দোহার ও নবাবগঞ্জে যানবাহনে জরিমানা

নিউজ৩৯♦ ঢাকার দোহার বাজারে ও নবাবগঞ্জে সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নবাবগঞ্জ উপজেলার বর্ধনপাড়া এলাকায় সড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমশিনার (ভূমি) মো. শহিদ উল্লাহ। এ সময় বিআরটিএ ইন্সপেক্টর ইমরান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আদালত ৫ মোটরসাইকেল চালককে ২৫শ, এন মল্লিক পরিবহনকে ১ হাজার, যমুনা পরিবহনকে ২ হাজার ও গতি পরিবহনের একটি গাড়িকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এসব চালকের সনদ ও গাড়ির কাগজপত্রে গরমিল থাকায় এ অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অপরদিকে বুধবার দুপুরের দিকে দোহার উপজেলা সদরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল করিম ভূঁইয়া। এ সময় চাল ব্যবসায়ী দিজেন পাল, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুজন পাল, রড ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন, ওষুধ ব্যবসায়ী কমল, আমিন উদ্দিন, তেল ব্যবসায়ী এসএম কুদ্দুসসহ ৬ জনকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।

নবাবগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

নিউজ৩৯♦ নবাবগঞ্জে ৯০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- দিঘীরপাড় গ্রামের ছাহের উদ্দিন (৩০) ও মইমন্দি গ্রামের সেলিম (৪৫)।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে নবাবগঞ্জ থানার এসআই সোহেল রানা জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাহেবের বাড়ির সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৯০৫ টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

রাতেই নবাবগঞ্জ থানায় মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কেরানীগঞ্জে মামলা উপেক্ষা করে ঘর ভাঙলেন ইউএনও

নিউজ৩৯♦ আদালতে বিচারাধীন মামলা উপেক্ষা করে একটি জমির ঘর ভেঙে দিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জ ইউএনও আবুল বাসার মো. ফখরুজ্জামান। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে নবাবগঞ্জ ঢাকা সড়কের পাশে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মুগারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান ইউএনও। জমির মালিক দুদু মিয়া জানান, উপজেলার মুগারচর মৌজার এসএ ১নং খতিয়ানের এসএ পরচা অনুযায়ী ২৪০০নং দাগের ১১১ শতাংশ নাল জমি ১৯৮০ সালে বন্দোবস্ত নিয়ে নামজারি করেন লাখিরচর গ্রামের মো. আদালত মিয়ার ছেলে নূর আহমেদ। যার নামজারী কেস নং ৬১ (আর) জি-৮০। জোত নং ৯৬৬। 

২০০১ সালের ৭ মে জমিটি স্থানীয় দুদু মিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সম্প্রতি ওই এলাকার রবিউল্লাহ গং ওই জমিটি দাবি করে বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করেন। পরে মো. রবিউল্লাহ গংয়ের বিরুদ্ধে দুদু মিয়া আদালতে ৫টি মামলা দায়ের করেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আদালতকে দখলের প্রতিবেদন দেয়। দুদু মিয়াকে জমির মালিক ও অবস্থানকারী হিসেবে দেখান। 

দুদু মিয়া অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ ইউএনও আবুল বাসার মো. ফখরুজ্জামানের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম ৮-১০ জন লোক ও পুলিশ দিয়ে দুদু মিয়ার বসবাস করা ৪০ হাত লম্বা ৬ কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর ভেঙে ফেলেন। তার অভিযোগ, রবিউল্লাহ গংয়ের জমি দখলে দিতে এ কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ ইউএনও আবুল বাসার মো. ফখরুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের কোনো তথ্য দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।

নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠন

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক নূর আলমের উপস্থিতিতে এ কমিটি গঠন করা হয়। 

এতে মোরাদ খানকে সভাপতি এবং হাবিবুর রহমান হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়। বাকি সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি ফারুক মোল্লা, মিল্টন খন্দকার, সাইফুল কবির। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, আলতাফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল খান, প্রচার সম্পাদক তানভির আহমেদ ফারুক, দফতর সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিতু। 

আগামী তিন বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম বলেন, তৃর্ণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই ইউনিয়ন কমিটি ঢেলে সাজানো হবে।

নবাবগঞ্জে লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নের লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের নিয়ে আইনগত সহায়তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে উপজেলা সদর কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। 

জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এর আয়োজন করে। কলাকোপা ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়ব আহমেদ এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রশিক্ষক ছিলেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা প্রণয় রঞ্জন সরকার। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আরিফুর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা মাঠ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বেপারী, ইউপি সচিব গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

