মেঘুলায় খালের জমি দখল করে ভবন নির্মানের অভিযোগ

 

দোহার উপজেলার মেঘুলা বাজার সংলগ্ন পদ্মার শাখা খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মান করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,খাল ভরাট করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বহুতল ভবন ও দোকান নির্মান করে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দেলোয়ার শিকদার ,মোবারক হোসেন রুবেল,শাহজাহান খালাসী,দুলাল হোসেন,সারোয়ার মিয়া,মেঘুলা বাজার কমিটির লোকজন্সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ি খাল দখল করে ব্যবসা বাণিজ্য করে আসছেন। দখলের প্রথমদিকে টিনের ঘর নির্মান করা হলেও পরে তারা সেখানে পাকা দালান নির্মান করে।বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে দোহার উপজেলা ভূমি অফিস থেকে দখলকৃত স্থান পরিদর্শন করা হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে দখলদারেরা সরকার কর্তৃক তাদের জমি বরাদ্দ করা হয়েছে বলে এলাকায় অপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ সাহা দাবি করে বলেন, দেলোয়ার শিকদার তাদের অংশ ক্রয় না করেই জমি দখল করে সেখানে ভবন  নির্মান করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার শিকদার বলেন,”আমি আশির দশকে মৃত রমনী মোহন সাহার ছেলে ভেবলা সাহা,বরলাম সাহা এবং রতন সাহার কাছ থেকে মেঘুলা বাজার সংলগ্ন এ জায়গা ক্রয় করি। ভবন নির্মানের সময় আমি দেশে ছিলাম না। আমার এক আত্বীয় প্রতিবেশী রাজনীতিবিদ। তার তত্বাবধানেই এটি নির্মান করা হয়েছে”।

এ বিষয়ে নারিশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন দরানী বলেন,”খালের জমি দখল করে ভবন নির্মানের কথা শুনেছি। কাগজপত্র দেখার পরে বিষয়টি সম্পর্কে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে”।

বিষয়টি নিয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. আল-আমীন বলেন,”খালের জমির শ্রেনি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। দখলকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

সংসদে পরিকল্পনা মন্ত্রী; ঢাকা জেলার উন্নয়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে ২৭ প্রকল্প

 

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ঢাকা জেলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) উল্লেখযোগ্য ২৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে যার মধ্যে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত আছে। সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রীর দেয়া হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, দোহার-নবাবগঞ্জে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প, বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (২য় পর্যায়), পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের আইসিটি কার্যক্রম ও ই-সেবা শক্তিশালীকরণ, ইউনিয়ন সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণ ঢাকা বিভাগীয় কার্যক্রম-২, পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প, জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্পের কাজ চলছে। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সড়ক উন্নয়ন নবাবগঞ্জ, ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ, মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প, সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এন্ড একসেস ইনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট, ধামরাই-নবাবগঞ্জে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপন, নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প, দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট, সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনায় কৃষি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ, স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। মন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে দেশব্যাপী চলমান প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা অন্তর্ভুক্ত আছে।

ঢাকা জেলা পরিষদ: ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের জেলেপাড়া কালীমন্দির, শ্রীশ্রী শিবঠাকুর মন্দির এবং হরিস্কুল পালপাড়া যুবসংঘ নামে তিনটি ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রায় ১৯ লাখ টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, যন্ত্রাইল গ্রামের শ্রীশ্রী শিবঠাকুর মন্দির সংস্কার প্রকল্প দেখিয়ে দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এতে স্থানীয় রঞ্জিত পাল, রাজীব পাল, দ্বীপক পাল ও সুব্রত রাজবংশী যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মন্দির কমিটির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মানবেন্দ্র দত্ত অভিযোগ করেন, মন্দিরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ মন্দির কর্তৃপক্ষ পায়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।

যন্ত্রাইল জেলেপাড়া কালীমন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে যন্ত্রাইল গ্রামের পরান রাজবংশীর ছেলে বিমল রাজবংশীসহ আরও কয়েকজনের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। জানা যায়, আইএফআইসি ব্যাংক পান্থপথ শাখা থেকে এ টাকা উত্তোলন করা হয়।

এ ছাড়া হরিস্কুল পালপাড়া যুবসংঘের নামে দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এতে রঞ্জিত পাল, রাজীব পাল, দ্বীপক পাল ও সুব্রত রাজবংশীর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। প্রকল্পের অর্থ এনসিসি ব্যাংক নবাবগঞ্জ শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়।

