অ্যালকাটেল-লুসেন্ট কিনে নিয়েছে নোকিয়া  

ফরাসী টেলিকমিউনিকেশনস পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যালকাটেল-লুসেন্ট এর সিংহভাগ শেয়ার কিনে নিয়েছে নোকিয়া। ১৬৫০ কোটি ইউরো-এর বিনিময়ে অ্যালকাটেল-লুসেন্ট এর ৭৯ শতাংশ শেয়ার কিনে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ এখন থাকবে ফিনিশ মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির অধীনে। চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি একীভূত হবে ওই দুই টেলিকম পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

এক বিবৃতিতে নোকিয়া প্রধান রাজিব সুরি বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই দুই প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব আর আমাদের সমন্বিত পরিকল্পনা কার্যকর করবো।” চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে নোকিয়া।

অ্যালকাটেল-লুসেন্টের ৭৯ শতাংশ শেয়ার নোকিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসী শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ।

সুইডিশ মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসন আর চীনা মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে-এর বিপরীতে বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় একটি শক্ত অবস্থান নিতে অ্যালকাটেল কেনার ওই পদক্ষেপ নোকিয়াকে সহায়তা করবে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মালিকানা হাতবদলে সম্মতি দেয় ইউরোপিয়ান কমিশন।

নতুন ওই পদক্ষেপ নোকিয়ার মোবাইল ব্যবসাকে পুনরায় চাঙ্গা করে তুলতে সহযোগিতা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দোহার-নবাবগঞ্জে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে চলছে ব্যাডমিন্টন খেলা

শীত মওসুমের শুরু থেকে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার চলছে ব্যাডমিন্টন খেলা। সন্ধ্যার পর হতে মধ্য রাত পর্যন্ত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে এ খেলা চলে আসলেও নজর নেই ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষের। প্রতি রাতে এই দুই উপজেলায় শত শত স্পটে বাতি জ্বালিয়ে চালানো হচ্ছে এ খেলা।

বিদ্যুৎ এর অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত খেলায় দৈনিক আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এতে করে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুই উপজেলার পাড়া মহল্লার তরুণ যুবকসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে এ খেলা চলে আসছে। তারা সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটির মেইন তার থেকে হুক লাগিয়ে অবৈধ সংযোগ নিয়ে এ খেলার আয়োজন করে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাতি জ্বালিয়ে এ খেলা চলে। বিদ্যুৎ এর এ অপচয়ের ঘটনা প্রকাশ্য ঘটলেও তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নেই কোন তৎপরতা।

কতিপয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তার যোগসাজশে এ অবৈধ সংযোগে ব্যাডমিন্টন খেলার হিড়িক চলছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করেছি। এ ব্যাপারে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। যে সকল এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা চলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে যদি ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যোগসাজশ থাকে সে ব্যাপারটিও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ছবি: প্রতিকী

নবাবগঞ্জে মেছো বাঘের কামড়ে চাচা-ভাতিজা আহত

নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি মেছো বাঘের কামড়ে চাচা বজলু মৃধা (৪০) ও ভাতিজা রাসেল (২০) নামে ২ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গত শনিবার সকালে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুখণ্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাঘটি আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হকের বাড়িতে খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত বজলু মৃধা উপজেলা দক্ষিণ বালুখণ্ড গ্রামের চান্দু মৃধার ছেলে এবং রাসেল মৃধা একই গ্রামের আফসার মৃধার ছেলে।

আহত বজলু মৃধা জানান, এদিন সকালে দক্ষিণ বালুখণ্ড এলাকায় বজলু মৃধার বাড়ির ধানের গোলার স্থান পরিবর্তন করতে গেলে গোলার ভেতর বাঘটি দেখতে পান। এ সময় তিনি নিজে ও তার ভাতিজা রাসেল বাঘটি ধরতে গেলে দুজনকেই কামড় দেয় ওই বাঘ।  তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে বাঘটি আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হকের বাড়িতে দিয়ে আসে।

