প্রতিবছরই পদ্মার স্রোতে ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম। পাঁচ বছরে পদ্মা ঘ্রাস করে নিয়েছে হাতনী, পানকুণ্ড, ধোয়াইর, অরঙ্গাবাদ ও বালেঙ্গাসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার। ঝুঁকিতে থাকা বাড়ির লোকজন ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন। কখন ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়।
পদ্মা থেকে একটু দূরত্বে বসবাস করা মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ পরবর্তী ভাঙন থেকে তারাও যে রক্ষা পাবে না। পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে স্থলভাগ দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। ভাঙন রোধ করার ব্যবস্থা না নিলে কোনো এক সময় হয়তো ভুখণ্ড থেকে মুছে যেতে পারে উপজেলার স্থলভাগ।
বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে যায় পদ্মা পাড়ের বসতিদের। গত এক সপ্তাহে নারিশা ইউনিয়নের রানীপুর ও মধুরচর গ্রাম সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রমাণ হিসেবে দৃশ্যমান রানীপুর গ্রামের ব্রিজটির বাকি অংশ ওপরের দিকে দাঁড়িয়ে আছে আর অধিকাংশই পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
এ মৌসুমে নদী ভাঙনে নারিশা পশ্চিমচর, মেঘুলা, চর বিলাসপুর, মোকসেদপুর, মোহাম্মদপুর ও বাহাঘাট এলাকাসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক বতসবাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। দুই বছরে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে মেঘুলা বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। ভিটে বাড়িহারা অসহায় লোকজনের কারো আশ্রয় মিলেছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কারো বা রাস্তায়।
নারীশা পশ্চিমচর গ্রামের আলতাফ ভূঁইয়া (৬০) বলেন, কয়েকদিন আগে আমার বাড়ি-ঘর পদ্মায় কাইরা নিছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে দোহারের নাম মুইছা যাইবো।
এলাকাবাসীর অভিযোগ দোহারের ভাঙন কবলিত এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে পাস হয়। কিন্তু গত শুষ্ক মৌসুমেও এর কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকশ’ পরিবার।
নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী বাংলানিউজকে বলেন, ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন এলাকা পরিদর্শনও করেছে। শুধু কাজ শুরু বাকী।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা নিপা বাংলানিউজকে জানান, নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা।
দোহারে পদ্মার ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে স্থলভাগ
শোকদিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দোহার থানা পুলিশের শ্রদ্ধা
জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববুর রহমান এর ৪১ তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা দোহার উপজেলার পরিষদে বঙ্গবন্ধু জাতীর পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দোহার থানা পুলিশ।
শ্রোদ্ধাঞ্জলী ঞ্জাপনের পর কিছুক্ষন নিরবে দাড়িয়ে থাকে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম লিটু পিপিএম এর নেতৃত্বে একটি পুলিশ কর্তকর্তারা।
সিরাজুল ইসলাম বলেন ১৫ আগষ্ট এই দিনে কিছু দুঃশকৃত দেশ বিরোধী চক্রান্ত করে হাজারো বছরের শ্রেষ্টসন্তান স্বাধীন বাংলাদেশের স্হতপ্রতিক জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
এসময় আরো উপস্হিত ছিলেন দোহার থানা তদন্ত ওসি সোহেল রানা,সেকেন্ড অফিসারএস আই আঃ গনী,শফিউল আজম,আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলম, আলিম, প্রমুখ।
দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আমরা গড়ব: জজ মান্নান
আই জি আর জজ মান্নান বলেছেন, ‘দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ব। তবেই তার আত্মা শান্তি পাবে। খুনিদের বিচার করেছি। বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। একটাই কাজ দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলা।
সোমবার দুপুরে পদ্মা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাডেমিক ভবন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
৭ই মার্চের ভাষণের স্মৃতিচারণ করে আই জি আর জজ মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন সমাজের পরিবর্তন করতে হলে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাই সাধারণ মানুষের প্রতি ছিল তার অগাধ বিশ্বাস, ভালবাসা আর মমত্ববোধ। মানুষের মধ্যে তিনি উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করতেন না। যেকোনো মানুষ তার কাছে এলে তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনতেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আজ অনেক অজানা তথ্য দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসছে। ফলে মানুষের মাঝে বঙ্গবন্ধু দিনে দিনে আরও নতুন রূপে উন্মোচিত হচ্ছেন।
উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদ্বষ্টা মেজর জেনারেল ডাঃ এ আর খান। তিনি বলেন, মানুষের প্রতি ভালবাসাই বঙ্গবন্ধুকে মহান নেতায় পরিণত করেছে। তাই বঙ্গবন্ধু আজও বেঁচে আছেন লাখো-কোটি বাঙালির মনে।
এরপর প্রজেক্ট শো এর মাধ্যমে বংবন্ধু’র ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এর রঙ্গিন রুপান্তর ও জীবনী প্রদর্শিত করেন প্রভাষক তারেক রাজীব ও আলমগীর হোসেন শিশির।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, যুবলীগ নেতা মুসা, ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ পাঠাগার সম্পাদক গিয়াসুদ্দিন সোহাগ। এ সময় সোহাগের আহবানে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে প্রায় ৪০০ ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে খিচুড়ী বিতরণ করা হয়া ও দোয়া – মোনাজাত করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পদ্মা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুল হায়দার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র প্রভাষক আব্দুল জলিল।
নবাবগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন ৩ শতাধিক বাড়িঘর
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় কালিগঙ্গা নদীর ভাঙনে শোল্লা ইউনিয়নের তিন শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২/৩ দিন ধরে কালিগঙ্গা নদীর ভাঙন বেশি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ইউনিয়নের চকোরিয়া, খতিয়া ও কোণ্ডা এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, ৪/৫ বছরে নদী ভাঙনে সহস্রাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। কালীগঙ্গা নদীর ধারে যারা বাস করতো তারা বাড়িঘর হারিয়ে কে কোথায় চলে গেছে তা কেউ বলতে পারে না।
চকোরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার স্ত্রী শিউলি আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমাদের বাড়িটি অনেক বড় ছিলো, ভাঙতে ভাঙতে এখন এক শতাংশ জায়গা আছে। যেকোনো সময় বাকি জায়গাটুকুও ভেঙে যেতে পারে। এরপর মনে হয় স্বামী-সন্তান নিয়ে রাস্তায় থাকা লাগবো।’
নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছি। ভাঙন এলাকার মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা সব সময়ই থাকবে।’
দোহার পৌর মেয়র রহিম মিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা করার ঘোষণা
মুক্তিযুদ্ধকালীন শান্তি কমিটির (পিচ কমিটি) সদস্য ঢাকার দোহার পৌর মেয়র আব্দুর রহিম মিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রজ্জব আলী মোল্লা। সোমবার দুপুরে দোহার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনাসভায় বক্তব্যকালে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেকে হাত উঁচিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে সমর্থন ও মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন রহিম মিয়া শান্তি কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কীভাবে তিনি গত ১৬ বছর দোহার পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা আমরা জানতে চাই। কীসের বলে, কোন শক্তিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মেয়র হিসেবে রয়েছেন তা জানতে চাই? তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনকে বলতে চাই, কেউ যদি তার বিরুদ্ধে মামলা না করেন, তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও কমান্ডার হিসেবে আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা নীপা, দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ প্রমুখ।
নবাবগঞ্জে সড়ক দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বালুরচর এলাকায় সেতুর এপ্রোচ সড়ক দখল করে ইট রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০১ সালে বালুরচর ও টুকনীকান্দা খালের ওপর সেতুটি নিমাণ করা হয়। সে সময়ে এলাকাবাসী সেতুর এপ্রোচসহ সড়কের জন্য জমি ছেড়ে দেয়। সেই অনুযায়ী আমিন দ্বারা পরিমাপ করে খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। সেইভাবে প্রতিবেশী পরিবার হাফিজ সিকদারেরও জমি ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি জমি না ছেড়ে সেতুর এপ্রোচসহ রাস্তার জমি নিজের দখলে নেন। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশে বসলেও দখলকারী সড়ক ছাড়ছেন না। সম্প্রতি হাফিজ সিকদারের পরিবার রাস্তায় ইট রেখে দখলে নিয়েছে। উঠিয়ে ফেলা হয়েছে সীমানা খুঁটি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান ওরফে মনির মাস্টার অভিযোগ করেন, হাফিজ সিকদার তার ছেড়ে দেওয়া রাস্তার জমিও দখল করেছে। এতে আশপাশের পরিবারগুলোর চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু বলতে গেলে নানা রকমের হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে হাফিজ সিকদারের স্ত্রী বলেন, আমার শ্বশুরসহ স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বি মিলে সেতুর স্থান নির্ধারণ করেছিলেন। সড়কের জমি তাদের ক্রয় করা। রাস্তায় দিলে তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় বক্সনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ মিয়া বলেন, সেতু তৈরির সময় সড়ক করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ সিকদার ও জব্বার সিকদার সড়ক আটকে দিয়েছে বলে শুনেছি। এতে ওই এলাকার জনসাধারণসহ স্কুলগামী শিশুরা ভোগান্তিতে পড়েছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে খোঁজ নেওয়া হবে। পরে ভূমি প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোহারে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গন চলছেই
