দোহারে বিএনপির আলোচনা সভা ও মত বিনিময়

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দোহার উপজেলা ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে নির্বাচন উত্তর পূর্ন মিলনী, আলোচনা সভা ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ভুলুর বসায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন পর দোহার উপজেলা বিএনপির কোন সভায় এতো নেতাকর্মী অংশগ্রহন করলো। এসময় তৃনমূল থেকে সবাই মিলে কমিটি করার বিষয়ে সবাই একমত হয়।

এসময় প্রধান অতিথি উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম ভুলু বলেন, নির্বাচনের সময় আপনার আমার সাথে থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। তাই আমি আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এখন আমারা সকল লবিং গ্রুপিং বাদ দিয়ে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলে বলেন, দোহার উপজেলা বিএনপির ঘাটি। একটি মহল দোহারে পকেট কমিটি করার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দোহার উপজেলা বিএনপিকে ধ্বংষের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু দোহার উপজেলা বিএনপিকে আরো সংগঠিত ও ঐক্যবধ্য করে গড়ে তুলতে হলে সবাই মিলে তৃনমূল থেকে সকল কমিটি একত্রে করতে হবে। যারা গত উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং তাদেরকে কমিটিতে স্থান দিতে হবে। বিএনপির রাজনীতি ঘরে বসে থাকার রাজনীতি না। সামনে পৌর ও ইউপি নির্বাচনে কোন ডিগবাজি মার্কা নেতা ও যারা ঘরে বসে রাজনীতি করেন তাদেরকে দলের মনোনয়ন দেয়া হবে না।

মুকসুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আ. হালিমের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, অধ্যাপক দলিল উদ্দিন কবিরাজ, বাবু নিশীত রঞ্জন গুহ, আব্দুল হাই হারেজ, অ্যাডভোকেট আবু তালেব শিকদার, অ্যাড. মনির হোসেন রানা, উমাইয়ুল ইসলাম খালেক, যুবনেতা সাজ্জাদ হোসেন হিটু মোল্লা, ছাত্র নেতা আব্দুল হান্নান, আব্দুল আওয়াল আকন্দ, লূৎফর রহমান রতন, শাখাওয়াত হোসেন বিদ্যুৎ, জুলহাস উদ্দিন, লূৎফর শিকদার, সাইফুল ইসলাম কিরন, আয়নাল হক মেম্বার, মোন্নাফ মন্ডল, নূরুল ইসলাম মেম্বার, মোশারফ হোসেন বেপারী প্রমুখ।

মেঘনা সেতুতে মাসে ৩০-৪০ লাখ টাকার টোল কম পেয়েছে সরকার: ফেসে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব

মেঘনা সেতু থেকে সরকার প্রতিদিন ৩৯-৪০ লাখ টাকার টোল কম পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বঙ্গবন্ধু সেতু সহ বিভিন্ন সেতুর টোল আদায় করার জন্য অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে যোগাযোগ মন্ত্রী এই কথা বলেন। ফলে মেঘনা-গোমতি নদীর টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব ফেঁসে যেতে পারেন এই মেঘনা ও গোমতি নদীর টোল আদায়ে অনিয়মের জন্য।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর মন্ত্রী জানান, মেঘনা ও গোমতি সেতুর টোল আদায়ে করায় চুরি বন্ধ হয়েছে। আর এ কারণে প্রতিমাসে বাড়তি আদায় হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। তাই চুরি বন্ধ করতে বঙ্গবন্ধু সেতুর আদলে দেশের সব বড়বড় সেতুর টোল আদায় করার ব্যবস্থা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মেঘনা ও গোমতী নদীর টোল আদায়ের দোহারের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া ইঞ্জিনিয়ার মেহবুবুর রহমানের। কিন্তু কিছু দিন আগে টোল ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে টোল আদায় করার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয় সরকার।

