দোহার-নবাবগঞ্জের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো বেদে সম্প্রদায়। নৌকায় নৌকায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে জীবন অতিবাহিত করার কারণে এদের যাযাবর বলা হয়। তবে বৈচিত্রময় ও বর্ণিল জীবনের সবটুকু রং দিয়ে তারা তাদের জীবন সাজায়। যে কারণে আমরা প্রত্যাহিক জীবন বেদে জনগোষ্ঠির মানুষদের দেখলে দেখতে পাবো, তারা খুব পরিপাটি এবং রংবেরংয়ের কাপড় পরিধান করে আছে, নাকে কয়েকটা নলক পড়ে আছে। তাদের পোশাকের মতোই তাদের জীবন। কিন্তু সমাজের কথিত মূলধারার জনগণের সঙ্গে তাদের জীবনযাপন, আচার-আচরণ, সংস্কৃতি আলাদা হওয়ার কারণে তারা অনেকটাই পশ্চাতপদ। আর এই পশ্চতপদতার সূত্র ধরে, সাধারনত বেদে বলতে আমরা বুঝি যারা বিভিন্ন হাট বাজারে সাপের খেলা দেখায়, তাবিজ-কবজ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই বলে বেদেদের কাজকর্ম শুধু সাপ খেলা আর তাবিজ কবজ বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা চুড়ি-ফিতা, বিভিন্ন শেকড় বিক্রি ছাড়াও আদি ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতির অনেক উপকরণও তারা বিক্রি করে। সমাজব্যবস্থার দিক দিয়ে বেদেরা মাতৃতান্ত্রিক হলেও বর্তমানে তাদের সমাজ ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। সওদাগর শ্রেনীর নাম দিয়ে তারা এখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তৈরি করেছে। বেদেদের পেশার মধ্যে মেলায় মেলায় বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি, আছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, তাবিজ কবজ বিক্রি, সাপের কামড়ের চিকিৎসা করা, সাপের খেলা দেখানো, মাজা-কোমড়-হাত-পায়ের বাতের ব্যথা নিরাময়ের জন্য সিঙ্গা লাগানো, ভেষজ ওষুধ বিক্রি, মৃত পশুর শরীরের অংশ ব্যবহার করে বা গাছপালা দ্বারা ওষুধ তৈরি করে বিক্রি করা, বানর খেলা দেখানো, জাদু দেখানো ইত্যাদি। তবে ইদানিং এসব ব্যবসায় মন্দা ভাব দেখা যাওয়ায় তারা সমাজের মূলধারার অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে অনেক মহিলা বেদে ছোট ছোট বক্স নিয়ে হাটে বাজারে মানুষের কাছে থেকে টাকা তুলে থাকে। বর্তমানে বেদেদের দোহারের করিমগঞ্জ, লটাখোলা, মাহমুদপুর সহ কয়েকটি স্থানে দেখা যায়। নবাবগঞ্জের বান্দুরা, কোমরগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়। বেদেরা মূলত মুসলমান হলেও তাদেও বেশভূষা, বাসস্থানের ধরণ বা পেশা কোনোটির সঙ্গেই বাঙালি মুসলমানদের মিল নেই। বেদে সমাজ বেশকিছু গোত্রে বিভক্ত। এদের কয়েকটি গোষ্ঠী মালবেদে, বাজিকর, সান্দার, সাপুড়িয়া, টোলা, বরিয়াল মান্তা, মিরশিকারি ও গাইন বেদে। মাল বেদে গোষ্ঠীর নারীরা মাজা, কোমর, হাঁটু, কনুই বা পিঠের ব্যথায় সিঙ্গা দিয়া রক্ত টেনে বের করে ব্যথা নিরাময় করে। এরা দাঁতের পোকা বের করে দাঁতের ব্যথার চিকিৎসাও করে। এছাড়া ঝাড়-ফুক, তাবিজ-কবজ দিয়েও মানুষের চিকিৎসা করতেও তারা সিদ্ধহস্থ। মাল বেদে পুরুষেরা নদী, খাল বা পুকুরে হাড়িয়ে যাওয়া সোনা-রুপার অলংকার খুঁজে বের করে দেয়। বাজিকর বেদে নারীরা হাতের কারসাজিতে বিভিন্ন জাদু দেখায়। এরা দড়ি ও বাঁশের মাধ্যমে বিভিন্ন দৈহিক কসরৎ দেখিয়ে আসর জমায়। আর পুরুষেরা হাট বাজারে মজমা জমিয়ে গাছ-গাছড়া দিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে থাকে। সান্দার গোষ্ঠীর নারীরা চুড়ি, ফিতা ও খেলনা ফেরি করে এবং বিভিন্ন মেলায় দোকান দিয়ে এগুলো বিক্রি করে। পুরুষেরা অনেকেই তালাচাবি ঠিক করে। আবার অনেক সান্দার পুরুষ নদী-খাল-বিলে পানিতে ডুবিয়ে শামুক সংগ্রহ করে তা থেকে মুক্তা খুঁজে বের করে। ঐ মুক্তা