অন্তহীন অনিয়মে জড়িত দোহার পৌর প্রকৌশলী

নিউজ৩৯♦ ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি একজন উপসহকারী প্রকৌশলী। পদোন্নতি না পেয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর মশিউর রহমান দোহার পৌরসভায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন।

যোগদানের পর থেকেই তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। স্থানীয় বিভিন্ন নেতার সাথে ভাল সম্পর্কের  সুবাদে শুরু থেকেই তিনি তার অনিয়ম-দুর্নীতি জায়েজ করে নেন। তার এসব কাজে ৫ বছর ধরেই সহযোগিতা করে আসছে প্রভাবশালী চক্র। প্রকৌশলী মশিউরের মাধ্যমে তারাও বাগিয়ে নিচ্ছে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার পৌরসভার একজন কাউন্সিলর জানান, পৌর মেয়র আবদুর রহিমের বার্ধক্যের কারণে পুরো সুযোগ নিচ্ছেন প্রকৌশলী। তিনিই সব প্রকল্প উপস্থাপন করে দায়সারা কাজ করে লুটপাট চালাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৩ সালে পৌর এলাকায় সড়কবাতি ব্যবহারে প্রায় দুই কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু প্রকৌশলী মশিউরের স্বেচ্ছাচারিতায় কম দামে নিম্নমানের বাতি লাগানো হয়। সংযোগ দেয়ার ৬ মাসের মধ্যেই অনেক এলাকার বাল্ব কেটে যায়। এসব এলাকা এখন অন্ধকারে রয়েছে।

জয়পাড়া বাজারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কিচেন মার্কেট নির্মাণ করা হয় ২০১৩ সালে। সেখানে ২৭টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়। বেশিরভাগ বরাদ্দই পেয়েছেন প্রকৌশলী মশিউরের কাছের লোকজন। যাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক আছে। বাজারের ব্যবসায়ী সাহেব মিয়া বলেন, যাদের জন্য এ মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে তারা কেউ দোকান পাননি। 

সম্প্রতি দোহার পৌর এলাকার উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৮কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র আহ্বানে অনেক ঠিকাদারকেই দরপত্র কিনতে না দিয়ে সমঝোতা (নিকো) করে কাজ বণ্টন করা হয়। এতে মাত্র ৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রকৌশলী মশিউর সেখান থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নবাবগঞ্জের একজন তরুণ ঠিকাদার জানান, তিনি ওই কাজের দরপত্রে অংশ নিয়ে সমঝোতার ভাগে ৬৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রকৌশলীকে কত টাকা দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

প্রকৌশলী মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই তিনি দরপত্র আহ্বানের কাজ শেষ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।

নিয়ম না মেনে পদোন্নতি : দোহার পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী না হয়েও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে এ পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার বিষয়ে জানতে পেরে তদন্ত করে। তাকে অনৈতিক কাজের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়।

দোহারের সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাজনৈতিক মহল ও সুধী সমাজের কাছে মশিউর একজন অসাধু কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার এহেন কোনো অপকর্ম নেই যা কারও অজানা। প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি সব অনিয়ম-দুর্নীতি করে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

নিকড়ায় গুলিবিদ্ধ ডাকাত আটক, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইবাদ আলী (২৮) নামে এক ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাতে দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী নিকড়া চক এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ডাকাত ইবাদ আলী বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার ঘাঁটভিলা গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে। 

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো: সায়েদুর রহমান জানান, দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী নিকড়া চক এলাকার সড়ক পথে ডাকাত দল বিভিন্ন যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতি করছে বলে অভিযোগ ছিল। সোমবার রাতে ২টি মোটরসাইকেলসহ এসআই আতিকুর রহমানকে তিনজন পুলিশ সদস্যসহ ঐ স্থানে যায়। এ সময় ৫ থেকে ৬ ডাকাত রাস্থায় রশি ফেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথ রোধ করে। তারা পুলিশ বুঝতে পেরে তাদের উপর হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টায় কয়েকটি গুলি ছুড়লে ডাকাতের দুই পায়ের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হলে সে গুরুতর আহত হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। 

