নিজ প্রতিষ্ঠানের অঙ্গনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আতাউদ্দিন খানের দাফন সম্পন্ন

সাবেক অর্থ ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী আতাউদ্দিন খানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকালে প্রথমে গালিমপুর রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও পরে বাদ জোহর তার নিজের প্রতিষ্ঠিত দোহার নবাবগঞ্জ কলেজ মাঠে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কলেজের ভেতর সংরক্ষিত স্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এসময় তার জানাজায় দোহার-নবাবগঞ্জের তার শুভাকাঙ্ক্ষী, গুনগ্রাহীরা অংশ গ্রহন করে। এছাড়া দোহার নবাবগঞ্জের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: সালমা ইসলাম

সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করলে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব তৈরি হবে। কোনো দাঙ্গা-ফ্যাসাদ, সামাজিক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করতে পারবে না। মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ছোট বক্সনগর শ্রীশ্রী মা রক্ষা কালীমন্দিরে অষ্টকালীন লীলাকীর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এ কথা বলেন।

গোপাল রাজবংশীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সালমা ইসলাম এমপি বলেন, ‘সমাজের সুষ্ঠু সংস্কৃতি লালনে যার যার ধর্ম সে সঠিকভাবে পালন করবে এটা সামাজিক সহাবস্থানের চিত্র। স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে যে কোনো উৎসব পালনে একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত।’

সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম এমপি বলেন, ‘আগামী ইউপি নির্বাচনে সৎ যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন যাতে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় প্রতিনিধির গুরুত্ব অনেক।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান, অষ্টকালীন উৎসবের সাধারণ সম্পাদক গয়নাথ রাজবংশী, বক্সনগর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ মিয়া প্রমুখ।

দোহারে ধর্ষণের চেষ্টা

আবার দোহারে ধর্ষণের চেষ্টা এর অভিযোগ উঠেছে। মাকে আটকে রেখে ১২ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে স্থানীয় আলমগীর ওরফে চোরা আলমগীর সহ স্থানীয় তিন বখাটে। দোহারের মেঘুলা বাজারের রানীপুরের ইউনুসের বাড়িতে রবিবার রাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত তিনটার দিকে ইউনুসের বাড়ির ভাড়াটিয়া হালিমা বেগমের ঘরে দরজা ভাঙ্গে প্রবেশ করে চোরা আলমগীর সহ স্থানীয় তিন বখাটে। এসময় হালিমা বেগমকে আটকে রেখে তার মেয়েকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এসময় তাদের চিৎকারে বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় চোরা আলমগীর ও তার সঙ্গীরা। এসময় হালিমা বেগমকে এই ঘটনা প্রকাশ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় আলমগীর।

চোরা আলমগীর মধুর চর গ্রামের সোবহান মোল্লার ছেলে। তার বিরুদ্ধে দোহার থানায় খুন, ডাকাতি, ছিনতাই সহ একাধিক মামলা আছে। ধার থানার এস আই হারুনর রশিদ নিউজ৩৯কে জানান, ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউসুফপুরে প্রেমের জেরে আত্মহত্যা

রবিবার দোহার পৌরসভার ইউসুফপুর বাজারের আব্দুর রহিমের ছেলে সুমন(২২) প্রেমের জেরে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। বাবার সাথে নিজের প্রেম নিয়ে কথাকাটাকাটির পর সে আত্মহত্যা করে।

ঘটনার দিন আব্দুর রহিম তার ছেলের প্রেমের খব্র জানতে পারে। তিনি তার ছেলের কাছে এই বিষয় জানতে চাইলে এবং ছেলের হাত খরচ বন্ধ করার কথা বললে এই নিয়ে সুমনের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সুমন গলায় গামছা পেচিয় নিজের ঘরের সিলিং ফ্যানের মাধ্যমে আত্মহত্যা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। পরে ময়না তদন্ত ছাড়াই তাকে তার পরিবার দাফন করে।

পরে খবর পেয়ে দোহার থানার এস আই ওলিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আব্দুর রহমান আকন্দ: সুস্থ্য রাজনীতির আলোক বর্তিকা

