নবাবগঞ্জে মদ্যপায়ীর হামলায় যুবক আহত

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মদ্যপায়ী বখাটেদের গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় শেখ টনি (২৭) নামে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বিলপল্লী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযোগে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে বিলপল্লী গ্রামের ৫-৬ বখাটে যুবক মাতাল অবস্থায় স্থানীয় চরতুইতাল-বিলপল্লী মাঠে এসে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির নাম ধরে গালিগালাজ করে। এ সময় শেখ টনিসহ কয়েকজন যুবক এর প্রতিবাদ করে। পরে বখাটেরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বখাটে ফারুকের নেতৃত্বে মামুন, মতি, সোলায়মান, রাজীবসহ আরও কয়েকজন মিলে শেখ টনিকে লোহার পাইপ, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

 

 

হারিয়ে যাচ্ছে ইছামতি

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদী। একসময় দিন-রাত শোনা যেত নদীর উত্তাল ঢেউ আর জাহাজের সাইরেন। কিন্তু আজ আর নেই ইছামতির সেই চিরচেনা যৌবন। হারিয়ে যেতে বসেছে তার আপন চেহারা। মিইয়ে গেছে আসল দৃশ্য। আর এর প্রধান কারণ ইছামতি ও পদ্মা নদীর সংযোগস্থল কাশিয়াখালী বাঁধে নির্মাণ করা হয়েছে অপরিকল্পিত স্লুইসগেট। নদীর প্রধান সংযোগস্থলে স্লুইসগেট নির্মাণ না করে নির্মাণ করা হয়েছে অন্যত্র। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইছামতি বাঁচাও আন্দোলন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মূল নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে থেকেছে সব সময়ই উদাসীন।

এতে শুকিয়ে গেছে কাশিয়াখালী থেকে শিকারীপাড়া বারুয়াখালী বান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার নদীপথ। সমস্যায় পড়েছে স্থানীয় ৫ হাজার জেলে পরিবারের প্রায় ২৫ হাজার সদস্য। সে সঙ্গে বেকার হয়ে পড়েছে নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হাজারও পেশার মানুষ। আর এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে ঢাকা জেলার দোহার-নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধিক বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

ইছামতি বাঁচাও আন্দোলনের প্রেসিডেন্ট সাবেক মেজর সুধীর সাহা বলেন, ইছামতি ও পদ্মার সংযোগস্থল কাশিয়াখালী বাঁধের মূল নদীতে স্লুইস গেট না থাকায়ই আজ ইছামতি নদীর এ দুরবস্থা। ইছামতির এ দুরবস্থা নিরসনের জন্য প্রয়োজন মূল নদীতে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ। তা নাহলে মৃতপ্রায় ইছামতি চলে যাবে প্রভাবশালী মহলের দখলে। ইতিমধ্যে অনেক স্থানে নদীর অংশ বিশেষ দখল হয়ে গেছে। নদীর এ দুরবস্থা নিরসনে নৌ পরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান মানবজমিনকে বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি ও কালিগঙ্গা নদীর নাব্য সংকট নিরসনে শিগগিরই ড্রেজিং করা হবে। সেই সঙ্গে সংযোগস্থল কাশিয়াখালী বাঁধে স্থাপন করা হবে একটি স্লুইস গেট।

সরজমিন ইছামতি নদীর তীর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা জেলার অন্যতম বৃহত্তম কোঠাবাড়ীর বিলে আজ পানির অভাবে ধান চাষ করতে পারছেন না কৃষক। এক সময় এই বিলেই চাষ হতো লাখ লাখ হেক্টর ইরি-বোরো। বিলের উৎপাদিত ধানই নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলাবাসীর চালের চাহিদা মেটাতো। অপরদিকে বর্ষা মওসুমে জেলেরা এ বিলের পানিতে রাত-দিন মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকতো। আর  সেই মাছ বিক্রি করেই সংসার চলতো জেলে পরিবারগুলোর। এখানে পাওয়া যেত দেশীর প্রজাতির হরেক রকম সুস্বাদু মাছ। কিন্তু এখন মাছ পাওয়াতো দূরের কথা দেখা দিয়েছে পানির চরম অভাব।