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দোহারের উন্নয়ন করতে চাই – সালমা ইসলাম

বিলাশপুর ইউপি অফিস-হাজারবিঘা ছোট রামনাথপুর-হরিচণ্ডি মাহমুদপুর ইউপি অফিস সড়ক উদ্বোধন করছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপিবিলাশপুর ইউপি অফিস-হাজারবিঘা ছোট রামনাথপুর-হরিচণ্ডি মাহমুদপুর ইউপি অফিস সড়ক উদ্বোধন করছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাশপুর-মাহমুদপুর রাস্তার সংস্কার শেষে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, দোহারের বেশির ভাগ রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমি এগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। মঙ্গলবার দুপুরে দোহারের বিলাশপুর ও সাহেববাজার এলাকায় উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, বিগত দিনে যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি কোনো কাজ করেননি। তাই জনগণের দুঃখকষ্ট লাগবে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমি এসব উন্নয়ন কাজ করতে চাই। আপনারা আমার পাশে থাকলে আমি জনস্বার্থে সবকিছু করতে সাহস পাই।

তিনি বলেন, যে কোনো উন্নয়নের জন্য আপনারা আমার কাছে কোনো সংকোচ ছাড়াই চলে আসবেন। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

মঙ্গলবার দুপুরে দোহারের বিলাশপুর, পৌর এলাকার সাহেববাজারে সংস্কার হওয়া নতুন রাস্তার উদ্বোধন ও ব্যাঙের চর এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূঁইয়া, উপজেলা প্রকৌশলী সুশীল চন্দ্র সরকার, বিলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা, নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, দোহারের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা

মিজানুর রহমান শমশেরীর দুটি কবিতা: সমতার ঝড় ও প্রভাত প্রতীক্ষা

সমতার ঝড়

একটা ঝড় উঠুক, একটা ঝড়

ভেঙেচুরে যাক প্রাসাদ কানন

ক্ষুদ্র কুটিরের চালান খড়,

একটা ঝড় উঠুক, একটা ঝড়।

উঠুক না বেজে প্রলয় বিষাণ

ভয় কী রে আজ ভয় কী রে আর,

সে ঝড়ে জাগুক শ্রমিক কৃষান

আশার স্বপন ভেঙে গেছে যার।

আসুক তুফান প্রলয় বেগে

ভাঙুক রে সব ভাতের বাসন

বাতাসে উড়ুক ছিন্ন কাঁথা

ধূলিতে পড়ুক রাজার আসন।

বিশ্বে পড়ুক হায় হুতাশা

নিঃস্ব যারা খুঁজুক রুটি

সকল মানুষ একসাথে ফের

নতুক করে বাঁধুক খুঁটি।

প্রভাত প্রতীক্ষা

রাত জেগে বসে আছি প্রভাতের প্রতীক্ষায়

জানি না কখন ফুরাবে তিমির রাত,

রাতের দীনতা চিরে আলোর বন্যায়

অবশ্য তোরণ দ্বারে আসবেই সুপ্রভাত।

রাতের নৈঃশব্দ্যে শুনি আলোর মহোৎসব

চোখে মোর সম্ভাবনার উজ্জ্বল জ্যোতি

কান পেতে শুনি ধৃষ্ট আত্মার কলরব

মৃত্যুর করাল ভেদি জীবনের স্তুতি।

রাতের দীনতায় এসে অদৃশ্য তৃতীয় হাত

বার বার বিভ্রান্ত করেছে বন্দি আত্মার

চূড়ান্ত পরাজয়ে যখন টুটবে রাত

অবশ্যই বুঝে নিবে কী স্বাদ ধৃষ্টতার।

বিক্ষোভের মুখে দোহার মেয়রের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাতিলের আশ্বাস

তানজিম ইসলাম, নিউজ ৩৯.নেট ♦ দোহার পৌরসভায় শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে স্টেডিয়াম এবং পার্ক নির্মানের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ২৬ মে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল করে পৌরসভায় এসে মিলিত হয়। সেখানে পৌরসভা সংবাদ সম্মেলন করে।

