আলহামদুলিল্লাহ, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ হয়েছে – অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেছেন, নবাবগঞ্জে রাস্তার দু’পাশে যেভাবে ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলিয়ে পরিবেশ নোংরা করা হয়েছে তার প্রতিকার করতে হবে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে। কোনো যানজটের সৃষ্টি না হয়। আমি দোহার-নবাবগঞ্জবাসীকে দেয়া সব প্রতিশ্র“তি পূরণ করতে চাই। আমার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল পদ্মার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ, দোহার ও নবাবগঞ্জের কলেজ সরকারিকরণ এবং গ্যাস সংযোগ দেয়া। আমি পদ্মার ভাঙনরোধে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প পাস করিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ হয়েছে। দোহারের জয়পাড়া কলেজ সরকারিকরণ ও এলাকায় গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করতে পারলে মানুষের কাছে অনেকটাই দায়মুক্ত হব।

তিনি আরও বলেন, রাজধানী ঢাকার অতি নিকটের নবাবগঞ্জ উপজেলা শহরকে মডেল, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন। সোমবার দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক প্রচেষ্টায় দোহার-নবাবগঞ্জের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নবাবগঞ্জের ডিএন কলেজ সরকারিকরণ হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে এ অঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।

সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম একইদিন দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কলাকোপা ইউনিয়নের কাশিমপুর মিস্ত্রিবাড়ী সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন রহমান আকবর, ওসি মোস্তফা কামাল, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার নুরুল আনোয়ার বেলাল, ডিএন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা, জাতীয় পার্টি নেতা জুয়েল আহমেদ, জাহাঙ্গীর চোকদার, একেএম আবদুল হালিম, আইনুল চৌধুরী, এমএ মজিদ, আসাদুজ্জামান রানা, নাঈম আহমেদ, ইয়াছিন রবিন, আবদুল গফুর, আজহার হোসেন, ওয়াসিম আহমেদ, আবদুল মতিন, শাহাদাত মেম্বার, আবদুল আজিজ, আসমা আক্তার রুমি, রেশমী হোসেন আজাদ, ছাত্রসমাজের নেতা ইলিয়াছ হোসেন মাহিন, ইফতিয়াজ মাসুদ, নাজিম বক্স, খলিলুর রহমান, ইমরান হোসেন, শ্রীকৃষ্ণ সাহা, রাকিব হোসেন প্রমুখ।

দোহার নবাবগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় প্রসাশনের তৎপরতা

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন, দোহার এবং নবাবগঞ্জ কর্তৃক আড়তদার নিয়ে সচেতনতা সভা, মাইকিং ও বাজারে বাজারে লিফলেট বিতরন করা হয়েছে । এ সময় আগামী ১২ থেকে ৩রা নভেম্বর সারা দেশের ন্যায় দোহার নবাবগঞ্জে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জেলে ও আড়তদারদের সচেতন করা হয়।

elish2

‘ভন্ড পীরে’র আস্তানা উচ্ছেদের পর জয়পাড়ায় আতংক

0

সোমবার জয়পাড়া বাজারে সাম্প্রতিক ঘটনায় ‘মতি পীর’ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেন্টু ও দোহার উপজেলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগানো দেখা যায়। পোস্টারে হাতে লেখা  ছিল – “ভন্ড পীর মতি, তার শিষ্য সেন্টু ও তাদের আশ্রয়দাতা উপজেলা চেয়ারম্যান এর ফাঁসি চাই।“

এরপর সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থান থেকে পোস্টার তুলে ফেলা অবস্থায় দেখা যায়। পোস্টার কারা লাগিয়েছে আর কারাইবা তা তুলে ফেলেছে তা নিশ্চিত নয় জনসাধারণ।

এদিকে সন্ধ্যা ৭.০০ টায় প্রায় শতাধিক লোক “ভন্ড পীর,  তার শিষ্য ও আশ্রয় দাতাদের ফাঁসি চাই,  ইসলাম অবমনাকারীদের ফাঁসি চাই” স্লোগান তুলে মিছিল করেছে কে বা কারা। কারা এই মিছিল করেছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায় নি। মিছিলটি জয়পাড়া কলেজ মোড় থেকে করম আলী মোড় হয়ে থানার মোড়ে শেষ হয়। আমাদের প্রতিবেদক শেষ মুহুর্তে ছবি তুলতে পেরেছেন।

