মাকসুমুল মুকিম: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের ফাতেমা ইসলাম নিনিয়া যেন এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিনি একের পর এক সাফল্যের ধাপ পেরিয়ে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। সর্বশেষ, ৪ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ৪.০০ অর্জন করে তাক লাগিয়েছেন সবাইকে।
এই অসাধারণ সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু নিজেকেই নয়, নবাবগঞ্জবাসীকেও গর্বিত করেছেন। একজন মেয়ে হয়েও গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিনিয়া নিজের একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, প্রতিকূলতা কখনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।
ফাতেমা ইসলাম নিনিয়া যন্ত্রাইল গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও পাপিয়া ইসলাম দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা। নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৯৪ অর্জন করেন তিনি। এরপর দোহার-নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তী সময়ে তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্সেও প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। মাস্টার্স পর্যায়ে গিয়ে তার অসাধারণ কৃতিত্বের প্রকাশ ঘটে ৪.০০ স্কোরের মাধ্যমে, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
নিনিয়ার এই কৃতিত্বে তার পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী ও আত্মীয়স্বজন সকলেই গর্বিত ও আনন্দিত। তার মা পাপিয়া ইসলাম বলেন, “আমার মেয়ে সব সময়ই পড়ালেখায় মনোযোগী ছিল। আমরা চেয়েছিলাম ও যেন সমাজে একজন সম্মানিত মানুষ হয়। আজ সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।”
নিনিয়ার শিক্ষক তেজগাঁও কলেজের গণিত বিভাগের একজন সিনিয়র প্রভাষক জানান, “নিনিয়া সবসময় নিয়মিত ক্লাস করেছে, প্রশ্ন করেছে, বুঝে পড়াশোনা করেছে। এমন ফলাফলের জন্য আমরা গর্ববোধ করি।”
ফাতেমা ইসলাম নিনিয়ার লক্ষ্য শুধু শিক্ষাজীবনে ভালো ফল করা নয়। তিনি চান গণিত নিয়ে গবেষণা করতে এবং একদিন দেশের একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে। তার স্বপ্ন, একদিন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গণিতকে আরও জনপ্রিয় ও সহজ করে তোলা।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মেয়েই যদি স্বপ্ন দেখে এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকে, তবে সে অবশ্যই সফল হবে। আমি আমার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা সবসময় আমাকে সাহস দিয়েছেন।”
ফাতেমা ইসলাম নিনিয়ার এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য একটি অনুপ্রেরণা। বিশেষ করে নারীদের জন্য তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যিনি প্রমাণ করেছেন যে সংকট, বাধা বা পরিবেশ—কোনো কিছুই সাফল্যের পথে অন্তরায় নয়, যদি থাকে অটুট মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম।