0

আব্দুর রহমান আকন্দ, দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সর্বশেষ নির্বাচিত জিএস। জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই তরুন ছাত্রনেতা রাজনীতির কড়াল ও নোংরা গ্রাস থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছেন সব সময়। নোংরা রাজনীতির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে সব সময় থেকেছেন সত্য ও ন্যায়ের পথে। কর্মীদেরও চেষ্টা করেছেন নোংরা রাজনীতি যতটা সম্ভব দূরে রাখতে। আপাদমস্তক ভদ্র ও সজ্জন এই ব্যক্তি এখনো আছেন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ভাবে। রাজনীতিতে তার অবস্থান অনেকটাই স্বাধীনতাত্তর নেতাদের মতো; যেখানে দেশপ্রেম, জনসেবা আর ত্যাগটাই মুখ্য।

১৯৯৬ সাল, দোহারে রাজনীতির তখনকার কেন্দ্র জয়পাড়া ডিগ্রী কলেজ। জয়পাড়া ডিগ্রী কলেজে তখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সর্বশেষ বারের মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচন। বিএনপির অংগসংগঠন ছাত্রদলের হেভিওয়েট একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী। পুরো দোহার তখন ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত। পুরো দোহারে সাজ সাজ রব- টান টান উত্তেজনা। ছাত্রদল প্রার্থীদের জয়লাভ যখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল ঠিক তখনই সব কিছু পাল্টে দিয়ে সাধারন ছাত্রদের ভোটে ভিপি,জিএস ও এজিএস পদে জয়লাভ করে ছাত্রলীগ। ২১ প্যানেলের কমিটিতে তখন ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান দোহার উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আলমাস উদ্দিন(ভিপি আলমাস) ও জিএস নির্বাচিত হন ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ। বাকি ১৮টি পদে ছাত্রদলের নেতা-কর্মিরা।

দোহার উপজেলায় তখন থেকেই রাজনীতিতে একটি পরিচিত মুখ হিসাবে পরিচিত হন আব্দুর রহমান আকন্দ। প্রিয় রহমান ভাই তখন থেকেই দোহারের রাজনীতিতে একটি জনপ্রিয় মুখ। অত্যন্ত সফল ভাবে জয়পাড়া কলেজে জিএসের দায়িত্ব পালন শেষে করে হটাৎ করেই ফ্রান্সে চলে যান এই ছাত্রলীগ নেতা। প্যারিসে ছিলেন বেশ কয়েক বছর। ২০০০ সালে প্যারিসে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাভ করেন ইউনেক্সো শান্তি পুরস্কার। ফ্রান্সের বাংলাদেশ দুতাবাসের আমন্ত্রনে উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানেও। খুব কাছে থেকে দেখেছেন শেখ হাসিনার পাওয়া ইউনেক্সো শান্তি পুরস্কার গ্রহন করতে। সেখানে  মূলত শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে সিদ্ধান্ত নেন আবার দেশে ফিরে আসার।

অতঃপর ক্ষমতার পট পরিবর্তনে ২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসে সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দেশে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরম সংকট।  তখনই আবার উদয় আব্দুর রহমান আকন্দের। সারা দেশের মতো দোহার উপজেলায় যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সংকট, নেতা-কর্মিরা আত্মগোপনে; তখন আবার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন যুবলীগের দায়িত্বভার তুলে নেন আব্দুর রহমান আকন্দ ও ভিপি আলমাস। দুঃসময়ে পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের। এই দুই নেতা দীর্ঘদিন ছিলেন নিজের ঘর-বাড়ী ছাড়া। সংগঠিত করতে থাকেন দোহার উপজেলা যুবলীগকে। দোহার উপজেলায় যুবলীগ প্রথমবারের মতো শক্তিশালী সংগঠন হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায় এই দুই বন্ধুর হাতে।

এরপরেই চলে আসে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০০৯ । স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন; প্রায় ৩৪ বছর দোহার তথা ঢাকা-১ আসনে পাস করতে না পারা আওয়ামী লীগ এই আসন থেকে মনোনয়ন দেয় তৎকালীন কারাগারে আটক শেখ হাসিনার আইনজীবি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক  এডভোকেট আব্দুল মান্নান খানকে। আব্দুল মান্নান খানের নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুর রহমান আকন্দ পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা।