সূত্র জানায়, চিরচেনা সদরঘাট থেকে কলাকোপা বান্দুরা লঞ্চ অতিপরিচিত একটি নাম। উপজেলা হিসেবে নবাবগঞ্জকে বাংলাদেশের অনেক মানুষ না চিনলেও কলাকোপা বান্দুরাকে চিনতো সবাই। চেনার অন্যতম কারণ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মাসব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। ভাদ্র মাসের ১ তারিখে খানেপুর-তুইতাল এলাকায় ইছামতি নদীতে শুরু হতো নৌকাবাইচ। এভাবে ভাদ্র মাসজুড়েই চলতো নৌকাবাইচ। নবাবগঞ্জ উপজেলা নৌকাবাইচের সমন্বয়ক মো. মাসুদ মোল্লা বলেন, ভাদ্র মাস এলেই নৌকা বাইচের নেশায় ঘুম আসতো না।

পুরো মাসের রাত-দিন ইছামতি নদীর সঙ্গে কাটতো। কিন্তু আজ সেই স্বপ্নের ইছামতি পানি স্বল্পতায় আমার সে নেশা পণ্ড হয়ে গেছে। আজ আর বর্ষা মওসুমে বাইচাদের (মাঝি) বাঁশির শব্দ শোনা যায় না। নদীতে এখন আর নৌকা চলে  না, দুই পাড়ের মানুষ এখন হেঁটেই পার হয় নদী। জেগে উঠা নদীর বিভিন্ন স্থানে আবাদ হচ্ছে ধান, কেউবা আবার মাঝ নদী জাল আটকে চাষ করছে মাছ। কোথাও আবার  জমে থাকা কচুরিপানায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পানি।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত প্রায় দেড় যুগ ধরে বর্ষা মওসুমে পদ্মার পানি প্রবেশ করতে না পারায় স্রোতের প্রবাহ নেই। বন্ধ হয়ে গেছে ইছামতির সঙ্গে পদ্মার সংযোগ। ফলে শুকিয়ে গেছে নদী। চৈত্র মাস আর শ্রাবণ মাসের যেন কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। বন্ধ হওয়া পয়েন্টগুলো হলো সাদাপুর খাল, আড়িয়ল বিলের গোবিন্দপুর খাল, কার্তিকপুর বেড়িবাঁধ ও কাশিয়াখালী বাঁধ এলাকা। এসব স্থানে পদ্মার সঙ্গে সংযোগ ক্যানেলগুলো ভরাট হওয়ায় ইছামতি আজ মরা নদীতে পরিণত হয়েছে।

আশির দশকজুড়েই এ অঞ্চলের মানুষের ঢাকা যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল লঞ্চ। ইছামতিজুড়েই যেন কচুরিপানার দখল। ইছামতির সঙ্গে পদ্মা নদীর সব সংযোগ খাল ভরাট ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইছামতিকে সচল করতে এলাকার কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের দাবি-দাওয়া থাকলেও  স্থানীয়  প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাথাব্যথা নেই।

আর সাবেক গণপরিষদ সদস্য সুবিদ আলী টিপু জানান, ১৯৭২ সালে ইছামতিকে সচল করতে কোমরগঞ্জ থেকে মরিচা পর্যন্ত ড্রেজিং করে ১০ কি. মি. খনন করা হয়। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সরকারের শাসন আমলে ঢাকা-১ দোহারের সংসদ সদস্য ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন নুরুল হক ইছামতি নদীর নাব্যতা ফিরে আনতে ড্রেজিং  করেন।

বিগত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দোহার-নবাবগঞ্জ এবং হরিরামপুর উপজেলাকে পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য দোহারের অরঙ্গাবাদ থেকে মানিকগঞ্জের হাটিপাড়া বংখুরী পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

ইছামতির সঙ্গে পদ্মার সংযোগস্থলগুলোতে স্লুইস গেট নির্মাণ না করায়  ইছামতি নদী খরস্রোত হারিয়ে নাব্যতার সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে শুকনা মওসুমে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সৈয়দপুর হতে মানিকগঞ্জের কাশিয়াখালী পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কি. মি. জলপথে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী, কাঁচামাল, বাড়িঘর নির্মাণ সামগ্রী নৌপথে স্বল্প খরচে আনা-নেয়া করতে পারছে না। এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। ইছামতি নদী পথে সৈয়দপুর, মরিচা, ভাঙাভিটা, হরিস্কুল, কলাকোপা পোদ্দারবাজার, ধাপারী, গোল্লা, বান্দুরা, খানেপুর, আলালপুর, দাউদপুর, বারুয়াখালী ও শিকারীপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি শুকিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দাউদপুরের মৎস্যজীবী সুকুমার হালদার বলেন, ইছামতি মরে যাওয়ায় আজ অনেকে বাপ-দাদার পেশা ফেলে বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছে।

ধাপারী বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, নদীপথে কম খরচে বেশি মালামাল আনা-নেয়া যায়। বর্তমানে সড়কপথে মালামাল পরিবহন করতে ট্রাফিক, মাস্তানদের চাঁদা প্রদানসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। নদীতে ড্রেজিং করা হলে এলাকাবাসী স্বল্প খরচে নৌযানে মালামাল বহন করতে পারবে। বারুয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী মরে যাওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের, কৃষিকাজ, মৎস্য আহরণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই দ্রুত নদীটি খননের দাবি জানান তিনি। একইভাবে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের  সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় স্লুইস গেট নির্মাণসহ জরুরি ভিত্তিতে নদীটি খনন করে সারা বছর নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিরাপদ মাধ্যম হচ্ছে নদীপথ। কিন্তু পানি না থাকায় আজ বন্দ হয়ে গেছে নদীপথ। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এলাকার পরিবেশ।

নবাবগঞ্জে স্কুলের মাঠ দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ

নিউজ৩৯♦ নবাবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে ক্লাস বর্জনের হুমকি দিয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এর ১৭ শতাংশ বিদ্যালয়ের নামে নামজারিকৃত। বাকি ১৮ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি। যা বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে। এমতাবস্থায় পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটি দখল করে শৌচাগারসহ বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেশ কয়েক বার লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল; কিন্তু এর কোন প্রতিকার পাইনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাম প্রসাদ সরকারসহ অন্য শিক্ষকরা বলেন, খুব শীর্ঘ্রই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে শিক্ষার্থীসহ তারা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আহমেদ বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন।

মহা আতংকে দোহার পৌরবাসী

নিউজ৩৯♦ রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কি.মি. দূরে দোহার পৌরসভা। এর জনসংখ্যা এক লাখের মতো। পৌরসভার আয়তন ২১.১২ বর্গ কি.মি.। সবুজ শ্যামলের সমারোহে ঘেরা এক শান্তির নীড়। প্রবাসী অর্থের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও বেশ স্বচ্ছল পৌর এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউটিআইডিপি প্রকল্পের আওতায় দোহার পৌরসভা এলাকার বসতবাড়ি ও ফসলী জমিকে গ্রাস করে মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যে গণ জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। আর সরকারের এ মহাপরিকল্পনার কারণে পৌরবাসীর মধ্যে মহাআতংক নেমে এসেছে। পৌরবাসীর দাবি, এ পরিকল্পনা বন্ধ না করলে শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পথে নামবে অনেকে।

এ বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণে দোহার পৌরসভায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যা দেখে পৌরবাসীর মাঝে আতংক ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দোহার পৌর এলাকার ভেতর কোনো পরিত্যক্ত বিল বা সরকারি খাসজমি নেই বললেই চলে। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকার মানুষের অর্জিত বা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে কয়েকশ বছরের পুরনো বাসিন্দারা বসবাস করে আসছে। ভিটেবাড়ির পাশাপাশি কিছু ফসলী জমি থাকলেও তা খুব কম। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নামে যদি এসব জমি অধিগ্রহণ করা হয় তাহলে পৌরবাসীর শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে যাবে। তাই এ মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে পৌর এলাকার বসিন্দারা আন্দোলন শুরু করেছে। নাগরিক সমাজের ব্যানারে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে এ আন্দোলন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দোহার পৌর এলাকায় শত শত একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্টেডিয়াম, শিশু পার্ক, মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরু কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ার ঘোষণা দিয়েছে; যা এলাকার মানুষের রুটি-রুজি ও বসবাসের ওপর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের গত পাঁচ বছরের শেষের দিকে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। তাই এ মহাপরিকল্পনা প্রতিহত করতে ফুঁসে উঠেছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

