নারিশায় চালককে অজ্ঞান করে অটো ছিনতাই

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের জালালপুর চক এলাকা থেকে সুজন (২৫) নামে এক অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে দোহার থানা পুলিশকে খবর দিলে দোহার থানার এএসআই লিটনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

আমরা সবাই দোহারের উন্নয়নের অংশীদার: আলমগীর হোসেন

কোন ব্যক্তিবিশেষ নয়, যার যার স্থান থেকে আমরা সবাই দোহার উপজেলার চলমান উন্নয়নের অংশীদার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান দোহারে আসার পর থেকে এ উন্নয়নের ধারা আরও বেশি ত্বরান্বিত হয়েছে। যার ফসল দোহার উপজেলার পদ্মা ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো রক্ষার্থে একনেকে এক হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের আশ্বাস। বুধবার ঢাকার দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পরিকল্পনামন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপিসহ সমগ্র দোহারবাসী এ প্রাপ্তির অংশীদার। এ উপজেলার উন্নয়নে ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক উন্নয়নে সালমান এফ রহমানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ও আমি নিজে আমার অবস্থান থেকে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।

গত রোববার দোহার উপজেলার বাহ্রাঘাট এলাকায় পদ্মাতীরবর্তী স্থানে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল এমপি দোহার উপজেলাকে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে রক্ষার্থে পদ্মায় বাঁধ নির্মাণের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দেন। এর ফলে উপজেলাবাসীর দুই যুগের প্রাণের দাবি রক্ষা করলেন তিনি। কিন্তু উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি মেটাতে যিনি নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখেছেন তিনি এ উপজেলার কৃতী সন্তান, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ‘সালমান এফ রহমান দোহারে আসার পর থেকে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সুফল জনগণ ভোগ করছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ’।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, সালমান এফ রহমান দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভক্তি দূর করে সকল নেতাকর্মীকে একত্রিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগকে এক সুতোয় বেঁধেছেন। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও সাধনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন গত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়ই এতো বছর পর দোহারের উন্নয়নে এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেল।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার বলেন, দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও দোহারবাসীকে দেয়া আশ্বাস পূরণ করতে সালমান এফ রহমান পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামালকে নিয়ে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষার্থে একনেকে এক হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করিয়েছেন। এ সফলতায় আমরা দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ উপজেলাবাসী গর্বিত ও আনন্দিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ এক যুগ পর দোহারে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান দোহার উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। ঐ সভায় তিনি জানান, দোহার উপজেলার প্রধান সমস্যা পদ্মার ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের জন্য তার বন্ধুবর পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি বিশেষ অনুরোধ করবেন। সেই আশ্বাসের পর তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বেশ কয়েকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ তিনি পদ্মার ভাঙনকবলিত নয়াবাড়ি ও নারিশা ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও দোহারবাসীকে দেয়া আশ্বাস পূরণ করতে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামালকে নিয়ে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকা সরজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী পদ্মার ভাঙন রোধে উপজেলার নদী তীরের ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা অচিরেই বরাদ্দ দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক সুরুজ আলম সুরুজ, নয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ হান্নান প্রমুখ।

এগিয়ে চলছে দোহার পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ

বেলায় বেলায় দোহার পৌরসভার বয়স দেড় দশক পার হতে চলেছে। ২০০০ সালে প্রথম নির্বাচন হলেও সীমানা জটিলতা ও নাম পরিবর্তন সমস্যার কারণে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে একটু বৃষ্টিতেই হাটু পানি, কাদায় চলচল অনুপযোগী বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত দোহার পৌরসভা। তার উপর পুরনো মেয়র কাউন্সিলররাই রয়েছেন শাসক হিসেবে। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও তেমন গতি পায়নি। অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলছে এ পৌরসভাটি। মাঝে ২০১৩ সালে ভোট গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহ আগে একজন নাগরিকের রিটের কারণে তা আবার থমকে যায়। এ সময়ের মধ্যে পৌর এলাকার রাস্তাঘাটগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সংবাদ মাধ্যমে লেখালেখি ও নানা মহলের তদবিরের ফলে চলতি বছরের প্রথম দিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দরপত্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কাজটি পায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুরমা এন্টারপ্রাইজ ও লতা কন্সট্রাকশন। ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠান লতা কন্সট্রাকশনের মালিক সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানের ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব খান এবং সুরমার মালিক মো. আইয়ুব আলী।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ শুরু করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। এরই মধ্যে জয়পাড়া বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ শেষ। করম আলীর মোড় থেকে জয়পাড়া বাজার ব্রীজ পর্যন্ত শেষ হয়েছে ড্রেন বসানোর কাজ। এখন কাজ চলছে কলেজ মোড়ে।

কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিশ্বব্যাংকের নিযুক্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, কাজের মান খারাপ না। সবই তো আর শতভাগ সম্ভব নয়। তবে এ কাজের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।

দোহার পৌর প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, কাজের কোথাও কমতি নেই। স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই সংস্কার কাজ হচ্ছে। তবে ধীর গতির কথা স্বীকার করেন তিনি।

লতা কন্সট্রাকশনের মালিক মোতালেব খান বলেন, পৌরসভা ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের দেয়া সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। একটি মহল টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না পেয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা আমার নিজের এলাকা তাই যাচাইসাপেক্ষেই কাজ করার চেষ্টা করছি।

দোহার ফারিয়ার মানববন্ধন

বেতন বৈষম্য দুরি করন ও চাকরির নিশ্চয়তা বিধান, বেতন স্কেল ৭ম গ্রেডে উন্নত, ফারিয়াকে সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি ও টিএডিএ প্রদান ও সাপ্তাহিক ছুটির দাবিতে মঙ্গলবার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মানব বন্ধন করেছে বাংলাদেশ ফারমাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টিটিটিভ এ্যাসোসিয়েশন(ফারিয়া) এর দোহার।

এই দাবিতে তারা মঙ্গলবার উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের সামনে এই মানব বন্ধনের আয়োজন করে। এসময় দোহার উপজেলা ফারমাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টিটিটিভরা অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার ফারিয়ার সভাপতি ফজলুল করিম, সহ সভাপতি বিদ্যুৎ সাধারন সম্পাদক শাহিদুজ্জামান হিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আদনান, প্রচার সম্পাদক খোকন চোকদারসহ দোহার উপজেলায় কাজ করা বিভিন্ন ফারমাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টিটভরা।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নবাবগঞ্জে যুবলীগের ৪৩ কেজি কেক

যুবলীগের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ৪৩ কেজির কেক কেটে পালন করেছে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ। এ উপলক্ষে উপজেলা সদরে র‌্যালি ও আলোচনা সভা করা হয়। বুধবার দুপুরে উপজেলা  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ অনুষ্ঠান করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য সোহেল খান, ঢাকা জেলা সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন দরানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম খলিল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. সারোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক পত্তনদার মো. রাকিব প্রমূখ।

হারিয়ে গেছে দোহারের মসলিন, বাঁচানো যাচ্ছে না তাঁতশিল্প

হারিয়ে গেছে দোহারের মসলিন, বাঁচানো যাচ্ছে না তাঁতশিল্প । উঠে গেছে পুরনো সব তাঁতপল্লী। কারিগরদেরও এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিদেশমুখী প্রবণতা আর হাতে বুনা তাঁতের প্রতি অনীহার কারণে ঘরে ঘরে গড়ে ওঠা তাঁত কারখানাগুলোও এখন আর নেই।

স্থানীয়দের অনেকেই জানে না যে, একটি সময় ছিল যখন দোহার-নবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা সঙ্করদিয়া ও মালিকান্দা এলাকায় তৈরী মসলিন শাড়ি-কাপড় পৌঁছতে পেরেছিল ব্রিটিশ রাজদরবার পর্যন্ত। রাজপরিবারের নারীদের কাছে এ কাপড়ের বিশেষ কদর ছিল। প্রায় তিন শ’ বছর আগে গোড়া এ শিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল দোহারে। সেই সময় গোয়ালন্দ ইস্টিমারঘাট হয়ে ভারতীয় পাইকাররা সরাসরি চলে আসতেন দোহারের মসলিন, চাদর ও ধুতির লোভে। মিহি সুতার কারুকাজ হওয়ায় ভারতবর্ষেও এর দারুণ কদর ছিল।