অভিযুক্ত ভুয়া প্রকল্পের সভাপতি সুব্রত রাজবংশী এ ব্যাপারে জানান, রাসেল ও টুটুল দুবার তার স্বাক্ষর নিয়েছিল। তবে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন কিংবা ব্যাংকের চেকবই তিনি পাননি। কোনো টাকাও তিনি তোলেননি। পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনন্দপাল জানান, পালপাড়া যুবসংঘের নামে জেলা পরিষদের প্রকল্পের টাকা অত্মসাতের খবর শুনেছেন তিনি। এ নামে কোনো সংগঠন নেই। কোনো সংস্কারকাজও হয়নি।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এসব প্রকল্পে হরিস্কুল গ্রামের মো. পঙ্খির ছেলে মো. টুটুল ও ওড়ারচর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. রাসেল ও তার বড় ভাই রনক জড়িত বলে জানা যায়। এসব প্রকল্প সংশ্লিষ্টকে দুদক থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে মো. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মো. টুটুল জানান, এ রকম কোনো বিষয়ের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। বিস্তারিত জানতে রাসেলের বড় ভাই রনকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে রনকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার উপজেলা সদরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

ছবিতে পদ্মাসেতুর নির্মানকাজ

0

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুইপাশে লেগে গিয়েছে উন্নয়নের ছোঁয়া। নতুন কল-কারখানা, বানিজ্যিক বহুতল ভবন, আবাসিক এলাকা ও সরকারী স্থাপনা গড়ে উঠছে রাস্তার দুই পাশে। উন্নয়নের এ গতি যাকে ঘিরে সেই স্বপ্নের পদ্মাসেতুর নির্মানকাজ কতটুকু এগুলো তা ক্যামেরাবন্দী করেছে নিউজ৩৯.নেট।

# পদ্মাসেতুর দুইপাশে এপ্রোচ সড়ক নির্মানের কাজ প্রায় সমাপ্ত করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড।

এপ্রোচ সড়ক

# পদ্মাসেতুর টোল-প্লাজা নির্মানের কাজও সমাপ্তির পথে।

টোল প্লাজা

# এপ্রোচ সড়ক নির্মান কাজে ব্যবহৃত নির্মান যন্ত্র ও নির্মানসামগ্রী এরকম শেডগুলোর ভেতরে রাখা হয়। সেতুর দুইপাশে নির্মান সামগ্রীবাহী বড় কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের আনাগোনা বেশ লক্ষ্য করার মতো। নির্মানসামগ্রী উৎপাদনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অনেক কারখানা। নির্মানকাজের পুরো এলাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক সংরক্ষিত।

এপ্রোচ রোড শেড

# আব্দুল মোনেম লিমিটেডের এসফাল্ট মিক্সিং প্লান্ট।

মিক্স প্লান্ট

# পদ্মাসেতুর পাইল তৈরির নির্মানসামগ্রী ও মূল স্ট্রাকচার একাধিক অটোমেটিক মনোরেল ক্রেনযুক্ত বিশাল আয়তনের এই শেডের ভেতর রাখা হবে।

শেড মেজর ব্রিজ

# পদ্মাসেতুর মূল অবকাঠামো নির্মানে ব্যবহৃত হেভি লিফটিং ক্রেন যা জলপথ ও স্থলপথে সমান পারদর্শীতার সাথে কাজ করতে পারে।

ক্রেন

# পদ্মাসেতুর নির্মানকাজে ব্যস্ত মাওয়া অংশ। দূর থেকে যার সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।

মাওয়া

# “ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতাধীন” নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে বিআইডাব্লুটিএ’র ড্রেজার মেশিন।

ড্রেজার

# একই সাথে ড্রেজিং ও বালু ভরাট করে পদ্মাসেতুর নির্মানকাজের বিভিন্ন পয়েন্ট তৈরি করা হচ্ছে।

ড্রেজার০১

# পদ্মার গভীরতাকে হার মানিয়ে পাইলিং কাজ চলছে জোরেশোরে।

পাইল

# মাঝ নদীতে পাইলিং কাজে ব্যস্ত চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্মানযন্ত্র।

চায়না

# ভাঙ্গনের হাত থেকে পদ্মাপাড় রক্ষায় বাঁধ নির্মানে কাজ করছে চায়নার সিন হাইড্রো কর্পোরেশনের ভাসমান নির্মানযন্ত্র। ছবিটি কাওরাকান্দি পয়েন্ট থেকে তোলা।