এদিকে আজ সারাদিন জয়পাড়া বাজার,  কথিত পীরের বাড়ী ও সেন্টুর দরগায় ব্যাপক সংখ্যায় গোয়েন্দা সংস্থার লোকের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সেন্টু ও তার অনুসারীরা দরগায় ফিরে আসতে পারে। আর এর পর জনসাধারণের সাথে তাদের সংঘর্ষের আশংকায় ব্যাপক সংখ্যায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্য মোতায়েন করা হয়, তাদের সাদা পোশাকে দেখা যায়।

বিকেলে দোহার পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুর রাহিম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আলমগীর ভাইকে ভালোবাসি, প্রয়োজনে জীবন দিব।“

 

পীর সেন্টু’র দরগায় আগুন!

নিউজ২৪ টিভি তে দোহারের লটাখোলার ‘পীর মতি’র আস্তানা প্রশাসন কর্তৃক উচ্ছেদের পর ৯ অক্টোবর রবিবার দুপুর সাড়ে ১১টায়  ‘মতি পীরে’র প্রধান শিষ্য সাবেক ঢাকা জেলা ছাত্রললীগের সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু’র উত্তর জয়পাড়াস্থ দরগায় আগুন দেয়া হয়। এতে বাড়ীর বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। তবে কারা আস্তানাটিতে আগুন দিয়েছে তা জানা যায় নি।

এরপর ফায়ার সার্ভিস সেখানে এসে ১ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।

তবে জানা গেছে, শনিবার রাত ১১টায় সেণ্টু ও তার অনুসারীরা দরগা পরিত্যাগ করে। পরে জনসাধারণ রোববার সকালে আগুন দেয়, সেখানে ৪টি ছাগল,  ২ টি গরু নিয়ে যায়। এছাড়া পুলিশ সেখানে কিছু দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার করে।

ঘটনার পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন ও দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভণ্ডপীর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা ও তার শিষ্য সেন্টুর মাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এখন  সেখানে এস আই হাবিব এর নেতৃত্বে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়ছে। জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অগ্নিকাণ্ডের কিছু দৃশ্য-

pir_sentu_03 pir_sentu_02 pir_sentu_01 pir_sentu_04 pir_sentu_05 pir_sentu_06

মতির আস্তানা সিলগালা; পালিয়েছে মতিউর রহমান

দোহারের হজ বাবার আস্তানা সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। পালিয়ে গেছে ভণ্ড পীর ডা. মতিউর রহমান। হজ পালন করতে লাখ টাকা খরচ করে মক্কা-মদিনায় যেতে হবে না, ঢাকার দোহারেই সেরে নিতে পারেন হজব্রত! এমন মিথ্যা প্রচারণা আর ভণ্ডামি চালিয়ে আসছিলেন তিনি।

এই ভণ্ড পীরের কর্মকাণ্ড নিয়ে গতকাল একটি টিভি চ্যানেলে প্রতিবেদন প্রচারের পর হজবাবা মতিউর রহমানের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে সেই আস্তানা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় উত্তেজিত জনতা সেখানে ভাঙচুরও চালায়। তবে টেলিভিশনে অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের খবর পেয়েই পালিয়েছে মতিউর রহমান মতি ওরফে হজবাবা।

জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টায় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন ও দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লটাখোলা এলাকায় ভণ্ডপীর মতিউর রহমানের আস্তানায় অভিযান শুরু করে। এ সময় তাকে পাননি অভিযান পরিচালনাকারীরা।

এক ‘হজবাবার’ যত ভণ্ডামি

পবিত্র কাবাঘরের অনুকরণে তৈরি পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুট মাপের ছোট্ট একটি ঘর। কালো রঙের কাপড়ে ঢাকা। সেই ঘরকে কেন্দ্র করে কয়েকশ নারী-পুরুষ লাইন ধরে প্রদক্ষিণ করছে। প্রত্যেকের পরনে হজের পোশাক, সাদা কাফনের কাপড়। প্রণামের ভঙ্গিতে দুই হাত তুলে সেই কালো ঘরটি প্রদক্ষিণ করে যাচ্ছেন। কণ্ঠে তাদের চিরাচরিত হজের সেই আহ্বান— ‘আল্লাহুমা লাব্বাইক…’। এসব মানুষ নিজেদের হাজী বলেই মনে করেন।