সেই মসলিনের কারিগরও নেই, মসলিনও নেই; কিন্তু এখনো ধুঁকে ধুঁকে টিকে আসে লুঙ্গি ও গামছাশিল্প। অনুসন্ধানে জানা যায়, দোহার থেকে এখনো প্রচুর হাতে বোনা লুঙ্গি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় রফতানি হয়। এখানে সাধারণ ব্যবহার্য লুঙ্গির পাশাপাশি অতি উন্নতমানের সৌখিন লুঙ্গি তৈরি হয়। হাতে বুনানো হওয়ায় এর বিশেষ কদর রয়েছে। জানা গেছে, কোনো কোনো কারিগর ৪ শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা দামের লুঙ্গিও তৈরি করে থাকেন। বিশেষত পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাদা রঙের লুঙ্গির প্রধান চালান আসে এখান থেকে। দেশের বিভিন্ন এলাকার নামিদামী ব্র্যান্ডের লুঙ্গিও এখান থেকে নিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হয়।

জানা গেছে, দোহারে স্থানীয়দের চেয়ে বহিরাগতরাই এসব তাঁত চালিয়ে থাকেন। বিশেষ করে কুমিল্লা, পাবনা সহ উত্তর বঙ্গের তাঁতীরা বুননের কাজ করেন। তবে তাঁত কমে যাওয়ায় তাদের এখন তেমন দেখা যায় না।  গত কয়েক বছরে স্থানীয়রা বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি যান্ত্রিক তাঁতকল বসানোয় শ্রমিকেরা সেই দিকে ঝুঁকেছেন। কেননা এসব কারখানায় কম পরিশ্রমে অধিক উপার্জন হয়।

ধীরে ধীরে হস্তচালিত তাঁতগুলো বন্ধ হতে বসেছে। এসব ক্ষুদ্র শিল্পমালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে নানা সমস্যার কথা। তারা জানান, সরকারের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় তারা এ ব্যবসায় ছেড়ে দিচ্ছেন। কেননা কারিগরের স্বল্পতা, অধিক মজুরি, সুতা ও রঙের উচ্চমূল্য এবং দুষ্প্রাপ্যতা ইত্যাদি কারণে তারা তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক কারিগরই ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁত মালিকদের অভিযোগ নির্বাচন এলে রাজনৈতিক নেতারা তাদের কাছে ভোটের জন্য আসেন; কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁতশিল্পের উন্নয়নে তারা আর এগিয়ে আসেন না। দোহার তাঁত বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনো এখানে ১৫ হাজার তাঁতি পরিবার রয়েছে; কিন্তু তাঁত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে জয়পাড়া এলাকার প্রান্তিক তাঁতি মো: সোহেল বলেন, বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিরাজগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মেশিনে তৈরি লুঙ্গি ক্রয় করে তাতে স্টিকার লাগিয়ে দোহারের লুঙ্গি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন ক্রেতারা ঠকছেন, অন্য দিকে সুনাম হারাচ্ছে দোহারের লুঙ্গির। মালিকান্দা গ্রামের আরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছর আগেও সপ্তাহে দুই দিন তাঁতিদের উৎপাদিত লুঙ্গির জমজমাট হাট বসত জয়পাড়া ও শিবরামপুরে। এখন আর হাটগুলোয় আগের মতো ক্রেতাসমাগম হয় না। এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারকে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থাসহ সুতা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে। লক্ষ্মীপ্রাসাদ এলাকার শতবর্ষী তাঁতি ফালু বেপারী অভিযোগে করে বলেন, আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে দোহারের তাঁতির মসলিন কাপড় বুনতেন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে তাঁতি সম্প্রদায়ের লোকজন এ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিদেশমুখী হওয়ায় ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ শিল্পটি।

এ দিকে তাঁতিদের স্বার্থ সংরক্ষণে ১৯৪৭ সালে দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে একটি সমবায় গঠন করা হয়। তাঁতিদের শ্রম আর ঘামে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোটি কোটি টাকা সম্পদ করা হলেও তাঁতিদের ভাগ্য উন্নয়নে এর অবদান সামান্যই। এমনটিই অভিযোগ সাধারণ তাঁতিদের। এ প্রসঙ্গে দোহার নবাবগঞ্জ উইভার্স সমবায় সোসাইটির সভাপতি জসিমউদ্দিন বলেন, বিগত দিনগুলোয় যারা এই সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন তারা কিছুই করেননি। আমরা সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করে আগামীতে তাঁতশিল্পের উন্নয়নের কিছু একটা করার উদ্যোগ নেব। তবে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। নতুন বিনিয়োগ না এলে এ শিল্প ধ্বংস হতে বেশি সময় লাগবে না।