সিনহাইড্রো

# নদীপাড়ে বাঁধ নির্মানের জন্য ব্লক ও রিপর‍্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ব্লক

# ধনী পদ্মা কখনো তার সম্পদ আহোরন করতে আসা মানবসন্তানকে বঞ্চিত করে না তাই এই নির্মানকাজের মাঝেও নদীতে মাছ ধরছে জেলেরা দেখা মিলছে বড় মাছ ধরার ট্রলারের। এ যেন প্রকৃতি ও শহরায়নের সহাবস্থান।

পদ্মায় মাছ ধরা

পদ্মাসেতুর ৩০ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ধারনা করা হচ্ছে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগদ সেতু নির্মানের কাজ শেষ হবে। পদ্মাসেতু চালু হলে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

রহস্যে ঘেরা নবাবগঞ্জের খেলারাম দাতা’র কোঠা

0

শীতের মিষ্টি রোদের দুপুর। আপন ছন্দে বয়ে চলেছে জনজীবন। চারিপাশে সবুজ ক্ষেত, আর রাস্তার দুপাশে ঘন সবুজে কালো এক মায়াবী পরিবেশ।  এর মাঝেই ক্রিং ক্রিং শব্দ করে আমাদের রিকশা থামে শ্বেতশুভ্র দ্বিতল এক ভবনের সামনে। কাঁঠাল, মেহগনি, বেল, লেবুগাছের ছায়ায় ঢাকা মায়াময় জনপদ। সামনে সিঁড়ি বাঁধানো পুকুর। নীরব, শান্ত। ভবনটি খেলারাম দাতার বাড়ি ও বিগ্রহ মন্দির। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত একটি পুরাকীর্তি। কলাকোপা ইউনিয়ন এ নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আশফাকের বাড়ীর পিছনেই পড়বে খেলারাম দাতার কোঠা। এম এ করিমের লেখা ইছামতির বাঁকে বইতে খেলারাম দাতার মন্দির নিয়ে যৎসামান্য বর্ণনা রয়েছে।

মন চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন এই প্রাচীন প্রাসাদ-দূর্গ-মন্দির, অন্ধকার পথ দিয়ে উঠে যেতে পারেন ঠিক উপরে। ফিরে যেতে পারেন অতীত ইতিহাসের বাংলার জনপদে। একাকী নিঃসঙ্গ বা স্বজনের সাথে এক মৌন শান্তিময়, কৌতিহলি কিন্তু রোমাঞ্চকর রি মন্দির। সন্দ্বীপনের গানই বলুন, ইতিহাসের বাকে বাকে বলুন অথবা বাংলা বিভিন্ন সিনেমায় উঠে এসেছে এই অমীমাংসিত ইতিহাসের রোমাঞ্চ খেলারাম দা’র কোঠা।

প্রতিদিনিই মন্দির ভবনে গিয়ে কিছু পর্যটকের দেখা মিলবে। জানা গেল, লোক বেশি হয় শুক্রবার সকালে। ঢাকা থেকে অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠনের মানুষজন আসেন।

k2

খেলারাম দাতা সম্পর্কে এলাকায় নানা কথা প্রচলিত। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন জমিদার। আবার কারও মতে, তিনি ভয়ানক দস্যু ছিলেন। তবে খেলারামের দানের হাত ছিল বড়। তিনি ধনীদের কাছ থেকে ডাকাতি করে টাকাপয়সা, মালামাল গরিবদের বিলিয়ে দিতেন। শেষ জীবনে তিনি অতিশয় ধার্মিক ব্যক্তিতে পরিণত হন। কথিত আছে, খেলারাম দাতার বাড়ি থেকে ইছামতীর পাড় পর্যন্ত সুড়ঙ্গ পথ ছিল। নদীপথে ধনসম্পদ এনে এ সুড়ঙ্গ পথেই বাড়ি নিয়ে আসতেন তিনি।আরও শোনা যায় একরাতে এই তিনতলা বিশিষ্ট বিশাল মন্দিরটি মাটি থেকে উপরে উঠে এসেছে। কয়েকটি গম্বুজ বিশিষ্ট কয়েকশ বছরের কুঠির ভিতরের পরিবেশ অন্ধকার।  বাড়ির পাশেই বিশাল পুকুর। প্রচলিত আছে যে, মাকে বাঁচাতে খেলারাম দাতা এই পুকুরে নেমেছিলেন। আর উঠে আসেননি।