রাজধানী থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে নবাবগঞ্জ-দোহারের একটি গ্রামের এক পীরের আস্তানায় এমনই নিজস্ব তরিকার হজ পালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ হজ পালিত হয়ে গেল ৯ সেপ্টেম্বর। আর এ হজ পালন হয় রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত। হজ শেষে সেই পীরের আস্তানায় ঈদও উদ্যাপিত হচ্ছে। সেই পীর এখন ‘হজবাবা’  নামেই পরিচিত। বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এর টিম আন্ডারকাভারের অনুসন্ধানে এ হজবাবার নানা কীর্তি উঠে আসে; যা গতকাল চ্যানেলটিতে প্রচারিত হয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি আর সারা জীবনের পাপমুক্তির স্বপ্ন নিয়ে পবিত্র মক্কায় হজ পালনে যান বিশ্বের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান। চোখের জলে স্রষ্টাকে স্মরণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নিজের কৃতকর্মের। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লাখো মুসলমান তাওয়াফ করেন পবিত্র কাবাঘর। কিন্তু দোহারের জয়পাড়ায় সেই ‘হজবাবা’ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর হজ নিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ হজবাবা প্রতারণার মাধ্যমে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে তার ১২ থেকে ১৫টি বাড়ি। জমিজমা রয়েছে অনেক।

আস্তানার সন্ধানে : ৯ সেপ্টম্বর, ২০১৬, বেলা ১১টা। নবাবগঞ্জ-দোহারে মেলে এ হজবাবার আস্তানা। বড় করে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। তাতে লেখা ‘নটাখোলা কাদরিয়া পাক দরবার শরীফ, ধ্যান মঞ্জিল’। এটা অনেকটা সুরক্ষিত দুর্গের মতো; যার ফটকে ফটকে থাকেন পাহারাদার। আছেন উজির-নাজির-পাইক-পেয়াদা। সেই ধ্যান মঞ্জিলেই চলে হজ করার পুরো আয়োজন। হজের ওই সময়টুকু বাদে হজবাবা সব সময় নারীবেষ্টিত অবস্থায় থাকেন। কেউ তার পিঠ, কেউ হাত, কেউ আবার পা টিপে দিচ্ছেন। কেউ তাকে সিজদা করছেন। কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবাকে তার অসুখ-বিসুখের নালিশ দিচ্ছেন, আবার সেগুলোর সমাধান দিচ্ছেন বাবা। এরই মধ্যে এক মহিলা তার দুই কিশোর সন্তানকে নিয়ে বাবার দরবারে আসেন। উদ্দেশ্য তাদের মুরিদ বানানো। তার প্রথম আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় হজবাবার পায়ে মাথা ঠোকানোর মধ্য দিয়ে।

পীরের আস্তানায় ঢুকতেই আলোঝলমলে চতুর্ভুজ আকারের দুটি কবরের দেখা মেলে। সেটাই নটাখোলা কাদেরিয়া পাক দরবার শরিফ কাম মাজার; যা একই সঙ্গে বিশ্ব ধ্যান মঞ্জিল। এর বাম দিকে হজবাবা বা পীরের নারীভক্তকুল গভীর মনোযোগে তাদের ঢঙে প্রার্থনায় মশগুল। পাশে অনেকে আবার প্রার্থনা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন। অনেকে আবার মোবাইলে ফেসবুকিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একটু ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায় এদের তৈরি কাবাঘর। তার ঠিক পাশে ঝালর-খচিত পীরবাবার আসন রয়েছে। তাদের বানানো কথিত কাবাঘরের সামনেই অনেকটা এলোমেলো অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখা যায় এক যুবতীকে। তিনি গান শুনছিলেন। হজবাবার নাম মতিউর রহমান। তিনি ভণ্ডপীর হলেও নিজেকে চিকিৎসক বলে দাবি করেন। এমন ভিজিটিং কার্ডও রয়েছে। মতি মিয়া শুধু পীরই নন, ডাক্তারও। তার ভিজিটিং কার্ড বলছে তিনি ভারত থেকে অল্টা মেডিসিনে পিএইচডি। এ ছাড়া আমেরিকার ওয়ার্ল্ড সোসাইটির সদস্য।