এক যুগ দুবাইয়ের কারাগারে নবাবগঞ্জের যাদব: মৃত্যুদণ্ড মওকুফে সরকারের তৎপরতা

দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশী শ্যামলচন্দ্র বিশ্বাসকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তারই সহকর্মী নবাবগঞ্জের গোল্লা গোবিন্দচর খলশি গ্রামের বীরেন যাদব বাড়ৈকে শারজাহের একটি আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড রহিত করতে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে দেশের আইন অনুযায়ী রক্তঋণ পরিশোধের মাধ্যমে মৃত্যু থেকে রেহাই দিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের সাথে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী কর্মী মানিকগঞ্জের শ্যামলচন্দ্র বিশ্বাস একই কোম্পানিতে কর্মরত অপর বাংলাদেশী নবাবগঞ্জের বিরেন যাদব বাড়ৈর হাতে ২০০৩ সালের ২৫ নভেম্বর খুন হন। এ নিয়ে মামলা হলে গ্রেফতার হন যাদব। শারজাহ প্রাথমিক শরিয়াহ আদালতে দীর্ঘ এক যুগ মামলা চলার পর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে বীরেন যাদব রায়ের বিরুদ্ধে (৭১০/২০০৪ নম্বর) আপিল করেন এবং নিহতের পরিবারকে রক্তঋণ পরিশোধের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে অব্যাহতি চান যা এখনো বিচারাধীন।

কিন্তু রক্তঋণ (ক্ষতিপূরণ) প্রদানের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। তা ছাড়া অভিযুক্ত যাদবের পরিবারও অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের অর্থ জোগাতে পারেনি বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

এ দিকে শারজাহর কারাগারে দীর্ঘ এক যুগ ধরে আটক যাদব মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সহানুভূতির সাথে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে। তারা দূতাবাসের মাধ্যমে নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে ক্ষমাপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই শ্রম উইংয়ের প্রথম সচিব (শ্রম) এ কে এম মিজানুর রহমান গত মাসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন। তাতে বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব খুন হওয়া বাংলাদেশী শ্যামলচন্দ্র বিশ্বাসের পরিবার ও অভিযুক্তের পরিবারের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করতে।

জানা গেছে, শারজাহ আপিল আদালত এই মামলায় নিহতের বৈধ ওয়ারিশদের সাথে যোগাযোগ করে নিহতের পরিবার অভিযুক্তের পরিবার থেকে রক্তঋণ গ্রহণ করে ক্ষমা প্রদানে ইচ্ছুক কিনা অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তা কার্যকর করা হবে কিনা সে বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আদেশ প্রদান করেন।

অভিযুক্ত ও নিহতের পরিবারের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করে নিহতের পরিবারকর্তৃক স্পষ্ট ভাষায় লিখিত ক্ষমাপত্র ও মানি রিসিপ্ট, পৌরসভার বা ইউপি কাউন্সেলরকর্তৃক প্রদত্ত ওয়ারিশ সনদ এবং নোটারি পাবলিককর্তৃক প্রদত্ত ফারায়েজনামা যথাযথভাবে নোটারি করে বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস থেকে সত্যায়ন করে পাঠানোর জন্যও কন্স্যুলেট অফিস থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অথবা এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত কন্স্যুলেটকে অবহিত করার জন্য দুবাইয়ের প্রথম সচিব (শ্রম) এ কে এম মিজানুর রহমান তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য নিহত শ্যামলচন্দ্র বিশ্বাসের বাবা কালিপদ বিশ্বাস। তার পাসপোর্ট নম্বর পি-০২২৬৪৭৮। স্থায়ী ঠিকানা মানিকগঞ্জের বাজিতপুর গ্রাম। অপর দিকে অভিযুক্ত বীরেন যাদব বাড়ৈর বাবা যাদবচন্দ্র বাড়ৈ। ঢাকার নবাবগঞ্জ গোল্লা গোবিন্দচর খলশি গ্রামে তার বাড়ি।

অভিযুক্ত বীরেন যাদবের ভাই আনন্দচন্দ্র বাড়ৈ গতকাল বলেন, আমার ভাই ১৪-১৫ বছর আগে দুবাই গেছে। এরপর সেখানে তাদের মধ্যে কী হয়েছিল তা আজো জানতে পারিনি। একবার দূতাবাস থেকে একটি চিঠি এসেছিল। পরে ওই চিঠি পেয়ে আমরা নিহতের ভাইয়ের সাথে মানিকগঞ্জে গিয়ে যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা মীমাংসা করতে রাজি হচ্ছে না। শুধু বলে, ঈশ্বরের কাছে কামনা করেন, আপনার ভাই ফিরে আসবে। আনন্দচন্দ্র বলেন, আমার ভাইকে মুক্ত করতে যে টাকা প্রয়োজন তা আমরা কোনো দিন দিতে পারব না। তবে জমিজমা বিক্রি করে বড়জোর ৭০-৮০ হাজার টাকা দিতে পারব।

