দোহারে পিএসসির পাশের হার ৯৯ শতাংশ

সারা দেশের মতো দোহারেও পিএসসিতে অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জন করেছে দোহারের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সারা দেশের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৪৫৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে মাত্র ২০ জন। জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী।

পিএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের জন্য সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও দুপুর বারটায় রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে দূর হয় সব উৎকণ্ঠা। সারা দোহারে ৪৫৮১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে পাশ করে ৪৫৬১ জন। মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী ফেল করে। ৪৫৬১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে জিপিএ ৫ অর্জন করেছে ৩৬০ জন শিক্ষার্থী। সেই সাথে এ গ্রেড লাভ করেছে ১৬৮৩ জন শিক্ষার্থী।

অসাধারন এই রেজাল্টকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও তাদের অভিভাবকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফল হিসাবে বর্ণনা করেছেন দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌসী সুলতানা।

নবাবগঞ্জে চোলাই মদ ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় রঞ্জু গমেজ (৩৫) নামে এক বাংলা মদ ব্যবসায়ীকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বুধবার রাতে ৫’শ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জামসহ তাকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাদির মিয়ার আদালত এ সাজা দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রঞ্জু গমেজ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের গোল্লা গ্রামের মুন গমেজের ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবুল বাসার জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোল্লা গ্রামের রঞ্জু গমেজের বাড়িতে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এসময় বাড়িতে থাকা ৫’শ লিটার চুলাই মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জয়কৃষ্ণপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক উদ্বোধন

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের ফলক উদ্বোধন করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে উপজেলার ঘোষাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ফলকের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ মো. আবুবকর সিদ্দিক (আবু)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন প্রজম্মকে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করতে হবে। তাহলেই একটি সুন্দর ও সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে।

জয়কৃষ্ণপুর ইউপি কমান্ডার হাতেম আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আ. মজিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবি সিদ্দিক মোল্লা, ফজলুল হক মোল্লা, আ. রহমান, মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, জামায়াত হোসেন, মো. মকবুল হোসেন খান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আলমগীর হোসেন প্রমূখ।

দোহারে হিরোইনসহ আটক ৩

দোহার উপজেলায় ৩০ পুরিয়া হেরোইনসহ ৩ যুবককে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যার পর দোহার উপজেলার ফুলতলা বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক কৃতরা সবাই দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। এরা হলেন, আছির উদ্দিনের ছেলে মো. শাহীন দেওয়ান, সোহাগ, জিল্লুর রহমান।

দোহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ হেরোইনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফুলতলি বাজারের রহিমের চায়ের দোকান থেকে শাহীনকে ১০ পুরিয়া, সোহাগকে ১১ পুরিয়া ও জিল্লুরকে ৯ পুরিয়া হেরোইনসহ আটক করা হয়।

নবাবগঞ্জে আন্তঃস্কুল বার্ষিক ক্রীড়া

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার উত্তর জোনের আন্তঃস্কুল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দিনব্যাপী এ খেলায় জোনের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৈলাইল ইউনিয়ন টেকনিক্যাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন খান। প্রধান অতিথি ছিলেন শোল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক ফজল।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষানুরাগী হিমাংশু কুমার চক্রবর্তী, নুরুল ইসলাম ইউসূফ, আলহাজ শাহেদ আলম, মো. কাউয়ুম, মো. নুরুল আমীন, ঝর্ণা রানী মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন শোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দিন, পাতিলঝাপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান। স্টাফ রিপোর্টার, নবাবগঞ্জ।

দোহার উপজেলা ছাত্রসমাজের নতুন কমিটি

রাজিব খানকে সভাপতি এবং জুবায়ের রহমান খানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে দোহার উপজেলার জাতীয় ছাত্রসমাজের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আলমগীর খন্দকারকে সহ-সভাপতি এবং রকিবুল ইসলাম রকিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে।

সোমবার পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এ কমিটি ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা ১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি।

নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি গঠিত

নারিশা ইউনিয়নে কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত হলো নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি। গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে ১০৪ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত করেন নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে। এই সময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন দোহার উপজেলা ও ঢাকা জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। মেঘুলা স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন সকাল ১১ টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়।

আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদের জন্য প্রার্থী ঘোষনা করেন দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ। এই সময় সভা পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমাসউদ্দিন(ভিপি আলমাস)। সাধারন সম্পাদক পদে সর্ব সম্মত ভাবে মাহবুব মাঝি নির্বাচিত হলেও সভাপতি পদ নিয়ে শেষ পর্যন্ত গোপন ব্যালটের সাহায্য নেয়া হয়। এসময় গোপন ব্যালটের ভোটের মাধ্যমে নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শাহাদাৎ হোসেন দ্বীপ। এই সময় নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোল্লা ও জেলা যুবলীগের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ।

নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল হক বেপারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ, ঢাকা জেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন দ্বরানী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোল্লা, নারিশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ডা: আবুল কালাম, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইকরামুল নবী ইমুসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা।

মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় জয়পাড়া কলেজের ছাত্র নিহত

ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র মোঃ সাগর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। রোববার সকালে দোহার-নবাবগঞ্জের সীমান্তস্থল বালেঙ্গা বাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর উপজেলায় বাহ্রা গ্রামের মো. শাহ আলমের ছেলে। সে জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্র ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সাগর রবিবার সকালে দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। বাঁধের বালেঙ্গা বাজার এলাকায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ব্যাটারি চালিত অটোকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। এসময় এলাকাবাসী তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় কার্তিকপুর বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য সাগরের বাবা শাহ আলম মাত্র ১০ দিন আগে সৌদি আরব থেকে এসে ছেলেকে হোন্ডা কিনে দেন। সাগরের এবার জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার কথা ছিল। এবং কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় সে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে।

জিমেইলের কিছু টিপস

0

জিমেইল ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা রেখেছে গুগল। ভুল করে কারও ঠিকানায় মেইল পাঠিয়ে ফেললে দ্রুততম সময়ে তা আবার ফেরত আনার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেকেই জিমেইল ব্যবহার করেন কিন্তু দরকারি কিছু ফিচারের কথা জানা থাকলে তা কাজে লাগাতে পারেন। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারের এক ভিডিওতে জিমেইলের কিছু ফিচারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

অনেকেই হয়তো মনের ভুলে বা তড়িঘড়ি করতে গিয়ে ভুল ঠিকানায় মেইলের সেন্ড বাটনে চাপ দিয়ে ফেলেন। কিন্তু এই সেন্ড মেসেজটি ফেরত আনার জন্য আপনি কিছুটা সময় হাতে রাখতে পারেন এমন সুযোগ দিয়ে রেখেছে গুগল। সেন্ড মেসেজ ‘আনডু’ করার জন্য আপনাকে একটি ফিচার চালু করে রাখতে হবে। অ্যাকাউন্টের ডান দিকের গিয়ার আইকনে ক্লিক করে সেটিংসে যেতে হবে। সেটিংস থেকে ‘ল্যাবস’ অপশনে গিয়ে স্ক্রল ডাউন করে ‘আনডু সেন্ড’ খুঁজে নিয়ে ‘এনাবল’ করে নিতে। এরপর থেকে মেইল পাঠানোর সময় আপনি একটি হলুদ রঙের পপ আপ বারে আনডু করার অপশনটি দেখতে পাবেন। তাই ভুল করে সেন্ড করে ফেললেও দ্রুত ফেরত আনতে পারবেন সেই মেইল।

ইমেইল সংরক্ষণ করে রাখাঃ

আপনার কাছে আসা মেইলের উত্তর পাঠানোর সময়ই তার একটা কপি সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। কীভাবে করবেন? সেটিংসে যান, সেখান থেকে ‘শো সেন্ড অ্যান্ড আর্কাইভ বাটন ইন রিপ্লে’ নির্বাচন করে দিন। এতে মেইলের উত্তর লেখার সময় তা সংরক্ষণ করে রাখার সুবিধাটি চালু হবে।

নতুন কম্পোজ উইন্ডো পছন্দ না হলেঃ

জিমেইল ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য এখন একটি ছোট আকারের কম্পোজ উইন্ডো চালু করেছে গুগল। কিন্তু এই উইন্ডো পছন্দ না হলে উইন্ডোজ পিসির জন্য কন্ট্রোল, ক্লিক ও ম্যাকের জন্য কমান্ড. ক্লিক করে বড় আকারের উইন্ডোজ খুলে নিতে পারেন।

একই ইমেইল বারবার পাঠাতে

একই মেইল যদি বারবার পাঠাতে হয়, তবে পুরো কাজটি সহজ করে দিতে পারে জিমেইলের ‘ক্যানড রেসপন্স ফিচার’।এটির জন্য গিয়ার আইকন থেকে সেটিংসের ল্যাবস সেকশনে ঢুকতে হবে। স্ক্রল ডাউন করে খুঁজে নিতে হবে ‘ক্যানড রেসপন্স’ ফিচারটি। এটি এনাবল করেই একই মেইল বারবার টাইপ করার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে।

কে হচ্ছেন দোহার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী? (পর্ব – ০১)

0

সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচন হলেও নানা জটিলতায় হচ্ছে না দোহারে। তবে দোহার পৌরসভায় শীঘ্রই কেটে যাচ্ছে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা। তাই যতই দিন যাচ্ছে ততোই ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে দোহার পৌরসভার মেয়র নির্বাচন। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন পিছিয়ে আজ ১৫ বছর ধরে একনায়কতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারীভাবে চলছে দোহার পৌরসভা। ‘ক’ তালিকাভুক্ত পৌরসভা হওয়া স্বত্বেও নেই তেমন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। এর কারণ পৌরসভার উপর একচ্ছত্রভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলছে দোহার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া।

আর অনেকেরই ধারণা সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতে যে মামলা আছে তার কারণও আব্দুর রহিম মিয়া। মামলা যিনি পরিচালনা করছেন তিনি পৌর বিএনপির-ই এক নেতা এবং আব্দুর রহিম মিয়ার আস্থাভাজন। তাই দোহার পৌরসভার মামলা শেষ হইয়াও হয় না শেষ। আর এভাবেই এক নির্বাচন দিয়ে ৩(তিন) নির্বাচনী মেয়াদ পার করলেন এই পৌর মেয়র। অথচ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রতি ৫(পাঁচ) বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের ধারা দৃঢ় করা হয়। অথচ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা মেয়র পদটি; কেননা এখানে অনেক বেশি জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়া যায়, এছাড়া টেন্ডার ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।

আর এই কারণেই সরকার হিসাবে ক্ষমতায় থাকলেও পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও  উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা সে ধারাবাহিকতায় দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিজেদের আয়েত্বে নিতে পারছেন না দোহার পৌরসভার মেয়র পদটি। একদিকে যেমন দোহার পৌরসভার উন্নয়ন কাজ যেমন থেমে আছে, তেমনি পৌরসভায় দেখা গেছে একনায়কতন্ত্র।

কিন্ত সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। দোহারে ব্যাক্তি উদ্যোগে বদলে গেলো অবকাঠামো। আর আ. রহিম চেয়ারম্যানের ছোয়ায় বদলে গেছে পৌরসভা গেট, নিজের ও ইঞ্জিনিয়ারের গাড়ী। তবে এবার মামলা সংক্রান্ত জটিলতা শেষ হয়ে আগামী মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে পারে দোহার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে দোহার পৌরসভার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা কর্মীরা।

ক্ষমতাসীন বিধায় দোহার পৌরবাসী ও দোহার উপজেলা বাসীর অনেকেরই আগ্রহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পর আওয়ামীলীগের প্রয়োজন পৌর মেয়রের পদটি। তবে পদটি নিয়ে আওয়ামীলীগে রয়েছে নানা হিসাব নিকাশ। বিভিন্ন নেতার প্রভাব বজায় রাখতেও দলে রয়েছে আভ্যন্তরীন প্রতিযোগীতা।  কিন্তু অনেক বেশী মনোনয়ন প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়েও আছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীরা নিজেরা নিজেদের মতো করে চালাচ্ছেন প্রচারণা। সবাই নিজের মনোনয়নের ব্যাপারে আছেন শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু দেখার বিষয় কে হচ্ছেন দোহার পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব খান, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলামাসউদ্দিন (ভিপি আলমাস), সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ, আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সালমান এফ রহমানের কাছের লোক বলে পরিচিত পীর শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জাহাজ ব্যবসায়ী আমির হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যের শিকি ছিঁড়বে সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নয় কেউ। সবাই আছেন মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত সালমান এফ রহমান যার দিকে ইঙ্গিত দিবেন সেই হচ্ছেন দোহার পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী।

দোহার পৌরসভা ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত হয়। জয়পাড়া ইউনিয়নকে দোহার পৌরসভায় পরিণত করে রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের কিছু অংশ কেটে নেয়া হয়। ফলে অনেকটা জোড়াতালির মতো করেই শুরু হয়েছিল দোহার পৌরসভার যাত্রা। এরপর রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের সাথে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার শুরু হয়। এই সীমানা সংক্রান্ত জটলতাকে কেন্দ্র করে আজ ১৫ বছর ধরে নির্বাচনবিহীন দোহার পৌরসভা। ফলে দোহার পৌরসভায় যেমন শুরু হয়েছে উন্নয়ন স্থবিরতা, তেমনি ভাবে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ।

দীর্ঘ ১৫ বছরের এই নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা খুব সম্ভবত কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হচ্ছে। ফলে দোহার পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ছে জনমনের আগ্রহ। সেই আগ্রহের সাথে সাথে গুঞ্জনও আছে সরকারে অধিঠিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে। প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করার সুযোগ কমে এসেছে অনেক। ফলে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য দোহার পৌরসভা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তাই যাদের কিছুদিন আগেও রাজনৈতিক মাঠে কম দেখা গিয়েছে তারাও এখন নিয়মিত অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে।

ইতিমধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিয়ে। ইতিমধ্যে দোহার পৌরসভা প্রার্থী হিসাবে অনেকেই শুরু করেছেন ব্যক্তি প্রচারনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ ও মারপ্যাচে বিভিন্ন আঙ্গিকে অনেকেই নিজের প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলছেন নিজের পরিচিত অঙ্গনে।

এর মধ্যে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল ও তার অনুসারীরা অনেকটাই নিশ্চিত দোহার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন। বিগত ২০১৩ সালে দোহার পৌরসভায় নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাবুল প্রার্থী হয়েছিলেন। এদিকে দোহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত গুজবটি হচ্ছে যে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল। কিন্তু ধানমন্ডির সালমান এফ রহমানের অফিস – বেল টাওয়ার বৈঠকে  উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হলে নজরুল ইসলাম বাবুল নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন; তখন তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র পদের জন্য। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হোচ্ছেন দোহার পৌরসভায়, রাজনৈতিক অঙ্গনে এর জোর গুঞ্জন। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে। সুতারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার। ফলে অভিজ্ঞতার হিসাবে তিনি মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন বেশ ভালভাবেই।

** ২য় পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকুন।