চালনাই চক থেকে ছয় ডাকাত গ্রেফতার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে ছয় ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্যটি জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে দোহার ও নবাবগঞ্জ সড়কের চালনাই এলাকায় ডাকাতি হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে ওই এলাকায় তাঁত শিল্প কারখানার ভেতর থেকে ছয় ডাকাতকে আটক করা হয়।

আটক ডাকতরা হলো কাজীপুড়া গ্রামের বাবর আলী খানের ছেলে সোহেল রানা, একই গ্রামের আলীর ছেলে ভুলু, তামাই গ্রামের বশির আহমেদের ছেলে সোলায়মান, একই গ্রামের আইয়ূব আলীর ছেলে তুহিন এবং মৃত তমসের ছেলে মজনু ও চালা গ্রামের আব্দুল্লাহ মহিউদ্দিন। এরা সবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলায়।

আটক ডাকাতদের নামে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হবে, জানান  সাইদুর।

দোহারে মহিলাদের উদ্যোগে ব্যাঙ্গল সরিষার তেলের কারখানার উদ্বোধন

0

 “দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ” ও “দল ভিত্তিক টেকসই উন্নয়নই হতে পারে সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় উন্নয়ন” এই চিন্তাকে পুজি করে এবং গুড নেইবারস্ দোহার কমিউনিটির সহযোগিতায় ঢাকার দোহার উপজেলার চরকুশাই গ্রামে ২৫জন সুবিধাভোগী নারীর যৌথ উদ্যোগে ব্যাঙ্গল সরিষার তেলের একটি কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে।

২২ নভেম্বর রবিবার সকাল ১১টায় কারখানাটির উদ্বোধন করেন গুড নেইবারস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়ং সেক কিম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন গুড নেইবারস বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিন কক কিম, কুসুমহাটি ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুল ওয়াহাব দোহারী, গুড নেইবারস বাংলাদেশের স্পেশাল অপারেশন ডিরেক্টর আনন্দ কুমার দাস, দোহার থানার এস.আই ওয়ালিউর রহমান প্রমূখ। উদ্বোধন শেষে কারখানা ঘুড়ে দেখেন আগত অতিথিরা। এ সময় কারখানায় উৎপাদিত সরিষার তেল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

দীর্ঘগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নে একটি  সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছে দীর্ঘগ্রামসহ প্রায় ২০টি গ্রামের অধিবাসী । উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১৬ কি.মি পশ্চিমে এই গ্রামের অবস্থান ।প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার লোকের বসবাস এই গ্রামে কিন্তু লাগেনি তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া।গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে একটি খাল। এ খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ন কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন দিয়ে চলাচল করছে এ গ্রামসহ ১০/১২টি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,খালের উপর তৈরী সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধওে জরাজীর্ণ  অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেতুটির সংস্কারের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে হাঁট,বাজার,স্কুল,কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত করতে হচ্ছে।মাঝে মাঝে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো দিয়ে খাল  পারাপার হচ্ছে স্কুল,কলেজ ,মাদরাসার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এতে করে কখনো কখনো তারা দুর্ঘটনার  শিকার হতে হচ্ছে । এলাকাবাসী জানায়,দীর্ঘগ্রাম খালের ওপর একটি সেতু  নির্মাণ  দীর্ঘদিনের দাবি এলাকাবাসীর ।

নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতুটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এ পর্যন্ত কেউ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। গত ৫/৬ বছর ধরে সেতুটি এই অবস্থায় পড়ে আছে। দুর্ভোগ ছাড়া কিছুই জুটেনি প্রত্যন্ত অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.হাসান জানায়,এ সাঁকো দিয়ে হেঁটে চলাচল করলেও কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

স্থানীয় গৃহিণী সালমা বেগম বলেন বর্ষা মওসুমে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায় ।এ সাঁকো সংস্কার হলে তাদের দুঃখ-কষ্ট অনেকটা কমবে। এই কাঠের সাঁকোর ওপর দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। যার কারনে অসুস্থ কোন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে নেওয়া যায় না যার ফলে রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হয ।

