দোহারে কৃষকের কাছ থেকে সরকারের ধান ক্রয় শুরু

দোহারে সরকার ঘোষিত দামে ধান কেনা শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার নারিশা খাদ্য গুদামে এর আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। যদিও এইবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারপরও হাসি নেই কৃষকের মুখে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা চাষাবাদের খরচ ওঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ঋনের টাকা ফেরত দেয়া নিয়েও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তারা। উৎপাদন খরচের চেয়ে দাম কম হওয়ায় ধান উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকরা পড়েছে বিপাকে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন, নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের সব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দিন দ্বরানী, দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট জড়িত উপজেলার কর্মকর্তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত উপজেলার নিবন্ধিত কৃষকের কাছ থেকে ৯২০ টাকা মন দরে ১৮১৭ মে. টন শুকনো ধান ক্রয় করা হবে।

নবাবগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ৩ ডাকাত আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ৩ ডাকাতকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পৃথকস্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা প্রত্যেকে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার পাইকশা গ্রামের সৈয়দ হোসেনের ছেলে নুরুল ইসলাম, মোসলেমহাটি গ্রামের শেখ হাসিনূরের ছেলে স্বপন ও একই গ্রামের আবের উদ্দিন সরদারের চেলে ফরহাদ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে নবাবগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন জানান।

থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পাইকশা ও মোসলেমহাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নবাবগঞ্জ থানার ২০০৮ সালের একটি ডাকাতি মামলার ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। তারা তিনজনই চিহ্নিত ডাকাত।