দোহার পৌরসভায় ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকার ঘোনা, কাটাখালি, দোহারপুরী, বানাঘাটা, নুরপুর, মাঝিবাড়ি, বটিয়া, ইউসুফপুর, রসুলপুর ও লস্করকান্দাসহ বেশির ভাগ এলাকার বসতবাড়ি ও ফসলী জমি মহাপরিকল্পনার আওতায় পড়েছে। যেখানে কয়েকশ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য লালন করে গড়ে উঠেছে বসতি, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ও দালানকোঠা। দোহারবাসীর চাহিদা পূরণে নানা শাকসবজি ও ফসলের উৎপাদন হয়ে থাকে পৌর এলাকার ফসলী জমিতে। সবজিভাণ্ডার বলে খ্যাত দোহার পৌর এলাকার বেগুন, কাঁচামরিচ, শসা, লাউ, শিম, কপি ঢাকার বাজারেও বিক্রি হয়। এ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চলে আবদুল আলীম, শফি মিয়া ও নুরু বেপারির মতো শত শত কৃষকের। তাদের দাবি, সরকার যেন কোনোমতেই আমাগো সর্বনাশ না করে। বাপ-দাদার ভিটেমাটি এ সম্বলটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের।

পদ্মা নদী ভাঙনের শিকার পৌর এলাকার ইউসুফপুরের বাসিন্দা জলিল বেপারি বলেন, পদ্মায় আমাগো সব নিয়ে গেছে। ঠাঁই নিয়েছিলাম এহানে। তাও হুনতাছি সরকার কি না করবে।

দোহারপুরীর মিজানুর রহমান বলেন, আমাগো ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে কোনো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। পৌরবাসীকে নিয়ে এটা প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ। পৌর মেয়র আবদুর রহিম মিয়া বলেন, পৌরসভা এলাকায় কোনো খাস সম্পত্তি বা পরিত্যক্ত নাল জমি নাই। তাই পৌর নাগরিকের সর্বস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে এ বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে জনগণের দাবির কথা উল্লেখ করে মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে গঠিত সংগ্রাম কমিটির নেতা হারুনুর রশিদ বলেন, সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি রক্ষায় তারা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম, বিভাগীয় কমশিনার, ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে মহাপরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তারা। সংগ্রাম কমিটির আরেক নেতা কামরুল খান বলেন, সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

মিজানুর রহমান শমশেরীর কবিতা

শেষের কবিতা

এই দেখা যদি শেষ দেখা হয় তবে কেন আসিলাম,

ভালোবাসা যদি বেদনাই হয় কেন ভালোবাসিলাম।

ফুটিবার আগে যদি ঝরে ফুল কী হবে প্রহর গুনে,

জানিবার আগে যদি যাই ভুলে কী হবে কাহিনি শুনে!

আকাশ জেনেছে চাঁদের সুষমা সাগর জেনেছে পানি,

তুমি যে আমার এতো কাছাকাছি তবু নেই জানাজানি।

রাতের আকাশে চাঁদের মরীচি যখন সুষমা আনে

সাগরের জল পারভাঙা তটে কথা কয় কানে কানে।

সারা তপোবন ঘুমায় যখন রাত্র গভীর হলে

নিমতলা থেকে ডাক দেয় পাখি বউ কথা কউ বলে।

বহুদিন হতে সে ডাকে আমার দু চোখে এসেছে নিদ

সেই ফাঁকে এসে জানি না কখন কেটেছো মনের সিঁদ।

লুটে নিয়ে গেছো তনু-মন-প্রাণ জীবনের যতো ধন

সব নিয়ে গেছো, রেখে গেছো শুধু ব্যথা আর ক্রন্দন।

হাতের বাঁশরি বাজে না তো আর তালছাড়া হয়ে যায়

সুরের লহরি আসে না তো আর আজিকার কবিতায়।

শেফালি কুসুম আতিয়া যখন শুনিবে সকল কথা

ওদের চোখেতে যদি আসে জল কোথা রবে মানবতা!