বেদে নারীরা ফেরি করে বিক্রি করে। টোলা বেদেরা বানর দিয়ে হাটে –বাজারে ও গ্রামে-গঞ্জে খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা বানরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন অভিনয় বা অনুকরণ করতে শেখায়। সাপুড়িয়া বেদে পুরুষেরা সাপ ধরে এবং নারী-পুরুষ উভয়েই গ্রামে-গঞ্জে, ঘাটে ও বাজারে সাপ খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেক সাপুড়ে হাট-বাজারে মজমা মিলিয়ে সাপের তাবিজ বিক্রি করে। ইদানিং তারা বিভিন্ন বাজারে সাপ দেখিয়ে জোর সাহায্য তুলে। মিরশিকারি বেদেরা জিন-ভূত তাড়ানোর চিকিৎসা দিয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধও বিক্রি করে। বরিয়াল বা মান্দা বেদেরা ছোট ছোট নদীতে দল বেঁধে মাছ ধরে এবং তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তারা বড়শি দিয়ে মাছ ধরে বলে অনেকে এদেরকে বরিয়াল বলে। বিভিন্ন লঞ্চঘাট বা নদী বন্দর গুলোতে প্রায়শই এদের ছোটো ছোটো নৌকা দেখা যায়। গাইন বেদেরা হাঁড়ি পাতিল ফেরি করে বিক্রি করে জীবিকা চালায়। তারা ছোটো ছোটো নৌকা নিয়ে নদী-খাল-বিলে ঘুড়ে বেড়ায়। বেদে সমাজের বিয়েতে কোনো কাবিননামা বা বিয়ে রেজিস্ট্রি করা বা কাগজপত্রে সই স্বাক্ষর নেয়া হয় না। বেদে সর্দারদের নেতৃত্বে সবাই গোল হয়ে বসে মুখে মুখে বিয়ে পড়ানো হয়। তবে বেদে সমাজে বাল্যবিবাহ প্রচলন খুবই বেশী। মেয়েদের ১২-১৩ বছর এবং ছেলেদের ১৫-১৬ বছর না হতেই বিয়ে দেয়া হয়। কখনো বা জন্মের পরই বাবা-মা বাচ্চাদের বিয়ের কথা চুড়ান্ত করে রাখে। তবে বেদে সমাজে বহুবিবাহ প্রথাও প্রচলিত। কোন স্বামী অন্য কোন নারীর প্রতি আসক্ত হলে প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তান ফেলে রেখে অন্য স্ত্রীকে নিয়ে অন্য নৌকায় বা তাঁবুতে চলে যায়। হারিয়ে যাচ্ছে বেদে সম্প্রদায়। হারিয়ে যাচ্ছে বেদেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। এখন আর তারা আগের মতো সাপের খেলা, তাবিজ বেঁচে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে না। তাই তারা বেছে নিচ্ছে আর দশজনের মতো স্বাভাবিক জীবন।
এবার নবাবগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার
ঢাকার নবাবগঞ্জে হত্যার ভয় দেখিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মো. রনি (২৬) নামের ওই যুবককে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নবাবগঞ্জ থানার এসআই আরিফুল কায়সার জানিয়েছেন।
ওই রাতেই নির্যাতিত কিশোরীর মা রনিকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।রোববার রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রনি উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের বাবু মাদবর ওরফে সালামের ছেলে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ধর্ষণচেষ্টার ওই ঘটনা বলে জানিয়েছেন ওই কিশোরীর বড় ভাই। তিনি নিউজ৩৯কে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে তার বোন রুটি কিনতে দোকানে যাওয়ার সময় রনি তাকে ডেকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়।
“ভেতরে যাওয়ার পর রনি ছুরি দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ঘরে নিয়ে দরজা আটকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় আমার বোনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে রনি পালিয়ে যায়।” এসআই আরিফুল জানান, এলাকাবাসীই পরে রনিকে আটক করে থানায় খবর দেয়। তবে রনির মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
বখাটে রনি মাদকের একটি মামলায় ছয় মাস সাজা খেটে কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি সায়েদুর রহমান।