নির্বাচনের পর  ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, দোহার উপজেলা যুবলীগের কাউন্সিলে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান আকন্দ। সেই সাথে ঢাকা-১ এর নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের একান্ত ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে ৫ বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন আব্দুর রহমান আকন্দ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজন এপিএস এর দায়িত্ব পালন করলেও তারা হয়েছেন দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন আব্দুর রহমান। আপদমস্তক ভদ্র, সজ্জন বলে পরিচিত এই লোকের কাছে প্রয়োজনে সাহায্য চেয়ে সাহায্য পাননি এমন লোক খুব কম ছিল দোহারে। নিজের সাধ্যের সবটুকু করেছেন তিনি।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দোহার-নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে দোহার-নবাবগঞ্জ আওয়ামীলীগ।  বিভিন্ন বিতর্কে মান্নান্ খান হয়ে যান একলা । তার সাথে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে পাওয়া যাচ্ছিল না দোহার-নবাবগঞ্জের অনেক পরিচিত মুখকে। আবার এডভোকেট সালমা ইসলামের সাথে অনেকে আঁতাতও করেছে নিজ দলের প্রার্থীকে ফেল করাতে। তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হুমকি-ধামকির মোকাবেলা করে দলের প্রতি আনুগত্য থেকে যে কয়জন নির্বাচনী মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের মাঝে সামনে ছিলেন ভিপি আলমাস ও এজিএস আব্দুর রহমান আকন্দ। আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা যখন জাতীয় পার্টির সাথে মিশে আওয়ামী লীগকে ফেল করাতে ব্যস্ত তখনও দোহার উপজেলা যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ দাঁড়িয়েছিল আওয়ামী লীগের ব্যানার হাতে নিয়ে।

নির্বাচন পরবর্তী দোহারের রাজনৈতিক সহিংসতায় আওয়ামী লীগই হয়ে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগের শত্রু। দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা তখন মান্নান-মাহবুব গ্রুপে ভাগ। নির্বাচনী সহিংসতার দায়ে মান্নান খান পন্থী বলে পরিচিত হুকুম আলী চোকদার, বাশার চোকদার, যুবলীগ সভাপতি ভিপি আলমাসকে জেল খাটতে হয়।  এসময় রাজনৈতিকভাবে দোহার উপজেলায় আওয়ামীলীগ-যুবলীগকে আবারো সুসংগঠিত করার পিছনে আব্দুর রহমান আকন্দের ছিল অন্যতম বড় ভূমিকা। নির্বাচন পরবর্তী এই উত্তপ্ত ডামাডালে জীবনের ঝুকি নিয়ে কিনেছিলেন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ফর্ম। যদিও দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত করেননি উপজেলা নির্বাচন। কিন্তু তার এই নমিনেশন ক্রয় ছিল দোহার উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খানের জন্য নবজন্মের প্লাটফর্ম।

আব্দুর রহমান আকন্দ এখনও আছেন দলের সাথে। সব সময় দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে উপস্থিত থাকেন উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যুবলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। সব সময় সাধারন কর্মীদের প্রিয় রহমান ভাই থাকতে চান তার কর্মীদের সাথেই, থাকতে চান সবার প্রিয় রহমান ভাই হয়েই। থাকতে চান নিজ এলাকার মানুষের সাথেই, তাদের সুখে দুঃখে তাদের ভালবাসা নিয়েই।

নবাবগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হলো মুক্তিযোদ্ধা এসএম বজলুর রহমান মৃধাকে। গতকাল রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার কলাকোপা গোয়ালনগরের নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহির—-রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ জটিল রোগে ভুগছিলেন। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন।

গতকাল রোববার বাদ জোহর গোপালপুর জামে মসজিদে প্রথম জানাজা। পরে মাঝিরকান্দা জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মাঝিরকান্দা কবরস্থানে মরহুমের লাশ দাফন করা হয়। জানাজায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মরহুমের পরিবার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সূত্র জানায়, সাপ্তাহিক মুক্তিবার্তা স্বাধীনতা সংখ্যা ২০০০ সাল। ৩য় বর্ষ, ১৭তম সংখ্যা, ২৬ মার্চ ২০০০ সাল মুক্তিবার্তা ৯৫ পৃষ্ঠাতে ২১ নম্বরে এসএম বজলুর রহমান মৃধার নাম রয়েছে। তাছাড়া কলাকোপা ইউনিয়ন কমান্ডের পুন:তালিকা নং ১৩। বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা নং ৩২। মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেইজ নম্বর ০৩০১০৩০৩৩০।

সর্বশেষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের (জামুকা) নবাবগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে বাদপড়াদের পুনঃতালিকায় ১৩ নম্বরে তার নাম রয়েছে বলে নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড নিশ্চিত করেছে।

পরিবারের অভিযোগ, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের সভা চলাকালীন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তৎকালীন যাচাই-বাছাই কমিটি তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ আবু বকর সিদ্দিকী আবু বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। সর্বশেষ যে পুনঃতালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতেও তার নাম রয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আহসান বলেন, গেজেটে তার নাম না থাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নবাবগঞ্জে মাসিক বৈঠকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের লঙ্কাকান্ড

তদবিরের প্রার্থীকে চাকরি না দেয়ায় লংকাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম জালাল শিমু। তিনি শুধু নিজেই অশোভন আচরণ করেননি, দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা পণ্ড করে দিয়েছেন। তার নির্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ছাড়াও গায়ে ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক সব কর্মকর্তাকে সভাস্থল থেকে বের করে দেয়া হয়। এমনকি মহিলা কর্মকর্তাদেরও লাঞ্ছিত করতে তারা পিছপা হয়নি।

ঘটনার আকস্মিকতায় উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিবুল আহসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ইউএনওর কক্ষে আশ্রয় নেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি জানানো হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ ধরনের আচরণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টায় নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মাসিক সভা শুরু হয়। যথারীতি উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়।

তিনি স্বাগত বক্তব্য দেয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসান সংক্ষিপ্ত সূচনা বক্তব্য দিয়ে উপজেলার ১৭টি বিভাগের মধ্যে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাকে বক্তব্য উপস্থাপন করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু সভায় উপস্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল সজোরে টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এ মিটিং হবে না। গত মাসিক সভায় যে নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেখানে তার সুপারিশকৃত প্রার্থীকে চাকরি দেয়া হয়নি। তাই এ সভা করতে দেয়া হবে না।’

এরপর তাকে শান্ত করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান মাইক নিলে তিনি বেশি কিছু বলার সুযোগ পাননি। এসময় বাইরেদাড়িয়ে থাকা মরিয়ম জালাল শিমুর সমর্থক ৩০-৩৫ জনের একটি দল হুড়মুড় করে সভাস্থলে ঢুকে পড়ে। ঢুকেই তারা মরিয়মের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একযোগে কর্মকর্তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় তারা চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে ‘এ সভা হতে দেয়া হবে না, সবাইকে বেরিয়ে যেতে হবে।’ এ সময় একজন মহিলা কর্মকর্তাও তাদের হাতে লাঞ্ছিত হন।

এসময় বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা ইউএনওর কক্ষে এসে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপর মহলে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর উপজেলা প্রশাসনের ২১ জন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে ঢাকা জেলার ডিসিকে জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক নিউজ৩৯কে বলেন, ‘বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখানে আমার কিংবা ইউএনওর একক কোনো সিদ্ধান্তে হয়নি। নিয়োগটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মেধার ভিত্তিতে হয়েছে। কোনো প্রকার অনিয়ম করা হয়নি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসান বলেন, ‘সভা চলাকালীন সময়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন লোক এসে সভা পণ্ড করে দেয়। অকথ্য ভাষায় কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সবাইকে তারা সভাকক্ষ থেকে বের করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মকর্তারা এখানে কাজ করতে নিরাপদ বোধ করছি না। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল নিউজ৩৯কে বলেন, ‘পরিষদের কাউকে না জানিয়ে ও সম্মতি না নিয়ে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিয়েছে। বিষয়টি সবার দৃষ্টিগোচর হলে আমি, ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা এর প্রতিবাদ জানাই।’

প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদের ‘অফিস সহায়ক’-এর দুটি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে গত সেপ্টম্বরে চাকরিপ্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল তার একজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য ইউএনওর কাছে জোর তদবির করেন। কিন্তু যোগ্যতার পরীক্ষায় তার প্রার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ায় বাদ পড়ে যায়। এতে তিনি উপজেলা প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষেপে যান। বিষয়টি উচ্চপর্যায়কে অবহিত করা হলে যথানিয়মে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ কমিটির কিছুই করার ছিল না।

দোহারের জয়পাড়ার লুঙ্গি বিদেশেও এখন রফতানি

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার তাঁতে বোনা লুঙ্গি দেশের সীমা পার হয়ে এখন রপ্তানী হচ্ছে বিদেশে। এরই মধ্যে দেশের সীমা ছাড়িয়ে দোহারের জয়পাড়ার লুঙ্গি বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। বিদেশ থেকে আসছে লুঙ্গীর অর্ডার।

আনুমানিক ১০০ বছর আগে তাঁতে বোনা লুঙ্গির গোড়াপত্তন হয়েছিল দোহার নবাবগঞ্জে। সেই থেকে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে লুঙ্গি তৈরি করে চলেছেন এখানকার তাঁতিরা। এক সময় খুবই জমজমাট ছিল দোহারের জয়পাড়া লুঙ্গির হাট।

কিন্তু আধুনিক মেশিনে প্রস্তুত লুঙ্গির সাথে হাতে বোনা লুঙ্গি প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় দিন দিন লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তাঁতশিল্প। ফলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে দোহারের তাঁতিরা। এক সময়ে জয়পাড়া লুঙ্গির হাটকে কেন্দ্র করে উৎসবে পরিণত হত। দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আগত  পাইকারদের  ভিড়ে  সরগরম থাকতো সপ্তাহের প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবারের বিকেলটা। কিন্তু সেটা এখন পরিনত হয়েছে ইতিহাসে।

সারা দেশে লুঙ্গির যে ক’টি হাট রয়েছে, তার মধ্যে জয়পাড়ার লুঙ্গির হাট প্রসিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা লুঙ্গি কিনতে ছুটে আসেন এই হাটে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে এখন ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। প্রায় ৪ দিন ৮০ ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তৈরি হয় এক ভিম (ছয়টি) লুঙ্গি। প্রতিটি ভিমের দাম পাইকারী মূল্যে ২৪শ’ (নিম্ন মানের) থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত (ভাল মানের) (২০১৫ সাল)।

লুঙ্গিগুলো দোহার ও নবাবগঞ্জে প্রায় প্রত্যেকটি শপিংমলে সহজে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের চেক লুঙ্গি এবং খাড়া স্ট্রিপ লুঙ্গি ও একক সাদালুঙ্গিসহ বিভিন্ন রংয়ের চোখ ধাঁধানো লুঙ্গি সাজানো থাকে দোকানের তাকগুলোতে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য তাদের সাইজ ও পছন্দমত লু্ঙ্গি তৈরি করে থাকে দোহার ও নবাবগঞ্জের কারিগররা। সেই হিসাবে প্রতিটি লুঙ্গি বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় হাট ও মানভেদে লুঙ্গির দাম কমবেশি হয়ে থাকে। তবে তাঁতিরা বেশি বুনছেন ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা দামের লুঙ্গি। তা ছাড়া ঈদের আগেও বাজারে লুঙ্গির দাম বেড়ে যায় স্বাভাবিকভাবেই।

মেঘুলা তাঁতপল্লীর নারী কারিগররা জানান, শিশুকাল থেকে বাবার বাড়িতে কাজ শিখে এসে স্বামীর সংসারের উন্নয়নে নিজেরাও তাঁতের ঘরোয়া কাজ করছি। নিজেদের কাজ শেষে পরের বাড়ির তাঁতের কাজ করে নিজেদের হাত খরচও চালাচ্ছেন তাঁতপল্লীর গৃহিণীরা। যারা তাঁতের কাজ করেন এখানকার স্থানীয় ভাষায় এদের বলা হয় ‘কারিকর’। মূলত ‘কারিগর’ শব্দটি মৌখিক ভাষায় বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ‘কারিকর’-এ রূপান্তরিত হয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুতার মূল্য বৃদ্ধি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি, যুবকদের বিদেশ গমন ও পাওয়ার লুম যন্ত্র স্থাপনের ফলে জয়পাড়া এলাকার অনেক তাঁতি পরিবারই তাঁতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। স্থানীয় তাঁতি মোজ্জামেল জানান, এ অঞ্চলের তাঁতে বুনানো লুঙ্গি আরামদায়ক ও টেকসই বেশি হওয়ার কারণে সারা দেশে এর কদর রয়েছে বেশ। তাই নকলের ভিড়ে দোহারের লুঙ্গির চাহিদা সব সময়ই সমান।

এ ব্যাপারে কথা হয় দোহার উপজেলার দক্ষিণ জয়পাড়া গ্রামের তাঁতি মোঃ শহীদের সাথে। তিনি জানান, বর্তমানে লুঙ্গির বাজার খুবই খারাপ। এক সময় লুঙ্গি তৈরি করে খুবই সচ্ছল ছিল তাঁতিরা। বর্তমানে সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং লুঙ্গির দাম কমে যাওয়ায় কোনোরকম বেঁচে আছে এ তাঁতশিল্পের কারিগররা।

স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, সুতার মূল্য ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। সে হিসেবে বাড়ে নি লুঙ্গির দাম। ফলে ঈদের সময় ছাড়া এ ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না তাঁতশিল্প মালিকরা। সরকারি সহযোগিতা না পেলে হারিয়ে যাবে বাপ-দাদার এই পুরনো পেশা।

ইকরাশী সড়ক পাড় গ্রামের তাঁতি আনোয়ার হোসেন জানান, পরিশ্রম অনুযায়ী সারা বছর তেমন একটা লাভ না হলেও ঈদে লুঙ্গির চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় লাভ হয় বেশি।

দোহার উপজেলার মালিকান্দা গ্রামের তাঁতি মো. লিটন মিয়া জানান, আমাদের দেশের বড় বড় লুঙ্গির ব্যবসায়ীরা পাবনার লুঙ্গি কমদামে ক্রয় করে দোহারের লুঙ্গি বলে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে একদিকে গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছে অন্যদিকে দোহারের লুঙ্গির সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের যতগুলো লুঙ্গির ব্র্যান্ড রয়েছে তারা সবাই পাবনার লুঙ্গিকে দোহারের লুঙ্গি বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

জয়পাড়ার লুঙ্গি বিদেশেও যাচ্ছে, নতুন বাজার তৈরি হচ্ছে এটাই শুধু আশার বিষয়, কিন্তু বাইরে থেকে আনা বা পাওয়ারলুমের নামে যেন চালানো না হয় সেই আবেদনও রাখছেন তাঁতীরা।

সাবেক মন্ত্রী ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ আতাউদ্দিন খানের ইন্তেকাল

দোহার-নবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক  আতাউদ্দিন খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লালি….রাজিউন)।  বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় মোহাম্মদপুরস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল ও কলেজের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আতাউদ্দিন খান ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন।

এদিকে তার মৃত্যুর কারনে নবাবগঞ্জে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নবাবগঞ্জে তার পৈতৃক গালিমপুরের বাড়িতে এসে উপস্থিত হচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের বিশিষ্ট জনেরা।

আতাউদ্দিন খানের জানাজা সোমবার বাদ যোহর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী আতাউদ্দিন খান ১৯৬৫ ও ১৯৭৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পূর্ব পাকিস্তান সেন্সর বোর্ড, আরব ওয়ার রিলিফ ফান্ড ও প্রাদেশিক যোগাযোগ কর্তৃপক্ষের সদস্য ছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়াতে বৈষম্যের শিকার মুসলিমরা

0

অস্ট্রেলিয়াতে মুসলমানরা অমুসলিমদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একই সাথে তারা মুখোমুখি হচ্ছেন নানা ধরনের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতারও । অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিমদের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় একথা বলা হয়েছে।

যেসব মুসলিমের ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছে তাদের ৬০ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, কোনো না কোনো ভাবে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতির অভিজ্ঞতা তাদের হয়েছে।

সিডনিতে ইসলামের ওপর আয়োজিত এক সম্মেলনে গবেষকরা বলেছেন, এধরনের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে অল্পবয়সী মুসলিম ছেলেমেয়েরা খুব সহজেই চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। তবে শতকরা ৮৫ ভাগেরও বেশি উত্তরদাতারা তারপরেও মনে করেন যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ।

প্রায় ৬০০ লোকের ওপর এই জরিপটি চালিয়েছে ওয়েস্টার্ন সিডনি ও চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক সায়েন্সেস এন্ড রিসার্চ একাডেমি।

এই গবেষণায় যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, অধ্যাপক কেভিন ডান, তিনি বলেছেন, অন্যান্য সমীক্ষার সাথে এই জরিপের সামঞ্জস্য আছে। সেসব গবেষণাতেও দেখা গেছে যে অস্ট্রেলিয়াতে ইসলামভীতি অত্যন্ত প্রবল।

জরিপের কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য:

১. ৯৭% মনে করেন বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক একসাথে মিলেমিশে বসবাস করা উত্তম।

২. ৫৭% উত্তরদাতা বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন।

৩. ৬২% অফিসে বা চাকরির সন্ধানের সময় বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন।

৪. ৮৬% মনে করেন যে সিডনিতে মুসলিম ও অমুসলিমের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ।