নবাবগঞ্জে বিদেশী পিস্তলসহ যুবক আটক

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি বিদেশী পিস্তলসহ শেখ সুমন ওরফে স্টিকার সুমন (৩৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ।

পহেলা ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার জালালপুরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত সুমন জালালপুর গ্রামের মৃত শেখ রুস্তম আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সুমন জানান,” বৃহস্পতিবার বিকালে গোপন সংবাদ পেয়ে জালালপুর গ্রামের শেখ সুমনের বসত ঘরে অভিযান চালানো হয়। ওই ঘর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ সময় শেখ সুমন তার ঘরে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক পিস্তলসহ থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে অস্ত্র আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে”।

নবাবগঞ্জে বিদেশী পিস্তলসহ যুবক আটক

দোহারে মাদক ব্যবসায়ী সোহেল আটক

দোহারে মাদক ব্যবস্যায়ী সোহেলকে আটক করেছে দোহার থানা পুলিশ।গত ২৯ নভেম্বর মঙলবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোহার উপজেলার রুইথা বিল এলাকায় মাদক বিক্রির সময় এক পুরিয়া হেরোইনসহ তাকে আটক করে দোহার থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল।

সোহেল দোহার উপজেলার মুকসদপুর ইউনিয়নের রুইথ্যা গ্রামের শেখ জয়তনের ছেলে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ফুলতলা ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো.ফারুক জানান,”সোহেল পুলিশের তালিকায় চিহ্নিত একজন মাদক বিক্রেতা। অভিযোগ গঠনের পর বুধবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দোহারে মটরসাইকেল দূর্ঘটনায় কিশোর নিহত 

দোহার উপজেলায় মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একজন নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সিজান (১৪) উপজেলার মালিকান্দা গ্রামের সেলিমের ছেলে। আহত রাফিজ মালিকান্দা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং আরাফাত উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের আবুল মৃধার ছেলে।

গত ৩০ নভেম্বর বুধরার বিকেলে দোহার উপজেলার জালালপুর পদ্মা বাইপাস সড়কে মালিকান্দা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী তিন সহপাঠী একটি মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুরতে বের হয়। এ সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্তণ হারিয়ে জালালপুর-মুন্সিকান্দা ব্রিজসংলগ্ন কড়ইগাছের সঙ্গে সংঘস ঘটে । স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিসক সিজানকে মৃত ঘোষণা করে। আহত রাফিজ ও আরাফাত গুরতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিসাধীন রয়েছে।

দোহারে ভূমিহীনদের মাঝে বিভাগীয় কমিশনারের জমির দলিল বিতরণ

ঢাকার দোহারে ২৪০টি ভূমিহীন পরিবারকে জমির দলিল ও নামজারীর খতিয়ান বুঝিয়ে দিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমদ। নদী ভাঙ্গনের শিকার এই গৃহহীন পরিবার গুলো দীর্ঘদিন যাবত মাহমুদপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করছিলেন। সোমবার দুপুরে আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ি প্রাঙ্গনে এ অনুষ্ঠান করা হয়। দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমীন এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০টি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এর মধ্যে আশ্রয়ন প্রকল্প অন্যতম। দেশের ভূমিহীন, বেকার, গরিব মানুষের ভাগ্য উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য।

তিনি প্রকল্প এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বাসস্থান মেরামত, কবরস্থান সংস্কার ও পয়নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক মজিবুর রহমান, দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল হক রাসেল, থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন মুন্সি, কুসুমহাটি ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আজাদ প্রমূখ।

এর আগে সকালে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহমদ উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে জয়পাড়া ডিগ্রী কলেজ, দোহার পৌরসভা, বিলাশপুর ইউনিয়নের হাজার বিঘায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ’ ও কুসুমহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন গ্রেফতার

ঢাকার নবাবঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন আজাদকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ জানায়,শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার মাঝিরকান্দা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মো. আমজাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। আগের মামলাগুলোতে জামিনে আছি। পুলিশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ও মিথ্যা মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখাচ্ছে।’ এদিকে তাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নবাবগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফা কামাল বলেন, ‘হরতালে গাড়ি-ভাঙচুরের মামলায়  তাকে গ্রেফতার করে দুপুরেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