দোহারে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গন চলছেই। এ পর্যন্ত শতাধীক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এক তো পদ্মায় প্রবল স্রোত অপর দিকে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে প্রায় শতাধিক বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। নতুন করে মুকসুদপুরের পুরুলিয়া থেকে নারিশা ইউনিয়নের পূর্বচর পর্যন্ত নদী পারের ২টি গ্রাম পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে। এলাকাবাসী সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, গত বছর দোহারের ভাঙনকবলিত এলাকায় সাড়ে তিন কি.মি স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ২১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে পাস হয়। কিন্তু গত শুষ্ক মৌসুমেও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে ভাঙন এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বাড়ছে।
গত এক সপ্তাহে নারিশা ইউনিয়নের রানীপুর ও মধুরচর গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী নারিশা পশ্চিমচর গ্রামের ইতিমধ্যে ১৫টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে মেঘুলা বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা ও মধুরচরে ২ শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। চর বিলাশপুর ও মুকসেদপুরের আরও ২০টির মতো ঘরবাড়ি পদ্মায় চলে গেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছে এলাকার অসহায় মানুষ। যেন তাদের দেখার কেউ নেই। দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে আরও কয়েক হাজার পরিবার।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘুলা বাজার দক্ষিণে রানীপুর গ্রামের ব্রিজটির অধিকাংশই পানির নিচে ডুবে রয়েছে। বাকি অংশ ওপরের দিকে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়রা জানান, গত ২ বছরে প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসতভিটে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়ে দুখে কষ্টে জীবন কাটছে।
নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন এলাকা পরিদর্শনও করেছে। ভাঙ্গনরোধে জরুরি ভিত্তিতে নারিশা, মেঘুলা, নারিশা খালপাড়, নারিশা পশ্চিমচর গ্রামে জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার অনুমোদন দিলেই ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে ভুক্তভোগীরা।
দোহার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামীম আরা নিপা বলেন, নদী ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও অবগত করা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকার দোহারের পদ্মা পাড়ের মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক বেড়ে যায়। কেননা প্রতি বছরই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। গত ৫ বছরে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে হাতনী, পানকুন্ড, ধোয়াইর, অরঙ্গাবাদ, বালেঙ্গাসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে কয়েক হাজার পরিবার।
দোহারে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ
ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া হাটে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। ১১ই আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জয়পাড়া হাটে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম জাকারিয়া অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ করেন।
দোহার উপজেলা মৎস্য অফিসার এবিএম জাকারিয়া জানান, বৃহস্পতিবার দোহার উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট বার হওয়ায় জয়পাড়া হাটে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামিম আরা নিপা জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ফেলে। জব্দকৃত কারেন্ট জালের বিক্রিয় মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা বলে মৎস্য কর্মকর্তা জানান।
ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কে ভয়াবহ যানজট