তিনি আরো জানান, সে ও তার ভাতিজা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক ফজল জানান, বাঘটি তার বাড়িতে লোহার খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। বাঘটির উচ্চতা পৌনে ২ ফুট ও ৪ ফুট লম্বা। কেউ বলছে এটি মেছো বাঘ কেউবা বলছে বন বিড়াল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিবুল আহসান জানান, উপজেলা বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হবে এবং সেটি সংগ্রহ করার মতো হলে চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে এনে চিড়িয়াখানায় পাঠানো হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নায়ারণ চন্দ্র সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

ভূমিকম্প: বাংলাদেশিদের প্রতি জুকারবার্গের সহানুভূতি

সোমবার ভোরে বাংলাদেশসহ ভারত ও মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ। তিনি তার ভেরিফায়েড পেইজে সোমবার দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

জুকারবার্গ লিখেছেন, ‘একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প উত্তর পূর্ব ভারতে আঘাত হেনেছে। এজন্য আমরা সেখানে সেফটি চেক অপশন চালু করেছি। যাতে মানুষ তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের জানাতে পারে যে তারা নিরাপদ আছেন।’

ভূমিকম্প: বাংলাদেশিদের প্রতি জুকারবার্গের সহানুভূতি

জুকারবার্গ তার স্ট্যাটাসে বাংলাদেশের কথাও উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘ভূকম্পনটি বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নেপালেও আঘাত হেনেছে। আপনি যদি এর কাছাকাছি কোনো এলাকায় থাকেন, আমরা আপনাকে একটি নটিফিকেশন বার্তা পাঠাবো যা দিয়ে আপনি সেফটি চেক শেয়ার করতে পারবেন। আপনি নিরাপদ আছেন জানার সাথে সাথে আপনি যাদের নিয়ে চিন্তা করেন তারাও নিরাপদ আছে তাও জানতে পারবেন এই অপশনে ‘

আক্রান্ত এলাকার লোকদের প্রতি সহানুভূতিশীল জানিয়ে জুকারবার্গ লিখেছেন, ‘আমি আশা করি আপনি এবং আপনার প্রিয় মানুষেরা নিরাপদে এবং সুস্থ থাকুক।’

জুকারবার্গ তার স্ট্যাটাসে সেফটি চেক চালু করার জন্য একটি লিংকও দিয়েছেন:  https://www.facebook.com/safet…/manipurearthquake-jan03-2016

পৌর মেয়রের কীর্তিনামা: লাইট খুলে অন্ধকারের পথে পৌরসভা

রুপকথায় অনেক গল্প হয়, সে-সব গল্পে আছে দৈত্য-দানবের কথা আবার আছে প্রজানিষ্ঠ শাসকের কথা। ঢাকা-১ আসন, দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা। আর দোহার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া পৌরসভা। সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রধান মাধ্যম স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মাধ্যম হচ্ছে পৌররসভা। একসময়ের জয়পাড়া ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া এখানকার পৌরপিতা। কিন্তু আব্দুর রহিম মিয়ার বিরুদ্ধে যখন জুতা-ঝাড়ু মিছিল হয়, পৌর অফিসে তিনি অবরুদ্ধ হন তখন রুপকথার অনেক খলনায়কের কথা মনে আসে জনসাধারণের মনে।

দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের অংশ নিয়ে ২০০০ সালে গঠিত হয় দোহার পৌরসভা। সে বছর ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছিল পৌরবাসী। গত ১৫ বছর পূর্বে নিবার্চন অনুষ্ঠিত হলেও এরই মাঝে কেটে গেছে এক যুগেরও অধিকাল। এলাকাবাসী আধুনিক যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবে বলে আশা করেছিল তার কিছুই পাচ্ছে না। সীমানা জটিলতা ও নামকরণ নিয়ে আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় আর কোনো নির্বাচনও হয় নি। এরই মধ্যে পৌরসভাটি ‘১ম শ্রেণী’তে উন্নীত হয়েছে। যদিও এই মামলার পিছনে বর্তমান পৌরমেয়রের হাত বলে অনেকের অভিযোগ।

পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার রাস্তাজুড়ে খানাখন্দে আর গর্তে ভরা। নেই প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাবলিক টয়লেট, সুপেয় পানির সরবরাহ ব্যবস্থায়, ট্রাফিক, পরিচ্ছন্ন কর্মীর স্বল্পতা, অভাব স্বাস্থ্যকর্মীর। ডোবা নালায় পঁচা পানিতে মশা মাছির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় শুধু করের বোঝা বহন করছে পৌরবাসী। কোন নাগরিক বা জন্মসনদ পেতে হলে অপেক্ষা করতে হয় পৌর মেয়রের মন-মর্জির। সড়ক বাতি থাকলেও  তা নিন্মমানের।

নিউজ৩৯ এর সরেজমিন পর্যবেক্ষণের পর পৌরফিস থেকে জানানো হয়,  ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে কর দাতার হার কম, তাই খুলে নিয়েছেন কোটি টাকা খরচ করে পৌরসভা থেকে লাগানো রাস্তার বাতি। শুধু কর আদায়ের হার কম বলে পৌরসভার এমন সিদ্ধান্তে হতবাক ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অথচ লাখ লাখ টাকা ব্যায়ে পৌরভবনের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পৌরসভার মনোরম গেট নির্মান করা হয়েছে। জনগণের অভিযোগ, পৌর মেয়রের নাগরিক সুযোগ সুবিধার বদলে এ কেমন আচরণ !!  একদিক যেমন কোটি টাকা খরচ করে বাতিগুলা লাগানো হয়েছে ঠিক তেমনি আবার এখন লাখ টাকা খরচ করে বাতিগুলো খুলে এনে পৌরসভার গুদামে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে। মাঝখান থেকে পৌরসভার নিয়ন আলোতে নিরাপদে চলার পথ এখন রাতের আধারে হয়ে পড়েছে বিপদজনক। ফলে পূর্বে কিছু দিন চোরের উৎপাত না থাকলেও এখন আবার শুরু হয়েছে চোরের উৎপাত আর মাদকসেবীদের স্বর্গ রাজ্য; এতে যত্র-তত্র ছিনতাই, রাহাজানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

কয়েকটি কোটি টাকা খরচ করে দোহার পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে লাগানো হয়েছিল নিয়ন বাতি। নিম্ন মানের বাতি লাগানোর কিছুদিন পরই কিছু বাতি বিকল হয়ে পরে। তারপরও যা ও ছিল তা কিছুদিন পরই খুলে নিয়ে আসে পৌরসভা। দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহীম মিয়ার বক্তব্য, এই সব ওয়ার্ডে কর আদায়ের হার কম, তাই পৌরসভার পক্ষে এই ওয়ার্ডের বাতির বিদ্যুৎ বিল দেয়া সম্ভব না। তাই পৌরসভা নিজ উদ্দ্যোগে বাতি খুলে এনেছে বলে জানান আব্দুর রহিম মিয়া। পৌরসভার ফান্ড কম বলে এই সব ওয়ার্ডের বাতি খুলে নেয়া হলেও ৪০ লাখ টাকা খরচ করে পৌরসভার গেট করা হচ্ছে যা আসলে জনগনের প্রত্যক্ষ কোন উপকারেই আসছে না।

পৌরসভার এই রাস্তার বাতি নিয়েও আছে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ। আর এই অভিযোগের বেশির ভাগ তীর গেছে পৌরসভা মেয়র আব্দুর রহীম মিয়া ও পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলীর দিকে। তাদের দিকে অভিযোগ তারা পৌরসভাকে পরিণত করেছে এক দুর্নীতির আড্ডা খানায়। কম দামে অতি নিম্ন মানের বাতি কিনে লাগানো হয়েছে। যা কয়েকদিন পরই নষ্ট হয়ে গেছে অনেক জায়গায়। নামে বাতি সারানোর কথা হলেও ১ থেকে ৬ নং ওয়ার্ডের অনেক জায়গারই সড়ক বাতি কোন কাজ করছে না। উল্টো এই সড়ক বাতির নামে ঐ এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমান অতিরিক্ত ট্যাক্স। ফলে সড়ক বাতি হয়ে দাড়িয়েছে গলায় কাটা। যার উপর ভিত্তি করে দোহার পৌরসভার ব্যাংকের একাউন্ট হচ্ছে ভারী, আর সুফল ভোগ করছে দোহার পৌরসভার হাতে গোনা কিছু মানুষ ।

পৌরসভার এই কার্যক্রম সম্পর্কে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোল্লা বলেন, জনগনের জন্য পৌরসভার কাজ করার কথা থাকলে কোন এক অদৃশ্য কারণে পৌরসভা কেন যেন ট্যাক্সের পিছনে ছুটছে। পৌরবাসীর প্রতিটি বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে কেটে নিচ্ছে ৩০ টাকা। কিন্তু এর সুবিধা তারা পাচ্ছে না। যা খুবই দুঃখজনক।

পৌরসভা একটা এলাকার উন্নয়নের ছায়া বয়ে নিয়ে আসলেও দোহার পৌরসভা এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। প্রতিনিয়তই পৌরসভা দ্বারা শোষিত হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ। যার আসল কোন প্রতিকার বর্তমান মেয়র আব্দুর রহিম সাহেবের নেই বলে মনে করেন এলাকার অধিকাংশ মানুষ। বয়সের ভারে নূজ্ব বর্তমান মেয়রের মেয়াদের অবসান হলে হয়তো আলোকিত হবে দোহার পৌরসভা অর্থাৎ পৌরসভার নিয়ন বাতি – এটাই মনে করেন অনেকে।

কুসুমহাটি ইউনিয়নে শীত বস্ত্র বিতরণ

গত শনিবার কুসুমহাটি ইউনিয়নে বাস্তা গ্রামে মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট এর উদ্যোগে মরহুম হাজী মোতালেব শিকদার ও মরহুমা আয়শা শিকদার স্মরনে প্রায় ৬শত গরীব ও অসহায়দের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন করা হয়। এসময় প্রত্যেকের হাতে শীতের চাঁদর তুলে দেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য জাফর ইকবাল লাভলু।

এ সময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ, সুরকার ও গীতিকার সেলিম আশরাফ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আনিসুর খান, দোহার উপজেলা প্রজন্মলীগের সভাপতি আব্দুল মালেক দোহারী, কুসুমহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু সাইদ, দোহার থানা তদন্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা, মৈনট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আনিসুর রহমান।

রাইপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী নয়নের ইন্তেকাল

ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও দোহার উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি শওকত আলী নয়ন (৫৯) আজ শনিবার সকাল ১১ টায় ঢাকার সদরঘাট এলাকার সুমনা হাসপাতলে হৃদরোগে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ও ইন্নাইলাহে রাজিউন)

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন রোগে ভুগতে ছিলেন। এর মাঝে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপের দিকে চলে গেলে তাকে ঢাকার সদরঘাটের সুমনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা উন্নতি না হয়ে ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। এবং আজ সকাল ১১টার দিকে তিনি সুমনা হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেন।

তার মৃত্যুতে রায়পাড়া ইউনিয়ন বাসীর মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপির সকল নেতা কর্মী তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

নবাবগঞ্জে ছাত্রদলের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিএনপি অফিসে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচলা সভার আয়োজন করা হয়।

রেজাউল হক চৌধুরী রুবেলের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান ইফতেখার আল-ফারুকী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আরেক যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আহমেদ খান, নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা রাশেদ কামাল,পবন মাহামুদ, মহিলা দলের নেত্রী বিলকিস চৌধুরী এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল, শাফায়েত খান,খলিলুর রহমান সহ আরও অনেকে।

কে হচ্ছেন দোহার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী? (পর্ব – ০২)

0

কে হচ্ছেন পৌরমেয়র পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ নিয়ে যেমন জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তেমনি নির্বাচনী হাওয়ায় ভেসে আসছে অনেক প্রার্থীর নাম; এদের প্রত্যকেই আবার রাজনৈতিকভাবে আছেন স্ব-স্ব শক্তিশালী পদে।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের অনেকেরই রাজনৈতিক গুরু, সাজ্জাদ হোসেন সুরুজও আছেন দোহার পৌরসভা আওয়ামী লীগের থেকে মনোনয়ন নেয়ার দৌড়ে। একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা হিসাবে সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে তার রয়েছে প্রচন্ড জনপ্রিয়তা। ব্যক্তি হিসাবে সৎ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের অধিকারী আপদমস্তক ভদ্রলোক সাজ্জাদ হোসেন সুরুজকেও অনেকে দেখতে চায় দোহার পৌরসভার মেয়র হিসাবে। নিজে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন ছাত্র বয়স থেকেই। তার বাবা সৈয়দ আহমেদ ছিলেন জয়পাড়া পাইলট স্কুলের শিক্ষক এবং আমৃত্যু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। আওয়ামীলীগের দুর্দিনে সৈয়দ আহমেদ ছিলেন দলীয় আনুগত্য, ঐক্য ও আশ্রয়ের প্রতীক। তার শিষ্যরাই আজ রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।  সেই হিসাবে সাজ্জাদ হোসেন সুরুজকেও দলীয় অনেক নেতা-কর্মি দেখতে চায় দোহার পৌরসভার মেয়র পদে। ইতিমধ্যে সাজ্জাদ হোসেন সুরুজের পরিচিত অনেকেই তার হয়ে বিভিন্ন রকমের প্রচারনা শুরু করেছেন। অনলাইনেও শুরু হয়েছে সাজ্জাদ হোসেনের সুরুজের প্রচারনা।

দোহার পৌরসভা মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে গুজব রয়েছে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের ছোট ভাই মোতালেব খান। দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রচন্ড ভাবে আলোচিত – সমালোচিত এই বর্ষিয়ান নেতা মনোনয়ন পাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান অনেক নেতাই। ইতিমধ্যে পৌরসভা ড্রেনেজ ব্যবস্থার টেন্ডার পেয়েছেন তিনি এবং কাজও চলছে পুরোদমে। তার ভাই আব্দুল মান্নান খান মন্ত্রী থাকাকালিন সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মোতালেব খান ছিলেন প্রচন্ড ভাবে সমালোচিত। মোতালেব খান মনোনয়ন পাবেন কিনা সময়ই তা বলে দিবে।

মনোনয়নের দৌড়ে আছেন দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় (ডিগ্রী) কলেজের শেষ নির্বাচিত ভিপি আলমাস উদ্দিন। এক সময়ের ছাত্র রাজনীতির অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মানুষটি এগিয়ে আছে প্রচারণার দৌড়েও। পৌর নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তার পোস্টার ও স্টিকার দেখা যাচ্ছে। দোহারে কোন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জিততে পারে তা যেন ভুলেই গিয়েছিল দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মিরা। ১৯৯৬ সালে জয়পাড়া কলেজ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে ভিপি, জিএস, এজিএস পদের ৩টি পদেই জয়লাভ করে দোহার ছাত্রলীগ। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও বন্ধুত্ব-সুলভ আচরণে তিনি সাধারণের কাছেও অনেক পরিচিত। এছাড়া একবার আওয়ামীলীগ থেকে ভিপি আলমাস, মোতালেব খান ও দেওয়ান মোশাররফ মুসা বহিষ্কৃত হলেও কোনদিন দল ছেড়ে যাননি তিনি। দলের প্রতি আনুগত্য তাকে নিয়ে গিয়েছে যুবলীগের সভাপতি পদে।

এছাড়া ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দল ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই নেতা জেল খেটেছেন কিন্তু তবুও রাজনীতির রাজপথ ছেড়ে তিনি যাননি। এবার তিনি লড়তে চান পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিট নিয়ে। নিউজ৩৯কে ভিপি আলমাস উদ্দীন জানিয়েছেন, তাকে দল মনোনয়ন দিলে তিনি শতভাগ নিশ্চিত বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে। নির্বাচনী উদাহরণের কথা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি ছিলেন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগের একমাত্র ব্যক্তি ; এছাড়া তিনি ইতিমধ্যে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনেও জয়লাভ করে বর্তমানে স্কুলটির পরিচালনা পর্ষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য। তাই সর্বদা সাধারণ মানুষের সাথে রয়েছে তার মেলামেশা। দল মনোনয়ন তাকে দিবে এবং পৌরমেয়র পদে তিনি জয়লাভ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভিপি আলমাস।

এছাড়া ১৯৯৬ সালে জয়পাড়া কলেজ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত জিএস ও দোহার উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ  নিউজ৩৯ এর কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দোহার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা। দোহার উপজেলা যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় এই নেতাও চাইছেন দোহার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। সম্পূর্ণ দলীয় শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী ও সজ্জন এই যুবলীগ নেতা আওয়ামী লীগের কাছে চাইবেন তার মনোনয়ন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না এটাও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, তিনি আশা করেন যখন আওয়ামী লীগের একটা অংশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই হারানোর জন্য জাতীয় পার্টির সাথে হাত মিলিয়েছিল সেই সময়ও তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাথেই। আর তার সেই সময়ে দলের প্রতি আনুগত্য দল এবার মূল্যায়ন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এছাড়া ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জয়পাড়া কলেজে ছাত্রলীগের ঘাটি স্থাপন করেছিলেন বলেও তিনি জানান। এলাকায় বয়ঃ- বৃদ্ধদের কাছের লোক হিসাবে পরিচিত আব্দুর রহমান আকন্দ জানান তিনি আশা করেন, দল মনোনয়ন দিলে প্রথমবারের মতো পৌরমেয়র পদটি আওয়ামীলীগ সভানেত্রীকে উপহার দিলেন।

অপেক্ষায় থাকুন, নিউজ৩৯ পড়ুন, এবার আসছে ৩য় পর্ব …………

চাঁদে অবতরণ ছিল সিনেমা, দৃশ্য ধারণ করেছি আমি: স্ট্যানলি কুবরেক

0

মার্কিনীদের চাঁদে অবতরণ ইস্যুতে আমেরিকার বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিকের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে নতুনকরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, মার্কিনীদের চাঁদে অবতরণের পুরো ঘটনা ছিল সিনেমা। তিনি নিজেই ওইসব দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। তার মতে, সিনেমার স্ক্রিপ্টের মতো করে ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল।

চলচ্চিত্র নির্মাতা টি. প্যাট্রিক মিউরে সম্প্রতি ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছেন। প্যাট্রিক মিউরে দাবি করেছেন, ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর তিন দিন আগে স্ট্যানলি কুবরিক তাকে এ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন। কিন্তু এতদিন তিনি তা প্রকাশ করেননি।

তবে স্ট্যানলি কুবরিকের স্ত্রী ক্রিস্টিনা কুবরিক বলেছেন, তার স্বামীর সাক্ষাৎকারটি বানোয়াট। তিনি এ ধরনের কোনো সাক্ষাৎকার দেন নি বলে দাবি করেছেন ক্রিস্টিনা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৯ সালে চাঁদে মানুষ পাঠানোর দাবি করে। কিন্তু বিশ্বের বহু বিজ্ঞানীই যুগে যুগে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।  তাদের মতে, নাসার মাধ্যমে আমেরিকার চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঘটনাটি ছিল শুধুই সাজানো নাটক।

উন্নত বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা চাঁদে যাওয়ার এই নাটকের শুটিং করা হয়েছিল দুর্গম কোনো মরু অঞ্চলে, যেখানে নাটক সাজালে কেউ বুঝতে পারবে না। হলিউডে মার্কিন পরিচালকরা এত অবিশ্বাস্য সব সিনেমা তৈরি করে থাকেন যে তাদের পক্ষে এরকম একটি চন্দ্র বিজয়ের শুটিং করা খুবই সহজ ব্যাপার। কিছু কিছু বিজ্ঞানী এই চন্দ্র বিজয় নাটকের পরিচালকের বলেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, এই মিথ্যা কাহিনীর পরিচালক ছিলেন বিখ্যাত মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক। এবার সেই কুবরিকের সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুনকরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা নাসার সমালোচনা করে বলেন,১৯৬৯ সালে নাসার এমন কোনো উন্নত প্রযুক্তি ছিল না যা দিয়ে মানুষ চাঁদে গমন করতে পারে। এপোলো-১১ নামের মহাকাশ যানটি ছিল সাজানো নাটকের অংশ। মানুষ সত্যিই চাঁদে গেছে নাকি এটা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতারণা সেটা আরো বেশি ঘনীভূত হয় মার্কিন রকেট প্রযুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা বিল কেসিংয়ের বক্তব্যের পর। ১৯৭৪ সালে তিনি একটি বই লেখেন ‘আমেরিকার ৩০ বিলিয়ন ডলারের জোচ্চুরি’ শিরোনামে। এই গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন আমরা কখনই চাঁদে যাইনি। চাঁদে যাওয়ার বিষয়টি ছিল বিশ্ববাসীর সঙ্গে প্রতারণা।