দীর্ঘগ্রাম সরকারী প্রাথমিক ও জৈনতপুর আশরাফুল উলূম মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও এ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে।

দীর্ঘগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন,তার স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদেরও কাঠের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। ফলে অনেকেই  অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিদিকুর রহমান বলেন ,এই সেতু তৈরি হলে আমরা আরও বেশি শিক্ষার্থী পাবো।

দোহারে ভ্রাম্যমান আদালতে বালু উত্তলনের দায়ে ৪ জনের কারাদন্ড

বৃহস্পতিবার দোহার উপজেলায় পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানের পর দোহার উপজেলার  ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল করিম ভূঁইয়ার আদালত বালু মহাল ও মাটি রক্ষা আইনে ২০১০/১৫(১)ধারা মোতাবেক অবৈধ্য বালু ব্যবসায়ী ৪ জনকে ৫দিন করে ও ১ জন মাদক সেবনকারীকে মাদক আইনে ৩০দিনের  বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার চর লটাখোলা গ্রামের আক্তার হোসেন(৪০)নজরুল ইসলাম(৩৮),কুতুবপুর গ্রামের ইলিয়াছ মোল্লা(৪০),বরিশাল জেলার দিয়াকান্দি গ্রামের অজিউল্লাহ(২৭) এবং মাদক সেবনকারী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের মো:সুরুজ খাঁ(৩০)।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়,গতকাল বৃহস্পতিবার  সকালে উপজেলার জয়পাড়া বাজার এলাকার পদ্মা নদীর শাখা খাল হইতে বালু উত্তোলন করিতেছে এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে দোহার থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে।

অপরদিকে একই সময়ে উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায়  গাজাঁ সেবন করার সময় মো:সুরুজ খাঁ নামে একজনকে আটক করা হয়।পরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে তাদের ৪জনকে ৫দিন করে ও ১ জনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে জেল-হাজতে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

নেতৃত্ব বিকাশের জন্য প্রত্যেকে নির্বাচনকে বেঁছে নেন– পৌর নির্বাচন নিয়ে রহমান আকন্দ

0

আব্দুর রহমান আকন্দ, দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ (১৯৯৬) নির্বাচিত জিএস। দোহার পৌরসভার একজন নাগরিক হিসাবে – নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত জনগণের পক্ষ থেকে তিনি বলেছেন তার স্বপ্নের কথা, তার আশার কথা, একজন রাজনীতিক হিসাবে কেমন হওয়া উচিত জনগণের সেবক এই পৌরসভা-  এই পরিকল্পনার কথা। নিউজ৩৯-কে দেয়া একান্ত এই সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো পাঠকদের সামনে।

নামঃ রহমান আকন্দ; আব্দুর রহমান আকন্দ, পশ্চিম লটাখোলা, দোহার, ঢাকা

পেশাঃ আমি ব্যবসা করি। নিজেকে স্বাধীন রাখার জন্য ব্যবসার চেয়ে কিছু উপযুক্ত আছে বলে আমার মনে হয় নি।

প্রশ্নঃ রাজনীতিতে কেন?

রহমান আকন্দঃ আমি মানুষের কথা ভেবেই রাজনীতিতে এসেছি। আমি জগণকে ভাবি আমারই পরিবারের আমার বাবা-মা বা ভাই-বোন। তাই মানুষের সুখে দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকতে চাই দোহার পরিবারের সদস্য হিসাবে। আর পৌরসভার বাসিন্দা হিসাবে পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমি এগিয়ে আসতে চাই। মুলত মানুষের সেবা করার জন্যই আমার রাজনীতিতে আসা।

প্রশ্নঃ রাজনীতিতে এসেছেন কবে?

রহমান আকন্দঃ রাজনীতিতে আমার হাতে খড়ি আজ থেকে ২৩ বছর আগে। ১৯৯২ সালে রাইপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি হিসাবে আমার রাজনীতিতে পথ চলা শুরু। পরবর্তীতে নিজ যোগ্যতায় ১৯৯৩ সালে দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই এবং একই সাথে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হই।

প্রশ্নঃ কখনো কি নির্বাচন করেছেন?