নবাবগঞ্জে দুই মাদক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুকে ২ বছর ও মিজান দেওয়ানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল কাদির মিয়ার আদালত এ কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ড প্রাপ্ত, বাবু উপজেলার দেওতলা গ্রামের আত্রাফ আলীর ছেলে ও মিজান দেওয়ান একই গ্রামের লোকমান দেওয়ানের ছেলে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার উপপরিদর্শক আরিফুল কায়সার জানান, শনিবার রাতে দেওতলা এলাকায় মাদক বিক্রয়ের সময়ে বাবুকে ৭১টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও মিজানকে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে রোববার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাদ- প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
নবাবগঞ্জে দুই মাদক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুকে ২ বছর ও মিজান দেওয়ানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। আজ রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আব্দুল কাদির মিয়ার আদালত এ কারাদণ্ড দেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, বাবু উপজেলার দেওতলা গ্রামের আত্রাফ আলীর ছেলে ও মিজান দেওয়ান একই গ্রামের লোকমান দেওয়ানের ছেলে।
নবাবগঞ্জ উপজেলার উপপরিদর্শক আরিফুল কায়সার জানান, শনিবার রাতে দেওতলা এলাকায় মাদক বিক্রয়ের সময়ে বাবুকে ৭১টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও মিজানকে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে রোববার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত তাদের কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
নবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগ সেক্রেটারির পিতার ইন্তেকাল
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনের বাবা নবাবগঞ্জ বাজারের প্রবীণ ব্যবসয়ী মো. হাতেম আলী বেপারি (৯০) বৃহস্পতিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা হৃদরোগ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। শুক্রবার বাদ জুমা নবাবগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে কাশিমপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
এছাড়া নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক, আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন মিয়া, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, উপজেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইব্রাহীম খলিল, সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হকসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে।
নুরে আলম উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
ঢাকার দোহারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এ্যাড: নূরে আলম উজ্জলের বিরুদ্ধে বাড়ি ঘর ভাংচুর, লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার মৈইতপাড়া গ্রামের মিরাজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেলে এ্যাড: নূরে আলম উজ্জলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন নেতাকর্মী মটরসাইকেলের বহর নিয়ে মিরাজের বাড়িতে ঢুকে কয়েকটি স্থাপনা ভাংচুর করে। এবং পরে যাওয়ার সময় নগদ ৫০০০০/-টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়।