বিরহবেদনা বুকে নিয়ে যদি আমারই সময় কাটে

একবারও তুমি কাঁদিবে না এসে সেই পুকুরের ঘাটে!

 

যেখানে রয়েছে কচুরি ফুলেরা লাজুক বঁধুয়া বেশে

হংসমিথুন জলকেলি করে প্রতিদিন যথা এসে,

সন্ধ্যা কি কভু নামিবে না আর সোনালি ধানের শিষে?

এতোটুকু স্মৃতি রহিবে না বুঝি জীবনের সাথে মিশে।

সব কিছু তুমি ভুলে যেতে পারো, পারিবে কি ভুলে যেতে

আসবে যখন নিশিজাগা চাঁদ তোমাদের আঙিনাতে?

মনের বনেতে মন হারাবার এসেছিল যতো রাত

বহু রজনির একটি প্রমাণ ঘুমভাঙা ওই চাঁদ।

আমি চলে যাবো- বহু দূরে যাবো, আসিব না কোনোদিন,

দু ফোঁটা চোখের জল ফেলে ওগো শোধ করে যাবো ঋণ।

পদ্মা কলেজে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের জীবনকর্ম আলোচনা সভা

দোহারের পদ্মা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সি.আর. দাসের জীবন সম্পর্কিত আলোচনা ও রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার পদ্মা কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুল হায়দার এর সভাপতিত্বে সকাল ১০ টায় সভা শুরু হয়।

“দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস স্মৃতি পরিষদ” এর উদ্যোগে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মা কলেজ ব্যবস্থাপনা পরিষদ ও চিত্তরঞ্জন দাস স্মৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা.(অব.) এ আর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন গভর্নর লায়ন্স ও চিত্তরঞ্জন দাস স্মৃতি পরিষদের-এর ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খান, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ভূঁইয়া সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে বক্তারা রক্তদানের প্রয়োজনীয়তার কথা তোলে ধরেণ। তারা মনে করেন এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের রক্তদানের ভয় দূর হবে।

নবাবগঞ্জে শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শোক র‍্যালী

নিউজ৩৯♦ সাবেক রাস্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। দিবস উপলক্ষে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও কাঙ্গালীভোজের আয়োজন করে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। 

নবাবগঞ্জে জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সকাল ১০টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় থেকে একটি শোক র‍্যালীর আয়োজন করে। এই র‍্যালীতে অংশ নেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আসফাক ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান। পরে তারা নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। 

এই সময় তারা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করেন। এসময় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়। 

দোহারে বিএনপির শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন

নিউজ৩৯♦ যথাযথ উৎসাহ ও ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে দোহার উপজেলা বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৩৪ ত্ম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করেছে। জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোহার উপজেলা বিএনপি বিভিন্ন ইউনিয়নে দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করে। 

দোহার উপজেলা বিএনপি তাদের প্রধান অনুষ্ঠান করে উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের ধোয়াইর মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায়।  এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভুলু, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন মোল্লা, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবেদ হোসেন, দোহার উপজেলা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা। 

এছাড়া জাসাস আয়োজিত দোহারের কুসুমহাটি ইউনিয়নের শিলাকোঠা উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ। 

এছারা আব্দুল বারেকের সভাপতিত্বে রায়পাড়া ইউনিয়ন বিএনপি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান। 

মিজানুর রহমান শমশেরীর দুটি কবিতা

বন্যা

বন্যা এলো বন্যা গো

শ্যামল মায়ের কন্যা গো

বন্যা এলো দেশে

দেশ ভাসালো গাঁও ভাসালো

মাঠ ভাসালো ঘাট ভাসালো

পাগলা হাসি হেসে।

 

