মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড পেলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন

মহাত্মা গান্ধী গবেষণা পরিষদ প্রবর্তিত ‘মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। গতকাল বিকাল চারটায় ‘মহাত্মা গান্ধী গবেষণা পরিষদ’-এর আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন এবং আজকের বিশ্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। সাবেক তথ্য সচিব মার্গুব মোর্শেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভিসি অধ্যাপক আবদুল মান্নান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে ‘মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। উল্লেখ্য, আলমগীর হোসেন বেক্সিমকো মিডিয়া লিমিটেডের একজন পরিচালক এবং পাক্ষিক আনন্দভুবন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দোহারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল ছাত্রদল

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সারাদেশের ন্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। মিছিলে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি দোহারের ভিপি কামাল সহ শতাধিক নেতা কর্মি।

j-1

এছাড়া দোহারে যুবদল ও ছাত্রদল ও মিছিল করেছে।

j-1

জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ রোপণ

0

দোহার উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র জয়পাড়ায় অবস্থিত জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণকে যুগোপযোগী ও পরিবেশবান্ধব করতে শতাধিক লম্বু জাতীয় চাড়াগাছ রোপণ করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক ও অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে দোহার পৌরবাসীদের

0

পৌরসভা মানে উন্নয়ন এমন টা ভেবে ছিল জনগন।ড্রেন রাস্তা নানা সুবিধা সহ বয়বে উন্নয়নের জোয়ার। কিন্তু স্বপ্নের ভরাডুবি হয়েছে দোহার পৌরবাসির। সরজমিনে দেখা যায় -ছোট বড় খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে রাস্তাঘাটে।

সামান্য বৃষ্টিতে হাটু পানি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি সরে যাবার মত নেই- কোন ড্রেন। আরো দেখা যায়-পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও কাদায় পূর্ণ হয়ে যায়।

বর্ষার মৌসুমে ও বৃষ্টি এলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সহস্রাধিক লোকজন চলাচলে দারুন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তা সংস্কারের অভাবে বর্তমানে জনগনের চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

প্রতিদিনই ঘটছে রিক্সা ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার দূর্ঘটনা। ওয়ার্ড কমিশনার ও অন্ধের মত হাটছেন রাস্তা দিয়ে যেন দেখে দেখছেন না তিনি।

পৌরবাসি অভিযোগ করেন তাদের এই দুর্ভোগের কথা পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের কর্মকর্তা মুশিউর রহমান ও পৌরমেয়র আ:রহিম মিয়া কে জানালেও কতৃপক্ষ কোন সারা দেয়নি।

পৌরবাসীরা আরো বলেন অসহায় দরিদ্র মানুষের কাছে জোর করে নেওয়া হচ্ছে টেক্স,অতিরিক্ত পৌরকর যা আমাদের সামর্থ্যের বাইরে। তারপরও অধিকার থেকে বঞ্চিত আমরা।

ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়ক: খানাখন্দ, যানবাহন চলাচল ব্যাহত

ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের বকসনগর বাজার এলাকা খানাখন্দে ভরে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে পানি জমে। এ কারণে সড়কটির এই অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চালক ও যাত্রীরা পোহাচ্ছেন দুর্ভোগ।
ওই সড়কের বাসচালক মো. আজগর আলী বলেন, ‘এমনিতে রাস্তাটা অনেক সরু। এর ওপরে জায়গায় জায়গায় ভাঙা। এ কারণে ঢাকা যাওয়া-আসায় বেশি সময় লাগে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’
এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সাফা আক্তার। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই সড়কটা ভাঙা, কিন্তু মেরামত করা হয় না। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত কষ্টকর। অটোরিকশায় গেলে ভাঙা এ অংশে অনেক বেশি ঝাঁকুনি লাগে।
বকসনগর ইউনিয়নের অপর একটি বাজার কোমরগঞ্জ। বাজারের রাস্তার দুই পাশেই দোকান। রাস্তার অনেক অংশের পিচ উঠে গেছে। অনেক জায়গায় খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তগুলোতে পানি জমে।
কোমরগঞ্জের বাসিন্দা মো. আজর আলী বলেন, এখানে মাঝে মাঝে ভাঙা রাস্তা মেরামত করা হয়। কর্তৃপক্ষ কিছু ইটের টুকরা দিয়ে তার ওপর পিচ ঢেলে চলে যায়। যেদিন রাস্তা ঠিক করে, পরের দিনই পিচ উঠে যায়।
কোমরগঞ্জ বাজারের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মো. রিপন বলেন, রাস্তাটি বড় গাড়ি চলাচলের উপযোগী নয়। এরপরও অনেক গাড়ি চলাচল করে। রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে এখানে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মুন্সিগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশীদ বলেন, এই মুহূর্তে সড়ক সংস্কার করার মতো কোনো বাজেট নেই। তবুও যেসব মালামাল রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে রাস্তা উঁচু করে পানি জমা বন্ধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সামনে বাজেট হলে রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে। রাস্তার পাশে নর্দমার ব্যবস্থা করা হবে।

নবাবগঞ্জ-কলাকোপা সড়ক: খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচলই দুস্কর

কষ্ট করে সড়কের কাদা আর পানি মাড়িয়ে হাঁটছেন পথচারীরা। অটোরিকশায় চলতে গেলেও তীব্র ঝাঁকুনি খেতে হয়। একটু বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তগুলোতে জমে পানি। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা বাজারে যাওয়ার সড়কের বর্তমান হাল এটি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সমসাবাদ হয়ে কলাকোপা ইউনিয়নে যাওয়ার রাস্তাটি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের অধীনে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ বাজার থেকে দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সড়ক দিয়ে একটু সামনে গেলেই কলাকোপা বাজারের রাস্তা। কলেজ থেকে সমসাবাদ এলাকার শুরু। সমসাবাদ থেকে পোদ্দার বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ভাঙা। কোথাও কোথাও বড় গর্তের কারণে পথচারী ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকেরা রাস্তা ছেড়ে দোকানের সামনের জায়গা দিয়ে চলাচল করছেন।
এলাকাবাসী জানান, বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমে। আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালুর কারণে এ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নবাবগঞ্জ বাজার থেকে কলাকোপা বাজারে যাওয়ার এ রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা সদর থেকে খুব কাছেই কলাকোপা ইউনিয়ন। এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত ভারী ট্রাক চলাচল করে। ট্রাকগুলো বাজার থেকে চাল, কলা ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন করে। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অটোরিকশাচালক মো. সুমন বলেন, এক বছর আগে একবার সামান্য পিচ দিয়ে রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল। এরপর বৃষ্টির পানি জমে ও ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
পোদ্দার বাজারের ব্যবসায়ী আনন্দ চন্দ্র বালো বলেন, ‘প্রায় এক বছর হতে চলল এ রাস্তাটি এ রকম হয়ে পড়ে আছে। এ সরু রাস্তা দিয়ে বড় বড় ট্রাক কলাকোপা বাজারে চাল ও কলাসহ বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়া করায় এ রাস্তা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ইউনিয়নের অনেক শিক্ষার্থী পোদ্দার বাজারের হরেকৃষ্ণ কুসুমকলি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। যাদের বেশির ভাগ সমসাবাদ, হাড়ভাঙ্গা, বটতলা, আমতলা ও কলাকোপা বাজার থেকে যাতায়াত করে। রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ফারুক হোসেন বলে, ‘স্কুলে যাওয়ার রাস্তা ভাঙা থাকায় বেশির ভাগ সময় হেঁটে আসি। বৃষ্টি হলে বেশি কষ্ট হয়।’
কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘রাস্তার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি। এখন বর্ষা মৌসুম চলছে, এ কারণে কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হবে না। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে রাস্তা মেরামত করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহীপ্রকৌশলী মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা চেয়েছি। জুন-জুলাই মাসে কোনো বাজেট বরাদ্দ থাকে না। সে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোয় কাজ করা যাচ্ছে না। তবে কলাকোপা বাজারে যাওয়ার রাস্তার কাজ খুব শিগগির শুরু করা হবে। অন্য রাস্তাগুলো মেরামতের কাজ শুরু করতে আরও দু-তিন মাস লেগে যাবে।’

তিন বছরেও হয়নি সংস্কার: দেবে গেছে দোহারের লটাখোলা সেতু

0

ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলা সেতুটি তিন বছর ধরে ভেঙে অনেকটা দেবে আছে। পুনর্নির্মাণের আগ পর্যন্ত সেতুটিতে গাড়ি চলাচলের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি সংস্কার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সেতুটি দোহার পৌরসভার ভেতরে পড়েছে। এর দুই পাশে দুটি ইউনিয়ন। জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল সেতুটি। এটি বড় হওয়ার কারণে সংস্কার করা সম্ভব নয়। উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সুশীল কুমার সরকার বলেন, ‘সেতুটি জেলা পরিষদ নির্মাণ করলেও এখন এলজিইডির মাধ্যমে পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যত দূর জানি, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।’
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুটি পিলার দেবে একাংশ উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। সেতুর দুই পাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীও অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। সেতুর ওপর দাঁড়ালে কাঁপুনি লাগে।
দোহার উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সেতুটি ভেঙে এভাবে দেবে আছে তিন বছর ধরে। এর আগে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই উপজেলা প্রশাসন সেতুটি বন্ধ করে দেয়। তখন এলাকার লোকজন প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে আবারও চলাচল করত। তিনি বলেন, সেতুটি দিয়ে দিনে অন্তত ১২ হাজার মানুষ হেঁটে ও গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করে।
বিলাসপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আনছার মাদবর বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোক পাঠিয়ে সেতুটিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে গাড়ি ওঠার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন শুধু মানুষ পারাপার হওয়ার মতো ছোট রাস্তা আছে। আর কত দিন গেলে এই সেতু ঠিক করা হবে আল্লাহই জানেন।
পৌরসভার মেয়র আবদুর রহমান মিয়া বলেন, সেতুটি জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী মিলে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বন্ধ করে দেন। পরে লোকজন আবার চলাচল শুরু করেছে। এখন আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ইউএনও কে এম আল আমীন বলেন, ‘সেতুটি অনেক বড়। এটি পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছি। এখনো চিঠির কোনো জবাব পাইনি। পুনর্নির্মাণের আগ পর্যন্ত সেতুটিতে যান চলাচল বন্ধ করতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। আপাতত লোকজন চলাচল করার জন্য একটু ফাঁকা রাখা হয়েছে।’

ইতিহাসের সফল নারী শাসক

0

ইতিহাসের পাতায় সফল শাসক বা বীর শাসকের তকমাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাগানো হয়েছে পুরুষের পেছনে। কিন্তু ইতিহাসে এই পুরুষদের আড়ালে এমন অনেক নারী শাসকও রয়েছে যারা কিনা নিজেদের শৌর্য আর সুকৌশলী বুদ্ধির দ্বারা সফলভাবে রাজ্য শাসন করেছেন, দেশ জয় করেছেন। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছড়িয়ে গিয়েছেন পুরুষকেও। কিন্তু তাদের নাম বেশিরভাগ সময়েই রয়ে গিয়েছে অন্তরালে। হারিয়ে গিয়েছে ইতিহাসের পাতা থেকে। চলুন দেখে আসি সেই সফল নারী শাসকদের কয়েকজনকে।
১. আমিনা: ১৬ শতকে জন্ম নেওয়া আমিনা নামের এই নারী ছিলেন অসীম সাহসী, অসম্ভব শক্তিশালী যোদ্ধা, সামরিক নেতা এবং খুব সম্ভবত বর্তমান নাইজেরিয়ায় অবস্থিত তত্কালীন জাজ্জাওয়ের ( যাকে আমরা এখন জারিয়া বলে চিনি ) শাসক। প্রাচীন শাসক বাকওয়া তুরুনকুর বড় মেয়ে হওয়ায় বংশগতভাবে সিংহাসনে বসেন আমিনা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি তিনি। একটু একটু করে বাড়িয়ে তুলেছেন নিজের এলাকা। ধারণা করা হয় যে, নিজের সিংহাসনের ওপর একচ্ছত্র মালিকানা রাখতেই কখনো বিয়ে করেননি আমিনা। চাহিদা মেটানোর জন্যে দেহরক্ষকদের ভেতর থেকে পুরুষ বাছাই করতেন তিনি। সেটাও কেবল এক রাতের জন্যে। রাত শেষে মেরে ফেলা হত রক্ষীকে। তবে দূর্ভাগ্যক্রমে একবার এক রক্ষী সকালবেলায় পালিয়ে যায়। আর তাকে হত্যা করতে গিয়ে মারা পড়েন আমিনা।

