আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে ছাত্রদল: ভিপি কামাল 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহাবস্থান নিশ্চিত এবং গণতন্ত্র রক্ষায় সরকার বিরোধী আন্দোলনকে তরান্বিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। নিউজ৩৯ এর কছে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কামাল হোসাইন খান(ভিপি কামাল)।  দোহার-নবাবগঞ্জের এই ছাত্রনেতা নিউজ৩৯কে বলেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিতকরণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শাখা সংগঠন ও ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এছাড়া তিনি আরো জানান, পৌর নির্বাচনের পরপর – ই ঢাকা জেলা কমিটিসহ দোহার-নবাবগঞ্জে ছাত্রদলের সকল কমিটি করা হবে বলে জানান ছাত্রদলের প্রভাবশালী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আস্থাভাজন বলে পরিচিত ভিপি কামাল। তবে ত্যাগী, আদর্শিক, দলের প্রতি অনুগত, দুঃসময়ের কান্ডারী কর্মিরা পদে মনোনয়ন পাবেন। কোন পকেট কমিটি হবে না, এবারের কমিটি হবে হয় এস্পার না হয় ওস্পার। দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে এবং গণতন্ত্র রক্ষা করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ের কমিটি রাজপথে আবার সরব হবে, আবার বিজয় ছিনিয়ে আনবে।

তবে এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় গত কয়েক বছরের (বিশেষ করে গত এক বছর) আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের গুরুত্ব দেয়া হবে বলে তিনি নিউজ৩৯কে জানিয়েছেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, কমিটিতে যদি ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয় তাহলে আন্দোলন সংগ্রাম বেগবান হবে। আর যদি এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে পকেট কমিটি কিংবা নিষ্ক্রিয়দের দিয়ে কমিটি গঠিত হয় তাহলে ছাত্রদল তার অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছাতে পারবে না। বরং আগের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থানে পড়তে  পারে।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক ও দোহার-নবাবগঞ্জের সন্তান আবুজর গিফারি কলেজের সাবেক ভিপি কামাল হোসাইন খান (ভিপি কামাল)কে সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত করে ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত এক বছরে রাজপথে সরকারের কঠোর অবস্থানের পরেও বেশ কিছু মিছিল-মিটিং করতে সক্ষম হয় রাজিব আহসান এবং আকরামুল হাসান নেতৃত্বাধীন কমিটি। বিএনপি’র ডাকা অবরোধে রাজপথে ছিল এই কমিটি।

তবে তাদের এই মিছিল-মিটিং ছিলো বিচ্ছিন্ন এবং অনেকটা অকার্যকর। ঐক্যবদ্ধভাবে কোথাও মিছিল হতে দেখা যায়নি গত এক বছরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর এবং ঢাকায় অবস্থিত কলেজগুলোর কমিটি না দিতে পারাটা বর্তমান কমিটির অন্যতম বড় ব্যর্থতা বলেও মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কোনো সাংগঠনিক পরিচয় না থাকায় অনেকে আবার ছাত্রদলের কর্মসূচিতে যোগদানেও অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফলে আন্দোলন কিছুটা হলেও ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন খোদ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা। এছাড়া ঢাকা জেলার আশে – পাশের উপজেলা কমিটি না থাকায় তরুণ নেতৃত্ব উঠে আসছে না। ফলে আন্দোলন ব্যার্থ হচ্ছে বিএনপি’র।

এদিকে লন্ডন সফরের পর দেশে ফিরে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করার জোর তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ভিপি কামালসহ ছাত্রদলের শীর্ষ ছয় নেতাদের নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকবার বৈঠকে বসেছেন খালেদা জিয়া। এই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তিনি ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের ত্যাগী এবং পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের তালিকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল কমিটি করারও নির্দেশ দেন তিনি। তালিকা প্রকাশ করতে ছাত্রদল বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করে কাজ করছে। তবে কমিটি কখন গঠিত হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ছাত্রদলের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছে। সেখানে কোন সহাবস্থান নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিটের কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে সহাবস্থানের পথ ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করাও ছাত্রদলের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং নির্দেশনায় ছাত্রদল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেবে বলেও তিনি জানান।