যায় ভেসে কার ভিটে-মাটি

হালের বলদ ঘটি-বাটি

মাঠভরা সব ধান,

কৃষান-বধূর মিষ্টি হাসি

ভাসিয়ে দিল সর্বনাশী

উল্লাসী তার প্রাণ।

 

তুমি চলে গেছো

তুমি চলে গেছো তাই চলে গেছে স্বপ্নের সে দিনগুলি

তুমি চলে গেছো তাই দূরে সরে গেছে সন্ধ্যা-গোধূলি।

মেঘের পরতে লিখা আছে শুধু বাতাসে ওড়ানো বেগ

তুমি চলে গেছো তাই বুঝি আর আসে নি শ্রাবণ মেঘ।

ওই বনপথ রেখে দিয়েছে আজো বিদায়ী চরণ লিখা

জোনাকি মেয়েরা তাই বুঝি আর জ্বালে নি প্রদীপ শিখা।

তুমি চলো গেছো ঝরে গেছে তাই কুসুমের হাসি মুখ

তুমি চলে গেছো ভরে আছে তাই বেদনায় কঁচি বুক।

নবাবগঞ্জের উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের গাড়ি চালককে পিটুনি

নিউজ৩৯♦ রাজধানীর সচিবালয়ের রাস্তায় নবাবগঞ্জের উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের গাড়ি চালককে পিটুনি দিয়েছে মোটরসাইকেল আরোহী ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নামধারী ৩ যুবক। পুলিশ তাদের মোটরসাইকেলটি আটক করতে চাইলে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। রাজধানীর রেল মন্ত্রণালয়ের সামনে শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতক্ষ্যদশীরা জানায়, মন্ত্রণালয়ের সামনে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে যাবার সময় একটি মোটর সাইকেল (ঢাকা মেট্রো-ল ১৭-৬৩৪৫) খুব দ্রুত বেগে যাচ্ছিল। ঠিক তার পেছনে একটি মাইক্রো বাস (ঢাকা মেট্রো-ঘ ০২-২১০৩) যাচ্ছিল। হঠাৎ একজন পথচারী মোটরসাইকেলটির সামনে পড়ে যায়। সাথে সাথে মোটর সাইকেলটি ব্রেক করলে পেছনে থাকা মাইক্রো গাড়িটিও হার্ডব্রেক করে।

পথচারীর শরীরে কোন আঘাত না পেলেও মোটরসাইকেলের পেছনে মাইক্রোগাড়িটির কিছুটা ধাক্কা লাগে। সাথে সাথে মোটরসাইকেলের চালক কিছুটা আঘাত পায়। কিন্তু আঘাতটি তেমন গুরুতর নয়। হার্ডব্রেকের শব্দ শুনে আশপাশের জণসাধারণসহ কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ এগিয়ে আসার আগেই গাড়ির চালক রাসেলকে পিটুনি দেয়। জানা যায়, রাসেল নবাবগঞ্জ উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহানের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক।

অন্যদিকে ঘটনাস্থলেই পুলিশকে মোটরসাইকেল আরোহী ৩জন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেন। তারা হলেন- সফিক, অলি ও প্রিন্স।

তারা ৩জন জানান, ঢাকা মহানগন উত্তর ছাত্রলীগের মম্মেলনে অংশ নিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন।

ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ পিটুনি থেকে মাইক্রো গাড়ির চালককে রক্ষা করে মোটরসাইকেলটি আটক করল বলে তাদের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ কর্মী সফিক গোপনে প্রিন্সকে সরিয়ে দিয়ে পুলিশকে জানায়, তার বন্ধু প্রিন্স ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গেছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ। এমসয় পুলিশ অন্যদিকে মনোযোগ দিলে তারা তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

শাহবাগ থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) গৌতম মুঠোফোনে বলেন, তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ নিতে গেলে সেখানে কাউকেই পাইনি। তারা যে মোটরসাইকেলের চাবি দিয়েছে সেটাও ভুয়া।