দোহার প্রেসক্লাব সেক্রেটারির দোকানে নাশকতার চেষ্টা

নিউজ৩৯.নট♦ দোহার প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সমকালের প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান টিপুর দোকানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছে কিছু নাশকতাকারী। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের মালিকান্দা দেওয়ান মার্কেটে তার দোকানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। নির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতা মেসার্স বিসমিল্লাহ বিল্ডার্সে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

দোকানের মালিক দোহার উপজেলা সমকাল প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান টিপু জানান, সোমবার প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায় দোকানের লোকজন। মঙ্গলবার সকালে দোকান খুলতে এলে দেখে দোকানের সামনে রাখা বিটুমিনের ড্রাম কাটা ও তাতে আগুনের চিহ্ন। আগুন দোকানের শার্টার গেটে জ্বলে নিভে গেছে। এ সময়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে এসআই হারুন-অর-রশিদ ও আবদুল গণি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, শত্রুতাবশত ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে কোনো চুরি বা ক্ষতি হয় নি।

মৌনটে নৌকা ভাড়া বাড়ছে ইজারাদারদের ইচ্ছামতোই

নিউজ৩৯♦ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা পদ্মার ঘাটে টোল চার্ট টানানোর পরও ট্রলার ও স্পিডবোটে মাত্রাতিরিক্ত হারে ভাড়া আদায় করে চলেছে ইজারাদার। ঈদের দুদিন আগে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও তারা নির্বিকার। 

যাত্রী প্রতি ট্রলারে ৬৫ টাকা ও স্পিডবোটে ১৩০ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে এবং রাত-দিন একই হারে ভাড়া আদায়ের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু ঈদের দুদিন আগে থেকে ট্রলারে যাত্রীপ্রতি ৮০ টাকা ও স্পিডবোটে টাকা ভাড়া আদায় অব্যাহত রেখেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। 

চর ভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জানান, কমিশন অফিস থেকে পদ্মার ঘাটে টোল চার্ট টানানোর পর ঘাট ইজারাদার কমিশন অফিসে একটি আপিল করেছেন, কমিশন অফিস থেকে এখনো পুনরায় কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয় নি। 

রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করতে গোপালপুর ঘাট দিয়ে পদ্মা নদী পারাপার হয়ে দোহার-গুলিস্তান রুটে মাত্র দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তাই আশপাশের প্রায় চার উপজেলাবাসী গোপালপুর ও মৈনট ঘাট দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করে থাকেন। জনাকীর্ণ এ নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে লাগামহীন ভাড়া আদায় করে চলছিল ঘাট ইজারাদার।

নবাবগঞ্জ থেকে শিশু নিখোঁজ

নিউজ৩৯♦ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল গ্রামের চৌধুরীহাটি এলাকা থেকে তামিম হোসেন নামে সাড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির ফটকের বাইরে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। 

শিশুটির মা মেহবুবা চৌধুরী ফারহানা জানান, দেড় বছর আগে স্বামী নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি এলাকার শাহাদত হোসেন রনির সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে শিশু ছেলে তামিম হোসেন ও ছোট ছেলে তালহা হোসেনকে নিয়ে উপজেলার কৈলাইল চৌধুরীহাটিতে বাবা মাহবুব চৌধুরীর বাড়িতে বসবাস করছেন। তামিমের নিখোঁজের দিন বিকালে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। 

তিনি জানান, তার সন্দেহ তামিমকে কেউ অপহরণ করে নিয়ে যেতে পারে। 

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সাইদুর রহমান জানান, পুলিশ শিশুটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তামিমের নিখোঁজের সময় পরনে ছিল হাফ প্যান্ট, গায়ে লাল রংয়ের কার্টুন সম্বলিত গেঞ্জি। তার গায়ের রং শ্যামলা, মুখমণ্ডল গোলাকার।

নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির পিতার মৃত্যু

নিউজ৩৯♦ নয়াবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আব্দুর রশিদের পিতা কাজী আবেদ আলী আজ সকাল ৮টায় বার্ধক্য জনিত কারনে মৃত্যু বরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহী ও ইনাইলাহি রাজীউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি গত ১৫ দিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার জানাজা আজ বাদ আসর পশ্চিম ধোয়াইরের সিকিম আলী হাজীর মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। 

দুই বছরেও সংস্কার নেই মাহমুদপুর সেতুর

নিউজ৩৯♦ দুই বছর হয়ে গেলেও দোহার পৌরসভা থেকে মাহমুদপুর ইউনিয়নে যাওয়ার একমাত্র সেতুটি এখনও ভাঙ্গা অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। বরং সেতুটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুই  বছর আগে সেতুর মাঝের পিলার দেবে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে বিলাশপুর, মাহমুদপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার হরিচণ্ডি, বিলাশপুর ও লটাখোলা গ্রামের ১০ হাজারের অধিক জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা রিকশা, ভ্যান, অটো গাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার চরাঞ্চল ও দিনমজুর মানুষও। মাঝে মাঝে ব্রিজের ওপর দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

স্থানীয় সামছু মিয়া অভিযোগ করেন, পৌর কর্তৃপক্ষ ব্রিজ এলাকায় নোটিশ টাঙিয়ে দায় সেরেছেন। এ বিষয়ে পৌরসভায় একাধিকবার অভিযোগ করেও কাজ হয় নি। একমাত্র সেতুর কারণে মাহমুদপুর ও বিলাশপুর ইউনিয়নে বসবাসকারীদের ৫ কিমি. রাস্তা ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়। ফলে পেশাজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীকে প্রায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দোহার পৌর মেয়র আবদুর রহিম মিয়া বলেন, “গ্রামবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়। পৌরসভার যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ নেই। তবে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।”

মানিকগঞ্জে ব্যাংক ডাকাতির চেষ্টাকালে নবাবগঞ্জের যুবক আটক

নিউজ৩৯.নেট ♦ মানিকগঞ্জ সদর এলাকার এক্সিম ব্যাংকের শাখায়  ডাকাতির চেষ্টাকালে নবাবগঞ্জের যুবকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এক্সিম ব্যাংকের মানিকগঞ্জ শাখার ম্যানেজার নূর মোহাম্মদ আসনারী ডাকাতি চেষ্টার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার হেড অফিস থেকে তাকে ডাকাতির বিষয়টি জানানো হয়। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তারা দেখতে পান মানিকগঞ্জ শাখার ভেতরে দুইজন ব্যক্তি ঘোরাঘুরি করছেন। বিষয়টি জানার পর দ্রুতই তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসিকে অবহিত করে তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে ঢাকার নবাবগঞ্জের বাসিন্দা শাহীন (৩০) ও নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা আলী হোসেন (৩৫)-কে আটকে সক্ষম হন। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমানের উপস্থিতিতে ব্যাংকের ভোল্ট খুলে দেখা হয়েছে টাকা-পয়সা খোয়া গেছে কিনা।

এদিকে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান জানান, দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি সদস্য অবশ্যই রয়েছে। তাদের ধরার জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় ত্রিপুরা রাজ্যপালের ক্ষোভ প্রকাশ

নিউজ৩৯♦ প্রতিবেশি রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের নদী চুক্তি হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে এখনও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়। রবিবার রাতে কলকাতার বিরাটিতে ইলিশ উৎসবে যোগ দেয়ার ফাঁকে তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তথাগত রায় বলেন ‘তিস্তা পানি চুক্তি দুই দেশের এজেন্ডার মধ্যেই আছে বলে আমি জানি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যে কোন নদীর ভাটিতে যে রাষ্ট্র থাকে (লোয়ার রিভারাইন স্টেট) সেই সব রাষ্ট্রের পানির প্রতি স্বাভাবিক অধিকার থাকে যদিও তারা কতটা পানি হবে সেটা আলোচনার বিষয়’।

