আশুলিয়ায় ২০৩০ বোতল ফেন্সিডিল সহ দোহারের যুবক আটক

সাভারে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় বিশেষ কৌশলে বহনের সময় দুই হাজার ত্রিশ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-১২- ০৪-৮৩) জব্দ করেছে র‌্যাব-৪। এঘটনায় আব্দুল মালেক(৩৫) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত আব্দুল মালেক ঢাকার দোহারের বিলাশপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘা এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

র‌্যাব জানায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকার মানিকের গ্যারেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কারে অভিযান চালায় র‌্যাব-৪। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাবার সময় আব্দুল মালেক নামে একজনকে আটক করে র‌্যাব।

এসময় প্রাইভেট কারের ভেতরে তল্লাশী চালিয়ে বিশেষ কৌশলে রাখা দুই হাজার ত্রিশবোতল ফিন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।

এঘটনায় জব্দকৃত ফেন্সিডিল ও প্রাইভেটকারসহ আটককৃত মালেককে আইনানুগ প্রকৃয়া গ্রহন করে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব চার এর স্কোয়াড কমান্ডার উনু মং।

মায়ের অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের দুই বছরের জেল

নবাবগঞ্জে মায়ের অভিযোগের উপর ভিত্তি করে রাকিব হোসেন(২৬) নামক এক যুবকের দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। সাজাপ্রাপ্ত রাকিব হোসেন নবাবগঞ্জ উপজেলার পানালিয়া গ্রামের নুর হোসেনের পুত্র।

নবাবগঞ্জ থানার সহকারি উপ পরিদর্শক মহিউদ্দি্ন জানান, পরিবারের সদস্যদের মতো রাকিব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য সে পরিবারের সদস্যদের মারধোর করতো। ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রাকিবের মা থানায় এস অভিযোগ করলে পুলিশ রাকিবের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে।

পরে দুপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা জামানের ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে হাজির করা হলে মায়ের অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলেকে দুই বছরের জন্য সাজা প্রদান করেন।

নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক ব্রজ নিকেতন

নবাবগঞ্জ উপজেলায় কালের সাক্ষী নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক ‘ ব্রজ নিকেতন ’। উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম দু’শ’ বছরের পুরনো জজবাড়ি। প্রায় দু’শ’ বছর আগে জমিদার ব্রজেন সাহা বসবাসের জন্য তৈরি করেন ব্রজ নিকেতন । পরবর্তীতে আশির দশকে এক বিচারক পরিবার ব্রজ নিকেতনে বসবাস শুরু করলে এটি জজবাড়ি হিসেবে পরিচিতি পায়।

সেই জজবাড়ি এখন কলাকোপার প্রাণ। জজবাড়ির চোখ ধাঁধানো নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হতে হয় দর্শনার্থীদের। যেকোনো পথিক হঠাত বাড়িটির কারুকাজ দেখলে থমকে দাঁড়াবে। বাড়ির সামনে রয়েছে বিভিন্ন ফুল ও ফল গাছের বাগান। বিশালাকৃতির ঐতিহ্যবাহী এ জমিদার বাড়ির পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো পুকুর। যেখানে টলটলে পানিতে পা ভিজালেও ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। বাগানের হাজারও রকমের ফুল অনায়াসে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রচুর গাছগাছালির সমারোহ, পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে শুনতে সময় পার হয়ে যায়। এটি বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রের স্যুটিংস্পট হিসেবেও ব্যবহূত হয়। কিছুদিন জনসাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিলেও এখন কিছুটা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়।