মিছিল পৌরসভায় এলে মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেন যে এ পরিকল্পনা বাদ দেয়া হবে। তিনি বলেন, “আমি দোহারের এই এলাকার একজন মানুষ আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আমি আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব সব সময়। আপনারা আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি এমন কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেব না যাতে আপনাদের কোন ক্ষতি হয়।“

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন দোহার পৌরসভার সকল কাউন্সিলর এবং সকল কর্মকর্তা কর্মচারী। মেয়র অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য অন্য একজন পড়ে শুনান।

মূলত সংবাদ সম্মেলনকে উদ্দেশ্য করে এই বিক্ষোভের আয়োজন। এর আগে পর পর দুই দিন ৫, ৬ ও ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বিক্ষোভ-মিছিল করে পরিকল্পনা বাতিলের দাবী জানায়। তার প্রেক্ষিতে সেদিন মেয়র আব্দুর রহিম পরিকল্পনা বাতিলের ও সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন।

দোহার পৌরসভায় বিক্ষোভ

এ সময়ে কিছু ছেলে পৌরসভার গাছের আম ছিড়ে নেয় এবং ফুলের গাছ উপরে ফেলে। পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয়।

চির বিদায় নিয়েছেন সিদ্দিক স্যার

নিউজ৩৯.নেট ♦ ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার জয়পাড়া কলেজের সাবেক শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহামান ইন্তেকাল করেছেন। ২৫ মে সোমবার সকাল পাঁচাটায় ঢাকায় ইন্তেকাল করেন জয়পাড়া কলেজের এক সময়কার জনপ্রিয় শিক্ষক ‘সিদ্দিক স্যার’। চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজ বাড়ীতে জোহরের নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় শিক্ষকতা করার পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জয়পাড়া কলেজ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন। তিনি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি রক্তশূন্যতায় ভুগছিলেন, তাকে ভারত থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনা হয়।  কিছুটা স্বুস্থ্যও হয়েছিলেন, সেই সময় তিনি জয়পাড়া কলেজে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিতে আসেন।

চলতি মাসের দুই তারিখে হঠাৎ তার দেহে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে, এরপরে তাকে কেমোথেরাপি দেয়া হয়।

শিক্ষকের পরিবার তার সকল ছাত্র ও দোহারবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

জয়পাড়া কলেজের দুই প্রবীন শিক্ষকের বিদায়

নবীন সংঘের কমিটিতে নাম নেইঃ উপদেষ্টা আলমাছ আলীর বাড়িতে হামলা

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের বিলপল্লী-চর তুইতাল নবীন সংঘের কমিটিতে পদ না পেয়ে সভাপতি ও উপদেষ্টার বাড়িতে হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে ক্লাবের উপদেষ্টা আলমাছ আলীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ৪ দিনে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় ক্লাবের সভাপতি ও খেলোয়ারসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে ক্লাব সভাপতি আবুল কালাম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পুলিশ কাউকে আটক করেনি। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী জানায়, মঙ্গলবার বিকালে ক্লাব কমিটির সভাপতি আবুল কালামকে মারধর করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ বিষয়ে থানায় মামলা করার সময় উপদেষ্টা আলমাছ আলী উপস্থিত থাকায় প্রতিপক্ষ তার ওপর চড়াও হয়। বুধবার ক্লাব মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলা শুরুর আগে হঠাৎ ৪০-৫০ জন সশস্ত্র লোক মাঠে প্রবেশ করে খেলোয়ারদের মারধর শুরু করে। এতে আবুল, মিজান, হাসান, মেহেদি, রিপন, মোসলেমসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।

আতংকিত হয়ে উপস্থিত দর্শক, কমিটির লোক ও খেলোয়াররা দিগি¦দিক ছুটতে থাকে। বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা মঞ্চের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বল কেটে টুকরো-টুকরো করে। গোলবারের জাল ছিঁড়ে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও হামলাকারীরা গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছিল বলে এলাকাবাসী জানায়।

এদিকে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ৮-৯ জনের দেশীয় অস্ত্রধারী একটি দল ক্লাবের উপদেষ্টা আলমাছের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা টিনের চালায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে জানালা-দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

নবাবগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার সোহেল রানা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জে কিশোরকে হত্যার অভিযোগ বিলাসপুরের তরুনের দিকে

নারায়নগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লায় এলাকায় স্বপন (১৪) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার গিরিধারা আবাসিক এলাকায় গতকাল শনিবার রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্বপন ফরিদপুর জেলার ড্যাঙি সদরপুর এলাকার মোফজেল মুন্সির ছেলে। সে গিরিধারা আবাসিক এলাকায় খোকন শরিফের বাসায় থেকে তার ওয়ার্কসপে কাজ করত। এই ঘটনায় প্রধান সন্দেহেভাজনের তালিকায় উঠে এসেছে দোহারের বিলাশপুরের কালাম শরীফের ছেলে ফজলু (২৪) এর নাম। 

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আসাদুজ্জামান পরিবারে বরাত দিয়ে জানান, কয়েকদিন পূর্বে চাচাতো ভাই কালাম শরীফের ছেলে ফজলু (২৪) দোহার ভিলাসপুর থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। তাকে স্বপনের সঙ্গে এক রুমে থাকতে দেয়া হয়। শনিবার ভোরে চিৎকারের শব্দ শুনে তাদের ঘরে দৌড়ে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি স্বপন ঘুমন্ত অবস্থায় আর ফজলু বসে আছে। পরে ফজলুকে আরেকটি রুমে বসিয়ে স্বপনকে ডাকি। এ সময় ফজলু ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সন্দেহ হলে আশপাশের লোকজনকে ডেকে উঠিয়ে দেখি স্বপন মারা গেছে। তার গলায় কাপড় বা দড়ি পেঁচানো দাগ রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

বদলে যাওয়া দুই শিশু দেড় বছর পর প্রকৃত মায়েদের কোলে

দেড় বছর পর সুমি জামান ও রিনি আক্তারের কোলে ফিরে এসেছে তাদের প্রকৃত সন্তান। ঢাকার দোহার জেনারেল হাসপাতালে একই দিনে প্রায় একই সময়ে একটি করে কন্যাসন্তান প্রসব করেন এ দুই নারী। কিন্তু হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের ভুলে অপারেশন থিয়েটারেই অদল-বদল হয়ে যায় তাদের সন্তান।

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় নবজাতকদের। তবে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী শিশুর ওজনে গরমিল হওয়ায় সন্দেহ জাগে সুমি জামানের মনে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে সুরাহা হয়নি। কিন্তু হাল ছাড়েননি সুমি।

প্রকৃত সন্তানকে ফিরে পেতে শরণাপন্ন হন তিনি আদালতের। অবশেষে দীর্ঘ দেড় বছর আইনি লড়াইয়ে শিশুরা ফিরে যায় তাদের আসল মায়ের কোলে। ঢাকা জেলার দোহার থানার সুতারপাড়া এলাকার গৃহবধূ সুমি জামান। ২০১৩ সালের ১ নভেম্বর প্রসব বেদনা নিয়ে সন্তান প্রসবের জন্য ঢাকা জেলার জয়পাড়ায় অবস্থিত দোহার জেনারেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে ভর্তি হন। একই দিনে একই এলাকার গৃহবধূ রিনি আক্তারও ওই হাসপাতালে ভর্তি হন।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির দিন সুমি জামান ও রিনি আক্তার উভয়কে একত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। অপারেশন পরিচালনা করেন ডা. দীপি বড়ুয়া। তাকে সহযোগিতা করেন ডা. জহির। ওই সময় নার্স মোফসানা ও আঁখি এবং ওটি বয় মোরাদ ছিলেন। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর সুমি জামান এবং রিনি আক্তার উভয়েরই একটি করে দুটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, পরে যখন সন্তান দুটিকে দুই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তখনই সুমি জামানের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে, এটি তার সন্তান নয়। সন্দেহের কারণ ছিল তার শিশুটির ওজন নিয়ে। কারণ, আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী সুমি জামানের গর্ভস্থ সন্তানের ওজন ছিল ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। কিন্তু যে শিশুটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয় তার ওজন প্রকৃতপক্ষে ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম। কোনো উপায় না থাকায় দুই পরিবার হাসপাতাল হতে হস্তান্তর করা দুই সন্তানকে লালন-পালন করতে থাকে। সুমি জামান তার কাছে থাকা কন্যাটির নাম রাখেন রাবেয়া। অপরদিকে, রিনি আক্তার তার কাছে থাকা শিশুটির নাম দেন রুবায়দা। আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট দেখে ধীরে ধীরে সন্দেহ জন্ম নিতে থাকে রিনির মনেও। তবে এ নিয়ে তিনি কোনো ঝক্কি-ঝামেলায় যেতে চাননি।