তিনি বলেন ‘১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের পাঞ্জাবের মধ্যে একটি নদী চুক্তি হয়েছিল। এরপর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের এত যুদ্ধ হওয়ার সত্ত্বেও সেই চুক্তি অটুট আছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কেন এই চুক্তি হবে না? রাজ্যপালের মতে এই চুক্তিটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।

সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহু প্রতিক্ষীত ছিটমহল বিনিময় কার্যকর প্রসঙ্গে ত্রিপুরার রাজ্যপাল বলেন ‘ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হওয়াটা অসাধারণ পদক্ষেপ। এটাও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। ১৯৭১ সালে যখন ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি হয়েছিল তার পরপরই এই চুক্তি কার্যকর হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেটা এতদিন পরে হল। 

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির প্রসংসা করে তিনি বলেন, একজন অসাধারণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতা থাকায় এই চুক্তি বাস্তবায়ান হল। আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত যে বাস পরিষেবা শুরু হয়েছে সেটাও ১৯৭১ সালে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু এতদিন বাদে হল।

দোহার নবাবগঞ্জের পরিক্ষার্থীরা ডুবেছে ফেসবুকে আর প্রশ্ন ফাসের আশায়

নিউজ৩৯.নেট : তথ্যপ্রযুক্তি যেমন এনেছে গতি, তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবে ডুবছে তরুণ সমাজ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা। প্রযুক্তিনির্ভর যুগে ফেসবুক-ইন্টারনেট ছাড়া ছাত্র-ছাত্রী খুঁজে পাওয়াই দায়। শহরের ছেলে-মেয়েদের ক্ষেত্রে আরও বেশি। ফেসবুক-ইন্টারনেটেই ডুবছে শিক্ষা ব্যবস্থা। 

এছাড়া এইচএসসির ফলের এই ছন্দপতনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এর পেছনে তারা ৬টি কারণ খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো হলো: প্রশ্নের ধরণ পরিবর্তন, অন্য বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া, প্রশ্ন ফাঁসের গুজব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নতুন বিষয় বাধ্যতামূলক করা এবং ইংরেজি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে বেশি অকৃতকার্য হওয়া। তারা বলছেন, সরকারের উচিত এসব ব্যাপারে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

এরা ভেবেছিল প্রশ্ন ফাস হবে। কিন্তু সরকারের কঠোর আইন প্রয়োগ সতর্কতার কারণে ফাস না হোয়ায় এরা ফেল করেছে। 

জয়পাড়া কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রধান সিদ্দিকুর রহমান  বলেন, আমাদের কলেজে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকার পরও অনেক ছাত্রী লুকিয়ে ফোন নিয়ে আসে। ছাত্রীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাথরুমে গিয়ে মোবাইলে কথা বলে। মোবাইল আটকে রাখলে অভিভাবকরা কলেজে এসে অভিযোগ করেন, কেন মোবাইল ধরেছি। তাহলে আমরা কোথায় যাবো! কিভাবে শিক্ষা দেবো!

তিনি বলেন, অনেক অভিভাবক আবার এসে অভিযোগ করেন, তার মেয়ে রাত জেগে পড়ার নামে মোবাইলে ফেসবুক খুলে বসে থাকেন। এভাবে ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে শিক্ষার মান দিন দিন খারাপের দিকেই যাবে। আগামীতে আরও খারাপ ফল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্টারনেটের কুফল দিন দিন আরও বাড়বে। পাশাপাশি পাসের হার আরও কমবে। ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে ঠিকমতো পড়ে না বলে জানান তিনি।