রাজনৈতিক শূন্যতায় হতাশাগ্রস্তরাই জঙ্গিদের দিকে ঝুঁকছে: ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত

0

রাজনৈতিক শূন্যতা বা সামাজিক সমস্যার কারণেই যুব সমাজের একটি অংশ জঙ্গিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে৷ জোর করে বা চাপিয়ে দিয়ে জঙ্গিবাদ থেকে এদের নিবৃত্ত করা যাবে না৷ বরং খুঁজে বের করতে হবে এই শূন্যতা কোথায়? কেন শিক্ষিত যুবকদের একটি অংশ জঙ্গিবাদের দিকে চলে যাচ্ছে? অথচ সেদিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে না৷ জার্মান রেডিও ডয়চে ভেলের কাছে এভাবে জঙ্গিবাদের কারণ বিশ্লেষণ করলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন৷

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মিরপুরে জঙ্গিদের একটি বিশাল আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়৷ গোয়েন্দা পুলিশ টানা ১৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সাতজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে৷ তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ এই একই ধরনের গ্রেনেড পুরনো ঢাকার হোসেনী দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালেও নিক্ষেপ করা হয়েছে৷

এর আগেও কামরাঙ্গীরচরে অভিযান চালিয়ে জেএমবির কাছ থেকে একই ধরনের গ্রেনেড ও বিস্ফোরক পাওয়া গেছে৷ তাদের কাছ থেকে ১৬টি গ্রেনেড ছাড়াও ট্রাংকভর্তি বিস্ফোরক ও প্রচুর জিহাদি বই পাওয়া যায়৷

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আইএস বা আল-কায়েদা নেই এটা বলা যাবে না৷ তাদের মতাদর্শের মানুষ অবশ্যই এখানে আছে৷ এখানে তো আর সিরিয়া থেকে লোক আসবে না৷ তাদের আদর্শ নিয়েই এখানকার সন্ত্রাসীরা কার্যক্রম চালাবে৷ তবে বাংলাদেশে এখনও তাদের কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে৷ আগে কিন্তু এখানে কোনো ধর্মীয় বিভাজন ছিল না৷ অথচ এখন দেখা যাচ্ছে এ দেশেও শিয়া-সুন্নি বিরোধ তৈরি করা হচ্ছে৷ ফলে হতাশাগ্রস্ত যুবকদের পথে আনতে হবে৷ কী করলে তাদের পথে আনা যায়, সেটার চিন্তা করার এখনই সময়৷”

নবাবগঞ্জের মোতাহার চেয়ারম্যান; কখনও আওয়ামী লীগ, সুবিধামত জাতীয় পার্টি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজে প্রার্থী না হয়ে প্রার্থী করেছিলেন তাকে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে যখন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম এম পি নির্বাচিত হলেন ঠিক তখনই ২০১৪ সালের মার্চের ১৭ তারিখে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নিজের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টিতে। অথচ দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ করে আসা এই নেতা যেদিন আওয়ামীলীগ ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন সেদিন ছিল “ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন অর্থাৎ জাতীয় শিশু দিবস।“

কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ২০১৫ সালের শেষ মুহূর্তে যখন সিদ্ধান্ত হলো দলীয় ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে তখনই পাল্টে গেল পরিস্থিতি। সবার অগোচরে আবারও শুরু করলেন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের সাথে মেশা; তৈরি করতে লাগলেন পুরানো সখ্যত। উদ্দেশ্য — নিজেকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া।

উপরের ব্যক্তিটি কোন নাটকের কল্পিত চরিত্র নয়, উনি নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। উনি নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোতাহার হোসেন চেয়ারম্যান। সময়ের সাথে সাথে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন করতে সিদ্ধহস্ত একজন চেয়ারম্যান। সব কিছু ভুলে উনি আবার যোগ দিতে চাচ্ছেন আওয়ামী লীগে। বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান হিসাবে।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান খানকে হারিয়ে সালমা ইসলাম নির্বাচিত হন দোহার-নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ১৭ মার্চ নিজের অনুসারি নেতা কর্মীদের নিয়ে সালমা ইসলামের যমুনা ফিউচার পার্কে সালমা ইসলামের অফিসে গিয়ে যোগদান করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকেছেন।