জজবাড়ির পাশে রয়েছে কোকিলপ্যারী জমিদার বাড়ি। বাড়িটির সামনের দিকে বিশাল বিশাল কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে। আছে দৃষ্টিনন্দন ঝোলানো বাগান। এই জমিদার বাড়ির একটু দূরেই তেলেবাড়ি। যা মঠবাড়ি নামে পরিচিত। ইছামতি নদী ঘেঁষে এই তেলেবাড়ি এখন ২৯ আনসার ব্যাটালিয়নের বসবাস এবং আনসার ও ভিডিপি’র ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত। যেকোনো উত্সবে এখানেও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে। এটি একটি দৃষ্টিনন্দন স্থান। পিকনিক স্পট হিসেবেও এটি ব্যবহূত হয়। আনসারদের বসবাসের জন্য বিশাল একটি এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম ক্যাম্পটি।

২ শিক্ষকের হাতাহাতি: শিক্ষক দিবসে জয়পাড়া মডেলে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল

0

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। অথচ ২ শিক্ষকের হাতাহাতির কারণে আজ সকাল ৯টায় জয়পাড়া মডেলে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি জয়পাড়া উপজেলা সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্কুলে ফিরে আসে।

জানা যায়,  গতকাল তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে জয়পাড়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক ও সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলামের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানা গেছে, এক ছাত্র দেরীতে আসায় ক্লাশ শিক্ষক তাকে বের করে দেন। এতে পরবর্তীতে ঐ ছাত্রের অভিভাবকের সাথে প্রধান শিক্ষক বাক বিতন্ডতায় জড়িয়ে পড়েন। এই সময় প্রধান শিক্ষক কতিপয় শিক্ষককেও ‘দায়িত্বহীন’ বলে মন্তব্য করলে সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান তার প্রতিবাদ করেন। এই প্রতিবাদকে কেন্দ্রকে ২ জনের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়।

গতকাল স্কুল কতৃপক্ষ বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়। এদিকে নজরুল ইসলামের সাথে অসদাচারণের প্রতিবাদে আজ ছাত্ররা ক্লাশ বর্জন ও বিক্ষোভ মিছিল করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের অপসারণ ও বিচার দাবী করে। এখনো স্কুলে জটলা রয়েছে।

নবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীর এক বছরের কারাদণ্ড

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় মো. কাউছার (২৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে এক বছরের কারাদণ্ড ও আশিকুজ্জামান সেতু (২২) নামে এক মাদকসেবীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা জামান এ আদালত পরিচালনা করেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. কাউছার উপজেলার গালিমপূর ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের হাজী ফরহাদ উদ্দিনের ছেলে ও আশিকুজ্জামান কলাকোপা ইউনিয়নের বাগ বিবিরচর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়েদুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টায় উপজেলার নোয়াদ্দা এলাকায় মাদক সেবনের সময় আশিকুজ্জামান সেতুকে আটক করে পুলিশ।

এরআগ সকাল সোয়া ১০টায় উপজেলার দূর্গাপুর এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী কাউসারকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে চার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

দুপুরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুজ্জামান সেতুকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং মাদক ব্যবসায়ী কাউছারকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

নবাবগঞ্জে ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন

পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগী সংগঠন ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের দোহার-নবাবগঞ্জ বিম্ববিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার কলাকোপা শ্রীশ্রী মা কালী মন্দিরে দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অসীম বিশ্বাসকে সভাপতি এবং অভিজিত সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নবাবগঞ্জ উপজেলা ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি অনুপম দত্ত নিপুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মানিক চন্দ্র মণ্ডল।

কবে শেষ হবে জয়পাড়া বাজার রাস্তার কাজ

ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া সড়কের কোথাও বড় গর্ত, কোথাও ছোট। একটু বৃষ্টি হলেই এগুলোতে পানি জমে যায়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সাধারণ পথচারীদের অনেক কষ্ট করে চলতে হয়। দুই বছর ধরে সড়কটিতে খানাখন্দ থাকলেও এর পুরোপুরি সংস্কার করা হয়নি।

কিছুদিন আগে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটিতে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ও গাড়ি চলাচলের কারণে ইটের খোয়াগুলো দেবে গেছে। অনেক জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে পানি জমে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক জামাল বাদশা বলেন, ‘প্রায় এক বছর হইল এই রাস্তা এমন অবস্থায় পইড়া আছে। কয় মাস আগে কাজ শুরু হইছিল। আবার থাইমা গেছে।’ স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘রাস্তা নষ্ট অনেক দিন। কিছুদিন আগে কাজ শুরু হয়েছিল। এখন কোনো খবর নাই।’