নবাবগঞ্জে নারী উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা ও কমিটি গঠন

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নারী উন্নয়ন ফোরাম গঠন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে উপজেলা সভাকক্ষে এ কর্মশালা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঢাকা জেলা উপপরিচালক একেএম আমিনুর রহমান, এলজিএসপি-২র ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর মো. জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, ইউজেডজিপির ডিভিশনাল ফ্যাসিলিটেটর ড. সোহেল ইকবাল, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আহসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন, প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ মো. ইব্রাহীম খলিল প্রমুখ। পরে উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল শিমুকে সভাপতি করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দোহারে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিউজ৩৯♦ ঢাকার দোহার থেকে আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর দেড়টায় উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ধিৎপুর আন্ধার বিল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়রা জানান, মইতপাড়া দাখিল মাদ্রসার গোসলের ঘাটলায় একটি পড়ে থাকা একটি লিফলেট খুঁজে পান স্থানীয়রা। লিফলেটে লেখা ছিলো- মুকসুদপুর ইউনিয়নের ধিৎপুর আন্ধার বিলে এক ব্যাক্তির লাশ পড়ে আছে। পরে স্থানীয় জনতা আন্ধার বিলে গিয়ে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। 

দোহার থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মো:সোহেল রানা বলেন, মরদেহের শরীরে পচন ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১০/১২ দিন হত্যার পর মরদেহটি এখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যা

জয়পাড়াতে পিনু খানের কাবিখা প্রকল্পে রাস্তার টাকা আত্মসাৎ!

নিউজ৩৯♦  যেখানে ইটের সলিং রাস্তা করার জন্য কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্প গ্রহণ করা হয় সেখানে এখন ধঞ্চে ক্ষেত। খাতা-কলমে কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের পুরো টাকাও তুলে নেয়া হয়েছে। এমন ভয়াবহ দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায়। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগ সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পিনু খানের দিকে। কেননা, এই প্রকল্পটি তার নিজের নামেই বরাদ্দ হয়।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ থাকলেও প্রভাবশালী এমপির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না। তবে উপজেলার আইনশৃংখলা কমিটির সভায় পিনু খানের উপস্থিতিতেই ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক চেয়ারম্যান এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চেয়ারম্যানরা এমপি পিনু খানকে ‘চোর’ ও প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎকারী হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। কিন্তু পিনু খান এসবের কোনো জবাব দেননি।

এদিকে এভাবে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পিনু খান বলেন, ‘যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে তাদের কাছে এ বিষয়ে খোঁজ নেন। এরপর তিনি আর কোনো প্রশ্ন না নিয়েই মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।’

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি খাত থেকে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-নগদ টাকা) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের (মহিলা আসন-২৩) অনুকূলে দোহার উপজেলার জন্য ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই বরাদ্দে তিনি চারটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এরমধ্যে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে উত্তর জয়পাড়া খুদি মুন্সি ও বাদশার বাড়ি থেকে মহিউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে হাকিমের বাড়ির মাথা থেকে হরমুজ ও মতি মোল্লার জমি থেকে চকের রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে কার্তিকপুর স্কুলের মাঠ ভরাট ও উন্নয়ন করা এবং দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে তারা মিয়ার বাড়ি থেকে নূর শরীফের বাড়ি হয়ে বেপারি বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ।

দোহারের উত্তর জয়পাড়া এলাকায় দেখা গেছে, একশ’ গজের মধ্যেই পাশাপাশি দুটি প্রকল্প। হাকিমের বাড়ির মাথা থেকে পাকা রাস্তা (চক) পর্যন্ত উত্তর-দক্ষিণে যে রাস্তা নির্মাণ করার কথা সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ প্রকল্পের কাগজপত্র অনুযায়ী সেখানে গাড়ি চলার উপযোগী এক নম্বর ইটের সলিং করা ২০ ফুট চওড়া রাস্তা থাকার কথা। এই রাস্তার ভাঙনরোধে গজারি কাঠের মোটা খুঁটি গেড়ে ও ড্রাম শিট দিয়ে প্রটেকশন দেয়াল তৈরির কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে এসব দূরে থাক, রাস্তারই কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধুই ধঞ্চে ক্ষেত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর হোসেন জানান, ‘বুঝেন না ভাই, সব টাকা খাওয়ার ধান্ধা। নামেমাত্র প্রকল্প দেখিয়ে দুয়েক কোদাল মাটি ফেলে প্রকল্পের পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আর এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমপি পিনু খান ও মহিলা লীগের নেত্রী এবং উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনারকলি পুতুল।’ 

একই কথা বললেন জয়পাড়া পৌরসভার বাসিন্দা হালিম মুন্সি। তিনি বলেন, ‘যেখানে ইটের সলিং করা রাস্তার কথা বলছেন সেখানে একটি ইটের চিহ্নও নেই। পিনু খান নিজে এসে দেখুক তিনি তার নির্মাণ করা কাল্পনিক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারবেন কিনা?’