ঢাকা-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রী সাধারণের কাছে যানজট একটি অতিপরিচিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকগুলো সড়কে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজটের সম্মুখীন হচ্ছেন এলাকাবাসী ও যাত্রীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার নবাবগঞ্জ বাজার ও চৌরাস্তা, বাগমারা বাজার, দীঘিরপার, টিকরপুর ও বান্দুরা বাজার এলাকায় ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। প্রতিদিন শত-শত ব্যাটারিচালিত অটোবাইক মোড়গুলোর মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। এতে রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রী, জনসাধারণ ও বাজারের ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে। তাছাড়া অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকা গর্তে ইজিবাইক উল্টে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দোহার নবাবগঞ্জ ও ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকার অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করছেন। কিন্তু যাটজটের কারণে সঠিক সময়ে তারা পৌঁছতে পারছেন না। ফলে সময় ও অর্থ দুটির অপচয় হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব সড়কে যাতায়াতে বা বাজারগুলো পার হতে বেশ সময় নষ্ট হচ্ছে। নবাবগঞ্জ বাজার কমিটি সভাপতি শাহজাহান চুন্নু বলেন, চালকদের সঠিক নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানো, অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট, মার্কেটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কারণেও যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। এ জন্য প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসাধারণকেও সচেতন করে তুলতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, গত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের উপস্থিতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নবাবগঞ্জ ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।
দোহারে নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিতদের মাঝে ডিএনএসএম-এর ত্রাণ বিতরণ
দোহার ও নবাবগঞ্জ ভিত্তিক সমাজসেবী সংগঠন দোহার নবাবগঞ্জ সোশ্যাল মুভমেন্ট দোহারের নদী ভাঙন ও বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছে। ১২ আগস্ট শুক্রবার সকাল নয়টায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে ও দুপুর একটার দিকে কার্যক্রম শেষ হয়।
নয়াবাড়ী, বাহ্রা, ধোয়াইরের দুর্গতদের মাঝে ধোয়াইর বাজারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেখানে ২০৫টি পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেয়া হয়। বিলাশপুর ও মহামুদপুরে ১৬০ ব্যাগ ত্রাণ দেয়া হয়। রাণীপুর, মধুরচর ও কাজীর চর এলাকার দুর্গতদের মাঝে ১৫০ ব্যাগ ত্রাণ দেয়া হয়। এবং পশ্চিম চর ও নারিশায় ৬০ ব্যাগ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণের অর্থ সংগ্রহ ও কার্যক্রমে ডিএনএসএমর সাথে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান, স্কলার্স ইউনিয়ন অব দোহার সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এতে দিন রাত পরিশ্রম করেন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ শতাধিক কর্মী।
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে এবছর বিলুপ্ত হয়ে গেছে দোহারের রাণীপুর গ্রাম, পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে মেঘুলা বাজের কাছে এসে পড়েছে। এই ভাঙনের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে বন্যা। দুই দুর্যোগ পদ্মাতীরবর্তী জনগনের নাজেহাল অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে ডিএনএসএম ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য ডিএনএসএম দোহারবাসীর সহযোগীতা চায়। সাধারণ জনগন, স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ীরা অভুতপূর্ভ সাড়া দেন।
মানুষের সহযোগীতায় এক সপ্তাহের কর্মযজ্ঞ শেষে শুক্রবার সকালে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়। প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার ৫৭০ ব্যাগ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এতে চাল, ডাল, আলু, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, চিনি, বিস্কিট, মোম, দিয়াশলাই, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্যারাসিটামল ইত্যাদী অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি উপস্থিত থেকে সহযোগীতা করেন নির্মল রঞ্জণ গুহ – সহ-সভাপতি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শামীম আহমেদ হান্নান- চেয়াম্যান, নয়াবাড়ী ইউনিয়ন, জাজ ফারুক হোসেন, শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান, রাজীব শরীফ – সভাপতি, দোহার উপজেলা ছাত্রলীগ, আবু জাফর – সভাপতি, দোহার পৌরসভা ছাত্রদল, বাশার চোকদার – সভাপতি, দোহার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জীবন আহমেদ – সমন্বয়ক, SUD, আনোয়ার হোসেন – উপজেলা চেয়াম্যানের ছোটভাই, কানাডা প্রবাসী জামাল হোসেন প্রমুখ।
তিন দিন ধরে ত্রাণের সামগ্রী রক্ষণ, প্যাকেটজাতকরণ সহ যাবতীয় কার্যক্রমের জন্য প্রতিভা কোচিং সেন্টারের স্থান ব্যবহার করতে দেয়ায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম কোচিং সেন্টারের পরিচালক আরিফ স্যারকে ধন্যবাদ জানান।