জয়পাড়া ডিগ্রি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. কামাল হোসেন বলেন, এ সড়ক এর আগে আরও অনেক বেশি খারাপ ছিল। কিছুদিন আগেও কাজ চলছিল, হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বর্ষার পানিতে রাস্তা থেকে ইটের খোয়াগুলোও উঠে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয় ও পানি জমে। হাঁটাচলায় কষ্ট হয়।

দোহার পৌরসভা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, পৌরসভার কলেজ সড়ক থেকে করম আলীর মোড় এবং ওয়ান ব্যাংক থেকে ৩০০ ফুট রাস্তা পর্যন্ত পয়োনিষ্কাশন লাইন ও রাস্তা মেরামতের জন্য বাংলাদেশ পৌরসভা উন্নয়ন তহবিল (বিএমডিএফ) ৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পয়োনিষ্কাশন লাইনের কাজ শেষ হলেও রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে কিছু টাকা আটকে দিয়েছে বিএমডিএফ।

এ বিষয়ে দোহার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। কিন্তু বর্ষা চলে আসায় কাজ আপাতত বন্ধ আছে। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হলে কাজ আবার শুরু করা হবে।

পৌরসভার মেয়র আবদুর রহিম মিয়া বলেন, বিএমডিএফের একজন কর্মকর্তা কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বদলি হয়ে গেছেন। ওই কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় কাজ শেষ করার জন্য বাকি টাকা পাওয়া যায়নি। এ কারণে কাজ শেষ করা যায়নি।

জানতে চাইলে বিএমডিএফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার গাজী মো. মুহসীন বলেন, ‘টাকার কারণে কাজ আটকে আছে, তা ঠিক নয়। বর্ষার কারণে কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। তা ছাড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঈদের আগে একটি বিল জমা দিয়েছিল। বিলটি বিএমডিএফের মহাপরিচালক হয়ে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শকদের কাছে গেলে তাঁরা বিলটি ত্রুটিপূর্ণ বলে আটকে দেন। বিল সংশোধিত হলেই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।’ আগামী মাসের মধ্যেই রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান গাজী মো. মুহসীন।

প্রাচীন উপমহাদেশের সবচেয়ে উঁচু মঠ বিক্রমপুরের শ্যামসিদ্ধির মঠ

অতি প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর, বর্তমানের মুন্সীগঞ্জ। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থানের কারণে মুন্সীগঞ্জের পরিচিতি দেশব্যাপী। এখানকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে নানান প্রাচীন স্থাপনা। ফেলে আসা সময়ের বা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্যামসিদ্ধির মঠ এবং সোনারং জোড়ামঠ আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে । প্রথমটি শ্রীনগর উপজেলায় আর অন্যটি টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত।

শ্যামসিদ্ধির মঠ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর বাজারের পশ্চিম দিকে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত শ্যামসিদ্ধির মঠ। ১৭৫৮খ্রিস্টাব্দে শম্ভুনাথ মজুমদার এটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে শম্ভুনাথ স্বপ্নে তার স্বর্গীয় বাবার চিতার ওপরে মঠ নির্মাণের নির্দেশ পেয়ে তিনি এই স্থাপনা তৈরি করেন। প্রায় ২৪১ ফুট উঁচু এই মঠ দিল্লির কুতুব মিনারের চেয়েও পাঁচ ফুট উঁচু। তাই এটি ভারত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ। অষ্টভুজ আকৃতির এ মঠের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ২১ ফুট।