এই রাস্তার পূর্ব পাশের একটি প্লটের পরই আরেকটি প্রকল্প। এটির নাম উত্তর জয়পাড়া খুদি মুন্সি ও বাদশার বাড়ি থেকে মহিউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ। উত্তর-দক্ষিণে লম্বা এই রাস্তাটিও ইটের সলিং করে তৈরি করার কথা। পাশে গজারি কাঠ পুঁতে ও ড্রাম শিট গেঁথে দিয়ে রাস্তা রক্ষাকারী দেয়াল (পেলাসায়টিং) নির্মাণের কথা। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, সেখানে দু-একটি বাঁশ ও রেইনট্রি কড়ই গাছের ডাল দিয়ে নামেমাত্র বাঁধ তৈরি করা হয়েছে, যা বর্ষা আসার আগেই ভেঙে গেছে। এ ছাড়া রাস্তায় এক নম্বর ইট দিয়ে সিঙ্গেল সলিং করার কথা প্রকল্পে বলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে ইটের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরে থাক হেঁটে চলাও দুষ্কর। 

স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর আলী মোল্লা এ বিষয়ে জানান, ‘কাজ না করেই রাস্তার টাকা মেরে খেয়েছেন এমপি পিনু খান। গরিবের হক মাইরা এখন তিনি ধরা পড়ছেন।’

সূত্র জানায়, চারটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন দোহার পৌরসভার কাউন্সিলর আলমাছ উদ্দিন। কাজ না করে টাকা তুলে নেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ন্যাড়া বেল তলায় একবারই যায়। সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনারকলি পুতুল আপার অনুরোধে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হই। কিন্তু আমাকে জোর করে এই পদে রাখা হয়েছে। অথচ কোনো কাজ না করিয়েই তারা টাকা নিয়ে গেছে। আসলে আমার কিছুই করার ছিল না। আমি এই প্রকল্পে সম্পৃক্তও ছিলাম না। পুতুল আপাকে বলেছি, মানুষ আমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইছে। কিন্তু আমি জবাব দিতে পারছি না। আপনি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেন। কিন্তু তারা আমার কথা শুনছে না।’

ধঞ্চে ক্ষেতকে রাস্তা দেখিয়ে কবিখার টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে আনারকলি পুতুল বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এগুলো নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমি নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামী শুকনো মৌসুমে পারিবারিক টাকা দিয়ে হলেও রাস্তাটি তৈরি করে দেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদারকির দায়িত্বে থাকা দোহার উপজেলা পরিষদের পিআইও মো. হাবীব উল্লাহ মিয়া জানান, ‘এমপি পিনু খান তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা তুলে নিয়েছেন। টাকা নেয়ার আগে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা রাস্তা করে দিচ্ছেন না।’

আবার ভাঙ্গছে দোহারের পদ্মাপার

নিউজ৩৯♦ ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা থেকে নায়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকার পদ্মা পারের হাজার পরিবার পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন-আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙতে শুরু করেছে দোহারের নয়াবাড়ীর ধোয়াইর বাজার, বাহ্রাঘাট, নারিশাসহ বিভিন্ন স্থানে। এরই মধ্যে ধোয়াইর বাজারের একটি, বাহ্রাঘাটের দুটি দোকান নদীতে চলে গেছে। ভাঙন-ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি বাজারের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যে কোনো সময় পদ্মায় বিলীন হয়ে যেতে পারে এসব প্রতিষ্ঠান। হুমকিতে রয়েছে দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ রক্ষা বেড়িবাঁধ।

স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ভাঙন প্রতিরোধে নয়াবাড়ীর ধোয়াইর বাজার, বাহ্রাঘাট ও কুসুমহাটির দেওভোগ এলাকায় বাঁশের বাঁধ ও জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ফেলা হচ্ছে। তবে এই ভাঙনের খবর নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আতঙ্কের মধ্যে কাটছে উপজেলার হাজার পরিবারের দিন-রাত। 

ভাঙনকবলিতদের দাবি, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণসহ গত কয়েক বছরে পদ্মায় ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।