নামটি নিয়েও আছে মতভেদ। কেউ বলেন, তাঁর নাম ছিল ‘খেলারাম দত্ত’। কেউ বলেন ‘খেলারাম দাদা’। আর স্থানীয় ব্যক্তিরা বলে থাকেন ‘খেলারাম দাতা’।

k3

বাড়ি ও মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের তরফে একজন লোক আছেন। যাঁর কাজ পর্যটকেরা এলে খুলে দেওয়া এবং দেখানো। তবে অনেকেরই অভিযোগ, তাঁকে দায়িত্ব পালনে ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তাই বাড়ির খোলা ফটক দিয়ে যে যখন খুশি ভেতরে ঢোকে। বিড়ি-সিগারেটের শেষ অংশ, পরিত্যক্ত পানির বোতল পড়ে থাকে যেখানে-সেখানে।

বর্তমানে ভবনের শুধু ওপরের দোতলা টিকে রয়েছে। খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ভেতরে গিয়ে কারুকার্যমণ্ডিত মন্দিরটির সৌন্দর্য দৃশ্যমান হয়। ভবনের ভারী দেয়াল ও পিলার দেখে নির্মাণকৌশল সম্পর্কে ধারণা মেলে। দোতলার চারপাশে ও চার কোণে বাংলা ঘরের আকৃতিতে এক কক্ষবিশিষ্ট আটটি ঘর। মাঝে মঠ আকৃতির আরেকটা ঘর। মূল মন্দিরের রংটি ছিল লালচে। মন্দিরের গায়ে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে, বছর খানেক আগে। কিছু কিছু জায়গায় দিতে হয়েছে আস্তর।

মন্দির ভবনটির নকশা সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শাহনওয়াজ নিউজ৩৯কে বলেন, ঔপনিবেশিক সময়ে নির্মিত ভবনগুলোর নির্মাণকৌশলে মোগল রীতির প্রতিফলন রয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউরোপীয় ধারা। মোগল যুগে চুন-সুরকির ব্যবহার ছিল। এর সঙ্গে এসেছে বিম-বর্গা। তাঁর মতে, খেলারাম দাতার কোঠা উনিশ শতকের শেষ দিকে অথবা বিশ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত।

এটি একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। এমনকি এটি যে একটি ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’, সেই ঘোষণাটিও কোথাও নেই।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বললেন, তাঁরা মন্দিরটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত। ভবনটির গায়ে ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি’ সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য অচিরেই তাঁরা উদ্যোগ নেবেন।

khelaram

থানায় ডায়েরি কেন করবেন, কিভাবে করবেন?

ভয়-ভীতি বা হুমকি দিলেই যে শুধুমাত্র জিডি করতে হয়-এমন কিন্তু নয়, নানা প্রয়োজনেই আপনাকে জিডি করতে হতে পারে। যেকোনো ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি থানায় জিডি করতে পারেন। কারো যদি কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন-জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পাসপোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় নথি হারিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে জিডি করাটা জরুরি। এ ছাড়া হুমকি, ছিনতাই, এমনকি পরিবারের কেউ যদি হারিয়েও যায় সেক্ষেত্রে জিডি করতে হবে। যেকোনো সমস্যা হলেই সাথে সাথে থানায় জিডি করে ফেলুন। পরে যদি আপনার কোনো ক্ষতি হয়েই যায়, তা হলে আইনি সহায়তা নিতে অনেক সহায়ক হবে ওই জিডি।

কোথায় করবেন
সাধারণত অনেকে বুঝ তেই পারেন না, কোন থানায় জিডি করবেন। নিয়মমতে আপনার যাত্রা শুরু যেখান থেকে বা যে এলাকায় আপনার জিনিস হারিয়েছে বা খোয়া গেছে, সে এলাকার থানাকে প্রাধান্য দিতে পারেন। তবে, আপনার ছিনতাই হলো এক থানার অধীনে আর আপনি জিডি করতে যাবেন অন্য থানায়, এমনটি ঠিক নয়। অন্য সব ক্ষেত্রে নিজের থানায় জিডি করা যাবে।