মঠের পুরনো নকশা করা কাঠের দরজা- জানালা, মূল্যবান পাথর, পিতলের কলস চুরি হয়ে গেছে বহু আগে। ১৯৯৫ সালে চুরি হয়ে যায় মঠের ভেতরে রাখা তিন ফুট উঁচু কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ। মঠের উপরের দিকে বাইরের দেয়ালজুড়ে অনেক ছোট ছোট খোপ রয়েছে। যেগুলোতে বাসা বেঁধেছে শত শত টিয়া আর শালিক। তাই মঠটি সবসময়ই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে।

সংস্কার করার নামে শ্যামসিদ্ধির মঠের সৌন্দযের্র কিছুটা ব্যাঘাত ঘটানো হয়েছে। মঠের নিচের অংশে ভিতর এবং বাইরে সিরামিক টালি দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। যার ফলে মঠটি হারিয়েছে তার আদি সৌন্দর্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে এখনো দেশি-বিদেশি অনেক মানুষ প্রতিদিন ভিড় করে শ্যামসিদ্ধির গ্রামে।

সোনারং জোড়া মঠ সোনারং জোড়া মঠ মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কালজয়ী বাঙালি সত্যেন সেনের সোনারং গ্রামে অবস্থিত। সোনারং জোড়া মঠটি ইতিহাসে জোড়া মঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করলেও মূলত এ দুটি জোড়া মন্দির। বড়টি কালী মন্দির আর ছোটটি শিবমন্দির । তাই এই মঠ দুটিকে জোড়া মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। রূপচন্দ্র নামের এক হিন্দু বনিক তাঁর মা ও বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে এই মন্দির দুটি নির্মাণ করেন। পাশাপাশি দুটি মঠ হলেও একটি বড় ও অপরটি সামান্য ছোট। বড়টির উচ্চতা ১৫ মিটার। বড়টি পশ্চিম পাশে এবং ছোটটি পূর্ব পাশে অবস্থিত।

বড়টি রূপচন্দ্র তাঁর বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৮৪৩ সালে নির্মাণ করেন। অপরটি নির্মাণ করেন ১৮৮৬ সালে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। চুন-সুড়কি আর ইট দিয়ে তৈরি এই স্থাপনা দুটিরই প্রধান উপাসনালয় কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বারান্দা। মন্দির দুটির বারান্দা যথাক্রমে ১.৯৪ ও ১.৫ মিটার।

জোড়া মঠের দক্ষিণ পাশের বিশাল শান বাঁধানো পুকুর এবং ঘাট মন কাড়ে। বড় মন্দিরটি তৈরির সময় এ পুকুর খনন করা হয়েছিল বলেই ধারণা করা হয়। সোনারং জোড়া মন্দিরের স্থাপনা থেকেও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে বিভিন্ন সময়ে। মন্দিরটির নিচের দিক থেকে সামান্য উঁচুতেই কারুকাজের মধ্যে তামার নানা নকশা ছিল। এই নকশার সঙ্গে ধাতব বস্তুর নকশাও ছিল।

মন্দিরের ভেতরেও ছিল পাথরের মূর্তি। সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। মন্দিরের শিখরে অবস্থিত ত্রিশুলটি বাঁকা হয়ে আছে। ত্রিশুলটি অনেক উপরে থাকার কারণে কয়েকবার চুরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।

এই মন্দিরের উপরে দিকে রয়েছে ছোট ছোট বহু ছিদ্র।এই ছিদ্রগুলোকে নিজেদের বাসা বানিয়ে ফেলেছে ঘুঘু, শালিক ও টিয়াসহ নানা জাতের পাখি। এ কারণেই সোনারং জোড়া মঠ পাখির কলকাকলিতে সর্বদাই মুখরিত থাকে। সোনারং জোড়া মঠের সৌন্ধর্যের সাথে হরেক রকম পাখির গান আর দুষ্টুমিতে আপনার মন নিশ্চিত ভালো হয়ে যাবে।

ঢাকার গুলিস্তান থেকে অনেক বাস আছে যেগুলো শ্রীনগর যাতায়াত করে। শ্রীনগর বাজার থেকে রিকশায় করে যাওয়া যায় শ্যামসিদ্ধির গ্রাম। শ্যামসিদ্ধির মঠ দেখে আপনি অটো রিকশায় করে চলে যেতে পারবেন টঙ্গিবাড়ী সোনারং জোড়া মঠ দেখতে। সোনারং জোড়া মঠ দেখে আপনি টঙ্গিবাড়ী থেকেও বাসে চড়ে ঢাকায় ফিরতে পারেন আবার শ্রীনগর হয়েও ফিরতে পারবেন। তবে টঙ্গিবাড়ী থেকে ঢাকার রাস্তা খুব বেশি ভালো নয়, তাই শ্রীনগর হয়ে ফেরাই ভালো।

দোহার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ ;দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

দোহার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানেই দেখা যাচ্ছে এমন সব ময়লার স্তূপ। এতে করে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। নির্দিষ্ট কোন ডাস্টবিন না থাকায় রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা ফেলে রাখায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব স্থান দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ।

দোহার পৌর এলাকায় রয়েছে দোহার থানা, উপজেলা পরিষদ, জয়পাড়া মডেল হাই স্কুল, বেগম আয়েশা উচ্চ বলিকা বিদ্যালয়, জয়পাড়া মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসা, ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া কলেজসহ, অসংখ্য ব্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম অঞ্চল থেকে এবং আশে পাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে উন্নত জীবন যাপনের আশায় বহু মানুষ পৌর এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করছে । প্রতিনিয়ত লোকজন এসে বসবাস করছে এই পৌর এলাকায়। ফলে আবাসিক এলাকাগুলোতে মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৌর এলাকায় বাড়ি ঘর নির্মাণ করার জন্য এক টুকরো জমি পাচ্ছেনা এমন অবস্থা বর্তমানে দোহার পৌর এলাকার। চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে জমির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে। অধিক জনসংখ্যার ফলে পৌর এলাকায় ময়লার সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। যত্রতত্র ফেলে রাখা এসব আবর্জনা পরিষ্কার করছেনা পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের বাসীন্দা আঃ মান্নান অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, ”নামেই প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা, কাজের কাজ কিছুই হয়না এখানে। অথচ আমরা প্রতিনিয়ন পৌর কর দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের এলাকায় নেই কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদেরকে রাস্তার পাশেই যত্রতত্র ফেলতে হচ্ছে ময়লা। নিয়মনুযায়ী পৌর কর্তৃপক্ষের এসব ময়লা অপসারনের কথা থাকলেও কখনো তা চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও নেওয়া হয়নি কোন উদ্দোগ”।

শুধু ১নং ওয়ার্ড নয়, দোহার পৌরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই দেখা যায় এমনসব ময়লার স্তূপ । ২০০০ সালে পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর পার হলেও সীমানা জটিলতার মামলায় বন্ধ রয়েছে নির্বাচন। ফলে পৌরসভার কার্যক্রম অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে বলেও ধারণা করছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে দোহার পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহীম মিয়া জানান , ” আপনারা সাংবাদিকেরা থাকেনই এগুলা নিয়ে। এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। পৌরসভা থেকে নিয়মিত ময়লা পরিস্কার করা হয়।” এই বলে ফোন কেটে দেন তিনি”।

বিলাসপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত

দোহার উপজেলার বিলাসপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১লা অক্টোবর শনিবার বিকাল ৪টায় বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল আমিন।

সভায় বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মকে আলোর পথে পরিচালিত করতে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। সেই দায়িত্ব নিতে হবে সমাজের শিক্ষিত ও সৃজনশীল মানুষকে। বর্তমান সময়ে দেশে যে জঙ্গি-সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে তাতে দলমত নির্বিশেষে গ্রাম ও শহরের সর্বস্তরের মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম, মুকসুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমএ হান্নান, নারিশা ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী, মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, কুসুমহাটির আমজাদ হোসেন আজাদ ও নয়াবাড়ীর শামীম আহমেদ হান্নানসহ বিভিন্ন রাজনৈতক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ।