নবাবগঞ্জে ভোট গ্রহন সম্পন্ন

বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠভাবেই সম্পন্ন হয়েছে নবাবগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট গ্রহন বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্রহন করা হয়। এই সময় হঠাৎ বৃষ্টির কারনে কিছুটা ছন্দ পতন হয় ভোট গ্রহনে।

যদিও ভোট গ্রহনের শুরুতে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট গ্রহনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আসঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটে নি। সকালে বারুয়াখালি ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বারুয়াখালি ইউনিয়নের ৭ নং বারুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ করেন। এছাড়া আর কোথাও তেমন কোন অভিযোগ করেন নি প্রার্থীরা।

এর আগে বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি সমর্থিক প্রার্থী এরশাদ আল মামুন ভোট বর্জন করলে অনেকটা সহজ হয়ে যায় আওয়ামী লীগ মনোনিত আব্দুল ওয়াদুদ এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া। তারপরও ভোট হয়েছে বক্সনগর ইউনিয়নে। কিন্তু ভোটার উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। এছাড়া ভোটকে কেন্দ্র করে যেকোন অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর ছিল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।নবাবগঞ্জের রাস্তায় রাস্তায় তাদের টহল ছিল চোখে পড়ার মতো।

বারুয়াখালিতে রাতে নৌকার পক্ষে সীল মারার অভিযোগ

শুরু হয়েছে চতুর্থ দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সারা দেশে ৭০৩ টি ইউনিয়নের মতো নবাবগঞ্জেও শুরু হয়েছে নির্বাচন। এরই মাঝে প্রিজাইডিং অফিসারের সহায়তায় বারুয়াখালিতে রাতে নৌকার পক্ষে সীল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বারুয়াখালী ইউনিয়নের ৭নং বারুয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাতে নৌকার পক্ষে ২০০ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী ও আনারস প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজ৩৯ এর কাছে অভিযোগ করেন, নৌকা সামর্থক আরিফ রাতে প্রিজাইডিং অফিসারের সহায়তায় নৌকার পক্ষে ২০০ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরেন। এই সময় তিনি এলাকাবাসী ও অন্যান্য প্রার্থীর উপস্থিতি টের পেয়ে কেটে পড়েন।

যদিও বারুয়াখালি ৭নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নবাবগঞ্জে লাঙল নিয়ে লড়ছেন দুই নারী

নবাবগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন জাতীয় পার্টির দুই নারী প্রার্থী। এরা হলেন- জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক ১৩ নম্বর গালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শিল্পী ইসলাম এবং ১৪ নম্বর চুড়াইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসমা আক্তার রুমি। ইউপি নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে শনিবার এ দুটি ইউনিয়নেও ভোট হবে।

শিল্পী ইসলাম বলেন, “জনগণের চাওয়া ও ভালোবাসার জন্যই নির্বাচনে এসেছি। তাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি।“আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নের সব ধরনের উন্নতিসহ নারীদের সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেব। কারণ নারীরা পুরুষের কাছে গিয়ে সব সময় তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারে না।”

নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে শিল্পী ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুর রহমান ভূইয়া (নৌকা), বিএনপির তপন মোল্লা (ধানের শীষ) এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমান বেপারী।

অপরদিকে চুড়াইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আসমা আক্তার রুমি বলেন, ইউনিয়নবাসীর উন্নয়নের জন্য তাদের চাওয়াতেই নির্বাচনে এসেছেন তিনি। “নারী প্রার্থী পেয়ে ভোটাররাও অনেকটা উৎফুল্ল। বিশেষ করে নারী ভোটাররা।” সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা আসমার।

ভোটারদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “ইউনিয়নবাসী ও সাধারণ ভোটাররা আমার পাশে আছেন।তারা আমাকে ভোট দিবে বলেও আশস্ত করেছেন। আর আমি জয়ী হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নসহ নারীদের সমস্যা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করব।”

এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আসমা আক্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন- আওয়ামী লীগের হাজী আব্দুল জলিল (নৌকা), বিএনপির হাজী ইউসুফ আলী খান (ধানের শীষ) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাইদ।

নবাবগঞ্জে ১৪৩ কেন্দ্রের ৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ

৭ মে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪টি ইউনিয়নে ১৪৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৯২টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। উপজেলা সদরের সংলগ্ন ইউনিয়নগুলো ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবগুলা কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ।

জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অভিযোগ, কৈলাইলের দড়িকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাড়াগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, দিগনারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেলেং উচ্চ বিদ্যালয় ও মাতাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

পার্শ্ববর্তী উপজেলা কেরানীগঞ্জের সীমান্ত কালিগঙ্গা নদীর পাড় দিয়ে এসব কেন্দ্রে বহিরাগতরা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

চরভদ্রাসন উপজেলায় চরঝাউকান্দায় ভাই ভাই লড়াই

৭ মে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিশোধ নির্বাচনে ভাই ভাই লড়াই। চেয়ারম্যান পদে আপন দুই চাচাতো ভাইয়ের নির্বাচনী লড়াই বেশ জমে উঠেছে। প্রতিদিনই দুই ভাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি ছুটে যাচ্ছেন ভোটের জন্য।  চাচাতো দুই ভাইয়ের লড়াইয়ে ইউনিয়নের ভোটারদের মাঝে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চরঝাউকান্দা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মো:ফরহাদ হোসেন মৃধা।

আর অপর দিকে লড়ছেন তারই আপন চাচাতো ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনারস মার্কা প্রতীক  নিয়ে মো: বজলু মৃধা। গত দুই দুই বার মো:ফরহাদ হোসেন মৃধা, বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে বজলু মৃধার এটি প্রথম নির্বাচন। তবে প্রথমে তার ছেলে বদু মৃধার চরঝাউকান্দায়  নির্বাচন করার কথা ছিলো। তবে এলাকায় সমাজসেবক হিসেবে নাম রয়েছে বজলু মৃধার।

দুই ভাইয়ের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপাকে পড়েছে তাদের আত্মীয়স্বজনরা।  কাকে রেখে কাকে ভোট দেবেন, কার প্রচারণায় অংশ নেবেন এ নিয়ে ঝামেলায় পড়েছেন তাদের নিকটাত্মীয়রা। দীর্ঘ দিন ধরে  চরঝাউকান্দা  ইউনিয়নে নির্বাচন করে আচ্ছে মৃধা পরিবার।  এই ইউনিয়নে মৃধা পরিবার থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো: ইদ্রিস আলী  মৃধা একটানা ৭ বার চেয়ারম্যান, মোজ্জেম মৃধা ১বার চেয়ারম্যান, হুকুমআলী চোকদার ১বার, মো:ফরহাদ হোসেন মৃধা ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নিশ্চিত বিজয়ের পথে বক্সনগর ইউনিয়নের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া

নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বক্সনগর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ আল মামুন নির্বাচন থেকে নিজেকে সড়িয়ে নেয়ার ফলে অনেকটা বিনা প্রতিদন্দিতায় নির্বাচনে জয়লাভ করলেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া। জাতীয় পার্টির মুরাদ মিয়া ,এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মোঃ সের আলী নির্বাচনে নিজেদেরকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদের লড়াইটা পরিনত হয় এরশাদ আল মামুন ও আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার। কিন্তু এরশাদ আল মামুন নিজেকে নির্বাচন থেকে গুটিয়ে নিলে অনেকটা অঘোষিত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে নিজের আশংকার কথা জানিয়ে গতকাল নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ানোর কথা জানান এরশাদ আল মামুন। বক্সনগরের জনপ্রিয় টানা ২ বারের চেয়ারম্যান এরশাদ আল মামুন বিগত ইউনিয়ন নির্বাচনের ফলাফল ও সুষ্ঠ ভোট গ্রহনের কোন লক্ষন নেই উল্রেখ করে নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

এদিকে বক্সনগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া জানান “আমার জনসমর্থের জোয়ার দেখে তিনি তার পরাজয় নিশ্চিত জানতে পেরে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন। তার কোন অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে নেই। তিনি কেবল মাত্র বয়কটের কৌশল এবং অজুহাত দেখালেন।

উদ্ভোধনের অপেক্ষায় নুরনগর মুন্সিনগর ব্রিজ

উদ্ভোধনের অপেক্ষায় বারুয়াখালি ইউনিয়নের মানুষের স্বপ্নের নুরনগর মুন্সিনগর ব্রিজ। সব কাজ সম্পন্ন হয়ে এখন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ব্রীজটি।

ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে ব্রীজের সিংহভাগ কাজ। এখন শুধু রং আর চলাচলের জন্য উন্মোক্ত করে দেয়া বাকি। মে মাসের যেকোন এক দিনে উদ্ভোধন করা হবে বারুয়াখালী ইউনিয়নের মানুষের প্রাণের দাবি এই ব্রীজটি।  এই ব্রিজটির উদ্ভোধনের সাথে নবাবগঞ্জের পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সুগম হবে তেমনি মানিকগঞ্জের সাখেও যোগাযোগ বাড়বে এই উপজেলা বাসীর।

যন্ত্রাইলে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন আ.লীগের ৪ নেতা

নবাবগঞ্জের যন্ত্রাইলে বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী বারেকুর রহমান বারেকের সমর্থনে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের চার নেতা। এমনি অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আগামী ৭মে চতুর্থ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যন্ত্রাইল ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নন্দলাল সিং, বিএনপি প্রার্থী সেন্টু মোল্লা ও বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা বিএনপি নেতা বারেকুর রহমান বারেক, স্বতন্ত্র প্রার্থী আকুল বেপারী।

সূত্র জানায়, এ ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বারেকুর রহমান বারেকের হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও যন্ত্রাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, যন্ত্রাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম মৃধা গিনি, সহ-সভাপতি স্বপন হালদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। তারা বারেকুর রহমান বারেকের হয়ে সরাসরি ভোট চাইছেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা অভিযোগ করছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদ, যন্ত্রাইল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হালদার অভিযোগ করে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা এক বিএনপি নেতার এজেণ্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী মাঠে তারা সরাসরি সভা, গণসংযোগ করছেন। বিষয়টি দলের উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে। তারা উচ্চ পর্যায়ে জানাবেন বলে শুনেছি।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে নেতাকর্মীরা বলেন, নির্বাচন প্রচার চালাকালে ঐ বিএনপি নেতার পক্ষে গোবিন্দপুর রথখোলা, চন্দ্রখোলা কালি মন্দির প্রাঙ্গন ও নলগোড়া মাঠে তাদের সভা করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এস এম মৃধা গিনি ও হাবিবুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করেন।

স্বপন হালদার বলেন, তৃণমূল উপেক্ষা করে প্রকৃত আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেয়া অন্য প্রার্থীর হয়ে কাজ করছি।

আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, দলের ক্রান্তিকালে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও দল ছাড়িনি। কিন্তু জীবনে জয়বাংলা বলেনি এমন একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলের কর্মী হিসেবে আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই এলাকাবাসীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে কাজ করছি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ওই নেতাদের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে দলীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনার দুই সূরা

পবিত্র কোরআনে কারিমের শেষের দু’টি সূরাকে মুআউবিয়াতায়ন বলে। এ দুই সূরার একটির নাম সূরা ফালাক এবং অন্যটির নাম সূরা নাস। উভয় সূরা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। ফালাক ১১৩ নম্বর সূরা, আয়াত ৫টি, রুকু ১টি আর সূরা নাসের আয়াত ৬টি, রুকু ১টি। এই দুই সূরার মাধ্যমে কোরআন শরিফ শেষ করা হয়েছে।

এই দুই সূরার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। অর্থা‍ৎ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। আর আল্লাহতায়ালা এই দুই সূরার মাঝে সব অনিষ্ট থেকে হেফাজতের অসীম শক্তি ও প্রভাব রেখেছেন এবং বিভিন্ন হাদিসে এ সূরার ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে কিছু ফজিলত উল্লেখ করা হলো।