স্থানীয়রা বলেছেন, ১৫ বছর আগে নবাবগঞ্জের গালিমপুরে তার আস্তানা ছিল। সেখানকার লোকজন তাকে পুলিশ দিয়ে বিতাড়িত করে। পরে জয়পাড়ায় আস্তানা গাড়েন তিনি।

দোহারে ‘পীর মতি’র আস্তানা ভেঙ্গে দিয়েছে প্রশাসন

0

দোহারের লটাখোলায় অবস্থিত ‘পীর মতি’র আস্তানা ভেঙ্গে দিয়েছে দোহার উপজেলা প্রশাসন। গতকাল ৯ই অক্টোবর শনিবার রাত ১০;৩০টার দিকে দোহার উপজেলা অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখের নেতৃত্বে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ‘পীর মতি’র আস্তানা ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম.আল-আমীন।

এ সময় আস্তানার ভেতর থেকে আস্তানায় ব্যবহৃত নানারকম সরঞ্জামাদী এবং প্রচুর পরিমানে পর্ণ সিডি উদ্ধার করা হয়। সেগুলো পরে দোহার থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে ‘পীর মতি’কে বাড়ীতে পাওয়া যায় নি। অনেক আগেই সে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।

এদিকে সাড়াজাগানো অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য দোহারবাসী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারসহ কর্তৃপক্ষকে। এ প্রতিবেদনে তোলপাড় সৃষ্টি হয় উপজেলাজুড়েই। আর প্রতিবেদনটি প্রচারের খবর পেয়েই গাঢাকা দেন মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা। ভণ্ডপীরের লোকেরা বলে বেড়ান ‘হজ করতে আপনাকে লাখ টাকা খরচ করে মক্কায় যেতে হবে না, ঢাকার দোহারেই সেরে নিতে পারেন হজব্রত। যার নেতৃত্বে এই সওয়াবের কাজটি করতে পারবেন তার নাম ডা. মতিউর রহমান ওরফে হজবাবা।’

জানা যায়, প্রতিবেদনটির প্রচার বিঘ্নিত করতে বিভিন্ন এলাকায় ডিস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দোহারের পালামগঞ্জ এলাকার সাখাওয়াত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, ‘প্রতিবেদনটি প্রচার হবে, আমরা বাংলাদেশ প্রতিদিনে বিজ্ঞাপন দেখে পরিবারের সবাই টেলিভিশন সেটের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। যথাসময়ে অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয়। কিন্তু ১০ মিনিট পরই আমাদের ডিস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জানতে পাই এলাকার অনেক বাড়িতে একই অবস্থা।’

লটাখোলার আরমান আলী জানান, ‘৯টায় অনুষ্ঠানটি শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই ডিস সংযোগ অকেজো হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পাই, পাশের জয়পাড়ায় সংযোগ চালু আছে। তখনই বুঝতে পারি এটা ওই ভণ্ডপীর মতির লোকদের কারসাজি।’

রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি প্রচারের পরপরই দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন ও দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভণ্ডপীর মতিউর রহমানের আস্তানায় অভিযান শুরু করে। এ সময় আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে কথিত ওই পীরের প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বই, সিডি ও ছবি জব্দ করা হয়।

উত্তেজিত জনতা আস্তানায় ভাঙচুর চালাতে যায়। ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আর এখানে করতে দেওয়া হবে না’ বলে পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসী ভণ্ডপীর মতির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।

v2

প্রশাসন বাড়ীটি সীলগালা করে দেওয়ার পর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বদরুল ইলামের হেফাজতে আছে। বর্তমানে বাড়ীটিতে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দোহার থানা অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম শেখ নিউজ৩৯-কে বলেন, ”ভণ্ডপীর মতিকে যেখানেই পাওয়া যাবে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল-আমীন বলেন, ‘এ ধরনের ভণ্ডামি জঘন্যতম অপরাধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভণ্ডামি যাতে কেউ করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখবে প্রশাসন।’

নিউজ২৪ টিভির যে রিপোর্ট টিভিতে প্রচারিত হবার পর দোহার উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নেয় সেই রিপোর্ট-

https://www.youtube.com/watch?v=9otHtEZsgxs

দোহার নবাবগঞ্জে ২০০ মন্দিরে পূজা উপহার বিতরণ

দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষ্যে  দোহার ও নবাবগঞ্জের ২’শ মণ্ডপের পূজারীদের মাঝে চাল, ডাল, তেল, বিতরণ করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনের নবাবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নিতাই চাঁদ তালুকদার এফসিএ এতে অর্থায়ন করেন। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রতি মণ্ডপে ৫০ কেজি চিনিগুড়া চাল, ৫ কেজি মুগডাল, ৫ লিটার সয়াবিন তেল বিতরণ করা হয়।

puja

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পূজা উদযাপন পরিষদের ঢাকা জেলা সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, নবাবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নিতাই চাঁদ তালুকদার, দোহার উপজেলা সভাপতি মিহির কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক প্রিয় বাংলা সম্পাদক অমিতাভ পাল অপু, নবাবগঞ্জ উপজেলা সহ-সভাপতি কমল কান্তি সরকার, দয়াময় বাড়ৈ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলিপ কুমার দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ চন্দ, প্রশান্ত অধিকারী, ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের ঢাকা জেলা সদস্য সচিব মানিক চন্দ্র মন্ডল, নবাবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি অনুপম দত্ত নিপু প্রমূখ।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ: এক কমিটিতে ১২ বছর

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এক কমিটিতেই চলছে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। নির্ধারিত মেয়াদের ১২ বছর পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। ঢাকা জেলার অন্য চার উপজেলায় দুই বছর আগে কাউন্সিল হলেও কোন এক অজ্ঞাত কারনে আটকে আছে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির গঠন প্রক্রিয়া। এই নিয়ে বিভিন্ন খবর ভেষে বেড়ালেও কেউ সুনির্দিষ্ট কোন কিছু বলতে পারছেন না।

আর সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যপার হলো দোহার পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন কমিটিই গঠিত হয় নি দোহার পৌরসভা আওয়ামী লীগের। ফলে নতুন নেতৃত্ব যেমন তৈরি হচ্ছে না ঠিক তেমনি হতাশা দেখা দিয়েছে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মাঝে। ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম বাবুলকে সভাপতি ও আলী আহসান খোকন শিকদারকে সাধারন সম্পাদক করে ৫৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ। এই কমিটিতে জাহাঙ্গীর আলমকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, হাবিবুর রহমান, হাসান মতিউর রহমান, আলী আকবর চেয়ারম্যান ও নুরুল হক বেপারীকে সহ সভাপতি ও মোতালেব খান, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, নাসির উদ্দিন পান্নুকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, আওলাদ হোসেন, আলমগীর হোসেন ও সফিউদ্দিন খানকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও আজাদ হোসেনকে দপ্তর সম্পাদক করে ৫৬ সদস্যের কমিটি ঘোষনা করা হয়।

এর মাঝে ১৪ বছর কেটে গেছে, মারা গেছেন ৫৬ জনের ২১ জন। এরমাঝে কেউ রাজনীতি থেকে দুরে আছেন কেউ বা যোগ দিয়েছেন অন্য দলে। সব মিলিয়ে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা একটা হজবরল অবস্থায় থাকলেও তা নিয়ে নেই কারো মাথা ব্যাথা। কমিটি না হওয়ায় এর সুযোগ নিচ্ছেন নেতারা।

এছাড়া গ্রুপিং এর রাজনীতি দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের মাঝে প্রবেশ করলে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করছেন উপজেলা নেতৃবৃন্দ। ফলে সাংগঠনিক অবস্থা দূর্বল হয়ে পড়েছে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের। ফলে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ যেমন তৈরি হচ্ছে না ঠিক তেমনি বিভক্ত হয়ে পড়েছেন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারন সম্পাদক আলী আহসান খোকন শিকদার কে নতুন কমিটির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন নতুন কমিটির দায়িত্ব উপজেলার না, জেলার। জেলা যেদিন কমিটি করবে, সেদিনই কমিটি হবে।

বিলাশপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা: মামলার তদন্ত শেষ হয়নি, বাদীপক্ষ হতাশ

জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ঢাকার দোহার উপজেলায় তিনজন নিহত হওয়ার দুই বছর নয় মাস চলছে। কিন্তু এত দিনেও এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ কারণে বাদীপক্ষ হতাশ।

এদিকে আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ঢাকা-১ (নবাবগঞ্জ-দোহার) আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরদিন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। পরদিন ৭ জানুয়ারি নিহত মকসুদ খন্দকারের ছেলে মোতালেব খন্দকার বাদী হয়ে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে দোহার থানায় মামলা করেন। প্রায় আট মাস পর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু তাতে নারাজি দেয় বাদীপক্ষ। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন সালমা ইসলাম। তাঁর পক্ষে কাজ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা। আর আব্দুল মান্নান খানের পক্ষে কাজ করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হুকুম আলী চোকদার। নির্বাচনে আব্দুল মান্নান খান পরাজিত হন। এর জেরে ভোটের পরদিন আলাউদ্দিন মোল্লা ও হুকুম আলী চোকদারের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার ভাগনে হাজারবিঘা গ্রামের মকবুল হোসেন (৩৫) এবং একই গ্রামের মকসুদ খন্দকার (৫৫) ও তাঁর ছেলে মাসুদ খন্দকার (২৮) নিহত হন। মকবুল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন।

নিহত ব্যক্তিদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলে জানা গেছে, সালমা ইসলাম সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর মকসুদের পরিবারকে চার লাখ টাকা এবং মকবুলের পরিবারকে দুই লাখ টাকা সহায়তা দেন।

মকবুলের মামা ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় তিন বছর অইয়া গেল। এখনো তদন্ত প্রতিবেদনই দিবার পারল না। আমি যারপরনাই হতাশ।’

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মাসুদ করিম সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ বদলি হয়ে গেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তকাজ প্রায় শেষ। এখন শুধু নাম-ঠিকানা মিলিয়ে নিয়ে জমা দিতে হবে।

নিহত মকবুলের দুই ছেলে মো. সামিউল আলিম (৬) ও মো. রাতুল (৩)। সামিউল নার্সারিতে পড়ে। রাতুল এখনো পড়ালেখা শুরু করেনি। ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর এই প্রতিবেদক হাজারবিঘা গ্রামে গেলে এই শিশুদের মা শামিমা আক্তার বলেন, ‘বাচ্চাদের তো মানুষ করতে হবে। এ কারণে স্বামীর বাড়িতেই আছি।’ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।

মকবুলের বাড়ি থেকে একটু সামনেই নিহত মকসুদ খন্দকারের বাড়ি। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। দরজায় তালা ঝুলছে। একজন প্রতিবেশী বলেন, মকসুদের স্ত্রী পাশের গ্রামে গেছেন। এরপর কথা হয় মকসুদের ছোট ভাই দেলোয়ার খন্দকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এত দিনে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তাঁরা হতাশ। আসামিরা প্রায় সবাই জামিনে মুক্ত। তাঁরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন।

মুঠোফোনে তিনজন আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। হুকুম আলী চোকদার ও রাশেদ চোকদারকেও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী মোতালেব খন্দকার বলেন, মাঝে মাঝে আসামি ও তাঁদের পক্ষের লোকেরা হুমকি-ধমকি দেন। কেন নারাজি দেওয়া হয়েছিল, জানতে চাইলে নিহত মকসুদের ভাই আনোয়ার খন্দকার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এলাকার কিছু নিরীহ মানুষের নাম এসেছিল। মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য নারাজি দেওয়া হয়েছিল।

জেলা সিআইডির পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এ মামলায় এর আগে ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বাদীপক্ষ নারাজি দেওয়ায় পরে সিআইডিতে আসে। এখন কোনো আসামি বাদ পড়বে না। তদন্তে যাঁদের যুক্ত করা প্রয়োজন শুধু তাঁদেরই যুক্ত করা হবে। আশা করছি, এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাবে।’