মুক্ত জীবন-রুদ্ধ প্রাণ,ইতিহাসের মুক্তি কোন পথে: মাহফুজ উল্লাহ

ইতিহাসের সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের পরিধি ব্যাপক। এ বিতর্কের কারণ বিবিধ। এক সময় পরাক্রমশালী ও বিজয়ীরা ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতেন বলেই সেখানে নিুবর্গের বা নিচতলার মানুষের কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। কখনও কখনও ব্যতিক্রম ঘটলেও বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত ইতিহাস ছিল বিজয়ীর অহংকারের কাহিনী। ধীরে ধীরে এ প্রবণতায় পরিবর্তন আসতে শুরু করলেও এখনও ইতিহাসের নির্মোহ মুক্তি অনেক দূরে। কেউ কেউ মনে করেন, ইতিহাস হচ্ছে অতীতে যা ঘটেছে, যাকে উদ্ধার করা যাবে না অথবা পুরোপুরি জানা বা বোঝা যাবে না। আবার অনেকে মনে করেন, অতীতকে জানা যায় এবং ইতিহাস হচ্ছে অতীতে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির বিবরণ। আবার কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসীরা ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করেন শ্রেণী ও শ্রেণীসংগ্রামের আলোকে। সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক যাই হোক না কেন বর্তমানে ইতিহাস যে ক্রমাগত অনুসন্ধান ও গবেষণার বিষয় সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই এবং সুলিখিত ইতিহাস সুখপাঠ্য, কৌতূহলোদ্দীপক এবং মাথা ঘামানোর বিষয়। প্রত্যেকটি সমাজে ইতিহাস জনপ্রিয় বিষয়। জনগণ বিভিন্নভাবে ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে সম্পর্কিত করেন। অনেকেই জানতে চান, তার পরিবার অথবা পূর্বপুরুষদের এবং যে এলাকায় তিনি বাস করেন সে এলাকার ইতিহাসের কথা। ইতিহাস জানতে মানুষ জাদুঘরে যায়, ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখে। জাদুঘরে যাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশে অ-জনপ্রিয় হলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে প্রতিদিন ব্যাপক মানুষ জাদুঘর ঘুরে দেখে। চীনে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের রাষ্ট্র ও সমাজের অতীতটা জানানোর জন্য। এ জাদুঘর সফরে ছাত্রছাত্রীদের নোটবই সঙ্গে রাখতে হয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ইতিহাস টুকে আনার জন্য। কেউ কেউ ইতিহাসের অনুরাগী হয়ে ডাকটিকিট, মুদ্রা অথবা পুরনো হিসেবে পরিচিত এন্টিক সংগ্রহ করেন। উদ্দেশ্য একটাই, ইতিহাসকে জানা। বাংলাদেশে অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে এন্টিকস সংগ্রহের প্রবণতা বেড়েছে। অনেক উৎসাহী মানুষ ইতিহাস জানার জন্য বিভিন্ন ইতিহাস সমিতিতে যোগ দেন অথবা অতীতের নিদর্শন সংরক্ষণে আত্মনিয়োগ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বই, ওয়েবসাইট, চলচ্চিত্র এবং প্রামাণ্য ছবি ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের উৎসাহেরই বহিঃপ্রকাশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ভিয়েতনাম যুদ্ধ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রামাণ্য ছবি এখনও সমান জনপ্রিয়। আরব বিশ্বের নিহত নেতা সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি অথবা মিসরের পরলোকগত নেতা নাসেরের জীবন সম্পর্কে প্রামাণ্য চিত্র প্রচণ্ড উৎসাহের বিষয়। এসব ক্ষেত্রে নতুন নতুন তথ্য সংযোজিত হলে উৎসাহের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গত শতাব্দীতে যখন ক্রীতদাসদের বিদ্রোহ নিয়ে ছবি ‘স্পার্টাকাস’ মুক্তি পেয়েছিল তখন এটা সারা পৃথিবীজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল। আবার যুক্তরাষ্ট্রে কালো দাসদের জীবন ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে অ্যালেক্স হ্যালির বই ‘রুটস’ যখন প্রকাশিত হয় তখন সেটাও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আর এ বইয়ের ভিত্তিতে যে টেলিফিল্ম তৈরি হয়েছিল তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। প্রাচীন গ্রিকরা মনে করতেন, ইতিহাস হচ্ছে ঘটনাবলির গুদাম- যেসব উদাহরণ আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ কারণ অতীতের ভালো, মন্দ, খারাপ সবকিছুই আমাদের ইতিহাস। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে ইতিহাসের অনুসন্ধান থেমে থাকে না বা আইন করে ইতিহাসের বিভিন্ন পাঠকে বন্ধ করা যায় না। বিশ্বায়নের ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতির ফলে ইতিহাস সম্পর্কে প্রতিদিন মানুষের অনুসন্ধিৎসা বাড়ছে এবং ইতিহাসের নব নব উদঘাটিত তথ্য সবাইকে চমকে দিচ্ছে। ইতিহাস সম্পর্কে কোনো উপলব্ধি বা গবেষণাই চূড়ান্ত নয়। কিন্তু অনেকে মনে করেন ইতিহাস স্থির হয়ে গেছে- যেটা ঘটেছে বাংলাদেশের অনেক বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে। মানুষের জানার বা গবেষণার পদ্ধতি যত অগ্রসর হচ্ছে ইতিহাসের চেহারাও ততটা পাল্টে যাচ্ছে। এক সময় মনে করা হতো হযরত ওসমান (রা.) এর শাসনামলে পবিত্র কোরআনের যে ভাষ্য তৈরি হয়েছিল সেটা হয়তো প্রথম লেখা কোরআন শরিফ। কিন্তু কয়েক মাস আগে বিলেতে আবিষ্কৃত হাতে লেখা পাতা থেকে দেখা যায় হযরত আবু বকর (রা.)