মাহমুদপুরে ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে ইয়াবা, মদ,গাঁজাসহ আমজাদ হোসেন লালন (৩২), মোজাফ্ফর চৌধুরী(৩৪), আমজাদ হোসেন লালু(৪৫) ও তোফাজ্জল হোসেন তোতা (৩২) নামে চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। ভ্রাম্যমান আদালতে প্রত্যেককে ৩ মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে মাহমুদপুর ফাঁড়ির পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন লালনের বাড়ি হতে ১৬ পিচ ইয়াবা ও মদ পান সেবন করার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে তোফাজ্জল হোসেন তোতা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী, মোজাফ্ফর চৌধুরী উপজেলার নারায়নপুর এলাকার মৃত রজ্জব আলী, আমজাদ হোসেন শ্রীকৃষ্ণপুর,আমজাদ হোসেন লালু চরকোসাই এলাকার মৃত হাফেজ বেপারী ও তোফাজ্জল হোসেন তোতা চরমাহমুদপুর এলাকার ছফিল উদ্দিনের ছেলে বলে জানা যায়।

পরে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নূরুল করিম ভূঁইয়ার আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে।

দোহার-নবাবগঞ্জে সরকারী কর্মকর্তাদের ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন  

ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলায় সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ৬ দফা দাবী আদায়ে মানববন্ধন করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে তারা এ মানববন্ধন করে। প্রকৃচি-বিসিএস ২৬ ক্যাডার ,নন-ক্যাডার ও ফাংশনাল সর্ভিস সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

দাবী গুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্য পেশা ভিত্তিক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, বেতন স্বেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুর্ণবহাল, উপজেলায় ইউএনও এর কতৃত্ব বাতিল ,আন্ত:ক্যাডার বৈষম্য নিরসন, নিজস্ব ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিস বহির্ভূত সকল ধরণের পোষন বাতিল,সকল ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিসে পদোন্নতির সমান সুযোগ প্রদাণের দাবীতে তারা এ মানববন্ধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দূষিত হচ্ছে হিলশামারী নদী,নেই দূষণ মুক্ত করার কোন উদ্দ্যোগ 

কেউ বলে ইছামতীর শাখা নদী, কেউ বলে পদ্মার শাখা নদী,তবে যে যাই বলুক নদীটির নাম “হিলশামারী” এটি এসেছে মূলত পদ্মা নদী থেকেই। কার্তিকপুরের মঈনট থেকে পদ্মার একটি শাখা বেড়িয়ে তা জামালচরের মধ্য দিয়ে লটাখোলা জুনিয়র হাই স্কুলের পাশ দিয়ে লটাখোলা হয়ে জয়পাড়া বাজারের পাশ দিয়ে খালপাড় বৌ-বাজার হয়ে সাহেবখালী দিয়ে আড়িয়াল বিলে পড়েছে।

এই চলার পথে নানা স্থানে নানান ভাবে দূষণের শিকার হয়েছে এই নদীটি। নানা রকম বর্জ্য বিশেষ করে জয়পাড়া ও তার আশে পাশে অবস্থিত প্রায় সবকটি ক্লিনিকের নানারকম বিষাক্ত বর্জ্য গোপনে ফেলা হচ্ছে এই নদীতেই। ব্রিজের উপর থেকেই দেখা যায় গরু জবাই করার পর তার সমস্ত বর্জ্যই সরাসরি ফেলা হয় এই নদীতে।ফলে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে নদীর পানি, অন্যদিকে নদীর পানিতে গোসল করার ফলে নানারকম পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নদী তীরবর্তী এসব এলাকার জনগণ। একটা সময় নদীতে দেখা যেত জেলেরা জাল ফেলে,বিভিন্ন স্থানে ভেসাল পেতে মাছ ধরছে কিন্তু পানি দূষিত হবার কারণে মাছ পাওয়া যায়না এখন তাই মাছ ধরার দৃশ্য ও আর দেখতে পাওয়া যায়না।