রহমান আকন্দঃ আমি যে সময় ছাত্ররাজনীতি শুরু করেছি তখন ছিল বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতির স্বর্ণ যুগ। তখন ছাত্র রাজনীতিতে যোগ্যতার সম্মান ছিল। কেউ চাইলেই সব কিছু করতে পারতো না – যোগ্যতা ছাড়া। আর তখন দোহার উপজেলার ছাত্ররাজনীতির মুল কেন্দ্র ছিল জয়পাড়া ডিগ্রি(বিশ্ববিদ্যালয়) কলেজ। তখন পুরো দোহার থানার রাজনীতি ছিল কলেজ মুখী। সেই সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পুরো দোহার থানায় সাজ সাজ রব পরে যেত। আর সেই সময়েই আমি ছাত্র সংসদ নির্বাচন করেছি। ১৯৯৪ সালে ছাত্রলীগের মনোনয়ন নিয়ে আমি এজিএস পদে নির্বাচন করি। পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে আমি ছাত্রলীগের পক্ষে থেকে জিএস নির্বাচিত হই। সেই সময় জয়পাড়া কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয় আমার বন্ধু আলমাস উদ্দিন। আর আমি নির্বাচিত হই জিএস। সেটাই ছিল জয়পাড়া কলেজ ছাত্র সংসদের শেষ নির্বাচন। পরবর্তীতে আর কখনোই নির্বাচন হয়নি। ফলে দোহারে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ্যতা, মেধা ও মননশীলতার একটি ঘাটতি তৈরি হয়।

প্রশ্নঃ আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা?

রহমান আকন্দঃ আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে দুইটি। আমি এই ঘটনা দুইটিকে আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট মনে করি। এর একটি হচ্ছে ১৯৯৬ সালে আমি যখন সাধারন ছাত্রছাত্রীদের ভোটে জিএস নির্বাচিত হই সেই ঘটনা। এই ঘটনা আমাকে সম্পূর্ণ রকমে পাল্টে দেয়। সেই নির্বাচনই দোহারে আওয়ামীলীগের প্লাটফর্ম গড়ে দেয় দোহারে। আজ যারা রাজনীতিতে সিনিয়র তারা জানেন, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দোহারে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের একটা অস্বিত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হই। যার ধারাবাহিকতায় আজ দোহারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মন্ত্রী, এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যান পেয়েছে।

এরপরের যে ঘটনাটি আমাকে প্রভাবিত করেছে সেটা হলো ২০০০ সালে প্যারিসে ইউনেস্কো কর্ত্রিক শেখ হাসিনাকে ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার প্রদানের দিন। সেই দিন আমি প্যারিসে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। ছাত্রলীগ নেতা হিসাবে আমি বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি থেকে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম।  সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা কেউ আমি আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবে আমি মনে করি। সেদিন নেত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে পরবর্তীতে দ্রুততম সময়ে আমি প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসি এবং আমার নতুন রাজনৈতিক জীবন শুরু করি।

প্রশ্নঃ আপনি কেন পৌরসভা নির্বাচন করবেন?

রহমান আকন্দঃ মানুষ সব সময় তার কাজের প্রকাশের জন্য একটা মাধ্যম চায়, কিন্তু ব্যক্তি উদ্যোগে সেটা সব সময় করা হয়ে উঠে না। সে জন্য দরকার একটা প্লাট ফর্ম। আর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করা হচ্ছে এই প্লাট ফর্মের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন। আর সে জন্যই আমি পৌরসভা নির্বাচন করতে চাই। যেহেতু সেই ছাত্রজীবন থেকেই দলের সাথে আছি, জনগনের সাথে আছি, দলের জন্য কাজ করেছি, জনগনের জন্য কাজ করেছি, কোন অপরাধের সাথে জড়িত হয়েছি সেটা আমার শত্রুও বলতে পারবে না। তাই আমি নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচিত হতে পারলে দলের জন্য, সাধারন মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। তারপর দলীয় সিদ্ধান্ত। আমি কখনোই দলের বাইরে যাবো না। দল যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই মেনে নিব।

প্রশ্নঃ দোহার পৌরসভার প্রধান সমস্যা কি?