-এর আমলে কোরআন শরিফ প্রথম লিপিবদ্ধ হয়েছিল। ইহুদিরা তাদের নবীর কথা জানার জন্য যে অনুসন্ধান চালায় তাতে প্রায়ই নতুন নতুন তথ্য উঠে আসে। কয়েক দশক আগে যিশুখ্রিস্টের মানবিক রিপু নিয়ে যে ছবি তৈরি হয়েছিল সেটা নিয়ে বিতর্ক হলেও নির্মাতারা দাবি করেছিলেন এর মধ্যে সত্যতা আছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার ফলে মিসর বা ইংল্যান্ডে অতীত সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। ইতিহাসের তথ্য কখনও কখনও গ্রহণ করা অনেকের পক্ষেই কষ্টকর হয়। যারা অতীতকে নিজের কল্পনার রঙে রাঙিয়ে রেখেছেন তাদের জন্য কষ্টটা বেশি। বাংলাদেশে ইতিহাস বা ইতিহাস চর্চা যথেষ্ট স্পর্শকাতর বিষয়। অথচ পাকিস্তান বা ভারতে পরিস্থিতিটা ভিন্ন। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে স্ট্যানলি উলপার্ট এর লেখা বই যখন প্রথম প্রকাশিত হয় তখন সেই বই পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয়েছিল। কারণ বইতে বলা হয়েছিল বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়ার সময় জিন্নাহ মদ্যপান করেছেন এবং শূকরের মাংস খেয়েছেন। পাকিস্তানি শাসক বিশেষ করে জিয়াউল হকের জন্য এ ছিল এক বিরাট ধাক্কা। একটি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা কী করে মদ্যপান করতে পারেন? এ কারণেই বইটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয়েছিল। সরকার বদলের পর অবশ্য সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর ব্যক্তিজীবন অর্থাৎ লেডি মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কম লেখালেখি হয়নি। তাতে অবশ্য ভারত সরকার বা কংগ্রেস খড়গ হস্তে তথ্য ফাঁসকারীদের তাড়া করেনি। আর লোকমুখে নেহেরু সম্পর্কে যেসব তথ্য ক্রমপ্রচারিত সেগুলো না হয় অনুল্লেখই থাকল। গান্ধীর কামনা-বাসনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে বলা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসের সময় গান্ধী ছিলেন ইংরেজদের পদলেহী। বিশিষ্ট ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায় এ বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন; কিন্তু তাকে জেলে যেতে হয়নি। ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস আরও চমকপ্রদ। এক সময় মনে করা হতো মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস ছাড়া অন্যরা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেননি। অথচ অন্যরা, বিশেষ করে বামপন্থীরা লড়াই করেছেন, অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, কৃষক-শ্রমিকরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন তার সবকিছুই এক সময় মুসলিম লীগ বা কংগ্রেসী ভাবধারায় বিশ্বাসী ঐতিহাসিকদের কারণে চাপা পড়ে গিয়েছিল। সৌভাগ্যের বিষয় সেখানে চিন্তার ও বিশ্বাসের জগতের দাসত্ব থেকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ঐতিহাসিকরা মুক্তি পেয়েছেন এবং ভারতের ব্রিটিশবিরোধী অন্দোলন বা গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। বলা হচ্ছে, দিল্লি ও লাহরের মহাফেজখানায় এখনও যেসব তথ্য অব্যবহৃত আছে তা ব্যবহৃত হলে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বিংশ শতাব্দীর ভারতের জনজীবন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসবে। সেটা হয়তো হবে অপ্রীতিকর কিংবা গৌরবের। যাই হোক, তাতে লজ্জিত হওয়ার কিছু থাকবে না। নবাব সিরাজউদ্দৌলা সম্পর্কে এখনও নতুন নতুন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে এবং ঐতিহাসিকরা সেটা গ্রহণ করছেন। ইতিহাসের বিষয়বস্তু নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানটা ভিন্ন। অনেক বিষয়কে এখানে এমনভাবে স্পর্শকাতর করে তোলা হয়েছে যে অনেকেই অনেক কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভয় পান। এ ভয় বিরোধী হলেই আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয়। হাল আমলে এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে আইনের সাজা। দেখা যাচ্ছে শিগগিরই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকরণ অপরাধ আইন অনুমোদিত হয়ে যাবে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রতিরোধে যে খসড়া আইন করা হয়েছে তাতে স্পর্শকাতর এ অভিযোগে যে কেউ থানায় মামলা করতে পারবেন। আইনে পাঁচ বছরের জেল ছাড়াও কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান থাকছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান, তদন্ত এবং বিচারের নির্দেশনা রয়েছে। এখানে যে প্রশ্নটি অত্যন্ত জরুরি তা হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস কি রচিত হয়েছে? এ প্রশ্নের অত্যন্ত সহজ জবাব হচ্ছে- না। কিছুদিন আগে প্রফেসর রেহমান সোবহান তার একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে মন্তব্য করেছিলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নির্দিষ্ট ইতিহাস এখনও রচিত হয়নি। কথাটি নির্মম সত্য এ কারণে যে, আবেগ দিয়ে উপন্যাস লেখা যায়, ইতিহাস নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী ঘটনাবলি সম্পর্কে দেশে ও বিদেশে বেশকিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ অবসানের পরপর ভারতীয় লেখক ও জেনারেলদের লেখা যেসব বই প্রকাশিত হয়েছিল তা এখন বাজারে পাওয়া