সম্প্রতি ড্রেনসহ রাস্তা নির্মান হচ্ছে। কিন্তু সেই ড্রেনের ময়লা ফেলা হবে নদীতে। এ বিষয়ে পৌর পিতা আব্দুর রহিম চেয়ারম্যান নিউজ ৩৯ কে জানান, “ড্রেনের ময়লা নদীতে ফেলা হবে এতে কোন সমস্যাই,ক্লিনিকগুলোর বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে এ নিয়ে আমরা বেশ চিন্তিত। এর আগে আমরা ক্লিনিকগুলোর মালিকদের বিষয়টি অবগত করেছি,আমাদের ভাবনায় আছে নদীতে যাতে ক্লিনিকগুলোর বিষাক্ত বর্জ্য ফেলতে না পারে।” তবে তারা এ বিষয়ে কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেবেন সে কথা কিছু জানানি দোহার পৌরসভা।

১৯৮৮ সালের চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই ভাই খুন; ৬ জনের যাবজ্জীবন

১৯৮৮ সালের চর দখলকে কেন্দ্র করে দোহার থানাধীন মুকসেদপুরে সংঘর্ষে ২ ভাই হত্যার মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ-৫ এর অতিরিক্ত বিচারক জুয়েল রানা এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন মুকসেদপুর হাইস্কুলের দক্ষিণ পাশ্বে চর দখলকে কেন্দ্র দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘষের এক পর্যায়ে আসামিদের বন্দুকের গুলিতে রাজা সিকদার নিহত হন। এবং তার ভাই মমিন সিকদার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাড়িতে অবস্থান করলে সেখানে তাকে হত্যা করে লাশ পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দোহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার ৭২ আসামির মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এদের মধ্যে শেখ খলিল, বেনু সরদার, কালাম জঙ্গি, সালাম জঙ্গি ও আমজাদ বেপারিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত মো. আকন্দ, চাঁন মিয়া সরকার, শেখ জুলমত ও জহির উদ্দিন বেপারি মারা যাওয়ায় তাদের দণ্ড মওকুফ করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কেবল সালাম জঙ্গি আদালতে হাজির ছিলেন। বাকিরা পলাতক। এ মামলায় ৬৩ সাক্ষীর মধ্যে আদালতে ২১ জন বিভিন্ন সময় সাক্ষ্য প্রদান করেন।

১৯৯৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শেখ জুলমত, শেখ সোহারা, তাসের শেখ, শাহাজালাল, মজিবুর রহমানসহ ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

সাদ্দাম-সুরুজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মুকসুদপুর

ঢাকার অদূরেই আড়িয়ল বিলের কাছে মধুরখোলা, সাতভিটা, রুইতা, পল্লীবাজার, দুবলী, মইতপাড়া ও মৌড়া। দোহারের ছায়া সুনিবিড় সবুজে ঘেরা জনপদ। এলাকার মানুষের পেশা কৃষি, ব্যবসা ও প্রবাসে চাকরি। এসব গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষ এতদিন বেশ নির্বিঘ্নেই জীবনযাপন করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাদের জীবনে ত্রাস হয়ে উঠেছে সাদ্দাম সুরুজদের এই দলটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মুকসেদপুর ইউনিয়নের এ সাত গ্রামে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ বাহিনীর নানা অপকর্ম। সম্প্রতি এদের গণধর্ষণের শিকার হয় ৭ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী। জমে থাকা ক্ষোভ রূপ নেয় দাবানলে। তাদের গ্রেফতার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে আসছেন এলাকাবাসী।

মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলার আসামি মিলে গড়ে ওঠা এ বাহিনীতে রয়েছে সাদ্দাম, সুরুজ, রানা, সিরাজ, চাক্কু মিলন, পাইন্যা সুমন ও সেলিমসহ ১০/১২ জন। পুলিশও তাদের অপরাধী হিসেবেই চেনে। তবে নামমাত্র অভিযানে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

২০ অক্টোবর সহপাঠীদের নিয়ে বাড়ির কাছে বাজারে আসার সময় ওই কিশোরীর প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে বখাটে সাদ্দাম, সুরুজ, সেলিম, রানা ও সিরাজের। পথে ওঁৎ পেতে থাকে তারা। ফেরার সময় ধরে নিয়ে ময়নার বস্তির এক পরিত্যক্ত ঘরে মুখ বেঁধে পাশবিক অত্যাচার চালায়। একপর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে চিৎকার করলে এগিয়ে আসে স্থানীয়রা। পালিয়ে যায় বখাটেরা। পুলিশ এসে কিশোরীকে হাসপাতালে নেয়। পরে স্কুলছাত্রীর বাবা ওই পাঁচজনকে আসামি করে দোহার থানায় মামলা করেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, সাত গ্রামের মানুষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম বাহিনীর কাছে জিম্মি। কিছুদিন আগে সাদ্দাম এক মামলায় আটক হলেও হাতকড়া ছিঁড়ে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। প্রবাসী পরিবার ও ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে তারা। টাকা না দিলেই নেমে আসে অত্যাচার।

মৌড়া গ্রামের বায়েজিদ বলেন, সাদ্দাম বাহিনীর ভয়ে মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতেও ভয় পায়। ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে বাজারে যাওয়ার পথে তাকে আটকে টাকা চায়। না দেয়ায় তার গাড়িটি নিয়ে যায়।

মধুরখোলা গ্রামের আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, এরা এলাকার ত্রাস। মানুষ ওদের ভয়ে নিরাপদে রাস্তায় বের হতে পারে না। মাদক ব্যবসাসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না।

ইউপি সদস্য ফয়জল খালাসী বলেন, মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত বিলের পাড়েই এরা আস্তানা গড়েছে। ভয়ে এলাকাবাসী ওদের কিছু বলে না। পুলিশকে বললেও তারা এসে ঘুরে চলে যায়।

পল্লীবাজার এলাকার অধিবাসী নারী ইউপি সদস্য বলেন, সাদ্দাম বাহিনীর রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। এলাকায় কখন পুলিশ বা আইন-শৃংখলা বাহিনীরা আসে সে সংবাদ তাদের কাছে মুহূর্তে পৌঁছে যায়। তারা নিরাপদে সটকে পড়ে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি রোববার ওই এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের ডেকে সভা করেছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। যে কোনো মূল্যে এবং দ্রুতই সাদ্দাম ও সহযোগীদের গ্রেফতার করা হবে।

সোমবার দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এলাকাবাসীকে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সন্ত্রাসীদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আবদুল আলিমকে সালমা ইসলামের এপিএস পদ থেকে অব্যাহতি

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের দোহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এপিএস আবদুল আলিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। জানা গেছে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে এপিএস পদ থেকে অব্যাহতি দেন সালমা ইসলাম।

সোমবার সালমা ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। তবে আবদুল আলিম এখন থেকে দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নবাবগঞ্জের বাহ্রার সফল কৃষানী আনোয়ারা বেগম

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিঃ মিঃ দূরে অবস্থিত বাহ্রা ইউনিয়নের কান্দামাত্রা গ্রাম। যেখানে প্রকৃতির চির চেনা ফসলের মাঠ আজ হয়ে উঠেছে নবসবুজের এক নুতন উদ্যান। সেই গ্রামের গৃহবধু আনোয়ারা বেগম (৫৫) স্বামী অহিউদ্দিনের সংসারে সকল কাজ করেও কৃষি কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে।

এর মধ্যে জীবনের থেকে চলে গেছে সুখ ও দুঃখের অসংখ্য দিন-বছর। তার পরও হাল ছাড়েননি তিনি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ১০ বিঘা জমিতে লাউ, কুমড়া, বেগুন, সিম, পেঁপে, টমেটো, আলুসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন করেন। যা থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। তার এ সফলতায় তাকে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন নবাবগঞ্জের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালী উল্লাহ।

আনোয়ারা বেগম তার নিজের ৪ বিঘা জমিতে রোপণ করেছেন ফলজ ও ঔষদি বৃক্ষ; যার ফলে এলাকার সাধারন মানুষের কাছে তিনি এখন পরোপকারী বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন।

তার কৃষি কাজে সাফল্য দেখে অনেক মহিলারা কৃষি কাজে এগিয়ে আসছে বলে জানান কৃষক নেতা শেখ আবুল কালাম আজাদ ও মিজানুর রহমান (শিলু)। তারা আরো বলেন বর্তমানে বাহ্রা ইউনিয়নের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

আনোয়ারা বেগমের এ সফলতায় নবাবগঞ্জ উপজেলার কৃষি-কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহীদুল আমীন জানান, বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে। যা দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই এ জরুরি । আমি উপজেলার অনান্য নারীদের ও বলবো আপনারা তার মতো এগিয়ে আসুন সাফল্য আসবেই।