কিন্তু যখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, তখনই আবার আওয়ামী লীগে যোগদানের তোড়জোড় শুরু করেন মোতাহের হোসেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মোতাহার হোসেন স্থানীয় পত্রিকা ও ব্যানার ফেস্টুনে জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসাবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নেয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন।

কিন্তু তার এই আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টি, আবার জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগ, ব্যাপারটা ভালভাবে নেননি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এই ব্যাপারে নিউজ৩৯ এর কথা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলুর সাথে। নাসিরুদ্দীন ঝিলু নিউজ৩৯কে বলেন, কেউ কখনই বলতে পারেনা, কে মনোনয়ন পাবে, কে পাবে না। আর মনোনয়নের ব্যাপারে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। তাদের অখুশি করে সুবিধাভোগী কাউকে মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করা হবে না। আর মনোনয়ন দিবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই জায়গায় কে মনোনয়ন পাবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবে তিনিই নির্বাচন করবেন। তৃনমূলের নেতা কর্মীদের কষ্ট দিয়ে কোন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেবে না।

এই ব্যাপারে জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন নিউজ৩৯কে বলেন, তিনি সব সময় আওয়ামী লীগেই ছিলেন, এখনও আওয়ামী লীগেই আছেন। জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়ার খবর ছিল ভিত্তিহীন। ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ বংগবন্ধুর জন্মদিনে অর্থাৎ জাতীয় শিশু দিবসে; জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া নিয়ে তিনি বলেন, এলাকার এমপি হিসাবে আমি তার সাথে দেখা করতে যাই, এসময় তিনি তার সাংবাদিক দিয়ে আমার জাতীয় পার্টিতে যোগদানের নিউজ করেন। ব্যাপারটি আমার জানা ছিল না।

কিন্তু তিনি কখনো কেন এর প্রতিবাদ করেননি এ ব্যাপারে নিউজ৩৯কে বলেন, তিনি ব্যাপারটাকে আমলে নেন নি। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন সংবাদ পত্রে তাকে জাতীয় পার্টি নেতা হিসাবে উল্লেখ করা হলে তিনি কেন তা সংশোধন করেননি এই প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। এ সময় তিনি বলেন, তিনি এবারের নির্বাচনে শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত আওয়ামীলীগের মনোনয়নের ব্যাপারে এবং চেয়ারম্যান পদে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে। তিনি জোর দিয়ে নিউজ৩৯কে বলেন, কেউ তার মনোনয়ন ফেরাতে পারবে না।

মোতাহের হোসেনের জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানের ব্যাপারে, নিউজ৩৯ এর সাথে কথা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দিনের সাথে। নিউজ৩৯কে তিনি বলেন, মোতাহার হোসেন জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আবার দলে ফেরত এসেছেন এবং দলের জন্য কাজ করছেন। মোতাহার হোসেনের দাবী – শতভাগ মনোনয়ন নিশ্চিত এই ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্বাচন বোর্ড গঠন করে মনোনয়ন দেয়া হবে।

কিন্তু নিউজ৩৯ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে যে, যদিও মোতাহার হোসেন জাতীয় পার্টিতে নিজের যোগদানের কথা অস্বীকার করেছেন কিন্তু নবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন কিন্তু ঠিক-ই স্বীকার করেছেন মোতাহার হোসেন ২০১৪ সালের ১৭ মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন।

মোতাহার চেয়ারম্যানের এমন দল বদলের কারনে বিরক্ত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা কর্মীরা। তারাও তার এই সুবিধাজনক আচরনের জন্য তাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চান না।  তারা দলের প্রতি অনুগত এমন একজনকেই তারা জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চান। সুবিধাবাদী কাউকে তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে মেনে নিবেন না বলে জানিয়েছেন।