যায় না। সেসব বইতে অবাক করার মতো অনেক তথ্য আছে যেগুলো এখন পর্যন্ত কেউ আপত্তি করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক ঘটনাবলি সম্পর্কে ইংরেজিতে লেখা যেসব বই প্রকাশিত হয়েছে তা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। বিজ্ঞজনরা মনে করেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইংরেজি বই পড়তে উৎসাহবোধ করেন না বলেই ওসব বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। কিন্তু গোল বাধে তখন যখন প্রায় অভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বাংলায় লেখা বই প্রকাশিত হয়। তখন বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয় না, আক্রমণের শিকার হন ব্যক্তি লেখক। সমাজের অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন ভাষায় ওইসব লেখকদের আক্রমণ করেন যা শুধু দুঃখজনক নয়, নিন্দনীয়ও বটে। এ আক্রমণের সময় ইতিহাসের অধ্যাপকরা কখনও যুক্তি দিয়ে এসব বক্তব্যকে খণ্ডন করেন না। রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস কীভাবে বিবৃত হবে তা বলা কঠিন। এক সময় বলা হতো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। এখন সেই মামলার অন্যতম আসামি এবং জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীসহ অন্যরা বলেছেন, সত্য মামলা আগরতলা। প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণ কি রাজনৈতিক স্লোগান গ্রহণ করবে, না ইতিহাসের তথ্যকে গ্রহণ করবে? সংবাদপত্রের খবরে আরও বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের সংখ্যা, স্বাধীনতার ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের কয়েক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য আইনটির খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের বক্তব্য নতুন আইন তৈরিতে সরকারকে প্রলুব্ধ করে। বর্তমান বিশ্বে এমন আচরণ শোভন নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের এবং লাঞ্ছিত নারীদের সংখ্যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হলে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নারীদের লাঞ্ছনার ইতিহাস মিথ্যা হয়ে যাবে না। কদিন আগে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লাঞ্ছিত নারীদের সংখ্যা দু’লাখ নয় আরও বেশি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও হিটলার অধিকৃত অঞ্চলে একজন নারীর লাঞ্ছনার চিত্রও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যেভাবে উঠে এসেছে তাতে মানুষের ঘৃণাই জন্মেছে, ভালোবাসা নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যে কোনো আলোচনাই হোক না কেন তা মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা ও গৌরবকে মুছে ফেলতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের নায়ক যারা তাদের সম্পর্কেও যদি সমালোচনামূলক কোনো লেখা প্রকাশিত হয় তাতেও তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে না। ক্ষুণ্ণ হবে না বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান অথবা স্বাধীনতার সৈনিক, বাংলাদেশের আইকন জিয়াউর রহমানের মর্যাদা। তবু মনে রাখতে হবে মানুষ দেবতা নয়। নতুন চীনের স্থপতি মাও সে তুং-কে জীবিত অবস্থায় যেভাবে মূল্যায়ন করা হতো মৃত্যুর পর চীনারা সেই মূল্যায়নে পরিবর্তন এনেছে। বলা হচ্ছে তার ৭০ ভাগ ভালো ৩০ ভাগ খারাপ। ইতিহাসের এ বাস্তবতা দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিচার করলে সমস্যা অনেক সহজ হবে। ইতিহাস বিকৃতকরণ আইনটি পাস হলে যে কারও মামলা করার সুযোগ যে পরিস্থিতি তৈরি করবে তা কল্পনা করা কষ্টকর। এ বিকৃতি কে ব্যাখ্যা করবেন অথবা তার ব্যাখ্যা করার মতো ক্ষমতা আছে কি-না তা প্রশ্নাতীত নয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো জাতি। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু গবেষণা বা লেখার পথ বন্ধ হয়ে যাবে; কারণ গবেষণা করে কেউই পাঁচ বছরের জেল বা কোটি টাকার দণ্ড গ্রহণ করতে ঝুঁকি নেবেন না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অনেক স্পর্শকাতর বিষয় জড়িয়ে আছে। প্রফেসর আনিসুজ্জামান তার একটি বইয়ে লিখেছেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর তারা আদিষ্ট হয়েও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জাতির উদ্দেশে প্রদেয় বক্তৃতা লিখতে পারেননি, বক্তৃতার খসড়া এসেছিল দিল্লি থেকে। অতীতের স্পর্শকাতরতা মানুষ ব্যক্তিজীবনে গ্রহণ বা হজম করতে পারে না; কিন্তু সমাজের সেই সমস্যা নেই। নেই বলেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিদের হাতে নিগৃহীত কোরিয়ান নারীরা প্রকাশ্যে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। আর বারাক ওবামা বলেছেন, হিরোশিমায় আণবিক বোমা বর্ষণের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্পর্শকাতরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধ এক তীব্র আবেগের বিষয়। এ আবেগ সংরক্ষণের জন্য যেমন আইনের প্রয়োজন নেই, তেমনি কোনো উল্টো প্রচারণার ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। ইতিহাসকে মুক্তি দিতে হবে কূপমণ্ডূকতা থেকে, অন্ধকার থেকে নিয়ে আসতে হবে আলোয়