এছাড়া দোহার নবাবগঞ্জে প্রাবাসী অর্থের উৎস হওয়ার কারণে এখানে মেয়েরা জানে যে হয়তো অনার্সে ভর্তি হলেও তাদের বিয়ে হয়ে যাবে। আর তাই তাদের পড়ালেখার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। এরা কলেজে আসে ঘুরতে, গল্প করতে আর বাড়ীর কাজ থেকে বাঁচতে। এদের নিজস্ব স্বপ্ন, লক্ষ্য বা জীবনবোধ নেই। আর ছেলেদের ধারণা ভিসা এলেই তারা বিদেশে যাবে, নয়তবা কোন কাজে ঢুকে যাবে, এরাও কলেজে আসে কলেজের পরিবেশ নষ্ট করতে, গল্প করতে, ইয়াবা খেতে। এরা পড়ালেখা করাকে টাইম পাস মনে করে।

অভিভাবক মহলের চরম অসত্ত্রকতার কারণে ভেঙ্গেগে পড়েছে দোহার নবাবগঞ্জের শিক্ষা ব্যবস্থা। 

তাই ফল প্রকাশের পর কলেজ ক্যাম্পাসেসে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ছিল কান্নার রোল। প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় অনেকেই মাঠের মধ্যে কান্নায় গড়াগড়ি করেন।

ফল বিপর্যয়ের ৬ কারণ

এইচএসসির ফলের এই ছন্দপতনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এর পেছনে তারা ৬টি কারণ খুঁজে পেয়েছেন। এগুলো হলো: প্রশ্নের ধরন পরিবর্তন, অন্য বোর্ডের প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়া, প্রশ্ন ফাঁসের গুজব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নতুন বিষয় বাধ্যতামূলক করা এবং ইংরেজি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে বেশি অকৃতকার্য হওয়া। তারা বলছেন, সরকারের উচিত এসব ব্যাপারে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

 ঢাকার একাধিক কলেজের শিক্ষকরা বলেছেন, গত বছর এইচএসসিতে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন ফাঁস হবে এমন আশা নিয়ে ছিল। এ কারণে তারা পরীক্ষায় ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়নি। ফলে পরীক্ষায় তারা ভালো করেনি। 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এবার ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ নামে একটি বিষয় আবশ্যিক করা হয়। এ বিষয়টিতে অনেক শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এছাড়া সৃজনশীল পদ্ধতিতে এখনো অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাননি। শুধুমাত্র যারা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন ও খাতা মূল্যায়ন করেন তারাই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। যেসব বিষয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারেননি। 

তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ইংরেজিতে, সিলেট শিক্ষাবোর্ডে যুক্তিবিদ্যা ও ইংরেজিতে, যশোরে ইংরেজিতে, চট্টগ্রাম বোর্ডে ইংরেজি, বাংলা ও পৌরনীতিতে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছে।

যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের প্রভাব পড়েছে সার্বিক ফলাফলে। অন্যান্য বোর্ডের ফলাফল তেমন হেরফের না হলেও যশোর বোর্ডে ভয়াবহ ফল বিপর্যয় হয়েছে। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

তাদের ভাষ্য, যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কারণেই সার্বিক ফল গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। কী কারণে এমনটা হলো সেটাও খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তারা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘এবারের যশোর বোর্ডের ফলাফলে আমরা থান্ডার্ড হয়েছি। কীভাবে এটা সম্ভব হলো। এতো খারাপ ফলাফল তো হতে পারে না। যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কারণেই সার্বিকভাবে ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো কেন এমনটা হলো। আমাদের মন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।’

যশোর বোর্ডের খারাপ ফলাফলের কারণ সম্পর্কে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল আলম খান বলেন, ‘এবছর ৩২ সেট প্রশ্নের মধ্য থেকে প্রশ্নপত্র বাছাই করা হয়েছে। যশোর বোর্ডের কাছে যে প্রশ্নসেট পড়েছে সেটি ছিল খুবই কঠিন। সেই প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে উচ্চ মাধ্যমিকে স্ট্যান্ডার্ড ছিল না সেই প্রশ্নপত্র। সেই প্রশ্নপত্র ছিল উচ্চ মাধ্যমিক লেভেলের শিক্ষার্থীদের বোধগম্যের বাইরে। বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ের যে প্রশ্ন হয়েছে তা মোটেই শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে ছিল না।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে এমন কিছু শিক্ষক আছেন- যারা প্রশ্নপত্রে এমন পাণ্ডিত্য দেখান যা মোটেই কাম্য নয়।’

তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, ‘এটি খতিয়ে দেখলেই এর সঙ্গে যারা জড়িত তারা ধরা পড়ে যাবেন।

বোর্ডের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত কোনো বোর্ডের প্রশ্নপত্র নির্ধারণ হয় ওই বোর্ডের শিক্ষকদের ধারা প্রণীত চার সেট প্রশ্নপত্র থেকে। তাহলে প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে যাওয়ার ‍সুযোগ থাকে না। কিন্তু এবার জাতীয়ভাবে ৩২ সেট প্রশ্নপত্র থেকে বাছাই করা হয়েছে। যার কারণে যশোর বোর্ডের শিক্ষকরা যে প্রশ্ন সেট তৈরি করেছে সেগুলো লটারিতে তারা পায়নি। তারা পেয়েছে অন্য প্রশ্নসেট।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র খুবই কঠিন হয়েছিল। পরীক্ষার দিন অনেক শিক্ষার্থীই বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফলাফলেও এর প্রতিফলন দেখা গেল।

এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ ফলাফল হয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের পাসের হার ৪৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর ফেল করেছেন ৫৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এটি যশোর শিক্ষাবোর্ডে ফলাফল খারাপের দিক থেকে রেকর্ড।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, ইংরেজিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল করছে। তারপরও গ্রেস নম্বর দিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে পাস করানো হয়নি। বলা যায় এই একটি বিষয়ের কারণেই পাসের হার কমে গেছে।

নবাবগঞ্জে পাসের হার ৫৭%

নিউজ৩৯.নেট, শিক্ষা প্রতিবেদক :: দোহারের ধারাবাহিকতায় নবাবগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। গত বছরের ৭৫ শতাংশ পাসের হার থেকে এই বছরে নবাবগঞ্জে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৭ শতাংশে। পাসের হারের মাঝে ব্যবধান বেড়েছে নবাবগঞ্জ সদর ও পশ্চিমাঞ্চলের সাথে। নবাবগঞ্জ পূর্বাঞ্চলে যেখানে পাসের হার গড়ে প্রায় ৬২ শতাংশ। সেখানে পশ্চিমাঞ্চলে পাসের হার ৪৬ শতাংশ, যা নবাবগঞ্জের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার মানের ব্যবধানটাই নির্দেশ করে। 

নবাবগঞ্জের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত দোহার নবাবগঞ্জ কলেজে এবারের পাসের হার তুলনামূলক ভাবে একটু কম। এবার দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এবার ৯০২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৬১ জন পাস করেছে। এই কলেজে পাসের হার ৬২.২০ শতাংশ। এই কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ জন শিক্ষার্থী। 

অপরদিকে উপজেলার গালিমপুরে অবস্থিত ইছামতি কলেজে এবারের পাসের হার ৬২.৩৬ শতাংশ। এই কলেজ থেকে ২৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২৩ জন পাস করেছে। এই কলেজ থেকে কেউ জিপিএ ৫ অর্জন করে নি।

অন্যদিকে নবাবগঞ্জের সর্বপশ্চিমে অবস্থিত শিকারীপাড়ার তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি কলেজে এইবার চুড়ান্ত রকমের ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই কলেজে এই বার পাসের হার ৪৬.৪২ শতাংশ। এই কলেজ থেকে ২৬৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১২৩ জন পাস করেছে। এর মাঝে কেউ জিপিএ ৫ পায় নি।