২. জো পোরফিরোজেনিটা: অষ্টম কন্সটেন্টাইনের মেয়ে জো পোরফিরোজেনিটা এবং তার স্বামী তৃতীয় রোমানোস যৌথভাবে বাইজেন্টাইনের সিংহাসনে বসেন। অবশ্য কিছুদিন পরেই রোমোনোসের মৃত্যু হয় এবং তার পেছনে জো আর তার প্রেমিক চতুর্থ মাইকেলের হাত ছিল বলে মনে করা হয়। অবশ্য কিছুদিন পরেই বিয়ে করে নেন তারা আর এক পুত্র সন্তানকে দত্তক নেন। মাইকেল মারা গেলে জোকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে একাই বেশ জাঁকিয়ে বসে ছেলে পঞ্চম মাইকেল। অবশ্য নাগরিকরা জোকে এতটাই ভালোবাসতো যে তারা মাইকেলকে সরিয়ে বার জোকেই ফিরিয়ে আনে। তবে জোয়ের মন ততদিনে সিংহাসন থেকে উঠে গিয়েছিল। নিজের তৃতীয় স্বামীর হাতে সিংহাসনের ভার দিয়ে তাই অনেকটা দূরে চলে যন তিনি।

৩. সুইডেনের রানী ক্রিস্টিনা: রাজা দ্বিতীয় গুস্তাভ অ্যাডলফের মৃত্যুর পরে মাত্র ছয় বছর বয়সে সিংহাসনের ক্ষমতা পান ক্রিস্টিনা। কিন্তু সিংহাসনে বসেন তিনি ১৮ বছর বয়সে। অল্প বয়সে সিংহাসনে বসে বেশ ঘাবড়ে যান তিনি। রাজ্য পরিচালনায় বেশ দূর্বলতা দেখা যায় তার। ফলে একটা সময় রাজ্যের শাসনক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে রোমে চলে যান ক্রিস্টিনা। আর সেখানেই বাকীটা জীবন কাটান তিনি। দেশের ভালোর জন্যে যোগ্য শাসকের হাতে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরিত করেন ক্রিস্টিনা।

৪. রাণী লক্ষী বাঈ: ছোটবেলাতেই কী করে যুদ্ধ করতে হয়, মার্শাল আর্ট আর তরোয়াল চালনা, রাজ্য চালনা- সবটাই শিখে নিয়েছিলেন লক্ষী বাঈ। তার এই সব শিক্ষাই কাজে আসে যখন উত্তর ভারতের ঝাঁসির রাণী হিসেবে সিংহাসনে বসেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর ইংরেজরা লক্ষী বাঈয়ের দত্তক নেওয়া সন্তানকে রাজা হিসেবে মানতে রাজী ছিলনা। ফলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন এই নারী। যদিও তার শক্তি খুব তুচ্ছ ছিল ইংরেজদের সামনে, তবুও ২২ বছর বয়সী এই নারী অসীম সাহস নিয়ে নিজের শেষ শ্বাস পর্যন্ত যুদ্ধ করেন।