এক. হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানা নেই আজ রাতে আমার ওপর যে আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে এগুলোর মতো কোনো আয়াত দেখাও যায়নি এবং শোনাও যায়নি। আর তা হলো কুল আয়ুজু বি রাব্বিল ফালাক ও কুল আয়ুজু বি রাব্বিন নাস। -সহি মুসলিম হাদিস নং-৮১৪

দুই. হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনির পেছনে চলছিলাম, তিনি আমাকে বললেন, হে উকবা: আমি কি তোমাকে পঠিত দু’টি উত্তম সূরা শিখাব না, ফলে তিনি আমাকে শিখালেন কুল আয়ুজু বি রাব্বিল ফালাক ও কুল আয়ুজু বি রাব্বিন নাস। আমার মনে নেই, এ দু’টি সূরা কত বেশি আমাকে আনন্দ দিয়েছে। -আবু দাউদ হাদিস নং-১৪৬২

তিন. হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে জাবের তুমি পড়। আমি বললাম আমার মাতাপিতা আপনার জন্য কোরবান হোক, আমি কি পড়ব। তিনি বললেন, তুমি পড় কুল আয়ুজু বি রাব্বিল ফালাক ও কুল আয়ুজু বি রাব্বিন নাস। ফলে আমি সূরা দু’টি পড়লাম অতঃপর তিনি বললেন, এই দুই সূরা পড়তে থাকবে (কারণ) এই দুই সূরার মতো (অন্য সূরা) সহজে পড়তে পারবে না।- সুনানে নাসাঈ ৮/২৫৪ ও সহি ইবনে হিববান, হাদিস নং-৭৯৬

চার. হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি সূরা ইউসুফ, সূরা হুদ পড়ি। তিনি বললেন হে উকবা! তুমি কুল আয়ুজু বি রাব্বিল ফালাক পড়। কেননা আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দ ও পৌঁছার ক্ষেত্রে সহজ অন্য কোনো সূরা পড়ার মধ্যে নেই। যদি সম্ভব হয় তাহলে তোমার থেকে এটা ছুটে না যায়। সুতরাং তুমি এটা পড়তে থাকবে। -মুসতাদরাকে হাকেম ১/৫৪০

পাঁচ. হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত এক সঙ্গে মিলাতেন। তারপর উভয় হাতে ফুঁক দিতেন এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়তেন। তারপর দেহের যতটুকু অংশ সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন। -সহি বুখারি ৫০১৭, সুনানে আবু দাউদ : ৫০৫৮, জামে তিরমিজি, হাদিস নং-৩৪০২

ছয়. হজরত উকবা ইবনে আমের জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার ওপর কিছু আয়াত নাজিল হয়েছে, যা আমি এর মতো অনুরূপ দেখিনি। কুল আয়ুজু বি রাব্বিল ফালাক ও কুল আয়ুজু বি রাব্বিন নাস। -জামে তিরমিজি, হাদিস নং-২৯০২

নয়নশ্রীতে আ’লীগের নির্বাচনী সভায় তরুণের মৃত্যু

নবাবগঞ্জের নয়নশ্রীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পলাশ চৌধুরীর নির্বাচনী জনসভার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার সময় সজীব রাজবংশী ঝন্টু (২০) নামে এক ডেকোরেটর কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পাশের একটি বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ঝন্টু নয়নশ্রী গ্রামের সনাতন রাজবংশীর ছেলে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এবারের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পলাশ চৌধুরী জানান, সন্ধ্যায় নয়নশ্রী ইউনিয়নের পঞ্চমন্দিরের কাছে তার নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে ডেকোরেটর কর্মচারী ঝন্টু পাশের একটি বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় পলাশ চৌধুরী জনসভা বাতিল করে নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর জন্য জান।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে থানায় জানানো হয়নি। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।