আ’লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক এ্যাড: নূরে আলম উজ্জলের সাথে তার পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী মিরাজ মিয়ার সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এ ঘটনায় রাতে দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ধর্ষকদের ধরতে দোহার থানা পুলিশের অভিযান অব্যহত
ঢাকার দোহার উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন : মুকছেদপুর ইউনিয়নের মধুরখোলা গ্রামের মো. সুরুজ (২৯) ও মো. সেলিম (২৬) এবং রুইতা গ্রামের মো. রানা (২৮), মো. সিরাজ (৩২) ও মো. সাদ্দাম (২৭)। পুলিশ আসামীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোহার থানা পুলিশের ওসি(তদন্ত) সোহেল রানা।
যদিও ধর্ষিতার বাবা অভিযোগ করেছেন পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে না । তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে তার মেয়ে নানাবাড়ি থেকে ফেরার সময় আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে দোহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, মামলা হওয়ার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো তথ্য বা আলামত পাইনি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই কিশোরীর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মেডিক্যাল টেস্টের জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং আসামিদের বিচারের দাবিতে ১ নভেম্বর জয়পাড়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এলাকাবাসী।
মাদার গাছ; হারিয়ে যাচ্ছে দোহার নবাবগঞ্জ থেকে
দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় মাদার গাছ সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে অতি পরিচিত বৃক্ষ। একসময় দোহারের প্রতিটি এলাকায় এই গাছ দেখা গেলেও কালের বিবর্তনে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এ গাছ।
প্রাকৃতিক নিয়মে কবে কোথায় এই গাছের জন্ম হয়েছে সে তথ্য সংগ্রহে নেই। তবে যতটুকু জানা যায় নানান প্রজাতির পাখি মাদার গাছের বীজ খেতে গিয়ে তাদের মুখ থেকে মাটিতে পরে আর সেই থেকে এই মাদার গাছের বংশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবং গাছের সৃষ্টি হয়েছে। এই গাছ দ্রত বর্ধনশীল ৬/৭ মাস পরপর এই গাছের ডালপালা কাটা যায় এক সময় দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রতিটি বাড়ির ঘরের আঙ্গিনায় ও পুকুর পাড়ে অনেক মাদার গাছ দেখা যেত।
ক্ষেত্র বিশেষে অনেক পুরাতন বসত ভিটায় এই মাদার গাছের সীমানা খুঁটি এখনো দেখা যায়। মাদার গাছের বিভিন্ন জাত রয়েছে। যেমন তেলী মাদার, কাটা মাদার ও পাইন্ন্যা মাদার।
মাদার গাছ বিষাক্ত কাটায় ভরপুর। এমনকি পাতাতেও কাটা যুক্ত থাকে। এই কাটা পাশ কাটিয়ে কেউ এগুতে চাইলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড় লেগে যায়। তেলী মাদার গাছে তেমন কোন কাটা নেই, অন্যান্য সাধারণ গাছের মত। এই গাছে ফাল্গুন মাসে খুব সুন্দর ফুল ফোটে। কাটা মাদার ও তেলী মাদার দেখতে প্রায় একরকম। তফাৎ শুধু একটি গাছ কাটা যুক্ত।
পাইন্ন্যা মাদার গাছে একটু ভিন্নতা রয়েছে। এই গাছে পাতলা কাটা রয়েছে। বিগত ১৯৮৮ ও১৯৯৮ সালের বন্যা ও অব্যাহতভাবে এই গাছ নিধন হওয়ায় পুন আবাদ বা রোপণের ব্যবস্থা না থাকায় মাদার গাছ দোহার নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
হাত বাড়ালেই ইয়াবা, আছে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা
ভয়ানক মাদক ইয়াবার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকার অনতিদূরের এলাকা দোহার-নবাবগঞ্জ। ফেরিওয়ালার মতো এখানে প্রকাশ্যে ফেরি করে বেচাকেনা হচ্ছে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক। এ ছাড়াও রয়েছে হোম ডেলিভারি সিস্টেম। মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাস্তার মোড়ে, টঙ দোকানে, হাটবাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। তার ওপর যোগ হয়েছে নতুন ফর্মুলা অর্থাৎ হোম ডেলিভারি সার্ভিস। চাইলে ঘরেই সরবরাহ করা হয় ইয়াবা। শুধু মোবাইলে অর্ডার দিলেই আধ ঘণ্টার মধ্যে মোটরবাইক বাহিনী হাজির হয়ে যাবে অর্ডার সাপ্লাই দিতে। এ ছাড়াও ইজিবাইকে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার দল। তারা ঘুরে ঘুরে ইয়াবা বিক্রি করে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় এখানে প্রায় প্রতিটি ঘরেই ইয়াবাসেবী রয়েছে। শুধু উঠতি তরুণ-তরুণী নয়, গ্রামের মহিলা ও বয়স্ক পুরুষরাও যারা আগে বিড়ি, সিগারেট, তামাক বা হুঁকায় অভ্যস্ত ছিলেন এখন তারাও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই প্রতিটি বাজারে বসে তাস খেলার আসর। মধ্য রাত পর্যন্ত তাস খেলার পাশাপাশি চলে চা, ইয়াবা ও গাঁজা সেবন। কাজেই উঠতি বয়সের সন্তানদের মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে বেশির ভাগ অভিভাবক এখন অল্প বয়সেই লেখাপড়া বাদ দিয়ে সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কোনো মতে এসএসসি পাস করলেই ছেলে বিদেশ পাঠাতে মরিয়া হয়ে উঠছেন অভিভাবকেরা। ফলে এ অঞ্চলে দিন দিন শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের অন্যতম ধনাঢ্য অঞ্চল দোহার-নবাবগঞ্জ। এলাকার ৮০ শতাংশ পুরুষ বিদেশে থাকেন। শুধু উঠতি তরুণ ও বৃদ্ধরাই এলাকায় থাকেন। প্রবাসীরা যে টাকা পাঠান তার একটি বড় অংশই চলে যায় এসব বেকার তরুণ ও বৃদ্ধের আরাম আয়েশ ও মাদক সেবনে। পকেটে টাকা থাকায় সহজেই এদের হাতে চলে যাচ্ছে মাদক।
সূত্র জানিয়েছে, দোহার ও নবাবগঞ্জকে মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দোহারের মৈনটঘাট দিয়ে পদ্মা পার হয়ে ভারত থেকে মাদক আসছে। এই পথ দিয়েই মাদক চলে যাচ্ছে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায়। মৈনটঘাটে প্রতিদিন ভোরে যে পদ্মার মাছের আড়ত বসে, সেখান থেকে মাছের পাইকারেরা সিএনজি, পিকআপ বোঝাই করে মাছ নিয়ে আসে ঢাকায়। এসব মাছের ভেতরেই মাদকের চালান পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
এ অঞ্চলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক আসক্তের সংখ্যা। ফলে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অপরাধ। উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরী যাদের বয়স ১৬ থেকে ১৮, তারাই এর প্রতি বেশি আসক্ত হচ্ছে। একসময় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যুবকদের মধ্যেও এর বিস্তার ঘটছে। শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক থেকে বৃদ্ধ বয়সী নারী-পুরুষ কেউ বাদ যাচ্ছেন না। হাত বাড়ালেই ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, বাংলা মদ পাওয়া যায়। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশায় চলন্ত অবস্থায়ও মাদকের বেচাকেনা হয় বলে জানা যায়।
নবাবগঞ্জের পাড়াগ্রাম বাজারের এক ব্যবসায়ী অভিযোগের সুরে জানান, মাদকের ভয়াবহতায় ছেলেমেয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