যা থাকবে দরখাস্তে
ঘটনার তারতম্যের কারণে জিডির উপাদানের পার্থক্য ঘটতে পারে। তবে কিছু সাধারণ উপাদান আছে, যেগুলো একটি জিডির মধ্যে থাকা প্রয়োজন। জিডি নিজে লেখা যায় আবার থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তাও লিখতে পারেন। নিচের কয়েকটি উপাদান জিডির মধ্যে থাকতে হবে।
১. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সম্বোধন করে লিখতে হবে এবং থানার নাম ও ঠিকানা লিখতে হবে।
২. বিষয় : ‘জিডি করার জন্য আবেদন’ এভাবে লিখতে হবে।
৩. অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা করলে জিডিতে আশঙ্কার কারণ উল্লেখ করতে হবে।
৪. হুমকি দিলে হুমকি দেওয়ার স্থান, তারিখ, সময়, সাক্ষী থাকলে তাদের নাম, পিতার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
৫. হুমকি প্রদানকারী পরিচিত হলে তার/তাদের নাম, পিতার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
৬. অপরিচিত হলে তাদের শনাক্তকরণের বর্ণনা দিতে হবে।
৭. অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কার ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, সন্দেহের কারণ উল্লেখ করে তাদের নাম, পিতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে।
৮. জিডি নথিভুক্ত করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করতে হবে।
৯. সর্বশেষ জিডিকারীর নাম, স্বাক্ষর, পিতার নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও তারিখ দিতে হবে।

জিডির কপি সংগ্রহ
জিডি দুই কপি করতে হবে। এক কপি নথিভুক্ত করার জন্য থানায় জমা দিতে হবে আর এক কপি থানার কর্মকর্তা কর্তৃক সহি মোহরকৃত করে নিজের কাছে রাখতে হবে।

অনলাইন সুবিধা
নগরবাসীর জন্য জিডির প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছে। আপনি চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনে জিডি করতে পারেন। এর বাইরেও অনলাইনে যে সুবিধা আছে, তা হলো এক সঙ্গে যদি আপনার অনেক জিনিস হারিয়ে যায়, তা তুলতে গেলে আপনার কাছে জিডির মূল কপি চাইতে পারে। কিন্তু মূল কপিতো থাকবে একটাই। সেক্ষেত্রে আপনি যদি অনলাইনে করে থাকেন তখন, শুধু জিডির নাম্বারটা ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। তবে সতর্কবাণী হয়েছে অনেকেই ঘটনার তারিখ, সময় এবং স্থান উল্লেখ করতে ভুল করেন। ঘটনার তারিখ, স্থান, সময় তিনটি বিষয়ই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা খেয়াল রাখতে হবে।

জিডি করার পর
থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা ডিজি-টি পরে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে পাঠান। তিনি জিডি-টি পড়ে প্রয়োজনে কোনো উপপরিদর্শক বা সহকারী উপপরিদর্শকের কাছে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এফআইআর দায়ের করেন।

কিছু জরুরি তথ্য
জিডি করতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। এমনকি আপনি যদি না-ও লিখতে পারেন, সেবা প্রদান কর্মকর্তা প্রয়োজনে তা লিখে দিবেন, আপনি শুধু নিচে স্বাক্ষর করবেন। এর জন্য ওই কর্মকর্তাকে কোনো ফি দিতে হবে না। জিডি লিখে তা জমা দিতে হবে থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তার দপ্তরে। তিনি তা গ্রহণ করে জিডির নাম্বার ও তারিখ বসাবেন এবং তা নির্ধারিত রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত করবেন। এবং আপনার কপিতে তা লিখে দিবেন। যারা অনলাইনে জিডি করবেন, তারা চাইলে সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে জিডির নাম্বারসহ তার একটি কপি সংগ্রহ করতে পারেন।

 

মাহাবুবুর রহমান-ই হতে যাচ্ছেন ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান

0

তারেক রাজীব;নিউজ৩৯ঃ ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান-ই হতে চলেছেন ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঢাকা জেলাসহ অন্তত ৩৫টিতে নিজ দলের আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কমপক্ষে ৭০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সবচাইতে অবাক করেছিল ঢাকা জেলায় বিদ্রোহি প্রার্থীতা। ঢাকা জেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান এবং তার বিপরীতে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন মাসুদ খান মজলিস।
অবশেষে ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ খান মজলিস। এদিকে সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের অনুরোধে নির্বাচন থেকে সরে যেতে রাজি হন মাসুদ খান মজলিস। নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ানো প্রসঙ্গে মাসুদ খান মজলিস বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের অনুরোধে দলীয় নীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের মাধ্যমে আমি নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল। এখানে কোন বিভক্তি থাকতে পারে না। সে লক্ষ্যে আমি মাসুদ খান মজলিস কে অনুরোধ করলে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
এ নির্বাচনে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমানই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে চলেছেন।
এ ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান নিউজ৩৯কে বলেন, “প্রথমেই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। যিনি আমাকে দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি অঙ্গীকার করছি, ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নিজের সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে এই পরিষদকে আমি দূর্নীতিমুক্ত করব। একই সাথে এ কথাও দিচ্ছি, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা কখনোই আমার দরজা থেকে ফিরে যাবে না। জীবনে যতদিন বেঁচে থাকব দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ণ করে যাব।”

m-3
এসময় তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকট আব্দুল মান্নান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ সহ ঢাকা জেলা ও পাঁচ উপজেলার নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ঢাকা জেলা পরিষদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান

আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
নিউজ৩৯কে মাহবুবুর রহমান নিউজ৩৯কে বলেন, সরকারের ভিশন-২১ বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমি বিশ্বাস করি সততা, ন্যায়-নীতি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং ঢাকা জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করবো।
এ সময় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারসহ ধামরাই পৌরসভার মেয়র হাজী মো. গোলাম কবির, কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নান্নু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি পদ্মায় নিখোঁজ গৃহবধূ

ঢাকার দোহারের অরঙ্গাবাদে পদ্মা নদীতে ডুবে লাইলা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি। গত ২৬ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯টার দিকে পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। লাইমা অরঙ্গবাদ গ্রামের মো. সুমনের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নয়াবাড়ি ইউনিয়নের অরঙ্গবাদ গ্রামে বাড়ি সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে লাইমা। এক পর্যায়ে সে নদীতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালালো কিন্তু তার খোঁজ মিলেনি। পরে স্থানীয়রাও তাকে সন্ধানে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

দোহার থানার ডিউটি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

ঢাকাসহ ৩৫ জেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী

0

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঢাকা জেলাসহ অন্তত ৩৫টিতে নিজ দলের বিদ্রোহীদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কমপক্ষে ৭০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ভোট গ্রহণ হবে ২৮ ডিসেম্বর। জেলা পরিষদে এবারই প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্দলীয় এ নির্বাচনে ভোট দেবেন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা। প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোটেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগেই কমপক্ষে ১২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তারা সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ৩ ও ৪ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১১ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১২ ডিসেম্বর।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ নিউজ৩৯কে বলেন,  আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যারা টিকবেন, তাদের মধ্যে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বাইরে কেউ প্রার্থী হয়ে থাকলে তাদের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হবে। ওই সিদ্ধান্ত না মানলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ৩৯কে তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী যারা আছেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে তারা সবাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন বলেই তারা মনে করছেন। এ ছাড়া যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই পদ-পদবি ও গুরুত্বহীন এবং নিজের গুরুত্ব বাড়াতেই প্রার্থী হয়েছেন। প্রকৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা পাওয়ার পর এ নিয়ে বৈঠকেও বসবেন কেন্দ্রীয় নেতারা, তিনি জানান।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন যারা-

ঢাকা : সবচাইতে অবাক করেছে ঢাকা জেলায় বিদ্রোহি প্রার্থীতা। ঢাকা জেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান। তার বিপরীতে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন মাসুদ খান মজলিস।

 চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দু’জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত এমএ সালাম বিএনএফ নেতা নারায়ণ রক্ষিত।

ভোলা : চেয়ারম্যান পদে সরকারদলীয় প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু ও সাধারণ সদস্য পদে ১৫ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। একক প্রার্থী থাকায় তারা সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয় হতে যাচ্ছেন। তবে সংরক্ষিত ৫ নম্বর ওয়ার্ডে (দৌলতখান, মনপুরা ও চরফ্যাশন অংশ) ২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নীলফামারী : ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : এ জেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মইনুদ্দীন মণ্ডল। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান তোতা, আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আফসার আলী, বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিদায়ী সভাপতি মো. আবদুল ওয়াহেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিনল্যান্ড প্রবাসী গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলম বাচ্চু ও জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মো. আলাউদ্দিন টিপু।

পঞ্চগড় : এ জেলায় চেয়ারম্যান পদে সরকারি দলের ৪ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের (নাজমুল-আম্বিয়া) ১ জন, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) ১ জন, স্বতন্ত্র ২ জনসহ মোট আটজন প্রার্থী হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক আবু বকর ছিদ্দিককে মনোনয়ন দিলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম পল্লব, সহ-সাধারণ সম্পাদক এটিএম সারোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমানুল্লাহ বাচ্চু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অন্যরা হলেন জাসদের ইমরান আল আমিন, জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) আবু হাসনাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী দিলদার হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম।

ময়মনসিংহ : এ জেলায় চেয়ারম্যান পদে দুই জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ খান পাঠান জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুলকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম ফখরুল আলম বাপ্পি চৌধুরীও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

রাজশাহী : রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। এরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলু, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সরকার এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা।

মেহেরপুর : মেহেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী ছাড়াও আওয়ামী লীগের তিনজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রসুল, গাংনী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম খোকন ও মুজিবনগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়া উদ্দিন বিশ্বাস। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন হাবিবুর রহমান। সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দু’জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী প্রশাসক মুনসুর আহমেদ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়পত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্যবিদায়ী প্রশাসক অ্যাডভোটেকট মতিয়ার রহমান। অপর তিন প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। তারা হলেন- লালমনিরহাট জেলা আ’লীগের সহসভাপতি সিরাজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী ভোলা এবং জেলা আ’লীগের সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব।

বগুড়া : বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সদ্যবিদায়ী প্রশাসক ডা. মকবুল হোসেন। আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন আদমদীঘির আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান আলী মাস্টার। এছাড়া জাপার (মঞ্জুর) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম আমিনুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শ্রমিক নেতা সৈয়দ কবির আহমেদ কবির প্রমুখ।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফকীর আবদুল জব্বার। অন্য প্রার্থীরা হলেন- রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রকিবুল হাসান পিয়াল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক জেলা সভাপতি আবুল কালাম এবং সাবেক এমপি নাজির হোসেন নিলু চৌধুরীর পুত্র ইমামুজ্জামান চৌধুরী রিটু।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা পরিষদের সদ্যবিদায়ী প্রশাসক ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মনজু। অন্যরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শামসুল আবেদীন খোকন (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ও স্বতন্ত্র হিসেবে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মালিক।

ফেনী : ফেনী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হলেন ফেনী জেলা পরিষদের সদ্যবিদায়ী প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী। স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আজিজুল বারী চৌধুরী।

শরীয়তপুর : শরীয়তপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র আ. রব মুন্সি।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হলেন কানক কান্তি দাস। অন্যরা হলেন জাতীয় পার্টি নেতা এ কে এম হারুন অর রশীদ এবং জেলা জাসদের সভাপতি মো. এমদাদুল হক।

ঋণখেলাপি প্রার্থীদের তথ্য দেয়ার নির্দেশ : জেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি প্রার্থী হতে পারবেন না। সেজন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করা ব্যক্তিদের ঋণখেলাপি সম্পর্কিত সব ধরনের তথ্য রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে। ১ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। ৩ ও ৪ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ ডিসেম্বর।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, যেসব জেলা চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হয়েছেন তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা জয়ী হতে যাচ্ছেন তারা হলেন- ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, গাজীপুরে ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারউজ্জামান, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু, যশোরে হাদিউজ্জামান, ঝালকাঠী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, জয়পুরহাটে আরিফুর রহমান রকেট, মুন্সীগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, নেত্রকোনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায় এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা অযোগ্য বলে বিবেচিত। তাই ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সংকলন, সংরক্ষণ ও তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে যথাসময়ে উপস্থাপন করতে হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন থেকে বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত (সরকারি/সাপ্তাহিক ছুটি এবং অফিস সময়ের পরে হলেও) সব তফসিলি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন নিজ নিজ দফতরে উপস্থিত থাকেন এবং রিটার্নিং অফিসার কোনো তথ্য কিংবা সহায়তা চাইলে তা যথাসময়ে দেবেন।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন রয়েছে। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) জেলা পরিষদ আইনের তিনটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রিট আবেদনে জেলা পরিষদ আইন-২০০০-এর ৪(২) এবং ১৭ নম্বর ধারা এবং জেলা পরিষদ সংশোধিত আইনের ৫ নম্বর ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।