অনেক মিনতিভরা চোখে তোমাতে তাকাই; তুমি তবু অকারণে

দূর থেকে ফিরে যাও ভিখারিণী বেশে একদল ভিখারির মাঝে।

 

আমার অস্তিত্ব সর্বদা ঘোষণা করে- আমি এক দূরন্ত পুরুষ;

বাবার বিশাল বক্ষ, তেজোদ্দীপ্ত আঁখি, আমি তাঁরই উত্তরসূরি :

তোমার লাঞ্ছনা দেখে ফেটে পড়ে বিদ্রোহের দারুণ আক্রোশ।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দরবান ভ্রমণ – নীলাচল ও মেঘলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

সবুজে নীলে আঁচলে বান্দরবান শহর ছাড়িয়ে নীলাচলের পথে উঠতে শুরু করলেই মনে হয়, আপনি আর স্রেফ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন...

নবাবগঞ্জের গ্রামগুলি | গ্রামের তালিকা

নবাবগঞ্জের গ্রামগুলি পদ্মা, ইছামতি ও কালিগঙ্গা এই তিন নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে ইছামতি এর প্রাণ, আর...

দোহারের গ্রামগুলি | গ্রামের তালিকা

দোহারের গ্রামগুলি, বদলে যাচ্ছে দ্রুত। গ্রামগুলো বড় হচ্ছে, এ গ্রাম ও গ্রাম মিলে এক হয়ে যাচ্ছে। যেখানে ছিল...

কুর্দি কারা? ইতিহাস ও পরিচয়

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এমন এক বিশাল জনপদ রয়েছে, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং সুদীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব...