নবাবগঞ্জের হরিস্কুল গ্রামে বিয়ের ৫মাস না পেরুতেই স্বামীর পরকিয়ার বলি হলো দীপা মন্ডল (১৯) নামে এ গৃহবধূ। ঘটনার ১৬দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযোগই নেয়নি থানা পুলিশ। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার দাবী দীপা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও ভাষুর পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, গত ৫মাস আগে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিস্কুল গ্রামের সুরেন্দ্র মন্ডলের ছেলে বিকাশ মন্ডলের সাথে নয়নশ্রী ইউনিয়নের সাপলেজা গ্রামের অবিনাশ বিশ্বাসের মেয়ে দীপা বিশ্বাসের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩বছর আগে থেকে বিকাশের সাথে চরখলশি গ্রামের একটি মেয়ের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও বিকাশ সম্পর্কটি অঁটুট রাখে। দীপা পরকিয়ার বিষয়টি জানার পর থেকে প্রায়ই দু’জনের মধ্যে মন মালিন্য হতো। ৭মে সন্ধ্যায় হরিস্কুল হরিসভা মন্ডপের সামনে দীপার নিথর দেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। এসময় লাশের সাথে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন ছিল। তাদের দাবী দীপা গলায় কাপড় দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। পরে তারা অবস্থা বেগতি দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দীপার বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ৮মে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে করা হয়। এদিকে, ঘটনার ১৬দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযোগই নেয়নি থানা পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দীপার স্বামী ও ভাষুর পলাতক রয়েছে। দীপার বড় ভাই জুয়েল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, ওঁরা পরিকল্পিতবাবে দীপাকে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনার দিন দীপার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ীকে আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের ছেড়ে দিয়েছে। জিজ্ঞাসা করলে পুলিশের এক দারোগা আমাদের সাথে অসদাচরণ করে তাঁড়িয়ে দেয়। বেশ কয়েকদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার চেষ্টার করা হলেও পুলিশ আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না। দীপার শ্বশুড় সুরেন্দ্র মন্ডল জানান, ৭মে ইউপি নির্বাচন ছিল। ঐ দিন তিনি ও তার ছেলের সাথে বৌ বাড়িতে ছিলেন। ছেলের সাথে কি হয়েছে সেটা তিনি জানেন না। তিনি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে একাই মাটিতে নামিয়েছেন। তবে প্রতিবেশী কাউকে ডাকেননি কেন এ প্রশ্ন উত্তর তিনি এড়িয়ে যান। নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্তকারী কর্মকর্তা) মো. বাছির উদ্দিন বলেন, এটি একটি পরিস্কার আত্মহত্যার ঘটনা। তাই তিনি অভিযোগ নেননি। নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, এবিষয়ে থানায় ইউডি মামলা রজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।
টাইটানিকের চেয়ে ৫ গুণ বড় প্রমোদতরী নামছে সমুদ্রযাত্রায়
টাইটানিকের চেয়ে পাঁচগুন বড় এক প্রমোদতরী নামছে সমুদ্রযাত্রায়। রোববার, ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে শুরু হবে যাত্রা। ১৬ তলা উঁচু আর ৩৬২ মিটার দীর্ঘ জাহাজটির নাম হারমোনি অফ দ্যা সিস। মার্কিন প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের জন্য, এই প্রমোদতরী নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান এসটিএক্স।
বিলাসবহুল প্রমোদতরী মানেই টাইটানিক। ১৯১২ সালে সাগরে পাড়ি জামনো জাহাজটির পরিণতি সুখকর না হলেও এখনো বিশ্বের বড় জাহাজ বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে টাইটানিকের ছবি।
এবার সেই টাইটানিকের চেয়ে ৫ গুণ বড় জাহাজ নিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্রের রয়্যাল ক্যারিবিয়ান প্রতিষ্ঠান। যার নাম হল হারমোনি অব দা সিস। এর ১৬টি তলায় একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবে ছয় হাজার যাত্রী। তাদের সেবা দিতে জাহাজে থাকবে দুই হাজার ক্রু।
আইফেল টাওয়ার দেখতে প্যারিসে আনাগোনা চলে সারা বছর। সেই আইফেল টাওয়ারের চেয়েও এই জাহাজের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার বেশি। লম্বায় ৩৬২ মিটার আর উচ্চতা ৭০ মিটার। নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১০ কোটি ডলার।
রোপ স্লাইড, মিনি গল্ফ, ক্যাসিনো, প্রায় দেড় হাজার আসনের থিয়েটার, চোখ ধাধানো সব আয়োজনের পসরা রয়েছে এই প্রমোদতরীতে। রয়েছে ১২ হাজার প্রজাতির গাছপালা। অন্যতম আকর্ষণ দশ তলা বিশিষ্ট ওয়াটার স্লাইড।
যুক্তরাষ্ট্রের রয়্যাল ক্যারিবিয়ান কোম্পানির জন্য, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে, প্রায় সোয়া লাখ টন ওজনের জাহাজটির নির্মাণ শুরু করে ফ্রান্সের জনপ্রিয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসটিএক্স। আড়াই হাজার শ্রমিকের এক কোটি কর্মঘণ্টায় শেষ হয় কাজ।
সফল নারী উদ্যোক্তা আরিফা আক্তার
স্কুলে পড়াকালীন সহপাঠীদের সাথে শখের বশে হাতের সাহায্যে বুননের কাজ শুরু করেছিলেন দোহার উপজেলার পদ্মা নদী-বেষ্টিত নারিশা এলাকার আরিফা আক্তার রানু। দিন দিন আস্থা বাড়তে থাকে এ কাজের প্রতি। তিনি স্বপ্ন দেখেন কিভাবে ক্ষুদ্র এ শিল্পের প্রসার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত নারীসমাজ গঠন করা যায়। আর এ লক্ষ্যে তিনি বিরামহীনভাবে তার মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে থাকেন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই তার বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু থেমে থাকেনি তার লালিত স্বপ্ন। এ কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন তার স্বামী আবদুল জব্বার বেপারী। এ পরিপেক্ষিতে ২০১৩ সালে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার থেকে পাটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নতুন করে উদ্যোগী হন আরিফা আক্তার। পরে নিজ উদ্যোগে এ শিল্পের বিকাশের জন্য উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এলাকাসহ প্রায় ১৫০ জন নারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করে তোলেন। বর্তমানে ১৫০ জন প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
অন্য দিকে প্রশিক্ষিত নারীদের কাজে লাগিয়ে নিজ বাড়ির নীচতলায় পাট ও পুতির ব্যবহৃত নান্দনিক জিনিসপত্রের একটি শোরুম চালু করেন। দক্ষ ও নিপুণ হাতে তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্ডার আসতে থাকে এবং চাহিদার জোগান দেন আরিফা আক্তার। বর্তমানে এগুলো তৈরির মাধ্যমে ভালোভাবেই দিনাতিপাত করছেন আরিফা আক্তার রানু। সেই সাথে সহকর্মীরা অনেকেই সচ্ছল জীবন যাপন করছেন।
বাণিজ্যিকভাবে পাটের বহুমুখী ব্যবহারে তিনি ব্যাপক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু করেছেন। বাড়িতে বসেই তিনি পাট ও পুতির তৈরি বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, ওয়ালম্যাট, পাপোস, ফুলদানিসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করে থাকেন। দক্ষ হাতকে কাজে লাগিয়ে পাট ও পুঁতির তৈরি ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে তার বাজারজাতের মাধ্যমে অল্পদিনেই সফলতার মুখ দেখেন। তার এই সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। নারী উদ্যোক্ত হিসেবে স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথম ২০১৩ সালে দোহার উপজেলার সেরা জয়ীতা হিসেবে পুরস্কার পান। পরের বছর ঢাকা জেলার জয়ীতা হিসেবে স্বীকৃতি পান। এ বছর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তিনি একাধারে ঢাকা বিভাগীয়, ঢাকা জেলা ও দোহার উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়ীতা হিসেবে স্বীকৃতি তার দখলে। স্বীকৃতি পাওয়ার পর নতুন করে এ কাজের প্রতি আরো উদ্যমী হয়ে কাজ করছেন এই নারী। পাটের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সহজেই বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষ্যে তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সরকারের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বারোপ করেন।
এ ব্যাপারে আরিফা আক্তার জানান, নারীরা আজো সমাজে অবহেলিত। কোনো কিছু করতে গেলেই বিভিন্ন মহল থেকে বাধা আসে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে আমাদের যেকোনো নারী ঘরে বসেই কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এতে লজ্জার কিছু নেই।
তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, যেসব নারী উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সাথে জড়িত, তাদেরকে সরকারিভাবে সহায়তা করলে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এ শিল্প। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাটপণ্যের অর্ডারগুলো নারী উদ্যোক্তাদের দিলে এ শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটবে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে দোহার উপজেলা কমিশনার ভূমি শামীম আরা নিপা বলেন, তার এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যা যা করা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে এ জন্য আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