রহমান আকন্দঃ দোহার পৌরসভার সমস্যার অন্ত নেই। দোহার পৌরসভা সমস্যার সাগরে ডুবে রয়েছে। একটা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে দোহার পৌরসভায় সেবারমান খুবই কম সেসাথে  রাজস্ব আদায়ের হার একেবারেই কম। যে একেবারেই অগ্রহণ যোগ্য। শুধুমাত্র হাউজিং ট্যাক্সের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে দোহার পৌরসভা। যা কোন মতেই কাম্য নয়। আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা কি বলবো। একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমে পৌরসভার বেশির ভাগ জায়গায়। আর নির্বাচন না হওয়ায় পৌরসভার হর্তা-কর্তাদের পৌরবাসীর প্রতি দায়বদ্বতা নেই বললেই চলে। ফলে পৌরসভার এই সমস্যাটার সমাধান হচ্ছেই না।

তাছাড়া প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল বলে এই উপজেলায় প্রচুর মটোর সাইকেল চলাচল করে। ফলে প্রতিদিনই ঘটে দুর্ঘটনা। আমি বর্তমান মেয়রকে বলেছিলাম দোহার পৌরসভার দুর্ঘটনা প্রবন স্থান গুলোতে(বাশতলা মোড়, করম আলীর মোড়, থানার মোড়, দোহার বাজার মোড়, কাজীর চর মোড়) মুর‍্যাল/ চৌরাস্তায় তৈরি করতে। এর ফলে এই পৌরসভায় দুর্ঘটনার হার শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ কমে যেত বলে আমার বিশ্বাষ।

এছাড়া একটি আধুনিক পৌরসভা হিসাবে এই দোহার পৌরসভার রাস্তা ঘাটের নাম করন কখনোই করা হয়নি। আর সংস্কারও করা হয় নি। তাছাড়া পৌর পার্ক, খেলার মাঠ, বাস স্ট্যান্ড, ঈদগাহ, কবরস্থান কিছুই নেই। উল্টো পৌরসভার বিভিন্ন খাস জমিগুলো ভুয়া ভূমিহিনদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমি বারবার এর বিরোধীতা করলেও দোহার উপজেলা ও পৌরসভা আমার কথার কোন গুরুত্ব দেয় নি। উচ্চ মূল্যের এই জমিগুলোর অভাবে ভবিষেৎ পৌরসভার উন্নয়ন কাজও থাকবে থেমে। কিন্তু এই নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। আসলে দোহার পৌরসভার সমস্যা বলে শেষ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ মাদক দ্রব্যের বিস্তার রোধে আপনার ভূমিকা কি হবে?

রহমান আকন্দঃ মাদক দ্রব্যের বিস্তার রোধে আমার যতটুকু করা সম্ভব ঠিক ততটুকু আমি করবো। একজন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীকে আমি একজন খুনির সাথে তুলনা করবো। তারা দুইজনই সমাজের ক্ষতি করে যাচ্ছে। আমি যদি দোহার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হই তাহলে আমি আমার প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবো মাদকের বিরুদ্ধে। দোহার পৌরসভা থেকে মাদককে উচ্ছেদ করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান কাজ। এক্ষেত্রে যুবকদের সপ্রিক্ত করবো।

প্রশ্নঃ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও দোহার পৌরসভার নারী জাগরনে আপনার ভূমিকা কেমন থাকবে?

রহমান আকন্দঃ দোহার পৌরসভার ভিতরে ইভটিজিং প্রতিরোধে সাধারন মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে। স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরা যাতে ইভটিজুং বা এই ধরনের সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে না পর এসেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবে পৌরসভা। বাল্য বিবাহ রোধে অভিভাবকদের সচেতন করবো। নারী শিক্ষার জন্য পৌরসভা থেকে বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা করবো। আর নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে কাজ করবে পৌরসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু নারী জাগরনের অগ্রদূত, সেহেতু একজন আওয়ামী লীগ কর্মী হিসাবে সবসময় নারী জাগরনে পৌরমেয়র হিসাবে আমার যা ভূমিকা তা সব সময় থাকবে।

প্রশ্নঃ পৌরবাসী কেন আপনাকে ভোট দিবে?

রহমান আকন্দঃ কারন আমি সব সময় দোহার পৌরবাসীর সাথে ছিলাম। পৌরবাসীর সুখে-দুঃখে তাদের পাশে ছিলাম। আমি বলেছি দোহারবাসী আমার একটি পরিবার। এছাড়া সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিপদে এগিয়ে গেছি। তাদের জমি দখলে বাধা হয়ে দাড়িয়েছি। আমি বিশ্বাষ করি একজন সৎ, সাহসী ও প্রগতিশীল মানুষ হিসাবে আমাকে দোহার পৌরবাসী আমাকে ভোট দিবে।

প্রশ্নঃ যদি দল আপনাকে মনোনয়ন না দেয় তাহলে কি করবেন?

রহমান আকন্দঃ আমি কখনোই অবাধ্য রাজনৈতিক কর্মী নই। আমি সব সময় বিশ্বাষ করি দল যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই ঠিক হবে। তাই দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করবো আর মনোনয়ন যদি না দেয় তাহলে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করবো।

প্রশ্নঃ সর্বশেষ কিছু বলবেন?

রহমান আকন্দঃ আমি সবার দোয়া চাই। আমি সারা জীবন সুস্থ রাজনীতি করে সেছি। ভবিষ্যতেও তা বজায় রেখে নিজেকে দেশ ও জনগণের সেবায় আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে চাই। নিউজ৩৯ কে ধন্যবাদ আমাকে জনগণের সামনে এই সুযোগ তৈরি করে দেয়ায়।

নিউজ৩৯এর পক্ষ থেকে আপনাকেও ধন্যবাদ; আমাদেরকে সময় দেয়ায়।

সাক্ষাৎকার গ্রহনেঃ আছিফুর রহমান, সিনিয়র রিপোর্টার, নিউজ৩৯.নেট

শংকরদিয়া-জয়কৃষ্ণপুর সড়কের বেহালদশা, দূর্ভোগে এলাকাবাসী

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শংকরদিয়া,জয়কৃষ্ণপুর,তিতপালদিয়া,ঘোষাইল,রাজাপুর,বালেঙ্গা ও আর ঘোষাইল যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন ৮-৯ টি গ্রামের প্রায় ১০-১৫ হাজার লোক চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছে। শুধু তাই নয়,একই সাথে দুর্ভোগের শিকার আশপাশের ২টি প্রাথমিক,২টি মাধ্যমিক ও ২টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।

নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা শত আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। একের পর এক চেয়ারম্যান ও সরকার বদল হলেও এ রাস্তাটি কারও নজড়ে পড়েনি যার কারনে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের।উপজেলা সদও থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলে এই ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি বলে জানিয়ে স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝে এসব গর্তে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে তাকতে দেখা যায়। প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তাটির কিছু অংশ ইট দ্বারা সম্প্রসারণ করা হলে বাকি রাস্তা রয়েছে মাটির সম্প্রসারণ। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তার মাঝখানে পানি জমে ব্যাহত হয় চলাচল।

স্থানীয় বাসিন্দা মো.শুভ হোসেন জানান,শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষা মৌসুমে পিচ্ছিলতা এভাবে চলে আমাদের যাওয়া।তার ওপর রাস্তাটি চলাচলের প্রায় অযোগ্য। রাস্তাটি প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে থাকলেও কারও নজড়ে পড়েনি। যার ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কলেজ,স্কুল ও মাদারাসাগামী শিক্ষার্থীরা।

কলেজ শিক্ষার্থী তানিয়া ইসলাম তমা জানায়,রাস্তাটি দিয়ে সবসময় চলাচল করা সম্ভব হলেও বৃষ্টির দিনে কিছুতেই চলাচল করা যায় না। অতিদ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানায়। এছাড়া এ রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ার ফলে দুর্ভোগের শিকার এই এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী,আইনজীবি সহ নানা পেশার মানুষ। পথচারী ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি প্রশাসন যেন দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

গালিমপুরে তুচ্ছ ঘটনায় হামলা; আহত ৩

নবাবগঞ্জের গালিমপুরে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের সাথে সংর্ঘষের জের ধরে প্রতি পক্ষের হামলায় চূড়াইন ইউনিয়ন মোসলেমহাটি গ্রামের সেলিম মোল্লা, নাহিদ, রুবেল আহত হয়েছেন।

মোটরসাইকেল যোগে সেলিম মোল্লা আরো ২জনকে নিয়ে পারিবারিক কাজে নবাবগঞ্জ আসার পথে গালিমপুর সোনাবান স্কুলের সামনে ইজিবাইকের  সাথে সংর্ঘষ হয়।

আহতদের নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে আহতদের ঢাকার শ্যমলীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে  ভর্তি করা হয়।

এব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করায় আহতের পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আহত সেলিমের বাবা মামলার বাদী নজরুল ইসলাম জানান, তাদের মামলা না নিয়ে পুলিশ যারা হামলা করেছে তাদের মামলা নেয়।

আবু আসফাককে অপসারণের দাবি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার আবু আশফাকসহ সরকারি কতিপয় কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা পরিষদের সদস্যরা। গতকাল সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জ প্রেসকাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক পদে দুই কর্মচারী নিয়োগসহ উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে এ  সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

উপজেলা পরিষদের সদস্যদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিমোর রহমান খান পিয়ারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল, ইউপি চেয়ারম্যান সুবেদুজ্জামান সুবেদ, মোতাহার হোসেন, পলাশ চৌধুরী, নন্দলাল সিং, ফজলুল হক ফজল, সংরক্ষিত সদস্য সেলিনা আক্তার রেজিয়া, মনোয়ারা মান্নান ও রেহানা পারভীন। এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

নবাবগঞ্জে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা; লাশ ফেলে পালিয়েছে স্বামী

নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিথী আক্তার মুক্তা (২৫) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী সাইফুল আলম পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মুক্তা উপজেলার রাধাকান্ত গ্রামের সাইফুল আলমের স্ত্রী। ঘটনার পর স্বামী পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে বিথী আক্তার মুক্তা নামে এক গৃহবধূকে তিন/চারজন ব্যক্তি মৃত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। এরপর তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। সংবাদ পেয়ে নিহত মুক্তার ভাই তরিকুল ও স্বজনরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে মুক্তার মরদেহ দেখে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত মুক্তার ভাই তরিকুল নিউজ৩৯কে জানান, সকাল ১০টার দিকে বোন জামাই সাইফুল আলম তাকে মোবাইল ফোনে জানান, আপনার বোন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর তিনি লাইন বিছিন্ন করে দেন। সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে মরদেহ দেখতে পাই।

তিনি আরো জানান, ছয় বছর আগে উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের মো. জলিলের ছেলে সাইফুল আলমের সঙ্গে মুক্তাকে বিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক সামান্য বিষয় নিয়েই তিনি মুক্তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করতেন। তরিকুল ও তার পরিবারের অভিযোগ মুক্তাকে পরিকল্পিতভাবে সাইফুলই হত্যা করেছে।

নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই), মো.বাছির উদ্দিন নিউজ৩৯কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জে বাংলা মদ-দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৪

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার লিটার বাংলামদ ও দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। এরা হলেন, উপজেলার দত্তখন্ড গ্রামের মো. জুয়েল (২৩), মো. বাবু (১৭) , মো. শাকিল (১৮) এবং সাইদ মিয়া (৪২)।

 আটকদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে  দুপুরে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, রবিবার রাতে মদ তৈরির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দত্তখণ্ড বিলে অভিযান চালিয়ে ওই পরিমাণ বাংলামদ ও এসব অস্ত্রসহ তাদের  আটক করা হয়।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।