তিনি আরো উল্লেখ করেন এপোলো-১১ মহাকাশ যানটি উৎক্ষেপণের কিছু সময় পর যানটি অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপর তিন নভোচারী বিশিষ্ট লুনার ক্যাপসুলটি একটি সামরিক কার্গো বিমানে সরিয়ে ফেলা হয় এবং আট দিন পর ক্যাপসুলটি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলে দেয়া হয়। তারপর নভোচারীদের নিয়ে নেভাদার মরুভূমিতে কঠোর সামরিক প্রহরার মধ্য দিয়ে চন্দ্র বিজয়ের নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়।

মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করার পর সেখানে তাদের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও তোলা হয় এবং চন্দ্র থেকে তারা কয়েকটি পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এই ছবি,ভিডিও ও পাথরগুলো তাদের সত্যিকারের চাঁদে যাওয়ার প্রমাণ বহন করে।

যারা চাঁদে মানুষ অবতরণকে সাজানো নাটক বলে মনে করেন, তারা এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে বেশ কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। পৃথিবী থেকে আমরা রাতের আকাশে নক্ষত্র বা তারকা দেখতে পাই সুতরাং চাঁদের রাতের আকাশে তারকাগুলোকে আরো উজ্জ্বল দেখানোর কথা। কিন্তু নভোচারীরা চাঁদে গিয়ে যে ছবিগুলো তুলেছেন তাতে কোনো ছবিতে চাঁদের আকাশে তারকা দেখা যাচ্ছে না। চাঁদ থেকে ফেরার পর মহাকাশচারীরা বলেছিলেন সেখানে কোনো অক্সিজেন বা বাতাস নেই ফলে সেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় এক মিনিটও বাঁচা সম্ভব নয়। কিন্তু চাঁদে থাকতে মহাকাশচারীদের যে ছবি তোলা হয়েছিল তাতে দেখা যায় চাঁদে তাদের পুঁতে রাখা মার্কিন পতাকা বাতাসে উড়ছে। তাহলে চাঁদে বাতাস না থাকলে তাদের পতাকা বাতাসে উড়ছিল কীভাবে। সেটা কি তাহলে পৃথিবীর বাতাস ছিল!

ছবিতে দেখা যায় নভোচারীরা যেখানে অবতরণ করেছিলেন সেখানে পাশাপাশি বস্তুগুলোর ছায়া পরস্পরকে ছেদ করেছে এবং বিভিন্ন বস্তুর ছায়া বিভিন্ন দিকে গেছে। কিন্তু চাঁদে শুধু আলোর উৎস সূর্য হয়ে থাকলে বস্তুর ছায়া পরস্পরকে ছেদ না করে সমান্তরাল হওয়ার কথা। তাহলে কি সেখানে শুটিং করার সময় কৃত্রিম আলো ব্যবহার করা হয়েছিল! মানব ইতিহাসে চন্দ্র বিজয় ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা তারপরও এই অভিযানের টেলিমেট্রি ডাটা পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশ্য নাসা বলেছিল এই ডাটা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।

কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ডাটা তাদের কাছ থেকে কীভাবে হারিয়ে যায় সেটা একটি প্রশ্নের বিষয়। এ সব বিষয়গুলো ছাড়াও ছোটখাটো অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন লুকিয়ে আছে চন্দ্র বিজয় কাহিনীতে। চন্দ্র বিজয় কর্মকাণ্ডে জড়িত নভোচারীদের মধ্য থেকে গাস গ্রিসাম নামের এক নভোচারী চন্দ্র জয়ের পর নিহত হন। অনেকের ধারণা, তিনি আমেরিকার ওই প্রতারণার কথা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তাই তাকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছিল। চন্দ্র জয় প্রসঙ্গে এ ধরনের আরও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে যেগুলোর যৌক্তিক জবাব এখনও দিতে পারে নি আমেরিকা।