জাতীয় পার্টিতে যোগদানঃ ১৭ ই মার্চ ২০১৪

নিউজ লিংকঃ  http://news39.net/4414/

দৈনিক যুগান্তরঃ http://www.jugantor.com/news/2014/03/18/78591

জাতীয় পার্টি নেতাঃ http://news39.net/4455/

                                                http://news39.net/5285/

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক যুগান্তর ।

দোহারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক মুক্ত করা হবে: সালমা ইসলাম

দোহারের প্রতিটি ইউনিয়কে মাদক মুক্ত করা হবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন ঢাকা ১ আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম। ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়ায় ইউনিয়নের নাগের কান্দা গ্রামের ওয়াহেদ আলী মাদবর বাড়িতে জাতীয় পার্টিতে যোগদান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সালমা ইসলাম আরও বলেন,“নবাবগঞ্চ উপজেলার ন্যায় দোহার উপজেলাতেও জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিনত করা হবে আগামী ৩ বছরের মাঝে। আমি দোহার বাসীর কাছে কোন কিছুই চাই না । আমি দিতে চাই দোহার বাসীকে। আল্লার্হ আমাকে অনেক দিয়েছেন।

তিনি নাগেরকান্দা গ্রামবাসীদেরকে আসস্ত করে বলেন,” আমি নিজ অর্থায়নে ৫ কিলোমিটার ইটের রাস্তা দ্রূত তৈরী করে দিব। এছাড়াও তিনি বলেন দোহারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাদক মুক্ত করা হবে। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে দোহারের আইন শৃংখলা ভাল বলে মনে করেন তিনি। তবে এখনও যে সকল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে অতি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সর্বশেষ তিনি তার দলের নেতা কর্মীদের ইদ্দেশ্যে বলেন যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম তার দল। দলের  প্রত্যেকের সাথে থাকবে তার নিজিস্ব গনমাধ্যম।তাই নির্ভয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান দলের সকল নেতৃ-বৃন্দকে।

এ সময় ইয়াকুব আলী মাদবর এর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টি গনসংযোগকারী মেহেদী খান মিলন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা জাপার আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, দোহার জাপার সভাপতি ডা: আলাউদ্দিন, জাপার নেতা মাহাফুজসহ সকল নেতৃবৃন্দ।

বান্দুরায় গীর্জা থেকে মাদ্রাসা ছাত্র আটক

নবাবগঞ্জের বান্দুরায় গীর্জা থেকে ৬ মাদ্রাসা ছাত্র আটক করেছে র‍্যাব-১১ ও নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। গির্জার বড় দিনের অনুষ্ঠান চলাকালে গীর্জায় সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করার সময়ে ৬ মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করা হয়।

গত ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার হাসনাবাদ জপমালা রানীর গীর্জা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা সবাই ঢাকার লালবাগ এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র বলে পুলিশ জানায়।

আটককৃতরা হলেন, রাজধানীর লালবাগ এলাকার রাজশ্রীনাথ রোডের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. আরিফ (১৮), ঐ এলাকার শহীদনগর ৫নং গলির মনিরুজ্জামানের ছেলে জাকির হোসেন (২৬), চক বাজার এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মূসা (১৮), চাঁদপুর জেলার গোবিন্ধরা এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে সাইফুল (২১), নরসিংদি জেলার দড়িকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে সিবগাতুল্লাহ্ (২২), টাঙ্গাইল জেলার থানা পাড়া এলাকার আব্দুল বারিকের ছেলে আব্দুল হাকিম (২০)।

নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম শামীম হাসান জানান, তারা গীর্জা এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করছিল। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহজনক বলে মনে হওয়ায় তাদের আটক করা হয়।

নবাবগঞ্জে দোকান মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার নেতৃত্বে মার্কেটের তালা ভাঙার অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা পরিষদ মার্কেট (ডাকবাংলো) দোকান মালিকরা। বুধবার সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে তারা এ সাংবাদ সম্মেলন করা হয়।

লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে তারা জানান, গত ২২ ডিসেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ৩ পাতায় ৩ কলামে প্রকাশিত সংবাদ ‘নবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে মার্কেটের তালা ভাঙ্গার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা মনগড়া এবং আওয়ামীলীগ নেতার প্রতি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। প্রকৃত পক্ষে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ আমরা ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকবৃন্দ নিজেদের বিবেকের তাড়নায় মার্কেটে আমাদের দোকানগুলো আমরা নিজেরাই খুলি।

এসময় সাবেক গণপরিষদ সদস্য সুবিদ আলী টিপু, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুসহ নেতৃবৃন্দ বিজয় দিবস অনুষ্ঠান থেকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দোকান মালিকরা তাদের ধরে নিয়ে যান। এতে নেতৃবৃন্দের কোন রকমের সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রকাশিত সংবাদে তাদের জড়িয়ে ভূল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই প্রকাশিত ঐ সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম। এসময় আরো ১২/১৫ জন দোকান মালিক উপস্থিত ছিলেন। তারা আরো জানান, নিজেদের কয়েক কোটি টাকা জেলা পরিষদের জায়গা লগ্নি করেছি।

আমাদের আয় থেকে ব্যয় করে জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মান করা হয়েছে। যা আরও ২ বছর পূর্বে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। আমাদের অর্থ ৪ বছর যাবৎ লগ্নি হয়ে আছে। আজ আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বাধ্য হয়ে মার্কেটের নিজেরা দোকান বুঝে নিয়েয়ার চেষ্টা করেছি।

আজ শুভ বড়দিন

0

আজ ২৫ ডিসেম্বর শুভ বড়দিন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ২০১৫ বছর আগের এই দিনে খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রতিবছর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরাও আনন্দ-উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন।

দিনটি উপলক্ষে অনেক খ্রিস্টান পরিবারে কেক তৈরি হয়েছে, থাকবে বিশেষ খাবারের আয়োজন। দেশের অনেক অঞ্চলে কীর্তনের পাশাপাশি ধর্মীয় গানের আসর বসবে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অনেকে বড়দিনকে বেছে নেন।

এদিকে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা।

প্রধানমন্ত্রী আনন্দময় ও উৎসবমুখর বড়দিনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী জনসাধারণের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

গুগলের চালকবিহীন গাড়ি তৈরি করবে ফোর্ড

0

অনেকদিন ধরেই গুগলের চালকবিহীন গাড়ির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। গুগল এ ধরনের গাড়ির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে ২০১৫ সালের জুন মাসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মনে করা হচ্ছে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই গাড়ি সার্বিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী হবে। তবে চালকবিহীন এই গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে আরও কয়েক বছরপর।

চালকবিহীন এ গাড়ি বাজারে আনার জন্য গুগল ইতোমধ্যে ফোর্ড মোটর কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অটোমোটিভ নিউজ এ তথ্যই জানায়।

এছাড়াও অটোমোটিভ নিউজ জানায়- যদি এ চুক্তি সম্পন্ন হয় তাহলে জানুয়ারিতে লাস ভেগাসে ইন্টারন্যাশনাল কনজিউমার ইলেকট্রনিকস শোতে এই গাড়ি দেখানো হবে। যা গাড়িটিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে আসতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তার আগে এ বছরের শুরুতে গুগল বিশ্বের সেরা ১০টি অটোমেকার কোম্পানির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে যার উদ্দেশ্য ছিল ২০২০ সালের মধ্যে নতুন ধরনের এই গাড়ি বাজারে নিয়ে আসা।

ফেসবুক ব্যবহারকারীর বয়স কত হওয়া উচিত?

0

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীর বয়স আসলে কত হওয়া উচিত? ১৩, ১৬ নাকি ১৮? সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে এমন একটি প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে।  ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৩ বছরের নিচে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন না। ইউরোপীয় কাউন্সিল প্রস্তাব করেছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীর বয়স ১৩-এর মধ্যে হওয়া উচিত। এদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলছে, ১৬ বছর। যদিও এই ১৬ বছর বয়স নিয়ে পার্লামেন্টে বিস্তর বাহাসও হয়েছে কিন্তু ১৩ না ১৬? তা পাস হয়নি।

এদিকে, আমাদের দেশে ফেসবুক ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনও বয়স নেই। ফেসবুকের ওই বেঁধে দেওয়া বয়সকেই নিয়ম বলে মানা হচ্ছে। তবে, ঠিক কত বয়স হলে তা ঠিক মানদণ্ড হবে, এমন সিদ্ধান্ত কেউ দিতে পারেননি। এ-ও নির্দিষ্ট হওয়া যায়নি, ফেসবুক ব্যবহারের জন্য আদৌও কোনও সুনির্দিষ্ট করা উচিত কি না। এই প্রতিবেদন লেখার আগে দেশের বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা একেকজন একেক রকম মত দিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট একটি বয়সকে কেউ চিহ্নিত করেননি।

এই যেমন বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার মনে করেন, যে বয়স থেকে কেউ মাউস চালাতে পারেন, বা টাচস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন এবং নিজেকে নিরাপদ রাখার যোগ্যতা রাখেন, সেই বয়স থেকেই ফেসবুক ব্যবহার করা উচিত। এখানে শারীরিক বয়সটা মোটেই মুখ্য নয়।

উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাদের গ্রামের প্রকল্প পরিচালক রেজা সেলিম বলেন, বয়স ১৮ বছর হওয়ায় ভালো।  আমি মনে করি, ফেসবুক ব্যবহারের বয়স ১৮-এর নিচে হওয়া উচিত হবে না।  উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেসব দেশে আরও কম বয়সের শিশুরা ফেসবুক ব্যবহার করে, আমাদের দেশে তা অনুসরণ করা ঠিক হবে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওইসব দেশের শিশুদের ধ্যানধারণা, শিক্ষা, দায়িত্বশীলতা আলাদা। আমাদের শিশুরা ওদের থেকে অনেক পিছিয়ে। আমাদের শিশুদের সবকিছু বুঝতে, শুনতে, জানতে অনেক সময় লেগে যায়। এ কারণে ১৮ বছর বয়সই উত্তম।

প্রসঙ্গত, দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি। যদিও এর মধ্যে বেশিরভাগ আইডি ফেক বা ভুয়া।১৩ বছরের নিচে ফেসবুকে আইডি খোলার নিষেধ থাকলেও দেশে অনেক শিশুর নামে ফেসবুক আইডি দেখা যায়।

শ্রীলংকাভিত্তিক টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সায়ীদ খান মনে করেন, এটা একান্তই বাবা-মায়ের ব্যাপার। সন্তানের বাবা-মা যখন উপযুক্ত মনে করবেন, তখনই তার সন্তানকে ফেসবুক ব্যবহার করতে দেবেন। এক্ষেত্রে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি নজর না দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ তাদের ধ্যান-ধারণা, শিক্ষা, রুচি, সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের মতো নয়। ফলে কে কী করল তা না দেখে, বিচার না করে নিজেদের মতো করেই এগোনো উচিত।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ফেসবুক ব্যবহারের জন্য ১৩ বছর বয়সই উপযুক্ত সময়। তার ধারণা, দেখা যাবে ১৩ বছর বয়সীরা আজকাল অনেক কিছু জানে, আবার ৩৩ বছরের একজন হয়তো কিছুই জানে না। ফলে বয়স কোনও ম্যাটার করে না। আমার দৃষ্টিতে ১৩ বছরইজ ফাইন। তিনি বলেন, যেসব দেশের নিজস্ব কনটেন্ট আছে, সেসব দেশে ফেসবুক ততটা জনপ্রিয় নয়। আমাদের সমস্যা হলো আমাদের নিজস্ব কোনও কনটেন্ট নেই। তাহলে আমাদের সন্তানেরা কি করবে- প্রশ্ন করেন তিনি।