দোহারের মঞ্জুর খান জানান, নবাবগঞ্জ ও দোহারে মাদকে ছড়াছড়ি হলেও প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন এত হিমশিম খাচ্ছে বুঝে উঠতে পারছি না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ দুই উপজেলায় মাদকের বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন কৌশলে। এর মধ্যে কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধ, বান্দুরা, বাহ্রা, গালিমপুর, চুড়াইন, আগলা, জয়কৃষ্ণপুর, কৈলাইল ইউনিয়নে এ মাদকের কেনাবেচা হয় মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও রিকশায় চলন্ত অবস্থায়। আরো জানা যায়, ভারতীয় সীমান্ত থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে যেসব মাদক রাজধানী ঢাকায় ঢোকে তার মধ্যে দোহারের মৈনট ট্রলার ঘাট, বাহ্রা ট্রলার ঘাট, নারিশা ট্রলার ঘাট উল্লেখযোগ্য।
অন্য দিকে নবাবগঞ্জের কৈলাইল ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম বাজারসংলগ্ন চর আটিপাড়া, চর পল্টন, বাহ্রার বলমন্তচর, গালিমপুরের মুসলেমহাটি, টিকরপুর, আগলার ছাতিয়া মোহনপুর, দোহারের মুকসুদপুর, গোরাবন, মৈতপাড়া, ধীৎপুর, মৌড়া, দুবলী, নারিশা, চৈতাবাতর, রুইথা, নারিশা পশ্চিম চর, তালপট্টি, মধুরখোলা, মালিকান্দা বটতলা, সুতারপাড়া, আল-আমীন বাজার, ডায়ারকুম, কাজীর চর, দোহার পুরী, কাটাখালী, নিকড়া, ইউসুফপুর, গাজীকান্দা, উত্তর জয়পাড়া তিন দোকান, রাইপাড়া, রাইপাড়া বিলের পাড়, লটাখোলা বাঁশতলা, ইকরাশি, কাচারিঘাট, চর কুশাই, বাস্তা, কুসুমহাটি, আনতা, ধোয়াইর, চর মোহাম্মদপুর, হরিচন্ডি, বিলাসপুর মৈনট আবাসন প্রকল্প, দক্ষিণ শিমুলিয়া, অরঙ্গবাদসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাদক সরবরাহ ও বিক্রয় করে থাকে।
নবাবগঞ্জের বলমন্তচর গ্রামে মাদকের হাট বসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের কয়েক সদস্যের সখ্যতা রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান বলেন, মাদকের সাথে কোনো আপস নয়, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।
ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ১৯০ কোটি ডলারে স্যানডিস্ক কিনছে
দুই শীর্ষ হার্ডডিস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবার এক হলো। ১৯০ কোটি ডলারে অর্থে ফ্ল্যাশ মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যানডিস্ককে কিনে নিচ্ছে হার্ডডিস্ক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল। খবরটা মেমোরি চিপ তৈরির শিল্পে যে বড়সড় পরিবর্তন আনবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নানা ধরনের আলোচনা শুরুও হয়ে গেছে।
শুধু দুটি প্রতিষ্ঠান এক হওয়া না, বরং প্রতিষ্ঠান দুটি খরচ কমিয়ে একে অপরের উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই বার্ষিক আয়ের লক্ষণীয় প্রভাব দেখা যাবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।
ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের প্রধান নির্বাহী স্টিভ মিলিগান এ ব্যাপারে বলেন, ‘একত্র হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আগের চেয়ে বেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে স্টোরেজ শিল্পে বড় পরিবর্তন আনবে।’
স্যানডিস্কের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে নগদ ৮৫ দশমিক ১০ ডলার এবং ০.০১৭৬টি ওয়েস্টার্ন ডিজিটালের শেয়ার পাবে।
ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা পরিষদ জানায়, ‘হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি), ক্লাউড ডেটা সেন্টার স্টোরেজসহ ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ও স্যানডিস্কের পরিপূরক পণ্যগুলো ডেটাসেন্টারের জন্য আরও বেশি পণ্যের ব্যবস্থা করবে।’
দুই শীর্ষ হার্ডডিস্ক ও ফ্ল্যাশ মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একত্র হওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়িকভাবেই দারুণ বলেও অভিমত দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