দোহার-নবাবগঞ্জে এসএসসি ফরম পূরণে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত না নিতে প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী বছর ২ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। তাই নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে চলছে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ কার্যক্রম। ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ ছিল শিক্ষার্থীদের। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১ হাজার ৭২০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৬৩০ টাকা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

সূত্র জানায়, পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বেতন, কোচিং ক্লাস, উন্নয়ন, খেলা, মিলাদ, পূজা, স্কাউট, বিদ্যুৎ, কর, অনলাইন ফরম পূরণ, যাতায়াত ও বিবিধ খাত বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে স্কুল গুলো। অন্যদিকে, ৪ হাজারের অধিক টাকা আদায়ের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি সমিতির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

অভিভাবকদের কাছ থেকে জানা গেছে, দোহারের বেগম আয়েশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, ফ্যামস ইন্টারন্যাশনাল ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা, বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ৪০০০ টাকা, নবাবগঞ্জের শিকারীপাড়া টিকেএম উচ্চ বিদ্যালয় ৫১০০, ঘোষাইল উচ্চ বিদ্যালয় ৪৭৫০, বারুয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় ৩৭৬০ টাকা নিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার শিকারীপাড়া টিকেএম উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমি গরিব পরিবারের সন্তান। বাবার সামান্য আয়ে সংসারই চলে না। এতো টাকা দিয়ে ফরম পূরণ আমার পরিবারের সামর্থ্য নেই। এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে টাকার ব্যবস্থা করেছি।

শিকারীপাড়া টিকেএম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হক মুঠোফোনে বলেন, তিনি সমিতির নির্দেশনার চেয়ে কম ফি নিচ্ছেন। এখানে তার কিছু করার নেই।

নবাবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান ও দোহার উপজেলা শিক্ষক সমিতির মো. একলাল উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয় আমার জানা নেই। এবিষয়ে সমিতির কোন নির্দেশনাও নেই। এটা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহারে পদ্মায় বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

দোহার উপজেলার নারিশায় উন্মুক্ত পদ্মা নদীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। বাঁধ দেওয়ায় স্থানীয় মত্স্যজীবীরা মাছ ধরতে পারছেন না। এ ছাড়া নদীতে বাঁধের কারণে ওই স্থান দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর জোয়ারে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে পাহারা বসিয়ে মাছ শিকার করছে। নদীর জোয়ারে শাখায় বাঁশ ও জাল দিয়ে বাঁধ থাকায় পদ্মা নদীর প্রবাহিত উন্মুক্ত জলাশয়ে স্থানীয় শতাধিক জেলে মাছ ধরা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় জেলে মকবুল বেপারী বলেন, মাছ ধরার বিষয়ে যে সকল আইন কানুন রয়েছে তার সবটুকুই আমরা মেনে চলি। কিন্তু এখন মাছ ধরার মৌসুমে আমরা যদি মাছ ধরতে না পারি তাহলে বাল-বাচ্চা নিয়ে কি করে খাবো? স্থানীয় প্রভাবশালীরাই এখন পদ্মা নদী দখল করছে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আল-আমিন জানান, নদীর জলাশয়ে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করা অপরাধ। এর আগেও অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নদীর জলাশয়ে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে আটক করে দণ্ড দেওয়া হয়।  দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন জানান, জেলেদের অভিযোগ পেয়ে এক মাস আগে উপজেলা পরিষদে রেজুলেশন করে বাঁধ অপসারণের নির্দেশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন করছে না প্রশাসন।

নবাবগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের দুইলক্ষ টাকা উধাও

ঢাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার ইসলামিক ব্যাংকের নবাবগঞ্জ শাখার গ্রাহক সেবায় অনিয়ম ও এক গ্রাহকের দুইলক্ষ টাকা উধাও এর অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। গত ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাহ্রা ইউনিয়নের বাহ্রা গ্রামের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম ইসলামীক ব্যাংক নবাবগঞ্জ শাখার একাউন্ট নং ১৮৯১১ এর গ্রাহক তিনি তার নিজ একাউন্ট থেকে দশ (১০০০০) হাজার টাকার একটি চেক নিয়মিত কাউন্টারে থেকে লিখে ক্যাশে জমা দেন।

ক্যাশিয়ার দশ হাজার টাকা ক্যাশ দিয়ে বলেন আমাকে পাঁচ (৫০০) শত টাকা দেন। জবাবে রাজিয়া বেগম বলেন কেন দিবো, জবাবে ক্যাশিয়ার বলেন আপনার একাউন্টে কোন টাকা নেই। ৫০০ শত টাকা জমা রাখতে হবে তানা হলে আপনার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে।এই কথা সুনে রাজিয়া বলেন গত মাসের ১৯ অক্টোবর ৩০ হাজার ২০ অক্টোবর ২০ হাজার টাকা তিনি উত্তোলন করেছেন এবং একাউন্টে দুই লক্ষ দশ হাজার টাকা ব্যালেন্স ছিল। আমি কেবল দশ হাজার টাকা উঠালাম বাকী দুই লক্ষ টাকা আছে বলে দাবী করে ক্যাশিয়ারকে। প্রতি উত্তরে ক্যাশিয়ার বলেন গত ২৬ অক্টোবর আপনার নিজ স্বাক্ষরে দুই লক্ষ টাকা তুলে নিয়ে গেছেন।কথা সুনে রাজিয়া বেগম হাউ মাউ করে কান্নাকাটি শুরু করেন। ব্যাংক কতৃপক্ষ সঠিক তথ্য এবং পরামর্শ না দিয়ে বের করে দেন। ব্যাংকের নিচে এসে পাগলের মত কাঁদতে থাকলে এসময়ে অজ্ঞাত নামা এক ভদ্র লোক রাজিয়াকে ব্যবস্থাপক মতিউর রহমানের কাছে নিয়ে যায়।তার পর তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হলে রাজিয়াকে তাহার আপনজনকে সাথে নিয়ে রবিবার আসতে বলেন।

রাজিয়া তার নিকটতম লোকদেরকে নিয়ে গেলে, ব্যবস্থাপক বিভিন্ন তালবাহানা করে এবং ব্যাংকের সি সি ক্যামেরায় ১৫ দিনের অতিরিক্ত রের্কড থাকেনা বলে হেড অফিস থেকে এনে দিবেন ২/৩ দিনের সময় বেঁধে দেন।

এদিকে  অনুসন্ধানে গেলে ব্যবস্থাপক মতিউর রহমানকে পাওয়া যায়নি। এবং কর্তৃপক্ষ অপারেশন ম্যানেজার সায়েম মানিক তার দায়ীত্ব পালন করেন বলে জানান।তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা প্রথমে এড়িয়ে যান। পরবর্তিতে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন তার ব্যাংকিং নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে এবং ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিনা অনুমতিতে কিছু বলতে পারছি না।স্যার আসলে বলবেন, এবং আগামী রবি/সোমবার আসার জন্য বলেন।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ – দোহারে মান্নান খান

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীঅ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান বলেছেন, “অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠণে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কারণ বঙ্গবন্ধু সবসময়ই বলতেন, ‘আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ বলে কিছু নেই। সকলেই মানুষ। বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোনো ধর্মীয় ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ও ধর্মনিরপেক্ষতা।’ আর বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাঁর রক্ত এবং আদর্শের উত্তরাধিকারী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, জাতির পিতার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে দেশে অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।”

হস্পতিবার সন্ধায় ঢাকার দোহারে চরজয়পাড়া-লটাখোলা সার্বজনীন হরিসভার উদ্যোগে আয়োজিত বাৎসরিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল যারা বাংলাদেশের ভাল চায় না তারা ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন, হামলা, ধর্ষণ, লুটপাট, অপপ্রচার প্রভৃতি অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। আর এইসব সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় গোঁড়ামীযুক্ত বিষবাষ্পের কারণেই আজ দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা শক্ত হাতে জঙ্গীবাদ ও ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজের অবস্থান ও দেশের অবস্থান কে সমুজ্জ্বল করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল হক,দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল হক বেপারী, নারিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন দরানী, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রাজীব শরীফ প্রমূখ। আরও উপস্থিত ছিলেন, দোহার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মিহির কান্তি দে রায়, তারক ভট্টাচার্য,  ডা. বাদল চন্দ্র দাস, ইন্দ্রজিৎ পাল ও সুকুমার পাল সহ এলাকার হিন্দু ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

নবাবগঞ্জের ভাঙ্গা মসজিদের মিনার ঢাকা দক্ষিণের সবচেয় বড় মিনার

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নতুন বান্দুরা শাহী মসজিদ বা ভাঙ্গা মসজিদ। মসজিদের মিনার ঢাকা দক্ষিণের সবচেয় বড় মিনার বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।

৫০ শতাংশ জমির উপর তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি এবং দুই শতাংশ জমির উপর রয়েছে মূল ভবনটি। প্রতিদিনই দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য লোক লোকজন আসে মসজিদটিতে নামাজ পড়তে।

প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে নবাবগঞ্জসহ এর পার্শ্ববর্তী দোহার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ আশেপাশের কয়েকটি থানার কয়েক হাজার নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে মসজিদটিতে।

পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের নামাজের জন্য রয়েছে আলাদা সুব্যবস্থা। ভাঙ্গা মসজিদটি নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কল্পকাহিনী প্রচার করা হয়েছে। অনেকে প্রচার করে এমনকি বিশ্বাসও করে ভাঙ্গা মসজিদটি গায়েবী মসজিদ। এর মূল ভবনটি মাটির নিচ থেকে উঠেছে।

ভাঙ্গা মসজিদের নামাজ পড়ে কোনো কিছু মানত করলে আল্লাহর রহমতে সেই আশা পূরণ হয় বলে জানান আগত অতিথিরা। সেই বিশ্বাসেই দিন দিন মসজিদে আগত অতিথিদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

তবে ধারনা করা হচ্ছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি  সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে নির্মিত। সেই হিসেবে প্রায় ৪শ বছরের পুরানো মসজিদটি নবাবগঞ্জের কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনো দাড়িয়ে আছে।

মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১৬৫ ফিট সুউচ্চ একটি মিনার। মিনারটি ঢাকা দক্ষিণের সবচেয়ে বড় মিনার বলে জানা যায়।

১৬১০ সালে ভারত বর্ষের মোঘল বংশের দিল্লীর সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ছিলেন ইসলাম খান চিশতি। সুবেদার ইসলাম খান চিশতি বিভিন্ন প্রয়োজনে দিল্লী হইতে যমুনা নদী দিয়ে নৌবিহার নিয়ে পাবনা জেলা হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে মানিকগঞ্জ হয়ে ইছামতি নদী দিয়ে ঢাকা যাতায়াত করতেন। এলাকাবাসীর ধারণামতে, সেই সময় রাত যাপন ও ইবাদত করার জন্য আনুমানিক ১৬১৫ সালে নদীর পাশেই মসজিদটি নির্মাণ করেন তিনি।

কালের পরিবর্তনে ইছামতি নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে উত্তর দিকে চলে যায়। তখন মসজিদের পাশ্ববর্তী কোনো বসতি ছিল না। পুরো এলাকাই ছিলো বনাঞ্চল। ১৮৮০ সনে হিন্দু জমিদারেরা এই সমস্ত বনাঞ্চল পত্তন নেন। তখন ঐ খানে হিন্দুরা বসতি স্থাপন করার জন্য বনাঞ্চল কাটা আরম্ভ করেন তারা। বন কাটার সময় হঠাৎ দেখতে পায় এখানে একটা মসজিদ ঘর। যার উপরের কিছু অংশ ভাঙ্গা তখন থেকেই এই মসজিদের নাম হয় ভাঙ্গা মসজিদ বা গায়েবী মসজিদ।

সম্ভবত হুট করে আবিষ্কার করায় মানুষ ধরে নেয় রাতারাতি সেই মসজিদ “মাটির নিচ থেকে উঠেছে”। যদিও সেই সময় সেখানে মসজিদ নির্মাণে বিভিন্ন সরঞ্জমাদি পাওয়া যায়। তবে সময়ের সাথে সাথে সেগুলো হারিয়ে গেছে। এই একই রকম মিথ প্রচলিত আছে খেলারামদাতার কোঠার সমন্ধেও।

এরপর মসজিদের দেখাশুনার জন্য দায়িত্ব পালন নেন স্থানীয় আলফু ফকির, দুদু মীর, আবেদালী মীর, গোপাল মাদবর, মৈজদ্দিন সিকদার, গহের আলী খন্দকারসহ স্থানীয়রা। সেই সময় আবু মোল্লাকে মসজিদের মাতুয়াল্লী বা সেবায়েত নিযুক্ত করা হয়। সি,এস রেকর্ডে মসজিদের পক্ষে তার নামই রয়েছে।

১৯৪৫ সালে স্থানীয় আবেদ আলী নিজ অর্থায়নে কিছু অংশ সংস্কার করেন। তখন মসজিদের সেবায়াত হিসেবে দুখাই বেপারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬০ সালে নতুন বান্দুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ হিসেবে আসেন আবজাল হোসেন নামে এক ধর্মপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি গ্রামবাসীকে নিয়ে ভাঙ্গা মসজিদটির কিছু মেরামত এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে কমিটির গঠন করে।

কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয় ডা. আলমাছ উদ্দিনকে। এছাড়া সাধারন সম্পাদক হিসেবে মকবুল বেপারীকে ও কদম আলীকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০১ সালে মীর সফিউদ্দিন ও জনাবালী সিকদারকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে খন্দকার ফুরহাদ হোসেনকে সভাপতি, মতিয়ার রহমানকে সাধারন সম্পাদক ও ফজলুর রহমানকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে নতুন কমিটি গঠন  এই কমিটি সবাইকে সাথে নিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গনে একটি মিনার নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়।

প্রাথমিকভাবে কাজ আরম্ভ করিয়া মাটির নিচে প্রায় ৬০ ফুট বোরিং করে  রডের খাচা বেধে ৬০ ফুট চালাইয়ের উপর ১৪টি পিলার নির্মাণ করা হয়। ঐ সময়ই তাদের ব্যয় হয়েছিলো প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। কিছুদিন কাজ করার পর মিস্ত্রী ও আনুসাঙ্গিক অসুবিধার কারনে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালের ৪ই মার্চ পূর্ণরায় মিনারের কাজ আরম্ভ হয়। ১৬৫ ফিট উচ্চতা মিনারটি কাজ এখন সমাপ্তির পথে। এই পর্যন্ত প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার উপরে খরচ হয়েছে বলে জানান মসজিদ কমিটি। তবে মসজিদ সংস্কার ও প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিনারটি নির্মাণে সরকারি ভাবে কোনো সাহায্য নেওয়া হয়নি। মসজিদে আগত অতিথিদের অনুদানেই সম্পূর্ণ মিনারটি নির্মিত হচ্ছে। এমনকি এলাকাবাসীর কাছ থেকেও কোনো চাঁদা উঠানো হয়নি বলে জানান কমিটি।

এ ব্যাপারে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম সদস্য মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, মসজিদে আগত মুসল্লিদের দানে মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়েই প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে মিনারটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতি শুক্রবার নামাজ শেষে উপস্থিত সকলকে অবহিত করা হয়।

মসজিদের ইমাম মুফতি মতিয়ার রহমান বলেন, মানুষ আল্লাহ উপর বিশ্বাস করেই ভাঙ্গা মসজিদে আসে এবাদত করতে। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার কয়েক হাজার মানুষের আগমন ঘটে এই মসজিদে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি তাদের সহযোগিতা করতে।