সুমি জানান, প্রকৃত সন্তানকে না পেয়ে তার কান্না থামছিল না। তার কোলে যে সন্তান আছে তাকে কোলে নিয়ে তিনি রিনির বাসায় যান। সেখানেও কান্নায় ভেঙে পড়েন। রিনির কোলে যে সন্তান ছিল সেটিই তার সন্তান বলে দাবি করেন সুমি। কিন্তু রিনি জানান সে তো এই সন্তানই পেয়েছেন। আর তার সন্তানের ওজনের বিষয়ে আগে কোনো মেডিকেল রিপোর্ট তিনি করেনি। রিনি আক্তার বলেন, সুমি জামানের সন্দেহের পর আমারও প্রবল কষ্ট হতে থাকে। আমি যে সন্তান কোলে নিয়ে আছি সেটা আমার নয়। তবুও মাতৃস্নেহে শিশুটির বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করি।

সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একপর্যায়ে সুমির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিনিও কিছুটা সদয় হন। এই অবস্থায় দুই পরিবারই ডিএনএ পরীক্ষার কথাটি বিবেচনায় নিয়ে আসেন। কারণ, একমাত্র ডিএনএ পরীক্ষাই বলে দিতে পারে কোন শিশুটি কার গর্ভজাত সন্তান। তখন সুমি বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশের কথা জানান। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে, সবার সঙ্গে পরামর্শ করে অবশেষে তারা ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-৪, ঢাকা আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি ৩৮০/৪০৬/৪১৭/৩৪ দণ্ডবিধি মোতাবেক সিআর মামলা নং- ২০৯/২০১৪ রুজু হয়।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার করার আবেদন জানান। সুমি জামান, রিনি আক্তার ও দুই নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত। ১০ মার্চ দোহার থানা পুলিশ এই চারজনের ফরেনসিক ডিএনএ নিয়ে ল্যাবরেটরি অব বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডিতে উপস্থিত হন। ল্যাবরেটরিতে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এবং তাদের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে উপরোক্ত চারজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সুমি জামান ও কন্যাসন্তান রাবেয়া, রিনি আক্তার ও কন্যাসন্তান রুবাইদার প্রত্যেকের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক অ্যান্ড ল্যাব) শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার জাতীয় দৈনিক যুগান্তরকে জানান, প্রথমে রাবেয়ার ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সুমি জামানের ডিএনএ প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা হয়। এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, রাবেয়া, সুমি জামানের সন্তান নয়। একইভাবে রিনি আক্তার এবং রুবায়দার ডিএনএ প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে প্রমাণিত হয় যে, রুবায়দাও রিনি আক্তারের সন্তান নয়।

সিআইডির ল্যাবের উচ্চপ্রযুক্তি ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ রেজাউল হায়দার বলেন, আমরা সুমি জামানের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে রুবায়দার ডিএনএ প্রোফাইল বিশ্লেষণ করি। এই বিশ্লেষণের ফলাফলে দেখা যায় যে, প্রকৃতপক্ষে সুমি জামানই রুবায়দার মা। তারপর রিনি আক্তার এবং রাবেয়ার ডিএনএ প্রোফাইল তুলনা করে প্রমাণ হয় যে, রিনি আক্তারই রাবেয়ার প্রকৃত মা। এভাবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই সুমি জামানের সন্দেহ সত্য বলে প্রমাণিত হয়। ডিএনএ পরীক্ষার ফলেই সুমি জামান এবং রিনি আক্তার তাদের প্রকৃত সন্তানকে ফেরত পান।