আগলায় নৌকায় সিল মারা ব্যালট উদ্ধার
মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের অস্থায়ী কেন্দ্র মোহনপুর নবনূর জামে মসজিদের পাশ থেকে নৌকায় সিল মারা ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর রহমান নিউজ৩৯ কে ব্যালট উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন। ।
মঙ্গলবার আগলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সুরুজ খান পুলিশকে জানায় আগলা ইউনিয়নের অস্থায়ী কেন্দ্র মোহনপুর নবনূর জামে মসজিদের পাশে নৌকা প্রতীকে সিল মারা অনেক ব্যালট পড়ে রয়েছে।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নৌকা প্রর্তীকে সিল মারা ৭টি ব্যালট উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যালট পুলিশ হেফাজতে রয়েছে ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে কোন সংস্থা যদি আমাদের কাছে আইনী সহায়তা চায় আমরা দিবো বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
আগলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সুরুজ খান অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির প্রার্থী আবেদ হোসেন ও তার নেতা-কর্মী আমাকে পরাজিত করতে প্রিজাইডিং অফিসারের যোগসাজসে ঐ কেন্দ্রে নৌকার সিলযুক্ত ব্যালট চুরি করে বাহিরে ফেলে দেয় এবং পরিকল্পিত ভাবে আমাকে ফেল করানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন ফলাফল ঘোষনা করায় দেরি হওযায় আমার সন্দেহ হয়। এব্যাপারে আমি উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করি কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আমার অভিযোগকে কর্ণপাত না করে বেসরকারিভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবেদ হোসেনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে এ কেন্দ্রে পূন: নির্বাচন দাবি করছি । এ কেন্দ্রে পূন:রায় সুষ্ঠু ভোট হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা নির্বাচন কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সমর্থকরা আগলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঢাকা বান্দুরা আঞ্চলিক সড়ক প্রায় ২ ঘন্টা অবরোধ করে রাখলে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
বাহ্রায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত ৬
নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৬ জন আহত হয়েছেন। গত রোববার বিকালে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সুবেদুজ্জামানের সমর্থকদের হামলায় পান-সিগারেট বিক্রেতা তাজুল ইসলাম আহত হন।
সন্ধ্যার দিকে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী আব্দুর রহমান লেবনের সমর্থকদের হামলায় রতন, জুয়েল ওরফে পল্টু , মো. জহির উদ্দিন ধলু, হাসানসহ ৫ জন আহত হয়। আহতদের নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার বিকাল ৫টায় বাহ্রা ইউনিয়নের দক্ষিণ চৌকিঘাটা গ্রামে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী লেবনের সমর্থকরা স্বশস্ত্র হামলা চালালে বিজয়ী প্রার্থী শিকিম আলী মেম্বারের ৫ সমর্থক আহত হয়।
অপরদিকে, সন্ধ্যার দিকে বাহ্রার কোমরগঞ্জ বটতলা এলাকায় পরাজিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সুবেদুজ্জমানের সমর্থকদের হাতুড়ির পিটুনীতে বিজয়ী চেয়ারম্যান আ.লীগ প্রার্থী সাফিল উদ্দিন সমর্থক তাজুল ইসলাম আহত হন। আহতদের নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত একেএম শামীম হাসান বলেন, দুটি ঘটনায় থানায় পৃথক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টানা ৪র্থ বারের মতো বান্দুরার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হিল্লোল মিয়া
চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করায় টানা চতুর্থবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হিল্লাল মিয়া। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।
১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত টানা চারবার জয়লাভ করে বান্দুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। চতুর্থবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় দলমত নির্বিশেষে এলাকার সবাই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি ১৯৬৯ সালের নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নুরুউদ্দিন মিয়া ছিলেন পাকিস্তান আমলের একজন মেম্বার।
প্রথম ধাপের নির্বাচনে তারই সহোদর আমজাদ হোসেন আজাদ দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
যন্ত্রাইলে আবারো বিজয়ী নন্দ লাল সিং
টানা ২য় বারের মতো যন্ত্রাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হরেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নন্দ লাল সিং। নির্বাচনের আগে তার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সব প্রশ্নকে পিছনে ফেলে টানা ২য় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন যন্ত্রাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে।
আওয়ামী লীগের ৪ নেতা বিরোদী পক্ষের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বহিস্কার হয়েছিলেন এই যন্ত্রাইল ইউনিয়নে। কিন্তু সব কিছু দুরে ঠেলে দিয়ে যন্ত্রাইল ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৩ হাজার ভোট বেশি পেয়ে পাশ করলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। নন্দ লাল সিং ৭৫১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচনে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহঅ প্রার্থী আনারস প্রতিকের বারেরুক রহমান পেয়েছেন ৪৬৭২ ভোট। বিএনপি প্রার্থী সেন্টু মোল্লা পেয়েছেন ৭৫৮ ভোট। এবং আকুল বেপারী ঘোড়া প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ ভোট।
সব শঙ্কা দুরে ঠেলে কলাকোপায় ইব্রাহিম খলিল নির্বাচিত
সব আসঙ্কা দুর করে কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল।
কলাকোপা ইউনিয়ন থেকে মনোনয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও সব প্রশ্ন দুরে ঠেলে আওয়ামী লীগের মনোনোয়নেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনিত নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল। কলাকোপা ইউনিয়ন থেকে ৪৫৮০ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কার নিকটতম প্রতিদন্দি বিএনপি মনোনিত মহসিন রহমান তুষার পেয়েছেন ৩৯৯২ ভোট। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মীর আরিফ হোসেন পেয়েছেন ২৩০১ ভোট।
নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সবাপতি ইব্রাহিম খলিলের নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম জালাল শিমু।
নবাবগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলেন যারা (ভোটসংখ্যা সহ)
চতুর্থ ধাপে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চৌদ্দটি ইউনিয়নের মধ্যে নয়টিতে আওয়ামীলীগ, তিনটিতে বিএনপি, একটিতে জাতীয়পার্টি ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ হাবিবুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে স্ব স্ব রির্টানিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদে ও প্রার্থীর উপস্থিতিতে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন ।
নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন:
কলাকোপা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব মো: ইব্রাহীম খলিল ৪৫৮০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির মহসিন রহমান তুষার ৩৯৯২ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মীর আরিফ হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে ২৩০১ ভোট পেয়েছেন।
যন্ত্রাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নন্দ লাল সিং ৭৫১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির মো: সেন্টু মোল্লা ৭৫৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: বারেকুর রহমান আনারস প্রতীক নিয়ে ৪৬৭২ ভোট ও আকুল বেপারী ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৯৩ ভোট পেয়েছেন।
শোল্লা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দেওয়ান তুহিন রহমান ৯৩৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ফজলুল হক চশমা প্রতীক নিয়ে ৬২৩৬ ভোট পেয়েছেন।
কৈলাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পান্নু মাদবর ৩৫৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসির উদ্দিন আনারস প্রতীক নিয়ে ৩৫৩৩ ভোট পেয়েছেন।
বক্সনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া ৮২৮৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন বয়কট করা তার নিকটতম বিএনপির এরশাদ আল-মামুন ২০৯৭ ভোট পেয়েছেন।
বাহ্রা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট সাফিল উদ্দিন মিয়া ৬৯৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির হাজী আব্দুস সালাম ১৭৩৩ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সুবেদ্দুজ্জামান সুবেদ আনারস প্রতীক নিয়ে ৬১২৪ ভোট পেয়েছেন।
আগলা ইউনিয়নে বিএনপির আবেদ হোসেন ৪০৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের সুরুজ খান ৪০১১ ভোট পেয়েছেন।
বান্দুরা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিল্লাল মিয়া আনারস প্রতীক নিয়ে ১১৭২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের নাসির উদ্দিন ৩৪৯০ ভোট পেয়েছেন।
নয়নশ্রী ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির রিপন মোল্লা লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৪৪১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের পলাশ চৌধুরী ৩৬৬২ ভোট, বিএনপির হাবিবুর রহমান খান ২২১১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান আনারস প্রতীক নিয়ে ২৩৫৬ ভোট, মো: মাসুদ মোল্লা চশমা প্রতীক নিয়ে ৮৮১ ভোট, সোরহাব হোসেন টেবিল ফ্যান প্রতীক নিয়ে ৫৬ ভোট , মো: আলমগীর ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৪২ ভোট, মো: হাবিবুর রহমান মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪৮৬ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারোয়ার আলম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ২৫৬ ভোট পেয়েছেন।
জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বিএনপির মাসুদুর রহমান ৩৩৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন ১৭১২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কামাল হোসেন আনারস প্রতীক নিয়ে ২৫৯৮ ভোট মো: মাহফুজ খান চশমা প্রতীক নিয়ে ৭৫ ভোট ও মোতাহার হোসেন মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৭৭৯ ভোট পেয়েছেন।
শিকারীপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আলীমোর রহমান খান পিয়ারা ৪৪৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির আব্দুল জব্বার ২১৩৮ ভোট ও আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাম্মেল হক টিপু আনারস প্রতীক নিয়ে ৪২২০ ভোট পেয়েছেন।
বারুয়াখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইঞ্জিনিয়ার আরিফ শিকদার ৩২৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির আবদুল্লাহ আল-মামুন ৩০২৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রজ্জব মোল্লা আনারস প্রতীক নিয়ে ৩০৭৬ ভোট পেয়েছেন।
গালিমপুর ইউনিয়নে বিএনপির তপন মোল্লা ২৮৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের আজিজুর রহমান ভূইয়া ১৭২২ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী লুৎফর রহমান বেপারী ২৪৬৯ ভোট ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে শিল্পী ইসলাম ৮৭৪ ভোট পেয়েছেন।
চূড়াইন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হাজী আব্দুল জলিল ৫৩৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির হাজী ইউসুফ আলী খান ৩১৩৮ ভোট ও স্বতন্ত্র বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু সাইদ ৩৩৯০ ভোট ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আসমা আক্তার রুমি ৫৩৪ ভোট পেয়েছেন।
শনিবার চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নবাবগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নে ১৪৩টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে টানা বিকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১২৬ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।
নবাবগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ বিজয়ীরা
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিজয়ী চেয়ারম্যানদের তালিকা:
কলাকোপা ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ইব্রাহীম খলিল (নৌকা)
চূড়াইন ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাজী আব্দুল জলিল (নৌকা)
বান্দুরা ইউনিয়ন: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিল্লাল মিয়া (আনারস)।
নয়নশ্রী ইউনিয়ন: জাতীয় পার্টির রিপন মোল্লা (লাঙ্গল)
যন্ত্রাইল ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের নন্দ লাল সিং (নৌকা)
শোল্লা ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের দেওয়ান তুহিন রহমান (নৌকা)
কৈলাইল ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের পান্নু মাদবর (নৌকা)
বক্সনগর ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া (নৌকা)
বাহ্রা ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের অ্যাডভোকেট সাফিল উদ্দিন মিয়া (নৌকা)
আগলা ইউনিয়ন: বিএনপির আবেদ হোসেন (ধানের শীষ)
গালিমপুর ইউনিয়ন: বিএনপির তপন মোল্লা (ধানের শীষ)
জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন: বিএনপির মাসুদুর রহমান (ধানের শীষ)
শিকারীপাড়া ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের আলীমোর রহমান খান পিয়ারা (নৌকা)
বারুয়াখালী ইউনিয়ন: আওয়ামীলীগের ইঞ্জিনিয়ার আরিফ শিকদার (নৌকা)

