মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে শুনানি আজ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শুনানি আজ। এদিন তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়া কথা রয়েছে।

সোমবার (১৬ জুন) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে গত ১ জুন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

ওইদিন কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যার দায় শেখ হাসিনার। তার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। শেখ হাসিনার নির্দেশে আন্দোলন দমনে মরনঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

বিএনপির প্রার্থী হতে লাগবে তিনটি প্রধান যোগ্যতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন সময়সীমা মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে দলটি।

লন্ডনে দলের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের সময় নির্ধারণের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই দলীয় প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে।

সূত্র জানায়, বিএনপি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি মূল যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে:

১। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ত্যাগ ও সাহসিকতা ব্যক্তিগত সততা ও জনগণের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা।

২। নিজ এলাকায় জনসমর্থন ও

৩। জনপ্রিয়তা

এসব নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে একাধিক জরিপ পরিচালনা করেছে। চলমান জরিপেও প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

তরুণদের অগ্রাধিকার, তবে থাকবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় তরুণ, ত্যাগী ও সৎ প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও বিএনপি এবার নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যপূর্ণ তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার থেকেও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, যেসব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অপকর্মের প্রমাণ রয়েছে কিংবা মাঠ পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা নেই—তারা মনোনয়ন পাবেন না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিস্তারিত প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন।

চমক থাকছেই, থাকবে না একাধিক প্রার্থী ২০১৮ সালের নির্বাচনে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও এবার সে নীতি থেকে সরে এসেছে বিএনপি। এক আসনে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এমনটাই জানালেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে পার্লামেন্টারি বোর্ড মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে।”

মিত্রদের জন্য আসন ছাড়ার ইঙ্গিত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির সঙ্গে থাকা মিত্র দলগুলোকে মূল্যায়ন করে কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার কয়েকটি আসনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিত্রদের জন্য ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তফসিলের পর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন বিক্রি, জমা ও সাক্ষাৎকার শুরু হবে। তখনই জানা যাবে কে কোথা থেকে লড়ছেন এবং কোন কোন আসনে থাকবে চমক।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ত্যাগী, সৎ ও জনসমর্থনসম্পন্ন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যথাযথ জরিপের ভিত্তিতে যোগ্যদের বাছাই করবেন।”

যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। দলীয় আনুগত্য, আন্দোলনে সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

দোহারে ধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

ঢাকার দোহারে ৯ম শ্রেণীর এক মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হল উপজেলার লটাখোলা বিলের পার এলাকার খলিলের ছেলে রায়হান (২২) ও বদর উদ্দিনের ছেলে ফরিদ (১৯)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১নং আসামী রায়হান একটি মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ রবিবার (১ জুন) একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে নিয়ে মামলার ২নং আসামী ফরিদ ও ৩নং আসামী রাকিবের সহায়তায় ধর্ষণ ও মোবাইল ফোনে সেই ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ১নং আসামী রায়হান দুই লাখ দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ভিক্টিম মেয়েটির কাছ থেকে। পরে মেয়েটি তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে শনিবার (১৪ জুন) দোহার থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত রায়হান ও ফরিদকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় রাকিব নামের আরেকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে দোহার থানার ওসি (তদন্ত) নুর নবী বলেন, ধর্ষণের মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আরেকজন আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালের শাঁসের মায়াবী মধুবেলা: দোহারে গ্রীষ্মের গল্প

মাহমুদুল হাসান সুমন : রোদের উত্তাপে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস, চারপাশের ধূসর ধুলোর স্তব্ধতায় মন যেন পুড়ে যায়, তখনই এক পশলা স্বস্তির মতো হাজির হয় তালের শাঁস। দোহার উপজেলার প্রতিটি বাজার, পথের মোড়, স্কুলের সামনের ফটক কিংবা গ্রামের প্রান্তের খেজুরতলা—যেদিকেই তাকানো যায়, চোখে পড়ে শীতল তালের শাঁসের সরব উপস্থিতি। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের কণ্ঠে যেন একই সুর, “একটা তাল শাঁস দেবেন, ভাই?”

গ্রীষ্মকালের এই উপহার শুধু একটি ফল নয়, বরং এক টুকরো নস্টালজিয়া, এক ছায়াময় আশ্বাস। তালগাছের ছায়ায় ছোটবেলার খেলাধুলা, ঠাকুরমার হাঁপ ধরা কণ্ঠে রূপকথার গল্প আর মাটির ঘরের চালে তালপাতার পাখার শোঁ শোঁ শব্দ—সব মিলিয়ে তাল যেন বাংলার মাটিতে এক বেঁচে থাকা স্মৃতি।

এই প্রাকৃতিক ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম Borassus flabellifer হলেও দোহারবাসীর কাছে এটি শুধুই “তাল”—ভালোবাসার নাম, জীবনযাপনের অংশ। এতে রয়েছে শতভাগ প্রাকৃতিক ঠান্ডক, পানি ও খনিজসমৃদ্ধ এই ফল শরীরে জোগায় স্নিগ্ধ প্রশান্তি, দূর করে ক্লান্তির গ্লানি। সামান্য শাঁসের নিচে যেন লুকিয়ে আছে বিশাল জীবনীশক্তি।

তাল বিক্রেতা সজীবের মুখে গ্রীষ্মের হাসি—“প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ টাকার বিক্রি করি। গরম যত বাড়ে, বিক্রি ততই চড়ে। শাঁস ঠান্ডা রাখার জন্য বরফ ব্যবহার করি, তবে চেষ্টা করি যেন প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট না হয়।” তাঁর কথা শেষ হতে না হতেই একটি ছোট্ট মেয়ে এসে বলল, “আম্মু বলে তিনটা শাঁস দিতে, যেন ভাইয়াও পায়।”

এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আবুল কাশেম নামের এক ক্রেতা জানান, “তাল এখন শুধু ফল নয়, একরকম আত্মবিশ্বাস। বাজারে যখন ফল থেকে শুরু করে সবজিতেও ফরমালিনের ভয়, তখন এই দেশি ফলটাই নিরাপদ ও তৃপ্তিদায়ক মনে হয়।”

তালগাছের জীবনচক্রও যেন এক অনন্য কাব্য। একবার জন্ম নিয়ে শতবর্ষ বেঁচে থাকা এই গাছটি যেন বাংলার প্রাচীনতার প্রতীক। শত ঝড়ঝাপটা উপেক্ষা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছের গায়ে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও অর্থনীতির গল্প। বজ্রপাত প্রতিরোধে সহায়ক এই গাছের কাঠ যেমন টেকসই, তেমনি এর পাতা দিয়ে তৈরি হাতপাখা এখনও অনেক গৃহস্থ বাড়ির শোভা।

দুঃখের কথা একটাই—এই গাছ ফল দিতে শুরু করে প্রায় বিশ বছর পর, আর এ দীর্ঘ অপেক্ষার ধৈর্য আমাদের গ্রামবাংলার অনেকেই আর রাখতে চান না। ফলে, সময়ের আগে কেটে ফেলা হয় সম্ভাবনাময় গাছগুলো। এতে হারিয়ে যাচ্ছে তাল, হারিয়ে যাচ্ছে তাল-ভিত্তিক গ্রামীণ সংস্কৃতিও।

তবু আশার কথা শোনা যায় স্থানীয় যুবকদের কণ্ঠে—“আমরা তালগাছ লাগাই, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই শাঁসের স্বাদ পায়, আর তালপাতার পাখায় গ্রীষ্মের গল্প বলে।”

তালের শাঁস তাই দোহারে এখন শুধুই পণ্য নয়—এ এক মৌসুমি উৎসব, স্মৃতি ও সংস্কৃতির এক তরল গল্প। গ্রীষ্মের অসহনীয় দিনগুলোতে এক কাপড় জড়ানো ঠান্ডা শাঁসের মধ্য দিয়ে বয়ে যায় বাংলার সহজ-সরল জীবন, বয়ে চলে অমলিন আবেগ।

এ যেন প্রকৃতির এক পরম উপহার—তালের শাঁসে জমে থাকা দোহারবাসীর গ্রীষ্মের মধুময় মায়া।

রুহিতপুরে ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনায় ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার ও গ্রেপ্তার ৩

ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন রুহিতপুরে অবস্থিত আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখা থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরির ঘটনায় জেলা পুলিশ সফল অভিযান চালিয়ে মোট ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘটনাটি ঘটে ৯ জুন ২০২৫ তারিখে, যখন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রুহিতপুর ইউনিয়নের বোডিং মোড়ে ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ব্যাংকটির পেছনের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে বেআইনি অনুপ্রবেশ করে। তারা প্রথমে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, এরপর ভল্ট ভেঙে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম-সেবা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক দক্ষিণ) মোঃ তরিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস হোসেন এবং এসআই টিটুল আহম্মেদের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হল—
১. মো. সিয়াম (২১), পেশায় ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড। তার কেরানীগঞ্জের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ৭,৪০,০০০ টাকা।
২. আল-আমিন (৩০), তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ২,৪০,০০০ টাকা।
৩. ইমরান শেখ (২৬), মাদারীপুর সদর থানার বাসিন্দা। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৫,৪০,০০০ টাকা।