সিআইডির ল্যাব সূত্র জানায়, ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে বদলে যাওয়া শিশুদের মাতৃত্ব নির্ণয় করা হয়। এরপর সিআইডির কর্মকর্তারা সম্প্রতি আদালতের আদেশে সুমি ও রিনির কাছে প্রকৃত সন্তানদের ফেরত দেয়া হয়।

সিআইডির কর্মকর্তাদের সামনে সুমি জামান জানান, আমি শুরু থেকেই সন্দেহ করছিলাম, আমাকে যে সন্তান দেয়া হয়েছে তা আমার নয়। কারণ, আলট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে আমার সন্তানের ওজন ছিল ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। আর হাসপাতাল থেকে যে সন্তান আমাকে দেয়া হয়েছিল তার ওজন ছিল ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম। সুমির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রিনিও ডিএনএ পরীক্ষায় রাজি হন। তিনি বলেন, আমিও চেয়েছি প্রকৃত সন্তানের মাঝে সুখ খুঁজে পেতে। সুমি জামান ও রিনি আক্তার উভয়ই জানান, সফল এ ডিএনএ পরীক্ষার পর তারা দুজন এখন ভালো বন্ধুও।

মিজানুর রহমান শমশেরীর দুটি কবিতা: যে প্রাসাদে বাস করি 

যে প্রাসাদে বাস করি 

যে প্রাসাদে বাস করি, শুনি এর ভিত নাকি ভাঙা

কার্পেট উঠিয়ে দেখি 

বুকভাঙা মানুষের খুন দিয়ে রাঙা।

দেয়ালের প্রতি ইটে অহরহ শুনি কার ক্রন্দন

কত যে চোখের জলে 

ধুয়ে দেয় নিতি রঙিন আস্তরণ।

 

বহুদিন হতে এ প্রাসাদে আমি নিঃসঙ্গ কাল যাপি

নীরব নিভৃতে তবু শুনিতেছি বাতাসের দাপাদাপি

গভীর নিশীথ জেগে প্রতিদিন কার পদশব্দ শুনি,

মনে হয় কারা যেন খুঁজিতেছে- খুঁজিতেছে কার খুনি।

 

নিমীলিত আঁখি স্বপ্ন-জড়ানো কত যে তিমির রাত

নিঃশব্দে ক্ষয়ে গেছে সয়ে সয়ে বাতাসের পদাঘাত।

তীব্র ভ্রুকুটি হেনে প্রতিদিন প্রাণের উচ্ছ্বাস-

মহাক্রোধে ছুঁড়ে দেয় 

দেয়ালে দেয়ালে বিষাক্ত নিশ্বাস।

 

আমি যে অনাথ- 

নিয়েছি আশ্রয়, কেন এ ভ্রুকুটি হানো?

আমি তো জানি না এ রহস্য কিছু, 

ইতিহাস তুমি জানো।

 

কান্ত দেখে হাসি

 

আমার কান্ত দেখে হেসে মরি

বুকের ভিতরে টক টক টক দু হাত দোলন যেন

বেজে চলে সময়ের ঘড়ি।

 

খাবার বাসন নেই- সিগ্রেটের বাক্সটা পকেটের পুঁজি

মনের দর্পণে ঘুরে ফিরে আপন সত্তাকে আমি খুঁজি।

চোখের কোটরে আঁটা একজোড়া চোখ যেন সুপারির মতো

নিঃশেষে আমাকেই গ্রাস করে যাবে এমন উদ্ধত।

অন্তহীন পথে হেঁটে চলি মাইল ক্রোশ পাঁচ দশ বিশ

আমার গতিকে রুখতে পারে না সিগন্যাল ট্রাফিক পুলিশ।

 

সারাদিন গাড়ি চলে, ধোঁয়া ছুঁড়ে গাড়ি চলে ট্রাক বাস রেল

আমি চলি দ্রুতগামী- কারা যেন ডেকে বলে- ফেল ফেল ফেল।