এমএস বেপারী: দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোররাতে নারিশা পশ্চিম চরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হ্যাঙ্গার লাইন সুপার শপের মালিক মামুন বেপারীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতদল হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রা লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত আনুমানিক ৪:০৫ মিনিটে ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। ৪-৫ জন ঘরে ঢুকে এবং বাকি সদস্যরা বাইরে অবস্থান নেয়। ডাকাতদের কাছে দেশীয় অস্ত্র ও আধুনিক সরঞ্জাম ছিল। তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পাশের রুম থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও ডলার লুট করে। আনুমানিক ৪:৪৫ ঘটিকায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ডাকাতরা প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩০০ ডলার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে যায় বলে, মামুন বেপারী জানিয়েছেন।
মামুন বেপারী বলেন, “তারা হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে এবং অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। আমরা প্রতিরোধের কোনো সুযোগ পাইনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা সব কিছু লুট করে পালিয়ে যায়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নারিশা ইউনিয়নে কয়েক মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। রাতে নিয়মিত টহল হয় না। কমিউনিটি পুলিশও সক্রিয় নাই।
ঘটনার বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে ডাকাতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও জানান, “এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় কমিউনিটি পেট্রলিং ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সম্প্রতি নারিশা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই অপরাধীরা বারবার সাহস করে ডাকাতি ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতন মহল অবিলম্বে ডাকাতদের গ্রেফতার, দ্রুত বিচার ও নারিশা ইউনিয়নে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয়দের নিয়ে নিরাপত্তা টিম গঠন করতে হবে। অন্যথায়, ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতা ও জনঅবিশ্বাস তৈরি হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা নতুন ওসি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবেন।