এছাড়াও অভিযানে ১টি হার্ডডিস্ক (ডিভিআর), ১টি লোহার শাবল, ১টি চাকু এবং ১টি গ্রাইন্ডিং মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা (নম্বর-২০, তারিখ: ১০/০৬/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পেনাল কোডের ৪৫৭/৪৬১/৩৮০/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নবাবগঞ্জের নিনিয়া: মাস্টার্সে ৪-এ ৪ পাওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত

মাকসুমুল মুকিম: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের ফাতেমা ইসলাম নিনিয়া যেন এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিনি একের পর এক সাফল্যের ধাপ পেরিয়ে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। সর্বশেষ, ৪ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৪.০০ অর্জন করে তাক লাগিয়েছেন সবাইকে।

এই অসাধারণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু নিজেকেই নয়, নবাবগঞ্জবাসীকেও গর্বিত করেছেন। একজন মেয়ে হয়েও গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিনিয়া নিজের একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, প্রতিকূলতা কখনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।

ফাতেমা ইসলাম নিনিয়া যন্ত্রাইল গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও পাপিয়া ইসলাম দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা। নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৯৪ অর্জন করেন তিনি। এরপর দোহার-নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

পরবর্তী সময়ে তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্সেও প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। মাস্টার্স পর্যায়ে গিয়ে তার অসাধারণ কৃতিত্বের প্রকাশ ঘটে ৪.০০ স্কোরের মাধ্যমে, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

নিনিয়ার এই কৃতিত্বে তার পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও আত্মীয়স্বজন সকলেই গর্বিত ও আনন্দিত। তার মা পাপিয়া ইসলাম বলেন, “আমার মেয়ে সব সময়ই পড়ালেখায় মনোযোগী ছিল। আমরা চেয়েছিলাম ও যেন সমাজে একজন সম্মানিত মানুষ হয়। আজ সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।”

নিনিয়ার শিক্ষক তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগের একজন সিনিয়র প্রভাষক জানান, “নিনিয়া সবসময় নিয়মিত ক্লাস করেছে, প্রশ্ন করেছে, বুঝে পড়াশোনা করেছে। এমন ফলাফলের জন্য আমরা গর্ববোধ করি।”

ফাতেমা ইসলাম নিনিয়ার লক্ষ্য শুধু শিক্ষাজীবনে ভালো ফল করা নয়। তিনি চান গণিত নিয়ে গবেষণা করতে এবং একদিন দেশের একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে। তার স্বপ্ন, একদিন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গণিতকে আরও জনপ্রিয় ও সহজ করে তোলা।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মেয়েই যদি স্বপ্ন দেখে এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকে, তবে সে অবশ্যই সফল হবে। আমি আমার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা সবসময় আমাকে সাহস দিয়েছেন।”

ফাতেমা ইসলাম নিনিয়ার এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য একটি অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে নারীদের জন্য তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যিনি প্রমাণ করেছেন যে সংকট, বাধা বা পরিবেশ—কোনো কিছুই সাফল্যের পথে অন্তরায় নয়, যদি থাকে অটুট মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম।

দোহারে শিক্ষার্থী ও অসহায়দের মাঝে শিবিরের কোরবানির মাংস বিতরণ

ঢাকার দোহারে শিক্ষার্থী ও অসহায়দের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রবিবার (৮ জুন) ছাত্রশিবিরের দোহার শাখা এই উদ্যোগের আয়োজন করে। এতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অসহায়দের বাসায় বাসায় মাংস পৌছে দেন শিবিরের দায়িত্বশীলরা।

ঈদের ত্যাগ ও আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার তাগিদে দোহার শাখা শিবির এই আয়োজন করে। এই আয়োজনে কোরবানি করা হয় একটি গরু। পরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকার অসহায় মানুষদের মধ্যে গরুর মাংস বিতরণ করেন দোহার শাখার শিবিরের নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে দোহার শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, “সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য আমাদের এই আয়োজন।”

সেক্রেটারি ওমর ফারুক বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসহায় মানুষের মাঝেও বাড়িতে গিয়ে রাত পর্যন্ত কোরবানির মাংস পৌঁছে দিয়েছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়েই ছাত্রশিবিরের পথচলা। আমরা সবসময় ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে ভালো ভালো কাজের দ্বারাই শিক্ষার্থী সহ সকলের মনে থাকতে চাই। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে একটি উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ তৈরিতে ছাত্রশিবির বদ্ধপরিকর।”

নবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে থানা প্রশাসন

শেখ ফয়সাল/রাকিব/ আশিক: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন ২০২৫ খ্রিঃ, পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ মমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব মোঃ আজগর হোসেন নবাবগঞ্জ থানাধীন বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁরা হাটে উপস্থিত ক্রেতা, বিক্রেতা ও ইজারাদারদের সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে মতবিনিময় করেন। ওসি নবাবগঞ্জ উল্লেখ করেন, “ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দালাল চক্র, অজ্ঞান পার্টি এবং জাল নোট চক্রের বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে হবে। হাটে কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করার অনুরোধ জানান তিনি।

নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

দোহারে ঈদ-উল আযহার প্রস্তুতি: বাজার মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

মাকসুমুল মুকিম | আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে দোহারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বাজারের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। বুধবার (৫ ই জুন) দুপুরে দোহার উপজেলা পরিষদ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে নৌপথ ও টার্মিনালে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং কোরবানির পশুর হাটে সঠিক আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতে পরিদর্শন করেছেন।

এসময় মৈনটঘাট এলাকায় স্পিড বোর্ড ও টলারে ঈদের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১টি মামলায় ১,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সহযোগী কমিশনার ভূমি তাসফিক সিবগাত উল্লাহ বলেন, ঈদের উপলক্ষে যানজটের সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। পশুর হাটে জাল টাকা ছড়ানোর আতঙ্কের মধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া, দোহার উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাট বাজারও পরিদর্শন করা হয়েছে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।

ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে কী করবেন

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা চিন্তা করে সবাই। কিন্তু অনেকেই জানেন না কীভাবে কী করতে হবে।

এই সম্পর্কে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন।

ব্যক্তিগত ছবি ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইল কীভাবে হয়

আইনজীবী মমতাজ পারভীন বলেন, সরাসরি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং অনলাইন থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করা- ইদানীং দুটো ক্ষেত্রেই ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা বেশি ঘটছে। বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে ফেলেন সাইবার অপরাধীরা।

১. সাইবার অপরাধী ও প্রতারকরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি বা ভিডিও নিয়ে সেগুলো বিকৃত করে, ভুয়া বা ফেইক আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে, ছবি ও ভিডিও ম্যানিপুলেট করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তারা টাকা দাবি করে, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে এবং অনেক সময় আপত্তিকর কিছু করতে বাধ্য করায় ভুক্তভোগীকে।

২. ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও নিয়ে আরেক ধরনের ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ঘটে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে। সেটি স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে করতে পারে, আবার কারো সঙ্গে সম্পর্কে থাকার সময়ে ব্যক্তিগত কোনো মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও থাকলে পরে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন অনেকে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন প্রায় সব বয়সী মানুষ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি আইডির সিকিউরিটি সিস্টেম ঠিক থাকে না। যে কারণে যে কেউ ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে পারছে অনায়াসে এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনা ঘটছে।

আইনি ব্যবস্থা নিতে করণীয়

আইনজীবী মমতাজ পারভীন বলেন, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। সবসময় মনে রাখতে হবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ।

১. ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে কোনোভাবেই ভয় পাওয়া যাবে না। ভয় পেয়ে সাইবার অপরাধী, প্রতারকদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

২. অনলাইনে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে তার প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। যেমন- মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামে হয়রানির শিকার হলে সাইবার অপরাধীর মেসেজ, চ্যাট, কল রেকর্ড অথবা ছবি-ভিডিওর স্ক্রিনশট এবং আইডি লিংক সংরক্ষণে রাখতে হবে।

৩. কেউ যদি ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ম্যানিপুলেট করে পর্নোগ্রাফি বানায়, গোপন ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয় তাহলে পর্নোগ্রাফি আইনে সরাসরি মামলা করতে পারবেন ভুক্তভোগী। এছাড়া সাইবার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা করতে পারবেন আইনজীবীর মাধ্যমে। যদি ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে চান তাহলে সরাসরি নিজে গিয়েই অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন কিংবা জিডি করতে পারবেন। তবে এ ধরনের ঘটনায় পর্নোগ্রাফি মামলা করাই ভালো।