উৎস ঃ যুগান্তর

নবাবগঞ্জে সরকারীভাবে ধান কেনা শুরু

নবাবগঞ্জে সরকার ঘোষিত ধান কেনা শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার কলাকোপা খাদ্য গুদামে এর আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. শহিদুল আমীন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সামছুল করিম, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আকবর হোসেন মিয়া, কলাকোপা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন প্রমূখ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত উপজেলার ২৫হাজার নিবন্ধিত কৃষকের কাছ থেকে ৯২০ টাকা মন দরে ১৮১৭ মে. টন শুকনো ধান ক্রয় করা হবে। উল্লেখ্য, এবছর উপজেলার ১১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ৭০ হাজার মে. টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি অফিস।

নবাবগঞ্জে বিদেশী বিয়ার ও মদসহ আটক ২

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিদেশী ৪৩২ ক্যান বিয়ার এবং ৫ বোতল মদসহ আরেফিন পাবেল (২৮) এবং আরেফিন রাজ (২৭) নামে দুই যুবককে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাগমারা বাজারের ওয়েস্টার্ন থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। আটককৃত আরেফিন পাবেল উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মাকসুদুর রহমান চিনুর ছেলে এবং আরেফিন রাজ মুন্সীগঞ্জ জেলার সফিপুর গ্রামের জাফরের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বাগমারা বাজারের ওয়েস্টার্ন থাই এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নামে ঐ প্রতিষ্ঠানে তারা মাদকের ব্যবসা করে আসছে। এমন  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক  সোহেল রানা ঐ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায়। পরে পাবেল ও রাজকে বিদেশী বিয়ার এবং মদসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে মাদক আইনে মামলা দিয়ে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় ।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।“

তানজিম ইসলাম

স্মার্টফোন বাজারের ভবিষ্যৎনামা

বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের রমরমা ব্যবসায় লক্ষণীয়ভাবে কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ছুটিবহুল একটি প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ বিক্রির মাধ্যমে প্রস্তুতকারকদের স্মার্টফোন চালানের বৃদ্ধির পরিমাণটা দুই অঙ্কের ছিল।

স্মার্টফোন ব্যবসায়ের পরিপক্ব বাজারগুলোই ছিল চলতি বছর স্মার্টফোন বিক্রি কমে যাওয়ার মূল কেন্দ্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলো এবং চীনের মুখ্য বাজারগুলোয় স্মার্টফোন গ্রহণের মাত্রাটা নতুন উচ্চতায় চলে যায়। এই দেশগুলোতে প্রথমবারের মতো ফোন কিনতে আসা ক্রেতার পরিমাণ দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। এসব বাজারের বেশিরভাগ ক্রেতাই ছিলেন পুরাতন ফোন ছেড়ে নতুন ফোন কিনতে আসা ব্যবহারকারী।

জনপ্রিয় বাজারগুলো ঝিমিয়ে গেলেও শক্তিশালী হয়ে উঠবে উদীয়মান বাজারগুলো। বিশেষ করে ভারত এবং ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ বাজারের জ্বালানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক সাইট বিজনেস ইনসাইডার-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয় ২০২১ সাল পর্যন্ত স্মার্টফোন বাজারের একটি স্থূল এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেদনটিতে উঠে আসা সার কথা-

*স্মার্টফোনের প্রবৃদ্ধি বিশ্ববাজারে এখনো ক্রমবর্ধমান কারণ উঠতি বাজারগুলোতে স্মার্টফোনের চাহিদা প্রচুর। ২০২১ সালের মধ্যে স্মার্টফোনের বিক্রির পরিমাণ ২১০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

*শেষ কয়েকবছরে স্মার্টফোনের চাহিদা উপরের দিকে উঠছিল ছিল কারণ স্মার্টফোনগুলোর ক্রমাগত দাম কমে যাওয়া। দাম কমায় উঠতি বাজারগুলোতে হ্যান্ডসেটের ক্রয়ক্ষমতা মানুষের হাতের নাগালে চলে এসেছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারতে স্মার্টফোনের দাম কমে প্রায় অর্ধেকে এসে ঠেকেছে।

*স্মার্টফোনের দামের ক্রমনিম্নগামীতার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, সামনের পাঁচ বছরে ভারতে স্মার্টফোন ব্যবসার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। স্মার্টফোন বাজারে চীনকে টেক্কা দিতে ভারতের সামনে এখনও বিশাল পথ বাকি। ২০১৬ সালে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারে ভারতীয় বাজারের পরিমাণ ১০ শতাংশ যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৩০ শতাংশ।

*স্মার্টফোনের প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তর্কের দিনও প্রায় শেষ। ২০১৫ সালে এসে আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড দখল করে নিয়েছে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ ডিভাইস, যা ২০১৪ সালে ছিল ৯৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

*২০১৫ সালের শেষে অ্যাপল আইফোন ৬ এবং ৬প্লাসের মতো পণ্য দিয়ে বাজার মাতিয়েছে। কিন্তু স্যামসাং এবং অন্যান্য চীনা প্রতিযোগী যেমন হুয়াওয়ে-এর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অ্যাপলের আয়ের রেখা কিছুটা নিচের দিকেই চলছে।

মাদকসেবী আটক নিয়ে নবাবগঞ্জে পুলিশ-জনতা উত্তেজনা

নবাবগঞ্জে শেখ সাগর ও আলমগীর হোসেন নামে দুই মাদকসেবীকে আটক করা নিয়ে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় দুই মাদকসেবীসহ ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন বান্দুরা এলাকায় একদল গ্রামবাসী পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে নতুন বান্দুরা এলাকার একটি মাঠে বসে গাঁজা সেবনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাগর ও আলমগীর। এলাকাবাসী তাদের ভদ্র ছেলে বলে জানতো। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল বাশার সঙ্গিয় ফোর্স ঐ স্থান থেকে তাদের আটক করে। দেহ তল্লাশি করে প্রায় ৩’শ গ্রাম গাঁজা পায়। ভদ্র ছেলে আটকের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কিছু উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার করে। পরে আসামিসহ পুলিশ স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ঢুকে পড়ে।

খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ রফিকুল ইসলাম (৬৭), রাজীব সাহা (২৫), মো. হাসিব (২২) নামে তিনজনসহ ঐ দুই মাদকসেবীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে বলে জানা যায়।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবুল বাশার জানান, এবিষয়ে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

যে ১০টি ভুলের কারণে একজন মুসলিম মুহুর্তেই কাফের হয়ে যায়

মহান আল্লাহ তায়ালার একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত রাসূল এবং আমরা সেই রাসূল (সা.)এর ভাগ্যবান উম্মত। যিনি কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতদের জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে শাফায়েত করবেন। কিন্তু সামান্য কয়েকটি ভুলে মহানবী (সা.)-এর উম্মতের তালিকা থেকে একজন মুসলিম বাদ পড়ে কাফেরে পরিণত হয়। চলুন মুসলমান হিসেবে জেনে নিই কি সেই ভয়ংকর ভুল-

১. শিরক তথা আল্লাহর সাথে তাঁর ইবাদাতে অন্য কাউকে অংশীদার বানানো।

“নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। (সুরা আন-নিসা: ৪:১১৬)

“নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সুরা মায়িদাহ: ৫: ৭২)

এর মধ্যে আছে মৃতদের কাছে, জ্বীনদের কাছে বা কবরে প্রার্থনা করা, তাদের সাহায্য খোজা, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে মানত করা ও কোরবানী করা।

২. যারা আল্লাহ ও তার মধ্যে যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী রুপে কাউকে বা কোন জিনিসকে বেছে নেয়, তাদেরকে যোগাযোগের মাধ্যম হতে বলে এবং তাদের উপরেই তার আস্থা স্থাপন করে (অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর কাছে চায় না এবং নিজের ঐকান্তিকতার উপর আস্থা স্হাপন করে না) তাদের ব্যাপারে আলেমদের ঐক্যমত হল এই যে, এরা কাফের ।

৩. যারা অংশীদারস্থাপনকারীদের(মুশরিকুন) অস্বীকারকারী(কাফির) মনে করে না, অথবা তাদের কুফরী সন্মন্ধে সন্দেহ পোষন করে অথবা তাদের পদ্ধতিকেও সঠিক মনে করে তারা কাফির।

৪. এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শের চেয়ে অন্য কোন ব্যক্তির মতাদর্শ উত্তম বা রাসূল (সা:) এর আনীত জীবন ব্যবস্থার চেয়ে অন্য কোন ধর্ম বা মতবাদ ভাল। যেমন, কেউ যদি বিশ্বাস করে যে, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, ডারউইনের মতবাদ ইত্যাদি ইসলামের চেয়ে ভাল তবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে।

“বল! তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে? তোমরা আর অজুহাত দাড় করো না, তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ।(সূরা আত-তাওবা: ৬৫-৬৬)

“তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না (সূরা আলে-ইমরান: ৩২)

আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন,“যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক করে প্রেরণ করিনি।” (সূরা নিসা: ৮০)

“যখন আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোনো বিষয়ের ফায়সালা দিয়ে দেন তখ কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর সেই ব্যাপারে নিজে ফায়সালা করার কোনো অধিকার নেই৷ আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হয়৷ (সুরা আহযাব :৩৬)

৫. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশিত কোন বিষয়কে মনে মনে ঘৃণা করা যদিও সে তা পালন করে। যেমন, কেউ যদি দাঁড়ি, পর্দা ইত্যাদিকে মনে মনে অপছন্দ করে তবে সে মুসলমান থাকবেনা। কারণ, এগুলো ইসলামের আবশ্যপালণীয় নির্দেশ।

কেননা আল্লাহ বলেন, “এটা এজন্যে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তারা তা পছন্দ করে না। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিবেন।” (সুরা মুহাম্মাদ ৪৭: ৯)

আবু হুরাইরা (রা:) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে,“আমার প্রতিটি উম্মত জান্নাতে যাবে। তবে যে অস্বীকার করে সে নয়। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, অস্বীকারকারী কে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে-ই অস্বীকারকারী (বুখারী)

আল্লাহ বলেন, “হে নবী! আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং মুমিনদের মধ্য থেকে যারা আপানাকে অনুসরণ করে তাদের জন্য।” (সূরা আনফালঃ ৬৪)

৬. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচারিত ধর্মের যে কোন বিষয় নিয়ে কেউ যদি মজা করে, অথবা পুরস্কার ও শাস্তি সম্পর্কিত যে কোন বক্তব্য নিয়ে টিটকারী দেয় বা দুষ্টুমি করে, সে কাফির। এর প্রমাণ হল নিচের আয়াতটি:

“আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার” (সুরা আত তাওবাহ: ৯:৬৫-৬৬)

৭. যাদুবিদ্যা একজন ব্যক্তিকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়ার জন্য বা একজন ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য যাদু করা এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। যে ব্যক্তি এগুলো করবে বা এগুলোর সমর্থন করবে সে কাফির। কেননা:

“তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না।” (সুরা বাকারাহ ২: ১০২)

৮. মুশরিকদের সমর্থন দেয়া এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতা করা। এর প্রমাণ হল এ আয়াতটি যেখানে আল্লাহ বলেন,“হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (সুরা মায়িদাহ: ৫:৫১)

৯. যারা বিশ্বাস করে যে কিছু ব্যক্তিদের মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি আছে যেমন অনুমতি ছিল মুসা (আ) এর আইনের বাইরে খিযির (আ) এর কাজ করার, তারা কাফির। কেননা আল্লাহ বলেন,“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।” (সুরা ইমরান ৩: ৮৫)

১০. আল্লাহর মনোনীত ধর্ম থেকে দূরে সরে যাওয়া বা মুখ ফিরিয়ে নেয়া, এটাকে না শেখা এবং এর অনুসারে জীবন যাপন না করা। এর প্রমান হল, “যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব।” (সুরা সেজদাহ: ৩২:২২)

নবাবগঞ্জে ১২ বছরের কিশোরী অপহরনের ১১ দিন পর উদ্ধার

নবাবগঞ্জ উপজেলার  মাঝির কান্দা গ্রাম থেকে গত ৪মে ১২ বছরের ৬ষ্ঠ শ্রেনী পড়ুয়া এক কিশোরীকে অপহরন করা হয়। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সার্বিক সহায়তায় গত রবিবার এস.আই ফিরজের তত্বাবধানে ১১দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে কিশোরীকে।যখন ৪র্থ ধাপের নির্বাচনের আমেজ বইছে। সবাই ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে ৭ই মে নির্বাচন নিয়ে। এরই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপহরন করা হয় কিশোরীকে।

পরিবারের দাবি ৪মে প্রতিদিনের মতো তাদের বাড়ির সামনে ঝাল মুড়ি খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অপহরন কারীরা সেখানে অবস্থান করে। সুযোগ বুঝে ক্লোরোফোমের সাহায্যে কিশোরীকে অজ্ঞান করা হয় এবং ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ব্যাবহার করে অঞ্জাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

তার পর কিশোরির পরিবারকে স্থানীয় লোক জনের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়।এর ফলে অপহরনের অভিযোগে কিশোরীর পরিবার নবাবগঞ্জ থানায় ইমরান (১৮)পিতা:তমিজদ্দিন গ্রাম: পালামগঞ্জকে প্রধান আসামী করে ৬ থেকে ৭ জনের নামে নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় বাকী আসামীরা হলেন, প্রধান আসামীর বড় ভাই মিরাজ(২৫) পিতা: তমিজদ্দিন  গ্রাম: পালামগঞ্জ , তার ভাবী রেহেনা(২৮) বেগম সহ অঞ্জাত ৪ থেকে ৫ জন।আসামীদের মধ্যে ২ জন কে আটক করতে সক্ষম হয় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। দ্রুত বিচার আইনে তাদের মধ্যে একজনকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

বান্দুরায় আদালত উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্ঠা

ঢাকার নবাবগঞ্জের নতুন বান্দুরা গ্রামে বিচারাধীন একটি জমিতে রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণ করে দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার গভীর রাতের স্থানীয় মো. আনোয়ার হোসেন তার লোকজন নিয়ে এ ঘটনা ঘটায় বলে স্থানীয়রা জানান। জমিটি নিয়ে একই গ্রামের ফজলুর রহমান গংদের সাথে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা চলছিল।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন বান্দুরা মৌজার আরএস ২২৫নং দাগে ২.৫০ শতাংশ ও ৩২৮নং দাগের ২৪ শতাংশ, মোট সাড়ে ২৬ শতাংশ জমি নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে নতুন বান্দুরা গ্রামের ফজলুর রহমান গংদের সাথে একই এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনদের সাথে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে মামলা চলছিল (দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-২৫৬৯/২০০৮)। গত ৮মার্চ আদালত মো. আনোয়ার হোসেনের পক্ষে ডিগ্রি প্রদান করেন। সেই ডিগ্রির বিরুদ্ধে ফজলুর রহমান গং জেলা জর্জ আদালতে আপিল করেন (১৬৯/১৬) যাহা এখনো বিচারাধীন। এরমধ্যে ফজলুর রহমান গং এর পক্ষে তার ভাই আবুল হাসেম বাদী হয়ে গত ১৩ মার্চ ফের ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। মামলা নং- ৮৮/২০১৬ (নবাবগঞ্জ)। এব্যাপারে গত ৮জুন এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এবং দখল প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দেন আদালত। সেই মোতাবেক বাদী-বিবাদীকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ দু’পক্ষকে লিখিত নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু সোমবার গভীর রাতের আদালতের আদেশ অমান্য করে ঐ জমিতে ঘর নির্মাণ করে আনোয়ার হোসেন গং। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফজলুর রহমান গং প্রায় ৩৭ বছর ধরে ঐ জমিতে ভোগদখলে রয়েছেন।

স্থাপনা পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি এই সম্পত্তি ফজলুর রহমানদের। ওনারাই এই সম্পত্তি ভোগ দখলে আছেন। গতকাল সন্ধ্যায় জমিটি খালি দেখেছি। কিন্তু আজ সকালে দোকানে এসে দেখি সেখানে একটি টিনের ঘর। যা দেখে হতচকিত হয়ে গেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল রাজ্জাক বলেন, গতকাল পর্যন্ত জায়গাটি খালি দেখেছি। শুনেছি জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তাই হয়তো প্রতিপক্ষের দখল দেখাতে চুপিসারে ঘর তুলেছে। এব্যাপারে আনোয়ার হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আদালতের ডিগ্রি পেয়েছি তাই ঘর নির্মাণ করেছি। তবে রাতের আঁধারে কেন নির্মাণ করলেন এ প্রশ্নের তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, কেউ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।