মুনির হাসান বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশে ফেসবুক নিয়ে কোনও মাতামাতি নেই। সেখানে জনপ্রিয় হলো টুইটার। আমাদের দেশে ততটা নয়, কারণ আমরা কম কথায় কিছু বলতে পারি না। আমাদের রচনা লেখা ছাড়া কোনও উপায় নেই যেন। তিনি মনে করেন, যতদিন না আমরা নিজস্ব (স্থানীয়) কনটেন্টে সম্মৃদ্ধ হতে পারব ততদিন আমাদের ফেসবুক নির্ভরতা কমবে না।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মুস্তফা হোসেইন মনে করেন, যে বয়সে একজন মানুষ ফেসবুকটা ভালোভাবে জানতে এবং বুঝতে পারবেন, সেই বয়স থেকেই সে ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবে। তবে তিনি এ-ও মনে করেন, একজন শিক্ষার্থীর জন্য ফেসবুক ব্যবহারের আদর্শ সময় নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াকালে। এ সময় তারা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, পড়াশোনার বিষয়ে খোঁজ-খবর করবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বাবা-মায়েদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাদের সন্তানরা ফেসবুকে ক্ষতিকর কিছু করছে কি না—সেসব মনিটরিং করতে হবে। ছেলে বা মেয়ে চেয়েছে বলে ফেসবুক দিয়ে দিলাম, মোটেও তা হওয়া উচিত নয়।

একজন সরকারি চাকরিজীবী আবেদা সুলতানা বলেন, ফেসবুক পড়াশোনার ক্ষতি করে। তাই পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরই ফেসবুকে ঢোকা উচিত। বয়স বিবেচনায় ২৫ উপযুক্ত সময় বলে আমি মনে করি।

এদিকে, শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে ইউনিসেফ, টেলিনর গ্রুপ ও মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন একটি অভিভাবক গাইড প্রকাশ করেছে। গাইডটিতে শিশুদের সঙ্গে কিভাবে ইন্টারনেট নিয়ে কথা বলবেন সে বিষয়ে পরামর্শ এবং দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অভিভাবক গাইডটিতে ফেসবুক, ইউটিউব, স্যাট্টুলেট, আস্ক এফএম, ইন্সটাগ্রাম, টিনডার, ভক্সার, ইক ইয়াক, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট, ভাইন, কিক মেসেঞ্জার, শটস অব মি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন (বয়সসীমা সংক্রান্ত নিয়মাবলী দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা) থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার সন্তান সঠিক ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সঠিক ট্র্যাকে আছে কিনা তা-ও পর্যবেক্ষণ করা বলা হয়েছে। তারা শুধু প্রযুক্তিই ব্যবহার করে না, প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ কোনও জ্ঞান রাখে কি না—সে বিষয়েও বাবা-মাকে খোঁজ নিতে হবে। গাইডে দেওয়া হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে কারও সঙ্গে তর্ক করা, কোনও পোস্ট দেওয়া, সেই পোস্ট পরে ডিলিট করা, অনলাইনে গেম খেলার সময় কারও মৌখিক আক্রমণের শিকার হওয়া, কোনও কুৎসা রটানো, কাউকে ব্লক করা হয়েছে কি না–এই ধরনের প্রশ্ন করে উত্তর বের করে নিয়ে আলোচনা করলেই বেরিয়ে আসবে আপনার সন্তান অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছে কি না। কিভাবে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদে থাকা যায় সেসব কৌশলও গাইডটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দোহারে গ্রাম পুলিশের কম্বল বিতরণ

ঢাকার দোহার উপজেলায় গ্রাম পুলিশের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার। বৃহস্পতিবার দোহার থানা চত্বরে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ঢাকা জেলা পুলিশ আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন কেরানীগঞ্জ সার্কেল এ,এস,পি মিনহাজ উল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম, ওসি তদন্ত কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানা, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক,দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, উপ-পরিদর্শক (এস,আই) গণি, দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাশার চোকদারসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।