৪. ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও নিয়ে হুমকি দিলে, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করলে থানায় জিডি করতে হবে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী নারী হলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নারী সুরক্ষা ইউনিট আছে, সেখানে জিডির কপি দিয়ে আসতে হবে, সেখানে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

https://www.police.gov.bd/en/police_cyber_support_for_women এখানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নারীদের জন্য সাইবার সাপোর্টের হটলাইন, ইমেইল অ্যাড্রেস আছে।

https://www.facebook.com/share/1XisDVtAss/ পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত পেইজ, এর মেসেঞ্জারেও অভিযোগ জানানো যায়।

৫.  এছাড়া হটলাইন নম্বর ৯৯৯ এ কল করেও সহায়তা নেওয়া যাবে।

৬.  সরাসরি সাইবার বুলিং করলে, হুমকি দিলে, ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যাবে। সাইবার ট্রাইব্যুনাল শুধু বিভাগীয় শহরগুলোতে আছে, কোনো জেলা শহরে নেই। কেউ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে চাইলে তাকে সরাসরি বিভাগীয় শহরে করতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রথমত থানায় জিডি করতে পারেন ভুক্তভোগী যদি হুমকি দেয়। আর যদি অনলাইনে ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেয় তাহলে সাইবার অপরাধীর অপরাধের প্রমাণ ও আইডি লিংক নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

সচেতনতায় করণীয়

১. অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার সবচেয়ে বেশি হয় টিনএজাররা। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, বাবা-মাকে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এমনভাবে, যাতে সেটি সন্তানদের মনে বিরূপ মনোভাবের কারণ না হয়।

২. টিনএজার কোনো সন্তান যদি তার সমস্যার কথা বাবা-মা বা অভিভাবকের সঙ্গে শেয়ার করতে না পারে, সে হয়তো তার কোনো বন্ধু বা বাইরের কারো সঙ্গে শেয়ার করবে। এতে করে সমস্যা আরো বাড়তে পারে, ভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে পারে ভুক্তভোগী।

৩. ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার ভুক্তভোগীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, যত ধরনের আইনী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেগুলো নিতে হবে।

৪. সমাজের ভয় করা যাবে না। ব্ল্যাকমেইলের শিকার এই খবর জানলে সমাজ হেয় করবে, খারাপ মনে করবে এসব ভাবনা থেকে দূরে থাকতে হবে। সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে সমাজের অন্যরাও যাতে ব্ল্যাকমেইলের শিকার না হয় সেজন্য সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। সোশ্যাল সাইটে যত অ্যাকাউন্ট বা আইডি আছে সেগুলোতে যত ধরনের সিকিউরিটি আছে সব যুক্ত করতে হবে। অপরিচিত, একদম ব্যক্তিগত পরিচিতির বাইরে কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট না পাঠানো কিংবা গ্রহণ না করা বা তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোন গ্রুপে, পেইজে, চ্যাট গ্রুপে যুক্ত হচ্ছি, কী ধরনের কার্যক্রম করছি সেগুলোর বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে সবসময়। অনেক ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রুপ, আইডি থাকে যার ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ খুঁজে এবং ফাঁদ পাতে।

৭. ছবি, ভিডিও আপলোড করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে, কেউ যাতে সেগুলো ডাউনলোড কিংবা স্ক্রিনশট নিতে না পারে সেজন্য সব ধরনের সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো লিংক ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮. বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কারো সঙ্গে পরিচয়ের পর দেখা করার জন্য ডাকল কোনো রেস্তোরাঁ, হোটেল, রিসোর্ট কিংবা বাড়িতে আর চলে গেলাম, এই কাজ কখনোই করা যাবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে আটকে রেখে ছবি, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। সেজন্য সাবধান থাকতে হবে।

৯. ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হবে। কোথাও গোপনে ভিডিও হচ্ছে কি না, কেউ ছবি তুলছে কি না খেয়াল রাখতে হবে। কেউ ছবি চাইলেই দেওয়া যাবে না।

১০. বিভিন্ন ট্রায়াল রুমে, পাবলিক টয়লেট, হোটেলে অনেক সময় গোপন ক্যামেরা থাকে, যার মাধ্যমে সাইবার ক্রাইমের ঘটনা ঘটে। সেজন্য যতটা সম্ভব সচেতন থাকতে হবে নিরাপত্তার বিষয়ে।

অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, সাইবার ক্রাইম, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে অবশ্যই আইনগত সহায়তা নিতে হবে। অপরাধীদের ভয় না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।