ইসলামে নান্দনিকতা ও শিল্পকলার প্রতি উৎসাহ

0

বিজ্ঞানের বিকাশে কোরআনে কারিমের যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে শিল্পকলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও। কোরআন মুসলমানদের শিল্পকলার চর্চায় উ‍ৎসাহিত করেছে। যেমন- সুন্দর ও সহিহশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত থেকেই সুললিত উচ্চারণের একটি শাখার উদ্ভব হয়েছে। আবার কোরআন সংরক্ষণ প্রচেষ্টা থেকেই ক্যালিওগ্রাফি বা সুন্দর হস্তলিখন এবং বাঁধাই শিল্পের সূত্রপাত ঘটেছে। মসজিদ নির্মাণশৈলী থেকেই সৃষ্টি হয়েছে স্থাপত্য এবং অলঙ্করণ শিল্পের।
মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন।’ অন্য হাদিসে ‘সবকিছুর মধ্যে সৌন্দর্য বজায় রাখতে’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একদিন নবী করিম (সা.) একটি কবরস্থান দেখতে পেলেন; কিন্তু কবরস্থানটি পুরোপুরি সমান ছিলো না। তখনই কবরস্থানটি সংস্কার করার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, কবরস্থানটি সংস্কার করার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির মঙ্গল-অমঙ্গলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমাদের চোখে এটা দেখতে ভালো লাগে। আল্লাহ এটা পছন্দ করেন যে, আমরা যখন কোনো কাজ করব, তখন তা অবশ্যই যথাসম্ভব সুন্দরভাবে করবো। -ইবনে সাদ
ললিতকলার প্রতি মানুষের একটি স্বভাবজাত আকর্ষণ রয়েছে। আল্লাহতায়ালা অফুরন্ত প্রাকৃতিক নিয়ামতের মতো শিল্পকলা সম্পর্কিত প্রতিভাও একটা নিয়ামত। শিল্পকলা মানুষের জীবনাচরণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে।
এখানে বলে রাখা আবশ্যক, ইসলামে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ির অবকাশ নেই। এমনকি সংযমের নামে মাত্রাতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধন এবং বৈরাগ্য ইসলামে নেই।
নবী করিম (সা.)-এর জন্য সর্বপ্রথম যে মিম্বরটি তৈরি করা হয়েছিল, তাও দু’টি গোলক বা গোলাকার বস্তু দ্বারা সাজানো হয়েছিল। গোলক দু’টি ছিল অনেকটা ডালিমের মতো। নবী করিম (সা.)-এর দুই প্রিয় নাতি এ গোলক দু’টি দিয়ে বেশ মজা করে খেলতেন। এখান থেকেই কাঠের কারুকাজের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীকালে কোরআনের কপিগুলো নানা রঙে সুশোভিত করা হয় এবং সেগুলো বাঁধাইয়ে দারুণ যত্ন নেওয়া হয়।
সংক্ষেপে শুধু এটুকু বলা যেতে পারে, শিল্পকলার বিকাশ ও প্রসারের ক্ষেত্রে ইসলাম কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে না। বাধা-নিষেধ আরোপ করে থাকে শুধু প্রাণীর প্রতিকৃতি চিত্রায়ন বা নির্মাণের ক্ষেত্রে। এর পেছনেও কতগুলো যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। কারণগুলো প্রধানত মনোজগত, সামাজিক, জীববিদ্যা ও আধ্যাত্মিক বিষয়ে সম্পর্কিত।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, মূর্তিমান শিল্পের ব্যাপারে ইসলামে যে বিধি-নিষেধ রয়েছে তা কখনও মুসলমানদের শিল্পচর্চাকে ব্যাহত করতে পারেনি; বরং তাদের হাতে বিমূর্ত শিল্পচর্চার যে বিকাশ ঘটেছে তা খুবই বিস্ময়কর। কোরআনে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে সাজসজ্জার অনুমোদন রয়েছে। -সূরা নূর: ৩৬
মুসলমানরা ছবি আঁকার পরিবর্তে ক্যালিওগ্রাফিকে গ্রহণ করেছে শিল্পকর্ম হিসেবে। বলতে গেলে এটি তাদের একান্ত নিজস্ব সম্পদ। তারা প্রধানত অঙ্কন, কাপড় ও বিভিন্ন দ্রব্য চিত্রায়নের কাজে ক্যালিওগ্রাফি ব্যবহার করে থাকে। যেসব ক্যালিওগ্রাফি দরদ, যত্ন ও নৈপুণ্যের সঙ্গে প্রণীত হয়েছে, সেগুলোর মান খুবই উন্নত। দেখতেও চমৎকার এবং মনোমুগ্ধকর। এগুলোর সৌন্দর্য সত্যিই অবর্ণনীয়।
কোরআন তেলাওয়াত মুসলমানদের শিল্পচর্চার আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। কোরআন তেলাওয়াতে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের অবকাশ নেই। কোরআনের সব আয়াত সমান ও একই মাত্রার নয়। নবী করিম (সা.)-এর কাল থেকে মুসলমানরা পরম আগ্রহের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত করে আসছেন। কোরআনের নিজস্ব একটি গতি ও ছন্দ আছে। এর আয়াতগুলো খুবই শ্রুতিমধুর ও মিষ্টি। অন্য যে কোনো ভাষার গতি ও ছন্দের মান যত উন্নত ও চিত্তাকর্ষকই হোক না কেন, তা কখনও কোরআনের মিষ্টি মধুর সুরকে ম্লান করতে পারে না।
কবিতা সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, এমন কিছু কবিতা আছে যেগুলো জ্ঞানের গভীরতায় পরিপূর্ণ। আবার কোনো কোনো বক্তার বক্তব্যের কার্যকারিতা একেবারেই চিত্তাকর্ষক। কোরআনে নৈতিকতাবিরোধী কবিতাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কোরআনের এই বিধানের প্রতি লক্ষ্য রেখেই নবী করিম (সা.) তদানীন্তন কবিদের সঠিক পথনির্দেশ দিয়েছেন। তাদের জানিয়ে দিয়েছেন তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে।
সংক্ষেপে শুধু এটুকুই বলা যায়, শিল্পকলার বিকাশের ক্ষেত্রে মুসলমানদের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা নতুন নতুন এমন অনেক বিষয় উদ্ভাবন করেন যা ছিল মানুষের চিন্তার বাইরে। অথচ এক্ষেত্রে তারা চম‍ৎকার রুচির পরিচয় দেন এবং ক্ষতিকর বিষয়গুলোকে সযত্নে পরিহার করেন।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে। সেটা হলো- অতি অল্প সময়ের মধ্যে মুসলমানরা বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ অবস্থায় মুসলমানদের যদি নিজস্ব কোনো শিল্প-সংস্কৃতি না থাকত, নবী করিম (সা.) যদি মুসলমানদের মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতিবোধকে উজ্জীবিত না করতেন, তাহলে সহজেই তারা অমুসলমানদের সংস্কৃতির মধ্যে বিলীন হয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হয়নি। বরং বিজিত এলাকার লোকের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই মুসলমানদের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সঙ্গে বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও মুসলমানরা তাদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলত। আর এটা তারা করত মানবতার বৃহত্তর স্বার্থেই।

সৈয়দ হক রয়ে গেলেন পরানের গহীনে

0

‘আলো নিভে যায়, নিভে যায় আলো একে একে জানালায়। থেমে যায় গান, তারপরও প্রাণ; বাঁশিটির মতো বেজে চলে যেন সবই আছে সবই ছিলো।’ সৈয়দ শামসুল হক চলে গেলেন, কিন্তু রয়ে গেলেন হাজারও পাঠক ভক্তকুলের পরানের গহীনে। গতকাল মঙ্গলবার স্বজন-বন্ধু-দুর্জনদের কাঁদিয়ে চলে যান তিনি। ক্যান্সারে আক্রান্ত এ কবি জীবন সায়াহ্নে বলেছেন, ‘কত লেখা এখনও বাকি’। লেখা হলো না বটে, কিন্তু সৈয়দ হকের অসামান্য অবদানগুলো রয়ে গেল বইয়ের পাতায় পাতায়।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সৈয়দ শামসুল হককে শেষ বিদায় জানালেন ভক্ত অনুরাগীরা। শহীদ মিনারে ১১ টায় তার মরদেহ আনা হলে ঠিক তার কবিতার মতো বেজে ওঠে গত জুনে লেখা কবিতা- ‘ফুলের গন্ধের মতো থেকে যাবো তোমার রুমালে/ ধূপের গন্ধের মতো তোমাদের শান্ত সন্ধ্যাকালে/সমস্ত দিনের শেষে থেকে যাবো নদী পারাপার/তখনো যাত্রীর দেখা পাওয়া যাবে এই নদী পার।
মরদেহ শহীদ মিনারে এলে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর পর সর্বস্তরের মানুষ মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা জানানোর পর রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘তিনি যে জায়গায় হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। তার প্রায় পৌনে ২০০ কবিতা, ৮টি গল্পসহ অসংখ্য রচনা রয়েছে। তিনি জীবনে সময়ের অপচয় করেননি। তিনি তার যে সৃষ্টি রেখে গেছেন তার বাংলা সাহিত্যের জন্য বিপুল সম্ভার। আমরা সেগুলো পড়লে সমৃদ্ধ হবো। তার রচিত মঞ্চনাটক পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। সবচেয়ে বড় কথা তার বুকে ছিল বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু।’
নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বাংলা কাব্য সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি যেই ধারার লেখক এ ধরনের লেখকের নাটক জনপ্রিয় হয় বিষয়টি তা নয়। কিন্তু সেটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার নাটকগুলো ছিল উচ্চমানের। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনে বসে শেকসপিয়ারের হ্যামলেট নাটকের অনুবাদ করেছেন।’
সৈয়দ হকের ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক বলেন, ‘আমি বাবা হারিয়েছি, কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে বাংলাদেশ একজনকে হারিয়েছে। এতো শ্রদ্ধা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।’
সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক,ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সব্যসাচী। ১৯৬৪ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান সৈয়দ শামসুল হক। ১৯৫০-এর দশকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। পরে ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘নিষিদ্ধ লোবান’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’, ‘বারো দিনের জীবন’, ‘তুমি সেই তরবারী’, ‘কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন’, ‘নির্বাসিতা’র মতো বিখ্যাত উপন্যাস উপহার দিয়েছেন। তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একদা এক রাজ্যে’, ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’, ‘পরানের গহীন ভিতর’, ‘অপর পুরুষ’, ‘অগ্নি ও জলের কবিতা’। ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য।