মুকসেদপুরে কিশোরী ধর্ষণ: এখনও ধরা পড়ে নি আসামী

মুকসেদপুরের পল্লিবাজার এলাকায় ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার ২১ দিনেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, তারা এ জঘন্য অপকর্মের বিচার দাবি করে আসছে। সাদ্দাম বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করলেও অজ্ঞাত কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে দোহার থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ধর্ষিতার বাবা মবজেল শেখ বলেন, আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আসামিরা ধরা না পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশ বিষয়টি জানার পরও আসামি ধরছে না।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দোহার থানার পরিদর্শক শেখ মো. সোহেল রানা বলেন, আসামিদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

 কিশোরীর জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার দিন রাতে কিশোরীর বাবা শেখ মবজেল বাদী হয়ে সাদ্দামকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নামে ধর্ষণ মামলা করেন। পরে এলাকাবাসী অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। ঘটনার ২১ দিনেও আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পদ্মা নদীর ভাঙন

0

শুষ্ক মৌসুমে মৈনট

0

মৈনট এখন পর্যটকদের একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। বর্ষায় যখন পদ্মা ভরা যৌবনে থাকে তখন মৈনটের সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায় পূর্ণভাবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে মৈনট কেমন থাকে, যখন পদ্মার পানি নিচে নেমে যায়, চার দিকে ধুলোয় ধুসরিত, সেই সময়ের ছবি নিয়ে এই আয়োজন।

 

মৈনট ঘাট, দোহার ও ফরিদপুরের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এখান থেকে ছাড়ে যমুনা পরিবহনের বাস। ফরিদপুরের মানুষ পদ্মা পাড়ি দিয়ে এই পথে ঢাকা যায়। দুর্গম হলেও অবকাশপিয়াসীদের আকর্ষণের যায়গা।

বিকেলে অনেকেই ঘুরতে আসেন এখানে, পদ্মার বুকে সূর্যাস্তের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করে ফিরে যান। প্রথমে কার্তিকপুর বাজারে এসে সেখান থেকে অটোরিক্সা, রিক্সা বা সিএনজি চালিত গাড়ীতে করে যেতে হবে মৈনট, চাইলে হেটেও যাওয়া যায়, দুরত্ব খুব বেশি না। সাথে মাদুর জাতীয় কিছু নিয়ে গেলে বসে সময় কাটাতে পারবেন। বর্ষায় এখানে অন্যরকম সৌন্দর্য্য খেলা করে, শুষ্ক মৌসুমে মৈনট সময় কাটানোর জন্য দারুণ যায়গা। এই সময় নদীর পানি থাকে টলটলে নীলাভ সবুজ, চার দিকে শান্ত একটা পরিবেশ।

শুষ্ক মৌসুমে পানি যেহেতু নিচে নেমে যায় তাই বর্ষার আইকনিক সৈকতটা আর তখন থাকে না, ঢেও থাকে না, তবে শান্ত নীল জলে পা ডুবিয়ে হাটতে ভাল লাগবে, যদি গোসলের প্রস্ততি নিয়ে যাব তবে সবচে ভাল। এই সময় গোসল করতে দারূন লাগবে, অনেকটা সিলেটের ঝর্ণাগুলোর পনির মত শীতল ও আরামদায়ক। পুরো ঘাটে বালু একটু বেশি থাকে এই সময়।

মৈনটের পর্যটকরা দুই রকম, স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা। স্থানীয়রা সন্ধ্যার অসাধারণ মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারেন, দেখতে পারেন বর্ণালী সূর্যাস্ত, সন্ধ্যার শান্ত প্রকৃতি, শীতল বাতাস। কিন্তু যারা বাইরে থেকে আসেন তারা এগুলো পান কারণ সময় থাকতেই ঢাকার পথে রওনা দিতে হয়। যদি কোথাও থাকার ব্যবস্থা থাকে তবে এই প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন।

দোহারে ইভটিজিং এর দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

0

ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা এলাকা থেকে গতকাল রফিকুল ইসলাম রাইসুল (২৭) নামে এক যুবককে ইভটিজিংয়ের দায়ে আটক করেন দোহার থানা পুলিশের এএসআই মো. আলিম।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল করিম ভূঁইয়া তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্ত রফিকুল উপজেলার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের হাসমত মাঝির ছেলে।